• Colors: Green Color

‘দ্য কিং ইজ ব্যাক!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাত থেকেই কথাটা ভাসছে। সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছবি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এক মাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। গতকাল রাতে আল নাজমার বিপক্ষে আল নাসরের ৫-২ গোলে জয়ের ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। সেই ফেরাটাও হলো রাজার মতোই। জোড়া গোল করে ১০০০ গোলের আরও কাছে পৌঁছে গেলেন রোনালদো।

ম্যাচ ২-২ গোলে সমতায় থাকতে পেনাল্টি থেকে গোল করে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। ৭৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে করেন দ্বিতীয় গোল। জোড়া গোলে স্মরণীয় করে রাখলেন সৌদি প্রো লিগে নিজের শততম ম্যাচ। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এ নিয়ে মোট ৯৬৭ গোল করলেন রোনালদো। হাজার গোলের দেখা পেতে তাঁর চাই আরও ৩৩টি গোল।

 

রোনালদোর মতোই জোড়া গোল করেন আল নাসরের সেনেগালিজ তারকা সাদিও মানে। জয়ের পর ইনস্টাগ্রামে করা পোস্টে রোনালদো লেখেন, ‘ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাব।’ ২০২২ সালে সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম বড় শিরোপার খোঁজ করা রোনালদোর ক্লাবের জন্য জয়টা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রো লিগে ২৬ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় আল হিলালের সঙ্গে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে শীর্ষ স্থান ধরে রাখল আল নাসর। ২৭ ম্যাচে দলটির সংগ্রহ ৭০ পয়েন্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লিগে আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস এরপর বলেছিলেন, রোনালদোর চোট তাঁদের ভাবনার চেয়ে ‘সিরিয়াস’। প্রো লিগে এরপর আল নাসরের তিনটি ম্যাচে খেলতে পারেননি রোনালদো। স্পেনে গিয়ে চিকিৎসা করান চোটের। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকোর বিপক্ষে পর্তুগালের প্রীতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি।

প্রো লিগে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনে উঠে এলেন রোনালদো। ২৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ২৫ ম্যাচে ২৫ গোল নিয়ে শীর্ষে আল আহলি ফরোয়ার্ড ইভান টনি। সৌদি প্রো লিগে ১০০ ম্যাচে রোনালদোর গোলসংখ্যা ৯৭, গোল করিয়েছেন ১৮টি।

দুর্দান্ত লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার(৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হয় টাইব্রেকারের পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভানের সফল কিকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ভারত। তবে বল দখল ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কিংবা গোলরক্ষক মাহিনকে খুব বেশি চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে।

দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট পর মাঠে নামানো হয় রোনান সুলিভানের ভাই ডেকলানকে। নিজের প্রান্ত ধরে কয়েকটি কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে দূর থেকে ভাই রোনানের উদ্দেশে দারুণ একটি পাসও বাড়ান ডেকলান। ভারতের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বল পেয়ে শট নেন রোনান, তবে ভারতীয় গোলরক্ষক এগিয়ে এসে তা প্রতিহত করেন।

মালের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী সমর্থক। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে প্রাণভরে সমর্থন জানান।

বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই টুর্নামেন্টে একই গ্রুপে ছিল। ফলে একে অপরের খেলার ধরন সম্পর্কে ছিল ভালো ধারণা। এ কারণে বাংলাদেশের আক্রমণের অন্যতম ভরসা রোনান সুলিভানকে শুরু থেকেই কড়া নজরদারিতে রাখে ভারত। তারপরও নিজের দক্ষতায় একাধিক শট নিয়ে ভারতীয় রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন তিনি।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন কয়েকবার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও দুইবার বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি, তবু বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। অপরদিকে বাংলাদেশও প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে বেশ কয়েকবার আক্রমণ গড়ে তুললেও নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।

শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় জয়ী হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে বাংলাদেশ।

 

টানা তৃতীয়বার ইতালি বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর পদত্যাগ করলেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। পদত্যাগের চাপের মধ্যে শুরুতে ‘না’ করে দিলেও বৃহস্পতিবার তিনি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০১৮ সালে গ্রাভিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করতে পারেনি ইতালি। তার আগের সভাপতি পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করতে না পারার জেরে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরে উঠতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো উন্নত না করলে ২০৩২ ইউরো আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে। তিনি এসব স্টেডিয়ামকে ‘ইউরোপের অন্যতম বাজে’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার কাছে হারের পর ইতালির ফুটবল-কর্তারা দেশের অভ্যন্তরে তীব্র চাপে পড়েন। রোমে এফআইজিসি ভবনের সামনে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা ডিম ছুড়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এফআইজিসি–প্রধান গ্রাভিনার পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতিতে বলেন, ‘ইতালিয়ান ফুটবলকে একদম গোড়া থেকে নতুন করে গড়তে হবে। আর সেই সংস্কার শুরু হতে হবে ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন গ্রাভিনা।

চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রোমে এফআইজিসির প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর পদত্যাগের কথা সিদ্ধান্ত জানান গ্রাভিনা।

ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ২২ জুন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ‘গ্যাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উয়েফা সভাপতি বলেন, ‘২০৩২ ইউরো যেভাবে নির্ধারণ করা আছে, সেভাবেই হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি শুধু আশা করি যে (ইতালির) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকবে। যদি তা না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে না। ইতালির রাজনীতিবিদদের হয়তো নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, কেন ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের মধ্যে অন্যতম নিকৃষ্ট পর্যায়ে রয়েছে।’

সেফেরিনের মতে, ইতালিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক’।

২০৩২ সালে তুরস্ক ও ইতালির যৌথভাবে ইউরো আয়োজন করার কথা। আগামী অক্টোবরে ইতালিকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে ১১টি শহর ইউরো আয়োজনে আগ্রহী। তবে এর মধ্যে একমাত্র জুভেন্টাস অ্যালিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামটি টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়ল আর এক পরিচালকের পদত্যাগপত্র। আজ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত এই পরিচালক বিসিবির লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইয়াসির। এ নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হওয়া ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে একই কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ইয়াসিরও।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকেন। গত অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইয়াসির ও রুবাবা দৌলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

ইয়াসির আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘একদমই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এখানে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।’ তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে যে সংস্থা, সেই এনএসসি বিষয়টি জানে কি না, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘এখনো জানাইনি।’

বিসিবিতে লজিস্টিকস কমিটির প্রধান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ইয়াসিরের জবাব, ‘ভালো। অনেক কিছু শিখেছি।’ এ সময় তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবার বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বে ফিরতে পারেন।

গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত পরিচালক ইয়াসির।

বিসিবি অবশ্য আগের দুই পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে।

ঢাকা

২০০৬ সালের ৯ জুলাই। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ১৮তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের। ফ্রান্সকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এরপর?

না, এই ম্যাচের পরিসংখ্যান কিংবা বিশ্লেষণ তো নয়-ই। বরং সেই ফাইনালে 'ম্যাচের' চেয়েও বেশি আলোচিত জিদান বনাম মার্কো মাতেরাজ্জির 'ঢিসুম' কাহিনীও আলোচ্য বিষয় নয়। মূল ব্যাপার বৈশ্বিক আসরের একটি অংশে ইতালির উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যেখানে ইতালি 'দ্বিতীয় দফায়' আজ পর্যন্তও অনুপস্থিত।

বার্লিনের সেই ফাইনালের পর ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালি বিদায় নেয় আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ তারা।

বিশ্বকাপে আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের আসরের গ্রুপ পর্বে বিদায় নেয়ার ঘটনা নতুন না। এই পরম্পরা যেন একবিংশ শতাব্দীতে আরও পোক্ত হয়েছে। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, ২০১০ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির মতো ২০০৬ এর ইতালি যে একই কাণ্ড করেছিল পরের আসরে, সেই আলাপ পুরোনো। এই আলোচনার গল্প ভিন্ন। এর অংশ আবার দুইটি। আগে 'দ্বিতীয় দফা' আলোচনা করা যাক।

২০০৬ ফাইনালের পর কেটে গেছে প্রায় ২০ বছর। বার্লিনের সেই ম্যাচের পর বিশ্বকাপের নকআউট কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি ইতালির। চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো নকআউট ম্যাচ খেলার মাঝে এত দীর্ঘ বিরতি নেই অন্য কোনো দলের, যা আছে ইউরোপের এই দেশটির।

৩১ মার্চ, ২০২৬। আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ ইতালির। এবার প্লে অফে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে যেতে ফের ব্যর্থ দলটি।

২০৩০ বিশ্বকাপে তারা যদি সুযোগও পায় এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে নকআউটেও ওঠে তবে সেটির ব্যবধান হয়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই দশক।

তবে বর্তমান শতাব্দীর এই রেকর্ড ইতালির নিজেদেরই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কাছে কিছুই না। যদি ভেবে থাকা যায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং আরেকটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান অনেক বেশি, তবে এর আরেকটি বড় ভার্সন খোদ ইতালিয়ানদেরই তৈরি। সেটিই হলো গল্পের 'প্রথম বা আদি দফা'। সেখানে কী করেছিল রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরসূরিরা?

১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। সেই আসরের ফাইনালের পর আরেকটি নকআউট ম্যাচ খেলতে ইতালির অপেক্ষা করতে হয়েছে কতদিন? এর উত্তর হলো— ৩২ বছর। এতটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।

হ্যাঁ, আগের শতাব্দীতেও এমনভাবেই দীর্ঘ তিন দশকের বিরতি দিয়েছিল ইতালি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৫০ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন (১৯৩৮) হিসেবে অংশ নিয়ে তারা ব্যর্থ হয় ফাইনাল রাউন্ড তথা সেই আসরের প্রথম নকআউট স্টেজে উঠতে। ১৯৫৪ সালের আসরে ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের গ্রুপে তৃতীয় হয়ে বাড়ির পথ ধরতে হয় তাদের। ১৯৫৮ সালের আসরে তারা মূল পর্বে কোয়ালিফাই করতেই পারেনি।

ইতালির এই গ্রুপ পর্বের গোলকধাঁধা লম্বা হয় আরও এক যুগ। ১৯৬২ সালের আসরে পশ্চিম জার্মানি, চিলি ও সুইজারল্যান্ডের গ্রুপে ফের তৃতীয় হয়ে নকআউট স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ১৯৬৬ সালের গল্প যেন আরও পীড়াদায়ক ইতালি ভক্তদের জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চিলি ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপে থেকেও ফের গ্রুপ পর্বে বিদায় তাদের।

অবশেষে দীর্ঘ তিন দশক বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৮ ফাইনালের পর ১৯৭০ সালের আসরে নকআউটে ওঠে তারা। উরুগুয়ে, সুইডেন ও ইসরায়েলের গ্রুপে টপার হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ইতালি। সেবারের আসরে অবশ্য রানার্সআপ হয় তারা। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে হেরে যায় ইতালি। সেই ফাইনাল জিতেই জুলেরিমে ট্রফি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ব্রাজিল দলতো বটেই, কালো মানিক পেলে জেতেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ।

ইতালির ভক্তরা হয়ত বিশ্ব আসরের একটা নির্দিষ্ট অংশে নিজেদের প্রিয় দলকে মিস করেন। এমনকি তারা বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচ খেলেছে প্রায় ১১ বছর আগে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মাঠে নেমেছিল উরুগুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে তো বিশ্বকাপে অনুপস্থিতই ইতালিয়ানরা।

তারা নিজেরাও একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালের ম্যাচে ইতালি বলে কোনো দেশের পতাকা ওঠেনি অনেক দিন-বছর-দশক। এরকম বিরতি গত শতাব্দিতেও হয়েছিল, ৩২ বছর।

 

মেহেদী হাসান রোমান

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব