• নগ্নতা, খুন আর বিকৃত সম্পর্ক, কানে চমকে দিল যে সিনেমা

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। গত সোমবার মধ্যরাতে তাঁর নতুন সিনেমা ‘হার প্রাইভেট হেল’ ঝড় তুলেছে দর্শকদের মধ্যে। নগ্নতা, রক্তাক্ত খুন, মানসিক ট্রমা আর বিকৃত সম্পর্কের মিশেলে তৈরি এই নিয়নরঙা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শেষ পর্যন্ত পায় টানা ৭ মিনিটের দাঁড়িয়ে অভিবাদন।

    প্রদর্শনীর পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ছবির প্রধান অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। নির্মাতা রেফন তখন পুরো হল ঘুরে দর্শকদের আরও জোরে হাততালি দিতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।

    বৃষ্টিভেজা রাতে উন্মাদনা
    গতকাল রাতে কান উৎসবের গ্র্যান্ড প্যালেসে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই লালগালিচায় হাজির হন চার্লস মেলটন, সোফি থ্যাচার, হাভানা রোজ লুই, ক্রিস্টিন ফ্রসেথসহ অন্য তারকারা। ছবির প্রদর্শনী শেষ হতেই পুরো হল দাঁড়িয়ে করতালি দিতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে চোখের জল লুকাতে পারেননি সোফি থ্যাচার।

    ‘আমি ২৫ মিনিট মৃত ছিলাম’
    দীর্ঘ অভিবাদনের পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ২৫ মিনিটের জন্য মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন। পরে বিদ্যুৎ–চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।

    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা
    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা

    রেফনের ভাষায়, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে বদলে দেয়। এখন আমি জানি, বেঁচে থাকার সময় খুব সীমিত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।’

    এরপর গম্ভীর পরিবেশ ভেঙে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অভিনেতাদের ‘আকর্ষণীয় উপস্থিতি’ নিয়েও মজা করেন তিনি। বিশেষ করে চার্লস মেলটনের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে হাসির রোল তোলেন হলে।

    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
     

    সিনেমার গল্প
    ‘হার প্রাইভেট হেল’–এ সোফি অভিনয় করেছেন এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে। তাঁর জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়, যখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বিয়ে করেন তাঁর বাবাকে।

    একই সময়ে শহরে শুরু হয় ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং। রহস্যময় এক খুনি—‘দ্য লেদার ম্যান’—তরুণীদের হত্যা করতে থাকে। খুন হওয়ার আগে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে, ‘ড্যাডি!’
    অন্যদিকে চার্লস অভিনয় করেছেন এক সেনাসদস্যের চরিত্রে, যার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তার প্রতিশোধের অভিযান।

    ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে’

    ভাষণের শেষ দিকে সিনেমা হলকে মানুষের একত্র হওয়ার শেষ জায়গা বলেও মন্তব্য করেন রেফন। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে, যুদ্ধ লাগিয়েছে, মানুষের অর্থ লুট করেছে। এখন মানুষকে এক করতে পারে শুধু শিল্প।’
    রেফন আরও বলেন, ‘সিনেমা মানে শুধু আইফোনে একা বসে কিছু দেখা নয়; সিনেমা মানে একসঙ্গে বসে একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া।’

    নিয়নের সঙ্গে কান জয়যাত্রা
    সিনেমাটির পেছনে রয়েছে নিওন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কান উৎসবে সবচেয়ে সফল পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এটি। যদিও ‘হার প্রাইভেট হেল’ প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে, তবু সিনেমাটি ইতিমধ্যে উৎসবের অন্যতম আলোচিত ছবি হয়ে উঠেছে।

    রেফন এর আগে কান উৎসবে ‘ড্রাইভ’–এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন। পরে ‘অনলি গড ফরগিভস’ ও ‘দ্য নিওন ডেমন’–এর মতো বিভাজিত প্রতিক্রিয়ার সিনেমা বানিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন তিনি।

    দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরলেন এই ড্যানিশ নির্মাতা। আর ফিরে এসেই কান উৎসবে তৈরি করলেন নতুন আলোড়ন।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • নতুন কৌশলে ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অনলাইনে বিক্রি

    গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার অপারাধীরা প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান গার্ডিও। নতুন এই কৌশলকে ‘অ্যাকাউন্টডাম্পলিং’ নামে অভিহিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং হ্যাক করা অ্যাকাউন্টগুলো অবৈধভাবে অনলাইনে বিক্রি করছে।

    গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়, এটি একটি ধারাবাহিক ও ক্রমবিবর্তিত অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত কৌশল এবং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে তা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যুক্ত থাকে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক বেশি। এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই–মেইলের মাধ্যমে। মূলত ফেসবুকের বিজনেস অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই–মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে এবং দ্রুত আবেদন না করলে অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই–মেইল পাঠানোর কারণে সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে তাদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যেখানে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    গার্ডিও এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয়। সেখানে নকল ক্যাপচা যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীদের ফিশিং পেজে পাঠিয়ে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পিডিএফগুলো ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি করা। এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও হাতিয়ে নেওয়া হয়।। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে পরে তাঁদের হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

    গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

    সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

  • নতুন গবেষণা দ্রুত দেবে যাচ্ছে ঢাকা

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

    বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।

    ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।

    সূত্র: আর্থ

    জাহিদ হোসাইন খান

  • নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ রেখে যাবে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

    পরবর্তী সরকার যে এটা করবে, তার নিশ্চয়তা কী—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘টাকাপয়সা দিয়ে যাব। তারপর সুপারিশ করে যাব। আশা করি, এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।’

    সরকার কেন এখনই বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করছে না—এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেট করা কি সোজা? গেজেট করতে হলে স্পষ্ট করে বলতে হয়, কোনটা কত দেওয়া হবে। মোট কথা, আমরা এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    গণভোটের খরচ বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমি জানি না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আমরা কার্পণ্য করিনি। যে টাকা চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিয়েছি। বাড়তি কিছু টাকা চেয়েছে, সেটাও আমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।’

  • নর্থ সাউথের ‘লাল জামা পরা মেয়েটা’

    শিক্ষার্থীরা তো বটেই, পয়লা বৈশাখে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এনএসইউএসএস) আয়োজন দেখতে এখন অন্য ক্যাম্পাসের অনেকেও অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষ করে এনএসইউয়ারদের ফ্ল্যাশমবের ভিডিও যে অনলাইনে সাড়া ফেলবে, সেটা এখন একরকম রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তবে এবার পয়লা বৈশাখে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন একজন, তিনি মালিহা মাসফিরাত, ডাকনাম মেধা। রুনা লায়লা ও প্রীতম হাসানের গাওয়া ‘জ্বালা জ্বালা’ গানের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত নেচে মেধা এরই মধ্যে নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করেছেন। মেধাকে চেনেন না, জানেন না, এমন অনেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘লাল জামা পরা মেয়েটা দারুণ!’

    ভিডিওটা হয়তো আপনিও দেখেছেন। পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন বাংলা গানের সঙ্গে নেচেছে নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের বেশ বড় একটা দল। তবে মেধার আলাদা করে নজর কাড়ার কারণ আছে। ঝলমলে হাসি আর একাগ্রতাই বলে দিচ্ছিল, ‘জ্বালা জ্বালা’ গানে নাচের দলটাকে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    বিস্তারিত জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএর এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। এই যে বেশ একটা ‘তারকাখ্যাতি’ ছড়িয়ে পড়ল, ব্যাপারটা কেমন উপভোগ করছেন? নাচের সঙ্গে তাঁর পথচলাটাই–বা কেমন?

    দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি
    দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি, ছবি: মেধার সৌজন্যে

    নাচের প্রথম অধ্যায়

    মেধা বড় হয়েছেন নওগাঁয়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় সুলতান মাহমুদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাচের তালিম নেওয়া শুরু। তবে একটু যখন বড় হলেন, পড়ালেখার চাপ বাড়ল, ধীরে ধীরে থেমে গেল নাচের চর্চা। দীর্ঘ বিরতির পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আবার নতুন করে নাচে ফিরেছেন তিনি।
    মেধা বলেন, ‘আমার বেসিক ছিল ক্ল্যাসিক্যাল। ছোটবেলায় আমি মূলত ভরতনাট্যম আর কত্থক বেশি করতাম। এরপর অনেক দিন নাচ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে পড়াশোনার কারণে। কিন্তু নাচটা কখনোই আমার ভেতর থেকে হারিয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে হলো, এখন আবার শুরু করা উচিত। তারপর আলিফিয়া স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুনভাবে নাচ শুরু করি, নিজেকে আরও ভিন্ন ঘরানায় গড়ে তোলার সুযোগ পাই।’

    নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব, ছবি: মেধার সৌজন্যে

    বড় দলের চ্যালেঞ্জ

    নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম ইনচার্জ হিসেবে এবারের ফ্ল্যাশমব ছিল মেধার প্রথম বড় দায়িত্ব। পুরো পারফরম্যান্সের কোরিওগ্রাফি, মঞ্চ পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয়ের একটি বড় অংশ ছিল তাঁর নেতৃত্বে। ‘জ্বালা জ্বালা’ ও ‘মহা জাদু’—দুটি গানে কোরিওগ্রাফি করেছেন তিনি। পাশাপাশি অন্য গানগুলোয়ও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

    মেধা জানালেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রায় ৮০ জনের বিশাল দলটাকে এক ছন্দে আনা, কেননা তাঁদের বেশির ভাগই পেশাদার নৃত্যশিল্পী নন। সবার সহযোগিতায় চ্যালেঞ্জ উতরেছেন তিনি। বলছিলেন, ‘যেহেতু বেশির ভাগই নন-ড্যান্সার, সবাইকে স্টেপ শেখানো, আবার সবাই মিলে একসঙ্গে প্র্যাকটিস করা, বিষয়টা একদমই সহজ ছিল না। কিন্তু সবাই খুব সাহায্য করেছে। তাই ধীরে ধীরে সহজ হয়ে গেছে।’

    মহড়ার সময়ও মেধা ভাবতে পারেননি, নাচটা এত সাড়া ফেলবে। বলছিলেন, ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়। যদি সবাই এক তালে করতে পারে, তাহলে খুব সাধারণ স্টেপও দারুণ লাগে। পুরো পারফরম্যান্সটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে। আমরা সব সময় এটায় মনোযোগ দিয়েছি। সে জন্য হয়তো সবাই পছন্দ করেছে।’

    ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা।
    ‘কোরিওগ্রাফির সময় চেষ্টা করেছিলাম, পারফরম্যান্সটা যেন চোখে আরাম দেয়,’ বলেন মেধা। ছবি: মেধার সৌজন্যে

    বড় পর্দার স্বপ্ন

    মেধা শুধু নাচের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নন। মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন। ফটোশুটের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ধীরে ধীরে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের প্রকল্পের সঙ্গে। টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) ও ওভিসিতেও (অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল) এখন তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ক্যামেরার সামনে কাজ করার এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ধাপে ধাপে এগিয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের দিকে।

    অভিনয়জগতে মেধার যাত্রা শুরু হয় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে। কোনো আনুষ্ঠানিক অডিশন ছাড়াই, একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের আহ্বানে তিনি যুক্ত হন এই প্রকল্পে। তবে মেধার লক্ষ্য আরও বড়। বলছিলেন, ‘নিজেকে এমন জায়গায় চাই, যাতে আমাকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বাইরের মানুষও চিনবে। যদি সুযোগ পাই এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

    ফুয়াদ পাবলো

  • নাজমুলের সেঞ্চুরি আর মোস্তাফিজের ৫ উইকেটে সিরিজ বাংলাদেশের

    চট্টগ্রাম থেকে

  • নাটক শেষে ওয়েস্ট হামকে হারিয়ে শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল

    ওয়েস্ট হাম ০–১ আর্সেনাল

    নাটক, নাটক আর নাটক! লন্ডন স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কী নাটকই না মঞ্চস্থ হলো।

    যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটের খেলা চলছে। আর মিনিট দেড়েক পরেই শেষ বাঁশি বাজার কথা। এমন সময়েই কিনা গোল করে বসলের ওয়েস্ট হামের ক্যালাম উইলসন। ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা আর্সেনালকে হতাশায় ডুবিয়ে যে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট হাম।

    নাটকের শেষ অঙ্কের শুরু তখনই। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) জানাল আর্সেনাল গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে সম্ভবত ফাউল করা হয়েছে গোলের বিল্ডআপে। অনেক অ্যাঙ্গেলের ভিডিও দেখেও যখন তাঁরা সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি, মাঠের পাশের মনিটর দেখতে ছুটলেন রেফারি ক্রিস কাভানা। সময় নিয়েই রিপ্লে দেখে মাঠে ফিরে মাইকে ঘোষণা দিলেন ফাউলের শিকার রায়া, গোল বাতিল, ফ্রিকিক পেয়েছে আর্সেনাল।

    ভিএআরে কপাল পুড়েছে ওয়েস্ট হামের
    ভিএআরে কপাল পুড়েছে ওয়েস্ট হামের, এএফপি
     

    ফল, ১-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কাছে আর্সেনাল। আর অবনমনের শঙ্কা আরেকটু বেড়ে গেল ওয়েস্ট হামের। এই জয়ের পর ৩৬ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট আর্সেনালের। এক ম্যাচ কম খেলা নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে দলটি। নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচ জিতলেই ২২ বছর পর আবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হবে দলটি। অন্যদিকে ৩৬ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে ওয়েস্ট হাম। ১৭ নম্বরে থাকা টটেনহামের পয়েন্ট ৩৭, তবে স্পাররা ম্যাচ একটি কম খেলেছে।

    নাটক কম হয়নি আগেও। আক্রমণের পর আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্সেনাল। ৮৩ মিনিটে অবশেষে গোল পায় গানাররা। মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নেওয়া শট ওয়েস্ট হামের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যায় জালে।

    এই গোলটা ধরে রেখেই আর্সেনাল যখন জয়ের খুব কাছে, তখনই আবার নাটক।
    ওয়েস্ট হামের গোল, গোল বাতিল, শিরোপার আরও কাছে আর্সেনাল।

  • নাটকীয় জয়ের পরও পাকিস্তানের বিদায়, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

    ম্যাচ শেষে দুই দলেরই মন খারাপ। দাসুন শানাকা হাঁটু ধরে নুইয়ে পড়লেন হতাশায়। ম্যাচটা জেতায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কারও নেই কোনো উচ্ছ্বাস। কারণ, ম্যাচটা তাদের শুধু জিতলেই হতো না, সেমিফাইনালে যেতে মেলাতে হতো আরও সমীকরণ।

    পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের জয়ে রান রেটে তারা টপকে যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিফাইনালে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

    আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার সামনে ২১৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা এর কম রানে আটকে রাখতে পারলে সেমিফাইনালে যেত তারা। কিন্তু পুরো ২০ ওভার খেলে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে করেছে ২০৭ রান।

    শ্রীলঙ্কাকে সমীকরণের ভেতর আটকে রাখার সম্ভাবনা যে পাকিস্তান তৈরি করেনি, তা নয়। কিন্তু তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রবান রত্নায়েকে। ১০০ রানের ভেতর ৫ উইকেট হারালেও ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়ে যান তিনি।

    পরে তো দাসুন শানাকা ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কাকে। ইনিংসের শুরু থেকেই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে থাকেন। তবে শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের জন্য করতে হতো ২৮ রান।

    ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা
    ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা, এএফপি
     

    প্রথম বলে চারের পর টানা তিন বলে ছক্কা মারেন। ২ বলে দরকার হয় ৬ রান। কিন্তু অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করা শাহিন শাহ আফ্রিদির শেষ দুই বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি শানাকা। বিশেষ করে ওভারের শেষ বলটা সাদাচোখে ওয়াইড মনে হলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি, ম্যাচ শেষে যা নিয়ে হতাশ মনে হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটারদের।

    টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে যেন বড় ব্যবধানে হারানো যায়, সেই চেষ্টা ভালোভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তাঁদের দুজনের ৯৫ বলে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি তো রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটেই এখন এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।

    ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে দুশমন্ত চামিরার বলে বোল্ড হন। তবে সাহিবজাদা পেয়ে যান সেঞ্চুরি। এই পথেই তিনি এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। ৬০ বলে ১০০ রান করে আউট হন তিনি, ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৫ ছক্কা। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮টি ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন ফারহান। এই বিশ্বকাপে ৬ ইনিংস খেলে ৩৮৩ রান করেছেন ফারহান।

    এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পাকিস্তান বেশি দূর যেতে পারেনি বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। শেষ ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ব্যক্তিগত সংগ্রহটা নিতে পারেননি দুই অঙ্কেও। পাকিস্তানের রানটা তাই জয়ের জন্য যথেষ্ট হলেও তাদের তুলতে পারেনি সেমিফাইনালে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*; মাদুশঙ্কা ৩.৩৩, শানাকা ২/৪২)। শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬; আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১)। ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।

  • নানাবাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা

    দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা করা অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকার রানদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

    রোববার (১ মার্চ) বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় থমথমে হয়ে ওঠে পরিবেশ।

    দাফনের আগে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে ইকরার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টায় ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে ভালুকার উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।

    দাফনের সময় উপস্থিত হতে পারেনি ইকরার স্বামী ও অভিনেতা আলভী। বর্তমানে একটি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছেন তিনি। স্ত্রীর করুণ মৃত্যুর পরও কেন তিনি দেশে পৌঁছাতে পারেননি, তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, ঢাকার ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়ার কারণেই দ্রুত রওনা হতে পারেননি তিনি।

    এদিকে স্ত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। একই মামলায় অভিনেত্রী তিথি ও অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে। রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান।

    ২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী-ইকরা। তাদের ঘরে রয়েছে এক পুত্রসন্তান। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যে স্বামীর পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ইকরা। সামাজিক মাধ্যমে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট নেটদুনিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে।

     

  • নাম শুনেই বদলে যায় মৌসুমীর সিদ্ধান্ত

    তেত্রিশ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। বুধবার ছিল এ সিনেমার মুক্তির দিন। সোহানুর রহমান সোহানের এ ছবির মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা পেয়েছিলেন দুটি নতুন মুখ—মৌসুমী ও সালমান শাহ। প্রথম ছবিতেই তাঁরা বাজিমাত করেন, অভিনয় দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেন। ৩০ বছর আগে সালমান শাহ মারা যান। মৃত্যুর আগে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সব কটি ছিল জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল। তবে এক ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে সালমান শাহ মানুষের মনে থাকবেন বহুকাল।

    সালমান-মৌসুমীর জন্য নয়, নির্মাণের জাদুতেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। এতে শিল্পীদের কোনো হাত নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় চরিত্র সালমান শাহ-মৌসুমী—দুজনই ছিলেন নবাগত।

    কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
    কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির কাজ চলাকালীন স্টুডিওতে মৌসুমী ও সালমানের সঙ্গে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান
     

    ছবির গুণেই এটি আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এমনটাই মনে করেন এ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। ২০২২ সালের ২৪ মার্চে প্রথম আলোর কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘৩০ বছর পর এসে কেউ আয়োজন করে আমার সিনেমার কথা স্মরণ করছেন, এটা তো অবশ্যই ভালো লাগার। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্যও খুব ভালো দিক। তবে খুব বেশি করে ৩০ বছর আগের দিনটা মনে পড়ছে। কীভাবে ছবিটা মুক্তি পেল, কীভাবে ব্যবসা করল, আমি কিংবা আমার ছবির শিল্পীরা এ ছবির বদৌলতে কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। এই দিনে এসব মনে পড়ছে।’

    কীভাবে এই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মৌসুমী? জানতে চাইলে এই চিত্রনায়িকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছবির প্রস্তাবগুলো আসত গুলজার (পরিচালক মুশফিকুর রহমান) ভাইয়ের মাধ্যমে, তখন তিনি ছিলেন সাংবাদিক। আমার সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা করেন। সোহান ভাই বন্ধু হয়ে ঢাকায় আমাদের মোহাম্মদপুরে হ‌ুমায়ুন রোডের বাসায় এসেছিলেন। সেখানেই চলচ্চিত্রে আগ্রহী কি না, কৌশলে জানতে চান। তখন আমি স্থিরচিত্র আর বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েই খুশি ছিলাম। মধ্যবিত্ত পরিবার, তাই নাটকে অভিনয়ের চেষ্টা করিনি। গুলজার ভাই বললেন, ‘ধরুন, হিন্দি ছবি “কেয়ামত সে কেয়ামত তক” যদি বাংলায় রিমেক হয়, আপনি জুহি চাওলার চরিত্রটা করবেন, আমির খানের চরিত্রে নোবেল, তৌকীর আহমেদ কিংবা জাহিদ হাসানও হতে পারেন।’

    কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী
    কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী

    তাঁরা জানতেন, তৌকীর ভাই আর নোবেল ভাইয়ের ভক্ত আমি। তখন কিছুটা আগ্রহী হলাম। কারণ, সহশিল্পী হিসেবে পছন্দের শিল্পীরা থাকবেন। আমি তখন থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু করি। কীভাবে বাসায় বলা যায়, উপায় খুঁজছি। এরপর আরও অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়ে আমি দ্বিধায় পড়ে যাই। মনে মনে বাছাই করতে থাকি, কার ছবি করব? ঘুরেফিরে দেখি, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।
    ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম দিনের সংলাপ কী ছিল, জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে ভয়ে কাঁপছিলাম। একটি দৃশ্য ছিল, ওই দিন একটা বাইকে সালমান আর আমি এফডিসি থেকে কাঁচপুরে গেছি। আবার ফিরে আসি। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবিতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ছিল ওটা।’
    সালমান শাহর সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল মৌসুমীর। কথায় কথায় তেমনটাই জানালেন ঢালিউডের ‘প্রিয়দর্শিনী’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন খুলনায় থাকতাম। ছোটবেলায় ইমন (সালমান শাহর ডাকনাম) আর আমি প্লে গ্রুপ ও নার্সারিতে একসঙ্গে পড়েছি। ওই স্কুলে আমার ফুফু ছিলেন টিচার। ফুফুর ছুটি হওয়া পর্যন্ত ইমনদের বাসায় আড্ডা দিতাম। সেও আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। ভালো বন্ধুত্ব হয়। এরপর হঠাৎ ওরা ঢাকায় চলে আসে। বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর দেখা হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা ছবিটি করতে গিয়ে নতুন করে টের পাই। ছবির কাজ করার সময় আমাদের দেখা হয়। আবেগাপ্লুত হলাম। অল্প কয়েক দিনেই আমাদের সম্পর্ক আবার আগের রূপ নেয়। নিজেদের সবকিছুই একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে তো পরিচালক সোহান ভাই একপর্যায়ে ভুল বুঝতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা একজোট হয়ে গেছি।’

    ছবিটি এতটা সাড়া ফেলবে, ভেবেছিলেন কি? ‘এটা যে প্রেমের আদর্শ গল্প হয়ে যাবে, এই জুটি যে প্রেমের আদর্শ জুটি হবে, প্রিয় জুটি হয়ে উঠবে—ভাবিনি। এত বড় স্বপ্ন মানুষ দেখতে পারে না। যখন পেছনে ফিরে তাকাই, দেখা যায়, এই স্বপ্ন যদি দেখতাম, তাহলে স্বপ্ন দেখেই মারা যেতাম। ২৫ বছর সমানতালে জনপ্রিয় থাকবে একটা ছবি, আমাকে “কেয়ামত-কন্যা” ডাকবে! এখনো সালমান মানে আমি, আমি মানে সালমান যে ভাববে, অথবা “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবির প্রতিটি গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে স্পর্শ করবে—এসব ভাবার মতো শক্তি আল্লাহ দেননি। এটা আল্লাহর দান। এটা মানুষ কখনো সৃষ্টি করতে পারে না’, বলেন মৌসুমী।

    সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
    সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়
     

    জানা গেছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড হিন্দি ‘সনম বেওয়াফা’, ‘দিল’ ও ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’–এর কপিরাইট নিয়ে সোহানুর রহমান সোহানের কাছে আসে এর যেকোনো একটির রিমেক করার জন্য। উপযুক্ত নায়ক-নায়িকা খুঁজে না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ দিয়ে ছবি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। নায়িকা হিসেবে মৌসুমীকে নির্বাচন করে। নায়ক হিসেবে প্রথমে তৌকীর আহমেদ ও পরে আদিল হোসেন নোবেলকে প্রস্তাব দিলে তাঁরা ফিরিয়ে দেন। তখন নায়ক আলমগীরের সাবেক স্ত্রী খোশনুর আলমগীর ‘ইমন’ নামের এক ছেলের সন্ধান দেন। প্রথম দেখাতেই তাঁকে পছন্দ করেন পরিচালক এবং ‘সনম বেওয়াফা’ রিমেকের জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইমন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এ ছবি তিনি ২৬ বার দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ইমনের নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়।
    আমির খান ও জুহি চাওলা অভিনীত ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ চলচ্চিত্রের কাহিনি লিখেছেন নাসির হোসেন আর পরিচালনা করেন মনসুর খান। এদিকে বাংলাদেশে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন সোহানুর রহমান সোহান এবং সংলাপ লিখেছেন আশীষ কুমার লোহ। প্রযোজক সুকুমার রঞ্জন ঘোষের আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। ছবিতে সালমান-মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেন রাজীব, আহমেদ শরীফ, আবুল হায়াত, খালেদা আক্তার কল্পনা, মিঠু, ডন, জাহানারা আহমেদ, অমল বোসসহ অনেকে।

  • নামমাত্র খরচে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাবে বিটিভি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বক্তব্য দেন।

    এই খেলা দেখানো নিয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং বাংলাদেশের নীতিমালার আলোকে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা (ভ্যাট, আয়করসহ মোট মূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা)।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের জন্য আনন্দের বিষয় হলো এই টাকা বিটিভিকে পরিশোধ করতে হবে না। আমরা টেলকো, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কাছে নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাডভারটাইজমেন্ট (বিজ্ঞাপন) এবং রাইটস (স্বত্ব) বিক্রি করে প্রায় সব টাকা উঠিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। নামমাত্র খরচে বিটিভি খেলা দেখাবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে এক অদ্ভুত গোলকধাঁধা তৈরি করা হয়েছিল। ফিফা থেকে স্বত্ব কিনে নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা দাবি করে। এটি ছিল জনগণের করের টাকার ওপর আরেকটি বড় আঘাতের চেষ্টা। কিন্তু তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জনগণের অর্থের অপচয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ফলে সেই অযৌক্তিক ক্রয় প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।’

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে যুক্ত করি। দিনের পর দিন ম্যারাথন মিটিং, জটিল আলোচনা এবং দর–কষাকষির মধ্য দিয়ে আমরা একটি জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এটি স্বৈরাচারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সততা এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার এক বিশাল বিজয়। সব জটিলতা, কুচক্রী মহলের প্রতিবন্ধকতা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মানুষের প্রিয় ঘর—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) আগামী ফুটবল বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারের অধিকার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

    অতীতের এই খেলা দেখানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে বিটিভি খেলা দেখিয়েছিল। সেই ধোঁয়াশাপূর্ণ চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে আজ দেশের মানুষের মনে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

    ১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। গত রোববার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা যায়, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে।

    এবার বসছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এটি ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

  • নারী এশিয়ান কাপ আনিকাকে নিয়েই বাংলাদেশের একাদশ

    বাংলাদেশ দলে তিন পরিবর্তন

    একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। একাদশে রদবদলের মাধ্যমে কোচ মূলত দলের গতি ও মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ৪ ডিফেন্ডার ও ৫ মিডফিল্ডার নিয়ে দল সাজিয়েছেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে বড় চমক সুইডেন প্রবাসী মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। আগের দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে খেললেও আজ তিনি প্রথমবার একাদশে।

    দলের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠকে সুসংগঠিত করতে প্রথম ম্যাচে খেলা দুজনকে আজ ফেরানো হয়েছে একাদশে। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ শিউলি আজিমকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে মাঝমাঠে ফিরছেন উমেলাহ মারমা।

    গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার বদলে গত দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন মিলি আক্তার। উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে যেভাবে তিনি দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা রীতিমতো মুগ্ধ হওয়ার মতো। তাই টানা তৃতীয় ম্যাচেও মিলির ওপরই ভরসা রেখেছেন বাটলার।

    একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন রক্ষণভাগের নবীরণ, মাঝমাঠের আইরিন ও ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার সিনিয়র।

    বাংলাদেশের একাদশ

    গোলরক্ষক : মিলি আক্তার।

    রক্ষণভাগ: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), আফঈদা খন্দকার ও কোহাতি কিসকু।

    মাঝমাঠ: মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেলাহ মারমা ও আনিকা রানিয়া ।

  • নারী এশিয়ান কাপের মুকুট জাপানের: হলুদ গর্জন থামিয়ে নীল-উৎসব

    সিডনি শহরের সব স্রোত যেন আজ মিশে গিয়েছিল স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের সেই ঐতিহাসিক ভেন্যু আরেকবার জেগে উঠল নতুন উন্মাদনায়। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ২১তম নারী এশিয়ান কাপের প্রতীক্ষার ফাইনাল ঘিরে যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল পুরো অলিম্পিক পার্ক। কিন্তু স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার হলুদ সমুদ্রের গর্জন থামিয়ে জাপান হাসল শেষ হাসি। জয়ের ব্যবধান ১-০।

    ৮০ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। বিকেল থেকেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল অলিম্পিক পার্কে। শহরের আবাসিক এলাকা মিন্টো থেকে ট্রেন ধরতেই বোঝা যাচ্ছিল আজকের দিনটা আলাদা। গ্ল্যানফিল্ড স্টেশনে ট্রেন বদলানোর পর নানা স্টেশন পেরোতে পেরোতে কামরাগুলো যেন হলুদ জার্সির দখলে চলে যায়। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে এক অস্ট্রেলিয়ান দম্পতির চোখে–মুখে উচ্ছ্বাস আলাদাভাবে চোখ কাড়ে।

    দ্বিতীয়বার ট্রেন বদলে লিডকম্ব স্টেশন থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে অলিম্পিক পার্কে পৌঁছাতেই চারদিকে মানুষের ঢল। গ্যালারিতে ঢোকার আগেই আবহ বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়, বড় উৎসবের উপলক্ষও। প্রায় ৯৫ শতাংশ দর্শক অস্ট্রেলিয়ার হলেও নীল জার্সিতে কিছু জাপানি সমর্থকের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। প্রেসবক্সে বসে মনে হচ্ছিল, যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা। গগনবিদারী চিৎকার, ম্যাচ শুরুর আগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেক দিন মনে রাখার মতোই। সব মিলিয়ে পরিবেশ পৌঁছে গিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়।

    ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা
    ম্যাচ শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা, এএফপি
     

    একদিকে জাপান ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালের রানার্সআপ। ২০১৪ ও ২০১৮ নারী এশিয়ান কাপ জয়ী। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট, ২০১০ এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন। ইতিহাসের দিক থেকে জাপান এগিয়ে থাকলেও শক্তিতে দুই দল ছিল প্রায় সমানে সমান। এই ফাইনাল ছিল দুই ফুটবল–দর্শনের লড়াইও। জাপানের নিখুঁত পাসিং বনাম অস্ট্রেলিয়ার শক্তি ও গতিনির্ভর খেলা।

    অস্ট্রেলিয়ার পুরুষ ফুটবল দলকে যেমন সকারুস বলা হয়, তেমনি নারী দলের ডাকনাম ‘মাটিল্ডাস’। গ্যালারির সমর্থনে শুরু থেকেই চাঙা হয়ে উঠেছিল সেই মাটিল্ডাসরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩৫টির বেশি ম্যাচ খেলা ৩২ বছরের অধিনায়ক স্যাম কার সামনে থেকে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, যিনি ইংলিশ ক্লাব চেলসির বড় তারকা। আর রক্ষণে দৃঢ় ছিলেন হলুদ জার্সিতে ১৪৫টি ম্যাচ খেলা অ্যালানা কেনেডি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমিয়ে তোলে লড়াই।

    কিন্তু ১৭ মিনিটে গ্যালারি নিস্তব্ধ। জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে পরাস্ত করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষককে। এ বছর ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে ধারে খেলা হামানোর শট গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দূরের পোস্টে জড়িয়ে যায়। স্টেডিয়াম নীল জার্সির খেলোয়াড়েরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

    ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর  জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো
    ফাইনালের একমাত্র গোলটি করার পর জাপানের ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো, এএফপি
     

    এই এক গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। তৃতীয়বার এশিয়ান কাপ শিরোপা জেতে জাপান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও জাপানের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরেছিল ১-০ গোলে। ভিয়েতনাম ও জর্ডানের মাটিতে জাপানের কাছে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া হেরে গিয়েছিল বলে এবারের ফাইনালকে প্রতিশোধের ফাইনাল মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০ বছর পর ঘরের মাঠে নারী এশিয়ান কাপ আয়োজন করে চ্যাম্পিয়নশিপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ হলো না অস্ট্রেলিয়ার।

    দ্বিতীয়ার্ধে মরণকামড় দিয়েও জাপানের রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। গোল হতে হতেও হয়নি দু-তিনবার। জাপানের গোলকিপার আয়াকা ইয়ামাশিতা ছিলেন দৃঢ়তার প্রতীক। তাঁর দৃঢ়তা এবং গোটা রক্ষণের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় সিডনি থেকে মুকুট নিয়ে ফিরছে জাপান। সর্বশেষ ৪টি নারী এশিয়ান কাপের তিনটিই জিতে নিল তারা।

    অস্ট্রেলিয়ার সুযোগ কিন্তু কম ছিল না। কেইটলিন ফোর্ড একবার জাপানের গোলকিপারের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে পারেননি। আরেকবার আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডের শট যায় বাইরে। এই মিসগুলোই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় স্বাগতিকদের জন্য।

    শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া
    শেষ দিকে জাপানকে চেপে ধরেছিল অস্ট্রেলিয়া, এএফপি
     

    জাপান পুরো টুর্নামেন্টে ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে ভারতকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে, তিন ম্যাচে করেছে ১৭ গোল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায় ৪-১ ব্যবধানে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। কিন্তু ফাইনালের নিজেদের উজাড় করে দিয়েও জাপানের কাছে আটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

    জাপানের ড্যানিশ কোচ নিলস নিলসেন ইতিহাস গড়েছেন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে দলকে শিরোপা জিতিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর দল ছিল অপরাজিত। পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা আর টেকনিক্যাল দক্ষতায় এগিয়ে থেকেই জাপান ছিনিয়ে নিয়েছে শিরোপা। মাঝমাঠে ইউই হাসেগাওয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে হামানোর নৈপুণ্য ছিল জাপানের মূল শক্তি। গোলরক্ষকের কিছু সেভ ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল।

    জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল। দুবারই জাপান ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। এবারও সেই একই স্কোরলাইন। ইতিহাসের যেন পুনরাবৃত্তি হলো। ১২ বছরের মধ্যে তিনটি ফাইনালে একই পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে আক্ষেপ হয়ে থাকবে অনেক দিন।

    ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা
    ম্যাচশেষে জাপানিদের উল্লাস, অস্ট্রেলীয়দের হতাশা, এএফপি
     

    দক্ষিণ কোরিয়ার রেফারি কিম ইউর শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে শুয়ে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। আশাভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। অন্যদিকে নীল জার্সিধারীদের উল্লাস। তবে অলিম্পিক পার্কের এই রাত মনে করিয়ে দিল, শিরোপা এক দলের হলেও জয় আসলে ফুটবলেরই।

    ম্যাচটা কি বাংলাদেশের মেয়েরা দেখেছেন? জানা নেই। তবে সিডনিতে ঈদের আবহও মিশে গিয়েছিল এই ফুটবল উৎসবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেছেন ম্যাচটি। যদিও বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তবু প্রথমবার এশিয়ার সেরাদের মঞ্চে এসে আফঈদাদের খেলার অভিজ্ঞতা বড় প্রাপ্তি আর শিক্ষাও।

  • নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি: কোন দল কত পাবে

    নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৬০ দিন। ঠিক এই সময়ে এসে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বড় এক সুখবর দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে বসতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সর্বশেষ আসরের তুলনায় এবার প্রাইজমানি বাড়ছে ১০ শতাংশ। তাতে এবার মোট প্রাইজমানি দাঁড়াচ্ছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা)। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে বাড়ছে দলের সংখ্যাও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

    কোন দল কত পাবে

    চ্যাম্পিয়ন: ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

    রানার্সআপ: ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    সেমিফাইনালিস্ট: প্রতি দল পাবে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।

    গ্রুপ পর্বে জয়: প্রতিটি জয়ের জন্য মিলবে ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার।

    অংশগ্রহণকারী সব দল: প্রতিটি দল পাবে অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। ১২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন এবং রেকর্ড পুরস্কারের অর্থ আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। নারী ক্রিকেটারদের প্রভাব এখন বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে স্পষ্ট।’ তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্ট মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে।

    লর্ডস থেকে ট্রফি ট্যুর

    বিশ্বকাপের দামামা বাজিয়ে আজ থেকেই শুরু হয়েছে ‘আইসিসি ট্রফি ট্যুর’। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। লর্ডসের বিখ্যাত প্যাভিলিয়নের ওপর ট্রফির অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয় এক জাদুকরি প্রজেকশনের মাধ্যমে। এরপর ট্রফিটি পাড়ি জমাবে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে। মে মাসজুড়ে এটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আয়োজক শহর—লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটন ঘুরে বেড়াবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ট্রফির এই সফরের খুঁটিনাটি দেখতে পারবেন ইনস্টাগ্রামের @icctrophytour হ্যান্ডলে।

    আগামী ১২ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ দল খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

  • নারী বিপিএল পিছিয়ে গেল জুলাইয়ে

    আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখ ঘোষণা হলেও আপাতত হচ্ছে না নারী বিপিএলের প্রথম আসর। তিন দল নিয়ে ৪ এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্টটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন তা আগামী জুলাইয়ে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আয়োজন করার কথা বলছে বিসিবি।

    নারী বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান বলেন, ‘ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আমাদেরকে জানিয়েছে, প্যাড-হেলমেটসহ অন্য সরঞ্জাম আনার জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় নেই। সব মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নারী বিপিএল পিছিয়ে দেওয়ার।’

    তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বিক্রির জন্য দুই দফায় আবেদনের সময় বাড়ায় বিসিবি। ৮ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ালেও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করতে পারে বিসিবি। ছেলেদের বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্বত্বাধিকার নাবিল গ্রুপ ও চট্টগ্রামের কন্টিনেন্টাল গ্রুপ দল নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ থাকলেও অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চূড়ান্ত করতে পারেনি বিসিবি।

    পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছিল, বগুড়া-চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এ বছরের ১০ থেকে ২১ জুলাই হবে তিন দলের নারী বিপিএল। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি এই টুর্নামেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নতুন সূচিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পাওয়া সহজ হবে বলেও মনে করে বিসিবি। তারা জানিয়েছে, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আগামী ১০ জুলাই শুরু হবে নারী বিপিএল। চট্টগ্রাম হয়ে আগামী ২১ জুলাই ঢাকায় হবে নারী বিপিএলের ফাইনাল।

  • নাহিদ রানার গতির ঝড়ে এলোমেলো অস্ট্রেলিয়া

    নবম উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া

    অস্ট্রেলিয়া: ৩৬.৪ ওভারে ১৫৬/৯

    জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ। নাথান এলিসকে আউট করেছেন মোস্তাফিজ। তাতে অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে নবম উইকেট। দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।

    আবার বাউন্সার, আবার উইকেট

    অস্ট্রেলিয়া: ৩২.২ ওভারে ১৪০/৮

    নাহিদ রানার বাউন্সারে এবার আউট হলেন বার্টলেট। ঘণ্টায় ১৪৮.৫ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে বার্টলেট আউট হয়েছেন ১ রান করে। ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার।

    এই নাহিদ রানাকে থামাবেন কে?

    বেচার লিয়াম স্কট আর কীই বা করবেন! নাহিদ রানার ১৪৬ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসা বাউন্সারে গালিতে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন অভিষিক্ত স্কট।

    এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। নিয়মিত বোলিং করছেন ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে। কোনোটির গতি ছাড়িয়েছে ১৫০ এর মাইলফলকও।

  • নায়কের ইচ্ছায় বাদ! ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বললেন প্রিয়াঙ্কা

     এখন তিনি আন্তর্জাতিক তারকা—বলিউড থেকে হলিউড, দুই দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত নাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও একটি চলচ্চিত্র থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল—এবং সেটিও নাকি সহ–অভিনেতার ইচ্ছায়।  

    প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনা তখনকার, যখন তিনি ২০০৭ সালের ‘সালাম–ই–ইশক’ ছবির শুটিং করছিলেন। নতুন একটি ছবির জন্য তিনি ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শুটিং শুরুর অপেক্ষা। ঠিক সেই সময় তাঁর সহ–অভিনেতা সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাঁকে ছবিতে নিয়েছেন, কারণ ছবিটি মূলত অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল।  

    ‘তিনি এসে বললেন, পরিচালক ভুল করেছেন, ছবিটি আসলে অন্য কারও করার কথা ছিল। আমরা অন্য আরেকটা ছবি করব, চিন্তা কোরো না,’—প্রিয়াঙ্কা স্মৃতিচারণা করেন। কথাগুলো বলেই তিনি নাকি খাবার খেয়ে চলে যান। আর ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী তখন ভেঙে পড়েছিলেন।  

    প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেই সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হাতে চুক্তিপত্র থাকলেও বাস্তবে কিছুই করার ছিল না। ‘আমি ভাবছিলাম—চুক্তি তো সাইন করা, তাহলে কীভাবে সম্ভব?’—এই প্রশ্নের উত্তর তখন তিনি পাননি। শিল্পের অঘোষিত রাজনীতি তাঁকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।  

    প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আরও কয়েকটি ছবি তাঁর কাছ থেকে ‘সরে গেছে’ বলে জানান তিনি। কখনো প্রধান চরিত্র থেকে দ্বিতীয় চরিত্রে নেমে আসতে হয়েছে, কখনো অন্য কাউকে জায়গা দিতে হয়েছে। তখন ‘নেপোটিজম’ শব্দটি এত প্রচলিত না হলেও শিল্পের ভেতরের সম্পর্ক আর ক্ষমতার প্রভাব যে কতটা কাজ করত, সেটি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

    এই ধাক্কাগুলো তাঁকে একসময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন—অভিনয়ে মনোযোগ বাড়াবেন, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নেবেন।
    ‘আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল,’—বলেছেন তিনি।
    তবে কোন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন আর কোন নায়কের এতে সায় ছিল—সে কথা অবশ্য বলেননি অভিনেত্রী।

    ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। তবে একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন বহু তারকার সন্তান, তখনই তিনি বুঝে ফেলেন—সবাই সমান জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে না। তাঁর ভাষায়, ‘কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।’

    প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তবু এই লড়াইই হয়তো তাঁকে গড়ে দিয়েছে অন্যভাবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্র খুঁজে নেওয়া, নিজেকে বারবার নতুন করে তৈরি করা—এই পথ ধরেই তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছান।

    প্রিয়াঙ্কা শেষবার ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ২০১৯ সালের ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’–এ। সামনে তাঁকে দেখা যাবে পরিচালক এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’–তে যা মুক্তির কথা রয়েছে ২০২৭ সালে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • নায়িকার শরীরে টিউমার, হাসপাতাল থেকে আবেগঘন বার্তা

    চিত্রনায়িকা শাহনূর বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে টিউমার ধরা পড়েছে। এমআরআই পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহনূর নিজেই।

    শাহনূর জানান, তাঁর প্যানক্রিয়াসে টিউমার শনাক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের জুইশ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দু–এক দিনের মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    শাহনূর
    শাহনূর, ছবি : সংগৃহীত

    এ পরিস্থিতিতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি একজন ক্ষুদ্র মানুষ—কথা, কাজ বা ব্যবহারে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৬ বছরের অভিনয়জীবনে নিজের জন্য কিছু না করে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা, বৃদ্ধাশ্রমের বাবা–মায়েদের পাশে থাকা—এসব কাজেই তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বলে জানান।
    শাহনূর আরও লেখেন, জীবনে কখনো নিজের জন্য ফ্ল্যাট বা দামি গাড়ি কেনেননি। তাঁর বিশ্বাস, ধনসম্পদ মৃত্যুর পর সঙ্গে যায় না; মানুষের জন্য করা কাজ ও তাদের দোয়াই শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকে। তাই এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

    একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত মুখ হলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত শাহনূর। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।

  • নিউক্যাসলকে উড়িয়ে ফাইনালে ম্যানসিটি

    ইংলিশ ফুটবল লিগ কাপের সেমিফাইনালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এই ম্যাচে একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে সিটিজেনরা।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে নিউক্যাসলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা। ওমার মার্মাউশের জোড়া গোলের পর প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান টিজানি রেইন্ডার্স। বিরতির পর নিউক্যাসলের গোলটি করেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা।

    ২০২১ সালে প্রতিযোগিতাটিতে নিজেদের অষ্টম শিরোপা জয়ের পর এই প্রথম ফাইনালে উঠল সিটি। আগামী ২২ মার্চ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ে গুয়ার্দিওলার দল খেলবে আর্সেনালের বিপক্ষে।

    ঘরের মাঠে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সিটি। সতীর্থের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মার্মাউশ। তিনি শট নেওয়ার মুখে স্লাইডে চ্যালেঞ্জ জানান প্রতিপক্ষের একজন, তবে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ায় জালে।

    ২৯তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান বাড়ান মার্মাউশ। বাঁ দিক থেকে অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর ক্রস গোলমুখে নিউক্যাসল ডিফেন্ডার কিরান ট্রিপিয়ার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে হেডে জালে পাঠান মিশরীয় ফরোয়ার্ড।

    প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে ৩২তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে স্বাগতিকরা। বক্সের ভেতর থেকে নিচু শটে গোলটি করেন ডাচ মিডফিল্ডার রেইন্ডার্স। দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৫-০ গোলে এগিয়ে সিটি।

    দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো খেলে নিউক্যাসল। ৬২তম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান কমান এলাঙ্গা। ডান দিকে সিটির দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে আরেকজনের বাধা এড়ান তিনি, এরপর দূরের পোস্ট দিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা।

    পরের কয়েক মিনিটে আরও কিছু সুযোগ পায় সফরকারীরা; কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে সেমেনিওর বদলি নামা আর্লিং হলান্ড শেষ দিকে গোল পেতে পারতেন। কিন্তু এই তারকা স্ট্রাইকারের দুটি শট ব্যর্থ করে দেন নিউক্যাসল গোলরক্ষক।

     

  • নিউজিল্যান্ড: ৩৬.৩ ওভারে ১৪৫/৫ অবশেষে নিক কেলি থেকে মুক্তি মিলল বাংলাদেশের। শরীফুলকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। থামল কেলির ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস। ১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড। নতুন ব্যাটসম্যান জশ ক্লার্কসন, আগে

    নিউজিল্যান্ড: ৩৬.৩ ওভারে ১৪৫/৫

    অবশেষে নিক কেলি থেকে মুক্তি মিলল বাংলাদেশের। শরীফুলকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। থামল কেলির ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস।

    ১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড। নতুন ব্যাটসম্যান জশ ক্লার্কসন, আগে থেকে আছেন ডিন ফক্সক্রফট।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব