• Colors: Green Color

নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে আবারও হারল ইন্টার মায়ামি। তবে এবারের হার লিওনেল মেসিদের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়কই। আজ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল মায়ামি।

কিন্তু আক্রমণভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভালো খেলতে পারেনি দলটির রক্ষণভাগে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত মায়ামি হেরেছে ৪-৩ গোলে। এর মধ্যে অরল্যান্ডো সিটির জয়সূচক গোলটি হয়েছে ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে।

ন্যু স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে মায়ামি এগিয়ে যায় তৃতীয় মিনিটে। তেলাস্কো সেগোভিয়ার বাড়ানো ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। ২৫ মিনিটের সময় লুইস সুয়ারেজ এবং মেসির বল দেওয়া-নেওয়ায় আক্রমণ থেকে গোলদাতার খাতায় নাম লেখান সেগোভিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ৩৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে ব্যবধান ৩-০ করেন মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ক্যারিয়ারে ৯০৬ নম্বর গোল এটি। ইন্টার মায়ামির হয়ে ৮৬তম।

ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসি
ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসিএএফপি
 

অরল্যান্ডো সিটি তিন গোল হজমের পর দৃশ্যপটে আসেন আরেক আর্জেন্টাইন মার্টিন ওজেদা। ২৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গার প্রথমার্ধের বিরতির আগে একটি গোল শোধ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে নামার পর মায়ামি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় অরল্যান্ডে মায়ামি রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ চাপ বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যান ওজেদা।

৭৯তম মিনিটে অরল্যান্ডে পেয়ে যায় পেনাল্টিও। যা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ৩-৩ সমতা এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওজেদা।

ম্যাচের এই জায়গা থেকে মায়ামি হারে যোগ করা সময়ের গোল হজমে। গোলের আশায় মায়ামির সবাই ওপরের দিকে থাকায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই গোল করেন অরল্যান্ডোর তাইরেস স্পাইসার। মায়ামির জন্য উৎসবে শুরু হওয়া ম্যাচে শেষপ্রান্তে হয়ে পড়ে বিষাদের।

ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে
ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে, এএফপি
 

এ নিয়ে ন্যু স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর থেকে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকল মায়ামি। এমএলএস পয়েন্ট তালিকায় ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে মেসিরা এখন তিন নম্বরে। এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউ ইংল্যান্ড। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাশভিল।

৮৮ রানের লক্ষ্য। তবে সেটি ছুঁতে যদি হাতে থাকে ৯ ওভার, তবে লক্ষ্যটাকে বড় বলতেই হবে। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের জন্য লক্ষ্যটা বড় তো বটেই। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে কখনোই ১৫০ রানের বেশি লক্ষ্য ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ সিলেটে আজ ৮৮ রানের লক্ষ্যটাও ছুঁতে পারেনি।

আশা জাগিয়েও আজ ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরেই তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে নিগার সুলতানার দল। বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হয়ে ৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬ উইকেটে ৮৭ রান। রান তাড়ায় সমান ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ৮৪ রানে।

আজকের হারের গল্পটাও আগের দুই ম্যাচের মতোই। প্রথম দুই ম্যাচেও রান তাড়া করতে হয়েছিল নিগারদের। ওই দুই ম্যাচেই ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দেওয়ার পরও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ২৫ ও ২১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল
আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল, বিসিবি

আজ অবশ্য জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তারের উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। ১.২ ওভারে ১৩ রান তোলার পর দিলারার বিদায়ে ভাঙে জুটি। জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারির দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০ বলে ৩০ রান যোগ করার পর জুয়াইরিয়ার (১১ বলে ১৫) বিদায়ে ভাঙে জুটি।

এরপর পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি। ষষ্ঠ ওভারে সোবহানা (১৫ বলে ২১ রান) যখন ফিরলেন ২০ বলে বাংলাদেশের দরকার ৩২ রান। এরপর স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মণিও ফিরে যাওয়ার পর শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ভরসা হয়ে টিকে থাকা অধিনায়ক নিগার চামারি আতাপাত্তুর করা ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। সুলতানা খাতুন পরের তিন বলে ২টি ডাবলস ও ১টি চার মেরে জয়টাকে হাতের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু আতাপাত্তুর অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়। পঞ্চম বলে মাত্র ১টি রানই নিতে পারেন সুলতানা। শেষ বলে ৫ রান দরকার, শারমিন সুলতানা নিতে পারলেন মাত্র ১ রানই।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, ছবি: টুইটার
 

১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার আতাপাত্তু বল হাতেও ছিলেন দলের সেরা। ব্যাটিং উদ্বোধন করে ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

বাংলাদেশের অফ স্পিনার সুলতানা খাতুন ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ৯ ওভারে ৮৭/৬ (আতাপাত্তু ৪১, দুলানি ১৯, দিলহারি ১৫; সুলতানা ৩/৮, সানজিদা ১/১৬)।
বাংলাদেশ: ৯ ওভারে ৮৪/৬ (সোবহানা ২১, জুয়াইরিয়া ১৫, নিগার ১৩; আতাপাত্তু ২/১৫, সুগান্দিকা ২/২২)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৩-০-তে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: চামারি আতাপাত্তু।

লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১০৩। হাতে ১০ উইকেট। কোনোভাবেই এটাকে বড় বলার সুযোগ নেই। এই লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল বাজে।

৩৩ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৪ উইকেট। তবে বাকি পথটা খুব সহজেই পাড়ি দিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত দলটি জিতেছে ৬ উইকেট। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয়েছে ১–১ সমতায়।

সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

বৃষ্টি নাকি অন্য কিছু!

বাংলাদেশ তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে হারল কেন? নাকি ১৫ ওভারের ম্যাচে ৬ উইকেটে হারের দিনটাই বাংলাদেশের ছিল না! নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির এই দলের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর এমন অনেক প্রশ্নই হয়তো উঠবে।

বড় রান পাননি কোনো ব্যাটসম্যান
বড় রান পাননি কোনো ব্যাটসম্যান
 

কাঠগড়ায় হয়তো সবার আগে উঠতে হবে ব্যাটসম্যানদের। মাত্র তিনজনই যে যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে! সর্বোচ্চ রান করেছেন হৃদয়, সেটিও ৩৩। লিটন করেছেন ২৬ আর সাইফ ১৬। ৬.৪ ওভার পর নামা বৃষ্টি বাংলাদেশের ব্যাটিংটা এলোমেলো করেছে, সেটা বলার সুযোগও কম। কারণ, বাংলাদেশ টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট।

৩ উইকেটে ৫০ রান করার পর নামে বৃষ্টি। এরপর ৫২ রান তুলতে বাংলাদেশের গেছে ৭ উইকেট। বৃষ্টির আগে–পরে মিলিয়ে শেষ ৭ উইকেট গেছে ৬৭ রানে।

বোলাররা যদি কিছু করতে পারতেন, সেটা হয়তো বোনাসই হতো। মিরপুরের এই উইকেটে ১৫ ওভারে ১০৩ লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচ জেতা কঠিনই বটে! বিশেষ করে বেভন জ্যাকবসের ইনিংসটার পর। মাত্র ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান, যা আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে তাঁর প্রথম ফিফটি।

ফিফটির পথে বেভন জ্যাকবস
ফিফটির পথে বেভন জ্যাকবস
 

জ্যাকবসকে সঙ্গ দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এই দুজনের ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই নিউজিল্যান্ডের জয়টা সহজে এনে দিয়েছে। ১৫ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন ফক্সক্রফট।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররাও তাঁদের কাজটা করেছেন। কিউই পেসার জশ ক্লার্কসন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। ম্যাচসেরা হয়েছেন জ্যাকবস।

বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২, স্মিথ ২/১৪)। নিউজিল্যান্ড: ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, ফক্সক্রফট ১৫*; শরীফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা: বেভন জ্যাকবস। সিরিজসেরা: তাওহিদ হৃদয়। সিরিজ: ৩–ম্যাচ সিরিজ ১–১ ড্র।

টাকার পেছনে ছোটো। যাঁর মুখ থেকে কথাটা প্রথম বের হয়েছিল, তিনি যেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফার জন্যই পথ দেখিয়ে গেছেন।

এই বছর ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, তিন দেশের আয়োজন—বিশাল কলেবর দেখে এখনই যাঁদের নানা শঙ্কা কাজ করছে, তাঁরা হয়তো এখনো জানেন না, সামনে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপ যত দ্রুত সম্ভব আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারে। মানে, ২০৩৮ সালে।

শুনতে খটকা লাগতে পারে, কিন্তু ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর দাবার চালগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সব সমীকরণই গিয়ে মিলছে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশে।

ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অতিরিক্ত অনুরাগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা আছে। তবে একজন ফিফা বসের জন্য আয়োজক দেশের সরকারপ্রধানকে তুষ্ট রাখাটা পুরোনো রেওয়াজ। কিন্তু ইনফান্তিনোর লক্ষ্য আরও গভীরে। ২০২৬ থেকে ২০৩৮—মাঝের এই ১২ বছরে তিনি ফিফাকে এমন এক আর্থিক পাহাড়ের চূড়ায় বসাতে চান, যেখানে ট্রাম্পরা আসবেন-যাবেন, কিন্তু তাঁর সিংহাসন থাকবে অটল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো,ফিফা
 

২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের চার বছরের মেয়াদ শেষ করতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচন ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণ মেয়াদ। ফিফার এখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি হিসেবে থাকা যায়। সামনে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০২৩ সালে ইনফান্তিনো আবার জিতেছেন, ২০২৭ সালেও জেতার পথ মসৃণ। আর ঠিক সেই বছরই ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন হবে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোইনস্টাগ্রাম/ইনফান্তিনো
 

মাথায় রাখুন আরও একটা তথ্য। ইনফান্তিনো ফিফার আইন বিভাগ সরিয়ে নিয়ে গেছেন ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে। ফিফা+ ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও ই-স্পোর্টসের কাজও সেখান থেকেই চলে। জুরিখ এখনো সদর দপ্তর হিসেবে আছে বটে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যাচ্ছে পশ্চিমে। মনে হতে পারে, ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত আর রোদের হাতছানি কি তবে ফুটবলকে চিরতরে জুরিখের ঠান্ডা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে?

কারণটা কেবল আবহাওয়া নয়, কারণটা ওয়াল স্ট্রিট। জুরিখ যা দিতে পারে না, সিলিকন ভ্যালি আর মার্কিন মিডিয়া মোগলরা তা অনায়াসেই দেয়। বিপুল বিনিয়োগ ও মিডিয়া বাজার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা বাণিজ্যিক পরিবেশ দিতে পারে, যার ধারেকাছেও নেই জুরিখ। স্টেডিয়ামের অভাব নেই, আতিথেয়তার ক্ষুধাও অসীম।
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার।
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। রয়টার্স
 

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আনুমানিক ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে এসেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। ইনফান্তিনো ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারের মোট উৎপাদন তৈরি করতে পারে, যোগ করতে পারে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলারের জিডিপি এবং সৃষ্টি করতে পারে ৮ লাখ ২৪ হাজার কর্মসংস্থান।

কেকের আকার বাড়াও—এটাই ইনফান্তিনোর মন্ত্র। আর সেই কেক বাড়ানোর জায়গা একটাই—আমেরিকা।

জোয়াও আভেলাঞ্জে ফিফার রাজনৈতিক ও আর্থিক বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, ব্ল্যাটার মানচিত্র বড় করেছিলেন। ইনফান্তিনো চাইছেন নিজের উত্তরাধিকার। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান এমন একজন সভাপতি হিসেবে, যিনি ফিফাকে আর্থিকভাবে অস্পৃশ্য করে দিয়েছেন। একটা অলাভজনক সংস্থাকে পরিণত করেছেন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক দানবে। তাঁর কাছে যুক্তরাষ্ট্র কেবল দক্ষ আয়োজক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই যুগে একটা নিরাপত্তাবলয়ও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

এতে সমস্যা কী? অনেক কিছু। বিশ্বকাপের এই বিশাল ফোলা–ফাঁপা রূপের কারণে আয়োজনের সুযোগ এখন ফিফার বেশির ভাগ সদস্যের নাগালের বাইরে। তাদের ভাগ্যে জুটছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আর আঞ্চলিক ক্লাব প্রতিযোগিতার টুকরা। তবে এটা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে সদস্য সংস্থাগুলো মাথা নত করেছে, বিনিময়ে পেয়েছে বিশ্বকাপের আয় থেকে চুইয়ে আসা বার্ষিক অনুদান।

একমাত্র যে সংগঠন নিজের পথে হাঁটতে পারে, সে হলো উয়েফা। ধারণা করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ ইউরোপে। চ্যাম্পিয়নস লিগ আগামী চার বছরে দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করবে বলে পূর্বাভাস, যা বিশ্বকাপের অনেক বেশি।

২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।রয়টার্স
 

কিন্তু যখন ২০২৬-এর আয় ভাগ হবে, ইংল্যান্ড এফএ থেকে জার্মানির ডিএফবি—সবার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার ঢুকবে, তখন তাদের সব সংশয় কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। ইনফান্তিনো যদি প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন ২০৩৮-এ আমেরিকান বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আয় দ্বিগুণ করবে, তাহলে দূরত্ব আর টাইম জোনের বিষয়ে কিছু বিড়বিড়ানো ছাড়া ইউরোপীয় বিরোধিতা বলতে আর কিছু থাকবে না। সেটাও মিলিয়ে যাবে অদৃশ্য ক্যাশ রেজিস্ট্রারের শব্দে।

ইনফান্তিনো জানেন, তাঁর পুরোনো ইউরোপীয় নিয়োগকর্তারা হয়তো তাঁকে পছন্দ করেন না, তাঁর ক্ষমতার চালকে অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ডলারকে ঠিকই ভালোবাসেন। তাই ১২ বছরের মধ্যে দুইবার আটলান্টিক পেরোনোর মূল্য হিসেবে তাঁর দেওয়া দামটা সবাই সানন্দে মেনে নেবেন।

শেষমেশ সব পথ আসলে এক জায়গায় গিয়েই মেলে।

টাকার কাছে।

সপ্তাহের শেষে এবং বড় টুর্নামেন্টের পর নিয়মিতই র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে প্রতিবছরের মে মাসের শুরুতে আসা বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর জন্য নিয়ে আসে ভিন্ন তাৎপর্য।

২০২৬ সালের সেই বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে নিগার সুলতানার দল।

শুক্রবার আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ওয়ানডে দলের এই নতুন বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে মোট তিন বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যকার পারফরম্যান্সকে শতভাগ এবং তার আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে পঞ্চাশ ভাগ ওয়েটেজে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মেয়েদের বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়া (১৬৩ পয়েন্ট), ইংল্যান্ড (১২৮), ভারত (১২৬), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৯) নিজ নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে পাকিস্তানকে টপকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ (৭৩)। শীর্ষ দশের বাকি দুটি জায়গায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (নবম) ও আয়ারল্যান্ড (দশম)।

মেয়েদের ওয়ানডের পাশাপাশি ছেলেদের বার্ষিক টেস্ট র‌্যাঙ্কিংও প্রকাশ করেছে আইসিসি। এখানেও শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া (১৩১)। গতবারের মতো দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯)। তবে ইংল্যান্ড (১০২ পয়েন্ট) জায়গা ধরে রাখতে পারেনি, তাদের পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)।

নিউজিল্যান্ড পঞ্চম স্থান ধরে রাখলেও শ্রীলঙ্কা ছয় থেকে সাতে নেমে গেছে, এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ পাকিস্তান। এরপর যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (অষ্টম), বাংলাদেশ (নবম) ও জিম্বাবুয়ে (দশম)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮টি টেস্ট না খেলায় আয়ারল্যান্ড র‌্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে র‍্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে আগামী এক বছরে অন্তত দুটি টেস্ট খেলতে হবে।

৫ মে টি-টুয়েন্টি এবং ৭ মে ছেলেদের ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হবে।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল বিনা উইকেটে ৪৬। ২০ ওভারের খেলায় ১৫৪ রান তাড়ায় বেশ ভালো শুরু।

কিন্তু পাওয়ার–প্লে শেষ হওয়ার পর রানের এই ধারা আর ধরে রাখা গেল না। তিনে নামা শারমিন ইসলাম একপ্রান্তে টিকে থাকলেও অন্য প্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল। বাংলাদেশের ইনিংসও শেষ হলো তা-ই লক্ষ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে।

সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ নারী দল ৫ উইকেটে ১৩৩ রানে আটকে শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হেরেছে ২১ রানে। এই হারে সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ২৫ রানে।

রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ সপ্তম ওভারে দিলারা আক্তারকে হারালেও আরেক প্রান্তে আক্রমণাত্মকই ছিলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। অষ্টম ওভারে মালকি মাদারার ওভারে ছক্কা ও চারসহ তোলেন মোট ১৩ রান।

৮ ওভারে ১ উইকেটে ৬১ রান তুলে ফেলার পর নবম ওভার থেকে রানের গতি ধীর হতে শুরু করে। দশম ওভারে জুয়াইরিয়া ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরার পর উইকেটের মিছিলও শুরু হয়।

এক প্রান্ত আগলে রাখতে গিয়ে শারমিনও হয়ে পড়েন রক্ষণাত্মক। এভাবে ওভারের পর ওভার আস্কিং রেটও বাড়তে থাকে, শেষ পর্যন্ত যা আর কমানো যায়নি। শারমিন ৪৭ বল খেলে ৪ চারে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুয়াইরিয়ার ২৯, দিলারার ২৩ তৃতীয় সর্বোচ্চ।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা হার্শিতা সামারাবিক্রমার ২৯ বলে ৪৯ আর চামারি আতাপাত্তুর ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৪ রান করে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টি ২ মে একই ভেন্যুতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৫৪/৪ (সামারাবিক্রমা ৪৯, আতাপাত্তু ৪২; সুলতানা ১.২১, ফারিহা ১/২৩। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৩/৫ (শারমিন ৪৪*, জুয়াইরিয়া ২৯, দিলারা ২৩; কাবিশা ২/১৫)। ফল: শ্রীলঙ্কা নারী দল ২১ রানে জয়ী। সিরিজ: শ্রীলঙ্কা নারী দল তিন ম্যাচ সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব