• Colors: Purple Color

দুই পেনাল্টির ম্যাচে জিতল না আর্সেনাল-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কেউই। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষ করেছে তারা।

অ্যাটলেটিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় আর্সেনাল খেলা শুরু করেছিল ভিক্টর  ইয়োকেরেশকে নিয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আর্সেনালের হয়ে পেনাল্টিতে গোল করেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ করতে থাকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। লুকমান ও গ্রিজম্যান কাছাকাছি সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে ম্যাচে সমতায় ফিরতে অ্যাটলেটিকোকে যেতে হয় আলভারেজের কাছে। এপ্রিলে কোপা দেল রে ফাইনালের শুট-আউটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন। তবে এবার আর ভুল করেননি তিনি।

ম্যাচের শেষদিকে আর্সেনাল একটি পেনাল্টি পেয়েছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

সেমির প্রথম লেগ শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) লন্ডনে ফিরতি লেগের জন্য রোমাঞ্চ জমা থাকল।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট এক হাজার ৮৫৫টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এর মধ্যে হত্যা মামলা ৭৯৯টি। অন্যান্য ধারায় এক হাজার ৫৬টি মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম–১ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, এক হাজার ৮৫৫টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে হত্যা মামলা ৪৮টি। অন্যান্য মামলা ১১০টি। বাকি এক হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত চলমান আছে। এই বিপুল সংখ্যক মামলার তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারাধীন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক সক্রিয়ভাবে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তিগণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পঙ্গু করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

১১৫টি সাবরেজিস্ট্রার পদ শূন্য

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য অনুমোদিত সাবরেজিস্ট্রার পদের সংখ্যা ৪৯৭টি। শূন্য পদ ১১৫টি। যার মধ্যে ৫ শতাংশ কোটায় পদোন্নতিযোগ্য ১৪টি পদ শূন্য। বাকি ১০১টি পিএসসির মাধ্যমে পূরণযোগ্য। এর মধ্যে ৪৩তম বিসিএসে ৩, ৪৪তমে ৮টি, ৪৫তমে ৬টি, ৪৬তমে ৪৭টি এবং ৫০তম বিসিএস হতে সাবরেজিস্ট্রার পদে ১৬সহ মোট ৮০ পদ পূরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫তম বিসিএস হতে সাবরেজিস্ট্রার ছয় প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে এক লাখ ৩৫ হাজার বালাম বহির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এক লাখ বালাম বহি সরবরাহ করা হয় এবং ৩৫ হাজার বালাম বহি বকেয়া ছিল। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বালাম বহির জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বরাবর কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি কিংবা বালাম বহি সংগ্রহ করা হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার বালাম বহির কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৩ হাজার ২৩৫ বালাম বহিয়া বকেয়া ছিল।

আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত অর্থবছরে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক চাহিদা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী বালাম বহি সরবরাহ না করায় বালাম বহির সংকট তৈরি করা হয়। বর্তমানে বালাম বহির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। দেশে এখন ৬৬ হাজার ৫৪৮টি বালাম রক্ষিত আছে। এ ছাড়া আরও ১০ হাজার বালাম বহি মুদ্রণ করেছে।

রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া এলাকায় একটি কালি তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারখানাটি টিনশেডের বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর১১টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দল।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত ২ হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা এই দুই মামলায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।

ওই পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিন পান, সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। পৃথক এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এসব মামলায় চেম্বার আদালতে তার জামিন স্থগিত করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশের জন্য ৩ মে দিন ধার্য করেছেন।

এ অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন হত্যার অভিযোগে দায়ে করা দুইটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আবেদন করে। একটি মামলায় ২ মার্চ এবং অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এই মামলা দুইটিতে তাকে জামিন দিলেন হাইকোর্ট।

 

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ মন্বতব্লেয করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

তিনি বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো- প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই আমরা বাংলাদেশি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া।

 

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)—এ দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা তুলে দিয়ে সংসদে দুটি বিল পাস হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিল দুটি পাস হয়ে যাওয়ার পর বিল নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে। সাধারণত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিল পাসের আগে এ ধরনের বিতর্ক হয়।

এই বিতর্কের এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিএনপির দলীয় লোক আখ্যা দিয়ে তাঁর অপসারণের দাবি তোলে বিরোধী দল। তবে সরকারি দল বলেছে, গভর্নর দলীয় ব্যক্তি নন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল আলাদাভাবে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কেউ বিল দুটির বিষয়ে জনমত যাচাই–বাছাই কমিটিতে প্রেরণের জন্য লিখিত নোটিশ দেননি। কেউ সংশোধনী প্রস্তাবও দেননি। ফলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রুমিন ছাড়া অন্য কোনো সদস্য বিলের ওপর আলোচনারও সুযোগ পাননি। কিন্তু বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বিলের ওপর আলোচনার জন্য কয়েক দফা হাত তোলেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল পাসের পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিলটি আনা হয়। এই বিলের ওপর রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। বিরোধী দলের সদস্যদের কেউ কেউ বক্তব্য দেওয়ার জন্য হাত তোলেন। তবে তাঁরা কেউ নোটিশ না দেওয়ায় স্পিকার কায়সার কামাল কাউকে সুযোগ দিচ্ছিলেন না।

একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়ালে তাঁকে সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আসলে বেশির ভাগ সদস্য আমরা এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধি আস্তে আস্তে রপ্ত করছি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ বিল নির্ধারিত সময়ে পাস করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে বিধি মেনে তিন দিন আগে নোটিশ দিয়ে বিলটি সংসদে আনা উচিত ছিল। তাঁরা একটু আগে বিলের কপি পেয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব না করার অনুরোধ করেন। যেহেতু আজই বিলের কপি দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি বিল দুটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

অবশ্য ততক্ষণে একটি বিল পাস হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিধি অনুযায়ী গতকাল বিলের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সময় মার্জনার এখতিয়ার স্পিকারের আছে। তখন স্পিকার বিলটি (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) পাসের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিল পাসের পর বিতর্ক

বিল দুটি পাস হওয়ার পর ফ্লোর নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাত্রই দুইটা আইন এখানে পাস করা হলো। আমরা জানি যে সরকারি দল এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাঁরা যেভাবে চাইবেন সেভাবে আইন পাস হবে। সেটাই হাউজের বাস্তবতা।’

আখতার বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বীমা করপোরেশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এটা কি কোনো ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে নাকি একটা পলিসিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে? এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ হয়েছে, সেভাবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তিদের মাথায় রেখে এ দুটি আইনে বয়সের সীমা তুলে ধরা হয় তাহলে অর্থমন্ত্রী যেভাবে দক্ষ লোক নিয়োগের কথা বলেছেন সেটার সঙ্গে বৈপরীত্য দেখা দেবে।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আইন পাস হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আমাদের কনসার্নগুলো এখানে জানিয়ে রাখছি।’

এনসিপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, বিএনপি ২০০১ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিল তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিজেদের মতো করে উপদেষ্টা বসানোর জন্য প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ করেছিল। তারপরে একটা দীর্ঘ ভোগান্তি জাতিকে পোহাতে হয়েছিল।

আখতারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর কিছু বলার থাকলে বলার অনুরোধ করেন স্পিকার কায়সার কামাল। তখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন আইনটি হয়েছিল তখন দেশের মানুষের গড় বয়স ছিল ৫৭। এখন ৭২ বছর। বিশ্বের প্রায় কোনো দেশে সিকিউটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে বয়সের সীমা নেই।

বিরোধী দলের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির যে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হচ্ছে, এখানে যোগ্য, দক্ষ ব্যক্তি যদি আসতে চান, আপনাকে এগুলোকে মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো সুযোগ নাই।’

বিরোধীদলীয় নেতা ও অর্থমন্ত্রীর বিতর্ক

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় স্পেস করে দেওয়া দরকার। কিন্তু একটা কথা আছে যে ‘মর্নিং সোজ দ্য ডে’। সরকারের দুই মাসে বেসিক যে জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো ‘বেসিক’ জায়গার কথা তিনি বলছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে এবং সাবেক গভর্নরকে যে পদ্ধতিতে বিদায় দেওয়া হয়েছে তা জাতি দেখেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সেগুলা জনগণ ও গণতন্ত্র কোনোটাই সাপোর্ট করে না। এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপাইয়ে পড়লাম।’

এভাবে যদি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় দেশ আগাবে কীভাবে—এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তো কার ইন্টেনশন কী সেটা দেখতে পারব না। এটা মনের ব্যাপার।’

শফিকুর রহমান বলেন, সবকিছুকে রাজনীতিকীকরণ, ক্ষেত্রবিশেষে গোষ্ঠী–পরিবার প্রাধান্য দিয়ে এগোলে দেশ আগাবে না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এ ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না। এখানে সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু উনারা প্রশ্ন তুলেছেন আমাদেরকে উত্তর দিতে হবে বিষয়গুলো।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো নিয়োগ হয়েছে, সবগুলো ছিল অরাজনৈতিক। যে কারণে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন। তিনি একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। এখন পর্যন্ত গভর্নরের যে ‘পারফরম্যান্স’ তাঁরা দেখেছেন, সেটা অন্য যেকোনো গভর্নরের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভালো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আর আপনারা যখন বিগত দিনে এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের এজটা বাড়িয়েছে, সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি করেন নাই।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অপসারণ দাবি

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক দেবেন না বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যদি সেটা হয় তাঁরা ধন্যবাদ দেবেন।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, ‘কিন্তু এখনকার গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের যিনি আছেন, উনার একটা পরিচয় কিন্তু আছে। সেটা হচ্ছে বিএনপির যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়েছিল, আমি যেহেতু জানি, উনি এই কমিটির একজন মেম্বার ছিলেন।’

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যদি এ রকম পরিচয় থাকে (গভর্নরের) তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আলোকে ওনাকে গভর্নর থেকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধান্তের আলোকেই একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ করা হোক।’

তখন স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলবেন কিনা যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকলে দলীয় পদ কিনা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নট দল।’

তখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক না। আর কোনো দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করা মানে দলের লোক না। বিরোধী দলের নির্বাচনী কার্যক্রমেও অনেকে সহায়তা করেছেন। যাঁরা তাঁদের দলীয় লোক নন। নির্বাচন বাংলাদেশে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখানে অনেকে সহযোগিতা করতে পারেন।

বিলে যা আছে

বিল দুটি পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়াম্যান ও কমিশনার পদে এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

এত দিন আইনে ছিল, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি বাংলাদেশ সিকিউটিরিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনার পদে নিযুক্ত হওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হন না বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনে বলা ছিল, কোনো ব্যক্তির ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে পারবেন না। সংসদে পাস হওয়া বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব