• Colors: Green Color

রাইলি মেরেডিথকে ছক্কা মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ—বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ম্যাচটা জিতল তখনই, নিশ্চিত হলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জেতাও। অনেকেই স্বস্তিও তাতে পেলেন, মিরাজ তাহলে সুস্থই আছেন!

ম্যাচ জেতানো ওই ছক্কার আগের ওভারেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মেহেদী হাসান। নাথান এলিসের বল হেলমেটে লাগার পর মাঠেই শুয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে বমি করতেও দেখা যায় তখন। মাঠে আনা হয় স্ট্রেচার, তৈরি করা হয় অ্যাম্বুলেন্স।

তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ান। বাকি সময়টা ব্যাটিং করে দলকে ম্যাচও জেতান। তবে ম্যাচশেষেই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজীদুল ইসলাম।

বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচে মিরাজের একটা কনকাশনের মতো হয়েছিল। আমরা সেখানে অ্যাসেস করার পর সে খেলা চালিয়ে যায়। ম্যাচের পর আমরা ওকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়েছি পর্যবেক্ষণ ও স্ক্যানগুলো করার জন্য। ও এখন ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকবে।’

ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন মিরাজ
ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছেন মিরাজ
 

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তাসকিন অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁকে ভালোই দেখেছেন। মিরাজকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করার মতো তেমন কিছু নেই বলেও বিশ্বাস ছিল তাঁর।

তিনি বলেন, ‘মাথায় লাগার পরও চিন্তা করেছে ও যদি ওই সময়ে এসে পড়ত, নতুন একটা ব্যাটসম্যান গিয়ে আরও চাপে ভুল করতে পারত; কিন্তু হৃদয় আর মিরাজ শেষের দিকে ভালো ফিনিশ করছে।’

এমন দিন কি আর প্রতিদিন আসে! অস্ট্রেলিয়া কোনো রান তোলার আগেই বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৩ উইকেট। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেভাবে বিব্রত করেছে বাংলাদেশ,  সে সব দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে—
 

ওয়ানডেতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে তিন উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।

ওয়ানডেতে কোনো রান তোলার আগেই প্রথম তিন উইকেট হারানো মাত্র চতুর্থ দল অস্ট্রেলিয়া। আগের তিনটি দলের মধ্যে সর্বশেষ দলটি ছিল বাংলাদেশ; ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম তিন বলেই এমন দশা হয়েছিল খালেদ মাসুদের দলের, হ্যাটট্রিক করেছিলেন চামিন্ডা ভাস।

ওয়ানডেতে তৃতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারই শূন্য রানে ফিরেছেন। প্রথমটি ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, পরেরটি ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ
এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ
 

ওয়ানডেতে উদ্বোধনী জুটিতে কোনো রান যোগ না করেই টানা চার ইনিংসে উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে এই ক্লাবে ছিল শুধু পাপুয়া নিউগিনি।

আজও শূন্য রানে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাথু শর্ট। এ নিয়ে সর্বশেষ ৩ ওয়ানডেতেই শূন্য রানে ফিরেছেন তিনি।

ট্রফি একটি, আয়োজকও একটি দেশ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ছিল একটিই।

সেই ধারায় ছেদ পড়ল ২০০২ আসরে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেবারই প্রথম আয়োজক দুটি দেশ—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া; কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধারা পাল্টাল না। শুধু সিউলেই আয়োজিত হলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান; কিন্তু এবার শুধু আয়োজকের সংখ্যাই বাড়েনি, ভেঙে ফেলা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাও।

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিনটি দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোয় মেক্সিকো সিটি, কানাডায় টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলস। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ত্রি–আলোর ছটায় আলোকিত হবে পৃথিবী, কিন্তু একই সময়ে নয়।

‘প্রাসাদের নগরী’ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। ২০১০ বিশ্বকাপের মতো এ ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এবারও বিশ্বকাপে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল রাতে। টরন্টোর টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় স্বাগতিক হয়ে কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। এই ম্যাচ দিয়েই কানাডায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের এবং তার আগে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে আগামীকাল রাত কাবার করে ভোর পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে কিংবা ভোরে উঠতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। তার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার করা হয়েছে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম
বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার করা হয়েছে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়াম, এএফপি
 

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে দুই দশক আগেও তেমন সাড়া ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপে শাকিরা ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে অমরত্ব আদায় করে নেওয়ার পর থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। যদিও ’৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ডায়ানা রসের পেনাল্টি কিক বেশ সাড়া ফেলেছিল; কিন্তু কলম্বিয়ান সুরের পাখি শাকিরা ১৬ বছর আগের আসরে উদ্বোধনীতে যে মাদকতা উপহার দিয়েছিলেন, সেই মোহ আজও অনেকের ভাঙেনি।

সেসব মোহগ্রস্ত ফুটবলপ্রেমীর জন্য সুখবর—শাকিরা এবারও আছেন। সে প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলাদা তিনটি শহরে হলেও ভাবনাটা এক ও অভিন্ন। আয়োজক তিনটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরাই লক্ষ্য। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেমন আদিবাসী শিল্পী, লোকজ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র মাধ্যমে মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেখানে এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ (লেটস গো) গাইবেন শাকিরা, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়।

পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল অ্যালবামে থাকা শিল্পীদের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকান গায়ক ও গীতিকার টাইলাও মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সে জন্য প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছে মেক্সিকো সিটি। বিশ্বকাপ শুরুর দিনে ছুটি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শেনবাউম।

নোরা ফাতেহি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
নোরা ফাতেহি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট। টরন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সেটি ১৩ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। টরন্টো স্টেডিয়ামে একটি ক্ষণগণনা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কানাডার বিভিন্ন গৌরবময় মুহূর্ত তাতে ফুটিয়ে তোলা হবে। পারফর্ম করবেন সংগীতশিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া ক্যারা, এলিয়ানা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত), ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্সের মতো শিল্পীরা।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ও আকর্ষণীয় গল্পগাথা। সেই সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্কো বালিচ। অলিম্পিকের বেশ কয়েকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনের কারিগর তিনি। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আবহ ও চরিত্র ভিন্ন হলেও তিনটি আয়োজনই একটি মূল ভাবনায় একীভূত—ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতায় গাঁথায় ফুটবলের যে অনন্য ক্ষমতা, সেটিই তিনটি শহরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম।

ফিফার দেওয়া নাম মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম, ফুটবল ইতিহাসে পরিচিত আজতেকা স্টেডিয়াম নামে। আজ বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এ মাঠেই। তার আগে মেহেদী হাসান কান পেতে শুনেছেন আজতেকা স্টেডিয়ামের আনমনে বলে যাওয়া কিছু কথা, যেখানে আছে একটা হতাশাও—

মহাবিশ্বে প্রতিটি বস্তুর নাকি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আছে। আমার লক্ষ্যটা এত দিনে আমি বুঝে গেছি। সেই গল্প আর একটি ইচ্ছার কথা আজ বলতে এসেছি তোমাদের কাছে।

মানুষ আমাকে বানিয়েছে নিজের লক্ষ্যপূরণের জন্য, সেটা করতে করতে আমি যেন এখন অক্ষয়, অমর, অজর! ঝড়ে, ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারি, কিন্তু আমার নাম-পরিচয় বিনে ফুটবলের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। আমি এস্তাদিও বানোর্তে।

কোঁচকানো ভ্রু দেখে বেশ হাসি পাচ্ছে। এই নামে কাউকে মনে পড়ছে না? আমারও না, বুঝলে। আমার আদি নাম-পরিচয় বললে তো চিনেই ফেলবে, তাই নতুন নামটা বলে একটু মজা করলাম।

বিশ্বকাপের জন্য আমাকে সাজানোর খরচ তুলতে, তোমরা আমার জন্মগত নাম-পরিচয় বেচে নতুন এই নামটা রেখেছ। তবে বিশ্বকাপে আবার অন্য নিয়ম; আমাকে এই নতুন নামে ডাকা যাবে না। ফিফার কড়া নির্দেশ—বলতে হবে, মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম।

তবে আমার নাম বদলানোয় লোকের কিছুমাত্র অসুবিধা হয়নি। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ডাকে জন্মগত নামেই। আজতেকা! লোকে বলে, আমার সবুজ বুকে যে সবচেয়ে সুন্দর ছবিটি আঁকতে পারে, অমরত্ব তাঁর অবধারিত।

আর আমি শুধু জানি, কালে কালে বিভিন্ন গল্পে-ঘটনায় আমি হয়ে উঠেছি এক রহস্যঘেরা ‘মিথ’ কিংবা সামান্য একটা স্টেডিয়াম নামের ‘কলোসাস অব সান্তা উরসুলা’। কালোমতো সেই ব্রাজিলিয়ান যেখানে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘আজতেকার কিছু একটা ব্যাপার আছে। খুব বিশেষ কিছু; ভেতরে পা রাখলে বোঝা যায়। অন্য কোথাও এমন লাগে না।’

ফুটবল–ইতিহাসে তর্ক সাপেক্ষে সেরা এবং প্রায় একই রকম দুটি ছবি কিন্তু আমারই বুকে তোলা।

এক. সতীর্থের কাঁধে হাস্যোজ্জ্বল খালি গায়ের সেই কালো ব্রাজিলিয়ান। দুই. রোবের্তো চেজাস নামের এক সমর্থকের কাঁধে সাদা চামড়ার আর্জেন্টাইন, হাতে বিশ্বকাপ। ছবির মানুষ দুটি তোমাদের বড় আবেগের জায়গা, আপনার চেয়েও আপন মানুষ। তবু বলি, প্রথম ছবিটি পেলের। পরেরটি ডিয়েগো ম্যারাডোনার।

ম্যারাডোনার সেই অমর গোল
ম্যারাডোনার সেই অমর গোল, ফিফা
 

সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তর্কটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল তাঁদের মধ্যে। এটা যদি অমরত্ব হয়, তবে তাঁদের সেই বর প্রাপ্তির পুণ্যভূমি ছিলাম আমি—এস্তাদিও আজতেকা। বড়াই নয়, এ আমার বড় গর্বের, বড় তৃপ্তির কথা। ’৭০ বিশ্বকাপের ব্রাজিলে আমার জন্মের লক্ষ্যপূরণ, ’৮৬–এর ম্যারাডোনায় পূর্ণতা।

একটি গল্প বলি, তৃতীয় শতকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে বর্তমান সান্তা উরসুলার বিশাল জায়গাজুড়ে পাথুরে লাভাভূমি তৈরি হয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২০০ ফুট ওপরে ওটাই আমার আর্বিভাবের জায়গা।

১৯৬১ সালে আমাকে বানানো এত সহজ ছিল না। এক বছর সময় নিয়ে ৬৪ হাজার বর্গমিটার জায়গা থেকে শুধু ১৮ কোটি কেজি পাথরই সরাতে হয় ৮০০ শ্রমিক, ৩৫ প্রকৌশলী ও ১০ স্থাপত্যবিদের সহায়তায়। জায়গাটা কয়োকান অঞ্চল, মেক্সিকানদের পূর্বপুরুষ আজতেক সভ্যতার প্রত্নতত্ত্বও পাওয়া গিয়েছিল আমাকে তৈরির সময়।

সেই ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়ে ’৭০ বিশ্বকাপ যখন শুরু হলো, তখনো আমি ইতিহাসের অংশ। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম বিশ্বকাপ। আর মাঠে জন্ম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা সব গল্পের। শতাব্দীর সেরা ম্যাচ, সব রাউন্ডেই জর্জিনিওর গোল, কার্লোস আলবার্তোর অনিন্দ্যসুন্দর গোল…। সব ছাপিয়ে গিয়েছিল ‘বিউটিফুল টিম’ ব্রাজিল, পেলে তার শীর্ষবিন্দু।

আমার বুকেই ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ খেলে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতে পেলের অমরত্ব প্রাপ্তি। ফাইনালে খেলা ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেলো ডোমেনগিনির ভাষায়, ‘আ থিং অব বিউটি।’ সঙ্গে অমর কবি জন কিটসের বাকিটা জুড়ে দিলেই ফুটে ওঠে ’৭০ বিশ্বকাপের রূপ, ‘আ জয় ফরএভার।’

তবু আজ এত বছর পর মনে হয়, আমি আসলে মানুষের প্রয়োজনে ভাগ্যের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য-মিথের ভারে ন্যুব্জ এক ‘থিয়েটার অব ইমর্টালিটি’।

’৮৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে কলম্বিয়ার অপারগতা প্রকাশের পর ফিফাকে ফিরতে হয় আমার কোলে। ম্যারাডোনা কোয়ার্টার ফাইনালে ১১ সেকেন্ডের এমন এক দৌড় দিল, পেছনে ইংল্যান্ডের নয়জন, সামনে ‘শতাব্দীর সেরা গোল।’

৪ মিনিট পর আরও একটি, এবার ‘হ্যান্ড অব গড’—যেন অনিন্দ্যসুন্দর আর নিষিদ্ধ ‘গন্ধম’ পাশাপাশি! যেমনটা মেক্সিকান ওয়েভের বৈশ্বিক পরিচিতি, নেগ্রেতোর সিজর্স কিকের গোলে ফুটবল ইতিহাসে ‘কানে তালা লেগে যাওয়া মুহূর্ত’—সবই সেবার অমরত্ব পেয়েছে এই বুকে। কিন্তু ম্যারাডোনার মতো কেউ আদায় করে নিতে পারেনি।

’৭০ পূর্ণ বিকশিত পেলের প্রাপ্য ছিল। জর্জিনিও, তোস্তাও, রিভেলিনো, গারসনদের সেই ব্রাজিল ছিল তারকাখচিত। ’৮৬–এর আর্জেন্টিনা তেমন ছিল না। সাদামাটা একটি দল নিয়ে মানুষের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে ম্যারাডোনা সেবার হয়ে উঠেছিলেন ‘এল পিবে’ (সোনার ছেলে)।

সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ম্যারাডোনা
সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে ম্যারাডোনা, ফিফা
 

২৯ জুন ১৯৮৬। ম্যারাডোনার অমরত্ব আদায়ের সেই ম্যাচই আমার বুকে শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। এবার আবারও ডাক পড়েছে নতুন কোনো গল্প, রূপকথার জন্ম দিতে। কিন্তু আমার মনে বেজায় দুঃখ। আমার ইচ্ছাটা হয়তো পূরণ হবে না!
বড় সাধ ছিল, লিওনেল মেসির অমরত্ব পূর্ণতা পাক আমার বুকে।

হেসো না। ভাবছ, সেটা তো ২০২২ সালেই নিশ্চিত হয়েছে, নতুন করে দেওয়ার কী আছে! আচ্ছা, কাতারে কয়টি স্টেডিয়াম ছিল যেটা ইতিহাস-ঐতিহ্যে আমার সমান? বড়াই নয়, এটা বাস্তবতা। অমরত্বের নীলপদ্মটি হয়তো তাঁর আছে, কিন্তু সেটার যোগ্য মঞ্চ কি ছিল? এবারও কি আছে? কেউ ভাবেনি, আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আমার বুকে রাখলে কী এমন হতো! পেলে, ম্যারাডোনা তারপর মেসি ধাঁধাটা মিলে যেত কী!

অবশ্য মানুষ ভাববে কেন, আমি তো তাদের কেউ না, আমি যে স্রেফ এক নিশ্চল ও জড় স্টেডিয়াম!

মেহেদী হাসান

২০ জুন ঢাকায় বালক ও বালিকা বিভাগের ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা সদরের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ফুটবলারদের জন্য এবারের যাত্রা যেন স্বপ্নপূরণের গল্প। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাধা পেরিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে।

২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক ও বালিকা) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নির্ধারিত হবে দেশের সেরা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল দল। ফাইনাল খেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩৭৬ জন এবং শিক্ষক ১১ জন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, আগে তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খেলেছে। এবার ফাইনালে খেলবে, এটা তাঁদের জন্য আনন্দের ও গর্বের।

শুধু ত্রিশালের ছেলেদের ওই দলই নয়, দেশের বালক ও বালিকা—দুই বিভাগে ফাইনালে ওঠা চারটি বিদ্যালয়ের সব কটিই ঢাকার বাইরের।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুন অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বালিকা বিভাগের এক ম্যাচে ঢাকার ধামরাইয়ের নিকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

ফলে বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই হবে আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে। 

অন্যদিকে বালক বিভাগের একটি সেমিফাইনালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লংলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য সেমিফাইনালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অর্থাৎ বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। 

৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

২২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাকে  উৎসাহিত করতে প্রাথমিকে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী ও ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন।

এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়ানশিপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়েরও পথচলা হয়েছিল এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। তাই বিজয়ী খেলোয়াড়েরা পরবর্তী স্তরে যেন ঝরে না পড়ে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ দুই বিভাগ মিলিয়ে অংশ নেয় ২২ লাখের বেশি শিশু।

ইউনিয়ন বা পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে গত ২৩ মে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়। এরপর ৪ জুন জাতীয় পর্যায়ের খেলা শুরু হয়, যেখানে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দল অংশ নেয়। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

এক লাখের বেশি ম্যাচ

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে ছাত্রী সাড়ে ৫২ লাখের বেশি এবং ছাত্র প্রায় ৪৭ লাখ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি খেলা এক ঘণ্টার, মাঝে ১০ মিনিট বিরতি। প্রতিটি দলে ১৭ জন খেলোয়াড় থাকে।

ইতিমধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বালিকা বিভাগে তৃতীয় হয়েছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খিরাইকান্দি ইমাম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালক বিভাগে তৃতীয় হয়েছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

বিজয়ীরা যা পাবে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন লাখ টাকা ও গোল্ডেন কাপ (রেপ্লিকা)। রানার্সআপ দল পাবে দুই লাখ টাকা ও সিলভার কাপ। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে এক লাখ টাকা ও ব্রোঞ্জ কাপ।

এ ছাড়া সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে নগদ প্রণোদনা। চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পাবে ১৫ হাজার টাকা, রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়েরা ১০ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের খেলোয়াড়েরা পাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে।

আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা সনদভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্বারোপ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে চাই, যেখানে আগামীর তরুণ প্রজন্ম যেন সুদক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে, নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে এবং বাস্তব জীবনে আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্য চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জন করবে।’ 

উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও চান, শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেম, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, টিমওয়ার্ক, শৃঙ্খলা শিখে বড় হোক। এ লক্ষ্যে সারা বছরই শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ হলো পাওয়ার প্লে

পাওয়ার প্লের ১০ ওভার শেষ হয়ে গেছে। মোস্তাফিজুর রহমান আর তাসকিন আহমেদ মিলে অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী করেছেন শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকদের। শূন্য রানে রেকর্ড ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে এখন স্কোরকার্ডটা একটু ভদ্রস্থ— ১০ ওভারে ৩৭ রানে তাদের ৪ উইকেট নেই।

উইকেটের পর উদ্‌যাপন
উইকেটের পর উদ্‌যাপন
 
আরও এক উইকেট

এবার অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ উইকেটও তুলল বাংলাদেশ। শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর জস ইংলিশ আর অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ১৭ বলে ১৩ রান করে মোস্তাফিজের বলে নাজমুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ক্যারি।

এখন উইকেটে এসেছেন গ্রিন। আগের ম্যাচে ফিফটি পেয়েছিলেন তিনি। চাপের মুখে তাঁকেই বাঁচাতে হবে বাংলাদেশকে।

অস্ট্রেলিয়া: ৮ ওভারে ২৫/৪

স্কোরবোর্ডের এমন অবস্থার ছবিটা মোবাইলে সেভ করে রাখার মতোই
স্কোরবোর্ডের এমন অবস্থার ছবিটা মোবাইলে সেভ করে রাখার মতোই

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব