• Colors: Purple Color

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেশের ৪ জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে ৩ জন, নেত্রকোণায় ৩ জন, হবিগঞ্জে ২ জন ও নোয়াখালীতে ১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববারও দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হন।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) নিহত হন।

একই সময় সদর উপজেলার হাওরের অন্য একটি স্থানে বজ্রপাতে আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

এছাড়া, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিন কৃষক আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়।

উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে মোনায়েম খাঁ পালান নামে এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন।

এছাড়া, উপজেলার কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম-সংলগ্ন গড়দার হাওরে মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক নিজ জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় আব্দুস সালাম (৩৫) বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা মান।

নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে তিনি বাদাম শুকাতে দিয়েছিলেন, আর বৃষ্টি শুরু হলে সেই বাদাম আনতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

বিএনপির একজন সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ (অপ্রয়োজনীয়) বলে উল্লেখ করায় জাতীয় সংসদে কিছু সময়ের জন্য হইচই ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই ‘আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।

বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় সরকার গঠন করা হয়েছে। আজকে এই সংসদে জুলাইকে ‘আননেসেসারি’ বলা হয়েছে, জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ সময় সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যা কিছু বলবেন স্পিকারকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ রিপ্রেজেন্টেড। প্রত্যেকের কি একই অনুভব হতে পারে? গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং এ বাক্‌স্বাধীনতার সফলতা নিয়ে বাক্‌স্বাধীনতার কারণে যে যাঁর বক্তব্য খোলাখুলিভাবে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করতে পারেন।’

স্পিকার কথা বলার সময়ও সংসদ সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার বলেন, ‘যখন স্পিকার কথা বলে, অনুগ্রহ করে সবাই চুপ করে বসে থাকবেন নিজের আসনে।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘সকলেরই বাক্‌স্বাধীনতা আছে এবং যদি কোনো বক্তব্য আপনাদের পছন্দ না হয়, এরপরেই তো আপনারা একজন বক্তব্য রাখবেন। তিনি এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে আপনাদের মতামত প্রচার করতে পারেন। সুন্দর ও শালীনভাবে যে যাঁর বক্তব্য জাতীয় সংসদে রাখবেন, এটাই আমরা আশা করি। অহেতুক একজন বক্তাকে কেউ ডিস্টার্ব (বিরক্ত) করবেন না। আপনার টার্ন (সময়) যখন আসবে আপনি আপনার বক্তব্য সুবিধামতোভাবে দেবেন।’

এরপর মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছেন। ওই সদস্য বলেছেন, তিনি বলেছেন ‘আননেসেসারি’ বিতর্ক করা যাবে না। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • জ্বালানি প্রবেশ করাতে ৩০ দিন সময় প্রয়োজন হবে।
  • পারমাণবিক বিকিরণ ঘটানো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে আরও ৩৪ দিন লাগবে।
  • নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় গ্রিডে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস লাগতে পারে।

ঢাকা

জাতীয় সংসদের দর্শক সারির গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের নামে। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সেই সাত বীর সন্তানকে স্মরণীয় করে রাখতে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একইসঙ্গে সংসদে প্রবেশের মূল ফটকের নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে।

সংসদে প্রবেশের মূল ফটক

সংসদের গ্যালারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান পাঁচধারী দর্শনার্থীরা। অনুমতি সাপেক্ষে থাকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগও। তাই সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি শুধু দর্শকের বসার স্থান নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সাক্ষীও। এতদিন ফুল ও নদীর নামে ছিল গ্যালারিগুলো।

বীরশ্রেষ্ঠদের স্বজনরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, আমরা এতে খুশি। অতীতের কোনো সরকার এমনভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের মূল্যায়ন করেনি।

সংসদ গ্যালারির প্রবেশ ফটক

নতুন নামকরণ অনুযায়ী ভিআইপি গ্যালারি-১ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ভিআইপি গ্যালারি-২ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে করা হয়েছে। এই দুইটি গ্যালারি সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত। গ্যালারি-৩ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, গ্যালারি-৪ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, গ্যালারি-৫ বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়াল মোহাম্মদ রুহুল আমিন, গ্যালারি-৬ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং গ্যালারি-৭ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মানিত করলে আমাদের কী অসুবিধা? আর জাতীয় সংসদ তাদের কারণে তৈরি, তাদের জন্য এই দেশের স্বাধীনতা। আমরা যে স্বাধীন হয়েছি, যাদের রক্তের ত্যাগের বিনিময়ে, সেই ত্যাগী মানুষগুলোকে আমরা এখানে নিয়ে আসি।’

তিনি আরও বলেন, চেতনা বিক্ষিপ্ত নয়, স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ার অংশ এটা। এটা সকলের জন্য প্রেরণা। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে তাদের জন্য প্রেরণা। যারা এই দেশের নাগরিক ছিলেন, যুদ্ধে যেতে পারেননি, তাদের জন্য প্রেরণা। এখানে কেউ চিরদিন থাকবে না, কিন্তু এই নাম থেকে যাবে এবং এই দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই স্মরণ করবে যে স্বাধীনতার মূল বীর সন্তান কারা।

/এসআইএন

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে এই শব্দটি উচ্চারিত হতো। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু উগ্রপন্থি গ্রুপ এবং মৌলবাদী রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এ ধরনের জঙ্গিবাদের প্রচলন নেই।

সম্প্রতি নিরাপত্তা এক চিঠি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সবসময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। 
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) যেগুলো আছে, সেগুলো সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এসব স্থাপনায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এটা আগে যেমন ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা) ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। 

পাশাপাশি এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত (পুনঃ ২ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে। 
 

এছাড়াও খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এবং এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব