• Colors: Purple Color

চট্টগ্রাম মহানগরের আকবর শাহ এলাকায় একটি ফোম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের চারটি এবং বন্দর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নির্বাপণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে কারখানায় কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৩৬ জন; জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জন।

এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে। আইনি জটিলতা থাকায় বাকি একটি আসনের প্রার্থিতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া ৪৯  প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। আজ সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিন্জ, সূবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার।

এই তালিকায় আরও রয়েছেন ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, মোসা. নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম।

একই সঙ্গে ছয়জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিনের নামও গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন। তবে আপিল শুনানি শেষে গত সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিলের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইসি। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন মনিরা শারমিন।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ায় এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে যান। আদালত নির্বাচন কমিশনকে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আগামী ২ মে নুসরাতের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই হবে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন আবার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলও হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) এ তথ্য জানিয়েছে। এই বৈশ্বিক অবনতির তালিকায় বাংলাদেশও পিছিয়েছে। ২০২৬ সালের সূচকে গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫২তম।

আরএসএফ প্রতিবছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার চিত্র নিয়ে একটি সূচক প্রকাশ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ থেকে শুরু করে ‘ভালো’—এই পাঁচটি স্তরে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

আরএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। গত বছর (২০২৫) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। অর্থাৎ এক বছরে সূচকে আরও তিন ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের ২০ শতাংশের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তাঁদের বড় একটি অংশেরই মূলধারার গণমাধ্যমের নাগাল পাওয়ার সুযোগ কম। তবে দেশে সংবাদ ও তথ্য আদান-প্রদানে ইন্টারনেটের ভূমিকা ক্রমে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

[caption id="attachment_272852" align="alignnone" width="835"] সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।[/caption]

গণমাধ্যমের চিত্র

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান দুই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার কোনো ধরনের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নেই। তারা সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংগঠন বাসসের অবস্থাও একই।

বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে আরএসএফ জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ হাজার সংবাদপত্র ও সাময়িকী, কিছু কমিউনিটি রেডিওসহ ৩০টি রেডিও, ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং কয়েক শ নিউজ পোর্টাল রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যমুনা টিভি, সময় টিভি ও একাত্তর টিভির মতো জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেলগুলো আগে শেখ হাসিনা সরকারের সমর্থক ছিল। তবে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ দুই দৈনিক, ‘প্রথম আলো’ এবং ইংরেজি ভাষার ‘দ্য ডেইলি স্টার’ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আরএসএফ বলছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ওই সময় সেন্সরশিপ, সাইবার হয়রানি, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার চাপ, বিচারিক হয়রানি, দমন–পীড়নমূলক আইন ও পুলিশের সহিংসতার মুখে সাংবাদিকতা চরম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে।

আইনি কাঠামো

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) প্রবর্তন করেছিল। এই আইন সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত দমনমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ এবং সোর্সের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সুযোগ দেয়। এমন পরিবেশে সম্পাদকেরা প্রায়ই ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বা নিজেদের লেখায় নিজেরা কাঁচি চালাতে বাধ্য হন।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের অধিকাংশ বড় গণমাধ্যম এখন গুটিকয় বড় ব্যবসায়ীর মালিকানায়। তাঁরা গণমাধ্যমকে প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার ও মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। ফলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার চেয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দেন বলে আরএসএফ উল্লেখ করেছে।

আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট

আরএসএফের মতে, গত এক দশকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হামলায় অনেক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে ও হয়রানি করছে।

নিরাপত্তা

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৩০ জনের বেশি সাংবাদিক ভিত্তিহীন মামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

আরএসএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো পুরুষশাসিত পেশা হিসেবে রয়ে গেছে। নারী সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচারণার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএসএফ ২০০২ সাল থেকে এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে ঠেকেছে। আরএসএফ বলছে, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থান

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘ভালো’ অবস্থায় রয়েছে, এমন দেশের তালিকায় শীর্ষে আছে মাত্র সাতটি দেশ। তালিকার প্রথম তিনটি দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। ফ্রান্স ‘সন্তোষজনক’ ২৫তম অবস্থানে থাকলেও এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৬৪তম। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সাত ধাপ নিচে নেমেছে।

আরএসএফ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণকে ‘পদ্ধতিগত নীতিতে’ পরিণত করেছেন। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি সালভাদরীয় সাংবাদিক মারিও গুয়েভারার কথা উল্লেখ করেছে। অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁকে প্রথমে আটক ও পরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নামী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থানে বড় পতন হয়েছে। ১১ ধাপ পিছিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ৯৮তম। অন্যদিকে অপরাধী চক্র ‘মারাস গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে অভিযানের জেরে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০৫ ধাপ নিচে নেমেছে এল সালভাদর। দেশটির বর্তমান অবস্থান ১৪৩তম।

২৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য। সূচকের তলানিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে রাশিয়া ১৭২তম এবং ইরান ১৭৭তম অবস্থানে রয়েছে।

আরএসএফ আরও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুদ্ধ ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূচকে ইসরায়েলের অবস্থান ১১৬তম।

সংগঠনটি বলেছে, ‘২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২২০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন।’

