• Colors: Purple Color

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ দাবি করে তা সংসদে তোলার আহ্বান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ধারা রয়েছে বলে তখন আপত্তি উঠেছিল। সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিলও করতে পারে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি তোলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে আমাদের সঙ্গে আমেরিকার যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সে বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তার মধ্যে দুই দেশের আমদানি রফতনির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের মতো উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী- বাংলাদেশ থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রফতানি করি, তার তুলনায় আমেরিকা থেকে আমদানি কম। এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তার দাবি অনুযায়ী, তখন দেশের বিভিন্ন সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক থেকে বলা হয়েছিল, একটি অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে পারে না এবং এতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলেছিলেন নির্বাচনের পর একটি নির্বাচিত সরকার এসে এই চুক্তি করা উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষর করে।

রুমিন ফারহানা আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু প্রতিযোগিতামূলক নীতি ও বাণিজ্যিক শর্ত রয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার উত্থাপিত বিষয়টি গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় স্পিকার বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট অব অর্ডার শুধুমাত্র চলমান সংসদীয় কার্যক্রম বা সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়েই প্রযোজ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি ৩০১ বিধির উল্লেখ করে জানান, এটি একটি নতুন নীতিগত বিষয় হওয়ায় পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে উত্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই চুক্তিটি যদি সরকার চায়, তাহলে তা বাতিল করা সম্ভব। তাই চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।

জবাবে স্পিকার পুনরায় জানান, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনসাধারণকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে এসব পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।


Pause

Mute
Remaining Time -13:33

Close Player
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গরিব অসচ্ছল, সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সাধনের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম; গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি; মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি; নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।

তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

Copied from: https://rtvonline.com/

বজ্রপাতে দেশের ৮ জেলায় ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন, বরগুনায় দুইজন, ময়মনসিংহে একজন, বাগেরহাটে একজন, রংপুরে একজন, রাজবাড়ীতে একজন রয়েছেন ও পিরোজপুরে একজন রয়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৮ জেলায় এসব মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখি ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গত দুই দিনে বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কলাপাড়া থানার (ওসি) ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) ও রাস্তার কাজ করার সময় সাগর ইসলাম (১৮) নামে এক শ্রমিক মারা যান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি গ্রামে ও সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম মিয়া একই এলাকার হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিহত সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া গ্রামের মো. স্বাধীনের ছেলে।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

বরগুনা: বরগুনায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় আল-আমীন নামে এক জেলে ও নূরজামাল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আল-আমীন পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার বাসিন্দা এবং নূরজামাল আমতলী উপজেলার পূজাখোলা নামক এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলের দিকে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে  বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ওই গৃহবধূ রান্না করার জন্য বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে যাচ্ছে।

পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় হাঁস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আয়েশা আক্তার (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরনের চিঠি দেওয়া নাগরিকদের বৈধভাবে মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার শামিল। এ ছাড়া এ ঘটনা তাঁর সামাজিক মর্যাদাহানির সমার্থক। অবিলম্বে ওই চিঠি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ও জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, লেখক ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ এবং কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।

নাগরিকদের ইচ্ছেমতো বাক্স্বাধীনতা রোধ করা সরকারের নীতিগত অবস্থান কি না, এমন প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। চিঠির একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এতে বলা হয়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—রানী ইয়েন ইয়েন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ‘উপজাতীয়’ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। তর্কের খাতিরে এটি সত্য ধরে নিলেও প্রশ্ন থেকে যায়, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলা কি অপরাধ?

শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া অথবা কাউকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা নাগরিকের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত রাখতে নানা উপায়ে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। ওই মহল সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতেই এ ধরনের অভিযোগ এনেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে সাধারণ নাগরিকদের কথা বলার অধিকার হরণের চেষ্টা কিংবা কোনো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠরোধ এবং বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া দরকার।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর শেষবারের মতো লাশ দেখতে প্যারোলে মুক্তি চেয়েছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. শাহরুখ খান; কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় কারাফটকে বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহরুখের স্বজনেরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখের বাবা আবুল বাশার খান (৫৮) মারা যান। বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডে লাইনম্যানের চাকরি করতেন আবুল বাশার। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার রোডে নিজ বাসা থেকে পুলিশ ওয়ার্ড সভাপতি শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

শাহরুখের ভাই সালমান খান জানান, বাবার মৃত্যুর পর কারাগারে থাকা ছোট ভাই শাহরুখের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, ‘আপনারা কারাগারে যান, আমরা সেখানে বলে দিচ্ছি।’

সালমান অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে তাঁদের এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরে বিকেল পৌনে চারটায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চারটার দিকে মরদেহের সঙ্গে তিনজনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। মরদেহ দেখার জন্য কারা অভ্যন্তরে মাত্র পাঁচ মিনিট মরদেহ থাকতে দেওয়া হয়। পরে নগরের নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ি মসজিদে বাদ আসর শাহরুখের বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় সন্ধ্যায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

সালমান আরও জানান, তাঁর ছোট ভাই শাহরুখ খানকে ৫ আগস্টের পরে আটটি মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আরও তিনটি মামলায় আসামি করা হয়।

শাহরুখের আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, শাহরুখকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা প্যারোলে মুক্তির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ডিসি স্যার বলেছেন, আসামি শাহরুখের স্বজনদের কারাফটকে লাশ নিয়ে দেখা করানোর ব্যবস্থা করাতে। ডিসি স্যারের কথাটাই স্বজনদের আমি বলেছি।’

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্ত্রাসী চক্র জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান টিটন। সেই দ্বন্দ্বের মীমাংসার কথা বলেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় তাকে ডেকে আনা হয়। সেখানেই আগে থেকে ওতপেতে থাকা কিলার খুব কাছ থেকে গুলি করে টিটনকে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো আকস্মিক হামলা ছিল না। পরিকল্পিতভাবে টিটনকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মূলত কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার পর টিটন কোনো কাজ করতেন না। সম্প্রতি বসিলা হাট ইজারা নেওয়ার জন্য শিডিউল কিনেছিলেন। ওই এলাকার একক আধিপত্য কারাগার থেকে বের হওয়া ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের। তারাও ওই হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। এই নিয়েই পিচ্ছি হেলাল ও তার সহযোগী কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনির সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

সেই দ্বন্দ্ব মীমাংসার কথা বলেই ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে টিটনকে নিউমার্কেটের বটতলায় ডেকে আনেন পিচ্চি হেলাল। টিটন সেখানে আসার আগে থেকেই তাকে হত্যার জন্য সেখানে মোটরসাইকেলে করে মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি পরে অপেক্ষায় থাকে শুটাররা। মোট চারজনই এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়।

দুজন গুলি চালালেও বাকি দুজন অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের নিরাপত্তায় ছিল। আর এই কিলিং মিশনের সমন্বয় করে বাদল ওরফে কাইলা বাদল। বাদল ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডে ওঠে এসেছে ভাঙ্গাড়ি রনি, শাহজাহানসহ পিচ্চি হেলালের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম। যাদের প্রত্যেকের কাছেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র।

বাদল ও রনি গুলি কারার পর তাদেরকে মানুষ ধাওয়া দিলে বিডিআর ৩ নম্বর গেটের কাছে নিজের মোটরসাইকেল দিয়ে তাদের বের হতে সাহায্য করে শাহজাহান।

এদিকে টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় ৮/৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। 

মামলার এজাহারের বলা হয়, খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর ২০২৫ সালের ১৩ই আগস্ট আদালতের জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার কথা হতো। দুইবার তিনি আমাদের বাড়ি যশোরেও যান।

এতে আরও বলা হয় গত ঈদে আমার সঙ্গে তার দেখাও হয়। কিছু দিন আগে সে আমাকে জানায়, একটা শিডিউল কিনছি ইনশাআল্লাহ মোটামুটি কাজের মাধ্যমে থাকতে পারব। গত ২৬শে এপ্রিল আমাকে আবারো ফোনে বলেন, আমার সঙ্গে ইমামুল হাসান হেলাল পিচ্চি হেলাল, কাইলা বাদল, শাজাহান, ভাঙ্গাড়ি রনিদের বছিলা গরুর হাটের ইজারার শিডিউল নিয়ে ঝামেলা চলছে। এরপর ২৭শে এপ্রিল আমাকে আবার বলে, তারা আমাকে ডেকেছে সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার জন্য। আশাকরি সব ঠিক হয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমার কাছে খবর আসে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। টিটনের হত্যায় কারা জড়িত দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীরাই তাকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই বিস্তারিত বলা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব