• Colors: Green Color

অবশেষে শেষ হলো মোহামেডানের অপেক্ষা। লিগের শেষদিনে নানা নাটকীয়তা আর সমীকরণ মিলিয়ে লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান।

লিগের শেষদিনে তাদের সামনে সমীকরণটা একটু জটিলই ছিল। আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের শুধু জিতলেই হতো না, শেষ ম্যাচে হারতে হতো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে। বিকেএসপির পাশাপাশি মাঠে দুটি ঘটনাই ঘটেছে আজ।

২০০৯–১০ মৌসুমে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

পর্দা উঠেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে কাল রাতে হয়ে গেল জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জমকালো এই আয়োজনের ১০টি ছবি দেখুন এখানে।
 
‘প্রাসাদের নগরী’ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে হয়ে গেল জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
‘প্রাসাদের নগরী’ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে হয়ে গেল জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানরয়টার্স
স্টেডিয়ামের মাঝে বেশ বড় সোনালি ট্রফি। চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটেছে তাঁদের পোশাক ও নাচের ঢঙে
স্টেডিয়ামের মাঝে বেশ বড় সোনালি ট্রফি। চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটেছে তাঁদের পোশাক ও নাচের ঢঙেরয়টার্স
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন কলম্বিয়ান গায়ক ও প্রযোজক জে বলভিন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন কলম্বিয়ান গায়ক ও প্রযোজক জে বলভিন, রয়টার্স
ইতালীয় গায়ক আন্দ্রেয়া বোচেলি এবং দক্ষিণ কোরিয়ান-আমেরিকান গায়ক এজে পারফর্ম করে মুগ্ধ করেন সবাইকে
ইতালীয় গায়ক আন্দ্রেয়া বোচেলি এবং দক্ষিণ কোরিয়ান-আমেরিকান গায়ক এজে পারফর্ম করে মুগ্ধ করেন সবাইকে, এএফপি
স্টেডিয়ামের বাইরেও উৎসবের কমতি ছিল না
স্টেডিয়ামের বাইরেও উৎসবের কমতি ছিল না, এএফপি
 
কলম্বিয়ান কিংবদন্তি শাকিরার সঙ্গে নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়
কলম্বিয়ান কিংবদন্তি শাকিরার সঙ্গে নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়, রয়টার্স
 
সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন শাকিরা
সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন শাকিরা, রয়টার্স
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচিত্র সাজে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচিত্র সাজে, এএফপি
পুরো অনুষ্ঠানে ফুটে উঠেছে মেক্সিকোর ঐতিহ্য
পুরো অনুষ্ঠানে ফুটে উঠেছে মেক্সিকোর ঐতিহ্য, রয়টার্স
 
শাকিরা যখন পারফরমার ...
শাকিরা যখন পারফরমার ...এএফপি

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ‘এ’ গ্রুপের দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ বিরতির পর যেন হয়ে উঠল রণক্ষেত্র। একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণের ম্যাচে হচ্ছিল না শুধু কাঙ্ক্ষিত সেই গোল।

শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়াই জিতল। ৫৯ মিনিটে ১–০ গোলে পিছিয়ে গিয়েছিল তারা। তবে ৬৭তম মিনিটে হোয়াং ইন–বম ও ৮০তম মিনিটে ওহ হিউয়ান–গিউের গোলে ২–১ চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার
জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার, এএফপি

এবার এগিয়েও গেল দক্ষিণ কোরিয়া

প্রথমে গোল হজম করা দক্ষিণ কোরিয়া টানা দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে এগিয়ে গেছে। ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ওহ হিউয়ান–গিউ।

২০২৮ সালে চালু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় যেকোনো একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। সেই ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এই ঋণ সুবিধার প্রস্তাব রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা; যেমন-জাপানিজ, কোরিয়ান, মান্দারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকার তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা করবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হবে।

বক্তব্যে মিড ডে মিলের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

প্রযুক্তিশিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

 

কথায় আছে, ‘সকাল দেখেই বোঝা যায়, দিনটা কেমন যাবে।’ তো, এবার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল ৩ লাল কার্ড। টুর্নামেন্ট শেষে লাল কার্ডের ‘বোঝা’ কতটা ভারী হবে কে জানে!

উত্তর সময়ের হাতে। তবে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ম্যাচ শেষেই এই প্রশ্ন উঠে গেছে। তার কারণ, চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দলের মোট ৬৪ ম্যাচে লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল মাত্র ৪টি। তার চার বছর আগে একই সংস্করণের ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও লাল কার্ড ছিল ৪টি। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ম্যাচসংখ্যা ১০৪টি। বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ডটি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তাই উঁকি দিচ্ছে এখনই।

সেটা না হয় দিক, এরই মধ্যে কিন্তু ভেঙে গেছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড। ১৯৯০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমকে দেওয়া ‘আফ্রিকার অদম্য সিংহ’ ক্যামেরুনের দখলে এত দিন ছিল রেকর্ডটি। সে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ক্যামেরুনের আন্দ্রে কানা-বিয়িক ও বেনজামিন ম্যাসিং।

আজতেকায় এবারের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে পেছনে পড়ল ৩৬ বছর আগের সেই রেকর্ড। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ‘যৌথ প্রযোজনা’য় লাল কার্ড দেখা গেল ৩টি। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জেওয়ানে লাল কার্ড দেখেন। মেক্সিকোর সেজার মন্তেস এরপর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

মেক্সিকোর মন্তেসকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি
মেক্সিকোর মন্তেসকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি
 

তবে জেওয়ানের লাল কার্ডটা মেনে নিতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস। মেক্সিকোর রক্ষণভাগে আক্রমণে উঠে স্বাগতিক ডিফেন্ডার রবার্তো আলভারাদোকে ছাড়াতে গিয়ে হাত ব্যবহার করেন জেওয়ানে। ভিএআর দেখে রেফারি উইলটন সাম্পাইও লাল কার্ড দেখান জেওয়ানকে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের ব্রুস বলেন, ‘দ্বিতীয়টি (লাল কার্ড) নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। মেক্সিকান খেলোয়াড়ই আমার খেলোয়াড়কে বাধা দিয়েছিল। রেফারি তার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং আমাদের সেটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমার মনে হয় না (লাল কার্ড ছিল)। ওটা লাল কার্ড নাও দেওয়া যেত।’

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে ন্যূনতম তিন বার তার বেশি লাল কার্ড দেখা গেছে সাতবার। এর মধ্যে প্রথম দুটি ঘটনাই কোয়ার্টার ফাইনালে—১৯৩৮ বিশ্বকাপে ‘ব্যাটল অব বোর্দো’খ্যাত ব্রাজিল ও সাবেক চেকোশ্লোভাকিয়ার ম্যাচে ৩ লাল কার্ড দেখা যায়। ১৬ বছর পর ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল-হাঙ্গেরি ‘ব্যাটল অব বার্ন’ ম্যাচেও দেখা যায় ৩টি লাল কার্ড। একই ঘটনা ফিরে আসে ৪২ বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা-ডেনমার্ক ম্যাচে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার সিথোলেও লাল কার্ড দেখেন
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মিডফিল্ডার সিথোলেও লাল কার্ড দেখেন, এএফপি
 

আট বছর পর সবকিছু ছাপিয়ে যায় ২০০৬ বিশ্বকাপ। সেবার গ্রুপ পর্বে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ৩টি করে লাল কার্ড দেখা গেছে। এরপর শেষ ষোলোয় ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’খ্যাত নেদারল্যান্ডস-পর্তুগাল ম্যাচটি সব ছাপিয়ে যায়। ৪টি লাল কার্ড দেখান রেফারি—বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ লাল কার্ড। শুধু তাই নয়, ২০০৬ বিশ্বকাপ আসলে লাল কার্ডেরই বিশ্বকাপ। মোট ২৮টি লাল কার্ড দেখা গিয়েছিল—যেটা বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড।

এই ম্যাচে লাল কার্ডের আলোচনায় ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’ ফিরে আসবেই। কারণ সেই ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচে একাধিক লাল কার্ড দেখা গেল। সেই ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকাই এবার প্রথম দল হিসেবে দুটি লাল কার্ড দেখল। ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গে’ পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের দুজন করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন।

লাল কার্ড প্রসঙ্গে এবারের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচটি রেকর্ড বইয়ে আরও একটি পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তিনটি লাল কার্ডই সরাসরি দেখান ব্রাজিলিয়ান রেফারি সাম্পাইও। কেউ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েননি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে এক ম্যাচে তিনটি সরাসরি লাল কার্ড দেখা গেছে ৭২ বছর আগের সেই ‘ব্যাটল অব বার্ন’ ম্যাচে।

তবে সেবারের সেই ১৯৫৪ বিশ্বকাপে কার্ডের প্রচলন ছিল না। লাল কার্ড ও হলুদ কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ’৭০ বিশ্বকাপ থেকে। ‘ব্যাটল অব বার্ন’ ম্যাচে ব্রাজিলের নিল্টন সান্টোস, হাঙ্গেরির ইয়োসেফ বোজিক ও হামবার্তো তোজ্জিকে সরাসরি মাঠ থেকে বহিষ্কার করেছিলেন রেফারি। সে হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এক ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড় সরাসরি লাল কার্ড দেখলেন, সেটাও উদ্বোধনী ম্যাচে!

স্টেডিয়ামের মাঝে বেশ বড় সোনালি ট্রফি। চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটেছে তাঁদের পোশাক ও নাচের ঢঙে। লিলা ডাউনস দাঁড়িয়ে তাঁর মাঝে। সুরেলা কণ্ঠে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী স্বাগত জানালেন বিশ্বকে, ‘বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!’

ব্যস, ঢাকে কাঠি পড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের। রঙিন রঙের আবির ছড়িয়ে পড়ল আজতেকা স্টেডিয়ামের চারপাশে। ওটা ফুটবলের ‘ক্যাথেড্রাল’—তিনটি বিশ্বকাপের উদ্ধোধন হওয়া ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র স্টেডিয়াম। গতকাল রাতে সেই আজতেকাতেই বিশ্বকাপের ‘প্রথম’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাল মেক্সিকো।

প্রথম বলার কারণ, সহ–আয়োজক দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। তবে আজতেকার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য বিচারে বিশ্বকাপের আসল উদ্ধোধন হয়ে গেল আসলে সেখানেই। মেক্সিকোর কিংবদন্তি রক ব্যান্ড ‘মানা’ মঞ্চে ‘ওই মি আমোর’ (হে, আমার ভালোবাসা) গানের সুর তুলতেই গ্যালারিতে জন্ম হলো ‘মেক্সিকান ওয়েভ’। হাত ছড়িয়ে দর্শকদের তোলা সেই ঢেউ ছুঁয়েছে পর্দার দর্শকের হৃদয়ও।

আজতেক সভ্যতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে। বিশ্বকাপের বিশাল এক ট্রফিও ছিল মাঠে
আজতেক সভ্যতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে। বিশ্বকাপের বিশাল এক ট্রফিও ছিল মাঠেএএফপি

ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওশান পারফর্ম করার পর মেক্সিকান মিউজিক্যাল গ্রুপ লস অ্যাঞ্জেলস আজুলসের সঙ্গে ফোক ব্যালে পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। এরপর এলেন কলম্বিয়ান গায়ক জে বলভিন। কিন্তু মজাটা যেন তখনো সেভাবে ঠিক জমছিল না। কারণ, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘রানি’ তখনো মঞ্চে আসেননি।

শাকিরা! হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন যেন শুরু হলো বিশ্বকাপের আসল ঢেউ। সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ও ভালো সঙ্গ দেন কলম্বিয়ান কিংবদন্তিকে। কিন্তু সব চোখ আসলে কলম্বিয়ান কিংবদন্তির ওপরই ছিল। শাকিরা ছাড়া বিশ্বকাপ আবার জমে নাকি! ২০১০ বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান দিয়েই তো চিরস্মরণীয় হয়ে গেছেন।

পাখির চোখে ওপর থেকে বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান। আজতেকা স্টেডিয়ামে
পাখির চোখে ওপর থেকে বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান। আজতেকা স্টেডিয়ামেএএফপি

জমে না বলেই শাকিরার কণ্ঠে সুর খেলা করতে দর্শক উন্মাতাল হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আজতেকার বাইরেও তখন বেশ চড়া হয়েছে উৎসবের সুর। নাচে-গানে মেতেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, তার মধ্যে বেশির ভাগই মেক্সিকান। উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানের পরই যেহেতু তাঁদের ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে—তাই স্বাগতিক হিসেবে যেন পুরো প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। যেখানে চোখ যায় সেখানেই মেক্সিকান সমর্থক, ফুটবলপাগল মেক্সিকানদের ভিড়ে ‘বাফানা বাফানা’ সমর্থকদের খুঁজে পাওয়াই দায়!

বর্ণিল পোশাকে পারফর্ম করেন পারফরমাররা
বর্ণিল পোশাকে পারফর্ম করেন পারফরমাররাএএফপি

অলিম্পিক অনুষ্ঠানের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবগুলো দেশের পতাকা নিয়ে প্রতিনিধিরা ছিলেন মাঠে। প্রতিটি দেশের নামও ঘোষণা করেন স্পিকারের ঘোষক। ৪৮টি দেশ নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ‘প্রথম’ উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রফিটি তুলে ধরার সঙ্গে গর্জনে ফেটে পড়ে ৮০ হাজার আসনের গ্যালারি।

বিশ্বকাপের উৎসব যে ততক্ষণে জমে গেছে, সেটা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন এক ফুটবলপ্রেমী, ‘পার্টি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অসাধারণ লাগছে।’ স্টেডিয়ামে যখন এমন উৎসবের সুর, তখন মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে ঢুকতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। ধাক্কাধাক্কিতে ধৈর্য হারিয়ে কেউ কেউ বোতলও ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লেগে যায় দর্শকদেরও।

গান ও সুরের মূর্চ্ছনায় মেতেছিলেন দর্শক
গান ও সুরের মূর্চ্ছনায় মেতেছিলেন দর্শক, এএফপি
 

ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক দর্শকের অভিযোগ, ‘অবিশ্বাস্য উন্মাদনা। ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হতে পারত।’ তবে ফ্যান জোন আগেই দর্শকে টইটম্বুর হয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন আগেই দর্শকদের অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সব জায়গাতেই প্রচুর ভিড় জমেছিল দর্শকের।

আজতেকাকেও সাজানো হয়েছিল নতুন করে। লাল রঙে স্টেডিয়ামের চারপাশটা রাঙানো হয়। বিভিন্ন রঙের আবির ও আলোকসজ্জা, বাদ্যি-বাজনায় ভরপুর হয়ে উঠেছিল উদ্বোধনের উৎসব। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল মাঠে ঢোকার পরও গ্যালারিতে বসে গান শুনেছেন দর্শক।

বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত। আজতেকা স্টেডিয়ামে
বিশ্বকাপের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত। আজতেকা স্টেডিয়ামে, এএফপি
 

খেলা শুরুর মিনিট বিশেক আগে গ্যালারিতে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’–এর ঢেউ ফিরিয়ে আনেন তাঁরা। ’৮৬ বিশ্বকাপে এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই জন্ম হয়েছিল দর্শকদের এমন উদ্‌যাপনের। তার ১৬ বছর আগে ’৭০ বিশ্বকাপও আয়োজিত হয়েছিল আজতেকায়।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব