ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শনিবার (৯ মে) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।  

বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই সফরে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এবার যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এতে এক বৃদ্ধকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম ওরফে দয়াল (৬৫)। তিনি একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি সপরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিশুটির মা চাতালশ্রমিক এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালান। মেয়েটি বেশির ভাগ সময় তার মামার বাড়িতে থাকত। প্রতিবেশী হওয়ায় সেই বাড়িতে নুরুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। বিষয়টি টের পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে উভয় পক্ষ। কিন্তু নুরুল শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দেন।

শিশুটির মামির অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমানসহ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে এসে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আপস করতে যান নুরুল। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি পাতায় শিশুটির সই নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, মানসম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই লোকের সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দিতে রাজি হন। তিনি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

ওই আপস-মীমাংসায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিতে পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। আপস না হওয়ায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’

শিশুটির সঙ্গে নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শাকিব। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিব শাহ্ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল রা‌তে শিশু‌টির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পু‌লিশ কাজ কর‌ছে। একই সঙ্গে যাঁরা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এতে এক বৃদ্ধকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম ওরফে দয়াল (৬৫)। তিনি একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি সপরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিশুটির মা চাতালশ্রমিক এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালান। মেয়েটি বেশির ভাগ সময় তার মামার বাড়িতে থাকত। প্রতিবেশী হওয়ায় সেই বাড়িতে নুরুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। বিষয়টি টের পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে উভয় পক্ষ। কিন্তু নুরুল শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দেন।

শিশুটির মামির অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমানসহ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে এসে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আপস করতে যান নুরুল। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি পাতায় শিশুটির সই নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, মানসম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই লোকের সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দিতে রাজি হন। তিনি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

ওই আপস-মীমাংসায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিতে পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। আপস না হওয়ায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’

শিশুটির সঙ্গে নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শাকিব। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিব শাহ্ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল রা‌তে শিশু‌টির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পু‌লিশ কাজ কর‌ছে। একই সঙ্গে যাঁরা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)।

শুক্রবার (৮ মে) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বসন্তকালীন সমাবর্তনে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস‍্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে জামিল ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘স্প্রিং ২০২৬’ সমাবর্তনে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই দুই শিক্ষার্থীকেও ডিগ্রি দেওয়া হয়। নাহিদা ও জামিলের স্মরণে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার সকালে ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদানের মূল অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানে অনুষ্ঠানস্থলে দুটি খালি চেয়ার নির্ধারিত পোশাকে (রেগালিয়া) সজ্জিত করে রাখা হয়। এ বছর ৩৯৩ জন ডক্টরাল ডিগ্রিধারীর তালিকায় এই দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এর এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর থেকে বৃষ্টির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সে কারাগারে।

 

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শনিবার যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের ফলোআপ হিসেবে লন্ডনের কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বাসসকে জানায়, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হবেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ১৮ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

বাসস

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কিছু পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও টিফিন ভাতার হার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

জানা গেছে, যেসব পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুনর্গঠিত পে কমিশন সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো কাঠামো ও সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে এসব সুপারিশ জমা দেয়। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

 

মুমিনুল হক তখন ফিফটি ছুঁয়েছেন, নাজমুল সেটা করে ফেলেছিলেন আগেই। দুজনের জুটিও ততক্ষণে এক শ ছাড়িয়ে গেছে। পেস, স্পিন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না—পাকিস্তান দল তখন যেন নিরুপায়!

মোহাম্মদ রিজওয়ান শর্ট লেগের ফিল্ডারকে একটু পিছিয়ে যেতে বললেন। নন–স্ট্রাইক প্রান্তে পপিং ক্রিজে টানা সাদা দাগের ওপর দাঁড়ালেন সেই ফিল্ডার। বোলাররা যেহেতু পারছেন না, ফিল্ডার সরিয়ে যদি বিভ্রান্ত করা যায় ব্যাটসম্যানকে, যদি একটি উইকেট মেলে!

তবে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ততটাও কঠিন ছিল না। সময় যত যায়, নাজমুলকে দেখেও মনে হলো ব্যাটিং করা কত সহজ! অন ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ কিংবা পুল—সবকিছুতে স্বচ্ছন্দ। প্রয়োজনে আবার নিখাদ ডিফেন্সিভ ব্যাটসম্যানও!

সেঞ্চুরির পর ব্যাটে চুমু এঁকে চেনা উদ্‌যাপন শেষ করার পরের বলেই নাজমুল আউট হলেন এলবিডব্লুর শিকার হয়ে। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। নিজের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে নাজমুল যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, তখন তাঁকে দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন নিখাদ ব্যাটিং যে সরাচর দেখা যায় না।

সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন
সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন

দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নাজমুল শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে যে বাউন্ডারির ঝড় শুরু হয়েছিল, সেটির শেষও হয়েছে তাঁর বলে এসেই। আউট হওয়ার আগের বলেই অবশ্য তাঁকেই বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরিটা তুলে নেন।

মুমিনুল হক উইকেটে এসেছিলেন নাজমুলেরও আগে। কিন্তু মুমিনুলের আগেই ৭১ বলে ফিফটি পান নাজমুল। একপ্রান্ত থেকে তাঁর দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের কারণে অন্য প্রান্তে মুমিনুলও খেলতে পারেন তাঁর মতো করে। ফিফটি তুলে নেন ১০২ বলে।

পাকিস্তানের তিন পেসার আব্বাস, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী—কাউকেই থিতু হতে দেননি নাজমুল। বাউন্সারে পুল করেছেন, অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার কিংবা পয়েন্ট দিয়ে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। তাতে ফিল্ডারদের দ্রুত মাঠে ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। এতে নাজমুলের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাও হয়েছে আরও পরিশীলিত।

পেসাররা মুমিনুল–নাজমুলের জুটি ভাঙতে না পারায় সালমান আগাকে দিয়ে যে ওভারে স্পিন শুরু করেছিল পাকিস্তান, ওই ওভারেই ছক্কা মারেন নাজমুল। ৭১ বলের ফিফটির পর সেঞ্চুরি পেতে খেলেন মাত্র ৫৮ বল। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার অভ্যাসের কারণে নাজমুল কিন্তু আলাদা করে বড় একটা বাহবা পেতেই পারেন। টেস্টে ফিফটির চেয়ে তাঁর সেঞ্চুরিসংখ্যা যে বেশি!

যে ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছেন এই সংস্করণে, তার মধ্যে ৯টিতেই সেঞ্চুরি করলেন (ফিফটি ৫টি)। শেষ ৮ ইনিংসেই সেঞ্চুরি ৪টি। হয়তো বাকিগুলোর চেয়ে এটা একটু বিশেষও—দুর্দান্তভাবে চাপ কাটিয়ে প্রতিপক্ষকে উল্টো চাপে ফেলেছেন, সচল রেখেছেন রানের চাকাও এবং মুমিনুলের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটিতে এক দিন আগেই প্রথম ইনিংসে দলীয় চার শ রান করার প্রতিশ্রুতিরও পথ করে দিয়েছেন।

সেঞ্চুরির পরপরই আউট হয়ে যাওয়ার হতাশা ভুলে নাজমুলের জন্য তাই শুধু করতালিই প্রাপ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক কৌশলে আবারও ধাক্কা দিয়েছেন। আদালত রায় দিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় আরোপ করা তাঁর সর্বশেষ অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক যৌক্তিক নয়। তবে আদালত শুধু দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক স্থগিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই রায়ে আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে অন্য সব আমদানিকারকের জন্য অস্থায়ী শুল্ক বহাল থাকবে। এই ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালত বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ছিল ভুল পদক্ষেপ। তবে বিচারকদের একজন মন্তব্য করেন, বাদীপক্ষকে এখনই চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা সময়োপযোগী হবে না।

প্রায় দুই মাস পর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এসব শুল্ক নিয়ে দেওয়া আদালতের রায় ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক পরিকল্পনার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন সময়ে রায়টি এল, যখন আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পথও তৈরি হলো। তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত একটি আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক বাতিল করে দিয়েছিলেন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বাণিজ্য আদালতের রায়কে ‘দুজন উগ্র বামপন্থী বিচারকের’ সিদ্ধান্ত বলে দোষারোপ করেন।

ওয়াশিংটনে একটি রিফ্লেকটিং পুল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত নিয়ে আমাকে আর কিছুই অবাক করে না। কোনো কিছুই অবাক করে না। আমরা একটি রায় পাই, তারপর অন্যভাবে কাজ করি।’

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো বড় বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক পুনর্বহালের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের আরেকটি ধারা—সেকশন ৩০১—ব্যবহার করতে চায়, যা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। এ আইনের আওতায় বর্তমানে তিনটি শুল্ক তদন্ত চলছে, যেগুলোর কাজ জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত সব আমদানিকারকের জন্য শুল্ক স্থগিতের আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যসহ ২৪টি অঙ্গরাজ্যের জোট এমন আদেশ চাইলেও আদালত বলেন, তাদের এ ধরনের আবেদন করার আইনি ভিত্তি নেই।

রায়ে বলা হয়, বেসরকারি বাদীপক্ষ সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো যুক্তি দেয়নি। একজন বাদীর ক্ষতি পুরো ব্যবস্থার ওপর সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা জারির যথাযথ ভিত্তি হতে পারে না। তাই আদালত এমন আদেশ দিচ্ছেন না।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ডরসি অ্যান্ড হুইটনির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের অংশীদার ডেভ টাউনসেন্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবশ্যই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে বিষয়টি এখন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আরও আলোচনার পথ তৈরি করল। তিনি আরও বলেন, এখন অন্য আমদানিকারকেরাও প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

শিক্ষাখাতে সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো নয়, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক বিনিময়ই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। যুদ্ধ, অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
 
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষাখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
 
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

 

বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের ১২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন আছে। বগুড়া নিয়ে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা হবে ১৩টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন উপজেলাগুলো হলো বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

দেশে বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন এই পাঁচটি নিয়ে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ১১ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫, খুলনায় ১, ময়মনসিংহে ১, রাজশাহীতে ২ জন ও সিলেটে ১ জন মারা গেছে।

এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ২০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ৩টি জিপ, ১০০ টহল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস।

এসব গাড়ি কিনতে খরচ হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। গাড়িগুলো সরবরাহ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রস্তাব উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জিপ হবে ২ হাজার ৫০০ সিসির। একেকটির বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকার মতো। আর প্যাট্রল জিপের বর্তমান বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের বাজারমূল্য ৪৮ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিপত্র জারি করে সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রেখেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি সরাসরি কেনার জন্য নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।

বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রথমে গাড়ি কেনার প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। আর আজ বিএনপি সরকার তা কেনার সিদ্ধান্ত দেয়।

‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৬৩টি গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালে। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়েছে।