এক দল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অপর দল টুর্নামেন্টটিতে খেলতেই এসেছে এই প্রথম। র‍্যাংঙ্কিংও দেখাচ্ছে বড় পার্থক্য—১৭ আর ১১২। এমন অসম শক্তির দুই দল চীন ও বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা (সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টা) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান।

বাংলাদেশ দল র‍্যাংঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। বাংলাদেশ কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না—প্রথম আলো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনো দল যেকোনো দিনে কঠিন সময় উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনো চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে।’

নিজের প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল, তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। তারা কোনো চাপ ছাড়াই সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান
চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হওয়ায় বর্তমান চীনা কোচের জন্য এটি অনেকটা ঘরে ফেরার মতো। ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। নিজের চেনা আঙিনায় চীনের শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বাস্তববাদী, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্ট ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমরা আমাদের সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

চীনা ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু এবং ভালো কাঠামো উপহার দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

চীনের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী ও ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিনায়ক উ হাইয়ান গত টুর্নামেন্টটি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এবার বাহুবন্ধনী হাতে মাঠে নামার আগে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা এরই মধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাসী উ হাইয়ান। স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ র‍্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা কালকের ম্যাচের আগে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে আমি গত টুর্নামেন্ট মিস করেছিলাম, তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
 

বাংলাদেশ যে বাছাইপর্বে মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এখানে এসেছে, সেটিও নজরে আছে চীনা কোচের। বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ এবং আক্রমণাত্মক। তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে হারিয়ে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

চীনের ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যা আগামীকাল তাঁদের কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা দেবে বলে কোচ মনে করেন। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কালকের ম্যাচে চীন তাদের দশম মুকুটের পথে প্রথম ধাপ পার করতে চাইলেও, বাংলাদেশ চাইবে এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের চেনাতে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব