• জয়ার ‘প্রথম’ থেকে কেয়ার টোলরহস্য

    কেউ এসেছিলেন একা, কেউ সপরিবার। লালগালিচায় তারকাদের টুকরা গল্প নিয়ে এই আয়োজন।

    প্রথম অতিথি
    ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৪টা ২০ মিনিট। লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

    [caption id="attachment_272411" align="alignnone" width="622"] লালগালিচার প্রথম অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।[/caption]

    ‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস
    স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র বিভাগে এবার সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ। আলোচিত ‘তোমাদের গল্প’র জন্য এ পুরস্কার পান তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করে ‘অচল’ গল্পে বিশ্বাস রাখার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই তাঁর লেখা নিতে চাইতেন না। তিনি বলতেন, ‘অচল গল্প’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ‘অচল গল্প’ দিয়েই পুরস্কার জিতলেন!

    [caption id="attachment_272410" align="alignnone" width="622"] ‘জিম্মি’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছে জয়া আহসান।[/caption]

    এত দিন পরে প্রথম
    ঢাকা আর কলকাতা মিলিয়ে অনেক সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। অথচ তিনিই কিনা প্রথমবারের মতো জিতলেন পুরস্কার! অবাক হবেন না, জয়া প্রথমবার মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার পাননি; পেয়েছেন প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে। গত বছর আশফাক নিপুনের ‘জিম্মি’ দিয়ে সিরিজে অভিষেক, আর সেটা দিয়েই জয়া জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। পুরস্কার নিতে নির্মাতা আশফাক নিপুনকে নিয়েই মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।

    কন্যার জন্য কন্যা
    গত বছর কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন ইমরান মাহমুদুল। এবার তিনি ‘জ্বীন–৩’ সিনেমার গান ‘কন্যা রে’র জন্য পেয়েছেন সেরা গায়কের পুরস্কার। মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করে ইমরান বলেন, ‘“কন্যা রে” গানের জন্য পুরস্কার পেলাম, গত বছর আমিও কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছি।’

    [caption id="attachment_272412" align="alignnone" width="622"] কেয়া পায়েল।[/caption]

    টোলরহস্য
    মঞ্চে তখন কেয়া পায়েল। এবার এটা ‘আমাদেরই গল্প’র জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন তিনি। সঞ্চালক নিশো মজা করে বলেন, আগে কেয়ার টোল ছিল একটা, পরে হয়ে গেল দুইটা। কেয়ার টোলরহস্য জানতে চান। মজা করে কেয়াও উত্তর দেন, ‘দুই গালে টোল, লল লল লল।’

  • জয়ে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের মেয়েদের

    নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো শুরু করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে আজ ১ নম্বর গ্রুপের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে ৮ উইকেটে ১৩৯ রান করে ডাচরা। সেই লক্ষ ৫ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ নারী দল। জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫০ রান। ৩৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় এই রান করেছেন বাংলাদেশ ওপেনার।

    দিলারা আক্তারের সঙ্গে জুয়াইরিয়ার ৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটিই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ৭.৫ ওভারেই এই রান করেছেন তাঁরা। জুটির ৫০ রানই এসেছে জুয়াইরিয়ার ব্যাট থেকে। অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যারোলিনা ডি ল্যাঙ্গার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে জুয়াইরিয়ার বিদায়ের ঠিক পরের বলেই আউট হয়ে যান অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

    ২৩ বলে ২৬ রান করে ওপেনার দিলারা যখন ফিরলেন, বাংলাদেশের স্কোর ১০.২ ওভারে ৭৯/৩। পরের ওভারে সোবহানা মোস্তারিও (১০ বলে ৪) ফেরার পর স্কোরটা হয়ে যায় ৮৫/৪।

    দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পর শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার
    দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পর শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারএএফপি

    এরপর স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান শারমিন আক্তার। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ ও স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

    এর আগে ডাচ মেয়েদের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন অধিনায়ক বাবেটা ডি লিডি। বাংলাদেশের পেসার মারুফা আক্তার ৩১ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। বুধবার হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নেদারল্যান্ডস: ২০ ওভারে ১৩৯/৮ (ডি লিডি ৫০, সিগার্স ১৬; মারুফ ২/৩১, রিতু ১/১৭, রাবেয়া ১/২৬, সানজিদা ১/২৯, ফারিহা ১/৩২)।
    বাংলাদেশ: ১৯.১ ওভারে ১৪১/৪ (জুয়াইরিয়া ৫০, শারমিন ৩৭*, দিলারা ২৬, স্বর্ণা ১৮*; ডি ল্যাঙ্গা ২/২৭)।
    ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
    প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: জুয়াইরিয়া ফেরদৌস।
  • ঝুঁকি এড়াতে ৪ দেশের তেলে ঝুঁকছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    চট্টগ্রাম

  • টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজি

    পিএসজি ১–১ আর্সেনাল (টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে জয়ী পিএসজি)

    চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও যে ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে হতে পারে, সেটি এত দিনে হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন অনেকে। সেই ২০১৬ সালে মিলানে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেতিকো মাদ্রিদের ফাইনাল অতিরিক্ত আধা ঘণ্টা পেরিয়ে টাইব্রেকারে গিয়ে শেষ হয়েছিল।

    এক দশক পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আজ আবারও দেখল ৯০ মিনিট পার হতে, দেখল টাইব্রেকারও। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।

    টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।

    শিরোপা ধরে রাখতে বেশ ঘামই ঝরাতে হয়েছে পিএসজিকে। ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।

    কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল
    কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনালএএফপি

    পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।

    প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পিএসজির লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।

    পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে
    পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলেএএফপি

    এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।

    আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।

  • টাইব্রেকারে ভারতকে কাঁদিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    দুর্দান্ত লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার(৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হয় টাইব্রেকারের পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভানের সফল কিকে।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ভারত। তবে বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কিংবা গোলরক্ষক মাহিনকে খুব বেশি চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে।

    দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট পর মাঠে নামানো হয় রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলানকে। নিজের প্রান্ত ধরে কয়েকটি কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দূর থেকে ভাই রোনানের উদ্দেশে দারুণ একটি পাসও বাড়ান ডেকলান। ভারতের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বল পেয়ে শট নেন রোনান, তবে ভারতীয় গোলরক্ষক এগিয়ে এসে তা প্রতিহত করেন।

    মালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী সমর্থক। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে প্রাণভরে সমর্থন জানান।

    বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই টুর্নামেন্টে একই গ্রুপে ছিল। ফলে একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কে ছিল ভালো ধারণা। এ কারণে বাংলাদেশের আক্রমণের অন্যতম ভরসা রোনান সুলিভানকে শুরু থেকেই কড়া নজরদারিতে রাখে ভারত। তারপরও নিজের দক্ষতায় একাধিক শট নিয়ে ভারতীয় রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন তিনি।

    ম্যাচজুড়ে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও দুইবার বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি, তবু বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। অপরদিকে বাংলাদেশও প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

    শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে বাংলাদেশ।

     

  • টাইমস স্কয়ারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া সমর্থকদের মারামারি

    মাঠে নামার আগেই মারামারি

    বিশ্বকাপের মাঠের উত্তাপ এবার ছড়াল নিউইয়র্কের রাস্তায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার আগেই মারামারিতে জড়ালেন আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সমর্থকেরা। আজ নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটনের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

     

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরা একদল সমর্থকের সঙ্গে আলজেরিয়ার জার্সি পরিহিত সমর্থকদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হচ্ছে। ‘ব্রুট অফিশিয়াল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করা হয়, যা পরে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।

  • টানা তিন দিন কমল সোনার দাম, আজ ভরিতে ২,১৫৮ টাকা

    দেশের বাজারে আজ আবারও কমেছে সোনার দাম। এ নিয়ে টানা তিন দিন সোনার দাম কমল। আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    এর আগে গতকাল বুধবার ও তার আগের দিন মঙ্গলবার সোনার দাম কমানো হয়। গত তিন দিনে সোনার দাম কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা। এর সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।

    আজ মূল্যহ্রাসের আগপর্যন্ত দাম ছিল এ রকম: ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা; ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৪ টাকা; সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ টাকা।

    মূলত বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাসের কারণে সোনার দাম কমানো হয়েছে। গোল্ডপ্রাইস ডটকমের তথ্যানুযায়ী, আজ এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৬১৩ ডলার। আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লেও গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ২৩৭ ডলার ৮৯ সেন্ট।

    ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। এর কারণ হলো, সোনার দাম এমনিতেই বাড়তি। ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    এদিকে আজ রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

    গত জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এর প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

  • টানা পঞ্চম লিগ শিরোপা পিএসজির, ইন্টারের ‘ডাবল’

    টানা পঞ্চম লিগ শিরোপা জিততে ড্র যথেষ্ট ছিল। কিন্তু লেঁসের মাঠে গতকাল রাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি নয়, পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে পিএসজি। লেঁসকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। এ জয়েই লিগ আঁ জয় নিশ্চিত করেছে লুইস এনরিকের দল।

    ৩৩ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি। সমান ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে লেঁস। দুই দলই আর একটি করে ম্যাচ খেলবে। লেঁস তাদের শেষ ম্যাচে জিতলেও ৯ পয়েন্টের এ ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব নয়।

    লিগ আঁ থেকে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ডটি আগেই গড়েছে পিএসজি। এবার ১৪তম শিরোপা জিতে সেই রেকর্ডই আরও উঁচুতে নিয়ে গেল লুইস এনরিকের দল। স্প্যানিশ কোচ এনরিকে ২০২৩ সালে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁদের তৃতীয় লিগ শিরোপা। ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ ও লিগজয়ী পিএসজির এ মৌসুমে ‘ট্রেবল’ জয়ের সুযোগও আছে। ৩০ মে বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এনরিকের দল। ফরাসি ক্লাবটি এই মৌসুমে ফ্রেঞ্চ ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও উয়েফা সুপার কাপও জিতেছে।

    ফরাসি ফুটবলে আধিপত্য ধরে রেখেছে পিএসজি। গতকাল রাতে লেঁসের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়দের উল্লাস
    ফরাসি ফুটবলে আধিপত্য ধরে রেখেছে পিএসজি। গতকাল রাতে লেঁসের বিপক্ষে জয়ের পর খেলোয়াড়দের উল্লাস,এএফপি
     

    পিএসজির জেতা ১৪ লিগ শিরোপার মধ্যে সর্বশেষ ১৪ বছরে এসেছে ১২টি শিরোপা। কাতারি ধনকুবের নাসের আল খেলাইফির মালিকানায় আসার পর এ সাফল্য পেয়েছে পার্ক দে প্রিন্সেসের ক্লাবটি। ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা সাতবার লিগ জিতেছে লিঁও। টানা পাঁচবার লিগ জিতে পিএসজি এ তালিকায় দ্বিতীয় সেরা।

    গত সপ্তাহেই লিগ শিরোপা একপ্রকার নিশ্চিত করে রেখেছিল লুইস এনরিকের দল। ব্রেস্তকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেঁসের চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। হাতে মাত্র দুই ম্যাচ বাকি থাকা এবং গোল ব্যবধানে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পিএসজির শিরোপা জয় ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।

    লেঁসের মাঠে ২৯ মিনিটে গোল করেন পিএসজি উইঙ্গার খিচা কাভারাস্কেইয়া। ৯৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ের। জয়ের পর সম্প্রচারক চ্যানেল বিইন স্পোর্টসকে পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলে বলেন, ‘আমরা জিততে এসেছিলাম। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য ৩০ মের ফাইনালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। আগামী রোববার (প্যারিস এফসির বিপক্ষে) আমাদের আরও একটি ম্যাচ আছে। আমরা এই শিরোপা উদ্‌যাপন করব; কারণ, এখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবেই চ্যাম্পিয়ন।’

    ইতালিয়ান কাপের ট্রফি হাতে ইন্টার মিলানের খেলৈায়াড়রা
    ইতালিয়ান কাপের ট্রফি হাতে ইন্টার মিলানের খেলৈায়াড়রা, এএফপি

    ইন্টার মিলানের ‘ডাবল’

    রোমে গতকাল রাতে লাৎসিওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতালিয়ান কাপ জিতেছে ইন্টার মিলান। ১৪ মিনিটে লাৎসিও রাইটব্যাক অ্যাডাম মারুসিচের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার। ৩৫ মিনিটে ইন্টারের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ।

    এর আগে ২১তম লিগ জয় নিশ্চিত করে ইন্টার। ২০১০ সালের পর এই প্রথম এক মৌসুমে কাপ ও লিগ জিতল তারা। জোসে মরিনিওর অধীনে ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ, সিরি ‘আ’ ও কাপ জিতেছিল ইন্টার।

    জয়ের পর ইন্টারের কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভু বলেন, ‘চমৎকার একটি মৌসুমে এই ট্রফিগুলো আমাদের প্রাপ্য ছিল। লিগ ও কাপ—একই সঙ্গে দুটি জেতা সহজ কথা নয়। আমরা দারুণ খুশি।’

  • টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার এইটের পাঁচ দল নিশ্চিত, বাকিদের সামনে কী হিসাব

    পরশু প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ‘সি’ গ্রুপের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠে ‘এ’ গ্রুপের ভারত। কাল শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কারও। সুপার এইটের অন্য তিনটি দল কারা হবে, কোন দলের কেমন সম্ভাবনা, কোন দলকে কী করতে হবে—

    গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ভারত ৩.০৫০
    যুক্তরাষ্ট্র ০.৭৮৮
    পাকিস্তান -০.৪০৩
    নেদারল্যান্ডস -১.৩৫২
    নামিবিয়া -২.৪৪৩

    ভারত

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    পাকিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: নামিবিয়া (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নামিবিয়াকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। হেরে গেলে বাদ পড়তে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র

    হাতে কোনো ম্যাচ নেই।

    পাকিস্তান শেষ ম্যাচে হারলেই টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দলটি।

    নেদারল্যান্ডস

    হাতে থাকা ম্যাচ: ভারত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    ভারতকে হারাতেই হবে। এরপর আসবে অন্য হিসাব। নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনা কম।

    নামিবিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: পাকিস্তান (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘বি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    শ্রীলঙ্কা ২.৪৬২
    জিম্বাবুয়ে ১.৯৮৪
    অস্ট্রেলিয়া ০.৪১৪
    আয়ারল্যান্ড ০.১৫০
    ওমান -৪.৫৪৬

    শ্রীলঙ্কা

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    জিম্বাবুয়ে

    হাতে থাকা ম্যাচ: আয়ারল্যান্ড (আজ), শ্রীলঙ্কা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে।

    অস্ট্রেলিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওমান (২০ ফেব্রুয়ারি)

    ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই বাদ অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচ হারলে, শেষ ম্যাচে নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।

    আয়ারল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (আজ)

    শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।

    ওমান

    হাতে থাকা ম্যাচ: অস্ট্রেলিয়া (২০ ফেব্রুয়ারি)

    কোনো সুযোগ নেই ওমানের।

    গ্রুপ ‘সি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১.৮২০
    ইংল্যান্ড ০.২০১
    স্কটল্যান্ড ০.৩৫৯
    ইতালি -০.৫৮৮
    নেপাল -১.৯৪২

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    ইংল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৬ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    স্কটল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    ইতালি

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    নেপাল

    হাতে থাকা ম্যাচ: স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    নেপাল বাদ পড়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘ডি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১.৪৭৭
    নিউজিল্যান্ড ০.৭০১
    আফগানিস্তান -০.২১৫
    আরব আমিরাত -০.৭৯৭
    কানাডা -১.৫২৬

    দক্ষিণ আফ্রিকা

    হাতে থাকা ম্যাচ: সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইটে উঠে গেছে।

    নিউজিল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    আজ শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারালেই সুপার এইটে কিউইরা। না পারলে যদি-কিন্তুর মধ্যে পড়ে যাবে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত

    হাতে থাকা ম্যাচ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আমিরাত।

    আফগানিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আফগানরা।

    কানাডা

    হাতে থাকা ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি), আফগানিস্তান (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে আমিরাতের ফলের দিকে।

  • টি-টুয়েন্টি সিরিজ ৩ রানে হেরে ধবলধোলাই বাংলাদেশের মেয়েরা

    ৮৮ রানের লক্ষ্য। তবে সেটি ছুঁতে যদি হাতে থাকে ৯ ওভার, তবে লক্ষ্যটাকে বড় বলতেই হবে। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের জন্য লক্ষ্যটা বড় তো বটেই। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে কখনোই ১৫০ রানের বেশি লক্ষ্য ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ সিলেটে আজ ৮৮ রানের লক্ষ্যটাও ছুঁতে পারেনি।

    আশা জাগিয়েও আজ ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরেই তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে নিগার সুলতানার দল। বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হয়ে ৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬ উইকেটে ৮৭ রান। রান তাড়ায় সমান ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ৮৪ রানে।

    আজকের হারের গল্পটাও আগের দুই ম্যাচের মতোই। প্রথম দুই ম্যাচেও রান তাড়া করতে হয়েছিল নিগারদের। ওই দুই ম্যাচেই ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দেওয়ার পরও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ২৫ ও ২১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

    আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল
    আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল, বিসিবি

    আজ অবশ্য জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তারের উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। ১.২ ওভারে ১৩ রান তোলার পর দিলারার বিদায়ে ভাঙে জুটি। জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারির দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০ বলে ৩০ রান যোগ করার পর জুয়াইরিয়ার (১১ বলে ১৫) বিদায়ে ভাঙে জুটি।

    এরপর পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি। ষষ্ঠ ওভারে সোবহানা (১৫ বলে ২১ রান) যখন ফিরলেন ২০ বলে বাংলাদেশের দরকার ৩২ রান। এরপর স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মণিও ফিরে যাওয়ার পর শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের ভরসা হয়ে টিকে থাকা অধিনায়ক নিগার চামারি আতাপাত্তুর করা ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। সুলতানা খাতুন পরের তিন বলে ২টি ডাবলস ও ১টি চার মেরে জয়টাকে হাতের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু আতাপাত্তুর অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়। পঞ্চম বলে মাত্র ১টি রানই নিতে পারেন সুলতানা। শেষ বলে ৫ রান দরকার, শারমিন সুলতানা নিতে পারলেন মাত্র ১ রানই।

    ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, ছবি: টুইটার
     

    ১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার আতাপাত্তু বল হাতেও ছিলেন দলের সেরা। ব্যাটিং উদ্বোধন করে ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

    বাংলাদেশের অফ স্পিনার সুলতানা খাতুন ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    শ্রীলঙ্কা: ৯ ওভারে ৮৭/৬ (আতাপাত্তু ৪১, দুলানি ১৯, দিলহারি ১৫; সুলতানা ৩/৮, সানজিদা ১/১৬)।
    বাংলাদেশ: ৯ ওভারে ৮৪/৬ (সোবহানা ২১, জুয়াইরিয়া ১৫, নিগার ১৩; আতাপাত্তু ২/১৫, সুগান্দিকা ২/২২)।
    ফল: শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।
    সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৩-০-তে জয়ী।
    প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: চামারি আতাপাত্তু।
  • টি-ব্যাগের ছোঁয়ায় আর্সেনিকমুক্ত হবে পানি

    পৃথিবীর বুকে মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় উপাদান হলো বিশুদ্ধ পানি। কিন্তু এই পানির বুকেই যখন বিষাক্ত আর্সেনিক লুকিয়ে থাকে, তখন তা মানব সভ্যতার জন্য এক নীরব মহাবিপর্যয় ডেকে আনে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে আর্সেনিকযুক্ত দূষিত পানি পানের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। বড় বড় আধুনিক পানি শোধনাগারগুলো পানি থেকে আর্সেনিক দূর করতে পারলেও, দরিদ্র ও অনুন্নত অঞ্চল কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার সমস্যা থেকেই যায়। এবার বিশেষ ধরনের টি-ব্যাগের মাধ্যমে পানি থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি আর্সেনিক সফলভাবে দূর করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিক টান নামের এক শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের কেমিক্যাল সোসাইটির বিজ্ঞান সাময়িকী এসিএস ওমেগাতে প্রকাশিত এই গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষের পানের জন্য প্রতি লিটার পানিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিকের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু মাটির নিচের খনিজ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে কিংবা খনি খননের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা এই সীমার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। সাধারণত এই বিষ দূর করতে রিভার্স অসমোসিসের মতো অত্যন্ত উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ও ব্যয়বহুল ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো যেসব অঞ্চলে বড় বড় পানি শোধনাগার নেই, সেখানে আর্সেনিকের প্রকোপ অনেক বেশি। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় ভুগছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসার ও শিশুদের মানসিক বিকাশের মতো নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই চরম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানী অ্যাডাম ব্রাউনশগের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করার সময় ভিক টান আর্সেনিক দূর করার সহজ একটি পদ্ধতির কথা জানান, যা মূলত এক কাপ চা বানানোর মতোই সহজ।

    নিজের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের বিষয়ে ভিক টান বলেন, বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার বিষয়টি কোনো দামি বা বড় অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আমাদের এই গবেষণা প্রমাণ করে খুব সাধারণ এবং কম খরচের উপাদানগুলোকেও বৈজ্ঞানিক উপায়ে উন্নত করে পানি থেকে আর্সেনিক দূর করার মতো বড় ও মাপযোগ্য সমাধানে রূপ দেওয়া সম্ভব। এটি বিশ্বের অন্যতম জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকটের একটি সহজ সমাধান।

    বিজ্ঞানীরা আগেই আবিষ্কার করেছিলেন, চা তৈরির প্রক্রিয়া চলাকালীন পানির ভেতরে থাকা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতুগুলো স্বাভাবিকভাবেই টি-ব্যাগের গায়ে আটকে যায়। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে ভিক টান এবং অন্য বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার উপযোগী একটি টি-ব্যাগের নকশা করেন। এরপর তাঁরা চুম্বকীয় আয়রন অক্সাইড ন্যানোকণা এবং গুঁড়া করা ডিমের খোসা দিয়ে পূর্ণ করেন টি-ব্যাগটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই দুটি উপাদানই পানি থেকে আর্সেনিক শুষে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। ফলাফল ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। মাত্র একটি টি-ব্যাগ পানি থেকে অন্তত ৯০ শতাংশ আর্সেনিক আয়রন দূর করতে পেরেছে। ৬ ঘণ্টার একটি বিশেষ পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি ৫০ মিলিলিটার দূষিত পানি থেকে ৯৮ শতাংশের বেশি আর্সেনিক টেনে নিয়েছে।

    বাংলাদেশের নলকূপে পাওয়া আর্সেনিকযুক্ত পানির নমুনার মতো তৈরি একটি বিশেষ মিশ্রণে টি–ব্যাগটির পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, টি-ব্যাগটি পানির আর্সেনিককে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। একটি ব্যবহৃত টি-ব্যাগ ফেলে না দিয়ে সেটিকে আবার পরিষ্কার করে, ক্ষারীয় দ্রবণে ধুয়ে ও শুকিয়ে নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচবার পর্যন্ত পুনরায় ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিবার ব্যবহারের পর এর আর্সেনিক দূর করার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ করে কমতে থাকে। এই টি-ব্যাগের সাহায্যে মাত্র এক লিটার পানি সম্পূর্ণ আর্সেনিকমুক্ত করতে খরচ হয় মাত্র ৭ সেন্ট। এটি রিভার্স অসমোসিসের মতো দামি প্রযুক্তির তুলনায় অনেক কম সাশ্রয়ী।

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কাজ একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার নতুন এবং সহজ সমাধান প্রদর্শন করে। তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো এই উদ্ভাবনকে আরও উন্নত করে দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া।  বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম আর্সেনিকপ্রবণ অঞ্চল। ডিমের খোসা এবং আয়রন অক্সাইডের মতো সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই টি-ব্যাগ প্রযুক্তি যদি এ দেশের গ্রামীণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে খুব সহজেই ঘরে ঘরে প্রতিদিনের খাবার পানিকে শতভাগ নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

    সূত্র: ফিজিস

    জাহিদ হোসাইন খান

  • টিকার বয়সের আগেই হাম হচ্ছে শিশুদের, এই বয়সী শিশুর সুরক্ষায় কী করবেন

    হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর। সাম্প্রতিক সময়ে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরও হাম হচ্ছে। তাতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। এই ছোট্ট শিশুদের সুরক্ষায় কী করা উচিত, সে সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের সব শিশুকে হামের টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়ে থাকে। ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণত এ টিকা দেওয়া হয় না। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।

    খুব কম বয়সী শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কম থাকে। এই বয়সে হামের মতো জীবাণুর সংক্রমণে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই।

    কেন ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না

    একজন মানুষ হামের টিকা নিয়ে থাকলে কিংবা কখনো হামের জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়ে থাকলে তাঁর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি হামের জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একজন নারীর দেহে এই অ্যান্টিবডি থেকে থাকলে তাঁর গর্ভে আসা সন্তানের দেহেও এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

    জন্মের পর বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত এই অ্যান্টিবডি ওই শিশুকে হামের জীবাণু থেকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু এই সময়ে শিশুকে যদি হামের টিকা দেওয়া হয়, তাহলে মায়ের থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির কারণে টিকা আর কার্যকর হবে না। অর্থাৎ পরবর্তী জীবনে শিশুটি হামের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণেই এই টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর।

    তবে সংক্রমণ হতে পারে

    যখন কোনো এলাকায় হামের জীবাণুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন ৯ মাসের কম বয়সী কিছু শিশুও হামে আক্রান্ত হতে পারে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে—

    • প্রতিটি শিশুর মা যে হামের টিকার সব কটি ডোজ পেয়েছেন কিংবা হামের জীবাণু দিয়ে কখনো সংক্রমিত হয়েছেন, তা নয়। তাই সব মায়ের দেহে অ্যান্টিবডি থাকে না। তা ছাড়া টিকা দেওয়া হলেও সবার দেহে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না-ও হতে পারে। তাই মায়ের কাছ থেকে সব শিশু অ্যান্টিবডি না-ও পেতে পারে।

    • সব শিশুর দেহেই যে একই বয়স পর্যন্ত তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি রয়ে যাবে, তা–ও শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না।

    • ভিটামিন এ–এর ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কমে যায়। পুষ্টিহীনতায় ভোগা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল না খাওয়ানোর কারণে হামসহ বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    যেভাবে সুরক্ষিত থাকবে ছোট্ট শিশু

    শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো
    শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালোছবি: সাজিদ হোসেন

    ৯ মাসের কম বয়সী শিশুকে এই বিপর্যয়ের সময় সুরক্ষিত রাখতে খেয়াল রাখুন এসব বিষয়—

    • শিশু ও শিশুর ব্যবহার্য সামগ্রী স্পর্শ করার আগে দুই হাত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।

    • খুব প্রয়োজন না হলে শিশুকে বাসার বাইরে নেবেন না।

    • বাসার কারও জ্বর বা র‍্যাশ হলে তাকে আলাদা ঘরে রাখুন। বিশেষ প্রয়োজনে শিশুর ঘরে যেতে হলে ওই ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

    • নিয়মমাফিক মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাস বয়স পূর্ণ হলে ভিটামিন এ–সমৃদ্ধ খাবারসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শুরু করতে হবে।

    • শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

     

    টিকাও প্রয়োজন হতে পারে

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়
    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ছবি: মং হাই সিং মারমা
    • এলাকায় সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা ওই এলাকার বাসিন্দাদের সেই পরামর্শও দেবেন।

    • যেসব নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, তাঁদের যদি হামের টিকার দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে না থাকে কিংবা কখনো হাম হওয়ার ইতিহাস না থাকে, তাহলে তাঁদের হামের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে গর্ভধারণ করলে শিশু নিরাপদ থাকবে।

    উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

    হামের উপসর্গ দেখা দিলে ওই শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুততম সময়ে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও ডোজ না জেনে ছোট শিশুকে সেবন করানোর সুযোগ নেই। মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

    ডায়রিয়া, বারবার বমি হওয়া, কান পাকা (কান থেকে পুঁজ বা পানি পড়া), শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে দেরি করবেন না।

  • টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

    গত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ কে এম অলি উল্যাকে।

    কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার
    জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার
     

    এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হয়েছে সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে আইসিসির কাছে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল বিসিবি। তবে আইসিসি সে অনুরোধ না রাখায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেন, নিরাপত্তার কথা ভেবে এটা ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত।

    এর আগে কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাদের ওই সিদ্ধান্তের পরই ভারতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বোর্ড, তবে সেটি বিবেচনায় নেয়নি আইসিসি।

    গত মার্চে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঘটনা তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করা হলো।

  • টেঙাভাঙা গীদ

    চাকমা রাজার সৌজন্যে চাকমা রাজবাড়িতে বিভিন্ন দেশের রাস্ট্রদূত, মং রাজা ও পার্বত্যমন্ত্রীকে নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চাকমা মারমা তঞ্চঙ্গ্যা জাতির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উপকৃরণ পরিবেশন করা হয়। টেঙাভাঙা গীদ পরিবেশন করেন অনন্ত রঞ্জন চাকমা ও পার্কি চাকমা। প্রযোজনা- চাকমা রীদি সুদোম যদা

  • টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় পৌঁছালো পাকিস্তান ক্রিকেট দল

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

    রোববার (৩ মে) সকালে দলের প্রথম বহর ঢাকায় পা রেখেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগার মতো তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া প্রথম বহরটি এখন রাজধানীতে। তবে প্রথম ভাগে দলের সাথে দেখা যায়নি বাবর আজমকে।

    পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আজ ফাইনাল থাকায় দলের বেশ কিছু সিনিয়র সদস্য এবং বাবর আজম প্রথম ভাগে আসতে পারেননি। পিএসএলের ব্যস্ততা শেষ করে দ্বিতীয় দফায় তাদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

    পিসিবি ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে এবার বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন নতুন মুখ। অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি।

    ১৬ সদস্যের পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।

    উল্লেখ্য, দুই ম্যাচের এই সিরিজটি মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দ'দল।

     

  • ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী বললেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান’

    যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প–সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী জেন ফন্ডা। গত শুক্রবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফরমিং আর্টসের  সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান—‘নীরবতা ভাঙুন’ এবং ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান’।

    শুক্রবার বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার মধ্যেও শতাধিক সাংবাদিক, শিল্পী ও লেখক এই সমাবেশে অংশ নেন। জেন ফন্ডার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে আসে বই নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নানা হুমকির অভিযোগ।

    শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন্ডা বলেন, দেশে বই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর স্মারক সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং শিল্প–সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    ফন্ডা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এসব প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি এখন এমন কিছুর প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা পুরো দেশে ঘটছে।’

    জেন ফন্ডা। রয়টার্স

    কেন কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে প্রতিবাদ
    এই সমাবেশের স্থান হিসেবে কেনেডি সেন্টার বেছে নেওয়া ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ‘অপছন্দনীয়’ বা তথাকথিত প্রগতিশীল কর্মসূচিগুলো সীমিত করার চেষ্টা করছে।

    ফন্ডা বলেন, শিল্পীরা আদর্শিক চাপের কাছে নতিস্বীকার না করায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এমনকি সংস্কারের অজুহাতে এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    গণমাধ্যম ও করপোরেট প্রভাব
    সমাবেশে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক চাপ ও করপোরেট মালিকানার প্রভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    বক্তারা বলেন, বড় বড় করপোরেশন গণমাধ্যম কিনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইছে, যার ফলে ভিন্নমত বা সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

    বই নিষিদ্ধ ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ
    লেখক ও শিল্পীরা অভিযোগ করেন, শত শত বই স্কুল লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের চিন্তার স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
    একজন লেখক প্রশ্ন তোলেন, ‘যে বইগুলো সরানো হচ্ছে, সেগুলো কি সত্যিই বিপজ্জনক—নাকি আমরা ভিন্নমতের ভয় পাচ্ছি?’

    ইতিহাসের প্রতিধ্বনি

    সমাবেশে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশকের ম্যাককার্থিজমের সময় যেমন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা টানেন বক্তারা।
    তাঁদের মতে, শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ।

    শেষ বার্তা
    সমাবেশের শেষে জেন ফন্ডা সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ এখনই প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যম আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সেন্সরশিপ বাড়বে এবং সমাজে মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হবে।
    তাঁর কথায়, ‘ভয় ছড়িয়ে পড়লে নীরবতা তৈরি হয়। আর সেই নীরবতাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এখনই সময় কথা বলার।’

  • ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

    ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    ৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

    এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

    বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

    ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

    বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

    প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

    আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

    ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

    এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

    এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

    বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

  • ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: ঢাকা-মার্কিন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইবে সরকার

    ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

    ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

    আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

    এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

    মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

    সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

    উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

    এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

     

  • ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি স্যামসাং, কর্মীরা আরও বোনাস চান

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক উত্থানের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই করপোরেশন চলতি বছরে এক ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সিউলের শেয়ারবাজারও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাজার হয়ে উঠেছে।

    তবে দেশটির একটি অংশ এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা আর কেউ নন, তাঁরা হলেন স্যামসাংয়ের শ্রমিকেরা। কয়েক হাজার কর্মী ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই কর্মবিরতি হলে এমন এক সময়ে মেমোরি চিপ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারত, যখন এআই শিল্পে এসব চিপের চাহিদা তুঙ্গে।

    বৃহস্পতিবার ধর্মঘট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো জানায়, তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই চুক্তি এখনো ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটে অনুমোদন পেতে হবে, বিষয়টিকে স্যামসাং কর্মীদের জন্য প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির রেকর্ড মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও বোনাস বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

    এ সমঝোতার ফলে আপাতত কোম্পানির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘট এড়ানো গেছে। ১৮ দিনব্যাপী সম্ভাব্য এই কর্মসূচিতে ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী অংশ নিতেন—দক্ষিণ কোরিয়ায় স্যামসাংয়ের মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের অধিকাংশ মেমোরি চিপ বিভাগে কাজ করেন। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো প্রযুক্তি জায়ান্টের এআই হার্ডওয়্যারে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এসব চিপ।

    উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প—উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক ছিল। গত বছর স্যামসাংয়ের আয় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিনটি প্রধান মেমোরি চিপ নির্মাণকারী কোম্পানির একটি। এমন সময় এই শিল্পে সরবরাহসংকট চলছে, যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বিশ্বজুড়ে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক রোববার বলেন, ‘স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যেকোনো বিঘ্ন শুধু একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।’

    এদিকে এআই প্রযুক্তির উত্থান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের চাকরি কাঠামো পাল্টে দেবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার মেটা প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই ও পুনর্বিন্যাস করেছে। লক্ষ্য—এআই খাতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করা। এ বছর লিংকডইন, অ্যামাজন ও স্ন্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানও এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

    রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস
    রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসছবি: রয়টার্স

    এআই মুনাফার বড় অংশ চাইছেন কর্মীরা

    গত মাসে স্যামসাং ঘোষণা দেয়, তাদের রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক মুনাফা হয়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ৮ দশমিক ৫ গুণের বেশি বেড়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের পুরো বছরের পরিচালন মুনাফাও ছাড়িয়ে গেছে এই আয়।

    এখন সেই মুনাফার বড় অংশ নিজেদের জন্য চাইছেন কর্মীরা।

    ইউনিয়নের দাবি, বার্ষিক বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যে বোনাস সীমা, সেটা তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে এবং এই সুবিধা শুধু চলতি বছর নয়, ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে হবে।

    স্যামসাংয়ের চিপ বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে বোনাস বৈষম্য তাঁদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সও চলতি বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বোনাস কাঠামো চালু করে, যেখানে মূল বেতনের এক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বোনাস সীমা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস তহবিলে বরাদ্দ করছে।

    নতুন কাঠামোর অধীন এসকে হাইনিক্সের কিছু কর্মী ২০২৫ সালে নিজেদের মূল বেতনের প্রায় ৩ হাজার শতাংশ সমপরিমাণ বোনাস পাবেন। কর্মীপ্রতি গড় বার্ষিক বোনাস দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ওন বা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার।

    স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন গত মাসে বিবৃতিতে বলেছিল, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন মেধা ধরে রাখার যুদ্ধে নেমেছে। এসকে হাইনিক্স ইতিমধ্যে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে পারিশ্রমিক কাঠামো পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের প্রকৌশলীদের আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছে।’

    বুধবারের প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে স্যামসাং বিদ্যমান বোনাসসীমা তুলে দিতে এবং সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের জন্য ব্যবসায়িক মুনাফার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে সম্মত হয়েছে।

    বুধবার বিবৃতিতে স্যামসাং বলেছে, ‘সমঝোতা হয়েছে প্রত্যাশিত সময়ের পরে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে জন্য আমরা আরও পরিণত ও গঠনমূলক শ্রম-ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করব।’ এই বিরোধ দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সম্পদ বণ্টন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবিষয়ক গবেষণা ও অধিকার সংগঠন ‘এনিওনইউনিয়ন’–এর প্রধান জো গিউন-জুন বলেন, এআইের উত্থান মাজে চরম বৈষম্যমূলক মেরুকরণ তৈরি করেছে।

    জো গিউন আরও বলেন, সমাজের একদিকে চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রম সুরক্ষা ছাড়া কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা কোম্পানির বিপুল মুনাফার কারণে নজিরবিহীন বোনাস পাচ্ছেন।

    সিএনএন

  • ট্রুকলারে কী করবেন, কী করবেন না

    এখন কল ধরার আগেই, এমনকি ফোন কাটার পরও একপলকেই জেনে নেওয়া যায় ওপাশের মানুষটির পরিচয়। ফোনের ওপারে কখনো কখনো প্রতারকও থাকে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে কল করে টাকা হাতিয়ে নেয়। ফোনের ওপারের সেই প্রতারকদের চেনাও এখন সহজ। এই সুবিধা দিতেই এক যুগের বেশি আগে যাত্রা শুরু করেছিল ট্রুকলার।

    আমাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। ডেস্কে ফাইলের স্তূপ, ল্যাপটপে জরুরি মেইল কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং। ঠিক তখনই পকেট বা ব্যাগের ভেতর বেজে উঠল স্মার্টফোনটি। স্ক্রিনে ভেসে উঠল অচেনা এক নম্বর। এই ব্যস্ত সময়ে কলটি কেটে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু মিটিং শেষে যখনই ফোনটি হাতে নেন, প্রশ্ন জাগে—ফোনের ওপারে আদতে কে ছিলেন? জরুরি কোনো ফোন ছিল না তো?

    একসময় অচেনা নম্বরের হদিস পেতে আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল ঢাউস সাইজের টেলিফোন ডিরেক্টরি। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে দিন বদলেছে। এখন কল ধরার আগেই, এমনকি ফোন কাটার পরও একপলকেই জেনে নেওয়া যায় ওপাশের মানুষটির পরিচয়। ফোনের ওপারে কখনো কখনো প্রতারকও থাকে। ভুয়া পরিচয় দিয়ে কল করে টাকা হাতিয়ে নেয়। ফোনের ওপারের সেই প্রতারকদের চেনাও এখন সহজ। এই সুবিধা দিতেই এক যুগের বেশি আগে যাত্রা শুরু করেছিল ট্রুকলার।

    ২০১১-১২ সালের দিকে প্রযুক্তিবিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত অ্যাপগুলোর একটি ছিল ট্রুকলার। অচেনা নম্বরের পরিচয় দেখানোর সুবিধার কারণে অল্প সময়েই এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। নামের মধ্যেই এর কাজের পরিচয় রয়েছে—ট্রু কলার, অর্থাৎ কল যিনি করেছেন, তাঁর প্রকৃত পরিচয়। তবে এখন ট্রুকলার শুধুই কলারের নাম দেখায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্প্যাম কল শনাক্ত করা, অবাঞ্ছিত নম্বর ব্লক করা, প্রতারণামূলক ফোন সম্পর্কে সতর্ক করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দেখানোর মতো নানা সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।

    যেভাবে শুরু

    ২০০৯ সালে সুইডেনের দুই উদ্যোক্তা নামি জারিংহালাম ও অ্যালান মামেদি ট্রুকলার প্রতিষ্ঠা করেন। দুজনই সুইডেনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থী ছিলেন। মোবাইল যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য থেকেই তাঁরা নতুন একটি সেবার কথা ভাবেন। তাঁদের ধারণার ভিত্তি ছিল পুরোনো টেলিফোন ডিরেক্টরি।
    একসময় প্রয়োজনীয় নম্বর খুঁজতে মানুষ টেলিফোন ডিরেক্টরি ব্যবহার করত। কিন্তু স্মার্টফোনের যুগে সেই ব্যবস্থা কার্যত হারিয়ে যায়।

    অন্যদিকে অচেনা নম্বর শনাক্ত করার প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছিল। এই বাস্তবতা থেকেই তাঁরা মোবাইল নম্বরভিত্তিক একটি বৈশ্বিক অনলাইন ডিরেক্টরি তৈরির উদ্যোগ নেন। শুরুতে ট্রুকলার মূলত মিসড কলের নম্বর শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হতো। সে সময় অ্যাপটি শুধু ব্ল্যাকবেরি ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। পরে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে সেবাটি চালু হলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

    ফোনের ওপারের প্রতারকদের চেনাও এখন সহজ
    ফোনের ওপারের প্রতারকদের চেনাও এখন সহজ, ছবি: পেক্সেলস

    কীভাবে তৈরি হলো বিশাল তথ্যভান্ডার

    ট্রুকলারের সবচেয়ে বড় শক্তি এর তথ্যভান্ডার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহারের সময় নিজেদের কনট্যাক্ট তালিকা, কলসংক্রান্ত তথ্য এবং স্প্যাম রিপোর্ট শেয়ার করেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই তৈরি হয়েছে বিশাল একটি নম্বরভিত্তিক ডেটাবেজ।
    ধরা যাক, একই নম্বর হাজারো মানুষের ফোনে প্রায় একই নামে সংরক্ষিত আছে। ট্রুকলার সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নম্বরটির সম্ভাব্য পরিচয় নির্ধারণ করে। আবার কোনো নম্বরকে যদি বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহলে সেই তথ্য অন্য ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছে যায়।
    তবে তথ্য সংগ্রহের কাজটি এতটা সরল নয়। একই নম্বর ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ফোনে ভিন্ন নামে সংরক্ষিত থাকতে পারে। কোথাও বানান ভুল থাকতে পারে, কোথাও সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা হতে পারে। ট্রুকলারের অ্যালগরিদম এসব তথ্য পর্যালোচনা করে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা করে।

    স্প্যাম কল শনাক্ত করে যেভাবে

    ব্যবহারকারীরা ট্রুকলারে অনেক নম্বর নিয়ে অভিযোগ জানায়। এসব রিপোর্ট ছাড়াও স্প্যাম শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি।কোনো নম্বর কত ঘন ঘন কল করছে, কতজন সেই কল গ্রহণ করছে, কতজন কল কেটে দিচ্ছে কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে কতজনকে ফোন করা হচ্ছে—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। নির্দিষ্ট কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে নম্বরটিকে সম্ভাব্য স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি নম্বর যদি এক ঘণ্টার মধ্যে হাজারো মানুষকে ফোন করে এবং অধিকাংশ ব্যবহারকারী সেই কল প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে সেটিকে স্প্যাম হিসেবে শনাক্ত করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।কয়েক মুহূর্তেই পরিচয় দেখানো হয় যেভাবেফোনে কল আসার সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি ট্রুকলারের তথ্যভান্ডারে যাচাই করা হয়। মিল পাওয়া গেলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কলদাতার সম্ভাব্য পরিচয় ব্যবহারকারীর পর্দায় দেখানো হয়।

    অনেক সময় কল ধরার আগেই এ তথ্য দেখা যায়। এ জন্য ট্রুকলার দ্রুতগতির অনুসন্ধানপ্রযুক্তি, তথ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ও অঞ্চলভিত্তিক সার্ভার ব্যবহার করে। নিয়মিত অনুসন্ধান করা নম্বরগুলোর তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখার ফলে খুব কম সময়েই ফলাফল দেখানো সম্ভব হয়।

     ট্রুকলার অ্যাপ
    ট্রুকলার অ্যাপছবি: ট্রুকলার

    কারা বেশি ব্যবহার করে

    ভারতের ব্যবহারকারীদের নিয়ে ট্রুকলারের প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ট্রাস্ট অ্যান্ড অ্যাটেনশন অন ট্রুকলার’-এ ট্রুকলার ব্যবহারকারীদের ব্যবহার প্রবণতা নিয়ে নানা তথ্য আছে।

    ট্রুকলারের ২০২৫ এই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী গড়ে দিনে ২০ বারের বেশি অ্যাপটি খোলে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীদের আচরণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ট্রুকলার অন্যান্য প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তুলনায় ২৬ থেকে ৩৮ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।

    এ সুবিধাকে তারা ‘ভেরিফায়েড অ্যাডিটিভ রিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রুকলারের প্রতি ১০ জন ব্যবহারকারীর ৮ জনের বয়স ২৫ বছরের বেশি। অর্থাৎ কর্মজীবী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখা মানুষের মধ্যেই অ্যাপটির ব্যবহার বেশি।ব্যবহারকারীদের ৪৭ শতাংশ মহানগর ও প্রথম সারির শহরে বসবাস করে। ট্রুকলারের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা ও ডিজিটাল সেবার ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এসব অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি।

    তবে ব্যবহারকারীর বিস্তার শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবহারকারীদের ২৩ শতাংশ মহানগরে, ২৪ শতাংশ প্রথম সারির শহরে, ২৬ শতাংশ দ্বিতীয় সারির শহরে এবং ২৮ শতাংশ তৃতীয় সারির শহরে বসবাস করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানগরগুলো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে নেতৃত্ব দিলেও ব্যবহারকারী বৃদ্ধির বড় অংশ আসছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলো থেকে।

    ট্রুকলারের ১৫টি বড় বাজারে আছে বাংলাদেশ

    ট্রুকলারের ২০২৫ সালের বার্ষিক ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার ভিত্তিতে ট্রুকলারের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর মধ্যে আছে ভারত, মিসর, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, কলম্বিয়া, ইরাক, ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান ও চিলি।

    ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সেবা

    বর্তমানে বিশ্বের ৫০ কোটির বেশি মানুষ ট্রুকলার ব্যবহার করেন কোন কল গ্রহণ করবেন আর কোনটি এড়িয়ে যাবেন, তা জানার জন্য। কলার আইডি, স্প্যাম শনাক্ত ও ব্লক, প্রতারণামূলক কল প্রতিরোধ, কল মি ব্যাক, কল অ্যালার্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ‘ট্রুকলার অ্যাসিস্ট্যান্ট’ সেবাগুলো এর উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে আছে।

    এ ছাড়া ভয়েস ক্লোনিংভিত্তিক প্রতারণা শনাক্তে এআই কল স্ক্যানার, গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আলাদা করে দেখানোর স্মার্ট এসএমএস, স্মার্ট নোটিফিকেশন ও জরুরি বার্তা প্রদর্শনের সুবিধাও আছে।অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য চালু করা ট্রুকলার ফর বিজনেস সেবার মাধ্যমে যাচাই করা পরিচয় ব্যবহার করে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ২০২৫ সালে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় ১১ বিলিয়ন ভেরিফায়েড ব্যবসায়িক কল এবং ১৬ বিলিয়নের বেশি ব্যবসায়িক বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।

    ট্রুকলারে স্প্যাম কল শনাক্ত করা, অবাঞ্ছিত নম্বর ব্লক করা, প্রতারণামূলক ফোন সম্পর্কে সতর্ক করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দেখানোর মতো নানা সুবিধাও যুক্ত হয়েছে
    ট্রুকলারে স্প্যাম কল শনাক্ত করা, অবাঞ্ছিত নম্বর ব্লক করা, প্রতারণামূলক ফোন সম্পর্কে সতর্ক করা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় দেখানোর মতো নানা সুবিধাও যুক্ত হয়েছেছবি: সুমন ইউসুফ

    ট্রুকলারে কী করবেন, কী করবেন না

    ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে ট্রুকলার অ্যাপটি ব্যবহারের কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি অন্যরাও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচবেন।

    কী করবেন

    নিজের সঠিক নাম ব্যবহার করুন:

    অ্যাপে নিজের আসল নাম ব্যবহার করা উচিত। এতে অন্য কেউ যখন আপনার নম্বরটি দেখবে, তখন সহজেই চিনতে পারবে।

    স্প্যাম নম্বর রিপোর্ট করুন:

    কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা প্রতারণামূলক নম্বর থেকে কল এলে সেটি অ্যাপে ‘স্প্যাম’ হিসেবে রিপোর্ট করুন। আপনার একটি রিপোর্ট অন্য অনেক মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।

    প্রাইভেসি সেটিং পরীক্ষা করুন:

    অ্যাপের সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি অপশনটি দেখে নিন। আপনি আপনার তথ্য কাকে দেখাতে চান বা চান না, তা সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

    অ্যাপে নিজের আসল নাম ব্যবহার করা উচিত
    অ্যাপে নিজের আসল নাম ব্যবহার করা উচিতছবি: পেক্সেলস

    কী করবেন না

    ভুয়া নামে আইডি খুলবেন না:

    মজার ছলে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ট্রুকলারে ছদ্মনাম বা ভুয়া নাম ব্যবহার করবেন না। এতে পেশাদার যোগাযোগে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

    কারও নম্বরে ভুল ট্যাগ দেবেন না:

    ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে পরিচিত কারও নম্বরকে স্প্যাম বা ভুল নামে ট্যাগ করবেন না। এটি ডিজিটাল শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

    সব তথ্যের ওপর অন্ধবিশ্বাস নয়:

    মনে রাখবেন, ট্রুকলারের নামগুলো মানুষের দেওয়া। তাই মাঝেমধ্যে কোনো নম্বরে ভুল নামও দেখাতে পারে। স্ক্রিনের নামের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

    অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড নয়:

    ট্রুকলারের পেইড বা প্রিমিয়াম ফিচারগুলো ব্যবহারের জন্য থার্ড-পার্টি বা অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। এতে ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    সূত্র: ফোর্বস, অ্যালিগেটর, মিডিয়াম

    আহসান হাবীব

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব