• Colors: Green Color

পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ড। আর গতকাল? মিরপুরের ২২ গজে যেন এক রুদ্রমূর্তি! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতি আর বাউন্সের যে পসরা সাজালেন নাহিদ রানা, তাতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস ওঠার দশা। ২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই যে ঐতিহাসিক জয়, তার অন্যতম রূপকার তিনি। এমন আগুনঝরা পারফরম্যান্সের পুরস্কারও হাতেনাতে পেলেন আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে। একলাফে ২৩ ধাপ পেরিয়ে ক্রিকেট–বিশ্বের নজর কেড়েছেন এই তরুণ।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন নাহিদ। ১০ ওভার বল করে মাত্র ৪১ রান খরচায় পকেটে পুরেছেন ৪ উইকেট।

অস্ট্রেলিয়া–জয়ের এই মহাকাব্যের পর আজ আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের যে নতুন তালিকা প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বড়সড় এক ওলট–পালট। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে এত দিন ৪৭ নম্বরে থাকা নাহিদ এখন ৫৩৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চলে এসেছেন ২৪ নম্বরে

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অবশ্য ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে এখনো সবার ওপরে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬১৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য তাঁর আগের অবস্থানটাই ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে এই সংস্করণে দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার ওপরে আছেন তাওহিদ হৃদয়। তবে তাঁর জন্য নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ের খবরটা একটু মনখারাপের। এক ধাপ পিছিয়ে ২৬ থেকে এখন ২৭ নম্বরে নেমে গেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

নাহিদ-মিরাজদের এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের আড়ালে দলের ভাগ্যও জড়িয়ে আছে আইসিসির এই হিসাব-নিকাশে। আগামী বছর সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয়ে। সুখবর হলো, ৮৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ৯ নম্বরেই আছে। নতুন র‍্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজের দলের এই অবস্থানে কোনো নড়চড় হয়নি।

ঢাকা

ম্যাচের তখন ৬৯.০৪ মিনিট, বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। নেমেই অসাধারণ এক পাস বাড়ালেন লাওতারো মার্তিনেজের প্রতি। মার্তিনেজ গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করার আগ মুহূর্তে তাঁকে ফাউল করেন আইসল্যান্ড গোলরক্ষক এলিয়াস রাফিন ওলাফসন। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি।

পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি মেসি। বল যখন জালে জড়ায় তখন ম্যাচের সময় ৭১.০৩ মিনিট। অর্থাৎ মাঠে নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এ যেন এলাম, দেখলাম এবং জিতলাম! এ যেন ‘মেসি–মোমেন্ট’!

মেসির এই গোলের আগে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভ্যালেন্তিন বারকো। আর ম্যাচের শেষ দিকে মেসির তৈরি করা আক্রমণে তৃতীয় গোলটি করেন থিয়াগো আলমাদা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জিতল ৩–০ গোলে। এর আগে আরেক প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২–০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অভিষেক ম্যাচের আগে এই শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমার্ধের তিন মিনিটেই আইসল্যান্ড একটি স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতেই। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা ৭ মিনিটেই গোলের সুযোগ পায়।

আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন ভ্যালেন্তিন বারকো
আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন ভ্যালেন্তিন বারকো, এক্স
 

ভালো খেলতে থাকা জোসে ম্যানুয়েল লোপেজ প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি ফাউলের শিকার হন। এরপর ফ্রি কিক থেকে জিওভানি লো সেলসো ছোট একটি পাস বাড়িয়ে দেন ফাকুন্দো মেদিনার কাছে। তিনি দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে ক্রস পাঠান, আর সেখানে হেডে বল নামান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি।

পরিস্থিতি তখন বেশ এলোমেলো। গিওলিয়ানো সিমিওনে কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কেউই পরিষ্কারভাবে শট নিতে পারেননি। আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগ কোনো রকমে বল বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করে, কিন্তু বল গিয়ে পড়ে বক্সের ঠিক বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভ্যালেন্তিন বারকোর কাছে।

এক মুহূর্তও দেরি না করে তিনি জোরাল শট নেন। বল সোজা জালের ডান দিকের নিচের কোণে গিয়ে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক এলিয়াস রাফিন ওলাফসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। দুর্দান্ত সেই ফিনিশে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন বারকো।

জাতীয় দলের হয়ে এটি বারকোর দ্বিতীয় গোল। গত মার্চে জাম্বিয়ার বিপক্ষেও একবার গোলের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। বিরতিতে যাওয়ার আগে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি তারা।

বিরতির পরও আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একাধিক সুযোগও তৈরি করে। এ সময় ফিনিশিংয়ে একাধিকবার ব্যর্থ হন লাওতারো মার্তিনেজ। ম্যাচে ৬৯ মিনিটে তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে মেসি মাঠে নেমেই তৈরি করেন পেনাল্টির সেই মুহূর্ত। শেষ দিকে তৃতীয় গোলের ভিত্তিও তৈরি করে দেন মেসি।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আগামী ১৭ জুন সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

একটা জয়ে মনে রাখার মতো মুহূর্ত থাকে অনেক, সঙ্গে জয়ের আনন্দে বুঁদ হওয়ার স্মৃতিও আটকে থাকে মাথায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজকের ৮৬ রানের জয়টা ‘স্পেশাল’ হয়ে থাকার কথা কেবল একটা কারণেই— কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়ের ২১ বছর পর তাদের বিপক্ষে জয় এল আবার।

কিন্তু শুধু কি এটুকুই? উত্তরটা আপাতত ‘না’ নাহিদ রানার জন্য। বাংলাদেশের একজন পেসার, যাঁর সহজাত গতি আর ভয়ংকর সব বাউন্সারে প্রায় প্রতি বলেই অস্বস্তি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের; তাঁরা বল বুঝে ওঠার আগেই তা চলে যাচ্ছে উইকেটরক্ষকের হাতে। এমন দৃশ্য তো দেখা যায়নি আগে।

শুধু এটুকু হলেও হতো, জশ ইংলিসকে আউট করে রীতিমতো তেড়ে গেছেন নাহিদ, কিছু একটা বলেছেনও। কী বলেছেন আঁচ করা গেলেও সম্ভবত প্রকাশ্যে বলার মতো নয়। নাহিদ যাই বলুন, অস্ট্রেলিয়ান অহমে যে তা আঘাত করেছে প্রবলভাবে, তা স্পষ্ট হয়েছে ইংলিসের মুখাবয়ব আর প্রতিক্রিয়ায়।

মিরপুরে ২৮৫ রান তাড়া করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন অবশ্য তাসকিন আহমেদ। তাঁর করা ইনিংসের প্রথম বলে রীতিমতো বোকাই বনে গিয়েছিলেন ম্যাথু শর্ট। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে তিনি যতক্ষণে ব্যাট নামিয়েছেন, ততক্ষণে তাঁর স্টাম্প ভেঙে গেছে। অবিশ্বাসে মাথাটা ঘুরিয়ে সোজা ড্রেসিংরুমের পথ ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না অজি ওপেনারের সামনে।

জশ ইংলিসকে আউট করে রীতিমতো তেড়ে গেছেন নাহিদ
জশ ইংলিসকে আউট করে রীতিমতো তেড়ে গেছেন নাহিদ
 

পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লু হন মার্নাস লাবুশেন— অস্ট্রেলিয়ার তখন ২ উইকেট নেই, রানও কেবল ২। পরের সময়টায় তারা যতবারই ম্যাচে ফিরতে চেয়েছে, থামিয়ে দিয়েছে নাহিদ রানার গতি। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে তিনি যে চার উইকেট পেয়েছেন, সবগুলোই ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে করা বলে।

কুপার কনোলি আর ইংলিসের তৃতীয় উইকেট জুটিতেই প্রথমবার ফেরার চেষ্টা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। নাহিদের বলে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ২৫ বলে ১৯ রান করে ইংলিস আউট হয়ে যাওয়ার পরই ওই তর্কের ঘটনা।

পরে চতুর্থ উইকেটেও ৫৩ বলে ৪০ রান যোগ করে ফেলেছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি ও কনোলি। এবারও তা ভাঙেন নাহিদই— ৬২ বলে ৪৭ রান করে ক্যারিও ক্যাচ দেন লিটনের হাতে। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার কঠিন কাজটা আর সম্ভব করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিনের ৬৬ বলে ৫২ রানের ইনিংস কেবল অপেক্ষাই বাড়াতে পেরেছে। আধঘণ্টা আর বৃষ্টির কারণেও। শেষ পর্যন্ত জয়টা ডিএলএসে এলেও তা ছিল একরকম অবধারিতই।

২ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক
২ উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক
 

অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাজটা কঠিন করে দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক হোসেনও। প্রায় নিভে যাওয়া ক্যারিয়ারে তিনি নতুন প্রাণ পেয়েছেন এই সিরিজের দলে সুযোগ পেয়ে। প্রথম ম্যাচেই আলো ঝলমলে ইনিংসে আপাতত জাতীয় দলে থিতু হওয়ার আভাসও দিয়ে রেখেছেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাইফ হাসান আউট হয়ে যাওয়ার পর ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটিতে বড় রানের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। কিন্তু ৪৪ বলে ৫৪ রান করে তানজিদ আউট হতেই হুট করে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের।

৩৪ রানের ভেতর হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। ৮৬ বলে ৬৭ রান করা নাজমুলও ছিলেন তাঁদের একজন। এমন সময় উইকেটে এসে মোসাদ্দেক সঙ্গী হিসেবে পান তাওহিদ হৃদয়কে। ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই যিনি ঠিক স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। হৃদয়ের ৫১ বলের ইনিংসে মাত্র ১ বাউন্ডারি দেখলেও তা বোঝা যাবে কিছুটা।

মোসাদ্দেক ফিফটি পেরোনোর আগেই অবশ্য তিনি আউট হয়ে যান। ফিফটি পাওয়ার পরের বলেই আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজও। টেলএন্ডারদের নিয়ে তখন মোসাদ্দেককে পুরো ৫০ ওভার খেলতে হতো, দলের রানও বাড়াতে হতো সমান তালে।

দুটো কাজই তিনি করেছেন বেশ ভালোভাবে। ফিফটি পাওয়ার পরের ওভারেই যেমন অ্যাডাম জাম্পাকে টানা তিন বলে বাউন্ডারি মেরেছেন, আবার শেষ পর্যন্ত থেকেছেন অপরাজিতও— তাতে অবশ্য কিছুটা অবদান আছে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদেরও, শুধু মোসাদ্দেকেরই ৪টা ক্যাচ ছেড়েছেন তাঁরা।

মোসাদ্দেক সেসব সুযোগ কাজে লাগানোর কৃতিত্বটা অবশ্য পাবেন পুরোপুরি। তাঁর ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ। হয়তো জয়ের ভিতও পাওয়া গেছে ওই রানেই— যে জয়টা পেতে বাংলাদেশের লেগে গেছে ২১ বছর। যতই অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সারির দল হোক, জয়টা তাই স্পেশালই থাকবে তাদের জন্য।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ড—ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছে সর্বশেষ তিনটি সিরিজেই। তাতে সাফল্যের বড় কারিগর ছিলেন পেসাররা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কারও গেছে নাহিদ রানার হাতে। শুধু তিনিই নন, কখনো শরীফুল ইসলামের সুইং, আবার কখনো মোস্তাফিজুর রহমানের কাটার এনে দিয়েছে ম্যাচের মোড় ঘোরানো সাফল্য।

এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। সব সময়ই পেস বোলারদের জন্য খ্যাতি আছে তাদের। তবে প্যাট কামিন্স–জশ হ্যাজলউডের মতো তারকা পেসারদের ছাড়াই এই সিরিজ খেলতে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। দলটির বর্তমান স্কোয়াডে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ নাথান এলিসও খেলেছেন মাত্র ২০টি ওয়ানডে।

বাকি তিনজনের মধ্যে জেভিয়ার বার্টলেট আর বেন ডোয়ারশুইস খেলেছেন ৬ ম্যাচ। লিয়াম স্কটের তো এখনো অভিষেকই হয়নি। একদিকে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান পেস আক্রমণ, অন্যদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তিই এখন পেস বোলিং।

তাহলে কি এই সিরিজে পেসারদের লড়াইয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে? আজ মিরপুরে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তরে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস বলেছেন, ‘ধারণা করছি, সিরিজটা শেষ হলেই আমরা উত্তরটা পেয়ে যাব!’ এরপর তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্কোয়াড থেকে বড় (তারকা) কয়েকজন খেলোয়াড় বাইরে চলে গেছে। তবে আমি মনে করি যারা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত খেলছে, যেমন নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট বা বেন ডোয়ারশুইস। তাদের এই পর্যায়ে খেলার মতো এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই তারাও দারুণ সম্ভাবনাময়। এই সিরিজে তারা কী করতে পারে তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস
সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জশ ইংলিস
 

বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন নাহিদ রানাকে নিয়ে। গত মার্চে মিরপুরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন, পরের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা।

নাহিদ যে এবার অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন, সেটি ভালোভাবেই জানেন ইংলিস, ‘আমি যে খুব বেশি তার বোলিং দেখেছি, তা নয়। কিন্তু যতটুকু দেখেছি, খুব ভালো বোলার সে, খুবই সম্ভাবনাময় একজন। লম্বা, জোরে বল করতে পারে— এমন কম্বিনেশন খুব চমৎকার ব্যাপার। আমাদের সবার জন্যই তাকে সামলানো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা রিশাদ হোসেনের অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। সর্বশেষ বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ও বিপক্ষে ওই টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা এই সিরিজেও কাজে আসবে বলে বিশ্বাস ইংলিসের।

রিশাদ হোসেন
রিশাদ হোসেন
 

তিনি বলেছেন, ‘সে আসলেই খুব ভালো একজন বোলার। বিগ ব্যাশে খেলেছে, তাই আমার মনে হয় আমাদের বেশ কয়েকজন তাকে ভালোভাবেই দেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই, ম্যাথু ওয়েড আমাদের কোচিং স্টাফে আছে, সঙ্গে এলিসও আছে—হোবার্টে তারা রিশাদকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। তাই তাকে নিয়ে যে আমাদের দলের ভেতর আলোচনা হবে, সেটা একদম নিশ্চিত।’

বিশ্বকাপ ফুটবল মানে তো শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এর বাইরেও জড়িয়ে থাকে হাজারো নিয়মকানুন। ফিফা, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি), বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ওয়াদা) কড়া নজরদারিতে থাকতে হয় ফুটবলারদের।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বকাপে মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ঠিক কী কী করার স্বাধীনতা আছে, আর কোন কোন জায়গায় রয়েছে কঠোর ‘লক্ষণরেখা’।
এই নিয়মকানুনের বেশির ভাগই অবশ্য ফুটবলের মৌলিক বিধিনিষেধ হিসেবে সব সময়ই কার্যকর।

জার্সি খোলা বারণ

গোল করে আনন্দে মেতে ওঠার চিরায়ত দৃশ্য এটি। কিন্তু আবেগের বশে জার্সি খুললেই সর্বনাশ, রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করবেন না।

সীমাছাড়া উদ্‌যাপন

গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে উল্লাস করাই যায়। তবে সময় নষ্ট করা বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দেওয়ার মতো অতি উদ্‌যাপন দেখলে ফিফা কড়া শাস্তি দিতে পারে।
গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবে
গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবেছবি: রয়টার্স

গয়নাগাটি নিষিদ্ধ

মাঠে কোনো রকম গয়না পরা চলবে না। আংটি, গলার চেইন কিংবা ব্রেসলেটকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে ফিফা।

সুরক্ষাকবচে সবুজ সংকেত

খেলোয়াড়েরা চাইলে সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা গার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাঠে নামার আগে দলীয় চিকিৎসক ও রেফারির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

গোপন বার্তা নয়

ভেতরের গেঞ্জি বা অন্য কোনো পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে অপেক্ষা করছে বড় শাস্তি।

রেফারির সঙ্গে কথা

ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে কথা বলা অপরাধ নয়। তবে সেই আলাপচারিতায় আক্রমণাত্মক মনোভাব, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ থাকলে হলুদ কিংবা লাল কার্ড নিশ্চিত।
ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ড
ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ডছবি: রয়টার্স

ডাইভিংয়ের শাস্তি

ফাউলের শিকার হওয়ার ভান করা বা মাঠে অযথা ডাইভ দেওয়া দর্শকও পছন্দ করে না। অভিনয় করে রেফারিকে ঠকাতে গেলে উল্টো হলুদ কার্ড খেতে হবে।

হলুদ কার্ডের বোঝা

আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই বিপদ। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচটিতে ওই খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শকের সারিতে বসে থাকতে হবে।

লাল কার্ডের নিয়ম

লাল কার্ড দেখার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হবে। এই নির্দেশের পরও যদি কেউ মাঠে থাকতে গড়িমসি করেন, তবে তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

ডোপ টেস্টের কড়াকড়ি

বিশ্বকাপজুড়ে চলে ডোপবিরোধী কঠোর নজরদারি। ম্যাচ শেষে, অনুশীলনে, এমনকি টিম হোটেলেও যেকোনো খেলোয়াড়কে আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে নেওয়া হতে পারে।

পরীক্ষায় ‘না’ বলা যাবে না

ফিফা এবং ‘ওয়াডা’র নিয়ম অনুযায়ী, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানানো বা নমুনায় কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা করলে ক্যারিয়ারে নেমে আসতে পারে বড় নিষেধাজ্ঞা।

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার

বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেক দলই তাদের খেলোয়াড়দের অনলাইনের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখে।
অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না
অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে নাএএফপি

আপত্তিকর পোস্ট নিষিদ্ধ

ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি

ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়েরা সাক্ষাৎকার দিতে পারেন এবং সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই।

মিডিয়া এড়ানোর উপায় নেই

ফিফার পূর্ব অনুমতি ছাড়া অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। কোনো খেলোয়াড় তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।

জার্সি বদল

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করা ফুটবলের অন্যতম সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী এক সৌজন্য। পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের এই রীতিতে ফিফার পূর্ণ সম্মতি আছে।

স্বাধীনতায় লাগাম

খেলোয়াড়েরা চাইলেই যখন-তখন মনের সুখে ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগবেই।

স্পনসর বিতর্ক

ফিফার অফিশিয়াল অনুষ্ঠান বা ইন্টারভিউতে কোনো অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানো যাবে না। বাণিজ্যিক নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলো
হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলোএএফপি

মাথার আঘাত

ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড় মাথায় চোট পেলে বা অচেতন হয়ে পড়লে রেফারি কিংবা ডাক্তারদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ওই খেলোয়াড় আর খেলতে পারবেন না।

বর্ণবাদবিরোধী ক্যাম্পেইন

ফিফার আয়োজনে ম্যাচ শুরুর আগে বর্ণবাদবিরোধী যেকোনো কর্মসূচিতে (যেমন হাঁটু গেড়ে বসা) অংশ নিতে পারবে দলগুলো। তবে তা হতে হবে পূর্ব অনুমোদিত।

যাতায়াতের নিয়ম

বিশ্বকাপ চলাকালীন হোটেল, অনুশীলন মাঠ কিংবা স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য দলগুলো কেবল ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে পারবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব