• আর্সেনালের অপেক্ষা বাড়িয়ে ৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি

    প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকেও বাদ পড়েছে সিটিজেনরা। শেষ ভরসা ছিল ইএফএল কাপ। যেখানে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা।

    রোববার (২৩ মার্চ) লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে সিটিজেনরা। এই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন নিকো ও’রাইলি।

    ২০২০-২১ মৌসুমে শেষবার ইএফএল কাপের শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ ৫ বছর পর আবারও লিগ কাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল পেপ গার্দিওলার দল।

    এদিন শুরুর চাপ সামলে বল দখলে রেখে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে সিটি। কিন্তু প্রতিপক্ষের পরীক্ষা নেওয়ার মতো কিছু করতে পারছিল না তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গিয়ে গোলের জন্য দুটি শট নিতে পারে দলটি, যদিও এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

    বিরতির পর খেলায় গতি বাড়ায় সিটি। আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা; কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারছিল না দলটি। অবশেষে ৬০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে সিটি এবং গোলরক্ষকের ভুলে সেটা থেকেই এগিয়ে যায় তারা।

    বের্নার্দো সিলভার পাস ডি-বক্সে পেয়ে জোরাল শট নেন হায়ান শেহকি। নাগালের মধ্যে থাকলেও বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি কেপা আরিসাবালাগা, আলগা বল গোলমুখে পেয়ে হেডে জালে পাঠান ও’রাইলি। চার মিনিটের মধ্যে ব্যবধান দ্বিগুণও করে ফেলে সিটি।

    এবার ডান দিক থেকে মাথেউস নুনেসের ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডেই গোলটি করেন তরুণ ইংলিশ লেফট-ব্যাক। শেষ দিকে দুইবার দুর্ভাগ্যের বাধার মুখে পড়ে আর্সেনাল।

    ৭৮তম মিনিটে রিকার্দো কালাফিওরির শট পোস্টে বাধা পাওয়ার ১০ মিনিট পর, গাব্রিয়েল হেসুসের হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। এতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি।

     

  • আলিয়া যেভাবে আজকের আলিয়া

    বলিউডের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ৩৩তম জন্মদিন আজ। তারকা পরিবারে জন্ম নিলেও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। আলিয়া মনে করেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।
    সম্প্রতি এল ইউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিয়া ভাট নিজের পরিবার ও বেড়ে ওঠা নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তাঁর মা সোনি রাজদানের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করেন। আলিয়ার কথায়, সোনি রাজদান একেবারে অচেনা একজন মানুষ হিসেবে অভিনয়ের জগতে পা রেখেছিলেন। চলচ্চিত্রে তাঁর কোনো পরিচিতি ছিল না, এমনকি হিন্দি ভাষাতেও তিনি খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না।

    তবু অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি থিয়েটার থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের স্টুডিও—সব জায়গায় ঘুরে ঘুরে অডিশন দিয়েছেন। ভাষাগত সীমাবদ্ধতা ও সুযোগের অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি হাল ছাড়েননি। যদিও মূলধারার নায়িকা হিসেবে খুব বেশি সুযোগ পাননি, তবু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

    আলিয়া তাঁর বাবা খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাটের জীবন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, মহেশ ভাটের জীবনেও একসময় বড় ধরনের সংকট এসেছিল। সেই সময় তাঁর বেশ কয়েকটি সিনেমা পরপর বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। আর্থিক দিক থেকেও তিনি তখন সংকটের মধ্যে ছিলেন। পাশাপাশি তখন তিনি মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন।

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে পরে মহেশ ভাট মদ্যপান ছেড়ে দেন এবং ধীরে ধীরে আবার কাজে মন দেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ার নানা ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। আলিয়ার মতে, তাঁর মা–বাবা অনেক সংগ্রাম করে এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছেন, যার সুফল তিনি আজ পাচ্ছেন।

    এ কারণেই নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি সচেতন বলে জানান আলিয়া। তিনি বলেন, যদি কোনো দিন তাঁর অভিনয়জীবন ভালো না চলে বা তিনি আর চলচ্চিত্রে কাজ না পান, তবু তিনি কখনো অভিযোগ করবেন না। কারণ, তিনি জানেন, অনেক মানুষের সেই সুযোগটুকুও থাকে না।

    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আলিয়া ভাট। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ২০১২ সালে করণ জোহর পরিচালিত ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় আলিয়ার। এরপর ‘হাইওয়ে’, ‘রাজি’, ‘গাল্লি বয়’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি’সহ একাধিক আলোচিত ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিনয়ের জন্য একাধিকবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন।

    ব্যক্তিজীবনে ২০২২ সালে অভিনেতা রণবীর কাপুরকে বিয়ে করেন আলিয়া ভাট। একই বছর তাঁদের কন্যাসন্তান রাহা কাপুরের জন্ম হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন পরিবার ও কাজ—দুটিই সমানভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।

  • আলোচিত এই মিসরীয় অভিনেত্রীকে কতটা চেনেন

    ‘মিডটার্ম’-এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ইয়াসমিনা এল-আব্দ। মিসরীয় টিভি সিরিজটি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীকে জেন–জি দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

    কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিজটির প্রচার শেষ হয়েছে। তবে চরিত্রের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারেননি তিনি। টিএন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিয়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আগে কখনো এমনটা ঘটেনি। অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি মিসরের তরুণদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। আগে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও সিরিজটিতে প্রথমবারের মতো মূল চরিত্র করেছেন ইয়াসমিনা। ১৯ বছর বয়সেই এটা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।

    ইয়াসমিনার ভাষ্য, ‘মিডটার্ম–এর শুটিংয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এত বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি ছিল।’ ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, ফলও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের উপযোগী চরিত্র খুঁজে পেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। হয় অনেক বড় বয়সের চরিত্র যা করা কঠিন, নয়তো অনেক ছোট। আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শেষ পর্যন্ত মিডটার্ম দিয়ে অভিনেত্রী ইয়াসমিনার পুনর্জন্ম ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। এটা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। আমি এটা অর্জন করেছি, এখন ধরে রাখতে হবে।’

    ইয়াসমিনা এল-আব্দ
    ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতও নতুনভাবে জীবনে ফিরে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ‘ডাম্মা’ প্রকাশ করেন। গানটি বিলবোর্ডের তালিকায় উঠেছিল।

    মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসমিনার অভিনয়ে অভিষেক। ১২ বছর বয়সে গান শুরু করেন। সুক্কার, ইন ব্লুম, শ্যাডো অব কায়রোসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।

  • আলোচিত যৌন হয়রানির মামলা, সমাঝোতা হলো না দুই তারকার

    হলিউড অভিনেত্রী ব্লেইক লাইভলি ও অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে চলমান যৌন হয়রানির মামলায় আদালত-নির্দেশিত মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়নি। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে সারা দিনের মধ্যস্থতা বৈঠক শেষে দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

    রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’–এর সহ-অভিনেতা লাইভলি ও বালডোনি গত বুধবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের ১৪ তলায় পৃথক কক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান তাঁরা। দিনের শেষে ভবন ছাড়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনই কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।

    বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান সাংবাদিকদের জানান, কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব একটা সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না। মামলাটি বিচারে গড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি মামলাটি বিচারে গড়াবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’

    ফেডারেল আদালতের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট জজ সারাহ এল. কেইভের তত্ত্বাবধানে এই মধ্যস্থতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও উভয় পক্ষ কেইভের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল। তবে শুরু থেকেই আলোচনায় অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি

    লাইভলির অভিযোগ, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির শুটিং সেটে জাস্টিন বালডোনি তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি, অভিযোগ জানানোর পর বালডোনি তাঁর জনসংযোগ টিমের মাধ্যমে লাইভলির বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানোর প্রচারণা চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত আছে ১৮ মে।

    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি
    ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি

    এদিকে বিচারক লুইস লিম্যান বিবেচনা করছেন—বিচারের আগেই লাইভলির অভিযোগ পুরোপুরি বাতিল করা হবে কি না, অথবা অভিযোগের বড় অংশ খারিজ করা হবে কি না। বালডোনির পক্ষ থেকে করা সামারি জাজমেন্ট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাইভলির অভিযোগগুলো মূলত তুচ্ছ বিরোধ ও অসন্তোষের বিষয়, যা আইনি দৃষ্টিতে যৌন হয়রানির মানদণ্ড পূরণ করে না।

    অন্যদিকে লাইভলির পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে অন্যান্য অভিনেতাও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর এবং বিষয়টি জুরির মাধ্যমে বিচার হওয়াই সঠিক হবে।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • আশা ভোসলের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী, বলিউডে পা রাখা এই জেনজি পপ গায়িকাকে চেনেন কি

    ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গিয়েছেন কাল। এরপরই সবাই আগ্রহী হচ্ছেন তাঁর আদরের নাতনি জানাই ভোসলের বিষয়ে। ২০০২ সালে জন্ম তাঁর আশা ভোসলের পুত্র আনন্দ ভোসলের ঘরে। জানাই ভোসলে নাম তাঁর। এক ভাই আছে। নাম রঞ্জয় ভোসলে। আশা ভোসলের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী তাঁরা দুজনই হবেন মূলত। বিভিন্ন সূত্র বলছে, তাঁর রেখে যাওয়া মোট সম্পদের মূল্যমান বাংলাদেশি টাকায় ৩০০ কোটির মতো। হীরা আর দামী গাড়ির শখ ছিল তাঁর। তবে বেশিরভাগ সম্পদই আছে অর্থ সম্পদ বা প্রোপার্টি হিসেবে। আশার কন্যা বর্ষা ও আরেক পুত্র হেমন্ত আগেই মারা গিয়েছেন। এদিকে এই সুন্দরী জেনজি গায়িকাকে প্রায়ই দেখা যেত দাদির সঙ্গে। একসঙ্গে পারফর্ম ও মিউজিক ভিডিও করেছেন। জানা যাচ্ছে জানাই ভোসলে আগামী বছরই ডেব্যু করছেন বলিউডে। তাও রেকর্ডভাঙা কান্তারা সিনেমার ঋষভ শেঠির বিপরীতে। চলুন তবে জানাইয়ের কিছু লুকের ছবি দেখে আসি ইন্সটাগ্রাম থেকে।

    আশা ভোসলের আদরের নাতনি জানাই ভোসলে। আশাকে এখানে দেখা যাচ্ছে এলিগ্যান্ট কালো টেম্পল পাড়ের ্বেইজ শাড়িতে। আর জানাই পরেছেন
     
    আশা ভোসলের আদরের নাতনি জানাই ভোসলে। আশাকে এখানে দেখা যাচ্ছে এলিগ্যান্ট কালো টেম্পল পাড়ের ্বেইজ শাড়িতে। আর জানাই পরেছেন
    স্টেজে পারফর্ম করেন প্রায়ই জানাই। সোনালি সিকুইনের পোশাকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে সঙ্গীত লিজেন্ড এ আর রহমানের সঙ্গে
     
    স্টেজে পারফর্ম করেন প্রায়ই জানাই। সোনালি সিকুইনের পোশাকে দেখা যাচ্ছে তাঁকে সঙ্গীত লিজেন্ড এ আর রহমানের সঙ্গে
    সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। এখানে পরেছেন স্লিভলেস কালো সিকুইনের ব্লাউজ দিয়ে নজরকাড়া প্রিন্টের বেইজ শাড়ি।
     
    সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও তিনি খুবই জনপ্রিয়। এখানে পরেছেন স্লিভলেস কালো সিকুইনের ব্লাউজ দিয়ে নজরকাড়া প্রিন্টের বেইজ শাড়ি।
    সোনালি কারুকাজ করা অফ দ্য শোল্ডার এথনিক লুকে জানাই
     
    সোনালি কারুকাজ করা অফ দ্য শোল্ডার এথনিক লুকে জানাই
    ওয়ান শোল্ডার কালো বডিকন ড্রেসের সঙ্গে নজর কাড়ছে এক ঢাল কালো কোকড়া চুল
     
    ওয়ান শোল্ডার কালো বডিকন ড্রেসের সঙ্গে নজর কাড়ছে এক ঢাল কালো কোকড়া চুল
    ফুলেল প্রিন্টের লেহেঙ্গায় জানাই
     
    ফুলেল প্রিন্টের লেহেঙ্গায় জানাই
    স্ট্র্যাপলেস টপের সঙ্গে পরেছেন লাল শেডস
     
    স্ট্র্যাপলেস টপের সঙ্গে পরেছেন লাল শেডস
    লম্বা কার্লস তাঁর সিগনেচার স্টাইল
     
    লম্বা কার্লস তাঁর সিগনেচার স্টাইল
    স্লিপড্রেসে স্টাইলিশ জানাই। সামনে তাঁর দিন আসছে, বলাই যায়
     
    স্লিপড্রেসে স্টাইলিশ জানাই। সামনে তাঁর দিন আসছে, বলাই যায়
     

    ছবি: জানাই ভোসলের ইন্সটাগ্রাম

  • ইতালির ফুটবলপ্রধানের পদত্যাগ, স্টেডিয়াম নিয়ে উয়েফা দিল হুঁশিয়ারি

    টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।

    এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।

    ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।

    চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।

    ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’

    সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।

    ২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।

  • ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে সুইফট

    টপ চার্টের শীর্ষে ওঠাটাকে একরকম অভ্যাসে পরিণত করেছেন টেইলর সুইফট। তাঁর গান ‘ওপালাইট’ মুক্তির ২০তম সপ্তাহ পর বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছে। এটি এ তালিকার শীর্ষে জায়গা পাওয়া সুইফটের ১৪তম সিঙ্গেল। হট ১০০-এর শীর্ষে যেসব শিল্পীর গান সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছে, তাতে রিয়ানার সঙ্গে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সুইফট। তাঁর সামনে আছে কেবল দ্য বিটলস (২০টি) ও মারায়া ক্যারি (১৯টি)।

    সুইফটের ধারাবাহিক সাফল্য দেখে অনেকেই বলছেন, শীর্ষে পৌঁছানো তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এখন তিনি প্রায় প্রতিবছরই নতুন অ্যালবাম মুক্তি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরই বিটলসকে সরিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

    টেইলর সুইফট
    টেইলর সুইফট, রয়টার্স

    ‘ওপালাইট’ সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর গান। এর আগে একই অ্যালবামের ‘দ্য ফেইট অব ওফেলিয়া’ টানা ১০ সপ্তাহ হট ১০০-এর ১ নম্বরে ছিল। গত বছর অ্যালবামটি মুক্তির সময় ‘ওপালাইট’ দুইয়ে থাকলেও পরে ১০ নম্বরে নেমে যায়। দীর্ঘদিন টপ টেনের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

    ৬ ফেব্রুয়ারি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর এটি নতুন গতি পায়। তখনই হয়তো এটি শীর্ষে পৌঁছাত, কিন্তু সুপার বোল-পরবর্তী সময়ে ব্যাড বানি নতুন করে আলোচনায় আসায় হট ১০০-এর টপ চার্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
    চলতি সপ্তাহে ‘ওপালাইট’ গানটির ১ লাখ ৬৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ২ হাজার ২৯০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছিল ভিনাইল ও সিডি সংস্করণ। স্ট্রিমিং হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • ইনফান্তিনোর ‘আমেরিকান ড্রিম’: ২০৩৮ বিশ্বকাপও কি যুক্তরাষ্ট্রেই হবে

    টাকার পেছনে ছোটো। যাঁর মুখ থেকে কথাটা প্রথম বের হয়েছিল, তিনি যেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফার জন্যই পথ দেখিয়ে গেছেন।

    এই বছর ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, তিন দেশের আয়োজন—বিশাল কলেবর দেখে এখনই যাঁদের নানা শঙ্কা কাজ করছে, তাঁরা হয়তো এখনো জানেন না, সামনে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপ যত দ্রুত সম্ভব আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারে। মানে, ২০৩৮ সালে।

    শুনতে খটকা লাগতে পারে, কিন্তু ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর দাবার চালগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সব সমীকরণই গিয়ে মিলছে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশে।

    ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অতিরিক্ত অনুরাগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা আছে। তবে একজন ফিফা বসের জন্য আয়োজক দেশের সরকারপ্রধানকে তুষ্ট রাখাটা পুরোনো রেওয়াজ। কিন্তু ইনফান্তিনোর লক্ষ্য আরও গভীরে। ২০২৬ থেকে ২০৩৮—মাঝের এই ১২ বছরে তিনি ফিফাকে এমন এক আর্থিক পাহাড়ের চূড়ায় বসাতে চান, যেখানে ট্রাম্পরা আসবেন-যাবেন, কিন্তু তাঁর সিংহাসন থাকবে অটল।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো,ফিফা
     

    ২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের চার বছরের মেয়াদ শেষ করতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচন ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণ মেয়াদ। ফিফার এখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি হিসেবে থাকা যায়। সামনে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০২৩ সালে ইনফান্তিনো আবার জিতেছেন, ২০২৭ সালেও জেতার পথ মসৃণ। আর ঠিক সেই বছরই ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন হবে।

    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোইনস্টাগ্রাম/ইনফান্তিনো
     

    মাথায় রাখুন আরও একটা তথ্য। ইনফান্তিনো ফিফার আইন বিভাগ সরিয়ে নিয়ে গেছেন ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে। ফিফা+ ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও ই-স্পোর্টসের কাজও সেখান থেকেই চলে। জুরিখ এখনো সদর দপ্তর হিসেবে আছে বটে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যাচ্ছে পশ্চিমে। মনে হতে পারে, ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত আর রোদের হাতছানি কি তবে ফুটবলকে চিরতরে জুরিখের ঠান্ডা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে?

    কারণটা কেবল আবহাওয়া নয়, কারণটা ওয়াল স্ট্রিট। জুরিখ যা দিতে পারে না, সিলিকন ভ্যালি আর মার্কিন মিডিয়া মোগলরা তা অনায়াসেই দেয়। বিপুল বিনিয়োগ ও মিডিয়া বাজার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা বাণিজ্যিক পরিবেশ দিতে পারে, যার ধারেকাছেও নেই জুরিখ। স্টেডিয়ামের অভাব নেই, আতিথেয়তার ক্ষুধাও অসীম।
    কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার।
    কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। রয়টার্স
     

    ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আনুমানিক ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে এসেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। ইনফান্তিনো ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারের মোট উৎপাদন তৈরি করতে পারে, যোগ করতে পারে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলারের জিডিপি এবং সৃষ্টি করতে পারে ৮ লাখ ২৪ হাজার কর্মসংস্থান।

    কেকের আকার বাড়াও—এটাই ইনফান্তিনোর মন্ত্র। আর সেই কেক বাড়ানোর জায়গা একটাই—আমেরিকা।

    জোয়াও আভেলাঞ্জে ফিফার রাজনৈতিক ও আর্থিক বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, ব্ল্যাটার মানচিত্র বড় করেছিলেন। ইনফান্তিনো চাইছেন নিজের উত্তরাধিকার। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান এমন একজন সভাপতি হিসেবে, যিনি ফিফাকে আর্থিকভাবে অস্পৃশ্য করে দিয়েছেন। একটা অলাভজনক সংস্থাকে পরিণত করেছেন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক দানবে। তাঁর কাছে যুক্তরাষ্ট্র কেবল দক্ষ আয়োজক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই যুগে একটা নিরাপত্তাবলয়ও।
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

    এতে সমস্যা কী? অনেক কিছু। বিশ্বকাপের এই বিশাল ফোলা–ফাঁপা রূপের কারণে আয়োজনের সুযোগ এখন ফিফার বেশির ভাগ সদস্যের নাগালের বাইরে। তাদের ভাগ্যে জুটছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আর আঞ্চলিক ক্লাব প্রতিযোগিতার টুকরা। তবে এটা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে সদস্য সংস্থাগুলো মাথা নত করেছে, বিনিময়ে পেয়েছে বিশ্বকাপের আয় থেকে চুইয়ে আসা বার্ষিক অনুদান।

    একমাত্র যে সংগঠন নিজের পথে হাঁটতে পারে, সে হলো উয়েফা। ধারণা করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ ইউরোপে। চ্যাম্পিয়নস লিগ আগামী চার বছরে দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করবে বলে পূর্বাভাস, যা বিশ্বকাপের অনেক বেশি।

    ২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
    ২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।রয়টার্স
     

    কিন্তু যখন ২০২৬-এর আয় ভাগ হবে, ইংল্যান্ড এফএ থেকে জার্মানির ডিএফবি—সবার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার ঢুকবে, তখন তাদের সব সংশয় কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। ইনফান্তিনো যদি প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন ২০৩৮-এ আমেরিকান বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আয় দ্বিগুণ করবে, তাহলে দূরত্ব আর টাইম জোনের বিষয়ে কিছু বিড়বিড়ানো ছাড়া ইউরোপীয় বিরোধিতা বলতে আর কিছু থাকবে না। সেটাও মিলিয়ে যাবে অদৃশ্য ক্যাশ রেজিস্ট্রারের শব্দে।

    ইনফান্তিনো জানেন, তাঁর পুরোনো ইউরোপীয় নিয়োগকর্তারা হয়তো তাঁকে পছন্দ করেন না, তাঁর ক্ষমতার চালকে অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ডলারকে ঠিকই ভালোবাসেন। তাই ১২ বছরের মধ্যে দুইবার আটলান্টিক পেরোনোর মূল্য হিসেবে তাঁর দেওয়া দামটা সবাই সানন্দে মেনে নেবেন।

    শেষমেশ সব পথ আসলে এক জায়গায় গিয়েই মেলে।

    টাকার কাছে।

  • ইফতারের আগেই জিতে গেল বাংলাদেশ

    সাইফ হাসানের আউটটা ভুলে যান। ১১৪ রান তাড়া করে জেতার ম্যাচে একটা উইকেট হারানো বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নয়। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান আর তিনে নামা নাজমুল হোসেন মিলে কী করলেন দেখলেন তো! ৫০ ওভারের ক্রিকেটকেই যেন বানিয়ে ফেললেন টি–টোয়েন্টি!

    জয় যখন দৃষ্টিসীমায়, তখন এমন সাহসী হয়ে ওঠার জন্য বাড়তি কোনো প্রেরণা লাগে না। তবে ইফতারের আগে খেলা শেষ করতেই জয়ের সময়টাকে কমিয়ে আনতে তাড়িত হলেন কি না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেই খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।

    শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। তানজিদ–নাজমুলের চার–ছক্কাগুলো ইফতার বিরতির আগেই শেষ করে দিয়েছে খেলা। পাকিস্তানের ৩০.৪ ওভারে করা মাত্র ১১৪ রান বাংলাদেশ টপকে গেছে ১৫.১ ওভারেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এত বেশি ওভার হাতে রেখে জয় এটাই প্রথম বাংলাদেশের। ৮ উইকেটের জয়ও উইকেটের ব্যবধানে সর্বোচ্চ, তবে পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে হারিয়েছে আগেও।

     

    ১০ ওভার একসঙ্গে থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি হয়েছে তানজিদ–নাজমুলের। ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ বলে ২৭ রান করে নাজমুল আউট হয়ে গেলেও পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে। দলের ১০৯ রানে নাজমুল আউট হয়ে গেলে শেষাংশে তানজিদকে সঙ্গ দেন লিটন দাস। দুজন মিলে ঠিক ইফতারের মুহুর্তে জয় নিশ্চিত করে শেষ করে দেন খেলা। যদিও জয়সূচক রানটা এসেছে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওয়াইড বল থেকে।

     পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
    পাঁচ ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে তানজিদ (বাঁ থেকে দ্বিতীয়) অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৭ রান করে।
     

    খেলার শেষটা দিয়ে লেখার শুরু হলো বটে, তবে আসলে খেলার শুরুটাই দিয়েছিল দ্রুত ম্যাচ শেষের বার্তা। শুরু বলতে অবশ্য পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৯ ওভার নয়। ওই পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি শাহীন আফ্রিদির দল, করেছিল ৩৫ রান। নতুন বলে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান পারেননি পাকিস্তানের ওপেনিং জুটিতে ভাঙন ধরাতে।
    কিন্তু দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে ইনিংসের ১৮তম ওভার পর্যন্ত আরেক পেসার নাহিদ রানা যে আগুনের গোলা ছুঁড়ে গেলেন মিরপুরের উইকেটে, সেটাই যথেষ্ট হলো পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিতে।

    নিজের প্রথম পাঁচ ওভারের প্রত্যেক ওভারেই একটি করে উইকেট নিয়ে নাহিদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। শেষ দুই ওভারে উইকেট পাননি, যদিও সপ্তম ওভারে পেতে পারতেন ফাহিম আশরাফের উইকেটও। তাঁর এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও নেননি রিভিউ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে পরে গেছে, রিভিউ নিলে নাহিদের নামের পাশে যোগ হতে পারত আরও একটি উইকেট।

     

    টসে জিতে বোলিং নিয়ে মিরাজ বলেছিলেন, বোলিংই তাঁর মূল শক্তি। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে কিছু উইকেট ফেলে দিতে পারলে ভালো হয়। বোঝাই যাচ্ছে, অধিনায়ক নিজেও তখন কল্পনা করেননি আসলে কী হতে যাচ্ছে।

    প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের উইকেট পড়েনি একটিও। তবে এরপরই শুরু ওই ‘নাহিদ শো’র। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মিরাজ বল দেন নাহিদের হাতে। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাহিবজাদা ফারহানের আউটে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ১২তম ওভারে নাহিদের দ্বিতীয় শিকার শামিল হোসেন। অভিষিক্ত শামিল অবশ্য আগের ওভারেই জীবন পেয়েছিলেন। নাহিদের শর্ট লেংথের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তিনি।

    আরেক ওপেনার মাজ সাদাকাত থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন অন্যপ্রান্তে। নাহিদ সুযোগ দেননি তাঁকেও। ১৪তম ওভারে শর্ট বলে মাজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাইফ হাসানের হাতে।

    ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
    ৩ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ
     

    ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেই, বাংলাদেশের হাতে চলে আসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। নাহিদ তাঁর পরের দুই ওভারেও মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ছিটকে দেন ম্যাচ থেকেই। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়াটা হয়ে দাঁড়ায় তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

    নাহিদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও অধিনায়ক মিরাজও ৩ উইকেট নিয়েছেন ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে। অন্য দুটি উইকেট দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের।

  • ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করল গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিটের পরামর্শই সঠিক ছিল

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এখন এক চরম পর্যায়ে রয়েছে। এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে আকাশপথে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে স্বল্পমূল্যের ড্রোন প্রযুক্তি। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে। এসব ড্রোনের উৎপাদন খরচ ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হলেও এগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কয়েক মিলিয়ন ডলারের দামি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে চলেছে ইরান।

    যুদ্ধে ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের ব্যাপক সাফল্য গুগলের সাবেক প্রবান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) এরিক শ্মিটের দেওয়া পুরোনো পরামর্শকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর শ্মিট বলেছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ট্যাংক বা বিমানবাহী রণতরির মতো বিশাল ও ব্যয়বহুল প্রচলিত যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে। এর বদলে ড্রোন কেনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। শ্মিট তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অতি ব্যয়বহুল অস্ত্রের মধ্যে নয়, গণহারে উৎপাদিত সস্তা ড্রোনের মধ্যে নিহিত। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে তাদের অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পড়েছি, যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার ট্যাংক কোথাও জমা করা আছে। সেগুলো বিলিয়ে দিন। তার বদলে ড্রোন কিনুন।’

    শ্মিট নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সফল ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে কীভাবে মাত্র ৫ হাজার ডলারের একটি ড্রোন ৫০ লাখ ডলার মূল্যের একটি ট্যাংক ধ্বংস করতে পারে।

    ইরান যুদ্ধে আধুনিক চালকবিহীন আকাশযান বা ইউএভির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সস্তা ড্রোনকে ভূপাতিত করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আধুনিক ড্রোন যখন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করে, তখন বিদ্যমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলো পুরোপুরি সেগুলো ধ্বংস করতে পারে না। সর্বশেষ সক্ষমতা হচ্ছে, প্রথাগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার আগেই ড্রোন বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত হানতে পারে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ইরান যুদ্ধে আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে মূলধন কমেছে ১২০ বিলিয়ন ডলার

    কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতির মূল খাতগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যেমন বিমান চলাচল, পর্যটন, আবাসন ইত্যাদি। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অর্থনৈতিক মডেল গড়ে উঠেছিল, তার দুর্বলতা ফুটে উঠছে।

    গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। একই সময়ে বাতিল হয়েছে ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি উড়ান। যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপে আছে দুবাইয়ের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাজারের সূচক কমেছে ১৬ শতাংশ, আবুধাবির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

    এ অবস্থায় আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দুবাইয়ের উত্তরাধিকারী যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এমন উদ্যোগে অর্থনীতির আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

    গত এক মাসে আরব আমিরাতে ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে।

    তেলের দাম বাড়ায় সৌদি আরব ও ওমান কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু আরব আমিরাতের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আরব আমিরাতের অর্থনীতি নিছক তেলনির্ভর ছিল না। পর্যটন, আবাসন, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা—এমন বহুধা ধারায় বিভক্ত তাদের অর্থনীতি। স্বাভাবিকভাবে এই যুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের অর্থনীতি।

    বাস্তবতা হলো, মার্চ মাস পর্যন্ত ইরান আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন ও ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর বেশির ভাগ প্রতিহত করা হলেও আবুধাবি ও দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চাপে আবাসন খাত

    দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের একটি হচ্ছে এর আবাসন খাত। স্বাভাবিকভাবে এ খাতেই প্রভাব পড়েছে বেশি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে যে বাজারের লেনদেন ১৪৭ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল, সেই বাজার এখন দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

    মার্চের শেষে রিয়েল এস্টেট সূচক কমেছে অন্তত ১৬ শতাংশ। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব, এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমেছে। দ্রুত বিক্রির জন্য অনেক সম্পত্তি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে ছাড়তে হচ্ছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা এমার প্রপার্টিজের শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    একই সঙ্গে দুবাই শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিটি ব্যাংকের হিসাব, চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে থাকবে। যদিও যুদ্ধের আগে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ দুবাই শহরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষের আসার হার কমে যাবে।

    পর্যটন ও প্রবাসীনির্ভরতা

    মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাই এখন বড় নাম। মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারের প্রায় অর্ধেকই এখানে। তবে এই চাহিদা নির্ভর করে পর্যটনের ওপর। ২০২৫ সালে দুবাইয়ে ২ কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন।

    দুই দশক ধরে দুবাই ও আবুধাবি এই অস্থির অঞ্চলে নিজেদের ‘স্থিতিশীল দেশ’ হিসেবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি এখন ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এর মধ্যে বিদেশি বাসিন্দাদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে, এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ইরানি হামলার ভিডিও ধারণের অভিযোগে অন্তত ৭০ ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। এমন ভিডিও শেয়ার করলে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত ইরানের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ২৯টির বেশি দেশের ১৭৯ জনের বেশি নাগরিক আহত হয়েছেন।

    থমকে গেছে বিমান খাত

    ইউএইর অর্থনীতির আরেকটি স্তম্ভ হচ্ছে বিমান পরিবহন। দুবাই বিমানবন্দর ও এমিরেটস এয়ারলাইনস বিমান পরিবহন খাতে নির্ভরযোগ্য নাম। বছরে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। কিন্তু ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১ মার্চ এই বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    এক দিনেই দুবাই, আল মাকতুম, আবুধাবি ও শারজার ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হয়। এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারলাইনস কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এতে কয়েক বিলিয়ন বা কয়েক শ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হোটেলের কক্ষ আগাম সংরক্ষণের হার কমে গেছে। এর পরিণতি হলো, হোটেলগুলো কক্ষভাড়া কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে ধনী প্রবাসীদের কেউ কেউ আরব আমিরাত ছাড়তে ব্যক্তিগত বিমানের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেছেন।

    বাস্তবতা হলো, দুবাই এখনো ইউরোপীয় পর্যটকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল—মোট পর্যটকের ২০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয়। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এই পর্যটকেরা যে শিগগিরই দুবাইমুখী হবেন, তেমন সম্ভাবনা কম।

  • ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার

    প্যারিস

  • ইরানে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা, মেট্রো স্টেশন ও মাটির নিচে লুকানোর ব্যবস্থা

    পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় ভয়ংকর এক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইরানে। সম্ভাব্য এই যুদ্ধকে ঘিরে দেশটির রাজধানী তেহরানে এখন নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

    যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এসব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

    তিনি বলেন, তেহরান সিটি করপোরেশনের প্যাসিভ ডিফেন্স কমিটি রাজধানীর বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর একটি বিস্তৃত জরিপ চালিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, তেহরানের বিভিন্ন স্কুলে থাকা প্রায় ৫১৮টি পুরোনো আশ্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বর্তমানে সংস্কার ও ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

    নাসিরি জানান, তেহরানের ৮২টি মেট্রো স্টেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্টেশনে টয়লেট, পানি ও খাদ্য মজুতসহ প্রয়োজনীয় বসবাসযোগ্য সুবিধা স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মেট্রো স্টেশনে আশ্রয়কেন্দ্র নির্দেশক সাইনবোর্ড ও লেবেল বসানোর কাজও শিগগিরই শেষ হবে।

    এছাড়া মেট্রোর বাইরে শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পার্কিং এলাকাসহ ৩০০টির বেশি ভূগর্ভস্থ স্থানকেও জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নাসিরি।

    উল্লেখ্য, তেহরানের জনসংখ্যা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে। তবে, বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় কোটি থেকে ১ কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

    প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

    মূলত, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

    অন্যদিকে ইরান সরকারও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করেছে, তাদের ওপর কোনও ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

  • ইরানের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

    গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

    খামেনি বলেন, তাঁরা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

    খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

    বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাঁদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

    এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

    এএফপি

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শেষ, ইতিবাচক বলছেন আরাগচি

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আজ শুক্রবার ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারলে আমি বলতে পারি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত ইতিবাচক এক কাঠামোতে পৌঁছাতে পারব।’

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আরাগচি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো দুই দেশের রাজধানীতে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হবে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগগুলো যেমন জানানো হয়েছে, তেমনি আমাদের স্বার্থ এবং ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য পক্ষের মতামতও শোনা হয়েছে।’

    আল–জাজিরা

  • ইসরায়েলকে শাস্তি দিল ফিফা

    ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সদস্যপদ স্থগিতের দাবিসহ কিছু অভিযোগ করেছিল ফিফার কাছে। বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে না।

    তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রায়ে বলেছে, একাধিক ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যের অভিযোগে দোষী ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। যদিও ইসরায়েল ফুটবলের ওপর বড় ধরনের শাস্তি আরোপ থেকে শেষ পর্যন্ত বিরত থেকেছে সংস্থাটি।

    শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। এ বিষয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ’ এবং ‘আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন’।

    ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিম তীরের বসতি থেকে দলগুলোকে জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিয়ে ফিফার বিধি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। এ নিয়ে পিএফএর সুনির্দিষ্টি অভিযোগ ছিল ‘অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের (ফিলিস্তিন) ভূখণ্ডে অবস্থিত ফুটবল দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে’ ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)।

    ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা
    ইসরায়েল ফুটবলকে শুধু জরিমানাই করেছে ফিফা, রয়টার্স
     

    ফিফা এ নিয়ে বলেছে, ‘ফিফার বিধির প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো অনির্ধারিত এবং আন্তর্জাতিক জন আইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়। তাই এ ক্ষেত্রে ফিফার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।’

    গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করা ফিফার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘তবে চলমান যুদ্ধের কারণে যাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের কথা ভেবে ফুটবল ও ফিফা বিশ্বকাপের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ইসরায়েলি ফুটবল নিয়ে তদন্ত ১৮ মাস আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। ফিফা জানিয়েছে, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে’ ব্যয় করতে হবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

    ফিফার বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এই পরিকল্পনা ফিফার অনুমোদিত হতে হবে এবং একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে সংস্কার, তদারকি এবং স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রচারণার ওপর জোর দিতে হবে।’

    বিচারকেরা আরও বলেন, ‘ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তার প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকতে হবে।’

  • ঈদের পর কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে কমেছে ৫৪৮২ টাকা

    ঈদের পর আজ বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। তাতে আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এর আগে ১৯ মার্চ এক দিনে দুবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার কমে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

    এর আগে ১৯ মার্চ দুপুরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

    জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও দাম কমার মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দামের অব্যাহত পতন। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।

    আজ সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে।

    ১৯ মার্চ দুই দফায় সোনার দাম কমানোর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১১ হাজার ৬৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১২ হাজার ৫৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ভরি প্রতি ১০ হাজার ২৬৪ টাকা।

    আজ বিশ্ববাজারে বেড়েছে

    গতকাল পর্যন্ত টানা ১০ দিন বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। তবে আজ সোনার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আজ এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৭১ ডলার ৫৩ সেন্ট বেড়েছে। ফলে এখন সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৫৭২ ডলার।

    আজ দাম বাড়লেও গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭৫৭ ডলার ৪৩ সেন্ট কমেছে। মূলত তার জেরেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে।

    গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময় সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

  • এআই দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে ‘বানাই: এআই ফিল্মমেকিং কমপিটিশন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের গবেষণা শাখা ব্রেনল্যাব।

    ‘লোকালাইজিং ভিজ্যুয়াল মডেলস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে এআই দিয়ে তৈরি দুই থেকে পাঁচ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিসির গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা, প্রকৃতি ও সমসাময়িক বাস্তবতাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান বিজয়ীদের যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তা–ই নয়, সেরা চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ার প্রদর্শনী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করা হবে।

    ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। আগ্রহীদের অবশ্যই নিজেদের তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গল্প, ভিজ্যুয়াল, শব্দ বা সম্পাদনার মতো সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের তথ্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হবে। এই ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন করা যাবে।

    এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিল্পচর্চার প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকেন্দ্রিক গল্প বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

  • এআই বিতর্ক: শ্যালামের মন্তব্যে থেরনের আপত্তি

    হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। এই বিতর্কে সম্প্রতি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শার্লিজ থেরন। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামী ১০ বছরে এআই হয়তো অনেক অভিনেতার কাজই করতে পারবে, এমনকি টিমোথি শ্যালামের মতো তারকার কাজও এআই করবে। কিন্তু মঞ্চে সরাসরি পরিবেশনার বিকল্প কখনোই হতে পারবে না।

    এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে টিমোথি শ্যালামের একটি মন্তব্য। সম্প্রতি এক আলোচনায় এই হলিউড অভিনেতা বলেছিলেন, অপেরা বা ব্যালেকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওই মাধ্যমের শিল্পীরা, তিনি চান না সিনেমার অবস্থাও অপেরা বা ব্যালের মতো হোক। শ্যালামে বলেন, সার্বিকভাবে সিনেমা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ যদি দেখতে চায়, তারা নিজেরাই আসবে।

    টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স
    টিমোথি শ্যালামে। রয়টার্স

    এই বক্তব্যেই আপত্তি জানান শার্লিজ থেরন। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি আলটপকা মন্তব্যই নয়, বরং দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম অপেরা ও ব্যালে সম্পর্কে একধরনের অবমূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ ধরনের শিল্পকে বরং আরও বেশি করে তুলে ধরা দরকার, কারণ এগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।

    বিশেষভাবে নাচের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শার্লিজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, নাচ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনুশীলনগুলোর একটি ছিল। তাঁর মতে, নৃত্যশিল্পীরা সত্যিকারের ‘সুপারহিরো’, যাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের শরীরকে এমন এক সীমায় নিয়ে যান, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স
    শার্লিজ থেরন। রয়টার্স

    কঠোর প্রশিক্ষণের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি—রক্তাক্ত পা, না শুকানো ক্ষত এবং প্রতিদিন একই রকম কঠিন অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, আপনি ছুটি পান না। জুতার ভেতর রক্ত ঝরছে, তবু থামা যাবে না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে শিখিয়েছে শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য।

    এই প্রেক্ষাপটেই আসে এআই প্রসঙ্গ। অভিনেত্রী মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবদেহের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া লাইভ পারফরম্যান্স—বিশেষ করে ব্যালে, তার স্বকীয়তা হারাবে না। কারণ, সেখানে শুধু দক্ষতা নয়, থাকে আবেগ, উপস্থিতি এবং মুহূর্তের সত্যতা—যন্ত্র দিয়ে যা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা কঠিন।

    তাঁর বক্তব্যে একধরনের সতর্কবার্তাও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের প্রভাব ক্রমেই বাড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এটি অভিনেতাদের কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, সব শিল্পমাধ্যমকে একই মানদণ্ডে বিচার করা ঠিক নয়।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • এই ২৫টি সামাজিক নিয়ম শিশুকে অবশ্যই শেখাবেন

    কেবল বই পড়ে শিশু সবকিছু শেখে না বা পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে না। তার ভালো আচরণ, ভদ্রতা, সহানুভূতি ও সামাজিক দক্ষতাই তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ছোটবেলা থেকেই কিছু মৌলিক সামাজিক নিয়ম শেখানো হলে শিশু আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও বন্ধুত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। আর মা–বাবাই তার প্রথম শিক্ষক। তাই দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই তাকে সামাজিক মূল্যবোধ শেখানো সবচেয়ে কার্যকর। শিশুকে যেসব সামাজিকতা শেখাতে পারেন, এবার জেনে নেওয়া যাক সেসব বিষয়ে।

    ১. সালাম বা শুভেচ্ছা জানানো

    বড়দের দেখলে সালাম, নমস্কার (যার যার ধর্মীয় রীতি অনুসারে) বা হ্যালো বলা ভদ্রতার পরিচয়। এটা শিশুকে শেখাতে পারেন।

    ২. ‘ধন্যবাদ’ ও ‘দুঃখিত’ বলা শেখান

    ছোট ছোট ধন্যবাদের অনেক ক্ষমতা। কৃতজ্ঞতা ও ভুল স্বীকার করার অভ্যাস শিশুর চরিত্রকে সুন্দর, আকর্ষণীয় করে। শিশু যে মুহূর্তে বুঝতে পারে যে তার ভুল হয়েছে, তখনই সরি বলা শেখান।

    ৩. বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ, উভয়কে সাহায্য

    শিশুদের বয়সে বড়দের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সম্মান দেখানো শেখান। ছোটদের স্নেহ করা, ভালোবাসা শেখান। বড়-ছোট নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য করা শেখান।

    ৪. অন্যের কথার মাঝখানে কথা না বলা

    অন্য কেউ কথা বলার সময় শিশুকে ধৈর্য ধরে তাকে কথাটা শেষ করতে দেওয়া শেখান। তারপর শিশুকে নিজের কথাটা সুন্দরভাবে বলতে বলুন।

    ৫. শেয়ার করার অভ্যাস

    কথায় বলে, ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’। খেলনা, খাবার বা জিনিসপত্র বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শেখান।

    ৬. মানুষকে পোশাক বা পেশা দিয়ে বিচার না করা

    খাবার বা খেলনা শিশুকে ভাগ করে নিতে শেখান
    খাবার বা খেলনা শিশুকে ভাগ করে নিতে শেখান
     

    মানুষকে কখনোই পোশাক, ধর্ম, জাতি বা অন্য যেকোনো কিছু দিয়ে ‘জাজ’ না করার শিক্ষা দিন। প্রতিটি পেশাজীবী ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে যেন আপনার শিশু সমান চোখে দেখতে পারে, মূল্যায়ন করে শিশুকে সেই শিক্ষা দিন।

    ৭. মিথ্যা না বলা, প্রতিজ্ঞা রাখা

    সত্য কথা বলার গুরুত্ব ছোটবেলা থেকেই বোঝান। শিশুর কাছে কোনো প্রতিজ্ঞা করলেও সেটা রাখতে হবে। একান্তই যদি প্রতিজ্ঞা রাখা সম্ভব না হয়, কেনো হচ্ছে না তা আগেই জানিয়ে দিন।

    ৮. অনুমতি নেওয়ার অভ্যাস

    অন্যের জিনিস ব্যবহার করার আগে অনুমতি চাওয়া শেখান। এমনকি সেটা পরিবারের জন্য কারও হলেও।

    ৯. অন্যের ঘরে প্রবেশ করার আগে

    নিজের বাদে অন্য যেকোনো ঘরে প্রবেশ করার আগে নক করা ও অনুমতি নেওয়া শেখান।

    ১০. লাইনে দাঁড়ানো

    স্কুল, দোকান বা যেকোনো জায়গায় শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। লাইনে দাঁড় করানো শেখার ছোটবেলা থেকে।

    ১১. কাউকে মজা করেও ছোট করা নয়

    শিশুকে ‘ফান’ করার নামে কাউকে ছোট করে কথা বলা, মারামারি, ঠাট্টা বা অপমানজনক আচরণ থেকে বিরত থাকতে শেখান।

    ১২.অন্যের কষ্ট বোঝা

    অন্যের কষ্ট বুঝতে ও সাহায্য করতে উৎসাহ দিন।

    ১৩. নিজের কাজ নিজে করা

    ব্যাগ গোছানো, খেলনা গোছানো, দিনের ছোট ছোট কাজ—এসব শিশুর ভেতর দায়িত্ববোধ তৈরি করে।

    ১৪. ডাইনিং ম্যানার

    শিশুকে খাবার টেবিলের কিছু ম্যানার শেখানো জরুরি
    শিশুকে খাবার টেবিলের কিছু ম্যানার শেখানো জরুরিমডেল: ফারিবা, ফারিণ, শেহরান ও কোকো। 
     

    খাবারের সময় শালীনভাবে বসা, পা না নাচানো, অতিরিক্ত কথা না বলা, সুন্দরভাবে খাবার খাওয়া ইত্যাদি শেখান।

    ১৫. রাগ নিয়ন্ত্রণ করা

    রেগে গিয়ে চিৎকার বা খারাপ আচরণ না করে শান্ত থাকার অনুশীলন করান।

    ১৬. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    নিজের শরীর, পোশাক ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছোটবেলা থেকেই ফলের খোসা বা চিপস চকলেটের প্যাকেট নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা শেখান।

    ১৭. পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা

    শিশুকে যখনই সুযোগ হবে, পরিবেশ সচেতন করে তোলার চেষ্টা করবেন। প্লাস্টিকের ঝুঁকি, বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি—এসব সম্পর্কে একটু একটু করে ধারণা দিন। গাছ লাগাতে ও গাছের যত্ন নিতে উৎসাহিত করুন।

    ১৮. অপচয় না করা

    শিশুকে অভাব আর আভিজাত্যের ভারসাম্য রেখে বড় করুন। ছোটবেলা থেকেই তাকে অপচয় না করার শিক্ষা দিন।

    ১৯. পেছনে কথা না বলার শিক্ষা দিন

    শিশুকে ছোট ছোট বিষয়ে কমপ্লিমেন্ট দেওয়া শেখান
    শিশুকে ছোট ছোট বিষয়ে কমপ্লিমেন্ট দেওয়া শেখান
     

    শিশুকে কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দিন। কারও সঙ্গে আপনার শিশুর যদি বোঝাপড়ার সমস্যা হয় তাহলে বিষয়টি তার সঙ্গে সময়, সুযোগ বুঝে সুন্দরভাবে খোলামেলা আলাপের ভেতর দিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করুন।

    ২০. যেটুকু ধার নিয়েছে, তার বেশি ফেরত দেওয়া

    দরকারের সময় আপনি যদি পাশের বাসা থেকে ২০টি কাঁচা মরিচ নেন, ফেরত দেওয়ার সময় ৩০টি দিন। শিশুকেও তা সচেতনভাবে শেখান।

    ২১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা

    কোনো ব্যক্তি যদি কোনো একটা কথা বলে সেটা গোপন রাখতে বলে, তা যেকোনো মূল্যে গোপন রাখার শিক্ষা দিন শিশুকে। এমনকি কোনোভাবে কারও ব্যক্তিগত কোনো বিষয় জেনে গেলেও তার গোপনীয়তা রক্ষা করা শেখান।

    ২২. ‘কমপ্লিমেন্ট’ দেওয়া

    শিশুকে ছোট ছোট বিষয় খেয়াল করা, কমপ্লিমেন্ট দেওয়া ও ইতিবাচকতার চর্চা করা শেখান।

    ২৩. চোখে চোখ রেখে কথা বলা

    পরিষ্কার আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগের জন্য ‘আই কনটাক্ট’ খুবই জরুরি।

    ২৪. কাউকে কোনো কিছুর জন্য চাপ না দেওয়া

    শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সম্মতি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার জন্য চাপ না দিতে, জোরাজুরি না করতে শেখান।

    ২৫. ‘না’ বলতে শেখান

    শিশুকে সুন্দরভাবে, যোউক্তিকভাবে না বলতে শেখান।
    মনে রাখবেন
    এসব বিষয় আপনি কখনোই শিশুকে কেবল বলে বা বুঝিয়ে শেখাতে পারবেন না। আপনি নিজে এসবের অনুশীলন করলে শিশুও সেসব ‘কপি’ করবে, আয়ত্ত করবে। তাই অভিভাবক হিসেবে সবার আগে আপনাকে ওপরের বিষয়গুলো চর্চা করতে হবে।
    সূত্র: ভেরি ওয়েলমাইন্ড

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব