• ফেসবুকে পোস্ট করেই ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ, কারা পাবেন ও নেপথ্যে কী

    ভিডিও কনটেন্টের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটকের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে। জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিড়ে আধেয় নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) আবার ফেসবুকমুখী করতে এবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে একজন নির্মাতা প্রতি মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাবেন। মূলত ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই আর্থিক নিশ্চয়তা দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।

    ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে আয়ের পরিমাণ সরাসরি নির্ভর করবে একজন নির্মাতার অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যার ওপর। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যাঁদের অনুসারী সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, তাঁরা প্রতি মাসে পাবেন প্রায় ১ হাজার ডলার। অন্যদিকে ১০ লাখ বা ১ মিলিয়নের বেশি অনুসারী থাকলে প্রতি মাসে আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ডলারে।

    তবে এই নিশ্চিত আয়ের সুযোগটি কেবল প্রথম তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্মাতাদের ফেসবুকে নিজেদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিন মাস পার হওয়ার পর এই নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলেও ফেসবুকের সাধারণ মনিটাইজেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় অব্যাহত রাখা যাবে।

    এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে হলে নির্মাতাদের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো সক্রিয়তা ও ধারাবাহিকতা। একজন নির্মাতাকে প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি রিলস বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে। পাশাপাশি পুরো মাসের অন্তত ১০টি পৃথক দিনে ভিডিও আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। তবে এই ভিডিওগুলো অন্য প্ল্যাটফর্মে যেমন ইউটিউব বা টিকটকে প্রকাশিত হলেও ফেসবুকের ক্ষেত্রে তা বাধা হিসেবে গণ্য হবে না।

    মেটা বলছে, বর্তমান বিশ্বে শর্ট-ফর্ম ভিডিও বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর জয়জয়কার চলছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ফেসবুক এখন রিলস নির্মাতাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্দিষ্ট এই আয়ের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় থাকা নির্মাতারা ফেসবুকের নিয়মিত বিজ্ঞাপন বা ইন স্ট্রিম অ্যাডস, ব্র্যান্ড কোলাবরেশন, সাবস্ক্রিপশন এবং স্টারসের মাধ্যমেও উপার্জনের সুযোগ পাবেন। আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মেটা নতুন কিছু অ্যানালিটিক্স টুলও ব্যবস্থা উন্মুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে কোন ভিডিও থেকে কেন এবং কত টাকা আয় হচ্ছে, তা নির্মাতারা নিজেরাই তদারকি করতে পারবেন।

    শত কোটি ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অনেক জনপ্রিয় নির্মাতা ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে থিতু হয়েছেন। দর্শকপ্রিয়তা এবং আয়ের স্থিতিশীলতার দৌড়ে ফেসবুক কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় নির্মাতাদের ফিরিয়ে আনতেই মেটা এখন এই ‘আর্থিক নিশ্চয়তা ও অ্যালগরিদম সাপোর্ট’ কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে মেটা বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। যার সিংহভাগই এসেছে রিলস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক এখন টেক্সট বা ছবির চেয়ে ভিডিও কনটেন্টকেই তাদের ব্যবসার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

    সূত্র: টেকলুসিভ

    আহসান হাবীব

  • বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা, হোমওয়ার্কের খাতায় লেখা চিঠি: মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেমের গল্প

    বন্ধুর বাড়িতে ভিডিও গেম খেলতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক ফুটবলপাগল ছেলে প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের এক মেয়েকে। চোখে চোখ পড়তেই মনের ভেতর কাঁপন। শুরু হয়েছিল এক চুপচাপ প্রেম, যা পরে গড়ায় পরিণয়ে। আজ ভালোবাসা দিবসে পাঠকদের জন্য লিওনেল মেসি ও আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোর দারুণ প্রেমের গল্প।

    প্রথম দেখা

    গল্পটা শুরু হয়েছিল এক বন্ধুর বাড়িতে।
    প্রেমের গল্পগুলো অবশ্য এমনই হয়। বন্ধুর বাড়িতে দেখা, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা, বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাওয়া...শুরুটা এমন ছিল লিওনেল মেসিরও।
    ১৯৯৬ সালের কথা সেটা। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর। মেসির বয়স তখন ৯। সারা দিন ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকা ছেলেটা মাঝেমধ্যে বন্ধু লুকাস স্কাগলিয়ার বাড়িতে যেত ভিডিও গেম খেলতে। এ রকমই এক দিনে মেসি ও স্কাগলিয়া যে ঘরে বসে গেম খেলছিল, সেখানে ঢোকে একটি মেয়ে।
    ‘তোমাদের কিছু লাগবে?’—জিজ্ঞেস করেছিল মেয়েটা।
    ‘না’, উত্তর দিয়েছিল স্কাগলিয়া।
    মেয়েটা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মেসি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কে রে এটা?’
    ‘আমার কাজিন, আন্তোনেল্লা।’
    ৯ বছরের মেসি সেই প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে। সেই দেখাই বদলে দিয়েছিল মেসির দুনিয়া।

    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার
    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম
     

    গল্পটা অনেক দিন পরে মেসি নিজেই বলেছেন আর্জেন্টাইন এক টেলিভিশনে, ভালোবাসা দিবসের এক অনুষ্ঠানে। এরপর থেকে নাকি মেসি আরও বেশি যেতে শুরু করেছিলেন স্কাগলিয়ার বাড়িতে। তখন উদ্দেশ্য আর শুধু ভিডিও গেম খেলা নয়, যদি আন্তোনেল্লার দেখা মেলে!
    কখনো দেখা হতো, কখনো না। কেউ কেউ এটা টেরও পেলেন। মেসির তখনকার কোচ এনরিকে ডমিঙ্গেজ নাকি একবার স্কাগলিয়ার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘লিওকে দেখলাম তোমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ঘটনা কী?
    স্কাগলিয়ার বাবা হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও আমাদের বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা বের হলে ও আমাদের বাড়িতে ঢুকবে। প্রায়ই আসে।’
    ‘কেন?’
    ‘আসলে উইকেন্ডে লুকাসের কাজিন আন্তোনেল্লা আসে তো, লিও ওকে খুব পছন্দ করে।’
    টের পেয়েছিল হয়তো আন্তোনেল্লাও। নইলে কি আর নিয়ম করে উইকেন্ডে স্কাগলিয়ার বাসায় যেত!

    না পাঠানো সেই চিঠি

    এখন অবশ্য চিঠির যুগ নয়। তবে মেসির কৈশোরের পৃথিবীতে চিঠির চল ছিল। প্রেমে পড়ে কিশোর মেসিও চিঠি লিখেছিল। একদিন নাকি হোমওয়ার্ক করতে বসে খাতায় আনমনেই লিখেছিল, ‘প্রিয় আন্তোনেল্লা... একদিন তুমি আমার হবে, আমি হব তোমার।’
    তবে বরাবরই লাজুক মেসি সেই চিঠি কখনো আন্তোনেল্লাকে পাঠাতে পারেনি।
    এই গল্পটাও মেসি নিজেই বলেছেন।

    হঠাৎ দূরত্ব

    ভালোবাসার গল্পে কিছুটা বিচ্ছেদ, কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় না থাকলে কি আর সেটা পূর্ণতা পায়! মেসি-আন্তোনেল্লার গল্পেও এমন বিচ্ছেদ এসেছিল। কিশোর মেসির ফুটবলপ্রতিভার খবর তত দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও ছাড়িয়ে ইউরোপে চলে গেছে। ট্রায়ালে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে হাতের কাছে পাওয়া একটি ন্যাপকিন পেপারেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বার্সেলোনা। ১৩ বছরের মেসিকে নিয়ে ২০০০ সালে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি পাড়ি জমান বার্সেলোনায়।
    বার্সা একাডেমিতে শুরু হলো মেসির নতুন জীবন। মুঠোফোন তখনো সহজলভ্য হয়নি, ইন্টারনেটও না। আন্তোনেল্লার সঙ্গে যোগাযোগের খুব একটা উপায় রইল না মেসির। মাঝেমধ্যে ছুটি কাটাতে রোজারিওতে ফিরলে কখনো দেখা হতো, কখনো না।

    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লা
    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লাআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    যেভাবে পুনর্মিলন

    ২০০৫ সালে আন্তোনেল্লার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী উরসুলা নটজ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। ওই সময়ে আন্তোনেল্লায় মানসিক অবস্থা কী রকম থাকতে পারে, সেটা জানতেন মেসি। বার্সেলোনা থেকে তাই তখন উড়ে গিয়েছিলেন রোজারিওতে, আন্তোনেল্লাকে সান্ত্বনা দিতে! আর্জেন্টিনার ‘প্যারা টি’ সাময়িকীতে পরে আন্তোনেল্লা নিজেই বলেছেন, ওই কঠিন সময়ে মেসির পাশে দাঁড়ানোটা কতটা সাহায্য করেছিল তাঁকে। ওই পুনর্মিলনী বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কটা আরও শক্ত করতে।

    প্রেম যেভাবে প্রকাশ্যে

    মেসি তত দিনে বার্সেলোনায় এবং ফুটবল-দুনিয়ায় নিজের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আভাস দিয়েছেন আগামীর মহাতারকা হয়ে ওঠার। আর তারকাদের তো ব্যক্তিজীবনের সবকিছুই গোপন রাখতে হয়। মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেম অবশ্য একেবারে গোপন থাকেনি। ২০০৭ সালের দিকে আন্তোনেল্লা নিজেই তাঁর কাছের কয়েকজন বন্ধুকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, মেসির সঙ্গে তাঁর হৃদয়ঘটিত ব্যাপারস্যাপার আছে। কিন্তু সেটা গোপন থাকেনি। গুঞ্জন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। এর বছর দুয়েক পরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলে দেন, আর্জেন্টিনায় এক মেয়ের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের প্রেম! দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করে দেয়, রোকুজ্জোই সেই আর্জেন্টাইন মেয়ে।

    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছে
    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছেআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    প্রেমের টানে বার্সেলোনায়

    ভ্যানিটি ফেয়ার এস্পানা পত্রিকা জানায়, আন্তোনেল্লা সেই সময়টায় আর্জেন্টিনায় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব রোজারিও থেকে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে দন্তচিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শুরু করেছিলেন। তবে ভালোবাসার টানে তিনি তখন পড়াশোনা ছেড়ে মেসির কাছাকাছি থাকার সিদ্ধান্ত নেন। চলে যান বার্সেলোনায়। সেখানে গিয়ে অবশ্য মডেলিং শুরু করেন। ভালো ক্যারিয়ারও গড়েন।

    অবশেষে বিয়ে

    ২০১৭ সালের ৩০ জুন রোজারিও ডাউনটাউনের পুলম্যান হোটেল রূপ নিল উৎসবের মঞ্চে। মেসি ও আন্তোনেল্লা—দুই শৈশবের বন্ধু, দুজন চুপি চুপি ভালোবেসে বড় হওয়া মানুষ শপথ নিলেন—‘যতক্ষণ না মৃত্যু আমাদের আলাদা করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা একে অন্যের সঙ্গে থাকব।’

    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লা
    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লাএএফপি

    ফুটবলে এই শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন নেইমার, সুয়ারেজসহ মেসির তখনকার বার্সেলোনা দলের প্রায় সব সতীর্থ, ছিলেন পপ স্টার শাকিরা (যিনি তখন মেসির সতীর্থ জেরার্ড পিকের স্ত্রী) এবং মেসির আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থ ও বন্ধুরা। তত দিনে অবশ্য মেসি-আন্তোনেল্লা জুটির দুই ছেলে থিয়াগো (জন্ম ২০১২) ও মাতেও (জন্ম ২০১৫) পৃথিবীতে চলে এসেছে। বিয়ের এক বছর পর ২০১৮ সালে জন্ম নেয় এই দম্পতির তৃতীয় ছেলে চিরো।

    আন্তোনেল্লা কী করেন

    বার্সেলোনায় মেসির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায় উরুগুইয়ান তারকা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে। সেই সূত্রে, ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা ও সুয়ারেজের স্ত্রী সোফিয়া বালবিও। ২০১৭ সালে আন্তোনেল্লা ও সোফিয়া মিলে আর্জেন্টিনার ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড সারকানির জন্য বার্সেলোনায় একটি বুটিক শপ খোলেন। একই সঙ্গে অ্যাডিডাস এবং স্টেলা ম্যাককার্টনির মতো বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন আন্তোনেল্লা। সব মিলিয়ে তিনি নিজেও এখন বড় তারকা। এক্স বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী।

    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী
    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আন্তোনেল্লার অনেক গুণ। ও যেভাবে প্রতিদিনের কাজ সামলায়, সেটার প্রশংসা করতেই হবে। সব সময় হাসিখুশি থাকে এবং প্রতিদিনের সমস্যাগুলোকে খুব ভালোভাবে সামলায়। সে খুব বুদ্ধিমান এবং সব দিক থেকেই দারুণ।’

    এখন দুজনের জীবন

    বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি ২০২১ সালে পাড়ি জমান প্যারিসে। নতুন সেই শহরে মেসি পরিবারের মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি, কারণ আন্তোনেল্লা দারুণভাবে সব সামলেছেন। মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সময় আন্তোনেল্লা কীভাবে পাশে ছিলেন, সেটা তো সারা বিশ্বই দেখেছে।
    ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন শহরে মেসি পরিবারের নতুন অধ্যায়। সেই জীবন কতটা আনন্দময়, সেটা যাঁরা মেসি বা আন্তোনেল্লাকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করেন, তাঁরা তো জানেনই।

     

  • বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় আইইউআই, কারা এ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন

    ইনট্রা-ইউটেরিন ইনসেমিনেশন বা আইইউআই হলো বন্ধ্যত্ব দূরীকরণের একটি সহজ, কম ব্যয়বহুল ও বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসাপদ্ধতি। এ চিকিৎসাপদ্ধতিতে পুরুষের শুক্রাণু ল্যাবরেটরি অর্থাৎ গবেষণাগারে প্রক্রিয়াজাত করে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

    আইইউআই বন্ধ্যত্ব রোগীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় চিকিৎসাপদ্ধতি। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) মাঝামাঝি একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এ চিকিৎসাপদ্ধতিকে। আইইউআই পদ্ধতিতে সাফল্যের হার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হয়ে থাকে। প্রয়োজনভেদে ৩ থেকে ৬ বার পর্যন্ত আইইউ করা যেতে পারে।

    আইইউআই চিকিৎসার পূর্বশর্ত

    • ন্যূনতম একটি ফেলোপিয়ান টিউব খোলা থাকতে হবে (তবে অনেক ক্ষেত্রে সময়স্বল্পতা থাকলে ফেলোপিয়ান টিউব খোলা নাকি বন্ধ যাচাই না করেও এ চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে)।

    • অন্তত একটি বা দুটি ডিম্বাণু যথেষ্ট ম্যাচিউর বা বড় হতে হবে। স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্ট কিছুটা খারাপ হলেও আইইউআই করা যায়।

    কাদের জন্য এ চিকিৎসা প্রযোজ্য

    • প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় যদি গর্ভধারণ সফল না হয়।

    • যদি স্বামী বা স্ত্রীর কারও সময়ের স্বল্পতা থাকে। (প্রবাসী স্বামী বা স্বামী-স্ত্রী দূরবর্তী জেলায় চাকরি করেন। প্রবাসী স্বামীরা শুক্রাণু হিমায়িত করে রেখে যেতে পারেন।)

    • দীর্ঘ সময়ের বন্ধ্যত্ব। স্ত্রীর বয়স যদি বেশি হয়।

    • স্ত্রীর ডিম্বাণুর পরিমাণ যদি কম হয়ে থাকে।

    • স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্টে স্বল্পমাত্রার সমস্যা থাকলে করা যাবে। তবে বেশি সমস্যা থাকলে আইভিএফ/ইকসি চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করা ভালো।

    • স্বামীর সহবাসে অক্ষমতা বা অনেক দিন অন্তর অন্তর সহবাস সম্ভব হওয়া।

    • যদি স্ত্রীর প্রাথমিক পর্যায়ের এন্ডোমেট্রিওসিস থাকে। স্ত্রীর জরায়ুমুখে কোনো সমস্যা বা অ্যান্টিস্পার্ম অ্যান্টিবডি থাকে।

    আইইউআই চিকিৎসা একটি সম্পূর্ণভাবে আউটডোরভিত্তিক চিকিৎসা ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। সাধারণত এতে তেমন কোনো ব্যথা লাগে না। এ চিকিৎসায় স্বামীর শুক্রাণু মিডিয়ার মাধ্যমে ওয়াশ করে জীবাণুমুক্ত চিকন প্লাস্টিকের ক্যাথেটার দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলবে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সহায়ক ওষুধ নিতে হবে।

    ডা. শাহীনা বেগম, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা

  • বর্ণিতা পেলেন বিলাসবহুল গাড়ি, অন্য বিজয়ীরা কী পেলেন

    ঢাকা

  • বহুল প্রতীক্ষিত গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং, দাম কত

    বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

    নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

    স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

    ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

    এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

    সূত্র: ম্যাশেবল

    আহসান হাবীব

  • বাংলাদেশিদের হার্ভার্ডে স্কলারশিপ নিয়ে এমবিএ করার সুযোগ

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের উচ্চশিক্ষার অন্যতম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ মিলতে পারে যে কারও। এ জন্য পকেট থেকে খসবে না এক কানাকড়িও। কারণ, আছে অনলাইন কোর্স। এ ছাড়া আছে বৃত্তির সুযোগ। বৃত্তির নাম বোস্তানি ফাউন্ডেশন বৃত্তি। ২০২৬ সালে এ বৃত্তির আওতায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএতে পড়তে পারবেন যে কেউ। বিশ্বের অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। ২০২৬ সালে শরৎ (অটাম) সেশনের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হবে।

    হার্ভার্ডের এমবিএ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষার ব্যবসায়িক প্রোগ্রাম। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল প্রতি দুই বছরে একবার বোস্তানি এমবিএ হার্ভার্ড বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ বৃত্তি দুই বছরের কোর্সের জন্য।

    অনেক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, হেনরি কিসিঞ্জার, বারাক ওবামা, বিল গেটস, জন এফ কেনেডি, টি এস ইলিওট, মার্ক জাকারবার্গসহ আরও অনেক নাম। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার ৮ প্রেসিডেন্ট, ১৫৮ নোবেল বিজয়ী, ১০ অস্কার বিজয়ী, ৪৮ পুলিৎজার জয়ী এবং ১০৮ জন অলিম্পিক মেডেল জয়ী ক্রীড়াবিদ।

    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন
    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, ছবি: রয়টার্স

    আবেদনের যোগ্যতা—

    বাংলাদেশসহ নানা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন উন্মুক্ত। তবে এ জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন: আবেদনকারী প্রার্থীকে একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো হতে হবে। যে কেউ এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। হার্ভার্ড এমবিএ প্রোগ্রাম থেকে ভর্তির অফার পাওয়ার পরে প্রার্থীরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    বৃত্তির সুযোগ–সুবিধা—

    • ৭৫ শতাংশ টিউশন ফি প্রদান করবে;

    • ভ্রমণ খরচ প্রদান করবে;

    • বুস্টানি ফাউন্ডেশন কর্তৃক দুই মসের ইন্টার্নশিপ সুবিধা আছে;

    আবেদন পদ্ধতি কীভাবে—

    হার্ভার্ডের বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের একটি সিভি ছবিসহ পাঠাতে হবে। এ ছাড়া জিএমএটি স্কোর এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বীকৃতিপত্রের চিঠি This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.ে পাঠাতে হবে। সব সিভি বাছাই করে তালিকা করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত প্রার্থীকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাক্ষাত্কারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    আবেদনের শেষ সময়—

    এ বছরের ৩১ মে (৩১–০৫–২০২৬) পর্যন্ত আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    সুইজারল্যান্ড ও মোনাকোভিত্তিক বোস্তানি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। নাবিল বোস্তানি ও তাঁর ছেলে ফাদির হাত ধরে এ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু। এর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৯৭ সাল থেকে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ২০০৬ সালে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বোস্তানি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

    *আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে এখানে ক্লিক করুন

  • বাংলাদেশে সরফরাজের নতুন যাত্রা

    ১৫ মার্চ, ২০২৬। এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সরফরাজ আহমেদ। ১৮ এপ্রিল, ২০২৬–এ তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

    খেলা থেকে অবসরের এক মাস তিন দিন পরই টেস্ট দলের কোচ—কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা, অবসরের আগে থেকেই পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরফরাজ। এমনকি কাজ করেছেন পাকিস্তান দলের নির্বাচক হিসেবেও।

    ৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে প্রধান কোচ বানানোয় খোদ পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই সমালোচনা করেছেন। সেসব এক পাশে রেখেই সরফরাজ এখন টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভিনদেশে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন। এই দলের সঙ্গে এসেছেন সরফরাজও।

    কয়েক বছর ধরে পিসিবি কোচ হিসেবে কারও ওপরই খুব একটা ভরসা করতে পারছে না। সরফরাজকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি কয়েক মাস শূন্যই ছিল। সাবেক ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে।

    পরে তাঁর সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়ায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ।

    পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি
    পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি, এএফপি
     

    তিনি আবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর। এত সব অদল–বদলই ঘটেছে ২০২৪ সাল থেকে। আর এঁদের সবাই খেলা ছেড়েছেন বেশ আগে, কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা অনেক।

    প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচদের এই আসা–যাওয়ার মধ্যে হঠাৎ সরফরাজের মতো অপেক্ষাকৃত ‘নবীন’ একজন এলেন কীভাবে?

    সরফরাজ পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এমনকি গত অক্টোবরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে এর পরপরই পিসিবির কোচিং–প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

    অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে  সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান
    অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান, পিসিবি
     

    গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে তদারকির দায়িত্ব দেয় পিসিবি। তাঁর কাজের আওতায় ছিল দলের কার্যক্রম পরিচালনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যা।

    পিসিবি তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছিল, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় সিনিয়র দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক করে পাঠানো হয় সরফরাজকে। পাকিস্তানের দলটি ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সরফরাজের কোচিং–দক্ষতা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিসিবি। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান
    সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, রয়টার্স
     

    এমনিতে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটে সরফরাজেরও ভালো অবস্থান ছিল আগে থেকেই। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। সেটি ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের প্রথম ৫০ ওভারের আইসিসি ট্রফি। যদিও সরফরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন দল ছিল।  

    পাকিস্তানের হয়ে সরফরাজ ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন ২১টি ফিফটি ও চারটি সেঞ্চুরিতে। ১১৭ ওয়ানডেতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। ১১টি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি আছে এ সংস্করণে। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে আছে ৮১৮ রান।

    ভালো উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান, শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবং কোচিংয়ে সাফল্যের পরও সরফরাজকে এখনই টেস্ট দলের কোচ বানিয়ে দেওয়া কারও কারও পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভি অনুষ্ঠানে আলোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে কয়েক দিন আগে বলেছেন, ‘সাবেক ক্রিকেটার ও আমার আগের সহকর্মীদের নিজস্ব মতামত আছে। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি ইতিবাচক।’

    পাকিস্তানের এই দুটি টেস্টে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে ঢাকায়, দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে সিলেটে।

  • বাংলাদেশের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে, খাটো করে দেখছি না—ঋতুপর্ণাদের নিয়ে সতর্ক চীনের কোচ

    এক দল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অপর দল টুর্নামেন্টটিতে খেলতেই এসেছে এই প্রথম। র‍্যাংঙ্কিংও দেখাচ্ছে বড় পার্থক্য—১৭ আর ১১২। এমন অসম শক্তির দুই দল চীন ও বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে।

    বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা (সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টা) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান।

    বাংলাদেশ দল র‍্যাংঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। বাংলাদেশ কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না—প্রথম আলো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনো দল যেকোনো দিনে কঠিন সময় উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনো চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে।’

    নিজের প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল, তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। তারা কোনো চাপ ছাড়াই সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান
    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হওয়ায় বর্তমান চীনা কোচের জন্য এটি অনেকটা ঘরে ফেরার মতো। ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। নিজের চেনা আঙিনায় চীনের শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বাস্তববাদী, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্ট ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমরা আমাদের সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

    চীনা ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু এবং ভালো কাঠামো উপহার দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

    চীনের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী ও ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিনায়ক উ হাইয়ান গত টুর্নামেন্টটি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এবার বাহুবন্ধনী হাতে মাঠে নামার আগে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা এরই মধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

    বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাসী উ হাইয়ান। স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ র‍্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা কালকের ম্যাচের আগে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে আমি গত টুর্নামেন্ট মিস করেছিলাম, তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
     

    বাংলাদেশ যে বাছাইপর্বে মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এখানে এসেছে, সেটিও নজরে আছে চীনা কোচের। বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ এবং আক্রমণাত্মক। তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে হারিয়ে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

    চীনের ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যা আগামীকাল তাঁদের কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা দেবে বলে কোচ মনে করেন। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কালকের ম্যাচে চীন তাদের দশম মুকুটের পথে প্রথম ধাপ পার করতে চাইলেও, বাংলাদেশ চাইবে এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের চেনাতে।

  • বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত, বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    ‘খেলার মাঠে রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার।

    গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, ‘টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি—আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়।’

    বাংলাদেশের পাশে থাকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পুরোপুরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি, এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’

    বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দলটিকে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। তবে সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হলেও এর কারণ এই প্রথম প্রকাশ করল পাকিস্তান সরকার। এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান আইসিসির দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ আইসিসি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার কথা। তবে গত রোববার পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডল থেকে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, ভারত–ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল।

    এ বিষয়ে পিসিবি প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। তবে সেদিনই আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের’ কথা মনে করিয়ে সিদ্ধান্ত ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছিল।

    ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। গত ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে অনুরোধ করা হয় ভেন্যু বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ রাখার জন্য। তবে মোস্তাফিজের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসি ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয়নি, ভারত সরকারও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়েছে।

    অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন নয়—এমন প্রশ্ন তুলে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন। ‘বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে আইসিসি বোর্ড সভায় ভেন্যু বদলের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন নাকভি।

  • বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ২৪৭ রান তাড়ায় ২২১–এ অলআউট বাংলাদেশ, হারে শুরু ওয়ানডে সিরিজ

    নিউজিল্যান্ড: ২৪৭/৮। বাংলাদেশ: ২২১। ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।

    শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। নাথান স্মিথের বলে মিডউইকেটে তাঁর ক্যাচ নিয়েছেন হেনরি নিকোলস। ৬০ বলে ৫৫ রান করে থেমেছেন হৃদয়, থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংসও।

    নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে অলআউট হয়েছে ২২১ রানে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা হল ২৬ রানের হারে।

    রান তাড়ায় বাংলাদেশ ধাক্কা খায় শুরুতেই। চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের টানা দুই বলে বোল্ড হন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। তবে এরপরই এসেছে ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটা।

    তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান ও লিটন দাস গড়েন ৯৩ রানের জুটি। পরে আরেকটি ফিফটি জুটি হয়েছে পঞ্চম উইকেটে তাওহিদ হৃদয়–আফিফ হোসেনের মধ্যে (৫২ রান)। এই চারজন ছাড়া আর কারও দুই অঙ্কের ঘরে যায়নি।

    দুই বড় জুটির চারজনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকেছিলেন হৃদয়। তবে তাঁকেও থামতে হয়েছে লক্ষ্যের বেশ আগেই। নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার ব্লেয়ার টিকনার ও স্মিথই নিয়েছেন ৭ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস সাইফ (৫৭), হৃদয় (৫৫) ও লিটনের (৪৬)।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নিউজিল্যান্ড ইনিংস : ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪; শরীফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪, তাসকিন ২/৫০, মিরাজ ১/৫৪, নাহিদ ১/৬৫)।
    বাংলাদেশ ইনিংস: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, হৃদয় ৫৫, লিটন ৪৬, আফিফ ২৭; টিকনার ৪/৪০, স্মিথ ৩/৪৫)।
    ফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডিন ম্যাক্সক্রফট।
    সিরিজ: তিন ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ড ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে।
  • বাজার বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব

    বাজার যাতে বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার (১৫ মার্চ) চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ পরিদর্শন শেষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে কাউকে আমদানি না করার মতো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। তবে বাজারে যদি তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—আরও ডাল আমদানি করবেন নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থামবেন।

    তিনি আরও বলেন, সবার সম্মিলিত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভোগ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। তা সম্ভব হলে মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি তৈরি হবে এবং সেই সন্তুষ্টির সুফল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পাবেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ আছে। কেউ যদি বাড়তি মূল্য নেওয়ার চেষ্টা করে, সে বিষয়ে আপনারাও সচেতন থাকবেন। এরকম বাড়তি মূল্য নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নেই। সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেছি—কোথাও সরবরাহের কোনো অপ্রতুলতা চোখে পড়েনি। আর মূল্যের তারতম্য হওয়ারও কোনো কারণ নেই, কারণ বোতলের গায়েই মূল্য লেখা আছে।

    তিনি আরও বলেন, পাইকারি আর খুচরা বাজারের যে অযৌক্তিক ব্যবধান, রোজা পরে আমরা একটা ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটি করবো। সেখানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের মানুষেরও সংযুক্তি থাকবে। দরকার হলে আমরা অন্য পেশাজীবীদেরও এটার সাথে সম্পৃক্ত করবো। কেন পাইকারি আর খুচরা বাজারের ব্যবধানটা অগ্রহণযোগ্য, এটার ভিতরের রহস্যটা কি এটা আমরা খুঁজে বের করবো।

    জ্বালানি তেলের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অহেতুক কেউ দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না। যদি পৃথিবীতে কোথাও সংঘাত লাগে, সরবরাহের উপর চাপ বাড়ে, মূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ থাকে, বাংলাদেশের মানুষের, আপামর মানুষের, ভোক্তার স্বার্থে, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এই পণ্যগুলি রাখার স্বার্থে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আপনাদের নিযুক্ত সরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।

     

  • বাণিজ্য মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, পুরস্কার পেল ৪০ প্রতিষ্ঠান

    মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ), ২০২৬ শেষ হয়েছে। এবারের মেলায় সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এসেছে প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আর মেলায় আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোরাঁর বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

    আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

    জানানো হয়, এবারের মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত অনেক পণ্য রয়েছে, যেগুলোর উদ্যোক্তারা মেলায় অংশগ্রহণ করেন না। প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে তাঁরা যাতে অংশ নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রদর্শনী আমাদের নিজেদের জাতীয় সক্ষমতা প্রমাণের একটি বড় সুযোগ। তাই তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে অথবা প্রয়োজনে বিনা মূল্যেও আমন্ত্রণ জানানো যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে—শিল্পপণ্য, রপ্তানি পণ্য কিংবা গৃহস্থালি পণ্য—সব ধরনের পণ্যের অংশগ্রহণ জরুরি। আশা করি আগামী মেলায় আবারও একজন দর্শক ও পরিদর্শক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    পুরস্কার পেল যারা

    সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণশৈলী, পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা সেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করা হয় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে।

    প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। দ্বিতীয় হয়েছে আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেড ও তৃতীয় হয়েছে হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড।

    প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন গোল্ড ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেয়েছে সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে যথাক্রমে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড ও কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ ছাড়া এস কে বি স্টেইনলেস স্টিল মিলস লিমিটেড যৌথভাবে একই স্বীকৃতি পেয়েছে।

    মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ফ্যাশন শো ‘সুতার গল্প’। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
    মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় ফ্যাশন শো ‘সুতার গল্প’। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
     

    জেনারেল প্যাভিলিয়ন প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কারা অধিদপ্তর (বাংলাদেশ জেল) ও ঢাকা আইসক্রিম লিমিটেড। দ্বিতীয় হয়েছে আবুল খায়ের কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড। তৃতীয় হয়েছে অ্যালয় অ্যালুমিনিয়াম ফার্নিচার লিমিটেড।

    মিনি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার জিতেছে ডিভাইন কার্পেট অ্যান্ড ফ্লোরিং লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বায়োজিন এবং জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। তৃতীয় হয়েছে আর এম জুট ডাইভারসিফিকেশন মিলস লিমিটেড।

    প্রিমিয়ার স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে জেএমজি ইন্টারন্যাশনাল। দ্বিতীয় হয়েছে আকিজ রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড অটোমোবাইল লিমিটেড এবং তৃতীয় হয়েছে যৌথভাবে আরএফএল ইলেকট্রনিকস ও ব্রাদার্স ফার্নিচার।

    প্রিমিয়ার মিনি স্টল বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আকতার ফার্নিশার্স। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে হাতিল কমপ্লেক্স ও হাতিম স্টিল স্ট্রাকচার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে নাদিয়া ফার্নিচার।

    এ ছাড়া রিজার্ভ স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন করপোরেশন। একই ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন। আর তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে যৌথভাবে রিবানা অর্গানিক ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

    জেনারেল স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে বিজার্টি ক্যানভাস। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ডেলআর্ট লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রকল্প-১ (বিআরসিপি-১)।

    ফরেন মিনি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে তুরস্কের অরিজিনাল ইস্তাম্বুল ক্রিস্টাল। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ভারতের এম/এস তারিক কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ইন্ডিয়ান কার্পেট ইন্ডাস্ট্রিজ।

    ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে
    ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারেছবি: প্রথম আলো

    ফরেন প্রিমিয়ার স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে হংকংয়ের রাবাব ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে সিঙ্গাপুরের পেন্টেল পিটিই লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পিটি নিসিন ফুডস।

    নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ক্লে-ইমেজ।

    নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য

    মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—কারা অধিদপ্তরের বাঁশজাত পণ্য, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ডাইভারসিফাইড জুট পণ্য ও হারবাল চা, বিসিকের ভেজিটেবল ডাইং পোশাক, তাঁত বোর্ডের ঢাকাই মসলিন, জেডিপিসির পাটের ট্যাপেস্ট্রি, অ্যাপেক্স ফুডসের রেডি-টু-ইট খাবার এবং বাংলাদেশ টি বোর্ডের রোজেলা ও ব্লু টি।

    এবার রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেলার পাশাপাশি আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গতকাল শেষ দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এবার দর্শনার্থীদের সেবা দিতে ২০০টির বেশি বিআরটিসি বাস চলাচল করেছে বলে জানানো হয়।

  • বাতিল হয়ে গেল আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফিনালিসিমা

    ফুটবলপ্রেমীরা অনেকেই হয়তো ক্যালেন্ডারের পাতায় গোল দাগ দিয়ে রেখেছিলেন। একদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লাতিন আমেরিকার সেরা দল আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, অন্যদিকে তাঁরই উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে যাকে—সেই লামিনে ইয়ামাল। কিন্তু মাঠের সেই লড়াই আর হচ্ছে না। আপাতত বাতিলের খাতায় চলে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ‘লা ফিনালিসিমা’।

    আজ উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, ২৭ মার্চ কাতারে যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা ছিল, তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভেন্যু ও সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন সূচি ও ভেন্যু নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।

    লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
    লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের মুখোমুখি লড়াই দেখা হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।এএফপি

    ফিনালিসিমা হলো কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার লড়াই। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে ইতালিকে হারিয়ে প্রথমবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। এবারও আরও একটা লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বাদ সাধল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি। কাতার থেকে ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল উয়েফা, যা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

    উয়েফার বিবৃতিতে তাই একরাশ হতাশা ফুটে উঠেছে, ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনা ও স্পেনকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফির জন্য লড়াই করার সুযোগ করে দিতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

    শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।

    উয়েফা চেয়েছিল, কাতার না হলে অন্তত ইউরোপের কোনো মাঠে ম্যাচটি হোক। তাদের প্রথম প্রস্তাব ছিল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। কিন্তু আর্জেন্টিনা সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপর উয়েফা দুই লেগের হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রস্তাব দেয়। প্রথম ম্যাচ মাদ্রিদে এবং দ্বিতীয়টি বুয়েনস এইরেসে। ২০২৮ সালের ইউরো বা কোপা আমেরিকার আগে কোনো এক সময়ে এই ফিরতি ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। সেটিও ফিরিয়ে দেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    শেষ চেষ্টায় উয়েফা ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চ ইউরোপের কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচটি আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা জানিয়ে দেয়, পুরোনো তারিখে তারা খেলতে পারবে না। তারা শুধু ৩১ মার্চই খেলতে পারবে।
    এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ভেস্তেই গেল ম্যাচটি।

  • বাবা–ছেলের জুটিতে ৫৯০ রান, একজনের ব্যাটে ৪২ ছক্কায় ৪০২

    ছেলের বয়স কম, ব্যাটে তেজ বেশি, মাঠে নেমে বোলারদের তুলাধোনা করাই যেন তাঁর অভ্যাস। আর বাবার বয়স ষাট পেরোলেও ব্যাট হাতে যেন তারুণ্য। এই বাবা-ছেলে একসঙ্গে বাইশ গজে ওপেন করতে নামার পর যা ঘটালেন, তাকে শুধু ‘বিস্ময়’ বললে কম বলা হবে। পেশাদার ক্রিকেট হোক বা অপেশাদার, দুই প্রজন্মের এমন ঝোড়ো ব্যাটিং ক্রিকেট বিশ্ব আগে দেখেছে কি না সন্দেহ।

    অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড অ্যান্ড সাবআরবান অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেটে গত শনিবার ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। করোম্যান্ডেল ভ্যালির হয়ে মরফেটভিল পার্কের বিপক্ষে ওপেনিং জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ৫৯০ রান তুলেছেন বাবা ড্যারেন চিক এবং তাঁর ছেলে স্যাম চিক। ৪০ ওভারের ম্যাচটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

    ইনিংসের শুরুতে বাবা ড্যারেন কিছুটা আক্রমণাত্মক থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলে দেন ছেলে স্যাম। মাত্র ৫৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। সেঞ্চুরি থেকে ১৫০ রানে যেতে তাঁর লাগে মাত্র ১৭ বল। এরপর ৮৭ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি, পরের ১০০ রান করেন মাত্র ২২ বলে।

    ইনিংস শেষে স্যাম অপরাজিত থাকেন ৪০২ রানে। মাত্র ১৩২ বলের এই ইনিংসে তিনি ছক্কাই মেরেছেন ৪২টি, চার ৩০টি। শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৩৮৪ রান। স্যামের স্ট্রাইক রেট ছিল ৩০০-এর ওপরে। ইনিংসের ৩২তম ওভারে ডার্সি লেনের এক ওভারে টানা ছয় ছক্কাও মারেন।

    ছেলের তাণ্ডবের দিনে বাবা ড্যারেন চিকও কম যাননি। ষাটোর্ধ্বদের ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ড্যারেন ১০৮ বলে ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৪০ ওভার শেষে করোমন্ডেল ভ্যালির সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৫৯০ রান। অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস লিখেছে, ৫৯০ রানের জুটি ৪০ ওভারের ম্যাচে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ।

     

    বাবা-ছেলের জুটির ব্যাটিং যে কতটা দুর্দান্ত ছিল, সেটি বোঝা যাবে রান তাড়ায় নামা মরফেটভিল পার্কের ইনিংসে তাকালে। ৫৯০ রান তাড়ায় পুরো ৪০ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪৬ রান করতে পারে দলটি। করোম্যান্ডেল জেতে ৪৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে কয়েক ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর পর বাবা-ছেলে মিলে বোলিংও ওপেন করেন। ড্যারেন ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও স্যাম উইকেটশূন্য থাকেন।

    অপেশাদার ক্রিকেটের এই স্কোরকার্ড প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন পড়ে যায়। হ্যারি হ্যারিস নামের একজন লিখেছেন, ‘স্যামের বোধ হয় কোথাও যাওয়ার তাড়া ছিল।’

    ইয়াইন নামের একজন ড্যারেনের প্রসঙ্গ তুলে মজা করে লিখেছেন, ‘১০৮ বলে ১৭৫* করার পরও নিজের ছেলের কাছে তাঁকে একেবারে পাড়ার ক্রিকেটার মনে হচ্ছে।’ লেড জনসন প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিপক্ষের বোলিং নিয়ে, ‘ছেলেটি প্রতি বলে প্রায় ৪ রান করে তুলেছে। এটি কোন স্তরের বোলিং?’

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেইলও এই আলোচনায় শামিল হয়েছেন। বাবা-ছেলের ইনিংস নিয়ে করা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি আগুনের ইমোজি দিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এ কী দেখছি!’

  • বার্সেলোনাকে বিদায় করে ৯ বছর পর সেমিফাইনালে আতলেতিকো

    আতলেতিকো ১:২ বার্সেলোনা (দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকো ৩:২ গোলে জয়ী)

    এবারও পারল না বার্সেলোনা।

    ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে গেল বার্সা।

    আজ মাদ্রিদে দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে জিতলেও প্রথম লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছে হান্সি ফ্লিকের দল।

    ম্যাচের শুরুর দিকে লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তোরেসের গোল বার্সাকে আশা জোগালেও আদেমোলা লুকমানের গোল আতলেতিকোকে জয়ের পথে নিয়ে যায়।

    বার্সেলোনা কোচ মাদ্রিদের ম্যাচটিতে নামিয়েছিলেন ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে কমবয়সী দল। লাল কার্ডের কারণে ছিলেন না পাউ কুবারসি, চোটের কারণে রাফিনিয়া, আন্দ্রেস ক্রিস্টেনসেন ও মার্ক বার্নালরা। আর রবার্ট লেভানডফস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ডদের রাখা হয় বেঞ্চে। এরপর যে দলটি দাঁড়ায়, তার গড় বয়স ২৪ বছর ৩৪৭ দিন; চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউটে বার্সার সবচেয়ে তরুণ দল।

    এই কমবয়সী দলটি প্রথম লেগের দুই গোলের বোঝা নামিয়ে ফেলে ২৫ মিনিটের মধ্যেই। চতুর্থ মিনিটে তোরেসের বাড়ানো বড় প্রথম স্পর্শেই আতলেতিকো গোলকিপারের দুই পায়ের ভেতর দিয়ে জালে পাঠান ইয়ামাল।

    ২৪ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি আসে তোরেসের কাছ থেকে। দানি ওলমোর কাছ থেকে পাওয়া বল নিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যে পৌঁছান তিনি। দুই লেগ মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্কোরলাইন হয়ে যায় ২:২।

    বার্সেলোনার প্রথম গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল
    বার্সেলোনার প্রথম গোলটি করেন লামিনে ইয়ামাল, রয়টার্স

    সমতা থেকে ম্যাচ নিজেদের দিকে নেওয়ার যে লড়াই, সেখানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। অনেকটা খেলার ধারার বিপরীতেই ৩১ মিনিটে গোল করেন লুকমান। জানুয়ারিতে যোগ দেওয়া এই নাইজেরিয়ানকে বক্সে চমৎকারভাবে বল বাড়িয়ে গোলের সুযোগটি বানিয়ে দেন মার্কোস লরেন্তো।

    বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকে যেভাবে চাপ তৈরি শুরু করে, তাতে মনে হচ্ছিল সমতা আসতে পারে যে কোনো মুহূর্তেই। এর মধ্যে ৫৫ মিনিটে তোরেসের ভলি জালেও জড়ায়। তবে বার্সেলোনার উল্লাস থামিয়ে ভিএআর জানায় অফসাইডে ছিলেন তোরেস।

    বার্সেলোনা অবশ্য বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৬৫ মিনিটে ইয়ামালের বানানো বলে কাছ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ওলমো, তবে তিনি সেটি উড়িয়ে ওপর দিয়ে পাঠান। কিছুক্ষণ পর রাশফোর্ড, লেভানডফস্কিরা নামিয়ে আক্রমণে আরও গতি আনার চেষ্টা করেন ফ্লিক।

    ৭৪তম মিনিটে অবশ্য লে নরম্যান্ডের শট গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়া পা দিয়ে না ঠেকালে আরও একটি গোল হজম করতে হতো সফরকারীদের। তবে কিছুক্ষণ পর আরেকটি ধাক্কা ঠিকই আসে।

    আলেক্সান্ডার সরলথকে পেছন থেকে টেনে ধরে লাল কার্ড দেখেন এরিক গার্সিয়া। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত বদলে যায় ভিএআরের হস্তক্ষেপের পর। ৭৮ মিনিটের এই লাল কার্ডের পর বার্সাকে পরের সময়টা কাটাতে হয়েছে দশজন নিয়ে।

    জুলস কুন্দে ও লেভানডফস্কির এই হতাশা গোলের সুযোগ নষ্টের
    জুলস কুন্দে ও লেভানডফস্কির এই হতাশা গোলের সুযোগ নষ্টের, রয়টার্স
     

    একজন কম নিয়ে খেলা ওই সময়েও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলেছে বার্সা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লেভানডফস্কির হেড আতলেতিকো গোলকিপার হুয়ান মুসো প্রতিহত করার পর অবশ্য আর কোনো ভালো সুযোগ তারা তৈরি করতে পারেনি। রেফারির শেষ বাঁশির পর উল্লাসে মেতে ওঠে ৭০ হাজারের বেশি দর্শকের মেত্রোপলিতানো।

    এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে বার্সেলোনাকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়েছিল আতলেতিকো, দুবারই খেলেছিল ফাইনালে। এরপর অবশ্য ইউরোপীয় মঞ্চে আর ভালো করতে পারেনি দলটি। এবারের আগে সেমিফাইনালে খেলার সর্বশেষ অভিজ্ঞতা ২০১৭ সালের।

  • বায়ার্ন ম্যাচের আগে রিয়ালের দুশ্চিন্তার নাম এমবাপ্পে

    সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। লা লিগায় শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে হেরে এখন শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় আছে দলটি। বিশেষ করে গতকাল রাতে মায়োর্কার কাছে হারের পর পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। লিগে ৮ ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সেলোনা এখন এগিয়ে আছে ৭ পয়েন্টে। ৩০ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭৬ আর রিয়ালের ৬৯।

    লিগ বিবেচনায় এই ব্যবধান অনেক বড়। নাটকীয় কিছু না হলে রিয়ালের জন্য ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। শুধু লা লিগাতেই নয়, রিয়ালের দুশ্চিন্তা আছে বায়ার্নের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ঘিরেও। এই ম্যাচের আগে দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অফ ফর্মও এখন রিয়ালের ভাবনা বাড়িয়েছে।

    লা লিগায় এমবাপ্পে সর্বশেষ গোল করেছেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর রিয়াল লিগে ম্যাচ খেলেছে ৭টি, যার মধ্যে ৪টিতে এমবাপ্পে মাঠে নামেননি। হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন তিন ম্যাচে, আর অন্য ম্যাচটিতে ছিলেন বেঞ্চে।

    আর যে তিন ম্যাচে খেলেছেন, সেগুলোতেও গোলের দেখা পাননি তিনি। আর এই ৭ ম্যাচের ৩টিতেই হার দেখেছে রিয়াল। এই হারগুলোই এখন লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে রিয়ালের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে
    মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে, রয়টার্স

    লা লিগার হিসাব বাদ দিলে এমবাপ্পে এখন সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে গোল পাননি। ফুটবলের তথ্যভিত্তিক পোর্টার স্ট্যাটস ফুট বলছে, এটাই রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পের দীর্ঘতম গোলখরা। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এমনটা ঘটেছিল।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচের মধ্যে দুটিতে চোটের কারণে খেলা হয়নি এমবাপ্পের। অন্য দুই ম্যাচে খেললেও পাননি গোলের দেখা। ফলে বায়ার্ন ম্যাচের আগে এমবাপ্পের গোলে ফেরার দিকেই এখন সবার চোখ। কারণ, তাঁর ছন্দহীনতার প্রভাব সামগ্রিকভাবে রিয়ালকে চাপে রেখেছে। এখন এমবাপ্পের গোলই পারে এই চাপ থেকে রিয়ালকে এবং তাঁকে বের করে আনতে।

  • বায়োমেট্রিক জটিলতার তিন ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ মিলবে সিম

    ঢাকা

  • বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা পাঠানোয় আর বাধা নেই

    জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল। চার দিনের জন্য এসব সেবা সীমিত করা হয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেননি।

    গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    গত রোববার রাতে এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন থেকে ওইসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাকা পাঠাতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা দৈনিক ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

    এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

  • বিকাশ, রকেট ও নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না, নির্দেশনা আসছে

    ঢাকা
  • বিচ্ছেদ থেকে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ, বারবার আলোচনায় সুস্মিতা

    বিচ্ছেদের পর সদ্যই নতুন করে সংসার পেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়। তাঁকে বহু মানুষ যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনি কটাক্ষও করেছেন অনেকে। এসবের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিকৃত যৌন ইচ্ছা, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ—কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় সুস্মিতা।

    যেভাবে পরিচিতি
    সুস্মিতা রায়কে দর্শক ‘জগদ্ধাত্রী’ থেকে শুরু করে ‘কৃষ্ণকলি’, ‘অপরাজিতা অপু’ ধারাবাহিকে দেখেছেন। সুন্দরবন থেকে এসে টলিউডে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এত কাজের মধ্যে তাঁকে সব থেকে বেশি খ্যাতি দিয়েছিল কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকটি। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং, ব্যবসা—সবটাই একা হাতে সামলাচ্ছেন।

    জন্মদিনে বিচ্ছেদের ঘোষণা!
    ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ছিল সুস্মিতার জন্মদিন। এদিনেই জানা যায়, তাঁর বিচ্ছেদের খবর। সামাজিক মাধ্যমে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন সুস্মিতা। এদিন সুস্মিতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবর তুলে ধরেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘ভালো থাক। বড় হ আরও। জন্মদিনে, আমার শেষতম শুভেচ্ছায় অনেক ভালো থাকিস। নতুন অধ্যায় ভালো হোক।’ এরপরই বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমরা আলাদা হচ্ছি। কিছু জিনিস দু তরফে মিলল না, মন খারাপ দু তরফেই। সেটা কাটিয়েই এগিয়ে যাওয়া হোক!’ সেই সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চর্চা বা আলোচনা না করার অনুরোধও করেন সব্যসাচী। আর এই পোস্ট যে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমেই, তা–ও জানিয়ে দেন।
    দম্পতির বিচ্ছেদের খবর মেনে নিয়েছেন সুস্মিতার দেবর, তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তাঁরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’ উল্লেখ্য, আড়াই বছর আগেও একবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সব মিটমাট করে আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিচ্ছেদে এসে থামল তাঁদের পথচলা।

    সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    নতুন শুরু
    বিচ্ছেদের পর চলতি মাসেই নতুন করে জীবন শুরু করেছেন সুস্মিতা। গত ১৮ মার্চ  রাতে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী, তথা ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই। বিয়ের ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখেছিলেন, ‘এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। একটা শব্দ শোনার আশা—মা ডাক। আজ ৩৬ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভণিতা করার সময় নেই৷ নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম…তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো৷’

    আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    নতুন অভিযোগ
    বিয়ের পর নতুন করে আবার চর্চায় সুস্মিতা ও সব্যসাচী। এর মধ্যেই গতকাল রাতে সাবেক স্বামীর সঙ্গে একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন সুস্মিতা। সেখানে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ অভিনেত্রীর। এরপর তিনি লাইভে আসেন। সেখানেই অতীত তুলে ধরেন। অভিযোগ করেন, এখনো চক্রবর্তী পরিবার; অর্থাৎ সব্যসাচী ও সায়ক তাঁর গোপন কথা ফাঁস করার হুমকি দিচ্ছেন। তাই নিজেই সব জানাবেন বলে জানান। সেই লাইভেই নিজের একাধিক বিয়ে ও সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই সাবেক স্বামী সব্যসাচীর বিকৃত যৌনতা নিয়ে মুখ খোলেন। সুস্মিতার দাবি, বিয়ের পরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সব্যসাচীর।

    সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ
    সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ

    সুস্মিতার দাবি, তাঁর সামনেই একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সব্যসাচী। এ ছাড়া বিভিন্ন জিনিস ও টাকাপয়সা তো নিয়েছেনই। সুস্মিতার যুক্তি, তিনি ভালোবেসে সবটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ের পর বাধ্য হয়েছেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ, চক্রবর্তী পরিবার চায়নি, সন্তান আসুক তাঁর কোলে।

    এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে। আমার সঙ্গে আলাপ দ্বিতীয় বিয়ের সময়। আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি। ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি। আমি মার খেয়েছি। সুস্মিতার মারধর, অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিল। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হতো। আমার চরিত্র নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন উঠত। এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তাঁর টাকায়। সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত। বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে। বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার পক্ষে–বিপক্ষে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার পুরোনো জীবন নিয়ে ক্ষোভ না ঝেড়ে কাজ আর নতুন সংসারে মন দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন সুস্মিতা ও সব্যসাচীকে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব