• Colors: Green Color

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুমের প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল ইন্টার মায়ামি। আজ সোমবার সকালে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষেও ২৪ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল মেসির দল। এই স্কোরলাইনে শেষ হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধও। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের প্রথম ১৩৫ মিনিটে ৫–০ গোলে পিছিয়ে ছিল মায়ামি।

বিরতিতে যাওয়ার সময় মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চোখে মুখে হতাশা ও অসহায়ত্বের ছাপ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু পরের ৪৫ মিনিটেই ঘটল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। মেসির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর দাপট দেখিয়ে মায়ামি করে এক এক করে মোট চার গোল, দুটিই মেসির। প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ৪–২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে।

চলতি মৌসুম নতুন খেলোয়াড় ভেড়ানোর পর মায়ামিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যাচের পর আজও শুরুতে বেশ ভুগেছে তারা। যার সুযোগ নিয়েই মার্কো পাসালিক ১৮ মিনিটে এগিয়ে দেন অরল্যান্ডোকে। ২৪ মিনিটে মার্টিন ওজেডা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বিপদ আরও বাড়ে মায়ামির। দলকে ম্যাচে ফেরাতে বিরতির পরপর দলে পরিবর্তন আনেন হাভিয়ের মাচেরানো।

লেফটব্যাক নোয়া অ্যালেনের জায়গায় নামান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তিকে। এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণ সিলভেত্তির অসাধারণ এক শটে ব্যবধান কমায় মায়ামি। এরপরই দেখা মেলে মেসি জাদুর। ৫৭ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে অরল্যান্ডো বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। এ সময় তাঁর সামনে তৈরি হয় ছয় ফুটবলারের দেয়াল।

সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপন
সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপনএএফপি

আর সেই দেয়ালকে ফাঁকি দিয়েই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বছরের প্রথম গোলটি করেন মেসি। ম্যাচে আসে ২–২ সমতা। এরপর ইন্টার মায়ামি যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৮৫ মিনিটে মেসির সহায়তায় বল পেয়ে গোল করেন তালিসকো সেগোভিয়া। এরপর ৯০ মিনিটে আবারও মেসি জাদু।

বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি–কিকে দারুণ এক শটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৪–২ গোলে, ফ্রি–কিকে এটি তাঁর ৭০তম গোল। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে প্রথম ৫৫ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫২। এর মধ্যে শেষ ৪৯ ম্যাচেই মেসি করেছেন ৫১ গোল। সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গোল এখন ৮৯৮। যার অর্থ, ৯০০ গোলের জাদুকরী সংখ্যা থেকে আর মাত্র ২ গোল দূরে মেসি।

ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো অ্যাপল টিভিকে বলেন, ‘গত মৌসুমে অরল্যান্ডো আমাদের জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দলটি শক্তিশালী, তাদের কোচও দারুণ। এখানে জিততে হলে আমাদের নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হতো। (আমরা জানতাম) তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি এমন ম্যাচ উপভোগ করতাম।'

আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে মায়ামি।

টপ চার্টের শীর্ষে ওঠাটাকে একরকম অভ্যাসে পরিণত করেছেন টেইলর সুইফট। তাঁর গান ‘ওপালাইট’ মুক্তির ২০তম সপ্তাহ পর বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে উঠেছে। এটি এ তালিকার শীর্ষে জায়গা পাওয়া সুইফটের ১৪তম সিঙ্গেল। হট ১০০-এর শীর্ষে যেসব শিল্পীর গান সবচেয়ে বেশি জায়গা পেয়েছে, তাতে রিয়ানার সঙ্গে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সুইফট। তাঁর সামনে আছে কেবল দ্য বিটলস (২০টি) ও মারায়া ক্যারি (১৯টি)।

সুইফটের ধারাবাহিক সাফল্য দেখে অনেকেই বলছেন, শীর্ষে পৌঁছানো তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। বিশেষ করে এখন তিনি প্রায় প্রতিবছরই নতুন অ্যালবাম মুক্তি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরই বিটলসকে সরিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।

টেইলর সুইফট
টেইলর সুইফট, রয়টার্স

‘ওপালাইট’ সুইফটের সর্বশেষ অ্যালবাম ‘দ্য লাইফ অব আ শোগার্ল’-এর গান। এর আগে একই অ্যালবামের ‘দ্য ফেইট অব ওফেলিয়া’ টানা ১০ সপ্তাহ হট ১০০-এর ১ নম্বরে ছিল। গত বছর অ্যালবামটি মুক্তির সময় ‘ওপালাইট’ দুইয়ে থাকলেও পরে ১০ নম্বরে নেমে যায়। দীর্ঘদিন টপ টেনের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে এবার শীর্ষ স্থান দখল করেছে।

৬ ফেব্রুয়ারি গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর এটি নতুন গতি পায়। তখনই হয়তো এটি শীর্ষে পৌঁছাত, কিন্তু সুপার বোল-পরবর্তী সময়ে ব্যাড বানি নতুন করে আলোচনায় আসায় হট ১০০-এর টপ চার্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
চলতি সপ্তাহে ‘ওপালাইট’ গানটির ১ লাখ ৬৮ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ২ হাজার ২৯০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছিল ভিনাইল ও সিডি সংস্করণ। স্ট্রিমিং হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পাল্টা জবাবে উত্তাল পৃথিবী।

ঠিক এমনই এক সময়ে তেহরান থেকে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ইরানের নারী ফুটবল দল নিচ্ছে অন্য এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লক্ষ্য—এশিয়ান কাপ এবং এই টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট কাটা।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। একদিকে রণকৌশল নিয়ে ভাবনা, অন্যদিকে স্বদেশ থেকে ভেসে আসা এক চরম অস্থিরতার খবর। ফুটবল-উৎসবের আড়ালে যে বারুদগন্ধ, তা উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

ঠিক এই আবহে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। প্রত্যাশিতভাবেই ফুটবল ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠল রাজনীতি। প্রশ্ন ধেয়ে এল—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আপনাদের মানসিক অবস্থা কী, এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আপনারা ঠিক কী ভাবছেন?

ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি
ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি, এএফসি

প্রশ্নটা প্রথমে ফারসিতে হলো, তারপর ইংরেজিতে। মুহূর্তেই যেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। একটু দম নিয়ে কোচ মারজিয়া জাফরি ফারসিতে কিছু একটা উত্তরও দিতে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধি মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দিলেন। অনেকটা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার মতো করেই বললেন, ‘পরের প্রশ্নে যাই চলুন। শুধু খেলাতেই মন দিই।’

বাকিটা সময় আলোচনা চলল শুধুই ফুটবল নিয়ে। তবে তেহরানে রেখে আসা পরিবার-পরিজন এখন যে যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে আছেন, সেই উৎকন্ঠা থেকে ইরানের এই খেলোয়াড়েরা কতটা মুক্ত, সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।

কোচ মারজিয়া জাফরি ও অধিনায়ক জাহরা গানবারি যখন দল নিয়ে দেশ ছাড়েন, তখনো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছিল। তবে ইরানের মেয়েদের প্রস্তুতির গল্পটা বলতে গিয়ে অধিনায়ক আর কোচ যেন কোনো এক ‘আদর্শ পৃথিবী’র ছবি আঁকলেন। কোচ জাফরির কথায়, ‘দেশের লিগে খেলে মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটা ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি
ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, এএফসি
 

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা ইরানের গ্রুপে এবার দক্ষিণ কোরিয়া (র্যাঙ্কিং ২১) ছাড়াও আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫) ও ফিলিপাইন (৪১)। অধিনায়ক গানবারিও কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী ঠিকই, তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যেই লড়ব।’

সংবাদ সম্মেলন শেষে ইরানের মেয়েরা যখন গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের মাঠটা পরখ করতে নামলেন, তখন তাঁদের চেহারায় কোনো উদ্বেগের ছাপ নেই। একে অপরের ছবি তুলছেন, হাসছেন।

কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কি দেশের জন্য দীর্ঘশ্বাস লুকানো ছিল না? কাল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁরা নামবেন, গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে তাঁদের কানে কি বাজবে তেহরানে একের পর বিস্ফোরণের শব্দ।

কিংবা হয়তো ফুটবলই এখন তাঁদের একমাত্র আশ্রয়, দমবন্ধ পরিস্থিতিতে একটুখানি নিশ্বাস নেওয়ার খোলা জানালা!

অসাধারণ স্যামসন, নাকি আরও বেশি কিছু

এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।

অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার।

স্যামসনকে সাপোর্ট দিয়েছেন অন্যরাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭, পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তাঁর কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ ( চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭*, পাওয়েল ৩৪*; বুমরা ২/৩৬, পান্ডিয়া ১/৪০)। ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (স্যামসন ৯৭*, তিলক ২৭; হোল্ডার ২/৩৮, শামার ২/৪২)। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন

চ্যাম্পিয়ন হলে অপরাজিতই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের পর সুপার এইটেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দল।

এই পর্বের শেষ ম্যাচে আজ দিল্লিতে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে তাদের সামনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান ১৩ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কারও ব্যাটই সেভাবে ভরসা জোগাতে পারেনি। রাজা আউট হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল দেড় শও হয়তো করতে পারবে না জিম্বাবুয়ে। তবে ক্লাইভ মাদান্দের ২০ বলে করা ২৬ রানের ইনিংসে তা করেছে জিম্বাবুয়ে।

পরে আর কাজটা কঠিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। ২৪ বলে ক্রিস্টিয়ান স্টাবস ২১ ও জর্জ লিন্ডা ২১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হয়েছে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলে সুপার এইটে এলেও কোনো ম্যাচ না জিতেই তারা বিদায় নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই, শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে দুই দলেরই মন খারাপ। দাসুন শানাকা হাঁটু ধরে নুইয়ে পড়লেন হতাশায়। ম্যাচটা জেতায় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কারও নেই কোনো উচ্ছ্বাস। কারণ, ম্যাচটা তাদের শুধু জিতলেই হতো না, সেমিফাইনালে যেতে মেলাতে হতো আরও সমীকরণ।

পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের জয়ে রান রেটে তারা টপকে যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ডকে। সুপার এইটের এক নম্বর গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিফাইনালে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার সামনে ২১৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ বা এর কম রানে আটকে রাখতে পারলে সেমিফাইনালে যেত তারা। কিন্তু পুরো ২০ ওভার খেলে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে করেছে ২০৭ রান।

শ্রীলঙ্কাকে সমীকরণের ভেতর আটকে রাখার সম্ভাবনা যে পাকিস্তান তৈরি করেনি, তা নয়। কিন্তু তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রবান রত্নায়েকে। ১০০ রানের ভেতর ৫ উইকেট হারালেও ৩৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রানের জুটিতে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ করে দিয়ে যান তিনি।

পরে তো দাসুন শানাকা ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কাকে। ইনিংসের শুরু থেকেই রান তোলার গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে থাকেন। তবে শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের জন্য করতে হতো ২৮ রান।

ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা
ম্যাচশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা, এএফপি
 

প্রথম বলে চারের পর টানা তিন বলে ছক্কা মারেন। ২ বলে দরকার হয় ৬ রান। কিন্তু অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করা শাহিন শাহ আফ্রিদির শেষ দুই বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি শানাকা। বিশেষ করে ওভারের শেষ বলটা সাদাচোখে ওয়াইড মনে হলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি, ম্যাচ শেষে যা নিয়ে হতাশ মনে হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটারদের।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কাকে যেন বড় ব্যবধানে হারানো যায়, সেই চেষ্টা ভালোভাবেই করেছিলেন দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। তাঁদের দুজনের ৯৫ বলে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি তো রেকর্ডই গড়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটেই এখন এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি।

৯ চার ও ৪ ছক্কায় ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে দুশমন্ত চামিরার বলে বোল্ড হন। তবে সাহিবজাদা পেয়ে যান সেঞ্চুরি। এই পথেই তিনি এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। ৬০ বলে ১০০ রান করে আউট হন তিনি, ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৫ ছক্কা। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮টি ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন ফারহান। এই বিশ্বকাপে ৬ ইনিংস খেলে ৩৮৩ রান করেছেন ফারহান।

এমন দুর্দান্ত শুরুর পরও পাকিস্তান বেশি দূর যেতে পারেনি বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। শেষ ৪ ওভারে ৩৪ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ব্যক্তিগত সংগ্রহটা নিতে পারেননি দুই অঙ্কেও। পাকিস্তানের রানটা তাই জয়ের জন্য যথেষ্ট হলেও তাদের তুলতে পারেনি সেমিফাইনালে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*; মাদুশঙ্কা ৩.৩৩, শানাকা ২/৪২)। শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬; আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১)। ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব