• আইসিসির বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা

    সপ্তাহের শেষে এবং বড় টুর্নামেন্টের পর নিয়মিতই র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে প্রতিবছরের মে মাসের শুরুতে আসা বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর জন্য নিয়ে আসে ভিন্ন তাৎপর্য।

    ২০২৬ সালের সেই বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে নিগার সুলতানার দল।

    শুক্রবার আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ওয়ানডে দলের এই নতুন বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে মোট তিন বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যকার পারফরম্যান্সকে শতভাগ এবং তার আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে পঞ্চাশ ভাগ ওয়েটেজে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    মেয়েদের বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়া (১৬৩ পয়েন্ট), ইংল্যান্ড (১২৮), ভারত (১২৬), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৯) নিজ নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে পাকিস্তানকে টপকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ (৭৩)। শীর্ষ দশের বাকি দুটি জায়গায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (নবম) ও আয়ারল্যান্ড (দশম)।

    মেয়েদের ওয়ানডের পাশাপাশি ছেলেদের বার্ষিক টেস্ট র‌্যাঙ্কিংও প্রকাশ করেছে আইসিসি। এখানেও শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া (১৩১)। গতবারের মতো দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯)। তবে ইংল্যান্ড (১০২ পয়েন্ট) জায়গা ধরে রাখতে পারেনি, তাদের পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)।

    নিউজিল্যান্ড পঞ্চম স্থান ধরে রাখলেও শ্রীলঙ্কা ছয় থেকে সাতে নেমে গেছে, এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ পাকিস্তান। এরপর যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (অষ্টম), বাংলাদেশ (নবম) ও জিম্বাবুয়ে (দশম)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮টি টেস্ট না খেলায় আয়ারল্যান্ড র‌্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে র‍্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে আগামী এক বছরে অন্তত দুটি টেস্ট খেলতে হবে।

    ৫ মে টি-টুয়েন্টি এবং ৭ মে ছেলেদের ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হবে।

  • আইসিসির বিবৃতি বিশ্বকাপ না খেলায় শাস্তি হবে না বিসিবির, পাচ্ছে পুরস্কারও

    নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আইসিসি। উল্টো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বাগতিক করা হবে বাংলাদেশকে। আজ আইসিসির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর গতকাল আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভা হয়। আজ রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এরপরই আইসিসি বাংলাদেশকে নিয়ে হওয়া এসব সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

    আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তাদের। সেখানে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না থাকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতি’ বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আইসিসি। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাসংকটের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি না হওয়ায় বিশ্বকাপই খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি
    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি

    আইসিসি জানিয়েছে, গর্ব করার মতো ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশের। ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারে ক্রিকেটের বিকাশে তারা তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যেন না ফেলে, সেটিও দেখবে আইসিসি।

    কোনো শাস্তি হবে না

    পরে দুটি বিষয়ের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছে বিসিবি। বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবির ওপর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক, খেলা নিয়ে অথবা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে।

    বাড়তি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব

    এ ছাড়া আইসিসির সঙ্গে বিসিবি ও পিসিবির সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি এবং পরিচালনাগত শর্তাবলির অধীন থাকবে। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা বাংলাদেশের।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করে যাচ্ছি।’

  • আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় বাংলাদেশের নাহিদ রানা

    সময় এখন নাহিদ রানার। বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার এবার এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে খেলে উইকেট নেন ৮টি। ওই পারফরম্যান্সই তাঁকে মাসসেরা বানিয়েছে।

    এই সিরিজের আগে ও পরে নাহিদ রানা পারফর্ম করেছেন। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নেন ৪০ রানে ৫ উইকেট।

    নাহিদ রানা এই প্রথম আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন নাহিদ রানা। তাঁর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (২ বার) ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
    মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
     

    মাসসেরা নাহিদ রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। এটি দেশের মাটিতে পারফর্ম করতে পারা সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এবং এই সিরিজটি আমি সব সময় মনে রাখব।’

    সেই সিরিজে নাহিদ রানার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো নেন ৫ উইকেট।

    এর আগে চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও হন এই ফাস্ট বোলার।

    মেয়েদের মাসসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লরা ভলভার্ট।

  • আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়

    আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বিষয় চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। পরীক্ষা শেষ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এইচএসসি শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

    যে চার বিষয়ে যুক্ত হবে

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তখনকার সময়ে চালু থাকা নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুও রয়েছে তাতে।

    এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়েও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জনও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন শ্রেণির বই পরিমার্জনও করা হয়েছে। তবে এসব পরিমার্জন কেবল আগামী বছরের বইয়ের জন্যই। আগামী বছর নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, যতটা দ্রুত সম্ভব শিক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। এখানে শিক্ষাক্রমের মধ্যে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া বিষয়টি যুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি নামে আরেকটি বিষয়ও যুক্ত হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে।

    এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দুটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আরেকটি হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এগুলো বাধ্যতামূলক বিষয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ একদিকে যেমন একটি বিষয় হবে। এ ছাড়া এর মূল্যবোধের নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের শেখানো ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’কোর্সের মধ্যে থাকবে।

    শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে একটি বড় অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

    ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম

    নতুন চারটি বিষয় কবে থেকে তা চালু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মত অনুধাবন করে ২০২৭ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আর পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, সেটা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০২৮ থেকে দেখা যাবে। শিখন ফল অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাক্রম করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    সরকারের পরিকল্পনা হলো, ২০২৮ সাল থেকে নতুন করে একটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা। এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, না কি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কিছুদিন আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে।

    এসএসসির ফল ২০ জুলাই—

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

    ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ ছাড়া আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

    এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নেরে জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় পরামর্শ আসে পবিত্র রমজানের (আগামী বছরের) আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়ে যাক। সে অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছেন। তবে প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আপাতত সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, সেটাই রয়ে গেছে এবং আশা করছেন এটাই থাকবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়, ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়োজন ও উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।

  • আগামী বাজেটেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালুর আহ্বান রাশেদা কে চৌধূরীর

    দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। পাশাপাশি আগামী বাজেটেই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং নীতিগত সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

    সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধূরী এ কথা বলেন। বইটির লিখেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    দেশের কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা ব্যয়ের বড় একটি অংশ কোচিং খাতে ব্যয় হচ্ছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দুর্বলতা, পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, ধারাবাহিক মূল্যায়নপদ্ধতি জোরদার না করে উচ্চ ঝুঁকির পাবলিক পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

    শিক্ষায় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা বেশি সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষাধারাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।

    বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সমতাভিত্তিক ব্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার সঠিক নজরদারি প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি জোরদারের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা ও তথ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে নীতি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।

    অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও চিন্তক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, সাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুন নূর তুষার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

    ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নিয়ে নীতিনির্ধারণমুখী ও গবেষণাভিত্তিক একটি বই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেন বারবার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তার কারণ নিরূপণ ও সমাধানের প্রস্তাব উঠে এসেছে এই গ্রন্থে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাগত উৎকর্ষের নিয়ামক হিসেবে নতুন করে নকশা করার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বইটিতে।

  • আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী

    আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য দেন।

    জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, প্রতিমাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।

    তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনোভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।

    শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে।

    তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি পরিশোধন করা হয়, যা মোট জ্বালানি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ।

  • আজ থেকে বন্ধ থাকছে দেশের সব স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা

    আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। এই উপলক্ষ্যে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ছুটি শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও কলেজে ছুটি কার্যকর হয়েছে গতকাল থেকে। 

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এই ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় পরের ২ দিন (শুক্র-শনি) ছুটি কাটাতে পারবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
    বিজ্ঞাপন

    এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকছে মাদরাসা। এসব প্রতিষ্ঠানেও ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৯ মার্চ।

     

  • আজ বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে বিরল ব্লু মুন

    রাতের আকাশ মানেই যেন চমক। আজ রোববার বাংলাদেশের আকাশে এক বিরল পূর্ণিমা বা ব্লু মুন প্রত্যক্ষ করতে পারবেন আকাশপ্রেমীরা। ১ মে পূর্ণিমা ছিল। আর তাই একই মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় পূর্ণিমা হওয়ায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে ব্লু মুন বলা হচ্ছে। এই বিরল ঘটনার কারণে এ বছর ১২টি পূর্ণিমার পরিবর্তে ১৩টি পূর্ণিমা দেখা যাবে।

    ব্লু মুন বা নীল চাঁদ নামের সঙ্গে রঙের কোনো সম্পর্ক নেই, এটি মূলত একটি সময়ের হিসাব। চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথের চক্র বা লুনার সাইকেলের সঙ্গে আমাদের প্রচলিত ক্যালেন্ডার বছরের দিন ও মাসের হিসাব পুরোপুরি না মেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটে। সাধারণত পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর একবার ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে একটি দিন এবং সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর একবার প্রদক্ষিণের ওপর ভিত্তি করে একটি বছর গণণা করা হয়। অন্যদিকে, পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের ঘূর্ণনের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি মাসের হিসাব। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে একটি পূর্ণিমা হয়ে থাকে।

    ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন মাসের পূর্ণিমার ঐতিহ্যগত নামকরণ করা হয়। ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমাকে বলা হয় স্নো মুন, জুনের পূর্ণিমাকে স্ট্রবেরি মুন এবং ডিসেম্বরের পূর্ণিমাকে কোল্ড মুন। তবে চাঁদের ১২টি পূর্ণাঙ্গ চক্র বা লুনার সাইকেল আমাদের সাধারণ ক্যালেন্ডার বছরের চেয়ে প্রায় ১১ দিন কম হয়। এ সময়ের পার্থক্যের কারণে কয়েক বছর পরপর ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত পূর্ণিমা যুক্ত হয়ে যায়, যার ফলে একই মাসের মধ্যে দুবার পূর্ণিমার দেখা মেলে।

    আজ রাতের আকাশে এই ব্লু মুন পূর্ব আকাশে উদিত হবে। তবে সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় এটিকে আকাশের কিছুটা নিচের দিকে বা দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, রাতের আকাশে চাঁদটি মূলত কনস্টেলেশন ভার্গোর ঠিক ডান পাশে অবস্থান করবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • আজ ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল

    আসন্ন সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচটি হয়তো কেবলই নিয়ম রক্ষার, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে লড়াই বলে কথা। জয় দিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

    রবিবার (৩১ মে) হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আসরের শেষ চারে জায়গা করে নেয় মারিয়ারা।

    ভারতের গোয়ার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি শুরু হবে।

    ম্যাচকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের নিবিড় প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন সাবিনা-রূপনারা। সকালে গোয়ার ডন বস্কো ট্রেনিং গ্রাউন্ডে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়েছে দল। সেখানে ওয়ার্ম-আপ ও পাসিং ড্রিলের পর, পজেশন হোল্ড এবং ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ম্যাচ সিনারিও প্র্যাকটিস করেন ফুটবলাররা।

    অনুশীলনের শেষভাগে এসে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের মূল মনোযোগ ছিল ট্যাকটিক্যাল পজিশনিং ও সেট-পিস কৌশলের ওপর। স্বস্তির খবর হচ্ছে, স্কোয়াডের সবাই পুরোপুরি ফিট আছেন। ফলে ভারতের বিপক্ষে আজ পূর্ণশক্তির দলই মাঠে নামাতে পারছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার বলেন, আমরা এখন একটি সম্পূর্ণ আলাদা দল এবং অনেক ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের দলে কিছু প্রকৃত ম্যাচ উইনার আছে। ভারতের যদি আক্রমণ করার মানসিকতা থাকে, তবে আমাদেরও তা আছে। আমরা যেমন প্রয়োজনবোধে রক্ষণভাগ সামলাতে জানি, তেমনি গোল করার সুযোগও তৈরি করতে পারি।

     

  • আনচেলত্তির দল ঘোষণা: নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে ব্রাজিল

    বিশ্বকাপে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না—গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল দুনিয়ার অলিগলিতে এর চেয়ে বড় কোনো ‘সাসপেন্স’ সম্ভবত ছিল না। চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে যবনিকা নামল সেই নাটকের।

    রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে আজ সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্খিত নামটা তাঁরই ছিল। অবশেষে আনচেলত্তির কন্ঠে উচ্চারিত হলো সেই নাম—নেইমার জুনিয়র।

    হ্যাঁ, নন্দিত এবং কখনো কখনো নিন্দিত এই মহাতারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। দল ঘোষণার জমকালো অনুষ্ঠানে যখন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম উচ্চারণ করলেন আনচেলত্তি, করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। মিলনায়তন জুড়ে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি।

    বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে দলের ডাকার আগে কোচ আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের রাডারের বাইরে। চোট আর ফর্মহীনতার দোলাচলে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোচের মনে ছিল একরাশ সংশয়।

    রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।
    রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করছেন আনচেলত্তি।সিবিএফ

    সৌদি আরবের চোটজর্জর অধ্যায় চুকিয়ে গত জানুয়ারিতে নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। আর সেখানেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান। চেনা আঙিনায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেই আদায় করে নিলেন আনচেলত্তির ‘ছাড়পত্র’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল)।

    আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

    বিশ্বকাপের ব্রাজিল দল:

    গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)। ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)। মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)। ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।
  • আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে ‘রোনালদো, রোনালদিনিও, রোমারিওর মতো তারকা আছে’

    চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর বিশ্বাস, শিগগিরই ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছন্দে ফিরবে। ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দর্শকদের হতাশার কারণও তিনি বুঝতে পারছেন। পেদ্রোর দাবি, ব্রাজিল দলে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিও আর রোমারিওর মতো তারকা আছেন। অপেক্ষা শুধু হতাশা ভুলে জ্বলে ওঠার।

    গত সপ্তাহে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে সমর্থকেরা অনুপস্থিত নেইমারের নাম ধরে স্লোগান দেন। আর এতেই ফুটে ওঠে দলের গোল করার সক্ষমতা নিয়ে তাঁদের হতাশা।

    এই ম্যাচে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি শক্তিশালী আক্রমণভাগই সাজিয়েছিলেন। সেখানে বার্সেলোনার রাফিনিয়া, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুনহাকে একসঙ্গে দেখা যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন পেদ্রো। কিন্তু এই তারকাখচিত আক্রমণভাগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে ব্রাজিল।

    তবে দল নিয়ে হতাশ নন পেদ্রো। অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আগামীকাল ভোরে মাঠে নামার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পেদ্রো বলেন, ‘আমরা একে অন্যকে আরও ভালোভাবে চিনতে শুরু করেছি। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ভিনি স্পেনে, রাফিনিয়া অন্য ক্লাবে—সবার পরিবেশ আলাদা। ক্লাবে যেমন সারা বছর একসঙ্গে অনুশীলন করি, জাতীয় দলে সেটা সম্ভব হয় না। এখানে অনেক কিছুই ভিন্নভাবে করতে হয়, তাই দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। সময় বেশি পেলে সবকিছু আরও মসৃণ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক জায়গায় বসবে।’

    রোনালদো ও রোনালদিনিও যখন ব্রাজিল জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ ছিলেন
    রোনালদো ও রোনালদিনিও যখন ব্রাজিল জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ ছিলেন, ফেসবুক

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় নেইমারের। এ চোটের পর আর ব্রাজিল দলে ফেরা হয়নি দেশটির জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতার (৭৯ গোল)। সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও এখনো তাঁকে সেরা ফর্মে দেখা যায়নি। ফলে জায়গা হয়নি আনচেলত্তির দলে।

    ক্লাবের হয়ে দারুণ খেললেও ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়াকে জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো তাঁদের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের হয়ে ৪৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮ গোল। আর রাফিনিয়া ৩৬ ম্যাচে করেছেন ১১ গোল। ২৪ বছর বয়সী পেদ্রো মনে করেন, ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ জিততে না পারার চাপ তাঁদের তারকা ফরোয়ার্ডদের আসল সামর্থ্য দেখানোর পথে বড় বাধা।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা জোয়াও পেদ্রো
    ব্রাজিলিয়ান তারকা জোয়াও পেদ্রোইনস্টাগ্রাম/ জোয়াও পেদ্রো

    পেদ্রো বলেন, ‘আগে আমাদের দলে রোনালদো, রোনালদিনিও এবং রোমারিওর মতো তারকা খেলোয়াড় ছিল। এখনকার ব্রাজিল দলেও তেমন মানের খেলোয়াড় আছে। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনি, বার্সেলোনায় রাফিনিয়া, চেলসিতে আমি, এস্তেভাও এবং আন্দ্রে সান্তোস আছি। এখানে সবাই শীর্ষ ক্লাবে খেলছে। সমস্যা হচ্ছে, অনেক দিন ধরে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। আমরা বিশ্বের সেরা জাতীয় দল। কিন্তু দীর্ঘদিন শিরোপা না জিতলে চাপটা বাড়তেই থাকে।’

    অরল্যান্ডোয় বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছেন আফগান নারীরা

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার অনুমতি পাওয়ার পর আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা এখন থেকে ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হয়ে উঠবেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল। দীর্ঘ বিরতির পর ফিফার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার অনুমতি পেয়েছে আফগানিস্তান নারী দল।

    ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে আফগানিস্তান নারী দল আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি। ২০২১ সালে দেশটিতে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর নারীদের খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে অনেক খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

    ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের স্বীকৃতি ছাড়া সেই দেশের জাতীয় দলকে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই সংস্থাটির। কিন্তু গত মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার কাউন্সিল সভায় এই নীতিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’ এবং ফুটবলারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণ থাকলে ফিফা নিজেই কোনো জাতীয় বা প্রতিনিধিদলকে নিবন্ধনের অনুমতি দিতে পারবে। ফলে এখন থেকে আফগান নারী ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে খালিদা পোপাল বলেন, ‘আমাদের দল সব সময় অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিল। তবে ফিফার এই সমর্থনের ফলে এখন আমরা আমাদের দক্ষতা দেখানোর এবং প্রবাসে থাকা তরুণ প্রতিভাদের বিকশিত করার সুযোগ পাব।’

    পোপাল আরও বলেন, ‘আমি জানি, কাজটা কঠিন হবে। কারণ, আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নারীদের জন্য এর অংশ হওয়া দুঃসাধ্য। কিন্তু আমরা যদি তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়ে আশার বাণী পৌঁছে দিতে পারি এবং বোঝাতে পারি যে আমরা তাঁদের ভুলে যাইনি, তবে আমাদের এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সার্থকতা আসবে।’

    বিদেশে আশ্রয় নেওয়া খেলোয়াড়দের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে একটি শরণার্থী দল গঠন করে ফিফা। মূলত সেই উদ্যোগেরই সফল পরিণতি ফিফার এ সিদ্ধান্ত। ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও ২০২৮ অলিম্পিক বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে আফগানিস্তান। আগামী জুনেই তাদের মাঠে ফেরার কথা রয়েছে।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
     

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেডের এই সুন্দর পথচলায় আমরা গর্বিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা তাঁদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে চাই।’

    বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে আফগানিস্তানের প্রায় ৮০ জন নারী ফুটবলার রয়েছেন। আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডে একটি অনুশীলন ক্যাম্পের আগে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় খেলোয়াড় বাছাইয়ের কাজ করবে ফিফা। ২০২৫ সালে ‘ফিফা ইউনাইটেড উইমেন সিরিজ’-এ তিনটি ম্যাচ খেলেন আফগান নারীরা, যার মধ্যে নভেম্বরে লিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ও পান তাঁরা।

  • আন্দামান সাগরের ঢেউ পেরিয়ে বাংলাদেশের দুই সাঁতারুর জয়

    থাইল্যান্ডের ক্রাবি! নীল আন্দামান সাগর, দূরে চুনাপাথরের পাহাড় আর মাঝখানে উত্তাল ঢেউ। সেই ঢেউকে সঙ্গী করেই ১০ কিলোমিটারের এক কঠিন যাত্রা শেষ করলেন বাংলাদেশের দুই সাঁতারু মোস্তাফিজুর রহমান ও হোমায়েদ ইসহাক মুন।

    ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ওশানম্যান ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তাঁরা অংশ নেন ওপেন ওয়াটার সাঁতারের ১০ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে। প্রতিযোগিতাটি এমনিতেই পরিচিত কঠিন পরিবেশের জন্য—সমুদ্রের ঢেউ, স্রোত আর অনিশ্চিত আবহাওয়া মিলিয়ে প্রতিটি মুহূর্তই সেখানে চ্যালেঞ্জের।

    এই প্রতিকূলতার মধ্যেই নিজের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা দিয়েছেন বাংলাদেশি দুই সাঁতারু।

    মোস্তাফিজুর রহমান সাঁতার শেষ করেন ৪ ঘণ্টা ৪১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে। আর হোমায়েদ ইসহাক মুন সময় নেন ৫ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড। দুজনই অংশ নেন ২৯ থেকে ৩৯ বছর বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে।

    মোস্তাফিজুর রহমান দেশের পরিচিত একজন অ্যাথলেট। তিনি এর আগে ‘বাংলা চ্যানেল’ জয় করেছেন এবং স্পেনে অনুষ্ঠিত হাফ আয়রনম্যানও সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার ও সহনশীলতার খেলাধুলায় তাঁর অভিজ্ঞতা এই প্রতিযোগিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    অন্যদিকে হোমায়েদ ইসহাক মুনও দেখিয়েছেন ধৈর্য আর লড়াইয়ের মানসিকতা। তিনিও হাফ আয়রনম্যান ফিনিশার এবং বাংলা চ্যানেলজয়ী সাঁতারু।

    ওশানম্যান সিরিজ বিশ্বজুড়ে ওপেন ওয়াটার সাঁতারের অন্যতম বড় আসর হিসেবে পরিচিত। সেখানে বাংলাদেশের দুই সাঁতারুর এই অংশগ্রহণ ও সফল সমাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দেশের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প।

    আন্দামান সাগরের ঢেউ থামেনি। কিন্তু সেই ঢেউয়ের মধ্যেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে নিয়ে সামনে এগিয়েছেন মোস্তাফিজুর ও মুন—দুজনই লিখেছেন এক নীরব কিন্তু দৃঢ় সাফল্যের গল্প।

  • আফকন ট্রফির বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করলেন কনফেডারেশনের মহাসচিব

    আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) মহাসচিব ভেরন মোসেঙ্গো–ওমবা পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে সরানোর দাবি উঠছিল, যা মহাদেশটির ফুটবলে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আরও ত্বরান্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মুখেই পদ ছেড়েছেন তিনি।

    বিদায়ের ঘোষণায় মোসেঙ্গো-ওমবা বলেছেন, তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর এই বিদায় এমন এক সময়ে এল, যখন সংস্থার নেতৃত্ব নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেনেগালের কাছ থেকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকান ফুটবলের শীর্ষ সংস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

    এ ছাড়া বাধ্যতামূলক অবসরের বয়স ৬৩ পার হওয়ার পরও তিনি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি সিএএফের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকেও তাঁর দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোসেঙ্গো–ওমবা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, শিক্ষা দেওয়া এবং প্রত্যাশার নতুন দ্বার খোলার পর আমি সিএএফ মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মনোযোগ দিতে চাই।’

    মরক্কো পেনাল্টি পাওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান সেনেগালের সমর্থকেরা
    মরক্কো পেনাল্টি পাওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান সেনেগালের সমর্থকেরা, রয়টার্স

    বিবৃতিতে পদত্যাগের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সমালোচনারও যে ভূমিকা ছিল, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন মোসেঙ্গো–ওমবা, ‘কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে যে সন্দেহ ছড়াতে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছিল, তা দূর করতে পেরেছি। তাই এখন আমি কোনো বাধা ছাড়াই শান্ত মনে অবসর নিতে পারছি এবং আগের চেয়ে আরও সমৃদ্ধ একটি সিএএফ রেখে যাচ্ছি।’

    এদিকে ক্যাফের সভাপতি মোতসেপে বলেছেন, সেনেগালের করা আপিলের বিষয়ে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস) যে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনি তা ‘সম্মান করবেন’ এবং বাস্তবায়ন করবেন। কায়রোতে সিএএফ নির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মোতসেপে বলেন, ‘আমি সিএএসের সিদ্ধান্ত মেনে নেব এবং তা কার্যকর করব। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রাসঙ্গিক নয়।’

    গত জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। তবে ফাইনালের মাঝপথে রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ‘ম্যাচ বর্জন’ করেছিল—উপসংহার টেনে সিএএফের আপিল বোর্ড সেনেগালের শিরোপাটি কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করে, যা চ্যালেঞ্জ করে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে আপিল করেছে সেনেগাল।
  • আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে, ফেসবুকে কেন বললেন মেহজাবীন

    আবার আলোচনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। গত বছরের একটি ঘটনাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীনের লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

    প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এ সময় তাঁর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত।

     মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরীছবি: ফেসবুক থেকে

    কয়েক মাস পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন চৌধুরী লিখেছেন, ‘কিছুদিন ধরে আমি লক্ষ করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনারা অনেকেই জানেন, কিছুদিন আগেও একটি মিথ্যা মামলায় আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত সেই মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    মেহজাবীন চৌধুরী
    মেহজাবীন চৌধুরী ছবি : শিল্পীর ফেসবুক থেকে

    একই পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহার করে নারী শিল্পীদের সম্মানহানির প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওর কারণেও আমার মতো অনেক আর্টিস্টকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা একেবারেই কাম্য নয়। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে। এর পেছনে কে বা কারা আছে, তা আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার কাজেই ফোকাস করতে চাই, আমি চাই আমার কাজ নিয়েই আলোচনা হোক। আশা করি আপনারা সবাই পাশে থাকবেন।’

  • আমাদের মেধাস্বত্ব বিদেশে গিয়ে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা ব্রেইন-ড্রেইনের কথা বলছি। আমাদের মেধাস্বত্ব বিদেশে গিয়ে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু দেশে তা হচ্ছে না, এটি প্রশাসনিক দুর্বলতা।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বিশ্ব মেধাসত্ত্ব দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
     

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাস্বত্ব দেশে ফিরিয়ে আনতে রিভার্স ব্রেইন-ড্রেইন জরুরি। বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেকেই ফিরছেন, তবে কত মেধা হারাচ্ছি, সেটির সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনের সঙ্গে খেলাধূলাকে যুক্ত করে গুরুত্ব দিয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাজেট থাকলেও গবেষণার জন্য কোনো বাজেট নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ রাখার ব্যাপারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেবো, তাই কারিকুলাম ও সিলেবাস ঠিক করতে হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষা জুন-জুলাইয়ে শেষ হয়ে ফল প্রকাশ হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি, এরপর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হয়। এতে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। প্রায় ২০ লাখ এসএসসি ও ২০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে শুধু ভর্তি পরীক্ষার কারণে বহু সময় নষ্ট হচ্ছে, যা আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কমিয়ে দিচ্ছে। ইউজিসিকে অনুরোধ করব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বসে ভর্তি প্রক্রিয়া ও শিক্ষা বর্ষ একসঙ্গে সমন্বয় করতে।

     

     

    তিনি আরও বলেন, দেশের ২৭ শতাংশ মানুষ তরুণ। কিন্তু তারা ইন্সট্যান্ট কফির মতো রিঅ্যাক্ট ও কমেন্ট করে। তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় না, এমনকি বুঝতেও চায় না। বোঝার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে। তাহলে গবেষণা, উদ্ভাবন আর অগ্রগতি কীভাবে হবে? তাদের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি তারা ইউনিফর্ম পরেও শিক্ষক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের বাজে উক্তি করতে তারা দেরি করে না।

     

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গুজবের কারণে ছাত্ররা যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা কর‍তে হবে। এ ধরণের গুজবে সরকার বিব্রত।

     
  • আমার নামটাই ক্লিকবেইট, বিতর্ক নিয়ে শিল্পা শেঠি

    গত ছয় মাস ধরে শিল্পা শেঠি ও তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রা বারবার শিরোনামে এসেছেন। প্রতারণার অভিযোগ, জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট বাতিস্তা বন্ধ হওয়ার গুজব—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবনে এসেছে নানা বিতর্ক। তবে সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, এত বিতর্কও তাঁকে থামাতে পারেনি। ‘আমার কাজের সততা ও নৈতিকতা আমাদের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এবং সেই জন্যই আমি এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি,’ বলেন শিল্পা।

    শিল্পা বলেন, তারকা হিসেবে নিজেকে আড়ালে রাখা সহজ নয়। মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই তারকাদের গালাগাল করে, সংবাদমাধ্যমও এসব লুফে নেয়। তবে তিনি সব পরিস্থিতিতেই চেষ্টা করেছেন ইতিবাচক থাকার। ‘হতাশাজনক হলেও, আমরা আমাদের অবস্থান অটুট রেখেছি। মানুষ আমাদের সততার জন্য চেনে। কখনো কখনো ভাবি, কেন আমরা ভালো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি না? কিন্তু সেলিব্রিটি হওয়ায় আমার নাম যেন ক্লিকবেইট হয়ে গেছে। তাই আমি এটাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছি,’ বলেন তিনি।

    শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শিল্পা শেঠি। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শিল্পা বলেন, সাধারণত গুজব নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে চান না। কারণ, প্রতিদিন নানা বিষয়ে খবর হয়, সবকিছু বারবার তাঁর পক্ষে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তবে বাতিস্তার মতো একটি ব্র্যান্ড নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই ব্র্যান্ডের জন্য আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলতে হয়েছে। আমরা অনেক পরিশ্রম, ভালোবাসা ও আবেগ দিয়েছি এই ব্র্যান্ডে। কিছুটা নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, কিন্তু আশা করি মানুষ কোনটা সঠিক সেটা বুঝতে পারবে।’

    শিল্পা যোগ করেন, ‘নেতিবাচক প্রচারণাতেও সব সময় ইতিবাচক দিক থাকে, কারণ আমাদের মনোভাব ইতিবাচক।’ গত কয়েক মাসে শিল্পার নাম জড়িয়েছে তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রার সূত্র ধরেও। নানা ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে সাক্ষাৎকারে রাজ কুন্দ্রার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি শিল্পা।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি: আজমেরী হক বাঁধন

    দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি ছিল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের। সেই অবস্থান থেকেই তিনি সব সময় কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে। এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ নিয়ে নতুন আশার কথাই জানালেন এই অভিনেত্রী।

    বাঁধন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার। মা–বাবাকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সব ধর্ম-বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’

    এবার জাতীয় নির্বাচনের দিনও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন বাঁধন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি দেশ নিয়ে আশার কথাই জানান। তাঁর মতে, পরিবর্তনের পথ তৈরি হয় মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে, আর সেই অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই ভোট।

    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    বাঁধন বলেন, ‘কোনো রকম ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। যারা দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। সাম্য বজায় রাখবে। সবাই তাদের অধিকার বুঝে পাবে বলে আশা করি।’

    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
    অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ফেসবুক থেকে
     

    দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে নির্বাচিত সরকারের নজর থাকবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। এ সময় বাঁধন আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা, তথ্য ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ পাবেন যাঁরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিন্তা করবেন। এ ছাড়া বড় চাওয়া পেশাগত স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে যেন দেওয়া হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ, সামাজিকভাবে আমাদের পেশাকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা হয় না। পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে ভালো হবে।’

  • আমি ছাড়া ফুটবলের ইতিহাস অসম্পূর্ণ

    ফিফার দেওয়া নাম মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম, ফুটবল ইতিহাসে পরিচিত আজতেকা স্টেডিয়াম নামে। আজ বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এ মাঠেই। তার আগে মেহেদী হাসান কান পেতে শুনেছেন আজতেকা স্টেডিয়ামের আনমনে বলে যাওয়া কিছু কথা, যেখানে আছে একটা হতাশাও—

    মহাবিশ্বে প্রতিটি বস্তুর নাকি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। আমার লক্ষ্যটা এত দিনে আমি বুঝে গেছি। সেই গল্প আর একটি ইচ্ছার কথা আজ বলতে এসেছি তোমাদের কাছে।

    মানুষ আমাকে বানিয়েছে নিজের লক্ষ্যপূরণের জন্য, সেটা করতে করতে আমি যেন এখন অক্ষয়, অমর, অজর! ঝড়ে, ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারি, কিন্তু আমার নাম-পরিচয় বিনে ফুটবলের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। আমি এস্তাদিও বানোর্তে।

    কোঁচকানো ভ্রু দেখে বেশ হাসি পাচ্ছে। এই নামে কাউকে মনে পড়ছে না? আমারও না, বুঝলে। আমার আদি নাম-পরিচয় বললে তো চিনেই ফেলবে, তাই নতুন নামটা বলে একটু মজা করলাম।

    বিশ্বকাপের জন্য আমাকে সাজানোর খরচ তুলতে, তোমরা আমার জন্মগত নাম-পরিচয় বেচে নতুন এই নামটা রেখেছ। তবে বিশ্বকাপে আবার অন্য নিয়ম; আমাকে এই নতুন নামে ডাকা যাবে না। ফিফার কড়া নির্দেশ—বলতে হবে, মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম।

    তবে আমার নাম বদলানোয় লোকের কিছুমাত্র অসুবিধা হয়নি। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকে জন্মগত নামেই। আজতেকা! লোকে বলে, আমার সবুজ বুকে যে সবচেয়ে সুন্দর ছবিটি আঁকতে পারে, অমরত্ব তাঁর অবধারিত।

    আর আমি শুধু জানি, কালে কালে বিভিন্ন গল্পে-ঘটনায় আমি হয়ে উঠেছি এক রহস্যঘেরা ‘মিথ’ কিংবা সামান্য একটা স্টেডিয়াম নামের ‘কলোসাস অব সান্তা উরসুলা’। কালোমতো সেই ব্রাজিলিয়ান যেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘আজতেকার কিছু একটা ব্যাপার আছে। খুব বিশেষ কিছু; ভেতরে পা রাখলে বোঝা যায়। অন্য কোথাও এমন লাগে না।’

    ফুটবল–ইতিহাসে তর্ক সাপেক্ষে সেরা এবং প্রায় একই রকম দুটি ছবি কিন্তু আমারই বুকে তোলা।

    এক. সতীর্থের কাঁধে হাস্যোজ্জ্বল খালি গায়ের সেই কালো ব্রাজিলিয়ান। দুই. রোবের্তো চেজাস নামের এক সমর্থকের কাঁধে সাদা চামড়ার আর্জেন্টাইন, হাতে বিশ্বকাপ। ছবির মানুষ দুটি তোমাদের বড় আবেগের জায়গা, আপনার চেয়েও আপন মানুষ। তবু বলি, প্রথম ছবিটি পেলের। পরেরটি ডিয়েগো ম্যারাডোনার।

    ম্যারাডোনার সেই অমর গোল
    ম্যারাডোনার সেই অমর গোল, ফিফা
     

    সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তর্কটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল তাঁদের মধ্যে। এটা যদি অমরত্ব হয়, তবে তাঁদের সেই বর প্রাপ্তির পুণ্যভূমি ছিলাম আমি—এস্তাদিও আজতেকা। বড়াই নয়, এ আমার বড় গর্বের, বড় তৃপ্তির কথা। ’৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলে আমার জন্মের লক্ষ্যপূরণ, ’৮৬–এর ম্যারাডোনায় পূর্ণতা।

    একটি গল্প বলি, তৃতীয় শতকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বর্তমান সান্তা উরসুলার বিশাল জায়গাজুড়ে পাথুরে লাভাভূমি তৈরি হয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২০০ ফুট ওপরে ওটাই আমার আর্বিভাবের জায়গা।

    ১৯৬১ সালে আমাকে বানানো এত সহজ ছিল না। এক বছর সময় নিয়ে ৬৪ হাজার বর্গমিটার জায়গা থেকে শুধু ১৮ কোটি কেজি পাথরই সরাতে হয় ৮০০ শ্রমিক, ৩৫ প্রকৌশলী ও ১০ স্থাপত্যবিদের সহায়তায়। জায়গাটা কয়োকান অঞ্চল, মেক্সিকানদের পূর্বপুরুষ আজতেক সভ্যতার প্রত্নতত্ত্বও পাওয়া গিয়েছিল আমাকে তৈরির সময়।

    সেই ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে ’৭০ বিশ্বকাপ যখন শুরু হলো, তখনো আমি ইতিহাসের অংশ। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম বিশ্বকাপ। আর মাঠে জন্ম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা সব গল্পের। শতাব্দীর সেরা ম্যাচ, সব রাউন্ডেই জর্জিনিওর গোল, কার্লোস আলবার্তোর অনিন্দ্যসুন্দর গোল…। সব ছাপিয়ে গিয়েছিল ‘বিউটিফুল টিম’ ব্রাজিল, পেলে তার শীর্ষবিন্দু।

    আমার বুকেই ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ খেলে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতে পেলের অমরত্ব প্রাপ্তি। ফাইনালে খেলা ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেলো ডোমেনগিনির ভাষায়, ‘আ থিং অব বিউটি।’ সঙ্গে অমর কবি জন কিটসের বাকিটা জুড়ে দিলেই ফুটে ওঠে ’৭০ বিশ্বকাপের রূপ, ‘আ জয় ফরএভার।’

    তবু আজ এত বছর পর মনে হয়, আমি আসলে মানুষের প্রয়োজনে ভাগ্যের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য-মিথের ভারে ন্যুব্জ এক ‘থিয়েটার অব ইমর্টালিটি’।

    ’৮৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে কলম্বিয়ার অপারগতা প্রকাশের পর ফিফাকে ফিরতে হয় আমার কোলে। ম্যারাডোনা কোয়ার্টার ফাইনালে ১১ সেকেন্ডের এমন এক দৌড় দিল, পেছনে ইংল্যান্ডের নয়জন, সামনে ‘শতাব্দীর সেরা গোল।’

    ৪ মিনিট পর আরও একটি, এবার ‘হ্যান্ড অব গড’—যেন অনিন্দ্যসুন্দর আর নিষিদ্ধ ‘গন্ধম’ পাশাপাশি! যেমনটা মেক্সিকান ওয়েভের বৈশ্বিক পরিচিতি, নেগ্রেতোর সিজর্স কিকের গোলে ফুটবল ইতিহাসে ‘কানে তালা লেগে যাওয়া মুহূর্ত’—সবই সেবার অমরত্ব পেয়েছে এই বুকে। কিন্তু ম্যারাডোনার মতো কেউ আদায় করে নিতে পারেনি।

    ’৭০ পূর্ণ বিকশিত পেলের প্রাপ্য ছিল। জর্জিনিও, তোস্তাও, রিভেলিনো, গারসনদের সেই ব্রাজিল ছিল তারকাখচিত। ’৮৬–এর আর্জেন্টিনা তেমন ছিল না। সাদামাটা একটি দল নিয়ে মানুষের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে ম্যারাডোনা সেবার হয়ে উঠেছিলেন ‘এল পিবে’ (সোনার ছেলে)।

    সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ম্যারাডোনা
    সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ম্যারাডোনা, ফিফা
     

    ২৯ জুন ১৯৮৬। ম্যারাডোনার অমরত্ব আদায়ের সেই ম্যাচই আমার বুকে শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। এবার আবারও ডাক পড়েছে নতুন কোনো গল্প, রূপকথার জন্ম দিতে। কিন্তু আমার মনে বেজায় দুঃখ। আমার ইচ্ছাটা হয়তো পূরণ হবে না!
    বড় সাধ ছিল, লিওনেল মেসির অমরত্ব পূর্ণতা পাক আমার বুকে।

    হেসো না। ভাবছ, সেটা তো ২০২২ সালেই নিশ্চিত হয়েছে, নতুন করে দেওয়ার কী আছে! আচ্ছা, কাতারে কয়টি স্টেডিয়াম ছিল যেটা ইতিহাস-ঐতিহ্যে আমার সমান? বড়াই নয়, এটা বাস্তবতা। অমরত্বের নীলপদ্মটি হয়তো তাঁর আছে, কিন্তু সেটার যোগ্য মঞ্চ কি ছিল? এবারও কি আছে? কেউ ভাবেনি, আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আমার বুকে রাখলে কী এমন হতো! পেলে, ম্যারাডোনা তারপর মেসি ধাঁধাটা মিলে যেত কী!

    অবশ্য মানুষ ভাববে কেন, আমি তো তাদের কেউ না, আমি যে স্রেফ এক নিশ্চল ও জড় স্টেডিয়াম!

    মেহেদী হাসান

  • আমির–কাজল জুটি জাদু, ২০ বছর পরেও এখনো নতুন ‘ফানা’

    ২০০৬ সালের ২৬ মে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফানা’। আজ সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্ণ হলো। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই দশক। সময়ের হিসেবে ২০ বছর। কিন্তু প্রেম, প্রতারণা, দেশপ্রেম আর ট্র্যাজেডির মিশেলে তৈরি এই ছবির আবেগ এখনো বলিউডপ্রেমীদের মনে একই রকম তাজা। একদিকে আমির খানের রহস্যময় আকর্ষণ, অন্যদিকে কাজলের আবেগঘন অভিনয়—সব মিলিয়ে ‘ফানা’ ছিল ২০০০–এর দশকের অন্যতম আলোচিত ও সফল চলচ্চিত্র।

    দুই দশক পরও কেন বিশেষ ‘ফানা’
    ‘ফানা’ শুধু একটি প্রেমের গল্প ছিল না, এটি ছিল প্রেম আর আদর্শের সংঘাতের গল্প। বলিউডে তখন রোমান্টিক ছবির অভাব ছিল না, কিন্তু ‘ফানা’ দর্শকদের সামনে এমন এক নায়ককে হাজির করেছিল, যিনি একই সঙ্গে প্রেমিক, কবি এবং সন্ত্রাসী। সেই সময়ের মূলধারার বলিউডে এমন ধূসর চরিত্র খুব বেশি দেখা যেত না।
    ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন কুনাল কোহলি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল যশরাজ ফিল্মস। আর ছবির গান, সংলাপ, কাশ্মীরি আবহ আর আবেগঘন নির্মাণ দ্রুতই এটিকে কাল্ট মর্যাদা এনে দেয়।

    প্রেম, মিথ্যা আর বিশ্বাসঘাতকতার জটিলতা
    ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র রেহান কাদরি, যার ভূমিকায় ছিলেন আমির খান। দিল্লির এক পর্যটক গাইড রেহান নিজেকে পরিচয় দেয় হাসিখুশি, রোমান্টিক এক তরুণ হিসেবে। তার প্রেমে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাশ্মীরি তরুণী জুনি চরিত্রে কাজল।

    দিল্লিতে কয়েক দিনের পরিচয় দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু সম্পর্কের ঠিক পরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। সবাই জানতে পারে, রেহান আসলে একজন জঙ্গি, যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। জুনির জীবন ভেঙে পড়ে।

    ‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
    ‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

    এরপর গল্প এগোয় বহু বছর পর। সবাই ধরে নেয় রেহান মারা গেছে। কিন্তু এক দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় সে আশ্রয় নেয় জুনির বাড়িতেই—যেখানে জুনি এখন এক সন্তানের মা। রেহান নিজের পরিচয় গোপন রাখে। কিন্তু ধীরে ধীরে পুরোনো প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর সত্য একসঙ্গে সামনে আসতে থাকে।
    ‘ফানা’র সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এখানেই—এটি শুধু প্রেমের গল্প নয়, বরং নৈতিক দ্বন্দ্বের গল্প। একজন মানুষ কি একই সঙ্গে ভালোবাসতে এবং ধ্বংস ডেকে আনতে পারে? এই প্রশ্নই ছবিটিকে অন্য মাত্রা দেয়।

    আমির–কাজল জুটির জাদু
    ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আমির খান ও কাজলের প্রথম জুটি। নব্বইয়ের দশকে কাজল তখন বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের পর তিনি অনেকটাই পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। ‘ফানা’ ছিল তাঁর বড় প্রত্যাবর্তন।
    অন্যদিকে আমির খান তখন পরীক্ষাধর্মী চরিত্রে ঝুঁকছেন। রেহানের চরিত্রে তিনি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক—যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
    দর্শক ও সমালোচকেরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছিলেন তাঁদের রসায়নের। ছবির আবেগঘন দৃশ্যগুলো আজও বলিউডের সেরা রোমান্টিক মুহূর্তের তালিকায় জায়গা পায়।

    গানগুলো আজও জনপ্রিয়
    ‘ফানা’র গান ছিল ছবির আরেক বড় শক্তি। জতিন–ললিতের সুরে তৈরি গানগুলো তখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

    বিশেষ করে ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘মেরে হাত মে’, ‘দেশ রংগিলা’ ও ‘দেখো না’—এই গানগুলো এখনো নস্টালজিয়ার অংশ।

    ‘চাঁদ সিফারিশ’ গানটি তো একসময় প্রায় প্রতিটি পুরস্কার জিতে নেয়। গানগুলোর ভিজ্যুয়াল, কাশ্মীরি লোকেশনের ব্যবহার এবং আবেগঘন কথাগুলো ছবির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

    ‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
    ‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

    মুক্তির আগে বিতর্ক
    ছবিটি মুক্তির আগেই বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আমির খান। নর্মদা বাঁধ ইস্যুতে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের গুজরাটে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এর প্রভাব পড়ে ‘ফানা’র ওপরও।
    গুজরাটের অনেক সিনেমা হল ছবিটি প্রদর্শন করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় বলিউডে বিষয়টি বড় আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই বিতর্ক ছবির ব্যবসায় বড় ক্ষতি করবে।
    কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটে। বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পায়।

    বক্স অফিসে ঝড়
    ‘ফানা’ মুক্তির পরপরই ভারত ও বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সে সময়কার হিসাবে এটি বছরের অন্যতম সর্বোচ্চ আয় করা বলিউড ছবিতে পরিণত হয়।
    ভারতে ছবিটি ৫০ কোটির বেশি ব্যবসা করেছিল, যা তখন বিশাল অঙ্ক হিসেবে ধরা হতো। আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ছবিটির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ১০৫ কোটি রুপির বেশি আয় করে।

    পর্দার পেছনের কিছু গল্প
    ছবির শুটিংয়ের বড় অংশ হয়েছিল পোল্যান্ড ও ভারতে। কাশ্মীরের আবহ ফুটিয়ে তুলতে নির্মাতারা ইউরোপের কিছু তুষারাচ্ছন্ন লোকেশন ব্যবহার করেছিলেন।
    আরেকটি মজার তথ্য হলো ছবিতে রেহানের চরিত্রটি নিয়ে শুরুতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। আমির খান চরিত্রটিকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত করতে চেয়েছিলেন। ফলে স্ক্রিপ্টে কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়।
    কাজলও ছবিটির জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর শরীরী ভাষা ও চোখের অভিব্যক্তি কীভাবে হবে, তা নিয়ে তিনি আলাদা করে কাজ করেছিলেন।

    কী বললেন কাজল
    এদিকে সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্তিতে স্মৃতিকাতর কাজল। নিজের ফেসবুকে সিনেমাটির কিছু স্টিল ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘“ফানা”র ২০ বছর…তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর, আর আমি ছিলাম...। তবে সবচেয়ে বেশি যা মনে পড়ে, তা হলো অপূর্ব সুন্দর পোল্যান্ড। মাইনাস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, দারুণ সব বন আর ফুটপাতে চলা স্লেজ। আর অবশ্যই, সেই সময় সবাই যখন মোটা গুজ ডাউন জ্যাকেট পরে ঘুরছিল, তখন আমি পাতলা সালোয়ার–কামিজ পরে শুটিং করছিলাম। সত্যিই, কী দারুণ এক স্মৃতি!’

    আইএমডিবি ও বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব