ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের মধ্যাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দের পাশাপাশি রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার মুখে ইরানের আরও অনেক শহরেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।

বার্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসে একটি রেডিও স্টেশন লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া খোররামাবাদ ও উর্মিয়া শহরের দুটি আবাসিক এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানে চলমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হামলার তীব্রতা বিবেচনায় এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসফাহান, কারাজ ও আহভাজেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে একটি হাসপাতালও হামলার কবলে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮০ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থাপনার তালিকায় রয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব কার্যালয়ও।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন শিশু রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টির পর পূর্বাঞ্চলের নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকার কোলটান খনিতে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। সেই সময় খনির ভেতরে ও আশপাশে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তারা মাটির নিচে চাপা পড়েন।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর গোমার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি ভূমিধস নয়, বরং বোমা হামলার ঘটনা এবং এতে মাত্র পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে খনিতে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি নিজেই দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন। তার দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রুবায়া অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয়। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে এটি ব্যবহৃত হয়।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষদিকে একই এলাকায় আরেকটি খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় কঙ্গো সরকার অভিযোগ করেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অবৈধ খনন কার্যক্রম চালানোর কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। সূত্র: আল-জাজিরা

 

হালনাগাদ প্রযুক্তি এবং নজরকাড়া নকশার নতুন মডেলের গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’। প্রদর্শনীতে একই স্থানে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
 

মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তাই এই প্রদর্শনী প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সহায়তা করবে।

প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে সহজেই মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি দেখার সুযোগ মিলছে। দুই চাকার বাহনের মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটর যন্ত্রাংশও প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সেমস-গ্লোবালের তথ্যমতে, ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এর ফলে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ঢাকা বাইক শোতে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আর তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাইক।

প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
 

প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আইসিসিবির ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ২ এবং ৪ নম্বর হলে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৩ নম্বর হলে দুই চাকার বিভিন্ন মোটর এবং বৈদ্যুতিক বাইকের দেখা মিলছে। রয়েছে পছন্দের গাড়ি ও বাইকের টেস্ট ড্রাইভ করার সুযোগও। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

মঙ্গল গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার। গ্রহটিতে এমন কিছু জৈব অণুর সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তির মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের নিরক্ষরেখার কাছাকাছি একটি প্রাচীন শুকনো হ্রদের তলদেশ থেকে এসব অণু শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সাতটি অণুর মধ্যে পাঁচটিই আগে কখনও মঙ্গলে দেখা যায়নি। তবে এগুলো প্রাচীন কোনো জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে বা ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে— সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবুও এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যদি কখনো মঙ্গলে অণুজীবের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে তার রাসায়নিক চিহ্ন এখনও টিকে থাকতে পারে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যামি উইলিয়ামস। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি মঙ্গলে প্রায় ৩৫০ কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত থাকা জৈব পদার্থের সন্ধান পেয়েছি। এটা কি জীবন— তা এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

২০১২ সাল থেকে কিউরিওসিটি রোভারটি মঙ্গলের গেইল ক্রেটার ও মাউন্ট শার্প এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল— রাতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায় এবং ঘন বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের তীব্র বিকিরণে আক্রান্ত হয় গ্রহটি। তবে অতীতে সেখানে তরল পানি প্রবাহিত হতো এবং একটি সুরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডলও ছিল।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্রহবিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কোটস বলেন, পৃথিবীতে যখন জীবনের সূচনা হচ্ছিল, তখন মঙ্গলেও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিবেশ ছিল। তাই সেখানে জীবন শুরু হয়নি— এমন কোনো কারণ নেই।

তবে বিজ্ঞানীরা এতদিন নিশ্চিত ছিলেন না, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪১০ কোটি বছর আগে সম্ভাব্য বাসযোগ্য সময়ের জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো টিকে আছে কিনা।

অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, অনেকদিন ধরে ধারণা ছিল, মঙ্গলের কঠিন বিকিরণ পরিবেশে সব জৈব পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পরিবেশে জটিল জৈব উপাদান টিকে থাকতে পারে— যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

রোভারটি তার বিশ্লেষণ যন্ত্র ব্যবহার করে কার্বন-সম্পর্কিত বেশ কিছু যৌগ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেঞ্জোথিওফিন, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে গ্রহে পৌঁছায়। এছাড়া নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ আরেকটি জৈব যৌগের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যার গঠন ডিএনএ তৈরির পূর্বসূরি উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উইলিয়ামস বলেন, আমরা যা পেয়েছি এবং ডিএনএর মধ্যে এখনো অনেক ধাপ রয়েছে। এটি ডিএনএ তৈরির একটি মৌলিক উপাদান হতে পারে, কিন্তু পুরো কাঠামো নয়— এটি শুধু ইটের মতো, বাড়ি নয়। এসব অণু ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে উপাদানগুলো উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে মঙ্গলে এসেছে, একই উপাদান পৃথিবীতেও এসেছে— এবং সেগুলোই সম্ভবত পৃথিবীতে জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভার ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই রোভারটি প্রায় দুই মিটার গভীরে ড্রিল করে আরও উন্নত পরীক্ষা চালাতে পারবে, যা জৈব অণুর উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

কিছুদিন আগেই দ্বিতীয়বার মা হওয়ার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সোনম কাপুর। এবার সুখবর দিলেন আরও এক বলিউড অভিনেত্রী। মা হতে চলেছেন কারিশমা তান্না। সোমবার একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে দুই থেকে তিন হওয়ার খবর দিলেন তিনি।

ছোট্ট জুতা, মম-ড্যাড লেখা টুপি পরে নানান ভঙ্গিমায় ক্যামেরাবন্দী হবু মা–বাবা কারিশমা–বরুণ ভাঙ্গেরা। খুশি খবর জানিয়ে যৌথ পোস্টে লিখেছেন, ‘মিরাকল ঘটতে চলেছে। আমাদের জীবনের সেরা উপহারটা পাব অগাস্টে।’ খুব শিগগির পরিবারে নতুন সদস্যের পদধূলি পড়তে চলেছে—এ খবর শেয়ার করতেই শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় ভাসছেন যুগল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সহ–অভিনেত্রী খুশি কাপুর। ২০১৭ সালে ‘মম’ ছবির সিকুয়েলে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীকন্যা খুশি কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন কারিশমা। হবু মাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলি ডিভা দিয়া মির্জা থেকে জেসমিন ভাসিন, তাহিরা কাশ্যপ, সোনাল চৌহানসহ আরও অনেকেই।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের পরেই কারিশমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁর ভক্ত থেকে শুরু করে সহকর্মীরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

উপেন প্যাটেলের সঙ্গে প্রেম ভাঙতেই বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন কারিশমা তান্না।

২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী বরুণের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে বাঁধা পড়েন করিশমা। বিয়ের পাঁচ বছর পর সন্তানসুখ পেতে অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন দুজনেই। হিন্দি মেগা থেকে সিনেমা, সিরিজে অভিনয় করে দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কারিশমা। হিন্দি টেলিভিশনের মাধ্যমেই সফর শুরু করিশমার। ধীরে ধীরে কাজের পরিসর বৃদ্ধি হয়। সিনেমা-সিরিজে অভিনয়ের সুযোগ পান গুজরাটের কন্যা।

হংসল মেহতার ‘স্কুপ’ সিরিজে জাগ্রুতি পাঠকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। রিয়্যালিটি ‘বিগ বস’-এ মডেল উপেন প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কারিশমা। ২০১৬ সালে সেই প্রেম ভেঙে যায় এবং ২০২২ সালে বরুণকে বিয়ে করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন অভিনেত্রী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কারিশমা তান্না। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

স্মার্ট পিভি (ফোটোভোলটাইক) ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের শীর্ষ ১০টি প্রবণতা (ট্রেন্ড) প্রকাশ করেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সম্প্রতি হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস-কে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। শিল্পের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে ডিজিটাল পাওয়ারের স্মার্ট পিভি ও ইএসএস প্রোডাক্ট লাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার এরিক ঝং জানান, গত এক দশকে পিভি, উইন্ড পাওয়ার এবং ইএসএস খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রিড ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

শিল্প খাত এখন উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে একক উদ্ভাবন থেকে সরে এসে সমন্বিত অগ্রগতির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পিভি ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হুয়াওয়ে শীর্ষ ১০টি প্রবণতার পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি ব্যবহারভিত্তিক (সিনারিও-নির্ভর) এবং ছয়টি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্ভাবন।

একনজরে প্রবণতাগুলো দেখে নেওয়া যাক—

১. পিভি, উইন্ড ও ইএসএসের সমন্বয় নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, নিয়ন্ত্রণযোগ্য ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎসে পরিণত করবে।

২. গ্রিড-ফর্মিং ইএসএস পাওয়ার গ্রিডের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

৩. বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের সমন্বয় স্থানীয় স্বনির্ভরতা বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।

৪. আবাসিক পিভি ও ইএসএস ব্যবস্থায় এআই-সক্ষম (এআই-এনাবলড) থেকে এআই-নেটিভ ব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটবে, যা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে।

৫. উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি ও উচ্চ ঘনত্ব পিভি এবং ইএসএস যন্ত্রের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
৬. উচ্চ ভোল্টেজ ও নির্ভরযোগ্যতা এলসিওই (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি) কমাতে সহায়তা করবে।

৭. ইএসএস মানে কেবল ব্যাটারি নয়, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিচালনার জন্য সিস্টেম-লেভেল ব্যাটারির ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

৮. উন্নত গ্রিড-ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবস্থা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার নির্মাণকে ত্বরান্বিত করবে।

৯. এআই এজেন্ট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা সম্ভব করবে।

১০. নিরাপত্তার পরিমাপযোগ্য মান নির্ধারণ এনার্জি স্টোরেজ শিল্পে সামগ্রিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।

বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

সূত্র: ম্যাশেবল

আহসান হাবীব

দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।

দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী এই এমভিএনও

নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

এমভিএনওর ধরন

এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

গ্রাহকের লাভ

এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

 

রিয়াল মাদ্রিদের আকাশে কি তবে অশান্তির কালো মেঘ জমেছে? আর সেই অশান্তির কেন্দ্রে যার নাম, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এই তারকাকে ঘিরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অন্দরমহলে এখন রীতিমতো গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।  

ঘটনা রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচের আগের এক অনুশীলনে। দ্য অ্যাথলেটিক-এর খবর অনুযায়ী, অনুশীলনের এক পর্যায়ে অফসাইড ধরায় কোচিং স্টাফের এক সদস্যের ওপর মেজাজ হারান এমবাপ্পে। শুধু তর্কাতর্কিই নয়, তিনি বেশ অপমানজনক শব্দও ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। অবাক করার বিষয় হলো, এমন আচরণের পরও ক্লাব থেকে তাঁকে কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি।

এমবাপ্পের এই মেজাজি আচরণ রিয়ালের ড্রেসিংরুমে তপ্ত হাওয়া বইয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে তার ইতালি সফর। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য মাদ্রিদে থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সামনেই যখন ‘এল ক্লাসিকো’র মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, তখন এমবাপ্পে বেছে নিলেন ইতালিতে ছুটি কাটানোকে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ-এর দাবি, এমবাপ্পের এমন ‘উদাসীনতা’ আর ‘আত্মকেন্দ্রিক’ স্বভাবে ক্লাবের বাকি ফুটবলাররা যারপরনাই বিরক্ত। ড্রেসিংরুমে তিনি এখন অনেকটাই কোণঠাসা।    

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পে
বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পেএএফপি

পরিসংখ্যানও কিন্তু এমবাপ্পের হয়ে কথা বলছে না। গত মার্চে তিনি যখন চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, রিয়াল মাদ্রিদ তখন উড়ছিল। টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পেয়েছিল তারা, যার মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের দুটি জয়ও ছিল। অথচ তিনি ফিরতেই চিত্রটা বদলে গেল। পরের ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জয়ের দেখা পায়নি আলভারো আরবেলোয়ার দল। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রফি জেতেনি ‘লস ব্লাঙ্কো’রা।

আরও পড়ুন

এদিকে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্ক নিয়েও শোনা যাচ্ছে নানা গুঞ্জন। মাঠের রসায়ন তো আগে থেকেই জমছিল না, এবার ফাটল ধরেছে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার প্রতিবেদন বলছে, পুরো ড্রেসিংরুম এখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পক্ষে। ২৫ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান এরই মধ্যে রিয়ালকে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছেন। গত সপ্তাহে যখন এমবাপ্পে ইতালিতে ফুরফুরে মেজাজে, ভিনিসিয়ুস তখন এসপানিওলের বিপক্ষে জয় শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, ‘এই ক্লাবের জন্য আমি মৃত্যুপণ লড়তে রাজি।’

রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পে
রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পেএএফপি

কোচ আরবেলোয়ার সুরও অনেকটা একই। তিনি আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এমবাপ্পের বর্তমান আচরণ রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই নয়।

আরও পড়ুন

এত সব সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন এমবাপ্পের প্রতিনিধিরা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, ‘এমবাপ্পের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। ক্লাবের নিয়ম মেনেই সে তার চোট কাটিয়ে ওঠার কাজ করছে। যা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই অতিরঞ্জিত।’

তবে সাফাই যাই হোক, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি থেকে ড্রেসিংরুম—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই। এমবাপ্পে কি পারবেন নিজেকে বদলে দলের অংশ হতে?

একটা নয়, দুটো নয়, প্রিমিয়ার লিগে টানা ছয় ম্যাচে হার। এ কোন চেলসি! ব্লুদের সর্বশেষ হারটা আজ  নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে। ৩-১ গোলের যে হারে চেলসির আগামী মৌসুমে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল।

৩৫ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট চেলসির, দলটি নেমে গেছে নয় নম্বরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে যাবে শীর্ষ পাঁচ দল। পাঁচে থাকা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৫৮। শেষ তিন ম্যাচ জিতলেও চেলসির পয়েন্ট সর্বোচ্চ ৫৭ হবে।

আজ ম্যাচের শুরুটা ছিল চেলসির জন্য এক বিভীষিকার মতো। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে তারা। দিলান বাকওয়ার ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়ান তাইওয়ো আয়োনিয়ি। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনাল সামনে রেখে ফরেস্ট তাদের মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন এনেছিল। দ্বিতীয় সারির সেই দলের বিপক্ষেও চেলসির রক্ষণভাগকে মনে হচ্ছিল তাসের ঘর।

ফরেস্টের গোল উদযাপন, চেলসির হতাশা।
ফরেস্টের গোল উদযাপন, চেলসির হতাশা। প্রিমিয়ার লিগ
 

১০ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। কিন্তু কপাল মন্দ, তাঁর শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ভাগ্যের এই পরিহাস কাটতে না কাটতেই চেলসির বিপদ দ্বিগুণ হয়। বক্সে আয়োনিয়িকে ফাউল করে বসেন মালো গুস্তো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ইগর জেসুস। ১৫ মিনিট পার হওয়ার আগেই স্কোরলাইন ২-০!

বিরতির ঠিক আগে জেসি ডেরি ও জ্যাচ অ্যাবটের মধ্যে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১২ মিনিট। অভিষেক ম্যাচেই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় ডেরিকে। চেলসি পায় পেনাল্টি। কিন্তু কোল পালমার যেন এদিন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। ম্যাট সেলস তাঁর শট আটকে দিলে হতাশা নিয়ে বিরতিতে যায় ব্লুরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা পাল্টায়নি। মরগান গিবস-হোয়াইটের রক্ষণ চেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আয়োনিয়ি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়া চেলসি এরপর  একটা গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জোয়াও পেদ্রোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার পর যোগ করা সময়ে চমৎকার এক ‘ওভারহেড’ কিকে তিনি একটি গোল শোধ করেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

টানা ৯ ঘণ্টার গোল খরা ভাঙলেও পয়েন্ট টেবিলের ৯ নম্বরে থাকা চেলসির জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার পথ এখন ঘোর অমানিশায় ঢাকা।

জয়ে শুরু মোহামেডানের

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে জিততে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে এবারের আসরের ফেবারিট মোহামেডানকে। শেষ ৪৮ বলে তাদের ৬১ রান দরকার ছিল। তাওহিদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী জিতিয়েছেন দলকে। ৩৫ বলে ৩৪ রান করে অধিনায়ক হৃদয় আউট হলেও ২৩ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির।

৩৭ ওভারের ম্যাচে ১৯৫ রান তাড়া করার ভিতটা মোহামেডানকে গড়ে দেন ওপেনার এনামুল হক, ৮৮ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। এর আগে সাদিকুর রহমানের ৬৩ বলে ৫৬ রানে ভর করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল সিটি ক্লাব। মোহামেডানের অফ স্পিনার নাঈম আহমেদ নেন ৪ উইকেট।

প্রাইম ব্যাংকের জয়

৪ উইকেট নিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম
৪ উইকেট নিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম, বিসিবি

বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে দুই ব্যাংকের লড়াইয়ে জিতেছে এবারের আসরে শক্তিশালী দল গড়া প্রাইম ব্যাংক। বিকেএসপিতে ৩০ ওভারের ম্যাচেও ৫ বল আগেই ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক, সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। প্রাইম ব্যাংকের আলিস আল ইসলাম পান ৪ উইকেট।

এই রান তাড়া করতে নেমেও অবশ্য ৬ উইকেট হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। তাদের ৭ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিয়েছেন শামীম হোসেন (৩০ বলে অপরাজিত ২৪)। ৩২ বলে ৪৪ রান আসে ওপেনার তানজিদ হাসানের ব্যাট থেকেও।

৯৯-এ অপরাজিত আশিকুর

পূর্বাচলের ক্রিকেটার্স একাডেমিতে ওপেনিংয়ে নেমে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ইনিংসটা প্রায় একাই টানছিলেন আশিকুর রহমান। ৩৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের শেষ ওভারটা যখন শুরু হয়, তখন ৯৭ রানে অপরাজিত আশিকুর। প্রথম বলে তিনি স্ট্রাইক দেন মেহেদী হাসানকে।

টানা তিন বল বাউন্ডারি মারার পর শেষ বলে আবার আশিকুরকে স্ট্রাইক দেন মেহেদী। অন্তত ২ রান নিলে সেঞ্চুরিটা পূর্ণ হতো আশিকুরের, কিন্তু তিনি নিতে পারেন ১ রান। ৮৪ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৯ রানেই অপরাজিত থাকতে হয় তাঁকে।

৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি
৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন আশিকুর রহমান শিবলিবিসিবি

১৬ বলে ৪৯ রানের ঝড় তোলেন মেহেদীও, ৫১ বলে ৬০ রান আসে ইরফান শুক্কুরের ব্যাটে—সব মিলিয়ে ৩ উইকেটে ২৮৩ রান করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। রান তাড়ায় ভালোই পাল্লা দেয় রূপগঞ্জ টাইগার্সও। ৪৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের ভিত তাদের দেন এবারই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা কালাম সিদ্দিকী। শেষদিকে ২৭ বলে ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চেষ্টা করেন মুক্তারও। কিন্তু ৭ উইকেটে ২৬১ রানের বেশি তুলতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স, ম্যাচ হারে ২২ রানে।

লেপার্ডের শিকার চ্যাম্পিয়ন আবাহনী

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে হেরে গেছে নবাগত ঢাকা লেপার্ডের কাছে। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর টপ অর্ডারের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি, শেষদিকে ২৯ বলে ৫৫ রান করে তবু লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন সাব্বির রহমান।

কিন্তু ওই রান যথেষ্ট হয়নি আবাহনীর জয়ের জন্য। জাকির হাসানের ৬৬ বলে ৭৪ আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ৪০ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ বল আগেই জয় পায় লেপার্ড।

সাইফের ব্যাটে বসুন্ধরার জয়

পুরো ৫০ ওভার খেলা হয়েছে পূবেরগাঁও ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (পিকেএসপি)। এই মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৬ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (আগের ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)। আগে ব্যাট করা বসুন্ধরাকে ভালো শুরু এনে দেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ফজলে মাহমুদের সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।

৯৬ রানে রানআউট হয়েছেন সাইফ হাসান
৯৬ রানে রানআউট হয়েছেন সাইফ হাসান, বিসিবি
 

সাইফকে অবশ্য সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান আগেই বিদায় নিতে হয়েছে রানআউটে কাটা পড়ে। তাতে তাঁর দায়ই বেশি। ২ রান নিতে গিয়ে দ্বিতীয় রানটা তিনি নিতে যান হেলেদুলে, তিনি ভেবেছিলেন থ্রোটা যাবে নন–স্ট্রাইক প্রান্তে। কিন্তু গুলশানের বিশাল চৌধুরীর থ্রোতে দ্রুতই স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিফ। ৩টি করে চার ও ছক্কার ইনিংসে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।

তাঁর আউটের দুই বল আগেই একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে এই ম্যাচে। গুলশানের তানভীরে ওভারে তুলে মারতে গেলে নুরুলের ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। নুরুলের দাবি ছিল, ক্যাচটি ধরার সময় তাঁর পা বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ছিল, রিপ্লেতে দেখেও তেমনই মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৪১ বলে ৪৩ রান করে আউট হতে হয় তাঁকেও।

২৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশানের টপ অর্ডার ব্যর্থ পুরোপুরি। ৬৯ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রান করে যা একটু প্রতিরোধ গড়েন জোবায়ের হোসেন। ৩ উইকেট করে পান বসুন্ধরার রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।

ব্রাদার্স অলআউট ৮২ রানে

দিনের সবচেয়ে কম রানের ম্যাচ হয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স আর ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যাচে। ইউল্যাব মাঠে ৩৬ ওভারের ম্যাচে ২৯.৪ ওভার খেলে ৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় ব্রাদার্স। তাদের তিনজন ব্যাটসম্যানই হন রান আউট, গাজী গ্রুপের স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ও লিয়ন ইসলাম নেন ৩ উইকেট করে। পরে নাঈম আহমেদের ৪৯ বলে ৪৮ রানে ভর করে ৯ উইকেটে ১৪.৩ ওভারে সহজ জয় পায় গাজী গ্রুপ।