কে হচ্ছেন ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ বিজয়ী? উপস্থাপক সৌমিক আহমেদের এই প্রশ্নে দর্শকদের কণ্ঠ এক হয়ে উঠল—বর্ণিতা। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতাই জিতলেন এই মুকুট।
মঞ্চে নাম ঘোষণার পর আবেগে ভেঙে পড়েন বর্ণিতা। আনন্দাশ্রু সামলাতে পারেননি তিনি। পাশে দাঁড়ানো তিস্তা ও ইয়ুমনা তাঁকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। শুভেচ্ছা জানান অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমও। মুহূর্তেই মঞ্চের সব আলো যেন কাড়েন বর্ণিতা, দর্শকের অভিবাদনেও ভেসে যান তিনি।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে বর্ণিতার হাতে স্বরোভস্কি ক্রিস্টালে তৈরি ট্রফি তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস খান ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। পাশাপাশি তাঁকে দেওয়া হয় একটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি।
দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন লাক্স সুপারস্টার পেল বাংলাদেশ। বিজয়ী হওয়ার পর বর্ণিতা বলেন, ‘পুরস্কার ঘোষণার সময় আমার পা এত কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। বারবার পা শিফট করছিলাম। যখন যাত্রা শুরু করি, তখন ভাবিনি এত দূর আসতে পারব। আল্লাহর রহমতে, মানুষের ভালোবাসায় আর নিজের পরিশ্রমে এখানে আসা।’ জীবন কি বদলে গেল? এমন প্রশ্নে বর্ণিতা বলেন, ‘অবশ্যই। অনেক টাফ একটা জীবন পার করেছি। ভালো লাগছে।’

ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রায়হান রাফী স্যারের সিনেমায় কাজের সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’ ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বর্ণিতা বলেন, ‘সব সময় পড়ালেখায় ভালো করার চেষ্টা করেছি; কিন্তু কখনো প্রথম হতে পারিনি—দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। জীবনে সব সময় ইচ্ছা ছিল কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।’
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম, তাঁর প্রাপ্তি তিন লাখ টাকা। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত আয়োজনের পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে প্রতিযোগিতার সম্প্রচার শুরু হয়। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী।
অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা সাগর জানান, রায়হান রাফী ছাড়াও বিজয়ীদের নিয়ে শিহাব শাহীন একটি ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন।
ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত পর্বটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। নাটকীয়ভাবে পুলিশ গাড়ির সাইরেন বাজিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেন তাঁরা। পুরো অনুষ্ঠানে হারিয়ে যাওয়া ট্রফির খোঁজ করতে দেখা যায় ওসি হারুন ও শুভকে। পাঁচ প্রতিযোগীকেই সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত জানা যায়, ট্রফিটি বিদ্যা সিনহা মিমের কাছেই ছিল—বিষয়টি নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানসহ অনেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়া আহসান, শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিম, মেহজাবীন চৌধুরী, রুনা খান, মৌসুমী হামিদসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।
মকফুল হোসেন
ঢাকা