• কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

    একদিনের সফরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টায় সকারপ্রধান গুলশানের বাসা থেকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানে কক্সবাজারে যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আছেন। বৃক্ষরোপণ, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে তিনি ঢাকায় ফিরবেন। কক্সবাজার পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচি শুরু করবেন।

    দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান এবং বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভা, সন্ধ্যায় সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখবেন তারেক রহমান। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী নতুন উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে জেলায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রত্যাশার কথাও জানাচ্ছেন তারা।

    কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর উদ্যোগ। এছাড়া পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ ব্যবহার এবং শুঁটকি শিল্প রক্ষায়ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা।

    পাশাপাশি কুতুবদিয়া রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ, মহেশখালী-কক্সবাজার চ্যানেলে সেতু, মাদক চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের।

    সরকারপ্রধানের এ সফরকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবেশস্থল ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

     

  • কভেন্ট্রি সিটির প্রিমিয়ার লিগে ফেরা: ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান

    ২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি।

    ২০০১ সালের ৫ মে—অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-২ গোলের হারে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে গিয়েছিল ক্লাবটি। এরপর কেটে গেছে ৯,১১৩ দিন। চ্যাম্পিয়নশিপ, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে ১১ বছর কাটানোর পর আবারও অবনমন ঘটে কভেন্ট্রির। নেমে যায় তৃতীয় বিভাগ, অর্থাৎ লিগ ওয়ানে। তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ায় ২০১৩ সালে দেউলিয়া হওয়ারও শঙ্কায় ছিল কভেন্ট্রি।

    সে সময় নর্থহ্যাম্পটন ও বার্মিংহামের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করে খেলা, মালিকপক্ষ সিসুর বিরুদ্ধে সমর্থকদের ঘৃণা, দফায় দফায় প্রতিবাদ, এমনকি পার্লামেন্টে আলোচনার মতো নাটকীয় সব ঘটনা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। এই সবকিছু পেছনে ফেলে শীর্ষ লিগে ফেরার আশা সে সময় কভেন্ট্রির জন্য ছিল এক সুদূরপরাহত স্বপ্ন।

    দীর্ঘ ১৩ বছর ক্লাবের মালিকানায় থাকা সিসু শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে ডগ কিংয়ের কাছে মালিকানা বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর মাঝে ২০১৭ সালে কভেন্ট্রি ৫৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চতুর্থ স্তরের লিগে নেমে যায়। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে সমর্থকেরা কখনো লংমার্চ করেছেন আবার কখনো প্রতিবাদ জানাতে ঢুকে পড়েছেন খেলার মাঠেও।

    শেষ পর্যন্ত কভেন্ট্রি শীর্ষ পর্যায়ের লিগে ফিরল ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে। চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল রাতে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে ‘স্কাই ব্লুজ’রা।

    কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে
    কভেন্ট্রির খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। গতকাল রাতে ম্যাচ শেষে, রয়টার্স

    কী করেছেন ল্যাম্পার্ড

    কভেন্ট্রি সিটি আসলে নিজেরাই নিজেদের চমকে দিয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা আশা থাকলেও এত দ্রুত এমন সাফল্য আসবে, সেটা তারা কল্পনাও করেনি।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমর্থকদের প্রিয় কোচ মার্ক রবিনসের স্থলাভিষিক্ত হন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। দলের প্রথম গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ল্যাম্পার্ডের শান্ত ও ধীরস্থির ব্যক্তিত্ব দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

    ব্রাইটন থেকে ধারে যোগ দেওয়া গোলকিপার কার্ল রাশওয়ার্থ দলের পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। গত মৌসুমের মূল দলে খুব বেশি পরিবর্তন করেননি ল্যাম্পার্ড। গত মৌসুমের হতাশা কাটিয়ে ল্যাম্পার্ড যেভাবে দলটিকে টেনে তুলেছেন, তাতে মুগ্ধ ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা। চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি এখন শিরোপা জয়ের স্বপ্নও দেখছে। পাশাপাশি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুইয়ে থেকে মৌসুম শেষ করা নিশ্চিত হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে ওঠাও নিশ্চিত হয়েছে কভেন্ট্রির।

    ল্যাম্পার্ড কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল মালিক ডগ কিংয়ের। তিনি নিজে নিয়মিত ট্রেনিং গ্রাউন্ডে সময় কাটান। সেখানকার সব স্টাফকে নামে চেনেন, সবার সঙ্গে নিজে গিয়ে কথা বলেন। এমনকি প্রায়ই ক্যানটিনে কফি বানাতে বা শেফের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায় ডগ কিংকে। তারকা খেলোয়াড়দের জন্য সেখানে আলাদা কোনো জায়গা নেই; আর এই বৈষম্যহীন পরিবেশই ‘স্কাই ব্লুজ’দের মধ্যে একাত্মতার আবহ তৈরি করেছে।

    ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে
    ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে দক্ষ নাবিকের মতো পরিচালনা করেছেন কভেন্ট্রিকে, রয়টার্স

    চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ল্যাম্পার্ডের ব্যক্তিগত ইমেজ ও প্রভাব কভেন্ট্রিতে এতটাই প্রবল যে অন্য ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অনেক ফুটবলার স্রেফ তাঁর কারণে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন।

    ল্যাম্পার্ডের কোচিং দর্শনের অন্যতম বড় দিক হলো দলের ভেতরের সমন্বয়। নতুন ফুটবলার হোক বা পুরোনো—যাঁরা ম্যাচ খেলার সুযোগ কম পাচ্ছেন, তাঁরাও যেন নিজেদের ব্রাত্য মনে না করেন, সেদিকে কড়া নজর রেখেছেন তিনি। সুফলও মিলেছে হাতেনাতে।

    ফরোয়ার্ড ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্টের কথাই ধরা যাক। গত বছর ব্ল্যাকবার্ন বা ডার্বি কাউন্টিতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি থেকে যান। ল্যাম্পার্ড এই ফরোয়ার্ডের পরিশ্রমী মনোভাব ও দায়বদ্ধতা দেখে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আসান্টে গত মৌসুমের তুলনায় এবার দ্বিগুণ (৩০ ম্যাচে ১২ গোল) গোল করেছেন।

    বিবিসিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভেতর আত্মবিশ্বাসের স্ফূরণ ঘটাতে ল্যাম্পার্ড অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সিনিয়র খেলোয়াড় জেক বিডওয়েল ও জেমি অ্যালেন মাঠে নিয়মিত না হলেও তাঁদের সব সময় মূল পরিকল্পনার অংশ করে রেখেছেন ল্যাম্পার্ড। এটি মানুষকে পরিচালনায় তাঁর দক্ষতাই ফুটিয়ে তোলে।

    ‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ’

    খেলোয়াড়দের ওপর যেন প্রমোশনের বাড়তি চাপ ভর না করে, সেটি নিশ্চিত করাকেই নিজের অন্যতম প্রধান কাজ মনে করেন কভেন্ট্রি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

    নিজের কৌশল নিয়ে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি বিষয়গুলো সহজ ও সরাসরি রাখার চেষ্টা করি। খুব বেশি কথা বলা আমার পছন্দ নয়। ১৫ বছর আগে বড় কোনো ম্যাচে আমার যে অভিজ্ঞতা হতো, তা হয়তো বর্তমান খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা যখন কোচিংয়ে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বড় ইতিবাচক দিক। কারণ, পরিস্থিতিগুলো আমি নিজে পার করে এসেছি।’

    কভেন্ট্রি এ মৌসুমে টানা দুই ম্যাচ হেরেছে মাত্র একবার। গত জানুয়ারিতে নরউইচ ও কিউপিআরের কাছে হেরে ১০ পয়েন্টের লিড খুইয়েছিল তারা। জানুয়ারির শেষে মিডলসবোরো যখন ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ধরে ফেলে, এমনকি ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে যায়, তখন এই ল্যাম্পার্ডের দলই তাদের ৩-১ গোলে হারিয়ে শীর্ষ স্থানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র ১টিতে হেরেছে কভেন্ট্রি, জিতেছে ৮টি।

    পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯৯ মৌসুমে কভেন্ট্রি টানা পাঁচ ম্যাচ জিততে পেরেছে মাত্র পাঁচবার। যার মধ্যে তিনটিই এসেছে ল্যাম্পার্ডের অধীনে—গত মৌসুমে একবার আর চলতি মৌসুমে দুবার। ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘বছর দেড়েক আগে আমি, ক্রিস জোনস আর জো এডওয়ার্ডস যখন এখানে আসি, সব আমাদের কাছে নতুন ছিল। আমরা সময়টা উপভোগ করছি, কিন্তু মূল পরিশ্রমটা করেছে খেলোয়াড়রা।’

    ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে কভেন্ট্রি সমর্থকদের মানসিকতায়। গত এক দশকে মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা ধকল সইতে হয়েছে ক্লাবটিকে। আট বছরে তিনটি প্রমোশন পেলেও ভক্তদের মনে একধরনের হতাশা বা ‘নেতিবাচক চিন্তা’ স্থায়ী আসন গেড়েছিল। প্রিমিয়ার লিগে ফেরা সেই হতাশা দূর করেছে।

    এ প্রসঙ্গে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘আমি নিজে ওয়েস্ট হামের ভক্ত হিসেবে বড় হয়েছি, সেখানেও এমন ছিল। আবার এভারটনেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। হয়তো ব্রিটিশ সংস্কৃতির মধ্যেই আছে যে সামনে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া।’

    ল্যাম্পার্ড সবশেষে মনে করিয়ে দেন, ‘ভোগান্তিও আনন্দেরই অংশ। শুনতে হয়তো অদ্ভুত লাগছে, কিন্তু ভালো কিছু পেতে হলে আপনাকে একটু কষ্ট সইতেই হবে।’

  • করোনার টিকাই মেরে ফেলেছে শেন ওয়ার্নকে, দাবি তাঁর ছেলের

    থাইল্যান্ডের সেই বিলাসবহুল ভিলা, নিথর পড়ে থাকা ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা লেগ স্পিনার এবং স্তব্ধ ক্রিকেট–বিশ্ব!

    ২০২২ সালের ৪ মার্চ শেন ওয়ার্নের আকস্মিক প্রস্থান মেনে নেওয়া কঠিন ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তখন বলা হয়েছিল ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’। কিন্তু চার বছর পর খোদ ওয়ার্নের ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন তুললেন এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর দাবি, সরকারি নির্দেশে নেওয়া কোভিড-১৯ টিকার কারণেই মারা গেছেন তাঁর বাবা।

    সম্প্রতি ‘টু ওয়ার্ল্ডস কোলাইড’ নামক এক পডকাস্টে সাবেক সেনাসদস্য স্যাম ব্যামফোর্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকসন। সেখানে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর পেছনে কি কোভিড টিকার কোনো ভূমিকা ছিল? জবাবে জ্যাকসন দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, টিকা এতে জড়িত ছিল। এখন এটা বলা মোটেও বিতর্কিত কোনো বিষয় নয়।’

    জ্যাকসন আরও যোগ করেন, ‘বাবার যদি আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থেকেও থাকে, আমার ধারণা টিকা সেটাকে সরাসরি সামনে নিয়ে এসেছে। যেদিন খবরটা পেলাম, ফোন রাখার পরপরই প্রথম আমার মাথায় এসেছিল—এর জন্য সরকার দায়ী, এর জন্য কোভিড আর টিকা দায়ী।’

    ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান ওয়ার্ন। তাঁর মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। থাই পুলিশ তাঁর ঘর থেকে কিছু ওষুধ সরিয়ে ফেলেছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি তাঁর শরীরে ভায়াগ্রার (যৌন উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতিও মিলেছিল। কিন্তু জ্যাকসন মনে করেন, আসল কারণটা ছিল করোনার টিকা। তাঁর ভাষ্যমতে, সরকারি নিয়মের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিন-চারটি টিকা নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি স্পিনার।

    প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।
    প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।ইনস্টাগ্রাম
     

    ভিক্টোরিয়া সরকারের অর্থায়নে হওয়া ওয়ার্নের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও অস্বস্তিতে ছিলেন জ্যাকসন। নিজের ক্ষোভ চেপে রাখার স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্য স্মরণসভায় আমার বলতে ইচ্ছে করছিল—আমি এই সরকারকে দায়ী করি, আমি কোভিডকে দায়ী করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বলিনি, সম্ভবত চুপ থাকাই তখন বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। তবে আমার মনের অবস্থা তেমনই ছিল।’
    অবশ্য জ্যাকসন নিজেও জানেন, দিন শেষে সত্যটা হয়তো অজানাই থেকে যাবে। তাঁর কথা, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনলাইনে আছে, সবাই দেখতে পারে। বাবা তখন ভালোই ছিলেন, দেখতেও বেশ ঝরঝরে লাগছিল। হ্যাঁ, তিনি ধূমপান করতেন, মদ্যপান করতেন। কিন্তু আশির বা নব্বইয়ের দশকের কত মানুষই তো বাবার চেয়ে বেশি ধূমপান বা মদ্যপান করে এখনো বেঁচে আছেন।’

    সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার ওয়ার্ন তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১৪৫ টেস্টে নেন ৭০৮ উইকেট। শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর তিনি টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
    তাঁর ছেলে জ্যাকসন এখন ‘শেন ওয়ার্ন লিগ্যাসি’র মাধ্যমে মানুষের হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করছেন। যাতে অন্য কোনো পরিবারকে মাঝরাতে এমন দুঃসংবাদের ফোনকল পেতে না হয়।

  • কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল, সিঙ্গাপুর থেকে ২ কার্গো এলএনজি আসছে

    ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই তেল ও এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি এবং দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফারমানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

    এদিকে বৈঠকে উপস্থাপন করা আরেকটি প্রস্তাবে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এই এলএনজি আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য পড়বে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে দুই কার্গো এলএনজি আনতে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে সূত্রটি জানিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিতি এক সদস্য জানান, সরকরি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল কেনার একটি এবং এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৬ ডলার।

    তিনি জানান, দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ’র মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে ২ কার্গো এলএনজি কিনত ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে এই মূল্য চূড়ান্ত নয়, ২ কার্গো এলএনজি’র মূল্য এর থেকে কিছু কম বা বেশি হতে পারে।

     

  • কান চলচ্চিত্র উৎসবে জর্জিনা রদ্রিগেজের যে লুক নজর কাড়ল

    ফ্রান্সে চলমান ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি সাজে নিজেকে তুলে ধরলেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। আর দুটি সাজেই কেড়েছেন নজর। প্রথম দিকে ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গী হিসেবে পরিচিতি পেলেও জর্জিনা এখন নিজস্ব পরিচয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ফ্যাশন, ব্যবসা ও বিনোদনজগতে নিজের একটা আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হওয়ার পাশাপাশি নেটফ্লিক্স ধারাবাহিক ‘আই অ্যাম জর্জিনা’য় ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন। প্রায় এক দশক একসঙ্গে থাকার পর গত বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদানের ঘোষণা দেন জর্জিনা ও রোনালদো। ইউরোপীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শেষে বিয়ের আয়োজন করতে পারেন তাঁরা।

    ১২ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত হওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ক্যারিং উইমেন ইন মোশন’ ডিনার পার্টিতে জর্জিনা হাজির হয়েছিলেন গুচির পুরোনো দিনের পোশাক পরে। পোশাকটি ছিল ডিজাইনার টম ফোর্ডের সময়ের
    ১২ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত হওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ক্যারিং উইমেন ইন মোশন’ ডিনার পার্টিতে জর্জিনা হাজির হয়েছিলেন গুচির পুরোনো দিনের পোশাক পরে। পোশাকটি ছিল ডিজাইনার টম ফোর্ডের সময়েরছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
     
     
    নীল সাটিনের শার্ট ও কালো প্যান্টটি গুচির ১৯৯৫ সালের শরৎকালীন সংগ্রহ থেকে নেওয়া। নীল সাটিনের খোলা শার্ট, যার নিচে ছিল কালো লেইসের অন্তর্বাস
    নীল সাটিনের শার্ট ও কালো প্যান্টটি গুচির ১৯৯৫ সালের শরৎকালীন সংগ্রহ থেকে নেওয়া। নীল সাটিনের খোলা শার্ট, যার নিচে ছিল কালো লেইসের 
    একই পোশাক ১৯৯৫ সালে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে পরেছিলেন পপতারকা ম্যাডোনা
    একই পোশাক ১৯৯৫ সালে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে পরেছিলেন পপতারকা ম্যাডোনাছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
     
     
    তবে জর্জিনা পুরোনো সাজে এনেছেন নতুন লুক। সব ছাপিয়ে নজর কাড়ে তাঁর সাদা রঙের পরচুলা। এই নাটকীয় লুকের কারণে অনেকেই প্রথম দেখায় তাঁকে মনে করেছেন কিম কার্ডাশিয়ান
    তবে জর্জিনা পুরোনো সাজে এনেছেন নতুন লুক। সব ছাপিয়ে নজর কাড়ে তাঁর সাদা রঙের পরচুলা। এই নাটকীয় লুকের কারণে অনেকেই প্রথম দেখায় তাঁকে মনে করেছেন কিম কার্ডাশিয়ানছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
     
    ১৮ মে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির হন জর্জিনা। ফ্রান্সের ‘পালেস দে ফেস্টিভ্যাল’-এর লালগালিচায় হাঁটার সময় তাঁকে দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী ও আভিজাত্যপূর্ণ সাজে। ৩২ বছর বয়সী এই মডেল ও উদ্যোক্তা ‘ফিয়র্ড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে এসেছিলেন। পরেছিলেন হালকা বেগুনি রঙের কাঁধখোলা লম্বা গাউন। পোশাকজুড়ে ছিল লেইসের কাজ। পুরো সাজে এনে দিয়েছে রোমান্টিক ও পুরোনো দিনের ছোঁয়া। গাউনের ওপরের অংশ করসেটের মতো করে তৈরি করা। নিচের অংশে স্বচ্ছ লেইসের স্কার্ট
    ১৮ মে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির হন জর্জিনা। ফ্রান্সের ‘পালেস দে ফেস্টিভ্যাল’-এর লালগালিচায় হাঁটার সময় তাঁকে দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী ও আভিজাত্যপূর্ণ সাজে। ৩২ বছর বয়সী এই মডেল ও উদ্যোক্তা ‘ফিয়র্ড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে এসেছিলেন। পরেছিলেন হালকা বেগুনি রঙের কাঁধখোলা লম্বা গাউন। পোশাকজুড়ে ছিল লেইসের কাজ। পুরো সাজে এনে দিয়েছে রোমান্টিক ও পুরোনো দিনের ছোঁয়া। গাউনের ওপরের অংশ করসেটের মতো করে তৈরি করা। নিচের অংশে স্বচ্ছ লেইসের স্কার্টছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
     
    তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল গলার হার। বিলাসবহুল সুইস গয়নার প্রতিষ্ঠান চোপার্ডের তৈরি এই হারে আছে ১৫২টি পান্না। চোপার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিনা ৩০০ ক্যারেটের বেশি পান্না ও হীরার গয়না পরেছিলেন। এতে আছে বড় একটি পান্না। যেটির ওজন ১৩ দশমিক ৮৬ ক্যারেট। হাতে সাদা সোনার ঘড়ি, যেটায় ছিল ৪৬ দশমিক ৩ ক্যারেটের হীরা। গয়না ও ঘড়ি—দুটিই এই প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের ‘রেড কার্পেট’ সংগ্রহের অংশ
    তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল গলার হার। বিলাসবহুল সুইস গয়নার প্রতিষ্ঠান চোপার্ডের তৈরি এই হারে আছে ১৫২টি পান্না। চোপার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিনা ৩০০ ক্যারেটের বেশি পান্না ও হীরার গয়না পরেছিলেন। এতে আছে বড় একটি পান্না। যেটির ওজন ১৩ দশমিক ৮৬ ক্যারেট। হাতে সাদা সোনার ঘড়ি, যেটায় ছিল ৪৬ দশমিক ৩ ক্যারেটের হীরা। গয়না ও ঘড়ি—দুটিই এই প্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের ‘রেড কার্পেট’ সংগ্রহের অংশছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
     
    চুলে পুরোনো হলিউড ধাঁচের ঢেউখেলানো সাজ। মেকআপও ছিল পরিমিত
    চুলে পুরোনো হলিউড ধাঁচের ঢেউখেলানো সাজ। মেকআপও ছিল পরিমিতছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
  • কান চলচ্চিত্র উৎসবে হোটেল রুমে নির্যাতনের শিকার মিস ভেনেজুয়েলা, শেয়ার করলেন রক্তাক্ত ভিডিও

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে মিস ভেনেজুয়েলা ২০২৫ আন্দ্রেয়া দেল ভ্যাল তাঁর হোটেল রুমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার পর তাঁর মুখে আঘাত ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখা যায়।

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিররাতনের শিকার হলেন মিস ভেনেজুয়েলা আন্দ্রেয়া
     
    কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিররাতনের শিকার হলেন মিস ভেনেজুয়েলা আন্দ্রেয়া
     
     
    এই ঘটনার পর তাঁর মুখে আঘাত ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখা যায়
     
    এই ঘটনার পর তাঁর মুখে আঘাত ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখা যায়

    ২৯ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্লার করা ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, তাঁর কপাল দিয়ে রক্ত ঝরছে এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভিডিওতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় স্টাইলিস্টকে উদ্দেশ করে বলেন, “দেখুন, জিওভানি লাগুনা আমার সঙ্গে কী করেছে। অভিনন্দন জিওভানি, তুমি তোমার আসল চেহারা দেখিয়ে দিলে।”

    ভিডিওতে হোটেল কক্ষটিকেও এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়। আসবাবপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল। একই ভিডিওতে ৩৩ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান স্টাইলিস্ট জিওভানি লাগুনাকেও কক্ষের এক কোণে বসে থাকতে দেখা যায়।

    ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকোর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলের অন্য অতিথিরা চিৎকার ও মারামারির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দেন। পরে স্প্যানিশ সাংবাদিক জর্দি মার্টিনের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ লাগুনাকে হোটেল থেকে নিয়ে যাচ্ছে।

    জিওভানি লাগুনা লাতিন আমেরিকার সেলিব্রিটি ও বিউটি পেজেন্ট অঙ্গনে পরিচিত একজন স্টাইলিস্ট। ২০২৩ সাল থেকে তিনি মিস ইউনিভার্স কলম্বিয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর সঙ্গে মেক্সিকোর মিস ইউনিভার্স ২০২৫ বিজয়ী ফাতিমা বশেরও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই ঘটনায় ফাতিমার কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই।

    গ্রেপ্তারের পর লাগুনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে
     
    গ্রেপ্তারের পর লাগুনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে

    গ্রেপ্তারের পর লাগুনাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, আন্দ্রেয়া চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। দুজনের মধ্যে কী নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরাসি পুলিশও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

    সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, এনডিটিভি

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • কানে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের লুক যে পোশাকের কারণে আলোচিত হলো

    মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে পাপারাজ্জিদের তোলা ছবি প্রকাশ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর উপস্থিতি এখন আর শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, বরং বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই অনেকের কাছেই মনে হচ্ছিল, তাঁকে ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব।

    অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজকীয় উপস্থিতিতে লালগালিচায় হাজির হলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন।

    অনেকে তাঁকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেও। কারণ, বছরের পর বছর কানে তাঁর উপস্থিতি হয়ে উঠেছে বিশেষ এক প্রত্যাশার নাম। নতুনত্বের জন্য নয়; বরং তাঁর সেই চিরচেনা সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস আর তারকাখচিত উপস্থিতির জন্য। তাঁর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও ফ্যাশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। আগেও গেছে।

    অনেকে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেও
    অনেকে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে আখ্যা দিচ্ছেন ‘মাদার অব কান’ হিসেবেওছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

    এবার কানে প্রথম উপস্থিতিতে ঐশ্বরিয়া নজর কাড়েন ডিজাইনার অমিত আগারওয়ালের তৈরি ভবিষ্যৎধর্মী কতুর পোশাকে। নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজ। অসংখ্য ক্রিস্টালের জটিল বিন্যাসে আলো প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করছিল ভিন্ন এক দীপ্তি।

    স্টাইলিস্ট মোহিত রায়ের সঙ্গে যৌথ ভাবনায় তৈরি করা হয়েছে এই লুক। অমিত আগারওয়ালের ইনস্টাগ্রামে পোশাকটি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি আলোর সৌন্দর্যকে তুলে ধরার এক শিল্পিত প্রয়াস। পোশাকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজাইনার হাউসের ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারি। হাজার হাজার ক্রিস্টাল সূক্ষ্ম নকশার ভেতর বসানো হয়েছে; ফলে আলো, গভীরতা আর গতিশীলতার এক অনন্য মিশ্রণ তৈরি হয়েছে পুরো পোশাকে।প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘণ্টা লেগেছে পোশাকটি তৈরি করতে।

    নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজ
    নীল রঙের সেই গাউনে ছিল ‘ক্রিস্টাল ভেইন’ এমব্রয়ডারির সূক্ষ্ম কাজছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

    গাঢ় ‘অ্যাবিস ব্লু’ রংটির অনুপ্রেরণা এসেছে মহাজাগতিক আলো আর অসীম মহাশূন্য থেকে। পোশাকটির প্রতিটি অংশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন চলাফেরা আর আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপও বদলে যায়। সিনেম্যাটিক উপস্থিতি, ভাস্কর্যধর্মী কাটের কতুর আর উপকরণের নতুনত্ব—সব মিলিয়ে এটি বৈশ্বিক মঞ্চে সমকালীন ভারতীয় কতুরের শক্তিশালী উপস্থিতিকে তুলে ধরেছে।

     ‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজ
    ‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তবে কয়েক ঘণ্টা পরই যেন একেবারে ভিন্ন আবহে দেখা গেল ঐশ্বরিয়াকে। ‘লাইটস অন ওমেন্স ওর্থ’ অনুষ্ঠানে বেছে নেন সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের সাজ। মহাজাগতিক নীল আভা ছেড়ে হাজির হন হালকা ব্লাশ-পিংক রঙের সফি কতুর গাউনে। স্ট্র্যাপলেস করসেট বডিস পোশাকটিকে দিয়েছে পরিমিত গঠন। নেকলাইন, বডিস ও কোমরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল সরভস্কি ক্রিস্টালের ফুলেল অলংকরণ।

    প্রথমবারের মতো মেয়ে আরাধ্য বচ্চনকে নিয়ে কানের একটি অনুষ্ঠানে আসেন ঐশ্বরিয়া
    প্রথমবারের মতো মেয়ে আরাধ্য বচ্চনকে নিয়ে কানের একটি অনুষ্ঠানে আসেন ঐশ্বরিয়াছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

    সূক্ষ্ম প্লিটিং পোশাকে এনেছে টেক্সচার। কাঁধ বেয়ে নেমে এসেছে একই রঙের স্বচ্ছ কেপ।মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। এবার সাজ নিয়ে খুব বেশি নিরীক্ষায় যাননি ঐশ্বরিয়া। এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গী ছিল মেয়ে আরাধ্য বচ্চন। রুবি-লাল রঙের গাউন আর কাঁধে ওড়নার আদলে ড্রেপ করা কেপে তাকেও সুন্দর লাগছিল।

    সূত্র: টিটু

  • কাল শুরু হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬

    বাংলাদেশের একমাত্র ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পোর্টাল হাল ফ্যাশনের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ঈদ ফ্যাশন ফিয়েস্তা ২০২৬’। ৫৮ জন উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ১–৩ মার্চ সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।

    বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। এদেরকে সামনে নিয়ে আসা এবং ইন্ডাস্ট্রির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হাল ফ্যাশন শুরু থেকেই করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে প্রথম আয়োজন করে ঈদ মেলা। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা।

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মাইডাস সেন্টারের ১২ তলার একজবিশন হলে ৫৮ উদ্যোক্তাকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬। ১–৩ থেকে তিন মার্চ অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের কলেবর এবং সময় উভয়ই বেড়েছে। এবারের মেলার স্পন্সর হিসেবে থাকছে নবাবী বাই এপেক্স ফুড ও পেমেন্ট পার্টনার থাকছে ইউসিবি।

    মেলা সকাল থেকে শুরু হলেও ১ মার্চ রোববার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট অতিথিবর্গ ও তারকা।

    এবারের মেলাকে বলা হচ্ছে মেলার চেয়েও বেশি কিছু। কারণ প্রতিদিনই থাকছে কিছু না কিছু আকর্ষণ। প্রথম দিন উদ্বোধন তো আছে। এছাড়াও আসবেন বিশিষ্টজনেরা। দ্বিতীয় দিন থাকছে ডিজাইনারস’ ডে। তাঁরা আসবেন স্টল ঘুরে দেখবেন এবং মতামত দিবেন। তৃতীয় তথা শেষ দিন হচ্ছে ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি ডে। দেশের দুই শীর্ষ ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি থেকে আসবে ছাত্র ও শিক্ষকরা। তাঁরাও মেলা নিয়ে তাঁদের অভিমত জানাবেন।

     

    গতবারের মতো এবারের মেলাতেও ক্রেতাদের জন্য থাকছে র্যাফেল ড্র। আছে আকর্ষণীয় সব উপহার। এবারের মেলা বিশেষ আকর্ষণ ফটোবুথ। এখানে ছবি তুলে #haalfashioneidfiesta2026 ও #haalfashionista হ্যাশট্যাগ দিয়ে নিজের ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে আমাদের সঙ্গে লিংক শেয়ার করতে হবে। সেখান থেকে আমরা বেছে নেব ৫ জনকে। তারা উপহার তো পাবেনই। সঙ্গে আরও থাকবে হাল ফ্যাশনে মডেল হওয়ার সুযোগ।

    হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬–এ উপহার পার্টনার হিসেবে আছে ঢাকার ৮টি পাঁচতারকা হোটেল, ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্লুচিজ ও টিংকার’স টি।

     
     

    এবারের মেলার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, ট্রায়াল রুম। সাধারণত এই ধরণের মেলায় এটা থাকে না। কিন্তু এই আয়োজনে মাত্রা যোগ করা তো বটেই ক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা রেখেছি ট্র্রায়াল রুম।

    এবারের ফিয়েস্তায় পোশাক ছাড়াও, গয়না, বিষমুক্ত পণ্য, খাবার, অ্যাকসেসারির স্টল থাকছে। অংশ নিচ্ছে চৌধুরী’স, এন’স কিচেন, আজুরা বাই শান্তা কবীর, মিতার গল্প, দীঘল ও আচারি, পরিণীতা ফ্যাশন, ক্যাটারফ্লাই, শাড়িকথন, দ্য জামদানি, পূর্ণতা শিল্পশালা, পোশাক বাই তাননাস, নবাবী বাই এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, সুপণ্য, অণূভা’স ও সিতকা, অবনি, মেহউইশ, দিশা’স রোড ব্লকস, লেইস ফিতা, পেটাল গহনা, ক’তে কাপড়, তাহার ও লিটল ক্রিয়েশনস, সুতলি, বিমূর্ত, তেরো পার্বণ, শখেরডিব্বা, নকশা্ মিস্ত্রি, জারিন’স ক্রিয়েশন, যাদুর হাট, রায়না''''স কালেকশন, দয়ীতা, আর্ট ওয়েভ বাই সাকিয়া, এসো, রিয়া’স ক্রিয়েশন, পৌরাণিক, মল্লিকা, বি বাসিনী, আর্নস্ট, স্বপ্নছোঁয়া, কাদম্বরী, ভারমিলিয়ন, সীবনী, নগরনন্দিনী, এলিগ্যান্ট বুটিক ও ফ্রেয়া, জ্যানেট’স ক্রিয়েশন, নাজাফ, রুজ, পসরা, মুনমুন’স, হেরিটেজ শ্যাডো বাই শ্বেতা, আর্টজেনিক্স বাই আনিকা, লং স্প্রিং, দিলসাদের রংতুলি, রোদচশমা, গথিয়া ও সোল ইস্তাম্বুল।

    ছবি: হাল ফ্যাশন

  • কােন জ্বালানির মজুত কত জানালেন মন্ত্রী, প্রয়োজনে আগামী মাস থেকে দাম বাড়ানোর চিন্তা

    প্রয়োজন হলে সরকার আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটা আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে দাম বাড়ানো দরকার, তাহলে আমরা মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে সেই চিন্তা করব।’

    আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মৌলভীবাজার–২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

    জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানতে চান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না? জবাবে মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে চিন্তা করা হবে।

    জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

    জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রল ১৬ হাজার টন মজুত আছে। আরও ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।

    সেচ মৌসুমে কৃষকদের ডিজেল পাওয়া নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠন করা হয়েছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, জ্বলানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

    খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।

  • কুনহার জোড়া গোল, হাইতিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দুর্দান্ত কামব্যাক

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করেছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। 

    শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকালে হাইতিকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেলেসাওরা। এদিন শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই জোড়া গোল করেছেন কুনহা। অন্য একটি গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

    এদিন ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় জালে বল পাঠিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু রাফিনিয়ার সেই গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি। ২২ মিনিটে আবারও সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। 

    ডান দিক থেকে থ্রু পাস পেয়ে হাইতির গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে মিস করেন রাফিনিয়া। চিপ করলেও ফাঁকা জালে বল পাঠাতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

    পরের মিনিটেই অবশ্য গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। থিয়াগোর জায়গায় দলে ঢোকা মাতেউস কুনহা লিড এনে দেন। ডান প্রান্ত থেকে শট নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির গোলকিপার জন প্লেসিড শট ঠেকিয়ে দিলেও জটলার মধ্যে বল পেয়ে জালে পাঠান কুনহা। 

    ৩৬ মিনিটে আবারও কুনহা গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। দারুণ এক মুভে আক্রমণের শুরুটা করেন ভিনিসিয়ুস। দৌড়ে বল নিয়ে এগিয়ে বাঁয়ে কুনিয়াকে ডিফেন্সচেরা পাস বাড়ান ভিনি। 

    সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় গোলের পরই ধাক্কা খায় ব্রাজিল। চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যান রাফিনিয়া। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের বদলি হিসেবে নামেন রায়ান।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির গোলরক্ষক জন প্লাসিডকে একা পেয়ে তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার। এতে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে নিজের বেঞ্চ পরীক্ষা করেন আনচেলত্তি। মূল একাদশের খেলোয়াড়দের মাঠে নামান তিনি। কিছু আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। তবে মাঠে নেমে বল জালে জড়িয়েছিলেন এন্দ্রিক। কিন্তু অফসাইডে বাদ হয় সেই গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।

     

  • কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মাছুদের যোগদান

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ। আজ মঙ্গলবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দুই বছরের ব্যবধানে তিনি দ্বিতীয়বার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হলেন।

    এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মুহাম্মদ মাছুদকে কুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি কুয়েটের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, কুয়েটকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাবেন। এ লক্ষ্য অর্জনে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত সবাই নবনিযুক্ত উপাচার্যকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদকে কুয়েটের উপাচার্য করা হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হলেন অধ্যাপক মাছুদ।

    অধ্যাপক মাছুদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান, হল প্রভোস্ট, সিআরটিএসের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য জার্নাল ও সম্মেলনে দেড় শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং একাধিক বই ও বুক চ্যাপ্টার রচনা করেছেন।

    অধ্যাপক মাছুদ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) খুলনা থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (মেকানিক্যাল) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাট এল পাসো থেকে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

  • কেইনের জোড়া গোল, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বড় জয়

    ইংল্যান্ড ৪ : ২ ক্রোয়েশিয়া

    চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে দুই দল সমানে লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। আর এই সুযোগে প্রতিপক্ষে জালের আরও ২ গোল দেয় ইংল্যান্ড। এতে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ম্যাচে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে শুরুতে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। পরে বাতুরিনার গোলে ক্রোয়েশিয়া কামব্যাক করলেও দুর্দান্ত হেডে দলকে আবারও লিড এনে দেন কেইন। বিরতিতে যাওয়ার আগে পিটার মুসা সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের হয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ড একটি করে গোল করেন। 

    এদিন ম্যাচে ১২ মিনিটে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে লুকা মদ্রিচ নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করলে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পায়।

    তবে কেইন শট নেওয়ার সময় কিছুটা ইতস্তত করছিলেন। তাকে হতাশ করে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি ঠেকিয়ে দেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা একই সঙ্গে চরম হতাশ ও বিস্মিত হয়।

    যদিও রেফারি ক্লেমেন্ট টার্পিন ভিএআর পরীক্ষার জন্য খেলা পুনরায় শুরু করতে একটু সময় নেন। যেখানে দেখা যায়, কেইন শট নেওয়ার আগেই লিভাকোভিচ তার গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন।  এই কারণে ইংলিশ তারকা ১২ গজ দূর থেকে পেনাল্টি নেওয়ার আরেকটি সুযোগ পাবেন।

    দ্বিতীয়বার কেইন আর কোনো ভুল করেননি। তিনি আগেরবারের মতো একই দিকে শট নিয়েছিলেন। বলটি নিখুঁতভাবে জালের নিচের ডান কোণায় জড়ায়। ক্রোয়েশিয়া পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি।

    [caption id="attachment_276692" align="alignnone" width="919"] ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।[/caption]

    ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের অ্যাসিস্টে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বাতুরিনা। ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগের শট ঠেকাতে পারেননি ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

    ছয় মিনিট পর কর্নার থেকে ডেকলান রাইসের অ্যাসিস্টে কেইনের হেডে ক্রোয়েশিয়ার জাল কাঁপে। জাতীয় দলের জার্সিতে ৮১তম গোল করেন তিনি এবং বিশ্বকাপে দশম গোল করে দেশের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা গ্যারি লিনেকারের পাশে বসেন।

    যোগ করা পাঁচ মিনিটের একেবারে শেষ মুহূর্তে পিটার মুসা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ইভান পেরিসিচের হেড পাসে ডান পায়ের শটে স্কোর ২-২ করেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে দৌড়ে বক্সে ঢুকে ক্রোয়েশিয়ার জালে গোল করেন জুড বেলিংহাম। যদিও ম্যাচের ৮০তম মিনিটে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে তুলে নেন টমাস টুখেল।

    এরপর ৮৫তম মিনিটে বদলি মেনে গোল করেন বার্সা তারকা রাশফোর্ড। সাকার দেওয়া বল বক্সের মধ্যে পেয়ে দুর্দান্ত শটে প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। এরপর বাকি সময় দুই দল আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। তাই ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।

    ইংল্যান্ড একাদশ: জর্ডান পিকফোর্ড, রিস জেমস, জন স্টোনস, জ্যারেল কোয়ানসা, নিকো ও'রাইলি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেকলান রাইস, ননি মাদুয়েকে, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন, হ্যারি কেইন।

    ক্রোয়েশিয়া একাদশ: দমিনিক লিভাকোভিচ, ইওস্কো গভার্দিওল, লুকা ভুসকোভিচ, ইয়োসিপ শুতালো, ইভান পেরিসিচ, পেতার সুচিচ, লুকা মদরিচ, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, মার্তিন বাতুরিনা, মালিও পাসালিচ, পেতার মুসা।

     

  • কোথাও কোনো সংকট দেখছেন না বিসিবি সভাপতি আমিনুল

    বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে এনএসসির পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ১১ মার্চ গঠিত কমিটি নিয়ে পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, আইসিসির কাছে এটি ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আইসিসিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ ও ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

    দেশের বাইরে থাকায় এনএসসির তদন্ত কমিটি এবং বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিসিবির ওই বিবৃতি নিয়ে এত দিন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে পরশু রাতে দেশে ফেরার পর কাল দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এ নিয়ে তিনি প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমিনুলের বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে—

    তদন্ত কমিটি নিয়ে

    পাঁচ মাস হলো বোর্ড স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে আমরা সিরিজ খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে—সবকিছুই হচ্ছে। তারপরও যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা আমাদের স্পোর্টসের মালিক। শুধু ক্রিকেট না, সবকিছুর মালিক—আমরা তাঁদের সম্মান করি।

    বিসিবির বিবৃতি প্রসঙ্গে

    আমার মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল, মুখোমুখি (সরকার–বিসিবি) যেটা বলা হচ্ছে। আমরা একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল (সরকারি হস্তক্ষেপ) হয়তো কিছু একটা হতে পারে। আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল ‘হতে পারে’, তার মানে এই না যে ‘হয়েছে’। পূর্বসতর্কতা হিসেবে এটা করা। সবার ভালোর জন্য আমরা অবস্থানটা পরিষ্কার করেছি। দিন শেষে আমরা তো বাংলাদেশের সরকারের অধীনই কাজ করি।
    বিবৃতির একটা লাইন অনেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। ‘ক্লোজ’ করার একটা কথা উল্লেখ আছে। এটাকে অনেকেই ‘তদন্ত বন্ধ করা’ বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ওটা ভুল ব্যাখ্যা।

    সংকট কাটাতে কতটা আশাবাদী

    আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন
    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীনশামসুল হক

    দুই পরিচালকের পদত্যাগ

    মিডিয়া কমিটির প্রধানের পদ থেকে আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগটা (পরিচালকের পদ থেকে) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তাঁরা পদত্যাগ করলেও আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।

    আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন

    আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে। মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে, যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসে না। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনই কাজ করি।

    বিশ্বকাপে না খেলা ভুল ছিল কি না

    এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার।

    বিশ্বকাপ নিয়ে তদন্ত কমিটির আলোচনা

    ওইটার ব্যাপারে আমার ধারণা নেই, কিছু শুনিনি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে—সবই নির্ধারিত ছিল। তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।

  • কোথায় হারিয়ে গেলেন সেই ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ রীমা

    দক্ষিণি সিনেমার দর্শকের কাছে ২০০০–এর শুরুর সময়টা আজও এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই সময় পর্দাজুড়ে ছিলেন রীমা সেন। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী আজ অনেকটাই আড়ালে। খ্যাতির শিখর ছুঁয়েও কেন তিনি আলো–ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে গেলেন—সে গল্পই যেন এক অন্য রকম জীবনচিত্র।

    কলকাতায় জন্ম নেওয়া রীমা সেন খুব অল্প বয়সেই মডেলিং শুরু করেন। নব্বইয়ের শেষ দিকে জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। বিশেষ করে সেই সময়ের হিট অ্যালবাম ভিডিওগুলোয় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনেমার দরজা।

    সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
    সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

    ২০০০ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাম’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। প্রথম ছবিই দর্শকের মন জয় করে নেয়। কিন্তু সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠা তাঁর জন্য সময় নেয়নি খুব বেশি। ২০০১ সালে ‘মিনালে’ মুক্তি পাওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে যান তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আর মাধবন।

    ‘ভাসেগারা’ গানটি যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে ওঠে। কলেজ রোমান্সের আবহ, সরল অভিব্যক্তি আর একধরনের নির্ভেজাল পর্দা উপস্থিতি—সব মিলিয়ে রীমা সেন হয়ে ওঠেন সেই সময়ের রোমান্টিক সিনেমার অন্যতম মুখ। আজও গানটি বাজলে বহু দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে তাঁর হাসি, তাঁর সহজ অভিনয়।

    সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
    সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

    এরপর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। কখনো রোমান্টিক নায়িকা, কখনো সাহসী বা নেতিবাচক চরিত্র—সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়যাত্রা দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডেও পৌঁছায়। ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’–এ তাঁর উপস্থিতি সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেই ছবিই হয়ে যায় তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।

    ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রীমা সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্যবসায়ী শিব করণ সিংকে বিয়ে করেন। পরের বছর মা হওয়ার পর প্রায় নিঃশব্দেই তিনি সিনেমা থেকে সরে যান। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়, কোনো ঘোষণা নয়—শুধু আলো থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া।

    অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু রীমা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পরিবার, সন্তান আর ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মিডিয়া আর লাইমলাইট থেকে দূরে থাকাকে বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব কম সক্রিয়, জনসমক্ষে দেখা মেলে আরও কম।

    তবে আড়ালে থাকলেও রীমার জনপ্রিয়তা ফিকে হয়নি। পুরোনো গান, পুরোনো সিনেমা কিংবা দক্ষিণি সিনেমার নস্টালজিয়া ঘিরে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর নাম।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • ক্যানসার রোগী কি রোজা করতে পারবেন

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

  • ক্যানসারের কাছে হার মানলেন অ্যানাবেল স্কোফিল্ড

    লন্ডন ফ্যাশন জগতের আইকনিক মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যানাবেল স্কোফিল্ড আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

    অ্যানাবেল স্কোফিল্ড ফ্যাশন জগত থেকে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথম পরিচিতি পান জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ডালাস প্রাইমটাইম’ এর মাধ্যমে। সেখানে কিংবদন্তি অভিনেতা ল্যারি হ্যাগম্যানের বিপরীতে লরেল এলিস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। এই চরিত্রই তাকে এনে দিয়েছিল তারকাখ্যাতি।

    ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ল্যানেলিতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যানাবেল। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির আশপাশে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী ১৯৯০-এর দশকে হিট সিনেমা ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ ও ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ নাইট গেটস’এ অভিনয় করেছেন।

    ১৯৮০ দশকে লন্ডনের ফ্যাশন অঙ্গনে অ্যানাবেল ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও আকর্ষণীয় মুখ। টিভি বিজ্ঞাপনে তার স্মরণীয় উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত করে তোলে।

    চলচ্চিত্রে তিনি ‘সোলার ক্রাইসিস’, ‘ড্রাগনার্ড’ ও ‘আই অফ দ্য উইডো’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরবর্তীতে ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’, ‘ডুম’ ও ‘সিটি অফ এম্বার’-এর প্রযোজনা ভূমিকায় ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন।

     

  • ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুবাইয়া মোরশেদ

    শিক্ষা গবেষণা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে সমতা নিশ্চিতকরণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ড. আরিফ নাভিদ এডুকেশন পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক রুবাইয়া মোরশেদ। গত ২৯ এপ্রিল কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

    রুবাইয়া মোরশেদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এডুকেশনের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সুবিধাবঞ্চিত তরুণ সমাজ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা ও একাগ্রতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। ১০০০ পাউন্ড মূল্যমানের এই পুরস্কারের জন্য রুবাইয়া মোরশেদ ছাড়াও চূড়ান্ত তালিকায় আরও তিনজন প্রতিভাবান গবেষক আলী আনসারী, ক্যামিলা হাদি চৌধুরী এবং ইরাম মকবুল স্থান পান।

    এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে
    রুবাইয়া মোরশেদ

    এই পুরস্কার প্রখ্যাত পাকিস্তানি সমাজবিজ্ঞানী ও গেটস কেমব্রিজ স্কলার আরিফ নাভিদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রবর্তন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত নাভিদ দারিদ্র্য, অসমতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক গতিশীলতা নিয়ে কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ছিলেন। সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরিতে তাঁর কাজ ছিল অনন্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তাঁর গুণগ্রাহীরা তাঁর পাণ্ডিত্য ও উদার চিন্তাধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে এই পুরস্কার চালু করেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রুবাইয়া মোরশেদের গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছে শিক্ষাব্যবস্থাকে সুবিধাবঞ্চিত এবং স্কুলছুট শিশুদের জন্য আরও কার্যকর করার উপায়। তিনি কেবল একাডেমিক গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লিখে শিক্ষা সংস্কারে জনমত তৈরিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর গবেষণাপত্রগুলো সুপরিচিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

    রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস
    রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস, ছবি: সংগৃহীত

    রুবাইয়া মোরশেদ শিক্ষা ও অর্থনীতির আন্তসম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে আসছেন, বিশেষ করে শিক্ষার অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ফলাফল বিশ্লেষণে। তাঁর গবেষণায় দেখা হয় শিক্ষা কীভাবে আয়, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামগ্রিক মানবসম্পদ গঠনে ভূমিকা রাখে, পাশাপাশি কীভাবে এটি সামাজিক ফলাফল যেমন ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। এ ছাড়া তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীদের ভোটদানে অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থান এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট কীভাবে তাঁদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা ও অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে। প্রমাণভিত্তিক এই গবেষণাগুলো নীতি প্রণয়ন ও উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    এ ছাড়া রুবাইয়া মোরশেদ ইউনিসেফের শিক্ষা গবেষণা পরামর্শক হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত ও স্কুলছুট শিশুদের জন্য প্রাথমিক ও বৃত্তিমূলক কর্মসূচির ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টগুলোতে অবদান রেখেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘নোবডিস চিলড্রেন’–এ তিনি সেসব শিশুর কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছেন, যারা কখনোই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি।

    রুবাইয়া মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই স্বীকৃতি আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের জন্য সমতা ও ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আরিফ নাভিদের আদর্শকে ধারণ করে আমি সব সময় কণ্ঠহীনদের কণ্ঠস্বর হওয়ার চেষ্টা করব এবং দয়া ও মহানুভবতাকে পাথেয় করে এগিয়ে যাব।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক কামাল মুনির বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। রুবাইয়া মোরশেদের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক রিকার্ডো সাবাতেস। অনুষ্ঠানে আরিফ নাভিদের স্ত্রী সানা ও তাঁদের শিশুকন্যা আলিয়ানাহ উপস্থিত ছিলেন।

    নাভিদের পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক মেডেলিন আরনট বলেন, রুবাইয়ার গবেষণা সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গতিশীলতা অর্জনের পথে একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করছে। আরিফের মতোই তিনি কাঠামোগত অসমতা ও শিক্ষাগত সংস্কার নিয়ে কাজ করেন। এই পুরস্কারটি তাঁর ক্যারিয়ারের অর্জন এবং মিশনের প্রতি একটি যোগ্য সম্মান।

    জাহিদ হোসাইন খান

  • ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: টানা ২০ জয়, প্রথম শিরোপার সুবাস ও ৯৭০ গোল

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও এর মধ্যে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জেতাই এই ক্লাবের হয়ে তাঁর একমাত্র অর্জন। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, বড় কোনো সাফল্য ছাড়াই হয়তো আল নাসর অধ্যায় শেষ করবেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

    তবে সেই আশঙ্কার মেঘ এবার কেটে যাওয়ার অপেক্ষা। রোনালদো এখন প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগ জেতার দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে গতকাল রাতে আল আহলির বিপক্ষে আল নাসরের ২-০ গোলে জয়ের পর লিগ ট্রফিটা পর্তুগিজ কিংবদন্তির হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    শীর্ষে থাকা আল নাসরের সংগ্রহ ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আল হিলালের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭১। অর্থাৎ এক ম্যাচ বেশি খেলে আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে আল নাসর। এ পরিস্থিতিতে নাটকীয় কোনো পতন না হলে রোনালদোদের শিরোপা জয় সময়ের ব্যাপারই বলা যায়। রোনালদোদের দলের হাতে আছে আর ৪ ম্যাচ, আল হিলাল খেলবে আরও ৫ ম্যাচ।

    সাম্প্রতিক ফর্মও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে রোনালদোদের। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টানা ২০ ম্যাচ জিতেছে আল নাসর। এর মধ্যে ১৬টি জয় এসেছে সৌদি প্রো লিগে। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বর্তমানে আল নাসর কতটা অপ্রতিরোধ্য।

    গতকাল রাতের জয়ে গোলও পেয়েছেন রোনালদো। ৭৬ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ইনসুইঙ্গিং কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন। ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলকের দিকে ছুটতে থাকা রোনালদোর এটি ৯৭০তম গোল।

    হেডে গোল করছেন রোনালদো
    হেডে গোল করছেন রোনালদোএক্স/রোনালদো

    আর মাত্র ৩০ গোল পেলেই হাজার গোলের জাদুকরি চূড়ায় পৌঁছে যাবেন ‘সিআর সেভেন’। আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে রোনালদো করেছেন ১২৬ গোল এবং ২৩ গোল করিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ১৪৯টি গোলে অবদান রেখেছেন কিংবদন্তি।

    রোনালদো একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে সৌদি লিগে ২৫ বা এর বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছেন। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমের পর আবার এমন ধারাবাহিকতায় দেখা দিলেন রোনালদো।

    জয় ও গোলের পাশাপাশি ভিন্ন এক কারণেও এদিন আলোচনায় ছিল এই ম্যাচ। এমন এক প্রেক্ষাপটে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চার দিন আগে আল আহলি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট শিরোপা জিতেছে। সে উপলক্ষে আল নাসরের মাঠে অতিথিদের গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

    এ ঘটনা ছাড়াও চলতি মৌসুমে দুই দলের সম্পর্কও ছিল বেশ তিক্ত। আল আহলি থেকে বহুবার রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ ও পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। গতকালও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। আল আহলির দাবি, তাদের অন্তত দুটি হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।

    ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি পুরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কিংসলে কোমান ও মেরিহ ডেমিরালের মধ্যকার উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যে উত্তেজনা ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও ছিল।

    বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আল নাসরের মোহামেদ সিমাকান গ্যালারি থেকে ক্লাবের বড় একটি পতাকা নিয়ে এসে প্রথমে ডেমিরালের সামনে সেটি নাড়িয়ে দেখান, এরপর মাঠজুড়ে সেটি ঘুরিয়ে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেন।

    অন্যদিকে ডেমিরাল আল আহলির স্টাফদের কাছ থেকে একটি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ীর মেডেল নিয়ে আল নাসর সমর্থকদের দিকে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। ম্যাচ–পরবর্তী সাক্ষাৎকার চলাকালে আল আহলি সমর্থকেরা রোনালদোর উদ্দেশে বলেন, তাঁদের দল দুবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। জবাবে রোনালদো হাসিমুখে হাত তুলে বলেন, ‘আমার পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আছে।’

  • ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে বড় পরিবর্তন আনল গুগল

    ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডের নতুন হালনাগাদ উন্মুক্ত করেছে গুগল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের বারবার ট্যাব পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

    গুগল জানিয়েছে, ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে যুক্ত নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে। নতুন হালনাগাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে ‘স্প্লিট-স্ক্রিন’ সুবিধা। সুবিধাটি চালুর ফলে এআই মোডে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সেটি আলাদা ট্যাবে না খুলে একই পর্দায় এআই উইন্ডোর পাশেই দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের আগের পাতায় ফিরে যেতে বা বারবার ট্যাব পরিবর্তন করতে হবে না।

    নতুন হালনাগাদে ‘মাল্টি-মোডাল’ অনুসন্ধান সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের খোলা ট্যাব, ছবি বা পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে একসঙ্গে অনুসন্ধান করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সার্চ বক্সে থাকা নতুন ‘প্লাস’মেনুতে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা সাম্প্রতিক ট্যাব, ছবি বা ফাইল নির্বাচন করে সেগুলোকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে তথ্য একত্রিত করে জটিল অনুসন্ধান সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

    গুগলের দাবি, ক্রোম ব্রাউজারের নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও সাবলীল করে তুলবে। এতে ব্যবহারকারীরা একই কাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলনা করতে পারবেন, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করার পাশাপাশি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ক্লাব বিশ্বকাপেও ৪৮ দল চায় ফিফা, আপত্তি উয়েফার

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে জুন–জুলাইয়ে। ফিফা চায় ক্লাবগুলোকে নিয়ে যে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, সেটিতেও ৪৮ দল খেলবে। তবে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা এমন পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নয়। সম্প্রতি ব্রাসেলসে উয়েফার সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ক্লাব বিশ্বকাপের বিষয়টি আলোচিত হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শুধু মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত হতো। তবে ২০২৫ সালে নতুনভাবে ৩২ দল নিয়ে আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপটি নিয়ে ফিফা বেশ সন্তুষ্ট। এখন মূল বিশ্বকাপের মতো এই টুর্নামেন্টটিও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

    ৫০ শতাংশ দল বাড়াতে চায় ফিফা

    মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে উয়েফা কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ফিফা সভাপতি সুপার লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ফিফা চায়, ক্লাব বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দলে উন্নীত করতে, যা জাতীয় দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত মূল বিশ্বকাপের মতোই ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

    এ ক্ষেত্রে ২০২৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ স্পেন ও মরক্কোতে আয়োজনের চিন্তা আছে সংস্থাটির। পরের বছরই এ দুই দেশে ফিফা বিশ্বকাপ থাকায় ক্লাবের টুর্নামেন্টটি ‘টেস্ট রান’ হিসেবে জুতসই মনে করা হচ্ছে। তবে টানা দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে।

    উয়েফার আপত্তি

    তবে ক্লাব বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছে উয়েফা। সর্বশেষ আসরে উয়েফার ১২টি দল খেলেছে ক্লাব বিশ্বকাপে, যা যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ফাইনালে খেলেছেও ইউরোপের দুই ক্লাব চেলসি ও পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেলসি।

    তবে সূচির ব্যস্ততা এবং অতিরিক্ত ম্যাচ ও দল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবা দরকার বলে উয়েফা এখনই ৪৮ ক্লাবের বিশ্বকাপের বিষয়ে ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছে মার্কা। উয়েফা নিজেই সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বে উত্তীর্ণ দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত চারটি ম্যাচ বাড়িয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিসহ অনেকে মৌসুমের টুর্নামেন্ট শেষে সূচির অত্যধিক চাপ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এখন আবার ফিফার টুর্নামেন্টে দল বাড়লে খেলোয়াড়দের ওপরও চাপ বাড়বে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব