• ক্যানসারের কাছে হার মানলেন অ্যানাবেল স্কোফিল্ড

    লন্ডন ফ্যাশন জগতের আইকনিক মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যানাবেল স্কোফিল্ড আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

    অ্যানাবেল স্কোফিল্ড ফ্যাশন জগত থেকে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথম পরিচিতি পান জনপ্রিয় মার্কিন ধারাবাহিক ‘ডালাস প্রাইমটাইম’ এর মাধ্যমে। সেখানে কিংবদন্তি অভিনেতা ল্যারি হ্যাগম্যানের বিপরীতে লরেল এলিস চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। এই চরিত্রই তাকে এনে দিয়েছিল তারকাখ্যাতি।

    ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের ল্যানেলিতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যানাবেল। চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির আশপাশে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী ১৯৯০-এর দশকে হিট সিনেমা ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’, ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ ও ‘অ্যাজ গুড অ্যাজ নাইট গেটস’এ অভিনয় করেছেন।

    ১৯৮০ দশকে লন্ডনের ফ্যাশন অঙ্গনে অ্যানাবেল ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও আকর্ষণীয় মুখ। টিভি বিজ্ঞাপনে তার স্মরণীয় উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত করে তোলে।

    চলচ্চিত্রে তিনি ‘সোলার ক্রাইসিস’, ‘ড্রাগনার্ড’ ও ‘আই অফ দ্য উইডো’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পরবর্তীতে ‘দ্য ব্রাদার্স গ্রিম’, ‘ডুম’ ও ‘সিটি অফ এম্বার’-এর প্রযোজনা ভূমিকায় ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন।

     

  • ক্লাব বিশ্বকাপেও ৪৮ দল চায় ফিফা, আপত্তি উয়েফার

    প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে জুন–জুলাইয়ে। ফিফা চায় ক্লাবগুলোকে নিয়ে যে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়, সেটিতেও ৪৮ দল খেলবে। তবে ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা এমন পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নয়। সম্প্রতি ব্রাসেলসে উয়েফার সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ক্লাব বিশ্বকাপের বিষয়টি আলোচিত হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শুধু মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত হতো। তবে ২০২৫ সালে নতুনভাবে ৩২ দল নিয়ে আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপটি নিয়ে ফিফা বেশ সন্তুষ্ট। এখন মূল বিশ্বকাপের মতো এই টুর্নামেন্টটিও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

    ৫০ শতাংশ দল বাড়াতে চায় ফিফা

    মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে উয়েফা কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ফিফা সভাপতি সুপার লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ফিফা চায়, ক্লাব বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দলে উন্নীত করতে, যা জাতীয় দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত মূল বিশ্বকাপের মতোই ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

    এ ক্ষেত্রে ২০২৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ স্পেন ও মরক্কোতে আয়োজনের চিন্তা আছে সংস্থাটির। পরের বছরই এ দুই দেশে ফিফা বিশ্বকাপ থাকায় ক্লাবের টুর্নামেন্টটি ‘টেস্ট রান’ হিসেবে জুতসই মনে করা হচ্ছে। তবে টানা দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের বিকল্পও খোলা রাখা হয়েছে।

    উয়েফার আপত্তি

    তবে ক্লাব বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছে উয়েফা। সর্বশেষ আসরে উয়েফার ১২টি দল খেলেছে ক্লাব বিশ্বকাপে, যা যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ফাইনালে খেলেছেও ইউরোপের দুই ক্লাব চেলসি ও পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চেলসি।

    তবে সূচির ব্যস্ততা এবং অতিরিক্ত ম্যাচ ও দল যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবা দরকার বলে উয়েফা এখনই ৪৮ ক্লাবের বিশ্বকাপের বিষয়ে ইতিবাচক নয় বলে জানিয়েছে মার্কা। উয়েফা নিজেই সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বে উত্তীর্ণ দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত চারটি ম্যাচ বাড়িয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তিসহ অনেকে মৌসুমের টুর্নামেন্ট শেষে সূচির অত্যধিক চাপ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। এখন আবার ফিফার টুর্নামেন্টে দল বাড়লে খেলোয়াড়দের ওপরও চাপ বাড়বে।

  • গাজায় রাফা সীমান্ত খুলে দিল ইসরায়েল

    গাজা ও মিসরের মধ্যকার সীমান্ত পারাপারের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে এটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে এবং শুধু ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয়গুলো সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং রাজনৈতিক স্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে রাফা সীমান্ত সীমিত আকারে শুধু বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।’

    সংস্থাটি আরও বলেছে, রাফা সীমান্ত খুলে দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন, মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

    কোগাট আরও উল্লেখ করেছে, সীমান্তটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করছে। সংস্থাটি যোগ করেছে, এই প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর উভয় দিক থেকে বাসিন্দাদের প্রকৃত যাতায়াত শুরু হবে। আপাতত প্রতিদিন এ ক্রসিং দিয়ে দেড় শ জন গাজা ছাড়তে পারবেন, আর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ফিরতে পারবেন ৫০ জনের মতো।

    এএফপি,জেরুজালেম

  • গানে গানেই টেইলর সুইফট এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী

    ২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পদ নিয়ে অফিশিয়ালি টেইলর সুইফটই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী। সংগীত ও লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তাঁর এই অর্জন।

    [caption id="attachment_269545" align="alignnone" width="707"] টেইলর সুইফট[/caption]

    মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের মোট সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এটা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে। মার্কিন বিজনেস ও লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ফোর্বস–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আর নারী-পুরুষের সম্মিলিত তালিকাতেও টেইলরের আগে শুধু মার্কিন পপ তারকা জে-জি আছেন।

    তাঁর এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর
     
    তাঁর এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর
    এই বিপুল আয়ের নেপথ্যে আছে তাঁর ইরাস ট্যুর। বিশ্বজুড়ে ইরাস ট্যুরের অভাবনীয় সাফল্যগাথা ইতিমধ্যে সবারই জানা। টেইলরের লাখ লাখ ভক্তদের আকৃষ্ট করেছে এই ট্যুর। ফলে কোটি কোটি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ট্যুরের অভূতপূর্ব সাফল্য তাঁকে শুধু আয়ের দিক থেকে নয়, বরং সংগীত ও বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।  

    ২০২৩-এর অক্টোবরে বিলিয়নিয়ার ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন এই তরুণ পপ তারকা। আর ইতিহাসে তিনিই একমাত্র সংগীতশিল্পী, যিনি কেবল অ্যালবাম বিক্রি ও লাইভ শো করে এই ১০ অঙ্কের সম্পদ অর্জন করেছেন। অন্যদের বেলায় তাঁদের সম্পদের উৎস বহুমুখী। তাই টেইলর সুইফটের এই অর্জন অনন্য।  

    শুধু হান গেয়েই ২০০ কোটি ডলার
     
    শুধু হান গেয়েই ২০০ কোটি ডলার

    সংগীত ক্যাটালগের মালিকানা, রয়্যালটি, পুনঃ রেকর্ড করা অ্যালবাম ও স্ট্রিমিং থেকে আয়ের পাশাপাশি মার্চেন্ডাইজ বিক্রিও তাঁর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ থেকেও নিয়মিত আয় করছেন টেইলর।

    বিশ্বব্যাপী প্রভাব, রেকর্ড ভাঙা কনসার্ট ও ‘সুইফটোনমিক্স’ সব মিলিয়ে টেইলর সুইফট বর্তমানে বিনোদনজগতের শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং স্টাইলিশ নারী শিল্পী।

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • গার্ডিয়ানের খবর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি ভারতের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার পথে বাধা হতে পারে

    বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজক হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কড়া মনোভাবই ভারতের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নেয়। ভারতে নিরাপত্তাশঙ্কায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার কথা জানিয়ে ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে ভেন্যু বদলের অনুরোধ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে পূর্বসূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় তাদের বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার কথা বলার সিদ্ধান্তটি আইসিসির। তবে এ বিষয়ে বিসিসিআইয়েরও হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর না করতে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আইসিসিতে তদবির করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘আইসিসি কাগজে-কলমে স্বাধীন হলেও ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইতিহাস তাদের পুরোনো। ২০২৪ বিশ্বকাপে আর্থিক ও সম্প্রচার স্বত্বের খাতিরে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার আগাম নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বেশ সমালোচনাও হয়।’

    দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর
    দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি সদর দপ্তর, আইসিসি
     

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, বিসিসিআই আইসিসিতে অনেক প্রভাবশালী এবং ভারত সরকারের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন; তাঁর বাবা অমিত শাহ নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি আইসিসির বর্তমান প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা আগে জিও-স্টারের স্পোর্টস প্রধান ছিলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ভারতে আইসিসির সব ইভেন্টের একচেটিয়া সম্প্রচারের স্বত্বাধিকারী।

    গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজে সময়ে এই রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। গত মাসে দিল্লির ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এখন ভারতের পাখির চোখ ২০৩৬ সালের আহমেদাবাদ অলিম্পিক। যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার।

    আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতি সহনশীলতা আইসিসির চেয়ে কম। গার্ডিয়ানকে আইওসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশগুলো বয়কট করতে পারে, এমন কোনো ঝুঁকি থাকলে ভারতকে গেমস আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়াটা আইওসির জন্য প্রায় ‘অকল্পনীয়’। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলতে হয় এবং অলিম্পিক চলাকালীন যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতপ্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    আইওসির এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রমাণ গত অক্টোবরেই পাওয়া গেছে। জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা দিতে অস্বীকার করায় ইন্দোনেশিয়াকে অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে চেয়েছিল, কিন্তু শুরুতেই তারা হোঁচট খেল।

    সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর
    সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আইওসির সদরদপ্তর, রয়টার্স
     

    ১৯০০ সালের পর ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। ২০৩২ ব্রিসবেন আসরেও এটি থাকছে। অলিম্পিকে ক্রিকেটকে ফেরানো হয়েছে মূলত ভারতের বিশাল বাজার ধরার জন্যই। তবে সেটা যেকোনো মূল্যে নয়।

    এবার টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। ভারত গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে না খেলে দুবাইয়ে খেলেছে। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে বিসিসিআই পাকিস্তানে দল পাঠাতে রাজি না হওয়ার পর আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেখানে ঠিক করা হয়, টুর্নামেন্টে ভারতের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তানের সব ম্যাচই হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশ আর দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও খেলে না।

    গার্ডিয়ানকে আইওসির ওই সূত্র আরও বলেছে, অলিম্পিক আয়োজনের যোগ্য আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে চাইলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে ভারতকে।

  • গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার

    আজ বাংলাদেশ সময় ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো অ্যারিয়ানে বসেছিল ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কারের আসর। বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় আসর গ্র্যামিতে এবার সর্বোচ্চ ৯টি মনোনয়ন পেয়েছেন র‍্যাপার কেনড্রিক লামার। সাতটি মনোনয়ন নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে লেডি গাগা। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারে বাজিমাত করলেন কারা?

    কেনড্রিক লামারের দাপট
    বছরের সেরা গান ও শিল্পীদের পুরস্কৃত করতে এ বছর রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি মোট ৯৫টি বিভাগে পুরস্কার দিচ্ছে। এর মধ্যে বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ভোরে) অনুষ্ঠিত প্রাক্‌-সম্প্রচার পর্বেই ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মূল টেলিভিশন সম্প্রচারে রাখা হয়েছে বাকি ৯টি বড় ও পারফরম্যান্সনির্ভর বিভাগ।

    পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি
    পুরস্কার হাতে কেনড্রিক লামার। এএফপি

    গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নতুন ইতিহাস লিখলেন মার্কিন র‍্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের গ্র্যামির আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে তিনি ভেঙে দিয়েছেন র‍্যাপারদের মধ্যে সর্বাধিক গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড। এত দিন এই রেকর্ড ছিল র‍্যাপার জে-জি’র দখলে। জে-জি’র মোট গ্র্যামি ছিল ২৫টি, আর কেনড্রিক লামার তা ছাড়িয়ে এখন পৌঁছালেন ২৭টিতে।

    ব্রিটিশ গায়িকা লোলা ইয়াং সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স বিভাগে ‘মেসি’ গানের জন্য জয় পেয়েছেন, হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে। গুরুত্বপূর্ণ ‘সং অব দ্য ইয়ার পুরস্কার’ পেয়েছেন বিলি আইলিশ।

    মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি
    মঞ্চে সাবরিনা কার্পেন্টার। এএফপি

    পুরস্কার ছাড়াও গ্র্যামিতে ছিল পারফরম্যান্স। গানে গানে মঞ্চ মাতান রোজে, ব্রুনো মার্স, লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, টেইলর, দ্য ক্রিয়েটর ও রেজিনা কিং। গ্র্যামির সঞ্চালনায় এবার শেষবারের মতো ফিরেছেন ট্রেভর নোয়া। টানা ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি।

    একনজরে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্র্যামি পুরস্কার
    রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: ‘লুথার’, কেনড্রিক লামার ও সিজা
    অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’, ব্যাড বানি
    সং অব দ্য ইয়ার : ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’, বিলি আইলিশ
    বেস্ট নিউ আর্টিস্ট: ওলিভিয়া ডিন
    বেস্ট পপ সলো পারফরম্যান্স: ‘মেসি’, লোলা ইয়ং
    বেস্ট পপ ডুয়ো অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স: ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’, লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্স
    বেস্ট পপ ভোকাল অ্যালবাম: ‘মেহ্যাম’, লেডি গাগা
    রেস্ট র‍্যাপ অ্যালবাম: ‘জিএনএক্স’, কেনড্রিক লামার

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

    সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।

    এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। একই দাবিতে আজ সকাল ১১টা থেকে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ইসহাক ডিপো সংলগ্ন টোল প্লাজায় সড়ক অবরোধ করেন।

    এদিকে টানা ৪ দিনের কর্মবিরতিতে বন্দর ও বেসরকারি আইসিডিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ কন্টেইনার জট। বন্দরের এমন অচলাবস্থায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

    বন্দর এলাকায় সভা সমাবেশে নিষিদ্ধ থাকার ঘোষণা থাকায় যে কোন তৎপরতা ঠেকাতে বন্দরের একাধিক প্রবেশ মুখে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • চলতি বছর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতের ১০টি প্রবণতার বিষয়ে হুয়াওয়ের পূর্বাভাস

    স্মার্ট পিভি (ফোটোভোলটাইক) ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি প্রবণতা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস-কে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। শিল্পের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।  

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের স্মার্ট পিভি ও ইএসএস প্রোডাক্ট লাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝং জানান, গত এক দশকে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

    শিল্প খাত এখন উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একক উদ্ভাবন থেকে সরে এসে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিভি ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুয়াওয়ে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যবহারভিত্তিক (সিনারিও-নির্ভর) এবং ছয়টি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

    একনজরে প্রবণতাগুলো দেখে নেওয়া যাক—

    ১. পিভি, উইন্ড ও ইএসএসের সমন্বয় নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত করবে।

    ২. গ্রিড-ফর্মিং ইএসএস পাওয়ার গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    ৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের সমন্বয় স্থানীয় স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।

    ৪. আবাসিক পিভি ও ইএসএস ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম (এআই-এনাবলড) থেকে এআই-নেটিভ ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটবে, যা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে।

    ৫. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ ঘনত্ব পিভি এবং ইএসএস যন্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
    ৬. উচ্চ ভোল্টেজ ও নির্ভরযোগ্যতা এলসিওই (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি) কমাতে সহায়তা করবে।

    ৭. ইএসএস মানে কেবল ব্যাটারি নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনার জন্য সিস্টেম-লেভেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

    ৮. উন্নত গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে।

    ৯. এআই এজেন্ট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা সম্ভব করবে।

    ১০. নিরাপত্তার পরিমাপযোগ্য মান নির্ধারণ এনার্জি স্টোরেজ শিল্পে সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

  • চীনের সঙ্গে দারুণ লড়ে হারল বাংলাদেশ

    সিডনি থেকে

  • ছয় মাসে ১৫৬ কোটি টাকা মুনাফা রেনাটার

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি রেনাটা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১৩৭ কোটি টাকার বা সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল রোববার কোম্পানিটি তাদের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রেনাটা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোম্পানিটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি রেনাটা (ইউকে) লিমিটেড, অন্যটি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেড। রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের আওতায় যুক্তরাজ্যের বাজারে আর রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেডের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ওষুধ রপ্তানি করা হয়। আর মূল কোম্পানি রেনাটা দেশের বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ বাজারজাত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বাজার ও রপ্তানি বাজার মিলিয়ে রেনাটা ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আর রেনাটা আয়ারল্যান্ড এই সময়ে ব্যবসা করেছে ১৯ কোটি টাকা। রেনাটা ইউকে ব্যবসা করেছে ১৬ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে এই তিন কোম্পানি মিলিয়ে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ রেনাটার তিন কোম্পানি মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা করেছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৩১ কোটি টাকা বা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুনাফায়। যার বড় কারণ উৎপাদন ও সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ কমে যাওয়া। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির পণ্য উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৮ শতাংশ। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ৩ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচও। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ কোটি টাকায়। একদিকে ব্যবসা বেড়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে খরচ কমেছে। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়।

    জানতে চাইলে রেনাটার কোম্পানি সচিব জোবায়ের আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ আগের অর্থবছরের চেয়ে সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এ ছাড়া উৎপাদন খরচসহ অন্যান্য কিছু খরচও কমেছে। যার ফলে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।

  • জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ পোস্টের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে থাকা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যে বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ হুমকির মুখে। একটি দল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে নারীদের নিয়েই কটূক্তি করছে। আবার তার কোনো দায় নিচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নারীদের অপমান করে, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।’

    শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনেরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

    মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘নারী অঙ্গন’-এর সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আমরা আইডি হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় নারীদের কটাক্ষ করা হয়েছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

    কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হল সংসদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসসুম, নারী অঙ্গনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্তাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত, ভেঙে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটি। জামায়াতের দাবি, দলীয় আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করে পোস্টটি করা হয়েছে। ওই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একই সময়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় জামায়াত।

  • জাহানারার অভিযোগে যে শাস্তি হলো মঞ্জুরুলের

    জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত করবে না বিসিবি। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বিসিবির অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করলে জাহানারা তাদের কাছেও লিখিতভাবে একই অভিযোগ করেন।

    জাহানারা আলম
    জাহানারা আলম
     

    তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, স্বাধীন তদন্ত কমিটি মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। কমিটি জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলেও বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় বিসিবি। তাঁর কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলেও জানানো হয়েছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    মঞ্জুরুল ইসলাম
    মঞ্জুরুল ইসলাম
     

    তদন্ত কমিটির করা সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় মঞ্জুরুলকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) চাকরি করা মঞ্জুরুল অবশ্য গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকেই বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে মঞ্জুরুলের সঙ্গে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

    জাহানারার অভিযোগ ছিল বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও। কিন্তু বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি তৌহিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।

  • জিতল ইংল্যান্ড, ঝুলে গেল নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য, টিকে থাকল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের প্রার্থনাই কাজে এল কি না কে জানে। ম্যাচটা নয়তো নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়ই ছিল প্রায় পুরো সময়। হঠাৎ উইল জ্যাকস এমন একটা ঝড় তুললেন, যা শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ভাগ্য।    

    প্রেমাদাসায় ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে কারও ফিফটি ছাড়াও তাই ৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের এই জয় বিশ্বকাপে টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তানকেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলে তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ হবে, নয়তো শেষ চারে খেলবে নিউজিল্যান্ড।  

    রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ৮ বলেই দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তবু তাদের পাওয়ার প্লে ভালো কাটে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের কল্যাণে। ৬ ওভারে তারা তোলে ৪৭ রান।

    তখন ১৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রুক। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক ওভার পরই গ্লেন ফিলিপসের বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের রান তোলার গতিও ধীর হতে থাকে, তারা হারায় উইকেটও। শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৩ রানের সমীকরণ।

    সেখান থেকে কাজটা কঠিনই মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের এক ওভার থেকেই জ্যাকস ও রেহান আহমেদ মিলে নেন ২২ রান। টানা তিন বলে বাউন্ডারি হাঁকান জ্যাকস। বাকি দুই ওভারে ২১ রান নেওয়ার কাজটা আর কঠিন হয়নি ইংল্যান্ডের জন্য। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ আর রেহান ৭ বলে অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

    ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান
    ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান, এএফপি
     

    ইংল্যান্ডের জন্য রান তাড়ার কাজটা আরেকটু কঠিন হতে পারত নিউজিল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করালে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তুলে ফেলার পর সেই সম্ভাবনা জেগেছিলও। কিন্তু পরে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা আর ওই গতি ধরে রাখতে পারেননি।

    তা আসলে হতে দেননি ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। একে একে নিউজিল্যান্ডের ৭ ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরান তাঁরা। কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউ তাই ফিফটি পাননি, ২৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপসে ৩৯ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

    শেষ পর্যন্ত তাদের রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য। তবু অবশ্য সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডেরই এখনো জোরালো। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলটির নেট রান রেট এখনো ইতিবাচক (+১.৩৯০)। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে পাকিস্তানের পয়েন্টও ৩ হবে। তবে তাদের রান রেট আপাতত নেতিবাচক (–০.৪৬১)।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (ফিলিপস ৩৯, সাইফার্ট ৩৫; রশিদ ২/২৮, জ্যাকস ২/২৩)

    ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (জ্যাকস ৩২*, রেহান ১৯*; রবীন্দ্র ৩/১৯, ফিলিপস ১/৪৩)

    ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

    ম্যাচসেরা: উইল জ্যাকস

  • জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে যেভাবে

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, দাখিল ৮ম শ্রেণি, ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি, জেএস ও জেডি (ভোকেশনাল) বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ বুধবার। এতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় মোট ৪৬ হাজার ২০০ জন বৃত্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জনকে মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে।

    আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (বিষয় কোড ১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা দুইভাবে ফলাফল দেখতে পারবে—

    ১. অনলাইন পদ্ধতি: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ (2026) দিলেই ফল দেখা যাবে।

    ২. এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।

    এবার শিক্ষার্থীদের ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির জন্য কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। বোর্ড ভিত্তিক এ বৃত্তি বণ্টন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ বৃত্তির জন্য কোটা বরাদ্দ হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এই পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয়েছে দুপুর ১টায়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এই পরীক্ষা।

    শুরুর দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি ও ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সেই স্থগিত পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। এবার ফল প্রকাশের অপেক্ষাও শেষ হচ্ছে আজ।

  • টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার এইটের পাঁচ দল নিশ্চিত, বাকিদের সামনে কী হিসাব

    পরশু প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ‘সি’ গ্রুপের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠে ‘এ’ গ্রুপের ভারত। কাল শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কারও। সুপার এইটের অন্য তিনটি দল কারা হবে, কোন দলের কেমন সম্ভাবনা, কোন দলকে কী করতে হবে—

    গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ভারত ৩.০৫০
    যুক্তরাষ্ট্র ০.৭৮৮
    পাকিস্তান -০.৪০৩
    নেদারল্যান্ডস -১.৩৫২
    নামিবিয়া -২.৪৪৩

    ভারত

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    পাকিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: নামিবিয়া (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নামিবিয়াকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। হেরে গেলে বাদ পড়তে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র

    হাতে কোনো ম্যাচ নেই।

    পাকিস্তান শেষ ম্যাচে হারলেই টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দলটি।

    নেদারল্যান্ডস

    হাতে থাকা ম্যাচ: ভারত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    ভারতকে হারাতেই হবে। এরপর আসবে অন্য হিসাব। নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনা কম।

    নামিবিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: পাকিস্তান (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘বি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    শ্রীলঙ্কা ২.৪৬২
    জিম্বাবুয়ে ১.৯৮৪
    অস্ট্রেলিয়া ০.৪১৪
    আয়ারল্যান্ড ০.১৫০
    ওমান -৪.৫৪৬

    শ্রীলঙ্কা

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    জিম্বাবুয়ে

    হাতে থাকা ম্যাচ: আয়ারল্যান্ড (আজ), শ্রীলঙ্কা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে।

    অস্ট্রেলিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওমান (২০ ফেব্রুয়ারি)

    ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই বাদ অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচ হারলে, শেষ ম্যাচে নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।

    আয়ারল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (আজ)

    শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।

    ওমান

    হাতে থাকা ম্যাচ: অস্ট্রেলিয়া (২০ ফেব্রুয়ারি)

    কোনো সুযোগ নেই ওমানের।

    গ্রুপ ‘সি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১.৮২০
    ইংল্যান্ড ০.২০১
    স্কটল্যান্ড ০.৩৫৯
    ইতালি -০.৫৮৮
    নেপাল -১.৯৪২

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    ইংল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৬ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    স্কটল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    ইতালি

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    নেপাল

    হাতে থাকা ম্যাচ: স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    নেপাল বাদ পড়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘ডি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১.৪৭৭
    নিউজিল্যান্ড ০.৭০১
    আফগানিস্তান -০.২১৫
    আরব আমিরাত -০.৭৯৭
    কানাডা -১.৫২৬

    দক্ষিণ আফ্রিকা

    হাতে থাকা ম্যাচ: সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইটে উঠে গেছে।

    নিউজিল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    আজ শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারালেই সুপার এইটে কিউইরা। না পারলে যদি-কিন্তুর মধ্যে পড়ে যাবে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত

    হাতে থাকা ম্যাচ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আমিরাত।

    আফগানিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আফগানরা।

    কানাডা

    হাতে থাকা ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি), আফগানিস্তান (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে আমিরাতের ফলের দিকে।

  • ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

    ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    ৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

    এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

    বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

    ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

    বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

    প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

    আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

    ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

    এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

    এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

    বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

  • ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: ঢাকা-মার্কিন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইবে সরকার

    ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

    ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

    আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

    এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

    মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

    সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

    উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

    এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

     

  • ড্র করেও কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি

    চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেও হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। দুই লেগের লড়াই ৫-৪ এর অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    ঘরের মাঠে মোনাকোর সাথে খেলায় নাটক কম হয়নি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরা মোনাকো ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়।

    মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখার পর মারকিনওস ও কাভারাস্কেইয়ার গোল পিএসজি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়।

    শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বার্সেলোনা অথবা চেলসি। শুক্রবার ড্রতে জানা যাবে, পিএসজি কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ

    সাত কলেজের জন্য হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এ এস মো. আবদুল হাছিব।

    গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল দিনের শেষ ভাগে এই নিয়োগ হয়। আজ সোমবার এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    মো. আবদুল হাছিব বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর মধ্যে তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হলেন।

    উপাচার্যের মেয়াদ হবে চার বছর। অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • দাঁত প্রতিস্থাপনের আগে যেসব বিষয় জেনে রাখবেন

    নানা কারণে দাঁত হারাতে হতে পারে। দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি), মাড়ির রোগ, দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁত পড়ে যেতে পারে। এমনকি জন্মগতভাবেও দাঁত অনুপস্থিত থাকতে পারে। অনেকেই দাঁত হারানোকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হন না। তবে দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে।

    মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে। একটি দাঁত না থাকলে আশপাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা জায়গার দিকে সরে যেতে থাকে, চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং মুখের স্বাভাবিক গঠন বদলে যায়।

    ফলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, কথা বলায় জড়তা আসে, মাড়ি ও চোয়ালের হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব দাঁত প্রতিস্থাপন করে নেওয়া জরুরি।

    দাঁত প্রতিস্থাপন ও করণীয়

    আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে দাঁত প্রতিস্থাপনের বেশ কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে।

    ডেন্টাল ব্রিজ: যদি এক বা একাধিক দাঁত না থাকে ও পাশের দাঁত সুস্থ থাকে, তাহলে ডেন্টাল ব্রিজ কার্যকর সমাধান। এ পদ্ধতিতে ফাঁকা জায়গার দুই পাশের দাঁত ব্যবহার করে মাঝখানে কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়।

    ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। এতে চোয়ালের হাড়ের ভেতর টাইটেনিয়ামের তৈরি স্ক্রু বসানো হয়, যা ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ওপরই কৃত্রিম দাঁত বা ডেন্টাল ক্রাউন স্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পাশের দাঁত ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

    ডেঞ্চার: যাঁদের অনেকগুলো দাঁত নেই বা সম্পূর্ণ দাঁতই নেই, তাঁদের জন্য ডেঞ্চার একটি বহুল প্রচলিত সমাধান। এটি রোগী নিজের ইচ্ছেমতো পরতে পারেন, আবার খুলেও রাখতে পারেন।

    সব রোগীর জন্য একই পদ্ধতি উপযোগী নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডেন্টাল সার্জন উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করেন। দাঁত হারানো লজ্জার বিষয় নয়, দাঁত না থাকার সমস্যাকে অবহেলা করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। হারানো দাঁতের প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে। সচেতনতা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে সুন্দর হাসি ও সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে।

    ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন; চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব