• Colors: Green Color

ভুয়া খবরের জেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝেই তোলপাড় আর্জেন্টিনার মিডিয়াপাড়ায়! আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির পরিবারকে জড়িয়ে ভুয়া খবর প্রচার করে চাকরি খোয়াতে হলো আর্জেন্টিনার এক জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেলের পুরো টিমকে।

চলমান বিশ্বকাপের মধ্যেই আর্জেন্টিনার চ্যানেল ‘লুজু টিভি’ গতকাল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর দেয়। যে কারণে তারা তাদের ‘এল শো দেল বেরানো’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ফ্লোরেনসিয়া পিনিয়া এবং সেই সঙ্গে পুরো টিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।

এই খবর অনুষ্ঠানের পুরো টিম ছড়িয়েছে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে। হুট করেই সেদিন প্রেজেন্টার ফ্লোরেনসিয়া অনুষ্ঠান থামিয়ে দেন। গম্ভীর মুখে দর্শকদের জানান, মেসির বাবা নাকি একটু আগেই মারা গেছেন! এখানেই শেষ নয়; তিনি আরও যোগ করেন, বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে মেসি নাকি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ ক্যাম্প ছেড়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসবেন।

মেসির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাঁর বাবা হোর্হে মেসি
মেসির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তাঁর বাবা হোর্হে মেসিএক্স
 

পরে মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হোর্হে মেসি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নতি হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরনের দাবি, গুজব ও অনুমানভিত্তিক খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে হতাশ। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ যে সংবেদনশীলতা, সম্মানবোধ ও ন্যূনতম বিবেচনার অভাব দেখিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।’

মেসির পরিবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে হোর্সে মেসির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য কেবল তাঁর নিকটতম পরিবারের সদস্যদের কাছেই রয়েছে। তাই পরিবার বা তাদের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে প্রকাশিত নয়—এমন কোনো বক্তব্য, তথ্য বা দাবি সত্য বলে গণ্য করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাইকে দায়িত্বশীলতা, সংযম ও মানবিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পরে মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্লোরেনসিয়া পিনিয়া।

কানাডা ৬–০ কাতার

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে কানাডা ২৮তম। কাতার ৫৮তম। তার ওপর ম্যাচটি ছিল কানাডার ঘরের মাঠ ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে। খেলা শুরুর বাঁশি বাজার আগেই এ ম্যাচের ফল অনেকে আন্দাজ করে নিয়েছিলেন।

সেই আন্দাজমতোই ঘুরেছে স্কোরবোর্ডে গোলের চাকা। কেউ কেউ রসিকতা করে বলতে পারেন, কানাডা বেশি গোল করে ফেলেছে! কাতার সমর্থকেরাও অনুযোগ করতে পারেন, দলের কাছ থেকে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্সের আশা ছিল তাঁদের। তবে কেউ–ই হয়তো আশা করেননি, বিশ্বকাপের এ ম্যাচে কারও পা ভাঙবে!

কিন্তু কানাডার ৬–০ গোলের বড় জয়ের পাশাপাশি ঘটেছে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও। ৫২ মিনিটে কানাডা মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে পেছন থেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো। পড়ে গিয়ে কাতরাতে থাকা কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে ঝুলতে দেখা যায়। মাঠেই কিছুক্ষণ তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন কোনেকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কানাডা কোচ জেসে মার্চ।

মারাত্মক এ ফাউল করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মাদিবো। ভিএআরের হস্তক্ষেপে পরে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তবে মাদিবোকেও অনুশোচনায় ভুগতে দেখা যায় মাঠে। সতীর্থরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট বন্ধ ছিল খেলা। কাতার ততক্ষণে পরিণত হয় ৯ জনের দলে। স্কোরবোর্ডে পিছিয়ে ৩–০ গোলে। মধ্যপ্রাচ্যের দলটির ম্যাচে ফেরার আশা ততক্ষণে প্রায় শেষ।

চোট পাওয়া কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নে্ওয়া হয়
চোট পাওয়া কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নে্ওয়া হয়, এএফপি
 

তারপর যেটা ঘটার সেটাই ঘটেছে। কাতারের দুজন খেলোয়াড় কম থাকার সুযোগে কানাডা আরও তিন গোল করেছে। কোনের বদলি নামা মিডফিল্ডার নাথান সালিবা ৬৪ মিনিটে ফ্রি–কিক থেকে গোল করে তাঁর সতীর্থের জার্সি উঁচিয়ে ধরেন স্বাগতিক দর্শকদের প্রতি। মাঠে তখন আবেগময় মুহূর্ত তৈরি হয়।

ওই সময়টুকু ও কোনের চোট পাওয়ার মুহূর্ত বাদে পুরো ম্যাচেই কাতারের ওপর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালায় কানাডা। যার শেষটা হয় ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোল এবং যোগ করা সময়ে কানাডার জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকসূচক গোলের মাধ্যমে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করলেন কানাডা ফরোয়ার্ড। সেটাও দীর্ঘ ৬০ বছর পর—সর্বশেষ ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ড কিংবদন্তি জিওফ হার্স্ট।

প্রথমার্ধে কানাডার তিন গোলের দুটি ডেভিডের, অন্যটি কাইল লারিনের। ১৬ মিনিটে লারিনের গোলের পর বেশ বোঝা যাচ্ছিল, এ ম্যাচে কানাডা বড় ব্যবধানে জিততে যাচ্ছে। প্রথমত, কাতারের রক্ষণকে সব সময় চাপে রেখে গোল আদায় করা। দ্বিতীয়ত, লারিন গোল করলে কানাডা কখনো হারেনি। ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুটি গোল করেন ডেভিড।

হ্যাটট্রিক করেন কানাডার জোনাথন ডেভিড
হ্যাটট্রিক করেন কানাডার জোনাথন ডেভিড, এএফপি
 

কাতার ১০ জনের দলে পরিণত হয় ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর। ৩৩ মিনিটে কানাডা ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ।

বিশ্বকাপে এটা প্রথম জয় কানাডার। বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাল তারা। এর আগের তিনটি নজির—১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ৭–১ যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৭–১ সুইডেন ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ৬–০ পেরু। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে ইতালি ও ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তুরস্কের পর বিশ্বকাপে ন্যূনতম ছয় গোলের ব্যবধানে প্রথম জয় পেল কানাডা।

বিশ্বকাপে কাতার প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করেছে এবং দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। ‘বি’ গ্রুপে সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ঠেলে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল কানাডা। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়া সুইজারল্যান্ড কানাডার সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে নেমে যায়।

সুইজারল্যান্ড ৪–১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

ম্যাচটা দেখে মনে হচ্ছিল, গোলমুখে সুযোগ নষ্ট করার কারণে সুইজারল্যান্ডের আরেকটি হতাশার রাত কাটতে যাচ্ছে। কিন্তু তখনই কোচ মুরাত ইয়াকিন তাঁর ‘সুইস আর্মি নাইফ’, অর্থাৎ বহুমুখী কার্যকর অস্ত্র মাঠে নামালেন আর এই কৌশলের সামনে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণদুর্গ।

শেষ ২৩ মিনিটে সব মিলিয়ে আসল ৫ গোল, যার ৪টিই করেছে সুইজারল্যান্ড। ফলে শেষ পর্যন্ত ৪–১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন সুইসরা। এ জয়ে গ্রুপ ‘বি’তে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়াকিনের দল। দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে বসনিয়া।

সুইজারল্যান্ডকে গোল এনে দিতে ৭১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠে নামেন ইয়োহান মানজাম্বি ও রুবেন ভারগাস। এরপর ভোজবাজির মতো বদলে যায় সব কিছু। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেন মানজাম্বি। রুবেন ভারগাসের ক্রস ঠিকমতো ‘ক্লিয়ার’ করতে ব্যর্থ হন আমর মেমিচ। সেই সুযোগে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়ান মানজাম্বি।

গোলের রেশ কাটার আগেই ম্যাচের ৮০ মিনিটে লাল কার্ড দেখে বসেন বসিনয়ার তারিক মুহারেমোভিচ। ১০ জনের বসনিয়াকে পেয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে সুইজারল্যাান্ড। ৮৪ মিনিটে ২–০ গোলে এগিয়ে যান সুইসরা। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভারগাস। এরপর ম্যাচের ৯০ মিনিটে মানজাম্বি করেন নিজের দ্বিতীয় গোল।

সুইসদের গোল উদ্‌যাপন
সুইসদের গোল উদ্‌যাপন, এএফপি
 

যোগ করা সময়ে ৩ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন আমর মেমিচের। তবে সুইসদের গোলের ধারা থামতে তখনো বাকি। যোগ করা সময়ে ৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের পঞ্চম ও নিজেদের চতুর্থ গোলটি করেন গ্রানিত জাকা।

সুইজারল্যান্ড নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে কানাডার বিপক্ষে ২৪ জুন রাত ১টায়। একই দিন একই সময়ে কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে বসনিয়া।

মেক্সিকো ১ : ০ দক্ষিণ কোরিয়া

লুইস রোমো খেলেন মেক্সিকোরই ক্লাব সি.ডি গুয়াদালাহারায়। এই ক্লাবের হোম ভেন্যু এস্তাদিও আকরন, যে কারণে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এখানে খেলতে নামেন রোমো। ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের সৌভাগ্য, আজ সেই এস্তাদিও আকরনেই তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছে।

তার চেয়েও বড় কথা, অভিষেকের দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একমাত্র গোলটিও করেছেন রোমোই। যে গোল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে মেক্সিকো এনে দিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট।

ম্যাচের ৫০তম মিনিটে রোমোর গোলটিতে অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার কিম সুং-গিউয়েরও ‘অবদান’ আছে। একটি ক্রস ধরতে বেরিয়ে এসে তিনি নিজের এক সতীর্থের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বল হাত থেকে ফেলে দেন। সেই সুযোগই কাজে লাগান রোমো। বক্সের ভেতর দারুণ এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন তিনি।

রোমোর ভলিতে বল যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার জালে
রোমোর ভলিতে বল যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার জালে, এএফপি
 

এর আগে দুই দলের প্রথমার্ধ ছিল বেশ নিষ্প্রভ। আক্রমণে দুই দলই খুব বেশি ধার দেখাতে পারেনি। মেক্সিকোর হয়ে প্রথমার্ধে একমাত্র অন-টার্গেট  শটটি আসে হুলিয়ান কিনিয়োনেসের হেড থেকে, যা সহজেই ঠেকিয়ে দেন কিম।

বিরতির পরই ম্যাচের গতি বদলাতে শুরু করে। ৫০তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। গোল খাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বড় সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেনি। অধিনায়ক সন হিউং-মিন একবার গোলরক্ষক রাউল রানহেলকে পরাস্ত করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

মেক্সিকোও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। ৭৫তম মিনিটে হিমিনেজ বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও কিম তা রুখে দেন। বদলি হিসেবে নামা বেদ ভারগাসের জোরালো শটও ঠেকান দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক।

ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৭তম মিনিটে। চো গুয়ে-সুংয়ের হেড মেক্সিকো গোলকিপার রানহেল প্রতিহত করলেও বিপদ–মুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে ইয়াং হিউন-জুন শট নিলে সেটিও ঠেকান দারুণ দক্ষতায়। এই ডাবল সেভই শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করে।

এই জয়ে টানা দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষ দুই নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে না হারলেই তারা গ্রুপ–সেরা হিসেবে নকআউট পর্বে যাবে।

অন্যদিকে হারলেও দক্ষিণ কোরিয়ার নকআউটে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়নি। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারানোর সুবাদে এখনো ভালো অবস্থানেই আছে তারা। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে এশিয়ান দলটির।

চেক প্রজাতন্ত্র ১: ১ দক্ষিণ আফ্রিকা 

দারুণ খেলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য গোল খেয়ে বেস দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৬ মিনিটে গোলটি করেন মিখাল সাদিলেক। পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। লড়াই চালিয়ে যায় তারা। যার ফল দক্ষিণ আফ্রিকা পায় ম্যাচের ৮৩ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফেরান তেবোহো মোকোয়েনা।

এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় পরের ম্যাচে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে যদি কোনো দল জয় পায়, তাহলে সেই দলই হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ (নকআউট) পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করা প্রথম দল।

পেনাল্টি গোলে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

পেনাল্টি থেকে গোল করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা (৪ নং জার্সি)
পেনাল্টি থেকে গোল করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার তেবোহো মোকোয়েনা (৪ নং জার্সি)রয়টার্স
 

৬ মিনিটে গোল খাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সমতা ফেরাল ৮৩ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন তেবোহো মোকোয়েনা। ম্যাচের ৬ মিনিটে মিখাল সাদিলেকের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র।

দুই দলই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল হার দিয়ে। তাই আজ হেরে গেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন প্রায় শেষই হয়ে যাবে।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল চেক প্রজাতন্ত্র!

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোলটি দেখে ফেললাম আমরা। ম্যাচের প্রথম ৫ মিনিটের পারফরম্যান্স বিবেচনায় গোলটি তাদের প্রাপ্যই ছিল।

ডান প্রান্ত ধরে বাড়ানো একটি লম্বা থ্রো তাড়া করে বল নিয়ন্ত্রণে নেন হ্লোজেক, এরপর ডি-বক্সে বল বাড়িয়ে দেন। সেখানে সোইকার সঙ্গে দারুণ এক ওয়ান-টু পাসে বল দেয়া-নেয়া করে নিচু শটে গোল করেন চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেক।

চেক দলে অনেক পরিবর্তন

ছয় দিন আগের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলের হতাশাজনক হারের পর, আজ নিজেদের একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছে চেক প্রজাতন্ত্র। দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ওয়েস্ট হ্যামের মিডফিল্ডার সুচেক। তাঁর সঙ্গে আজ মূল একাদশে জায়গা হারিয়েছেন খালোপেক, জেলেনি, প্রোভোদ ও শুলৎস। তাঁদের পরিবর্তে আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন হোলেশ, সাদিলেক, দারিদা, চের্ভ এবং হ্লোজেক। আক্রমণেরভাগে শিকের সঙ্গী হচ্ছেন হ্লোজেক।

অন্যদিকে, মেক্সিকোর কাছে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ হুগো ব্রুস। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় স্ফেফেলো সিথোলে আজকের ম্যাচে নিষিদ্ধ, বাদ পড়েছেন থেম্বা জেওয়ানে। এ ছাড়া ফস্টার ও সিবিসিকে আজ রাখা হয়েছে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় (বেনঞ্চে)। তাঁদের জায়গায় আজ দলে সুযোগ পেয়েছেন এমবাথা, মাসেকো ও অ্যাপোলিস।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব