ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় এ অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। আঙ্কারা এ ঘটনাকে কয়েকটি ‘পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ সংঘাত’ হিসেবে দেখছে না। এমনকি একে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় হিসেবেও মনে করা হচ্ছে না।
তুরস্কের মতে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে। এর প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বহু দেশকে স্পর্শ করতে পারে। আঙ্কারার দৃষ্টিতে, ইরানের ওপর হামলার ঘটনা অঞ্চলটিতে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি করবে এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।
আর এ কারণেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং প্রেসিডেন্ট পরিচালিত প্রশাসনের প্রতিনিধিরা একের পর এক বিবৃতি দিয়েছেন। এসব বিবৃতিতে হামলার নিন্দা, গভীর উদ্বেগ এবং বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে।
এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে, তখন এরদোয়ান একটি বিবৃতি দেন। এরদোয়ান ইরানের ওপর এ হামলার নিন্দা জানান। কূটনৈতিক সমাধান ও যুদ্ধবিরতির কথা বলেন, যাতে পুরো অঞ্চল বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই দিনে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখা যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জোর দিয়ে বলেছে, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়েই সম্ভব। প্রয়োজনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় তুরস্ক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে।
একই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান বলেন, চলমান পরিস্থিতি শুধু সরাসরি জড়িত পক্ষগুলোর জন্য হুমকি নয়, এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই, জরুরিভিত্তিতে সংলাপ ও আলোচনার পথ আবারও চালু করা প্রয়োজন।
এসব বিবৃতির মধ্য দিয়ে আঙ্কারার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তুরস্কের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা কেবল ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা নিশ্চিত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

দুই দিন পর, ২ মার্চ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আরও কঠোর বক্তব্য দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। এরদোয়ান বলেন, ইরানের জনগণের দুঃখ-কষ্টে পাশে রয়েছে তুরস্ক।
এটি শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বয়ান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি স্পষ্ট ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি অর্জন ও কূটনীতির পথ আবার চালু না হওয়া পর্যন্ত আঙ্কারা সব পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে।
এরদোয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ক নিজেদের সীমান্তের কাছে যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ, উত্তেজনা ও ব্যাপক সহিংসতা দেখতে চায় না। এর পরিণতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।
এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বোঝা কেউই বহন করতে পারবে না। তাই এ আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলতে হবে।
পরদিন ৩ মার্চ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করা ও আলোচনায় ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে আঙ্কারা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভ্যন্তরীণ সংকটের ঝুঁকি
এ মন্তব্য তুরস্কের অবস্থান বোঝার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আঙ্কারা যুদ্ধকে কেবল সামরিক মানচিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে না, বরং পরিবহনপথ, জ্বালানিবাজার, বাণিজ্যপথ ও অভ্যন্তরীণ সামাজিক প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করছে। কেননা, তুরস্কের অর্থনীতি বহুলাংশে আমদানিনির্ভর। কাজেই হরমুজ প্রণালির কাছে যুদ্ধ মানে তুরস্কেও মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও নতুন ধরনের অস্থিরতার সম্ভাবনা দেখা দেওয়া।
ভূরাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার এ সংযোগ তুরস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি ঘনমিটার গ্যাস আমদানি করে তুরস্ক, যার মধ্যে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ঘনমিটার এলএনজি হিসেবে আসে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ অর্থনীতির ওপর জ্বালানির বোঝা ও ভোক্তাদের শুল্ক ভর্তুকির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
তবে আঙ্কারার অবস্থানকে কেবল অর্থনীতির সঙ্গে সীমাবদ্ধ রাখাটা ভুল হবে। তুরস্কের ধারণা, সামরিকভাবে ইরানকে দমন করলেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবে না। বরং এটি আঞ্চলিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে ধ্বংস করবে। ইরাক ও সিরিয়া থেকে শুরু করে ককেশাস ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নতুন ধরনের যুদ্ধ, প্রক্সি সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পথ উন্মুক্ত করবে। এটিই আঙ্কারার কৌশলগত মূল আশঙ্কা।

সিরিয়া, ইরাক, দক্ষিণ ককেশাস ও পণ্য পরিবহনের পথগুলোকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। এ কারণে তুরস্কের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব রাখে। এরপরও ইরানের ওপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরোধিতা করেছে আঙ্কারা।
এরদোয়ান আর ফিদান বারবার বোঝাতে চাইছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার চেয়ে ভঙ্গুর ও দ্বন্দ্বপূর্ণ ভারসাম্য বজায় থাকা ঢের ভালো।
গত দুই সপ্তাহে তুরস্কের এ যুক্তি আরও গভীর ও গুরুতর রূপ নিয়েছে। ১২ মার্চ হাকান ফিদান জানান, ইরানে যুদ্ধ উসকে দিতে কিংবা জাতিগত বা ধর্মের ভিত্তিতে সংঘাত তীব্র করতে পারে, এমন কোনো পরিকল্পনায় সায় দেবে না আঙ্কারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা প্রয়োজন। যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তুরস্ক জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
মোটাদাগে তুরস্কের আশঙ্কা শুধু ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া নিয়ে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া নিয়েও। তুরস্কের জন্য ইরানে যুদ্ধ মানে শুধু শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন নয়, বরং সীমান্তের কাছাকাছি বিস্তৃত এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়া। এর প্রভাব অনিবার্যভাবে ইরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
যুদ্ধ সীমান্তে কড়া নাড়ছে
এমন আশঙ্কা কল্পনাপ্রসূত নয়। ৯ ও ১০ মার্চ এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে তুরস্ক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই দিন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তা প্রতিহত করে। এ ঘটনায় আঙ্কারা তেহরানকে জানিয়েছে যে এমন লঙ্ঘন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
এমন ঘটনা আবারও ঘটলে পাল্টা প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেবে আঙ্কারা, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন হাকান ফিদান। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শুরু করেছে, এ বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে যুদ্ধ তুরস্কের সীমান্তে কড়া নাড়ছে, দেশটির সার্বভৌমত্বকে স্পর্শ করছে।
তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি স্থল সীমান্ত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা কেবল নীতিগত বা আদর্শগত অবস্থান নয় বরং এটি আত্মরক্ষার একটি রূপও। তুরস্ক এমন কোনো মুহূর্ত এড়াতে চাইছে, যেখানে অন্যের যুদ্ধ নিজের দেশের সংকটে পরিণত হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঙ্কারা ইসরায়েলের এখনকার কর্মকাণ্ডকে কেবল হুমকির প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছে। এর লক্ষ্য হলো, পুরো অঞ্চলের ওপর জোরপূর্বক নতুন ক্ষমতার বিন্যাস প্রতিষ্ঠা করা। এই মূল্যায়ন দেখা যায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এবং দেশটির কূটনৈতিক বয়ানে।
আঙ্কারার কাছে ইরানে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়। তুরস্কের রাজধানীতে উদ্বেগ রয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের পর এমন কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, যে আঞ্চলিক শক্তির কেন্দ্র এবং ইসরায়েলের সামরিক-রাজনৈতিক সম্প্রসারণে বাধা দেয়।
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল তুরস্ককে উপেক্ষা করতে পারবে না।’ তিনি তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ‘তেহরান থেকে আসা বিপদ ও আঙ্কারার শত্রুতার বিরুদ্ধে’ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিসরে এ যুক্তি কার্যকরভাবে চালু আছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মাঝামাঝি থাকা তুরস্ক কার্যত এমনই একটি দেশ। তুরস্কের নিজস্ব সামরিক, কূটনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে। তাই তুরস্ক কৌশলগতভাবে মনে করে না যে ইরানের পরাজয় সংঘাতের সমাপ্তি আনবে না। বরং আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রধান প্রতিপক্ষ তুরস্ক
এমন বিপদের আশঙ্কা শুধু তুরস্কের মধ্যে নয়, এরই মধ্যে ইসরায়েলিদের মনোভাবেও এমন কথা বারবার উঠে এসেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আল-জাজিরা জানায়, ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদেরা ক্রমেই তাঁদের মনোযোগ পরবর্তী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুরস্কের দিকে ঘুরিয়ে নিচ্ছেন।
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত বলেছিলেন, ইসরায়েল তুরস্ককে উপেক্ষা করতে পারবে না। তিনি তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ‘তেহরান থেকে আসা বিপদ ও আঙ্কারার শত্রুতার বিরুদ্ধে’ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিসরে এ যুক্তি কার্যকরভাবে চালু রয়েছে। এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ককে দেখছে ইসরায়েল।
এ মাসের শুরুর দিকে বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসে। তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নাফতালি বেনেতের বরাতে প্রতিবেদন করে, ইরানের পর ইসরায়েল চুপ করে বসে থাকবে না। আর তখনকার পরিস্থিতি নির্ভর করবে তুরস্কের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর। এ জন্যই ইরানের চলা যুদ্ধকে তুরস্ক শুধু একটি যুদ্ধ এবং ইরানকে দুর্বল করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে না। বরং নিজেদের ওপর ক্রমেই বাড়তে থাকা চাপ হিসেবেও দেখছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্কের নেতৃত্ব একই সঙ্গে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে তাঁরা ইরানের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানাচ্ছে। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করা হচ্ছে। বেসামরিক মানুষ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি সবার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া চালু করতে চাচ্ছে। এমনকি কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো যাতে পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, সেই প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তুরস্ক নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে। কারণ, দেশটি এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে যে যদি সংঘাত চলতে থাকে, তুরস্কের ভূখণ্ড, অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বার্থ সরাসরি চাপের মুখোমুখি হবে।
বড় পরিসরে দেখতে গেলে, তুরস্কের এখনকার অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শাসনকাঠামোর সংকটকে প্রতিফলিত করছে। এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। যদিও তা ছাইচাপা আগুন হয়ে ছিল। ইরানের হামলার মধ্য দিয়ে সেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। সেই সঙ্গে তা ইরান, সিরিয়া, ইরাক, লেবানন, গাজা, জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য পরিবহন, জাহাজ চলাচল, অভিবাসনসহ নানান সংকটকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আরটি