• Colors: Green Color

বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট করতে নামবেন আর চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে রেকর্ড বইয়ে ওলট-পালট করবেন—এমন দৃশ্য এখন নতুন কিছু নয়। তবে আজ হায়দরাবাদের বিপক্ষে রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান যা করেছেন, তা রেকর্ড ছাড়িয়েও যেন বেশি কিছু।

সূর্যবংশী আজ ৩৭ বলে করেছেন ১০৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে তাতে। আর রেকর্ডগড়া ইনিংসটিই সূর্যবংশী খেলেছেন অনেকটা ‘প্রতিশোধের’ আবহে।

এবারের আইপিএলে গত ১৩ এপ্রিল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান-হায়দরাবাদ। সে দিন প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেই দলের বিপক্ষে জয়পুরে আজ ১০৩—প্রতিশোধের কথা বলা হচ্ছে এ কারণেই। তবে এটুকুতেই আটকে থাকেননি বিহারের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী
সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
 

সূর্যবংশী সে দিন শূন্য রানে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছিলেন প্রফুল হিঞ্জের বলে। আজ সেই একই বোলারকে প্রথম ওভারে সামনে পেয়ে টানা চারটি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী। শুরুতেই অমন ঝড় তোলা এই বাঁহাতি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ১৫তম বলে। পরের পঞ্চাশে পৌঁছাতে অবশ্য একটু বেশি বলই লেগেছে। তবে ৩৬তম বলে সেই তিন অঙ্কও ছুঁয়েছেন দাপটের সঙ্গে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। আইপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে চতুর্থ টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি।

পরিসংখ্যান বলছে, সূর্যবংশী চারটি সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মাত্র ২৬ ইনিংসে। টি-টুয়েন্টিতে এর আগে সর্বনিম্ন ৩৩ ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের উসমান খান। তার চেয়ে ৭ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন সূর্যবংশী।

৫ ছক্কা ১২ ছক্কায় করা তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসটি থেমেছে সেঞ্চুরির পরের বলেই, সাকিব হুসাইনের বলে এলবিডব্লু হয়ে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা সূর্যবংশীর দল ২০ ওভারে করে ৬ উইকেটে ২২৮ রান।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি রিশাদ হোসেন। তাঁর প্রশংসা শোনা যায় নিয়মিতই। আর রিশাদের প্রশংসা করা মানুষটি যদি লেগ স্পিনার হন, তাহলে তো কথাই নেই। নিউজিল্যান্ডের লেগ স্পিনার ইশ সোধিও ব্যতিক্রম নন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সোধি খেলছেন তিন সংস্করণেই। এক যুগের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সোধিও উচ্ছ্বসিত রিশাদকে নিয়ে। বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনারের ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতাও যার একটা কারণ। টি–টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আজ চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে সোধির বলা কথাগুলো শুনুন তাঁর মুখেই, ‘অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিগ ব্যাশে এত চমৎকার বোলিং করাটাই প্রমাণ করে যে সে কতটা বহুমুখী প্রতিভার লেগ স্পিনার।’

সোধি এরপর ব্যাখ্যা করেন, ‘সাধারণত এশিয়ান লেগ স্পিনারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা (উচ্চতার কারণে) নিচু থেকে (ফ্লাইট কম) বল ছাড়ে আর ফ্ল্যাট বোলিং করে। কিন্তু সে বেশ প্রথাগত ধারার বোলার; সে বলের ওপর জোর দিয়ে বাউন্স আদায় করে নিতে পারে। সত্যি বলতে, এই অঞ্চলের ক্রিকেটে অনেক দিন ধরে এ ধরনের বোলার দেখা যায়নি।’

২০২৩ সালে অভিষিক্ত রিশাদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বছরেই আলো ছড়ান। বিগ ব্যাশে গিয়েও স্পিনারদের মধ্যে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৫ উইকেট নেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শুধু ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টিই খেলছেন রিশাদ।

স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে রিশাদ হোসেন
স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে রিশাদ হোসেন
 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেললেও এখনো টেস্টে রিশাদকে দেখা যায়নি। তাঁর সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে আগে থেকেই যোগাযোগ আছে সোধির, দুজনের কথা হয়েছে বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজেও। রিশাদকে টেস্টে দেখার আগ্রহটা আজ জানিয়ে রাখলেন সোধি, ‘আমার মনে হয়, ওর সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পড়ে আছে এবং আশা করি, সে টেস্ট ক্রিকেটেও জায়গা করে নিতে পারবে। সত্যি বলতে, টেস্ট ক্রিকেটে আবারও লেগ স্পিন দেখাটা হবে দারুণ ব্যাপার, যা আজকাল বেশ বিরল, তা–ই না? তবে ওর মধ্যে নিশ্চিতভাবেই সেই দক্ষতা আছে।’

এত সব প্রশংসার ভিড়েও রিশাদ আছেন উন্নতির খোঁজে। কয়েক দিন ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদকে। সোধির পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশতাক জানিয়েছেন সেটির কারণও।

পাকিস্তানের সাবেক এ লেগ স্পিনার বলেন, ‘আমরা আলাদা বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছি, ক্রিজটাকে কীভাবে আরও ব্যবহার করা যায়, গুগলি নিয়েও। গুগলিতে আরও কিছুটা উন্নতি দরকার তাঁর। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে কোন দিক থেকে বল করবে, স্টাম্পের কাছাকাছি কীভাবে আসা যায়, দূরে যাওয়া, এসব আরকি।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ
 

ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে খেললেও শেষ ম্যাচে একাদশে ছিলেন না রিশাদ। মুশতাকের দাবি, রিশাদ দল থেকে বাদ পড়েননি, এটা তাঁর উন্নতির একটা প্রক্রিয়া। মুশতাকের ভাষায়, ‘আমরা স্পিনারদের দিক থেকে আরও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করেছি শুধু। যদি কিছু হয়…যেন অন্য স্পিনাররা এর আগেই গেম টাইমটা পায়।’

আগামী সোমবার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামেই দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ২ মে ঢাকায় হবে তৃতীয় ম্যাচ। এর আগে ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

‘দ্য চেজ মাস্টার।’

বিরাট কোহলি কালও আইপিএলে নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য ছিল ২০৬। রান তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস, হয়েছেন ম্যাচসেরা। এমন ইনিংস খেলার পথে নতুন এক মাইলফলকও ছুঁয়েছেন কোহলি।

৮১ রানের ইনিংসে কোহলি ছক্কা মেরেছেন ৪টি। তাতে আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩০০ ছক্কার ক্লাবে ঢুকেছেন বেঙ্গালুরুর সাবেক এই অধিনায়ক। ২৬৬ ইনিংসে কোহলির ছক্কা ৩০৩টি। আগে থেকেই এই ক্লাবের সদস্য ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা।

গেইলের নামটাই সবার ওপরে। আইপিএলে মাত্র ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মেরেছেন গেইল। ৩১০ ছক্কা নিয়ে দ্বিতীয় রোহিত শর্মা, খেলেছেন ২৭১ ইনিংস। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইলই। রোহিত-কোহলিরা গেইলের ৩৫৭ ছক্কা ছাড়াতে পারবেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

সে ক্ষেত্রে এখনো তাঁদের কয়েক মৌসুম খেলতে হবে। ৩৫৭ ছক্কার মাইলফলক তাঁরা ছাড়িয়ে গেলেও ছক্কাবাজ হিসেবে গেইলের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। কোহলির প্রশংসাও আলাদা করে করতে হয়। ইনিংস ধরে খেলতে অভ্যস্ত কোহলি প্রয়োজনে যে ছক্কাও মারতে পারেন—এই ক্লাবে নাম লেখানোই তো তার প্রমাণ।

কাল ফিফটির পর কোহলি
কাল ফিফটির পর কোহলি, বিসিসিআই

এবারের টুর্নামেন্টে অবশ্য কোহলি ছক্কার তালিকায় খুব একটা ওপরের দিকে নেই। আইপিএলে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেক শর্মার, ২৭টি। কোহলির ছক্কা ১২টি। অবশ্য সর্বোচ্চ রানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেককে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি।

৩২৩ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অভিষেক। কাল ৮১ রানের ইনিংসের পর কোহলির রান দাঁড়াল ৩২৮। ৩২০ রান নিয়ে তালিকায় তৃতীয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হাইনরিখ ক্লাসেন। ৩ জনই খেলেছেন ৭টি করে ম্যাচ।

স্ট্রাইক রেটে অবশ্য কোহলি ও ক্লাসেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে অভিষেক। কোহলির স্ট্রাইক রেট ১৬৩.১৮, ক্লাসেনের ১৫৩.১১। অন্যদিকে অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ২১৫.৩৩।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়িয়েছেন দুজনেই। ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। গতকাল শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তাঁদের কাউকেই রাখা হয়নি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা খেলতে পিএসএল ছেড়ে দেশে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। টি-টুয়েন্টি সিরিজে যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশ দলে নেই, তাহলে কি তাঁরা আবার ফিরে যাবেন পিএসএলে? কাল রাতে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এবার আর ফেরা হচ্ছে না মোস্তাফিজ ও নাহিদের। পিএসএলে বাকি মৌসুমের জন্য তাঁদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বিসিবি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
 

দুজনের কারণ অবশ্য ভিন্ন। হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামেননি মোস্তাফিজ, ছিলেন না দ্বিতীয় ম্যাচেও। তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলার পর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মোস্তাফিজের শারীরিক অবস্থা, করা হবে একটি স্ক্যানও। এরপর বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েও যেতে হবে মোস্তাফিজকে।

শুরুতে ওয়ানডে সিরিজের পর পিএসএলে ফেরার কথা থাকলেও তাই এখন আর যাচ্ছেন না মোস্তাফিজ। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে তাঁর এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। এ কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও এখনো কোনো দলে নাম লেখাননি মোস্তাফিজ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
 

নাহিদ রানাও বিশ্রামে থাকবেন এ সময়ে। আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা এই পেসার আপাতত টেস্টের প্রস্তুতি নেবেন।

এবারের পিএসএলেই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়েছিলেন নাহিদ রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৪ ম্যাচে ওভারপ্রতি ৫.৪২ গড়ে রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন নাহিদ। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজ পান ৬ উইকেট।

আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়িয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু দলটির হয়ে এখনো বড় কোনো ট্রফি জেতা হয়নি তাঁর। একাধিকবার কাছাকাছি গিয়ে সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই থাকতে হয়েছে রোনালদোকে। কিন্তু রোনালদোর সেই আক্ষেপ মিটতে পারে এই মৌসুমে।

আল নাসরের হয়ে একাধিক শিরোপা জেতার সুযোগ আছে ‘সিআর সেভেন’-এর। তবে জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে হিসাব করলে রোনালদো এ বছর জিততে পারেন অন্তত চারটি ট্রফি, যার দুটি জিততে পারেন এই মে মাসেই। যেখানে পাঁচ দিনের মধ্যে দুবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পেতে পারেন এই পর্তুগিজ তারকা।

আগামী ১৭ মে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুর ফাইনালে আল নাসর খেলবে জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকার বিপক্ষে। গতকাল রাতে আল আহলিকে ৫-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আল নাসর। গতকাল রাতে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছেন, ‘দল নিয়ে গর্বিত। ফাইনাল অপেক্ষা করছে।’ এখন রিয়াদের ফাইনালে শেষ ধাপ পেরোলেই এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের দ্বিতীয় স্তরের শিরোপা নিশ্চিত হবে রোনালদোদের।

এই ফাইনালের পাঁচ দিন পর সৌদি প্রো লিগে মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে আল নাসর। বর্তমানে শীর্ষে থাকা আল নাসর শিরোপা–দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে। ২৯ ম্যাচ শেষে আল নাসরের পয়েন্ট এখন ৭৬। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই আছে আল হিলাল। ৮ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা আল হিলালের জন্য বাকি ম্যাচগুলোতে আল নাসরকে পেছনে ফেলা কঠিনই হবে। আর শেষ পর্যন্ত লিগ শিরোপা ঘরে তুলতে পারলে এটি রোনালদোর জন্য বড় অর্জনই হবে।

ফাইনালে ওঠার পথে সতীর্থের সঙ্গে রোনালদোর উদ্‌যাপন
ফাইনালে ওঠার পথে সতীর্থের সঙ্গে রোনালদোর উদ্‌যাপন, রয়টার্স

আল নাসরের হয়ে রোনালদোর এ বছর আরও একটি শিরোপা জেতার সুযোগ আছে। সেই শিরোপা হলো সৌদি সুপার কাপ। সৌদি প্রো লিগ ও কিংস কাপে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হওয়া চার দল খেলে এই টুর্নামেন্টে।

তবে এই চার শিরোপার বাইরে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপাটি রোনালদো পেতে পারেন এ বছরের জুলাইয়ে। আর সেটি যে বিশ্বকাপ শিরোপা, তা বোধ হয় আলাদা করে না বললেও চলছে। যেকোনো ফুটবলারের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে বিশ্বকাপ জেতা।

রোনালদোর মতো সর্বকালের সেরা তারকার জন্য বিশ্বকাপ ছাড়া ক্যারিয়ার শেষ করা বেশ হতাশার ব্যাপার। সেই হতাশাকে কবর দেওয়ার শেষ সুযোগটা রোনালদো পাবেন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত বিশ্বকাপে। যদি শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যে রোনালদো সফল হন, তবে তা রোনালদোর তো বটেই, ফুটবলের ইতিহাসেই অনন্য এক ঘটনা হয়ে থাকবে।

চট্টগ্রাম থেকে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব