জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়া গণস্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করে নেওয়া উচিত ছিল। কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়া গণস্বার্থের পরিপন্থী।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামে এ আয়োজন করে বন্দর সুরক্ষা কমিটি। এতে বন্দরের শ্রমিক, আলোচক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা স্বচ্ছভাবে জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কি না। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি চলতে দেওয়া ঠিক নয়। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর দেওয়ার যুক্তি আমরা অদক্ষ, বিদেশিরা বন্দর নেবে, তারা মুনাফা করবে—এটি ভয়াবহ। বিপদের সময় রাষ্ট্রের পক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব কি না, এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।’

গণসার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একসঙ্গে। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আমলারা একতরফা নিতে পারবে না। গণসার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের সার্বভৌমত্বের নামেই ক্ষমতা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে যাচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন জনগণ ঠিক কারা লুট করবে, তা নির্বাচন করছে।’

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, কিন্তু বন্দর অচল হয়ে গেলে তা বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

সভার শুরুতে বক্তব্য দেন বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস। পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্প বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা বন্দরের স্বার্থ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি। এনসিটি বিদেশিদের হাতে গেলে প্রায় ৮০০ কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং দেশি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।’

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা হলেও চুক্তি করা হচ্ছে তাদের আরেকটি কোম্পানির সঙ্গে, যার বোর্ড ও কাঠামো স্পষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা এই চুক্তির পূর্ণ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে বিএনপি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কড়াইল বস্তির জামাইবাজার মাঠে ‘চেতনার বাংলাদেশ’র আয়োজনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এ সেবার উদ্বোধন করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলে দেশ শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীই পাবে না, পাবে একজন সমাজ সংস্কারক ও অর্থনৈতিক সংস্কারক। তার নেতৃত্বে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়ন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সমাজসেবার চেয়ে গুন্ডামির প্রবণতাই বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং একটি ব্যাংকে ঢুকে ম্যানেজারকে মারধরের মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ইতিহাসে যেমন দেখা গেছে কেউ কেউ ইসলামের কথা বললেও প্রকৃত লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা, এক্ষেত্রেও তেমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে একটি দল বেপরোয়া আচরণ করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ঢাকা-১৭ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে সবার জন্য সমান অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ যেখানে শুধু ক্ষমতাবানদের সন্তান নয়, সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরাও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

চেতনা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফয়সাল সালাম বলেন, আজ থেকে কড়াইলের এই এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হলো। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারী সবাই, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এখন বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, চেতনা বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যা বহু বছর ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। শুধু ঢাকা-১৭ আসন নয়, করোনাকালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটি নানা সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলের স্থানীয় দলগুলোকে নিয়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পর্যায়ক্রমে পুরো কড়াইল এবং ভবিষ্যতে ঢাকা-১৭ আসনজুড়ে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সামনে বনানী লেক পরিষ্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। তারেক রহমান নির্বাচিত হলে এলাকার পরিবেশ ও জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং ছাত্র অধিকারের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবু নাঈম বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে তাঁদের ট্রাক প্রতীকের স্থানীয় কয়েকজন সমর্থক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘোড়া প্রতীকের লোকজন তাঁদের সংখ্যায় কম দেখে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মারধর শুরু করেন। এতে ট্রাক প্রতীকের সমর্থক মো. আলতাফ প্যাদা (৪০), মো. ফিরোজ খান (৩৫), মো. মাহাতাব খানসহ (৩৭) সাত থেকে আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসান মামুনের সমর্থক মো. মারুফ (২৩) বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া নির্বাচনী কার্যালয় থেকে তাঁরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে মিছিল করে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমেছিলেন। এ সময় ট্রাক প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর শুরু করেন। এই হামলায় সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জায়েদ মাহমুদ সাআদ (২৩) ও মো. ওয়াজিব হাওলাদারকে (২৪) গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় নুর ও মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত কোনো ঝামেলা নেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, জনসভা থেকে ফেরার পথেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি আহত হন।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের আমিরের জনসভা শেষে দলটির নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে এলাকায় ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভা শেষে আমাদের নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় বিএনপি নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিনসহ অন্তত ২০ জন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা আমাদের নেতা-কর্মীদের দেখে উসকানিমূলক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

আহত বিএনপি নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, দুপুরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জনসভা থেকে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। এ সময় নারীদেরও মারধর করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বলেন, হাটবাইর এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অর্ন্তভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর এমনটাই জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিকেলে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এ কথা জানান তিনি। বলেন, পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপিতে সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয় বরং বৈধভাবে বসবাসকারী সকল জাতিগোষ্ঠীর। সকল জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অন্তবর্তীমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সকল কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কীভাবে সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায়। পাহাড়ি – সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ পাঁচ হাজার মেগাওয়াট উন্নীত করার জন্য অফিসের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত কার্য-অধিবেশন শেষে একথা বলেন তিনি।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, অতি দ্রুত সোলারের মাধ্যমে আমাদের পাঁচ বছরে মিনিমাম পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান আছে। সেটা বাস্তবায়নের জন্য ডিসি সাহেবদের প্রত্যেকটা অফিসে ও জেলার প্রত্যেকটা অফিসের রুফটপে (ছাদে সোলার প্যানেল) লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।

‘আমাদের ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকেও ডিসিদেরকে যা অর্থ দরকার, অর্থের জোগান দিয়েছে। তাদেরকে অতি দ্রুত দুই মাস, তিন মাসের মধ্যে এটা শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি।’

তিনি বলেন, আশা করি তারা সেই কাজটা দ্রুতেই হাতে নেবে, আর তা শুরু করতে পারলে আমাদের বিদ্যুতের অনেক সাশ্রয় হবে। ডিসি সম্মেলনে আমরা আমাদের জ্বালানি এবং বিদ্যুতের যে পরিস্থিতি সেটা তুলে ধরলাম।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, কিছুদিন আগে যে একটি কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেখানে জেলা প্রশাসকরা প্রো-অ্যাকটিভ রোল প্লে করেছে। তাদের সহযোগিতায় আমরা সেই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি, আমাদের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির যে পরিস্থিতি, সেটার সম্বন্ধে তাদের অবহিত করেছি ও বলেছি, এই ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্টে স্থান পেয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন। 

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি সামনে আসে। প্রতিটি বালিশ কেনায় ৫,৯৫৭ টাকা এবং তা ওপরে তোলার খরচসহ অন্যান্য সামগ্রীতে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন, সেখানে বালিশ কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে।’

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে কাছে ২০২১-২২ অর্থ বছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম।

‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতির ওই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। 

যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

অডিট রিপোর্ট পেশকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবারও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৩ মে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবারও শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

ঈদুল আজহা উদ্যাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। একইভাবে ১৪, ১৫ ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট পাওয়া যাবে। ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রস্তুতি সভায় ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ৩০ এপ্রিল ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির যে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছিল, গতকালের বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার পর সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিগত ঈদের মতো এবারও প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে। আর বেলা দুইটায় পূর্বাঞ্চলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

টিকিট বিক্রি–সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদে অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে (স্ট্যান্ডিং) যাওয়ার টিকিট বিক্রি হবে। তবে এই টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করা যাবে না।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এ দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে।

এ ছাড়া ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহর উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

এর পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন (ক্যাটল স্পেশাল)। এই ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযানে গতকাল সোমবার ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী মিলে যে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছেন ৩৫ জন। তালিকার বাইরে ৪৮ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে। এ ছাড়া ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী ১ মে থেকে গতকাল ৪ মে পর্যন্ত চার দিনে বিশেষ অভিযানে ৪৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১ মে থেকে রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা ধরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে ডিএমপি চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া ও মহানগরীকে আরও নিরাপদ করতে এ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে ‘বানাই: এআই ফিল্মমেকিং কমপিটিশন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের গবেষণা শাখা ব্রেনল্যাব।

‘লোকালাইজিং ভিজ্যুয়াল মডেলস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে এআই দিয়ে তৈরি দুই থেকে পাঁচ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিসির গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা, প্রকৃতি ও সমসাময়িক বাস্তবতাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান বিজয়ীদের যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তা–ই নয়, সেরা চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ার প্রদর্শনী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করা হবে।

ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। আগ্রহীদের অবশ্যই নিজেদের তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গল্প, ভিজ্যুয়াল, শব্দ বা সম্পাদনার মতো সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের তথ্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হবে। এই ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন করা যাবে।

এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিল্পচর্চার প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকেন্দ্রিক গল্প বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।

বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।

পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এতে বাংলাদেশের ওপরই বেশি শর্ত আরোপ হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানালেও সমালোচনা করার আগে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের চুক্তিগুলো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর এমন পরামর্শ আসে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) সই করে বাংলাদেশ। বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে এই চুক্তির আলোচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

এই চুক্তিতে বাংলাদশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত রয়েছে।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৩১টাতে “শ্যাল” বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এই রকম “শ্যাল” বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।’

চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই...আমি বলব, আপনারা সবাই মিলে সেটি দেখেন। তূলনামূলক দেখেন, আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি।’

চুক্তি নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে, তোমাদেরকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, যেমন আমাদের ৩৯% বা ৩৭%। অন্যান্য সব দেশকে দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কী, সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে পাওয়া যাচ্ছে।

‘আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি; পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে, অন্যদের ‘পারচেজ কমিটমেন্ট’ কত, আমাদের ‘পারচেজ কমিটমেন্ট’ কত, সব মিলিয়ে দেখেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যান। যাওয়ার আগে দুপুরে চীন সফরের উদ্দেশ্য, ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বন্ধু দেশ, যার সঙ্গে আমাদের ‘স্ট্রাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক। এবং আমাদের নতুন সরকারের তরফ থেকে এটা হচ্ছে চীনে প্রথম সফর। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফরে আমরা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দ্রুত এবং আরও গভীর এবং ব্যাপ্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

তিস্তা নিয়ে ভারতের জন্য ‘বসে থাকব না’

চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই আলোচনা হবে। এটা আমাদের ওই অঞ্চলের মানুষের মরণ-বাঁচনের বিষয়। তারা ডাক দিয়েছে “জাগো বাহে”। সেই ডাকে যদি আমরা সাড়া না দিই, তাহলে আমরা পড়ে আছি কেন? এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, সেই অঞ্চলের সমস্যা সুরাহা করার এবং এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করব এবং চীন সফরে এই বিষয়টা আমরা নিশ্চয়ই আলোচনা করব।’

ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে প্রায় দেড় দশক ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চুক্তিটি করা যাচ্ছে না বলে ভারতের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়ে আসছে। এবারের বিধানসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় হয়েছে।

এতে তিস্তা চুক্তির সুরাহা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তারা কী ভাবছে, কী করবে, সেটা তারা যদি না জানায়, তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না। তবে প্রত্যাশা থাকবে, যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা কনসিডার করতে পারি কি না। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।’

চীনের প্রকল্প এবং ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে দেখা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা যেটা হচ্ছে, তিস্তাপারের মানুষের একটা বড় ধরনের ‘ইকোলজিক্যাল’ বিপর্যয়ের মধ্যে তারা আছে, এটা তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়। আমরা যেভাবে পারি, যে কয়টা উপায় আছে, সবগুলো উপায় আমরা অনুসন্ধান করব। যেটা সর্বোত্তম, সেটাই আমরা দেব। এখানে সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয় হচ্ছে, আমাদের মানুষের ইন্টারেস্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ বিদ্বেষী বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে সাংবাদিকেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এখন আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশে ‘পুশ–ইন’ বাড়বে বলে মনে করেন কি না?

জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ কথাটি বলেছিলেন, স্বীকার করেছিলেন তিনি কিছু কাজ করেছেন, আপনারা দেখেছেন আমরা সেটাকে কড়া প্রতিবাদ দিয়েছি। সে বিষয়ে আমাদের যা যা ব্যবস্থা আমরা নেব।’