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এখন এক বৈশ্বিক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত আইনগুলোকে পাশ কাটিয়ে জরুরি অবস্থা এবং প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এখন বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের নিশানা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১০টিতেই (৬০ শতাংশের বেশি) সংবাদকর্মীদের নানাভাবে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বড় উদাহরণ হিসেবে ভারত (১৫৭তম), মিসর (১৬৯তম), জর্জিয়া (১৩৫তম), তুরস্ক (১৬৩তম) ও হংকংয়ের (১৪০তম) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, ‘তথ্যের অধিকারের ওপর হামলা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সূক্ষ্ম উপায়ে হচ্ছে। যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা এখন আর কোনো রাখঢাক করছে না।

বোকান্দে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা, অযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি, লুটেরা অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন মাধ্যম।

বোকান্দে সাংবাদিকদের ‘অপরাধী’ বানানোর এই বৈশ্বিক প্রবণতা বন্ধে গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিকদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তিটি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উড়োজাহাজগুলোর দাম ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছাবে এবং ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাকি সবগুলো বিমান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, এই উদ্যোগ নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই বিশাল বিনিয়োগ এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বন্ধ কলকারখানা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনে বন্ধ হওয়া কলকারখানা পর্যায়ক্রমে চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, এতে করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে। তারা ভালো থাকলে এই দেশ ভালো থাকবে।
 
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মে দিবসে নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
 
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার শুধু শ্রমিকদেরই অধিকার বঞ্চিত করেনি, সবাইকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পুরো দেশের অর্থনীতি আমদানি-নির্ভর করা হয়। একইসঙ্গে দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর ধ্বংস করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়।
 
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তাদের সরকারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন এ দেশে কলকারখানা তৈরি করে। খেটে-খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে, এ দেশ ভালো থাকবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজটসহ সাধারণ মানুষের সমস্যার জন্য হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সরকার এ দেশের খেটে-খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। জায়গা ঠিক করে ধীরে ধীরে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে।
 
একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব দরবারে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিন্তু এতে লাভ হবে না, বিশ্ব দরবার জানে এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, স্বৈরাচারকে যেভাবে জবাব দেওয়া হয়েছে, একইভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।
 
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আসুন, একসঙ্গে দেশ গড়ি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের পুরোনো মিত্র যুক্তরাজ্যের হুইস্কি আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সম্মানে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজা ও রানির যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘রাজা ও রানি প্রায় না বলেই এমন একটি কাজ করিয়ে নিয়েছেন, যা আর কেউই করাতে পারেনি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের হুইস্কি ও বোরবন (একধরনের হুইস্কি) খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল, সেটিও সরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে, এ সিদ্ধান্ত সব ধরনের হুইস্কির ওপর শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে আইরিশ হুইস্কিও রয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনবিসির।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণায় চাপে থাকা ডিস্টিলারি খাত কিছুটা স্বস্তি পাবে।

চার দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়া সফর করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের প্রতি রাজা তাঁর ‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা’ জানিয়েছেন এবং ‘প্রেসিডেন্টের এই সৌজন্যের জন্য তিনি এক পেগ তুলবেন।’

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘স্কটল্যান্ডের জন্য দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে স্কটিশ অর্থনীতিতে লাখ লাখ পাউন্ড ক্ষতি হচ্ছিল।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানির সম্মানে’, যাঁরা সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সফর শেষ করে নিজ দেশে ফিরেছেন।

ট্রাম্প বলেন, স্কটল্যান্ড ও কেনটাকির মধ্যে হুইস্কি ও বোরবন শিল্পের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কাঠের ব্যারেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে। কেনটাকিতে ব্যবহৃত বোরবন (একধরনের হুইস্কি) ব্যারেলের বড় ক্রেতা স্কচ হুইস্কি শিল্প, যা প্রতিবছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ব্যারেল আমদানি করে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছি, যাতে স্কটল্যান্ড ও কেনটাকি আবার ব্যবসা শুরু করতে পারে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হুইস্কি রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ফলে স্কটিশ হুইস্কির বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, যা তাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। একই সঙ্গে স্থগিত থাকা একক মাল্ট হুইস্কির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আবার চালুর আশঙ্কাও ছিল।

স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক গ্রেম লিটলজন জানান, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, শুল্কের কারণে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের রপ্তানি ক্ষতি হচ্ছিল, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড।

গ্রেম লিটলজন বলেন, এটি শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি। দীর্ঘদিনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। হয়তো রাষ্ট্রীয় সফরটি চূড়ান্ত সমাধানে সহায়ক হয়েছে, আর রাজা তাঁর ‘‘রাজকীয় স্পর্শ’ যোগ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, ‘এটি আমাদের স্কচ হুইস্কি শিল্পের জন্য দারুণ খবর। প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড রপ্তানিমূল্যের এ খাত হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে।’

এদিকে সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে তাদের যুক্তরাজ্য সরকার শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, আগের দিন বৃহস্পতিবার ঘোষিত পরিবর্তন সব ধরনের হুইস্কির শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে আইরিশ হুইস্কিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্যচুক্তি হয় যুক্তরাজ্যের। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে একটি সাধারণ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের রপ্তানিকারকদের জন্য আগে যে শূন্য-শুল্ক সুবিধা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। এতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো স্কচ হুইস্কিসহ অন্যান্য মদজাতীয় পানীয়ের ওপর নতুন শুল্ক আরোপিত হয়।

স্কটল্যান্ডে স্কচ হুইস্কি শিল্পে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট পণ্য রপ্তানির ২৩ শতাংশই অর্জিত হয়েছিল হুইস্কি থেকে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব