• Colors: Green Color

জিতলে সুপার এইট, হারলে বাদ—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আজ সমীকরণ এমন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন ফারহান। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ।

ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

আজ ৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে।

সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। তাঁর সেঞ্চুরির কল্যাণে পাকিস্তান তুলতে পেরেছে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ।

ফারহানকে আজ সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। শেষদিকে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান করে ছিলেন অপরাজিত। এর আগে ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়েছেন অধিনায়ক সালমান আগা।

পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান
পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান, আইসিসি
 

সেঞ্চুরিয়ান ফারহানের শুরুটা আজ তেমন একটা সাবলীল ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৩০ রান তিনি করেছেন ২৭ বলে, এরপর হাত খুলেছেন ফারহান। পরের ৭০ রান করেছেন ৩১ বলে।

এই সেঞ্চুরিতে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন ফারহান। তাঁর রান এখন ২২০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইডেন মার্করামের, ১৭৮ রান।

ক্রিকেট দিনে দিনে ছক্কার খেলায় পরিণত হচ্ছে বললে হয়তো ভুল হবে না। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার—সব সময়ই ছক্কা মারার চেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানদের।

স্বাভাবিকভাবেই ছক্কার সংখ্যায় একটা টুর্নামেন্ট আরেকটাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। না, ছক্কার সংখ্যায় এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে ছাড়ায়নি। তবে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গড়া ছক্কার রেকর্ড ভেঙে এবারের বিশ্বকাপ নতুন রেকর্ড গড়বে, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত।

২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫২ ম্যাচে ছক্কা দেখা গিয়েছিল ৫১৭টি, যা এক টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ৩২টি। এরই মধ্যে ছক্কা হয়েছে ৪৩১টি। ফাইনালসহ এখনো ম্যাচ বাকি ২৩টি। রেকর্ড কি ভাঙবে? তেমনটাই তো হওয়ার কথা।

কারণ, গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি করে ছক্কা মেরেছে—৯.৯৪। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছক্কা হয়েছে ম্যাচপ্রতি অনেক বেশি— ১৩.৪৭ । সেই হিসাবে বাকি ম্যাচগুলোতে রেকর্ড ভেঙে যাওয়ারই কথা।

২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন। গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেট ছিল ১০৯.৯৬, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৪২। এটিই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেটের হিসাবে সর্বোচ্চ।

২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন
২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন, এএফপি
 

এবারের বিশ্বকাপ ও এর আগের বিশ্বকাপ ছাড়া এক আসরে ৪০০ ছক্কা হয়েছে মাত্র একবার। সেটি ২০২১ বিশ্বকাপে। সবচেয়ে কম ছক্কা হয়েছে ২০০৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। সেবার মাত্র ১৬৬টি ছক্কা হয়েছে, ম্যাচও হয়েছিল মাত্র ২৭টি।

অবশ্য চারটি বিশ্বকাপেই ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে। ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে এমন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা হয়েছিল ২০১০ সালে, ২৭৮টি।

ফুটবল মাঠে একসময় যাঁর বিশ্বস্ত হাত প্রতিপক্ষের গোল রুখে দিত, সেই আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক। দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাঠ থেকে পরে মন্ত্রিসভায় যাওয়ার নজির অবশ্য এ দেশে নতুন নয়। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আরিফ খান জয়রাও বুট জোড়া তুলে রেখে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন। হয়েছিলেন মন্ত্রীও।

ভোলার ছেলে আমিনুলের বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। বড় ভাই মঈনুল হকও ছিলেন মাঠের মানুষ। ভাইয়ের হাত ধরেই ফুটবলের প্রেমে পড়া। কিশোর বয়সে খ্যাপ খেলে পাওয়া প্রথম ১৫০ টাকা যখন মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই তৃপ্তির হাসিই যেন আমিনুলকে বুঝিয়ে দিয়েছিল—তাঁকে অনেক দূর যেতে হবে। পাইওনিয়ার লিগের এমএসপিসি সিটি ক্লাবে যখন হাতেখড়ি হলো, তখনই কোচরা টের পেয়েছিলেন, এই ছেলেটি বিশেষ কিছুর জন্য জন্ম নিয়েছে।

অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি আমিনুল। পাইওনিয়ার লিগে নৈপুণ্যের পর আমিনুলকে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগের দল ইস্ট এন্ড ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাই মঈনুল হক এবং মোহামেডানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইমতিয়াজ সুলতান জনির সহায়তায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাঁকে দলে ভেড়ায়। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ছাঈদ হাসান কানন ক্লাবে থাকায় মোহামেডানে আমিনুলের সময়টা কেটেছিল তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে।

২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদ
২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদছবি: ফেসবুক

মোহামেডানের সঙ্গে দুই বছরের বাইন্ডিংস শেষে আমিনুল ১৯৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জ এসসিতে নাম লেখান। কোচ প্রাণ গোবিন্দ কুণ্ডুর অধীনে আমিনুল দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। আমিনুলের অভিষেক মৌসুমে ফরাশগঞ্জ লিগে ষষ্ঠ হয়ে অবনমন এড়ায়। ১৯৯৬ সালে ফরাশগঞ্জের জার্সি গায়েই আমিনুল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি। তাঁর রক্ষণব্যূহের সামনে দেশের সেরা স্ট্রাইকাররা বারবার খেই হারিয়ে ফেলতেন। সেই লিগের দুই পর্বে আবাহনী-মোহামেডানের বিপক্ষে চার ম্যাচে ফরাশগঞ্জ হারেনি। চারটিই হয়েছে ড্র। আবাহনীকে রুখে দিলে মোহামেডান পুরস্কার দিত ১০ হাজার টাকা, আবার মোহামেডানকে রুখলে আবাহনী দিত ১০ হাজার টাকা। এভাবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রেরণা পান বড় দলের কাছ থেকে।

জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

আমিনুলের ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে দলটির গোলপোস্টের নিচে ছিলেন। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দলটিকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য ট্রফি। আবাহনী, মোহামেডান বা শেখ জামালের হয়ে যখনই তিনি মাঠে নেমেছেন, সমর্থকদের মনে নিশ্চিন্ত ভরসা জেগেছে। দলকে এনে দিয়েছেন ট্রফি। ২০০৯ সালে প্রথম সুপার কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক
২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক, ছবি: এএফপি

জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

২০০৩ সালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম মেতেছিল সাফ ট্রফি জয়ের আনন্দে। পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল সাফের ফাইনালের দিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে আমিনুল যখন দ্বিতীয় শটটি রুখে দিলেন, তখন পুরো গ্যালারি গর্জে উঠেছিল। সেই মুহূর্তটি আমিনুলকে পরিণত করেছিল জাতীয় নায়কে। বাংলাদেশের ফুটবলে এখনো ২০০৩ সালের সাফ জয়ই শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

২০১০ সালের এসএ গেমস ছিল আমিনুলের ক্যারিয়ারের আরও এক স্মরণীয় মাইলফলক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল সোনা জিতেছিল এবং বিস্ময়করভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমিনুলের বিপক্ষে কোনো গোল হয়নি। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে ভিয়েতনামের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে বড় জয় পায় বাংলাদেশ। তারপর সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব প্রশংসিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে। দাম্মামের রাস্তায় বেরোলে তাঁকে ঘিরে ধরতেন প্রবাসীরা। কাতার যুব দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রীতি ম্যাচ ড্রয়ের পর দোহার এক প্রবাসীর কাছে পাওয়া ২০০ রিয়াল পুরস্কার আমিনুলের ফুটবল–জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি।

গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক
গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক, ফেসবুক

বাংলাদেশের সাফ জয়ের নেপথ্য কারিগর প্রয়াত অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের প্রিয় ছাত্র ছিলেন আমিনুল। কোটান থেকে শুরু করে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞর মতেই আমিনুলের প্রতিভা ছিল ইউরোপের বড় লিগে খেলার মতো। কাতারের আল হিলাল ক্লাব একবার তাঁকে দলভুক্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য খোলেনি শেষ পর্যন্ত।

ঢাকার দলবদলে তাঁকে নিয়ে নাটক হয়েছে অনেক। ২০০০ সালে লন্ডনে প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ঢাকায় ফিরলে বিমানবন্দরেই আমিনুলকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে আবাহনী আর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। ২০০৩ সালে এই দুই ক্লাব আবার যুদ্ধে নামে আমিনুলকে দলে নিতে। তারই জেরে মুন্সিগঞ্জের এক জায়গায় ১২ দিন তাঁকে লুকিয়ে রাখে মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমিনুলের ভাই মঈনুল হক রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি আবাহনী লিমিটেড ঢাকার বিরুদ্ধে আমিনুলকে অপহরণের অভিযোগ আনেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ আমিনুলের সন্ধানে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাবে নজিরবিহীন অভিযান চালায়, কিন্তু সেখানে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

দেশজুড়ে যখন তাঁর খোঁজ চলছিল, তখন ওই দিন বিকেলেই আমিনুল আকস্মিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড অফিসে হাজির। সেখানে তিনি দাবি করেন, বন্দুকের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে আবাহনী ক্লাবে রাখা হয়েছিল এবং পরে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়। আমিনুল তখন বলেছিলেন, তিনি ওই বাড়ির দোতলার ব্যালকনি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে এসেছেন।

খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক
খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক

খেলার মাঠ থেকে অবসর নিয়ে আমিনুল বেছে নেন দেশের মূলধারার রাজনীতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় হন। কিন্তু এই পথ তাঁর জন্য মসৃণ ছিল না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে হয়রানি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে অত্যন্ত স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া আমিনুলের জন্য ছিল এক সাময়িক ধাক্কা। তবে তাঁর ক্রীড়া মেধা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কথা বিবেচনা করে তাঁকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নতুন সরকার।

পোস্টের নিচে যেমন কোনো বলকে জালে ঢুকতে দেননি, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আমিনুল কোনো ‘অনিয়মের গোল’ হতে দেবেন না—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।

পরশু প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ‘সি’ গ্রুপের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠে ‘এ’ গ্রুপের ভারত। কাল শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কারও। সুপার এইটের অন্য তিনটি দল কারা হবে, কোন দলের কেমন সম্ভাবনা, কোন দলকে কী করতে হবে—

গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
ভারত ৩.০৫০
যুক্তরাষ্ট্র ০.৭৮৮
পাকিস্তান -০.৪০৩
নেদারল্যান্ডস -১.৩৫২
নামিবিয়া -২.৪৪৩

ভারত

হাতে থাকা ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (১৮ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

পাকিস্তান

হাতে থাকা ম্যাচ: নামিবিয়া (১৮ ফেব্রুয়ারি)

নামিবিয়াকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। হেরে গেলে বাদ পড়তে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র

হাতে কোনো ম্যাচ নেই।

পাকিস্তান শেষ ম্যাচে হারলেই টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দলটি।

নেদারল্যান্ডস

হাতে থাকা ম্যাচ: ভারত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

ভারতকে হারাতেই হবে। এরপর আসবে অন্য হিসাব। নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনা কম।

নামিবিয়া

হাতে থাকা ম্যাচ: পাকিস্তান (১৮ ফেব্রুয়ারি)

প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

গ্রুপ ‘বি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
শ্রীলঙ্কা ২.৪৬২
জিম্বাবুয়ে ১.৯৮৪
অস্ট্রেলিয়া ০.৪১৪
আয়ারল্যান্ড ০.১৫০
ওমান -৪.৫৪৬

শ্রীলঙ্কা

হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (১৯ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

জিম্বাবুয়ে

হাতে থাকা ম্যাচ: আয়ারল্যান্ড (আজ), শ্রীলঙ্কা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া

হাতে থাকা ম্যাচ: ওমান (২০ ফেব্রুয়ারি)

ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই বাদ অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচ হারলে, শেষ ম্যাচে নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।

আয়ারল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (আজ)

শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।

ওমান

হাতে থাকা ম্যাচ: অস্ট্রেলিয়া (২০ ফেব্রুয়ারি)

কোনো সুযোগ নেই ওমানের।

গ্রুপ ‘সি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১.৮২০
ইংল্যান্ড ০.২০১
স্কটল্যান্ড ০.৩৫৯
ইতালি -০.৫৮৮
নেপাল -১.৯৪২

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৯ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ইংল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৬ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইট নিশ্চিত।

স্কটল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)

বাদ পড়ে গেছে।

ইতালি

হাতে থাকা ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯ ফেব্রুয়ারি)

বাদ পড়ে গেছে।

নেপাল

হাতে থাকা ম্যাচ: স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)

নেপাল বাদ পড়ে গেছে।

গ্রুপ ‘ডি’ পয়েন্ট তালিকা

  ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
দক্ষিণ আফ্রিকা ১.৪৭৭
নিউজিল্যান্ড ০.৭০১
আফগানিস্তান -০.২১৫
আরব আমিরাত -০.৭৯৭
কানাডা -১.৫২৬

দক্ষিণ আফ্রিকা

হাতে থাকা ম্যাচ: সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

সুপার এইটে উঠে গেছে।

নিউজিল্যান্ড

হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৭ ফেব্রুয়ারি)

আজ শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারালেই সুপার এইটে কিউইরা। না পারলে যদি-কিন্তুর মধ্যে পড়ে যাবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

হাতে থাকা ম্যাচ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮ ফেব্রুয়ারি)

নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আমিরাত।

আফগানিস্তান

হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আফগানরা।

কানাডা

হাতে থাকা ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি), আফগানিস্তান (১৯ ফেব্রুয়ারি)

শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে আমিরাতের ফলের দিকে।

সেঞ্চুরিটা করে উদ্‌যাপনের আগে কিছুটা সময় নিলেন পাতুম নিশাঙ্কা। ততক্ষণে সতীর্থ আর দর্শকদের করতালি ভেসে এসেছে কানে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে হেলমেটটা খুলে নিশাঙ্কা দু হাত প্রসারিত করে সারলেন উদ্‌যাপন। দলের জয়ের জন্য পরে লাগল আর একটি বল।

১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের সুপার ফোর। আরেকদিকে অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে আছে প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে— ২০০৯ সালের পর বিশ্বকাপে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটি দলকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়। জিম্বাবুয়ে দুই ম্যাচে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১ (মার্শ ৫৪, হেড ৫৬, ইংলিশ ২৭; হেমন্ত ৩/৩৭, চামিরা ২/৩৬)। শ্রীলঙ্কা: ১৮ ওভারে ১৮৪/২ (নিশাঙ্কা ১০০,মেন্ডিস ৫১, রত্নায়েকে ২৮;স্টয়নিস ২/৪৬)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পাতুম নিশাঙ্কা।

২০তম ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান।

আগের ১৯ ওভারের কোনোটিতে ১০ রানও ওঠেনি। জয়ের পাল্লা তাই থাইল্যান্ডের দিকেই হেলে ছিল। তবে শেষ বেলায় খেলা পাল্টে দিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। শরীফা খাতুন প্রথম বলে সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইকে যান ফারজানা।

দ্বিতীয় বলে চার, তৃতীয় বলে ছক্কা। নিমিষেই ম্যাচ সমতায়। চতুর্থ বলে অবশ্য আউট হয়ে যান ফারজানা। তবে পঞ্চম বলে জান্নাতুল ফেরদৌস সিঙ্গেল নিলে লক্ষ্যপূরণ হয়ে যায় এক বল আগেই।

নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে আজ এমন সমাপ্তির ম্যাচেই থাইল্যান্ড নারী জাতীয় দলকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল।

ব্যাংককের টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রান তাড়ায় বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১০৪। প্রথম চার ওভারে ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে শামীমা সুলতানা ও লতা মণ্ডল ৪৩ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলে তোলেন।

তবে এরপরও শেষ দিকে রান–বল তাল মেলাতে হিমশিত খেতে হয়েছে। যা শেষ পর্যন্ত ৬ বলে ১২ রানের সমীকরণে দাঁড়ায়। ১৫ বলের ইনিংসে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ২৩ রান করে এই চ্যালেঞ্জ পার করে দেন ফারজানা।

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে হারিয়েছিল ফাহিমা খাতুনের দল। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের অপর প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া নারী জাতীয় দল, ম্যাচ ১৮ ফেব্রুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

থাইল্যান্ড নারী জাতীয় দল: ২০ ওভারে ১০৩/৯ (কোচারোএনকাই ৩৪, চানথাম ২৪; শরীফা ২/১৪, ফাহিমা ২/১৬)।
বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল: ১৯.৫ ওভারে ১০৪/৭ (লতা ৩০, শামীমা ২৬, ফারজানা ২৩; পুথাওং ৩/২৫, মায়া ২/২১)।
ফল: বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল ৩ উইকেটে জয়ী।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব