• টিকার বয়সের আগেই হাম হচ্ছে শিশুদের, এই বয়সী শিশুর সুরক্ষায় কী করবেন

    হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর। সাম্প্রতিক সময়ে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরও হাম হচ্ছে। তাতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। এই ছোট্ট শিশুদের সুরক্ষায় কী করা উচিত, সে সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের সব শিশুকে হামের টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়ে থাকে। ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণত এ টিকা দেওয়া হয় না। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।

    খুব কম বয়সী শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কম থাকে। এই বয়সে হামের মতো জীবাণুর সংক্রমণে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই।

    কেন ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না

    একজন মানুষ হামের টিকা নিয়ে থাকলে কিংবা কখনো হামের জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়ে থাকলে তাঁর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি হামের জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একজন নারীর দেহে এই অ্যান্টিবডি থেকে থাকলে তাঁর গর্ভে আসা সন্তানের দেহেও এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

    জন্মের পর বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত এই অ্যান্টিবডি ওই শিশুকে হামের জীবাণু থেকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু এই সময়ে শিশুকে যদি হামের টিকা দেওয়া হয়, তাহলে মায়ের থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির কারণে টিকা আর কার্যকর হবে না। অর্থাৎ পরবর্তী জীবনে শিশুটি হামের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণেই এই টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর।

    তবে সংক্রমণ হতে পারে

    যখন কোনো এলাকায় হামের জীবাণুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন ৯ মাসের কম বয়সী কিছু শিশুও হামে আক্রান্ত হতে পারে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে—

    • প্রতিটি শিশুর মা যে হামের টিকার সব কটি ডোজ পেয়েছেন কিংবা হামের জীবাণু দিয়ে কখনো সংক্রমিত হয়েছেন, তা নয়। তাই সব মায়ের দেহে অ্যান্টিবডি থাকে না। তা ছাড়া টিকা দেওয়া হলেও সবার দেহে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না-ও হতে পারে। তাই মায়ের কাছ থেকে সব শিশু অ্যান্টিবডি না-ও পেতে পারে।

    • সব শিশুর দেহেই যে একই বয়স পর্যন্ত তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি রয়ে যাবে, তা–ও শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না।

    • ভিটামিন এ–এর ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কমে যায়। পুষ্টিহীনতায় ভোগা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল না খাওয়ানোর কারণে হামসহ বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    যেভাবে সুরক্ষিত থাকবে ছোট্ট শিশু

    শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো
    শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালোছবি: সাজিদ হোসেন

    ৯ মাসের কম বয়সী শিশুকে এই বিপর্যয়ের সময় সুরক্ষিত রাখতে খেয়াল রাখুন এসব বিষয়—

    • শিশু ও শিশুর ব্যবহার্য সামগ্রী স্পর্শ করার আগে দুই হাত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।

    • খুব প্রয়োজন না হলে শিশুকে বাসার বাইরে নেবেন না।

    • বাসার কারও জ্বর বা র‍্যাশ হলে তাকে আলাদা ঘরে রাখুন। বিশেষ প্রয়োজনে শিশুর ঘরে যেতে হলে ওই ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

    • নিয়মমাফিক মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাস বয়স পূর্ণ হলে ভিটামিন এ–সমৃদ্ধ খাবারসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শুরু করতে হবে।

    • শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

     

    টিকাও প্রয়োজন হতে পারে

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়
    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ছবি: মং হাই সিং মারমা
    • এলাকায় সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা ওই এলাকার বাসিন্দাদের সেই পরামর্শও দেবেন।

    • যেসব নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, তাঁদের যদি হামের টিকার দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে না থাকে কিংবা কখনো হাম হওয়ার ইতিহাস না থাকে, তাহলে তাঁদের হামের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে গর্ভধারণ করলে শিশু নিরাপদ থাকবে।

    উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

    হামের উপসর্গ দেখা দিলে ওই শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুততম সময়ে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও ডোজ না জেনে ছোট শিশুকে সেবন করানোর সুযোগ নেই। মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

    ডায়রিয়া, বারবার বমি হওয়া, কান পাকা (কান থেকে পুঁজ বা পানি পড়া), শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে দেরি করবেন না।

  • টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছালো পাকিস্তান ক্রিকেট দল

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

    রোববার (৩ মে) সকালে দলের প্রথম বহর ঢাকায় পা রেখেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগার মতো তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া প্রথম বহরটি এখন রাজধানীতে। তবে প্রথম ভাগে দলের সাথে দেখা যায়নি বাবর আজমকে।

    পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আজ ফাইনাল থাকায় দলের বেশ কিছু সিনিয়র সদস্য এবং বাবর আজম প্রথম ভাগে আসতে পারেননি। পিএসএলের ব্যস্ততা শেষ করে দ্বিতীয় দফায় তাদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

    পিসিবি ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে এবার বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন নতুন মুখ। অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি।

    ১৬ সদস্যের পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।

    উল্লেখ্য, দুই ম্যাচের এই সিরিজটি মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দ'দল।

     

  • ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী বললেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান’

    যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প–সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। গত শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসের  সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান—‘নীরবতা ভাঙুন’ এবং ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান’।

    শুক্রবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক সাংবাদিক, শিল্পী ও লেখক এই সমাবেশে অংশ নেন। জেন ফন্ডার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে আসে বই নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানা হুমকির অভিযোগ।

    শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন্ডা বলেন, দেশে বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মারক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শিল্প–সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    ফন্ডা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এসব প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন এমন কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দেশে ঘটছে।’

    জেন ফন্ডা। রয়টার্স

    কেন কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে প্রতিবাদ
    এই সমাবেশের স্থান হিসেবে কেনেডি সেন্টার বেছে নেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘অপছন্দনীয়’ বা তথাকথিত প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো সীমিত করার চেষ্টা করছে।

    ফন্ডা বলেন, শিল্পীরা আদর্শিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সংস্কারের অজুহাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রভাব
    সমাবেশে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    বক্তারা বলেন, বড় বড় করপোরেশন গণমাধ্যম কিনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে, যার ফলে ভিন্নমত বা সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

    বই নিষিদ্ধ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ
    লেখক ও শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শত শত বই স্কুল লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
    একজন লেখক প্রশ্ন তোলেন, ‘যে বইগুলো সরানো হচ্ছে, সেগুলো কি সত্যিই বিপজ্জনক—নাকি আমরা ভিন্নমতের ভয় পাচ্ছি?’

    ইতিহাসের প্রতিধ্বনি

    সমাবেশে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকের ম্যাককার্থিজমের সময় যেমন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টানেন বক্তারা।
    তাঁদের মতে, শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।

    শেষ বার্তা
    সমাবেশের শেষে জেন ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেন্সরশিপ বাড়বে এবং সমাজে মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হবে।
    তাঁর কথায়, ‘ভয় ছড়িয়ে পড়লে নীরবতা তৈরি হয়। আর সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এখনই সময় কথা বলার।’

  • ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

    ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    ৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

    এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

    বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

    ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

    বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

    প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

    আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

    ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

    এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

    এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

    বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

  • ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: ঢাকা-মার্কিন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইবে সরকার

    ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

    ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

    আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

    এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

    মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

    সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

    উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

    এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

     

  • ডিজেল ও অকটেন আমদানির জন্য বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

    মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য সরকারি ছুটির দিন আজ শনিবার জরুরি ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক বসছে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন উভয় কমিটির প্রধান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বিভিন্ন ধরনের মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এ বৈঠকের পর অনুষ্ঠেয় ক্রয় কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদন পেতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    ক্রয় কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এ ছাড়া ইউএইর আরেক কোম্পানি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও কাজাখস্তানের কোম্পানি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।

    গত ৩১ মার্চ মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয় ক্রয় কমিটির বৈঠকে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। আজ যে প্রস্তাব উঠছে, তাতে ১৭ লাখ টনের মধ্যে ১৬ লাখ টনই ডিজেল। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী মে ও জুনের দিকে এসব তেল দেশে ঢুকবে বলে সূত্রগুলো জানায়। তবে এর নানা ধাপ আছে। ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের পর কোম্পানিগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেবে বিপিসি। এরপর বিপিসি ঋণপত্র (এলসি) খুলবে এবং কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেবে।

    যোগাযোগ করা হলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী মুঠোফোনে  বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। তিনি জানান, দেশে অকটেনের সরবরাহে সংকট নেই, অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন আছে। চলতি এপ্রিলে ডিজেলেরও সংকট নেই।

  • ড্র করেও কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি

    চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেও হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। দুই লেগের লড়াই ৫-৪ এর অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    ঘরের মাঠে মোনাকোর সাথে খেলায় নাটক কম হয়নি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরা মোনাকো ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়।

    মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখার পর মারকিনওস ও কাভারাস্কেইয়ার গোল পিএসজি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়।

    শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বার্সেলোনা অথবা চেলসি। শুক্রবার ড্রতে জানা যাবে, পিএসজি কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রজ্ঞাপন জারি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক আবদুস সালাম। বর্তমানে তিনি বিজ্ঞান অনুষদের (ভারপ্রাপ্ত) ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুস সালামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) পদে সাময়িকভাবে কয়েকটি শর্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    শর্তগুলো হচ্ছে—

    • এ নিয়োগ সহ-উপাচার্য পদে যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে

    • সহ-উপাচার্য পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন

    • তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্য সুবিধা ভোগ করবেন

    • তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ

    সাত কলেজের জন্য হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এ এস মো. আবদুল হাছিব।

    গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল দিনের শেষ ভাগে এই নিয়োগ হয়। আজ সোমবার এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    মো. আবদুল হাছিব বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর মধ্যে তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হলেন।

    উপাচার্যের মেয়াদ হবে চার বছর। অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • ঢাকায় মোটরগাড়ি ও বাইকের প্রদর্শনী শুরু

    হালনাগাদ প্রযুক্তি এবং নজরকাড়া নকশার নতুন মডেলের গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’। প্রদর্শনীতে একই স্থানে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
     

    মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তাই এই প্রদর্শনী প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সহায়তা করবে।

    প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে সহজেই মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি দেখার সুযোগ মিলছে। দুই চাকার বাহনের মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটর যন্ত্রাংশও প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

    সেমস-গ্লোবালের তথ্যমতে, ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এর ফলে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    ঢাকা বাইক শোতে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আর তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাইক।

    প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
    প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
     

    প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আইসিসিবির ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ২ এবং ৪ নম্বর হলে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৩ নম্বর হলে দুই চাকার বিভিন্ন মোটর এবং বৈদ্যুতিক বাইকের দেখা মিলছে। রয়েছে পছন্দের গাড়ি ও বাইকের টেস্ট ড্রাইভ করার সুযোগও। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

  • ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

    শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদসহ অন্যরা মানবিক বিবেচনায় তাঁর জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তাঁর রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে।

    গতকাল রোববার বাড্ডা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। পরে বাড্ডা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন মিমোর বাবা। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গতকাল বলেন, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। তবে সেই কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন।

  • তামিম সভাপতি হওয়ায় যে সুবিধার কথা বললেন মিরাজ

    এক বছর আগেও তামিম ইকবাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজের সতীর্থ। দুজনে খেলেছিলেন মোহামেডানের হয়ে। এখন দুজনের ভূমিকা বদলেছে—এই সময়ের মধ্যেই মিরাজ হয়েছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক, আর ৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন তামিম।

    ২০২৩ সালেও তামিম জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এখানেই বাড়তি একটা ভরসা পাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘যেহেতু আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, তিনি আমাদের সম্পর্কে বেশি ভালো জানবেন। উনি যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে খেলা ছেড়েছেন, আমাদের কী চাহিদা আছে, আমরা কী পছন্দ করি (তা জানেন)। এটা খেলোয়াড়দের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’

    বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তামিম, বাড়িয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও। ক্রিকেটারদের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে তামিমের।

    তামিমের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘সভাপতির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল যে আমাদের দল ভালো করছে। আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন। (বলেছেন) আমরা যেভাবে খেলছি, এভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

    ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
    ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
     

    গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে গেছে। তবে এ সময়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততা ছিল প্রস্তুতিতেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বল এবং আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল বলে সিরিজের ক্রিকেটারদের অনুশীলন হয়েছে আলাদা করে।

    এ সময়ে বাইরে কী হয়েছে, তা ক্রিকেটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন মিরাজ, ‘খুবই ভালো অনুশীলন করেছি এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরে কী হয়, এটা আমাদের ও রকম মাথায় প্রভাব ফেলে না। কারণ, আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা।’

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টির কথাই বললেন মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, গত তিন সপ্তাহ যেভাবে অনুশীলন হয়েছে, এটা আমার কাছে মনে হয় অনেক ভালো। বাইরে কী হয়েছে, এটা আমরা কখনো চিন্তা করিনি।’

    ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
    ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
     

    ওয়ানডে সিরিজে আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের এ সিরিজে প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি চট্টগ্রামে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১টায়। এরপর তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল।

  • তুষি–সাবিলা থেকে পূজা–ফারিণ, ঈদের ছবির নায়িকারা কে কোথায় দাঁড়িয়ে

    ঈদের সিনেমা ‘দম’, ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রেশার কুকার’–এ অভিনয় করেছেন চার বাংলাদেশি অভিনেত্রী পূজা চেরী, তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূর ও নাজিফা তুষি। চার নায়িকার মধ্যে ক্যারিয়ারের দিক থেকে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

    নায়িকা হিসেবে শুরুর পর পূজা চেরীর ক্যারিয়ারের এক যুগ পার হয়েছে। তবে ঈদে মুক্তি পাওয়া রেদওয়ান রনির সিনেমা দম–এর জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। ঢাকাই সিনেমার জন্য যা নতুনই বলা যায়। ছবিতে রানী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার হিসাব করলে গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া পূজা অভিনীত ‘জ্বীন’, ‘লিপিস্টিক’, ‘টাইগার’—কোনোটাই সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। হয়তো ‘দম’ দিয়েই নিজেকে ফিরে পাবেন পূজা। মুক্তির পর সে ইঙ্গিতও মিলছে। ছবিতে নিশোর সঙ্গে রসায়ন থেকে আবেগের দৃশ্য তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। নির্মাতা রেদওয়ান রনিও তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। ‘একজন শিল্পীর নিবেদন ছাড়া, তার চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া কখনোই এমন একটা জায়াগায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, সবাই প্রশংসা করে। পূজা এই গল্প, চরিত্র বিশ্বাস করেছে, ফলে ও চরিত্রের জন্য নিজেকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করেছে,’ বলেন তিনি।

    ‘দম’–এর গান ‘কোথায় পাব তাহারে’ গানে পূজা চেরী। ভিডিও থেকে
    ‘দম’–এর গান ‘কোথায় পাব তাহারে’ গানে পূজা চেরী। ভিডিও থেকে

    এবার ঈদের চার বছর পর ফিরেছেন নাজিফা তুষি। ২০২২ সালে মেজবাহউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমার পর যেন ‘হাওয়া’ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবার ফিরলেন রায়াহন রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে। ছবিতে রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টিজারে তুষিকে দেখা গেছে নানা লুকে, তখন থেকেই প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। গত রোববার রাতে ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার মেহেদি হাসান ফেসবুক তুষিকে নিয়ে লিখেছেন, ‘একেকজন অভিনেতার একেক রকম প্রসেস থাকে, চরিত্র তো আর অভিনেতা ভেবে হয় না। কিন্তু রেশমা আসলে নাজিফা তুষি না হলে হতো না। যখন ডায়ালগ নিয়ে বসছি, আমরা তখন থেকেই তুষির মেথড অ্যাকটিংয়ের  প্রসেস দেখতাম বসে বসে। কখনো তুষিকে দেখি ভাতের হোটেলে ঘুরছে এই চরিত্র নিয়ে, কখনো লেখার সময় পাশে বোরকা পরে একটা মেয়ে এলে “স্লামালাইকুম” বলতেই দেখতাম, সে আসলে তুষি, কখনো বসে ব্যাকস্টোরি সাজাতাম আমরা, আবার কখনো একদিন হুট করে সব ডায়ালগ নতুন অ্যাকসেন্টে ট্রাই করা। পর্দায় জাস্ট টেক্সটগুলো ব্লার হয়ে গেল আর আমি তুষিকে রেশমা হয়ে যেতে দেখলাম।’ এই সিনেমা ছাড়াও চলতি বছর রইদ সিনেমায় দেখা যাবে তুষিকে। এ ছবি দিয়েই আবার ফিরছেন সুমন–তুষির নির্মাতা–অভিনেতা জুটি।

    ‘প্রেশার কুকার’ ছবির পোস্টার
    ‘প্রেশার কুকার’ ছবির পোস্টারফেসবুক থেকে

    গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা যায় তাসনিয়া ফারিণকে। ইনসাফ ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে তিনি ছিলেন চলনসই। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেখা গেল শাকিব খানের বিপরীতে, ‘প্রিন্স’ ছবিতে। ছবির টিজারে তাঁকে একঝলক দেখা গেছে, পরে এসেছে ছবির ড্যান্স নাম্বার ‘জ্বালা জ্বালা’।

    ‘প্রিন্স’–এর টিজারে তাসনিয়া ফারিণ। ভিডিও থেকে
    ‘প্রিন্স’–এর টিজারে তাসনিয়া ফারিণ। ভিডিও থেকে

    গানটিতে শাকিবের সঙ্গে তাঁর রসায়নের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ছবি দেখার পর অনেক দর্শক বলেছেন, ‘প্রিন্স’–এ তাঁকে আরও একটু জায়গা দিলে ভালো হতো। এর আগে কলকাতার ‘আরও এক পৃথিবী’ আর বাংলাদেশে ‘ফাতিমা’ ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্সের প্রশংসা হয়েছে। তবে দুটিই ড্রামা–নির্ভর ভিন্নধারার সিনেমা। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় ফারিণের সেরাটা দেখতে হয়তো আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।

    এবার আসা যাক সাবিল নূরের প্রসঙ্গে। ফারিণের মতো তাঁর গত ঈদের পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিষেক হয়। সেটা ছিল শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে, রায়হান রাফীর তাণ্ডব–এ। ছবিতে তাঁর উপস্থিতি স্বল্প হলেও সপ্রতিভ ছিলেন সাবিলা, বিশেষ করে ছবির ‘লিচুর বাগানে’ গানটি আলোচিত হয়। এবার তিনি হাজির হয়েছেন তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ; ছবির প্রধান চরিত্র চিত্রা হিসেবে। এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়া তরুণীর চরিত্র। সিনেমাটির জন্য অন্য আরেকটি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন সাবিলা। কারণ, দুটির শুটিং প্রায় একই সময় পড়েছিল। তারকাবহুল সিনেমা বনলতা, মুক্তির পর থেকে ছবির অন্য পাত্র–পাত্রীদের মতো সাবিলারও প্রশংসা করেছেন অনেকে। মুক্তির পর হল ভিজিটে গিয়ে তিনি বলেছেন, ছবিটি পুরো টিম অ্যাফোর্ট। এমন দারুণ একটা টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি খুশি। ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা’র পর সামনে হয়তো আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে পাওয়া যাবে।

    ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ সাবিলা নূর। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ সাবিলা নূর। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
  • তৃতীয় ওয়ানডের শুরু থেকে শেষ: ৫৫ রানের জয়ের সঙ্গে সিরিজও বাংলাদেশের

    ২১০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ জিতল ৫৫ রানে

    শেষটা হলো সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বলে ফক্সক্রফটের বড় শট, লং অনে কিছুটা ডাইভ দিয়েই ক্যাচ নিলেন সাইফ। ৭২ বলে ৭৫ রান করা ফক্সক্রফটের বিদায়ে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

    বাংলাদেশের ২৬৫ রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে অলআউট ২১০ রানে। বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে জিতল ৫৫ রানে, সঙ্গে ২–১ ব্যবধানে সিরিজও।

    ম্যাচ শেষ!
    ম্যাচ শেষ!

    নিউজিল্যান্ড ম্যাচের শুরুটা করেছিল ভালোই। বাংলাদেশের প্রথম ৩২ রানে তুলে নিয়েছিল ৩ উইকেট। আবার শেষের দিকে দলটির দশম উইকেট জুটি মাত্র ৩১ বলে তুলেছে ৫০ রান। তবে কিউইদের শুরু ও শেষের ভালো বাদে ম্যাচের বাকিটা সময়ে এগিয়েছিল বাংলাদেশই।

    রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিল। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো দলটিকে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন নিক কেলি। এই বাঁহাতি ওপেনার ৫৯ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। বাংলাদেশের হয়ে কিউইদের চাপের মধ্যে ফেলার মূল কাজটি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা এই পেসার ৪৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নাহিদ রানা ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ ইনিংস: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (নাজমুল ১০৫, লিটন ৭৬, তাওহিদ ৩৩, মিরাজ ২২; ও’রুর্ক ৩/৩২, লেনক্স ২/৫০, লিস্টার ২/৬২)।
    নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫; মোস্তাফিজ ৫/৪৩, মিরাজ ২/৩৬, নাহিদ ২/৩৭)।
    ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন (১১৯ বলে ১০৫ রান)।
    সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
    প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: নাহিদ রানা (৮ উইকেট)।
  • দাঁত প্রতিস্থাপনের আগে যেসব বিষয় জেনে রাখবেন

    নানা কারণে দাঁত হারাতে হতে পারে। দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি), মাড়ির রোগ, দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁত পড়ে যেতে পারে। এমনকি জন্মগতভাবেও দাঁত অনুপস্থিত থাকতে পারে। অনেকেই দাঁত হারানোকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হন না। তবে দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে।

    মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে। একটি দাঁত না থাকলে আশপাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা জায়গার দিকে সরে যেতে থাকে, চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং মুখের স্বাভাবিক গঠন বদলে যায়।

    ফলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, কথা বলায় জড়তা আসে, মাড়ি ও চোয়ালের হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব দাঁত প্রতিস্থাপন করে নেওয়া জরুরি।

    দাঁত প্রতিস্থাপন ও করণীয়

    আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে দাঁত প্রতিস্থাপনের বেশ কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে।

    ডেন্টাল ব্রিজ: যদি এক বা একাধিক দাঁত না থাকে ও পাশের দাঁত সুস্থ থাকে, তাহলে ডেন্টাল ব্রিজ কার্যকর সমাধান। এ পদ্ধতিতে ফাঁকা জায়গার দুই পাশের দাঁত ব্যবহার করে মাঝখানে কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়।

    ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। এতে চোয়ালের হাড়ের ভেতর টাইটেনিয়ামের তৈরি স্ক্রু বসানো হয়, যা ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ওপরই কৃত্রিম দাঁত বা ডেন্টাল ক্রাউন স্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পাশের দাঁত ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

    ডেঞ্চার: যাঁদের অনেকগুলো দাঁত নেই বা সম্পূর্ণ দাঁতই নেই, তাঁদের জন্য ডেঞ্চার একটি বহুল প্রচলিত সমাধান। এটি রোগী নিজের ইচ্ছেমতো পরতে পারেন, আবার খুলেও রাখতে পারেন।

    সব রোগীর জন্য একই পদ্ধতি উপযোগী নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডেন্টাল সার্জন উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করেন। দাঁত হারানো লজ্জার বিষয় নয়, দাঁত না থাকার সমস্যাকে অবহেলা করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। হারানো দাঁতের প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে। সচেতনতা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে সুন্দর হাসি ও সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে।

    ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন; চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর

  • দুই দিনে ২৭৭ মিলিয়ন ভিউ! ট্রেলারেই ঝড় তুলল ‘হ্যারি পটার’

    এইচবিও ‘হ্যারি পটার’ টিভি সিরিজ বানানোর ঘোষণা দিয়েছিল ২০২৩ সালে। ‘হ্যারি পটার’-এর বই অবলম্বনে পূর্ণাঙ্গ একটি সিরিজ আসতে চলেছে, এ খবরে দারুণ খুশি ছিলেন ‘পটারহেড’রা। এরপর কেটে গেছে তিন বছরের বেশি সময়। অবশেষে ফুরাচ্ছে ভক্তদের অপেক্ষা, চলতি বছরের বড়দিনেই মুক্তি পাবে সিরিজটি। তাঁর আগে ট্রেলারের সাড়া দেখে বোঝা গেছে, সিরিজটি নিয়ে কতটা অপেক্ষায় ভক্তরা। কারণ, মুক্তির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ট্রেলারটির ভিউ হয়েছে ২৭৭ মিলিয়ন! যা এটিকে এইচবিও ও এইচবিও ম্যাক্সের সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ট্রেলারে পরিণত করেছে।

    এই সিরিজ তৈরি হয়েছে জে. কে. রাওলিংয়ের সাত খণ্ডের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে। আগে যেখানে ড্যানিয়েল রেডক্লিফের অভিনয়ে বড় পর্দায় হ্যারি পটার বিশ্বজয় করেছিল, এবার সেই গল্পই নতুনভাবে বলা হবে টেলিভিশনের জন্য।
    প্রথম মৌসুমে তুলে ধরা হবে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সোরসারার্স স্টোন’–এর কাহিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মৌসুমে সিরিজের একটি করে বই তুলে ধরা হবে।

    ট্রেলারে কী দেখা গেল
    ট্রেলারে দেখা যায়—১১ বছর বয়সী হ্যারি, যে এতদিন জানত সে সাধারণ এক ছেলে, হঠাৎ করেই পায় জাদুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার চিঠি। এরপর তার সামনে খুলে যায় এক অজানা জগৎ।

    হ্যারি পরিচিত হয় তার ভবিষ্যৎ বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের সঙ্গে। হাতে ওঠে ‘সোর্টিং হ্যাট’, ক্লাসে যোগ দেয়, আবার কুইডিচ খেলায় অংশ নেয় গ্রিফিন্ডর দলের হয়ে।

    হ্যারি ও হ্যাগ্রিডের একটি সংলাপ ট্রেলারের আবেগ বাড়িয়ে তোলে—হ্যারি জানতে চায় তার মা–বাবা সম্পর্কে। জবাবে হ্যাগ্রিড বলে, তাঁরা ছিলেন সাহসী, দয়ালু এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ।

    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

    নতুন মুখ, নতুন অভিনয়

    এ সিরিজে হ্যারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডমিনিক ম্যাকলাফলিন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অ্যালাস্টেয়ার স্টাউট (রন) ও অ্যারাবেলা স্ট্যানটন (হারমায়োনি)। তাঁরা একসঙ্গে জাদুবিদ্যার পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি ভয়ংকর লর্ড ভলডেমর্টের হুমকির মুখোমুখি হবেন।

    হ্যারি পটার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত ডমিনিক ম্যাকলাফলিন অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ ‘গিফটেড’, কমেডি সিনেমা ‘গ্রো’-তে অভিনয় করেছেন। ‘গ্রো’-তে তাঁর সহ–অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘ব্রিজারটন’-এর রোশুয়েল, ‘টেড লাসো’-এর জেরেমি সুইফট। রন উইসলি চরিত্রে আলাস্টার স্টাউটের হবে বড় পর্দার এটিই প্রথম কাজ। তবে এ তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হারমায়োনি গ্রেঞ্জার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয় আরাবেলা স্ট্যানটন। এই বয়সেই তার রয়েছে মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে সে লন্ডনের ওয়েস্টএন্ডে ‘ম্যাটিল্ডা-দ্য মিউজিক্যাল’-এর ম্যাটিল্ডা চরিত্রে অভিনয় করে। তার আবেগপ্রবণ অভিনয়শৈলীতে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

    অভিজ্ঞ নির্মাতাদের হাত ধরে
    সিরিজটির শোরানার হিসেবে আছেন ফ্রানচেস্কা গার্ডিনার, যিনি আগে ‘সাকসেশন’–এর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। এটি পরিচালনা করবেন মার্ক মেলড, যিনি আগে ‘গেম অব থ্রোনস’–এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করেছেন।

    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

    মুক্তির অপেক্ষা
    সবকিছু ঠিক থাকলে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ মুক্তি পাবে চলতি বছরের বড়দিনে। এটি প্রচারিত হবে এইচবিও টিভি, ওটিটিতে দেখা যাবে এইচবিও ম্যাক্সে।

    ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাওলিংয়ের ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের সাতটি বই রয়েছে। সাতটি বই অবলম্বনে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আটটি সিনেমা বানানো হয়। সিনেমার পর্দার হ্যারি পটারের বিশাল জাদুর দুনিয়ার খুব কম জিনিসই ফুটে উঠেছে। এত কম সময় সিনেমা দেখে পটারপ্রেমীদের যে মন ভরত না, তা বলাই বাহুল্য। তাই এইচবিও থেকে যখন ঘোষণা আসে, সিরিজটি হবে সত্যিকার অর্থেই হ্যারি পটার বইয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর, তখন পটারপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন ওঠে। সেটা কতটা ট্রেলার মুক্তির পর সাড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

    দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে

  • দুই পেনাল্টির ম্যাচে আর্সেনাল-অ্যাটলেটিকোর ড্র

    দুই পেনাল্টির ম্যাচে জিতল না আর্সেনাল-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কেউই। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষ করেছে তারা।

    অ্যাটলেটিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় আর্সেনাল খেলা শুরু করেছিল ভিক্টর  ইয়োকেরেশকে নিয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আর্সেনালের হয়ে পেনাল্টিতে গোল করেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ করতে থাকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। লুকমান ও গ্রিজম্যান কাছাকাছি সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে ম্যাচে সমতায় ফিরতে অ্যাটলেটিকোকে যেতে হয় আলভারেজের কাছে। এপ্রিলে কোপা দেল রে ফাইনালের শুট-আউটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন। তবে এবার আর ভুল করেননি তিনি।

    ম্যাচের শেষদিকে আর্সেনাল একটি পেনাল্টি পেয়েছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

    সেমির প্রথম লেগ শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) লন্ডনে ফিরতি লেগের জন্য রোমাঞ্চ জমা থাকল।

  • দুষ্টু-মিষ্টি বৌ থেকে গ্ল্যামগার্ল, তৃণার বয়স কি বাড়ছে নাকি কমছে

    ওপার বাংলার টিভি সিরিজে দুষ্টু-মিষ্টি বৌয়ের চরিত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছেন এই টালিউড ডিভা। এরপর ওয়েবসিরিজ আর সিনেমায় উষ্ণতা ছড়িয়েছেন আবেদনময়ী সব লুকে। এখন তো নিজের আগের ইমেজ ভেঙে এখন তিনি পুরোদস্তুর গ্ল্যামগার্ল। বয়স কি বাড়ছে নাকি কমছে তৃণা সাহার?

    নিটেড পেনসিল স্কার্ট, শর্ট শ্রাগ আর ব্রালেটে আবেদনময়ী তৃণা
     
    নিটেড পেনসিল স্কার্ট, শর্ট শ্রাগ আর ব্রালেটে আবেদনময়ী তৃণা
    এখানে তিনি পরেছেন সিকুইনের সোনালি-কালো হল্টার টপ আর প্যান্ট
     
    এখানে তিনি পরেছেন সিকুইনের সোনালি-কালো হল্টার টপ আর প্যান্ট
    কালো স্যাটিনের শর্ট শার্ট-টপ আর ম্যাচিং স্কার্ট পরেছেন তৃণা
     
    কালো স্যাটিনের শর্ট শার্ট-টপ আর ম্যাচিং স্কার্ট পরেছেন তৃণা
    কালো মিনিড্রেসের সঙ্গী হয়েছে ব্যান্ডানা আর স্নিকার্স
     
    কালো মিনিড্রেসের সঙ্গী হয়েছে ব্যান্ডানা আর স্নিকার্স
    এখানে নিটেড মিনিস্কার্ট আর জিপ দেওয়া কালো টপের সঙ্গে তৃণা পরেছেন বার্ন্ট অরেঞ্জ শর্ট ব্লেজার
     
    এখানে নিটেড মিনিস্কার্ট আর জিপ দেওয়া কালো টপের সঙ্গে তৃণা পরেছেন বার্ন্ট অরেঞ্জ শর্ট ব্লেজার
    কর্ণফ্লাওয়ার ব্লু কাট আউট ড্রেসে স্ট্র্যাপলেস ডিজাইন নজর কাড়ছে
     
    কর্ণফ্লাওয়ার ব্লু কাট আউট ড্রেসে স্ট্র্যাপলেস ডিজাইন নজর কাড়ছে
    এনিম্যাল প্রিন্ট জ্যাকেট, কালো টাইটস আর চেলসি বুটসে তৃণা
     
    এনিম্যাল প্রিন্ট জ্যাকেট, কালো টাইটস আর চেলসি বুটসে তৃণা
    এখানে তিনি পরেছেন নীল স্যাটিনের থাই স্লিট হলটারনেক গাউন
     
    এখানে তিনি পরেছেন নীল স্যাটিনের থাই স্লিট হলটারনেক গাউন
     

    ছবি: তৃণার ইন্সটাগ্রাম

  • দেশ রক্তাক্ত যুদ্ধে, মাঠে ইরানের মেয়েদের অন্য এক লড়াই

    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পাল্টা জবাবে উত্তাল পৃথিবী।

    ঠিক এমনই এক সময়ে তেহরান থেকে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ইরানের নারী ফুটবল দল নিচ্ছে অন্য এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লক্ষ্য—এশিয়ান কাপ এবং এই টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট কাটা।

    এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। একদিকে রণকৌশল নিয়ে ভাবনা, অন্যদিকে স্বদেশ থেকে ভেসে আসা এক চরম অস্থিরতার খবর। ফুটবল-উৎসবের আড়ালে যে বারুদগন্ধ, তা উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

    ঠিক এই আবহে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। প্রত্যাশিতভাবেই ফুটবল ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠল রাজনীতি। প্রশ্ন ধেয়ে এল—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আপনাদের মানসিক অবস্থা কী, এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আপনারা ঠিক কী ভাবছেন?

    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি
    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি, এএফসি

    প্রশ্নটা প্রথমে ফারসিতে হলো, তারপর ইংরেজিতে। মুহূর্তেই যেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। একটু দম নিয়ে কোচ মারজিয়া জাফরি ফারসিতে কিছু একটা উত্তরও দিতে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধি মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দিলেন। অনেকটা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার মতো করেই বললেন, ‘পরের প্রশ্নে যাই চলুন। শুধু খেলাতেই মন দিই।’

    বাকিটা সময় আলোচনা চলল শুধুই ফুটবল নিয়ে। তবে তেহরানে রেখে আসা পরিবার-পরিজন এখন যে যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে আছেন, সেই উৎকন্ঠা থেকে ইরানের এই খেলোয়াড়েরা কতটা মুক্ত, সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।

    কোচ মারজিয়া জাফরি ও অধিনায়ক জাহরা গানবারি যখন দল নিয়ে দেশ ছাড়েন, তখনো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছিল। তবে ইরানের মেয়েদের প্রস্তুতির গল্পটা বলতে গিয়ে অধিনায়ক আর কোচ যেন কোনো এক ‘আদর্শ পৃথিবী’র ছবি আঁকলেন। কোচ জাফরির কথায়, ‘দেশের লিগে খেলে মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটা ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি
    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, এএফসি
     

    ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা ইরানের গ্রুপে এবার দক্ষিণ কোরিয়া (র্যাঙ্কিং ২১) ছাড়াও আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫) ও ফিলিপাইন (৪১)। অধিনায়ক গানবারিও কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী ঠিকই, তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যেই লড়ব।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে ইরানের মেয়েরা যখন গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের মাঠটা পরখ করতে নামলেন, তখন তাঁদের চেহারায় কোনো উদ্বেগের ছাপ নেই। একে অপরের ছবি তুলছেন, হাসছেন।

    কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কি দেশের জন্য দীর্ঘশ্বাস লুকানো ছিল না? কাল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁরা নামবেন, গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে তাঁদের কানে কি বাজবে তেহরানে একের পর বিস্ফোরণের শব্দ।

    কিংবা হয়তো ফুটবলই এখন তাঁদের একমাত্র আশ্রয়, দমবন্ধ পরিস্থিতিতে একটুখানি নিশ্বাস নেওয়ার খোলা জানালা!

  • দেশে এবার সোনার দাম ভরিতে কমল ৬,৫৯০ টাকা

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখনো কম থাকায় দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সোনার ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে। গত বুধবার ভরিতে কমেছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ১৬ দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

    বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তার প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে ছিল। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সোনার দাম পড়তে শুরু করে।

    সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর প্রভাব—এই পরস্পরবিরোধী সংকেত মূল্যায়ন করছেন।

    আজ দুপুর সোয়া ১২টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৪৬৭ ডলার। এই দাম গতকালের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত সোমবার স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা কিনা গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তারপর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিলে সোনার দাম বাড়তে থাকে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব