• Colors: Green Color

খাগড়াছড়ির দরিদ্র পরিবার থেকে ফুটবলে এসেছিলেন দুই যমজ বোন আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি। সংসারে দুই বেলা খাবার জোগাড় হতো না। কিন্তু অদম্য দুই বোন থেমে থাকেননি। ২০১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে যোগ দেন তাঁরা। ২০২১ সালে সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন দুই বোনই। একমাত্র জয়সূচক গোল করেন আনাই মগিনি। অভিমান নিয়ে জাতীয় দল ছেড়েছেন দুই বোনই। আর আনাই মগিনি ফুটবলই ছেড়ে দিয়েছেন পুরোপুরি। ১০ হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন তিনি। বোন আনুচিং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচ। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে সময় নিলেন মাত্র ১০ মিনিট। নিজের নামাঙ্কিত ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এর সামনেই ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

যদিও জয়ের হাসি নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে পারেনি তাঁর দল। ঘরের মাঠে অস্টিন এফসির বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

মায়ামির প্রথম গোলটা মেসির পা থেকে এলেও ন্যু স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছেন অস্টিন ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর। ৬ মিনিটেই সফরকারীদের এগিয়ে দেন তিনি। এর চার মিনিট পরই দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০৩ নম্বর গোল।

সমতায় ফেরার পর মায়ামি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও অস্টিনের রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উল্টো ৫৩ মিনিটে পাল্টা–আক্রমণে জেইডেন নেলসনের গোলে আবারও লিড নেয় অস্টিন।

ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন ৭৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেজকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। মাঠে নামার ৮ মিনিট পরে গোল করে দলের হার বাঁচান এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে জর্মান বার্টারেম হেড করার পর খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ।

গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি
গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি, এএফপি

ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শেষ দিকে মেসি দারুণ একটা সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বলে জড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে সেটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চার ম্যাচ জয়হীন থাকল অস্টিন।

গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম হোম ম্যাচ। এ ছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ফোর্ট লডারডেলকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের পর এবারই প্রথম নিজেদের শহরের নামে গড়া স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেল তারা।

২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন ক্লাবের সহমালিক ডেভিড বেকহাম ও জর্জ মাস। খেলা শুরুর আগে আবেগপ্রবণ হয়ে বেকহাম বলেন, ‘মায়ামিতে এই স্টেডিয়াম চালু করার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করার পর আজ এটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ২০ বছর আগে এমএলএসে আসার সময় অনেক কথা দিয়েছিলাম। ১৩ বছর আগে মায়ামিতে আসার সময়ও সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিলাম। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।’

গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ও বেকহামের রিয়াল মাদ্রিদ–সতীর্থ রোনালদো নাজারিও।

ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘এটি দর্শনীয় স্টেডিয়াম, নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য; পুরো গ্যালারি একদম ঠাসা ছিল।’

আগামী সপ্তাহে নিজেদের এই নতুন মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি ধরে রাখা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয় রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।

বিলম্বিত বরণ

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে পৌঁছায় রাত পৌনে ১০টায়। খেলোয়াড়েরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চোটের কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়ে মঞ্চে আসেন এক খেলোয়াড়, এরপর আসেন সাফের সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। একে একে সব খেলোয়াড়কে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। ডেকলান সুলিভানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবার শেষে মঞ্চে আসেন রোনান সুলিভান। উপস্থাপক ট্রফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সেটি এনে মঞ্চের সামনে রাখা হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান ওঠে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, যিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। সাফের ফাইনালে গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকারে একটা শট সেভের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০০৩ সালে। যখন ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনিও একটি শট আটকান।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
 

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশাল পর্দায় বাংলাদেশের সাফ জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো প্রদর্শিত হয়। পরপর দুবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর অধিনায়ক মিঠুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই দলই বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

মার্ক কক্স , কোচ, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দল

কোচের লক্ষ্য ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ছেলেরা চেষ্টা না করলে এই ট্রফি আসত না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।’ মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি এই ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্স
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্সশামসুল হক

আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা

শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির প্রধান ও বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদিকে খেলোয়াড়েরা সম্মান জানান। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোচ যেভাবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্নের কথা বলেছেন, আমাদের সেভাবেই এগোতে হবে এবং পাইপলাইন তৈরির কাজ করতে হবে।’

নাসের শাহরিয়ার জাহেদি রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং দলের অন্য সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা আজ রাতেই সবার হাতে পৌঁছানোর কথা। এ ছাড়া সমর্থকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম  খান প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আলাদা কোনো পুরস্কারের ঘোষণা দেননি। এর আগেও হাতিরঝিলে হওয়া মেয়েদের দুটি সংবর্ধনায় কোনো পুরস্কার ঘোষণা করেনি বাফুফে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। ৬ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সাফজয়ী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)
জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)শামসুল হক

অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও জনসমাগম

এই সাফল্য উদ্‌যাপনে জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও আমজনতার উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম; গ্যালারির তিন ভাগের এক ভাগও পূর্ণ হয়নি। তবে আয়োজন ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। প্রবেশপথে ট্রফি জয়ের বড় বিলবোর্ড ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত বোর্ড ছিল। মঞ্চের পেছনে পর্দায় ছেলেদের সাফ জয়ের পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে নারী ফুটসাল জয়ের ছবিও দেখানো হয়, যা অনেকের কাছে কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মঞ্চের সামনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘CHAMPIONS’। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং ৩৪টি চেয়ারে সজ্জিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোর বিচ্ছুরণ পুরো পরিবেশকে বর্ণিল করে তুলেছিল।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চেষ্টা, দেশপ্রেম আর ঐক্য থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এখন বলতে পারি—উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন। তবে এটাই শেষ নয়, কোচ মার্ক কক্সের কথামতো ২০৩৬ (আসলে হবে ২০৩৪) সালে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রেনান-সুলিভানদের জন্য ছাদখোলা বাসে বর্ণিল সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফুটবলারদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে সাফজয়ী ফুটবলারদের বরণ করে নেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এরপর ছাদখোলা বাসে শুরু হবে ফুটবলারদের শোভাযাত্রা। বাফুফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই শোভাযাত্রা বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার গিয়ে শেষ হবে।

সেখানে সাড়ে ৭টার দিকে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাই সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

এদিকে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে টাকার অংক এখনও জানানো হয়নি।

এর আগে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ানো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে। গোলকিপার মাহিন ভাগ্য পরীক্ষার সেই মুহূর্তে একটি শট রুখে দেন। আর শেষ শটে পানেনকা কিকে গোল করে রোনান বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বিজয়ীদের বরণ করে নেবে বাফুফে। আজ সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন দলকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে একটি বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে শহরে নিয়ে আসা হবে। দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম এই অর্জনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রাটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে গিয়ে শেষ হবে।

বাফুফে জানিয়েছে, আজ রাত ৭টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানাবেন।
দেশের ফুটবলে সাফল্য উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

বাংলাদেশে ছাদখোলা বাসে ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়া এখন জনপ্রিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার থেকে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটে ফেরার পর নারী ফুটবল দলকে একইভাবে ভোররাতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড থেকে সাফ নারী ফুটসালের শিরোপা জিতে ফেরার পর সাবিনা-কৃষ্ণাদেরও বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে রাজত্ব ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও জিতল শিরোপা। গত রাতে মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। মাঠের এই সাফল্যে একক কোনো বীরত্বের চেয়ে দলীয় সংহতি বড় হয়ে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টে আলো কেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। ১২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’ এবং খেলেছেনও সেই পজিশনেই।

বাংলাদেশের সাফল্যের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। গত ২৮ জানুয়ারি যশোরের শামসুল হক একাডেমিতে শুরু হওয়া প্রাথমিক ক্যাম্প চলে ১৪ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততায় মাঝপথে এক মাসের বিরতি পড়ে। দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই ঘরোয়া লিগের শীর্ষ দলগুলোতে খেলছেন। গোলকিপার মাহিন, মিডফিল্ডার কামাল ঢাকা মোহামেডানে, সেন্টার ব্যাক ইউসুফ, মিডফিল্ডার চন্দন বসুন্ধরা কিংসে। সেন্টার ব্যাক ও অধিনায়ক মিঠু ও লেফট উইঙ্গার মোর্শেদ ফর্টিস এফসিতে, মিডফিল্ডার ফয়সাল আর ফরোয়ার্ড মানিক পিডব্লুউডিতে। সেন্টার ব্যাক রিয়াদ ঢাকা আবাহনীতে খেলেন।

ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ
ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ, সাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
 

গত ১৬ মার্চ আবার শুরু হয় ক্যাম্প। ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের পর ১৮ মার্চ ক্যাম্পে যোগ দেন সুলিভান ভাইয়েরা। মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে রোনান বুঝিয়ে দেন, তিনি বিশেষ কিছুর জন্যই এসেছেন।

মালের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন রোনান। দলের ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই তাঁর। একটি দর্শনীয় ফ্রি-কিকে এবং অন্যটি নিখুঁত হেডে। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও অবদান ছিল তাঁর। রোনানের নেওয়া কর্নার থেকে সেন্টার ব্যাক রিয়াদ গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও সুলিভানের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল নজর কেড়েছে দর্শকদের।

দলের কোচিং স্টাফদের মতে, রোনানের বড় শক্তি হলো তাঁর ‘গেম সেন্স’ ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। নানি বাংলাদেশি হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়া এই তরুণের মধ্যে দেশের প্রতি টান চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি গোলের পর লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে তাঁর উল্লাস ছিল অকৃত্রিম। ফুটবল বোদ্ধাদের বিশ্বাস, রোনানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ‘নাম্বার নাইন’ বা স্ট্রাইকার সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলতে পারে।

সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন মালে থেকে ফোনে বলেন, ‘পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশের নাম্বার নাইন সংকট সে দূর করতে পারবে। একটা দেশে প্রথম এসেই ওর মধ্যে যে দেশাত্মবোধ দেখেছি তা অসাধারণ। গেম সেন্স খুব ভালো। সহজেই সবকিছু বুঝতে পারে। সত্যি বলতে, কারও মধ্যে দেশাত্মবোধ থাকলে খুব বেশি কোচিং লাগে না। মনে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল থাকলে আর কিছু লাগে না।’

বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনান
বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনানসাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
 

শুধু রোনান নন, ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজও সম্ভাবনাময় ফুটবলার। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ টুর্নামেন্টে শুধু প্রথম ম্যাচটা খেলেন। ফিটনেস সমস্যা ছিল তাঁর কিছুটা। টেকনিক্যালি খুব ভালো। রিদন বলেন, ‘ইব্রাহিম নেওয়াজের গেম নলেজ অত্যন্ত উঁচু মানের। বয়সভিত্তিক ক্যাম্পে তাদের আরও আগে আনা গেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’

সুলিভানের ভাই ডেকলান ফাইনালসহ দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা, আগামীতে এসব প্রবাসী ফুটবলারকে আরও আগে থেকে ক্যাম্পে যুক্ত করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে চাবিকাঠি ছিল দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া। বাফুফে এলিট একাডেমির এই দলটির ফুটবলাররা অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায় থেকেই একসঙ্গে খেলে আসছেন, যার ফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।

ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন
ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন, বাফুফে
 

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স গত ১২ মার্চ ঢাকায় আসেন। এরপর তাঁর হাতে দেওয়া হয় দলের দায়িত্ব। তবে মাঠের কৌশলে দেশীয় কোচ আকবর হোসেন রিদন ও আতিকুর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন তিনি। এ ছাড়া গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্যের অধীনে গোলরক্ষকদের আত্মবিশ্বাস এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সরাসরি তত্ত্বাবধান দলটিকে একটি পরিবারে পরিণত করেছে, এমনটাই বলছেন কোচিং স্টাফের সদস্যরা।

সাফের এই ট্রফি শুধুই একটি শিরোপা নয়, বরং রোনান সুলিভানের মতো উদীয়মান তারকাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর  ইঙ্গিত। হৃদয়ে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল ম্যাচ জয়ের জেদ থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব, অনূর্ধ্ব-২০ দল আরও একবার তা প্রমাণ করল।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব