আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে যমুনা ও সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে নুরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, নুরের নাকের ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া, মাথা ও মাড়িতে আঘাত রয়েছে। চিকিৎসক আরো কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইছেন না। তিনি দেশে চিকিৎসা নিতে চান। তবে তাকে বিদেশে না নিতে প্রধান উপদেষ্টার ওপর কোনো চাপ আছে কি না তা বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুরের ওপর হামলা প্রসঙ্গে এই নেতা বলেন, হামলার ঘটনার স্পট ফুটেজ থাকার পরও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিশন আমাদের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি। এ সময় তদন্ত কমিশনকে সরাসরি তথ্য প্রমাণ নেয়ায় আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনার অবশ্যই বিচার হতে হবে।

৪৮ ঘন্টা পর আমরা এমন কর্মসূচি দিবো। সরকার বেকায়দায় পড়বে। যমুনা ঘেরাও বা সচিবালয় ঘেরাও আসতে পারে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান ভুমি সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব:) সুপ্রদীপ চাকমা।তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভুমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাস্টার প্ল্যান রয়েছে, কোথায় কি হবে সব বিষয় নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। ভুমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে  আমাদের দেশে তা এখনো করা সম্ভব হয়নি। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুমি সমস্যা যাতে সহজভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকার কাজ করছে।

 গতকাল শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ভুমি মন্ত্রণালয়ের ভুমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের আওতায় অংশীজনদের অংশগ্রহণে পার্বত্য জেলা সমূহের ভুমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব:) সুপ্রদীপ চাকমা এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকগণ, হেডম্যান-কার্বারীগণ, সাংবাদিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব:) সুপ্রদীপ চাকমা আরো বলেন, সনাতন সম্প্রদায়ের আসন্ন দুর্গাপূজা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান যাতে নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে পারে সেজন্য সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এদুইটি অনুষ্ঠান সফল করতে যায় তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া পার্বত্য জেলা সমুহের বর্তমান পদ্ধতিতে ভুমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালা শেষে তিন পার্বত্য জেলার সার্কেল চীফ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, হেডম্যান, কার্বারীদের নিয়ে আলাদা একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে দীর্ঘদিন গণতন্ত্র না থাকায় অনেকের মধ্যে অসহিষ্ণুতা জন্ম নিয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাণী প্রদর্শনীর এক আয়োজনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পশু-পাখি সুরক্ষায় আইনের সংশোধন আনা হবে। জীব-বৈচিত্র রক্ষায় আইনের চাইতেও সব নাগরিকের সচেতনতা জরুরি। তিনি আরও বলেন, মানুষের পশুত্ব বর্জনই হোক সবার অঙ্গীকার। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারলে পশু-পাখির অধিকারও রক্ষা করা সম্ভব।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা, মানবপাচার এবং মাদক চোরাচালানবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে।

আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বেনীপুর সীমান্তের শূণ্যলাইনে বিকেল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের কমান্ডিং পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

৫৮ বিজিবির কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম জানান, ৫৮ বিজিবি এবং ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন এর মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির স্টাফ অফিসারসহ ১০ জন এবং বিএসএফ’র কমান্ড্যান্ট মুগনথান ও স্টাফ অফিসারসহ ১০ জন অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বিজিবি-বিএসএফ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, মানবপাচার রোধ, বিএসএফ কর্তৃক পুশইন না করা এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়।

পরে, উভয় ব্যাটালিয়ান কমান্ডার এবং বিজিবি-বিএসএফ এর উপস্থিত সকল সদস্য সীমান্তের জিরো লাইন ধরে প্রায় ২ কি. মি. হাঁটেন। এ সময়, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আগামী দিনগুলোতেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিজিবি-বিএসএফ কর্মকর্তারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এখনও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। হল সংসদের ভোট হাতে গণনা শেষ করার পর চলছে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা। ফল ঘোষণার অপেক্ষা বাড়ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। সিদ্ধান্ত হয়, জনবল বাড়িয়ে রাতের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার। কিন্তু রাত পেরিয়ে সকাল হলেও গণনা শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি হলের মধ্যে ১২টিতে ভোট গণনা শেষ হয়। এর দেড় ঘণ্টা পর আরও ২াট হলের গণনা শেষ হয়েছে। বাকিগুলোতেও চলছে গণনা।

এদিকে, অনিয়মের অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। তিনি ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাবি শাখার সভাপতি। তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি, বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। অনেক অভিযোগ উঠেছে। আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া হয়েছে যাতে আমি পদত্যাগ না করি। গতকাল থেকেই আমার ওপর চাপ ছিল, তবুও আমি পদত্যাগ করছি। এখন পদত্যাগ না করলে পরে যদি অনিয়মের কথা বলি, তখন প্রশ্ন উঠবে কেন পদত্যাগ করিনি।

তবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, জাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারী কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের ময়দান থেকে তিনি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে তার যে হীন ষড়যন্ত্র ছিল, সেটি বাস্তবায়ন করতে না পেরেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে অভিযোগ করেন এই প্রার্থী।

গত বৃহস্পতিবার জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়।

সেদিন রাত সোয়া ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হলেও শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই ভোট গণনা শুরু হয়। ইতোমধ্যে গণনার কাজে পোলিং অফিসার বৃদ্ধি করা হয়েছে।

চাঁদপুরে ইলিশের ভরা মৌসুমে সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত না হলেও ঘাটে প্রতিদিন মাছ আসছে চার থেকে পাঁচ শত মণ। আর গত চার দিনে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এমতাবস্থায় দাম নিয়ে নাখোশ ক্রেতারা, বেশি হওয়ায় কিনতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। তাদের দাবি, নাগালের বাইরে থাকায় মাছ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ অঞ্চলের ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু ওইসব মাছ আসলেই কোথায় যাচ্ছে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তারা। যদিও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ বাড়লে রফতানিতে প্রভাব পড়বে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের ইলিশ বাজারে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আছেন স্থানীয় ক্রেতারাও। হাঁকডাকে মুখর চারপাশ।

বাজার ঘুরে জানা গেল, কয়েকদিন ধরেই ইলিশের দাম বাড়তি। আকৃতি ভেদে সব মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

এক ক্রেতা বলেন, গতকালও যেটা নাগালের বাইরে ছিল, সেটা আজ হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। বিভিন্নজন মাছ কিনছে অথচ কোথায় যাচ্ছে জানি না। অন্য আরেকজন বলেন, বাজারে মাছ থাকলেও দাম আকাশছোঁয়া। সেজন্য চড়া দামে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইলিশের এখন ভরা মৌসুম। সরবরাহও বেড়েছে ঘাট থেকে হাটে। তাই রফতানির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। ক্রেতাদের দাবি, এই খবরে দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন পাইকারী ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য বড় মাছের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

তবে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, ভরা মৌসুম হলেও মিলছে না পর্যাপ্ত মাছ। যোগান বাড়লে রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে না।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল বারি জমাদার বলেন, মাছের সরবরাহ অনেক কম। এতে মাছের দামে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরবরাহ বাড়লে দামে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছি।

বর্তমানে বাজারে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা কেজিতে। এক কেজির বেশি হলেই দাম হয়ে যাচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকার ওপরে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতা চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি এ ঘটনাকে নৃশংস উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, চার্লি কার্কের মৃত্যুতে সারা বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কারণ, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কেবলমাত্র রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সক্রিয়তার কারণে কাউকে কখনোই সহিংসতার শিকার হতে হবে না। ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি- যাই হোক না কেন, কারও জীবন এভাবে ঘৃণ্যভাবে শেষ হয়ে যাওয়া মেনে নেয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং নিহতের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও প্রার্থনা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চার্লি কার্ক। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তার।

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও বেশ আলোচিত কার্ক। খুব কম বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ নামের একটি সংগঠন। গত মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

অপরদিকে, কার্ককে হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যা দেন তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ সংলাপে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো— অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চূড়ান্ত জুলাই সনদে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্বন্ধে কিছু বলা হয়নি। তাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক করতে আজ ৩০টি রাজনৈতিক দল এবং জোটের সঙ্গে সংলাপে বসছে কমিশন। জুলাই সনদের মূল দাবি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আজকের আলোচনা হতে পারে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি, জানান সংশ্লিষ্টরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলে ভোট দেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান এবং ছাত্রশিবির সমর্থিত আরিফ উল্লাহ আদিব।

এসময়য় ছাত্রদলের প্রার্থী প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীকে সুযোগ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করেন। কাউকে জেতানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যালেট পেপার ছাপানোর অভিযোগও করেন তিনি।

তবে সাধারন শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা রাখতে চান ছাত্রশিবিরের প্রার্থী। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদও প্রকাশ করেন আদিব। নিয়ম ভঙ্গ করে সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আনাগোনা করার বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন শিবির সমর্থিত এই ভিপি প্রার্থী।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়া হলে ভিপি প্রার্থী সাদিয়া ইসলাম খান কুমু, ফারহানা রহিমান রিথী ভোট দেন। কামালউদ্দিন হলে ভিপি প্রার্থী রাইহান কবির ভোট প্রদান করেন। বাগছাস সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলনের আব্দুর রশিদ জিতু ভোট দেয়ার কথা রয়েছে আল বেরুনি হলে।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। নির্বাচনে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত মিলিয়ে সর্বমোট আটটি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। বিকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে পুরাতন রেজিস্টার ভবনের সিনেট হলে ভোট গণনা হবে।

জুলাই-আগস্ট সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১৫তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ।

 বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন হাজির করা হয় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত শহীদ পরিবার, আহত, চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা সকলেই তুলে ধরেন জুলাই অভ্যুত্থানে নৃশংসতা, বিচার দাবি করেন গণহত্যায় জড়িত সকলের। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সকল ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তুলে ধরেন তারা।

এর আগে, গতকাল সাক্ষ্য দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন।

তিনি জানান ২৪ মার্চ ১৬৪ ধারায় তার কাছে জবানবন্দি দেন আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বলেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সেচ্ছায় অনুতপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে জবানবন্দি দেন মিডফোর্ডের একজন চিকিৎসক।

এরও আগে, ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

ডাকসুর ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, পরিকল্পিত কারচুপির এই ফলাফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নিন। এই পরিকল্পিত প্রহসন প্রত্যাখ্যান করলাম।

অন্যদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনায় জালিয়াতি, কারচুপি ও মেশিনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি মনে করেন- এটিই তাদের রায়, তবে এই রায়কে আমি সম্মান জানাই।আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার জন‍্য অপেক্ষামান। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই ভোটানুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গণনার ক্ষেত্রে মেশিনের ত্রুটি,জালিয়াতি এবং কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে।

এদিকে, এখন পর্যন্ত ৮টি হলের ফলাফল পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে ভিপি পদে সাদিক কায়েম ও জিএস পদে এগিয়ে রয়েছেন।

ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী উমামা ফাতেমা বলেছেন, আমরা চাই এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছি না। আমরা ফলাফল বর্জনের মতো কোনো অবস্থানে নেই। বরং আমরা চাই সঠিকভাবে যেন নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল আসে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

উমামা ফাতেমা বলেন, আমরা ভোটারদের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। মেয়েদের ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আমরা ভেবেছিলাম কম হবে, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ভোট দিচ্ছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

তবে কোন হল থেকে সবচেয়ে বেশি ভোট আশা করছেন– এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে কিছু না জানিয়ে বলেন, এখনো সে হিসাব হাতে আসেনি।

ভোটের পরিস্থিতি সম্পর্কে উমামা বলেন, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো। সবাই আসছেন, ভোট দিচ্ছেন। আমরা চাই এভাবেই যেন সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলতে থাকে।