বরিশাল, রংপুরসহ আরও ৫ সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। শনিবার (১৪ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে এমনটা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছেন- অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, রাজশাহী সিটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনে- মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে মো. রুকুনুজ্জামান রোকন, রংপুর সিটি করপোরেশনে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন- মো. ইউসুফ মোল্লা।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,  নিয়োগকৃত প্রশাসকগণ ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়র এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এর আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

কুমিল্লার মুরাদনগরে অবস্থিত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ নম্বর কূপ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৮ মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস, যা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে কূপটির উদ্বোধন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। 

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে দেশের জ্বালানি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে গেছে বিগত সরকার। যে কারণে বৈশ্বিক সংকটে আমরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছি এবং ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাবলম্বী হলে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি থেকে সহজে উত্তরণ হওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল, যার ফল আমরা এখন পাচ্ছি। আমরা বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে চাই, তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করছি, নিজেদের চাহিদার চেয়েও বেশি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে পারব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কূপটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়। তবে নানা জটিলতায় এটি চালু করার উদ্যোগ থমকে ছিল। কূপটি থেকে আগামী ১০ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কূপটিতে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের কূপ-৫-এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল বাতিন বলেন, গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এই কূপের খনন শুরু করে। এ বছরের জানুয়ারিতে খননকাজ শেষ হয়। এই কূপে মজুত আছে ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আজ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলো। এ নিয়ে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫টি কূপ থেকে প্রতিদিন ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

উদ্বোধনের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসালম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার ডিরেক্টর অপারেশনস রফিকুল ইসলাম, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুল হক, প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে ছুটিতে বেড়াতে আসা প্রবাসীদের অনেকে আটকা পড়েছেন। কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কারও শেষের দিকে। তবে এখন তাঁরা ভিসা নবায়নের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে আসা কর্মীরা ভিসা নবায়নের জন্য নিয়োগকর্তা বা কফিলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া অনলাইনেও আবেদন করতে পারবেন।

এতে আরও বলা হয়, ইতিমধ্যে যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ছুটিতে অবস্থান করা কর্মীর ভিসার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হলে বা শিগগিরই শেষের দিকে হলে, সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে তাঁদের ভিসা নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই তাঁদের ভিসা নবায়নের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর আজ শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে, সেই রিপোর্ট ভালো এসেছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দুই দফায় অস্ত্রোপচার হয়। নিয়ম অনুযায়ী এরপর আজ সকালে করা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট আসে শনিবার দুপুরের পর। সে রিপোর্টসহ তার চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুরে।

এই মুহূর্তে মির্জা আব্বাসকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

গত বুধবার ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় এই বিএনপি নেতাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা ছিল। তবে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুধু ঘুষ গ্রহণই দুর্নীতি নয়, সময় মতো অফিসে উপস্থিত না হওয়াও বড় দুর্নীতি- এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে আকস্মিক মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং মশকনিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু পায়—সেই লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিদর্শনকালে হাসপাতালে অনুপস্থিত কয়েকজন চিকিৎসক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সরবরাহে দুর্নীতি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং ডাক্তার-নার্সদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

দূতাবাস জানায়, দেশটিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে বা সেখানের সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করলে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি এমন কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী অযোগ্যতার কারণ হিসেবেও গণ্য হতে পারে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ভ্রমণসংক্রান্ত এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানায়।


বার্তায় বলা হয়, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী যদি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করেন বা সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা, সাংবাদিকতা কিংবা ট্রানজিট ভিসাসহ সকল ধরনের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে।

মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় নিজের খরচ নিজে বহন করার মতো সক্ষমতা আছে কি না, তা আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় যারা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, তাদের ভিসা তাৎক্ষণিক বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আবেদন করার সময়ই আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়ে স্থানীয় সরকারি সুবিধা বা বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের অনিয়ম রোধে ওয়াশিংটন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। 

দূতাবাস অনুরোধ করেছে, সকল পর্যটক যেন তাদের সম্ভাব্য জরুরি খরচসহ সামগ্রিক ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রস্তুতি রাখেন।

 

বিএনপি সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এ জন্য আগামীকাল রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছে তারা।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। শিগগিরই শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

আজ শনিবার দুপুরে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ এ কথাগুলো বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামীকাল (১৫ মার্চ) সরকারের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এর মধ্যে যদি সরকার জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকে বা ডাকার ব্যবস্থা না করে, তাহলে তারা জাতির কাছে ক্ষমা পাবে না। সংসদ নেতাসহ সরকারকেই এর দায়দায়িত্ব নিতে হবে।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, এবার জনগণের ভোটাধিকারের প্রতিফলনের নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনে হাঙ্গামা কম হয়েছে, তবে নির্বাচনের মাধ্যমে জন–আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয়নি, এটা এরই মধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। তারপরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন মেনে নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর ভোট মানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভোট। দুটো ভোট একসঙ্গে হয়েছে, একসঙ্গে ফল প্রকাশ হয়েছে, গেজেট হয়েছে। জনগণের ভোটে পাস করার ওপর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এটি বাস্তবায়ন করা।

ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্য প্রতিবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এটা আরেকটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঁয়তারা কি না, সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সব পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তবে প্রশাসক নিয়োগ করা মানে নির্বাচন বিলম্বিত করা, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার নতুন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ তৈরি করা। এসব বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার যেন তাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, এখন ঢালাওভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, প্রশাসনিক রদবদল হচ্ছে। আবার দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে তাঁকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ, এটি পেশাদারত্ব নষ্ট করে। অতীতে যেভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে, সে প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটিও বন্ধ করতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করার জন্য ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে সেই বৈঠকে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।

আরেক প্রশ্নের যেভাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বেছে বেছে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইলে রাষ্ট্রের মূল সংস্কার হবে না। পছন্দ অনুযায়ী সংস্কার করতে চাইলে সেটি জনগণ মানবে না। কারণ, জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে রায় দিয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যে এজেন্ডা রেখেছেন, সেই আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বৈরাচারের কোন দোসর যাতে এখানে বক্তৃতা দিতে না আসে। কিন্তু এরপরও সেটি মানা হয়নি। সংসদীয় নীতি মেনেই বিরোধী দল তার ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতির অবমাননা হয়েছে। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতিকে অবমাননা করেনি, বরং স্বৈরাচারের দোসরকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বিএনপি সংসদকে কলুষিত করেছে, জাতিকে অপমান করেছে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য নেয়ামুল বশির প্রমুখ।

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১৬টি জাহাজ। যা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে খালাস সম্পন্ন করেছে। 

১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে খালাস প্রক্রিয়া চলছে, যা মার্চের মাঝামাঝি শেষ হবে।

এলএনজি ও এলপিজি ছাড়াও পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েলসহ শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বন্দরে এসেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচকে প্রভাবিত করছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।

 

ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই বিএনপি সরকার সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এর আগে চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, পহেলা বৈশাখ থেকে চালু হবে কৃষক কার্ড। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে শুরু হবে খাল খনন কর্মসূচি।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাদের তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের নাগরিকদেরকে যদি দুর্বল করে রাখা হয়, তাহলে রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না। সেইজন্যই আমাদের ইচ্ছা, দর্শন, পরিকল্পনা—বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ধীরে ধীরে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে চাই, যদি আমরা রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে চাই।

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনে কারীমে উল্লেখ রয়েছে। ইহকালীন, পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে। সুতরাং, ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা, দীক্ষা ও যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরো বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে প্রয়োগ করতে পারেন, সেই চিন্তা এবং চেষ্টাও অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি এই দেশের জন্য।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সম্প্রীতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া—এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না।

এদিকে, ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান সুবিধাভোগী ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানরা। তবে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ থাকায় সরকারি ভাতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ক্যাথলিক ধারার যাজকরা।

জাতীয় সংসদেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংসদে প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপরে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে, সেসব নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) অধিবেশনের পর মুলতবি হয়ে ঈদের পর ২৯ মার্চ ফের সংসদ অধিবেশন বসবে। এপ্রিল মাসজুড়ে অধিবেশন চালু থাকবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাইবাছাইয়ের পর প্রতিবেদন আকারে সংসদে উত্থাপন হবে।

 

দেশের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক ভাতা দেওয়ার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এদিকে, খ্রিস্টান ধর্মের ক্যাথলিক ধারা অনুযায়ী সম্মানি গ্রহণ নিষেধ থাকায় সরকারি ভাতা প্রত্যাখ্যান করেছেন গির্জার যাজকরা। তবে খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও ক্যাথলিক ধারার বাইরে কোনো খ্রিস্টান যাজক ভাতা নিতে চাইলে আপত্তি নেই বলে জানান তারা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সম্মানি প্রদান করা হবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার করে পাবেন টাকা। আর প্রতিটি মন্দিরের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

এছাড়া প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা, সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও যানজটমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ঈদযাত্রার মূল সময়ে সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

ডিএমপি জানায়, আগামী ১৬ মার্চ থেকেই রাজধানীতে ঘরমুখী মানুষের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। যানজট এড়াতে সাধারণ যানবাহনকে কুড়িল-আব্দুল্লাহপুর, গুলিস্তান-সাইনবোর্ড, মিরপুর রোড-আমিনবাজার এবং ফুলবাড়িয়া-সদরঘাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের বাইরে বা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হবে না। মহানগরীর প্রবেশপথে কোনো ধরনের বাস পার্কিংও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি সতর্ক করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি, বাসের ছাদে যাত্রী বহন এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেপরোয়া গতি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার রোধে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।

যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তায় ডিএমপি বেশ কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শও দিয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, নির্দিষ্ট টার্মিনাল ছাড়া যত্রতত্র বাসে না ওঠা এবং পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী হয়ে যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোনো জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোলরুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

ঈদ আনন্দ যেন কোনোভাবেই দুর্ঘটনা বা ভোগান্তিতে পরিণত না হয়, সে জন্য নগরবাসী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।