বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, বাজারদর ও মাথাপিছু আয় বিবেচনা করে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিক শোষণ, মজুরি চুরি-ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাধামুক্ত করতে হবে। শুক্রবার সকালে মহান মে দিবসে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নগরের লাল পতাকা মিছিল করা হয়।

সমাবেশে রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘আজ থেকে ১৪০ বছর আগে ১৮৮৬ সালে, আমেরিকার শিকাগো শহরের যে মার্কেটে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন অগাস্ট স্পাইজ, এঞ্জেলস, ফিশার ও অন্য শ্রমিকনেতারা। আন্দোলন করার অপরাধে শ্রমিকনেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়, নির্যাতন করা হয়। মালিক ও সরকার ভেবেছিল নির্যাতনের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন চিরতরে দমন করা সম্ভব। কিন্তু তারা ভুল করেছিল। ন্যায্য দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে কখনো হত্যা আর নির্যাতনের মাধ্যমে দমন করা যায় না। বরং সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীর দেশে দেশে। ১৮৮৯ সালে ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্যারিস কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিবছর ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হবে।’

রাজেকুজ্জামান বলেন, আট ঘণ্টা কাজ—এই দাবির মধ্যেই আছে ন্যায্য মজুরির দাবি। খাদ্য-পোশাক, ইমারত, ওষুধ-যানবাহনসহ যা কিছু মানুষ ব্যবহার করে, সবই তৈরি হয় শ্রমিকের শ্রমে। কাজের বিনিময়ে শ্রমিক পান মজুরি, মালিক নেন মুনাফা। শ্রমিকদের বেশি সময় ধরে কাজ করালে এবং কম মজুরি দিলে মালিকের মুনাফা বাড়ে। শ্রমিক চান এমন মজুরি, যাতে মানসম্মত জীবনযাপন, সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও বৃদ্ধ বয়সের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কিন্তু শ্রমিক মাস শেষে যে মজুরি পান; বাড়িভাড়া ও দোকানের বাকি পরিশোধ করতেই শ্রমিক আবার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। সারা জীবন তাঁকে এই চক্রে আটকে থাকতে হয়। তাই আট ঘণ্টা কাজ ও ন্যায্য মজুরি এবং শোষণমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি একসঙ্গেই উঠেছিল।

বাসদের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ হাজার টাকার কম হলে তা ন্যায্য মজুরি হবে না। সরকার বলে মাথাপিছু আয় ২৮৪২ ডলার, সে অনুযায়ী ৫ সদস্যের পরিবারের মাসিক আয় হওয়া কথা ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি। বাস্তবে কি কোনো শ্রমিক পরিবারের এ পরিমাণ আয় হয়। ক্ষমতাসীনেরা দেশের উন্নতির জন্য গর্ব করেন, কিন্তু শ্রমিকের মজুরি নিয়ে নীরব। পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা শ্রমিক আর ধনী মালিকের দেশ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আয়বৈষম্যের দেশও বাংলাদেশ। সব সেক্টরেই শ্রমিক মানসম্মত মজুরি থেকে বঞ্চিত। শ্রমিকের কম মজুরিই বৈষম্যের মূল কারণ।

রাজেকুজ্জামান রতন আরও বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক দেশে ছয় ঘণ্টা কর্মদিবস করা হয়েছিল, পুঁজিবাদী দেশে ওভারটাইম ছাড়া সংসার চলে না। যেখানে মে দিবসের সূচনা, সেই আমেরিকায় সরকারিভাবে মে দিবস পালিত হয় না। মৌলবাদী চিন্তা দিয়ে পরিচালিত দেশগুলোতেও না। মে দিবসের শিক্ষাÑলড়াইয়ের পথেই মুক্তি। দাবি ন্যায্য হলেও লড়াই ছাড়া আদায় হয় না। মালিক বা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কাছে দয়া চেয়ে অধিকার আসে না। শোষণ উচ্ছেদ করেই কর্মঘণ্টা কমানো ও ন্যায্য মজুরি আদায় সম্ভব। মে দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হই, আওয়াজ তুলি।’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সহসভাপতি এম এ মিল্টন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলার মটরযান মেকানিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রমুখ।

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে বিশেষ পরিবর্তন এনেছে সরকার। নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই ছয়টি জেলার কৃষকদের সুবিধার্থে ধান-চাল সংগ্রহের পূর্বনির্ধারিত তারিখ ১৫ মে এগিয়ে এনে আগামী ৩ মে থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, দেশের অন্যান্য জেলার জন্য ধান সংগ্রহের সময়সূচি ৩ মে ২০২৬ এবং চাল সংগ্রহের সময় ১৫ মে ২০২৬ থেকেই শুরু হবে। তবে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা যেন দ্রুত তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই জরুরি সিদ্ধান্ত। আসন্ন বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সব মিলিয়ে মোট ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সংগ্রহ অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, সরকার ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয় করবে। প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা। ধান ও চালের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশব্যাপী পরিচালিত এই সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। 

 

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের প্রধান পুরোহিত ধর্মপ্রিয় মহাথের, বৌদ্ধ ধর্মের অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি এসময় বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গৌতম বুদ্ধের মানবতা, সাম্য ও অহিংসার বাণী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। 

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’− মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পারস্পরিক সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি সমতাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়-সমতল প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে সংহত করে সকলকে ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তা সমুন্নত রাখেন।’ তিনি আরো বলেন, জাতির যা কিছু সাফল্য, অর্জন তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের।

এসময় বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও যুদ্ধ-সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সকলকে ধৈর্য্য, সংযম এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। 

পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা আগত অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, ধর্ম সচিব ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁদের পুরোনো মিত্র যুক্তরাজ্যের হুইস্কি আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সম্মানে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজা ও রানির যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘রাজা ও রানি প্রায় না বলেই এমন একটি কাজ করিয়ে নিয়েছেন, যা আর কেউই করাতে পারেনি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের হুইস্কি ও বোরবন (একধরনের হুইস্কি) খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল, সেটিও সরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্য সরকার নিশ্চিত করেছে, এ সিদ্ধান্ত সব ধরনের হুইস্কির ওপর শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে আইরিশ হুইস্কিও রয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনবিসির।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণায় চাপে থাকা ডিস্টিলারি খাত কিছুটা স্বস্তি পাবে।

চার দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটিশ রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়া সফর করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের প্রতি রাজা তাঁর ‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা’ জানিয়েছেন এবং ‘প্রেসিডেন্টের এই সৌজন্যের জন্য তিনি এক পেগ তুলবেন।’

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘স্কটল্যান্ডের জন্য দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে স্কটিশ অর্থনীতিতে লাখ লাখ পাউন্ড ক্ষতি হচ্ছিল।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানির সম্মানে’, যাঁরা সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সফর শেষ করে নিজ দেশে ফিরেছেন।

ট্রাম্প বলেন, স্কটল্যান্ড ও কেনটাকির মধ্যে হুইস্কি ও বোরবন শিল্পের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে কাঠের ব্যারেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে। কেনটাকিতে ব্যবহৃত বোরবন (একধরনের হুইস্কি) ব্যারেলের বড় ক্রেতা স্কচ হুইস্কি শিল্প, যা প্রতিবছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ব্যারেল আমদানি করে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছি, যাতে স্কটল্যান্ড ও কেনটাকি আবার ব্যবসা শুরু করতে পারে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হুইস্কি রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। ফলে স্কটিশ হুইস্কির বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, যা তাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। একই সঙ্গে স্থগিত থাকা একক মাল্ট হুইস্কির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আবার চালুর আশঙ্কাও ছিল।

স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক গ্রেম লিটলজন জানান, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, শুল্কের কারণে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের রপ্তানি ক্ষতি হচ্ছিল, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড।

গ্রেম লিটলজন বলেন, এটি শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি। দীর্ঘদিনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। হয়তো রাষ্ট্রীয় সফরটি চূড়ান্ত সমাধানে সহায়ক হয়েছে, আর রাজা তাঁর ‘‘রাজকীয় স্পর্শ’ যোগ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, ‘এটি আমাদের স্কচ হুইস্কি শিল্পের জন্য দারুণ খবর। প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ব্রিটিশ পাউন্ড রপ্তানিমূল্যের এ খাত হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে।’

এদিকে সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে তাদের যুক্তরাজ্য সরকার শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, আগের দিন বৃহস্পতিবার ঘোষিত পরিবর্তন সব ধরনের হুইস্কির শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে আইরিশ হুইস্কিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্যচুক্তি হয় যুক্তরাজ্যের। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে একটি সাধারণ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের রপ্তানিকারকদের জন্য আগে যে শূন্য-শুল্ক সুবিধা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। এতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো স্কচ হুইস্কিসহ অন্যান্য মদজাতীয় পানীয়ের ওপর নতুন শুল্ক আরোপিত হয়।

স্কটল্যান্ডে স্কচ হুইস্কি শিল্পে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট পণ্য রপ্তানির ২৩ শতাংশই অর্জিত হয়েছিল হুইস্কি থেকে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বন্ধ কলকারখানা চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনে বন্ধ হওয়া কলকারখানা পর্যায়ক্রমে চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, এতে করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে। তারা ভালো থাকলে এই দেশ ভালো থাকবে।
 
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মে দিবসে নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
 
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার শুধু শ্রমিকদেরই অধিকার বঞ্চিত করেনি, সবাইকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পুরো দেশের অর্থনীতি আমদানি-নির্ভর করা হয়। একইসঙ্গে দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর ধ্বংস করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়।
 
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তাদের সরকারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যেন এ দেশে কলকারখানা তৈরি করে। খেটে-খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে, এ দেশ ভালো থাকবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজটসহ সাধারণ মানুষের সমস্যার জন্য হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সরকার এ দেশের খেটে-খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। জায়গা ঠিক করে ধীরে ধীরে হকারদের পুনর্বাসন করা হবে।
 
একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব দরবারে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিন্তু এতে লাভ হবে না, বিশ্ব দরবার জানে এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, স্বৈরাচারকে যেভাবে জবাব দেওয়া হয়েছে, একইভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।
 
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আসুন, একসঙ্গে দেশ গড়ি।’

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তিটি বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উড়োজাহাজগুলোর দাম ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছাবে এবং ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাকি সবগুলো বিমান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, এই উদ্যোগ নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই বিশাল বিনিয়োগ এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি পর্যটন ও কর্মসংস্থান তৈরিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) এ তথ্য জানিয়েছে। এই বৈশ্বিক অবনতির তালিকায় বাংলাদেশও পিছিয়েছে। ২০২৬ সালের সূচকে গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫২তম।

আরএসএফ প্রতিবছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার চিত্র নিয়ে একটি সূচক প্রকাশ করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ থেকে শুরু করে ‘ভালো’—এই পাঁচটি স্তরে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

আরএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। গত বছর (২০২৫) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। অর্থাৎ এক বছরে সূচকে আরও তিন ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের ২০ শতাংশের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তাঁদের বড় একটি অংশেরই মূলধারার গণমাধ্যমের নাগাল পাওয়ার সুযোগ কম। তবে দেশে সংবাদ ও তথ্য আদান-প্রদানে ইন্টারনেটের ভূমিকা ক্রমে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

[caption id="attachment_272852" align="alignnone" width="835"] সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট।[/caption]

গণমাধ্যমের চিত্র

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান দুই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার কোনো ধরনের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা নেই। তারা সরকারি প্রচারযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংগঠন বাসসের অবস্থাও একই।

বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে আরএসএফ জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ হাজার সংবাদপত্র ও সাময়িকী, কিছু কমিউনিটি রেডিওসহ ৩০টি রেডিও, ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেল এবং কয়েক শ নিউজ পোর্টাল রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যমুনা টিভি, সময় টিভি ও একাত্তর টিভির মতো জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেলগুলো আগে শেখ হাসিনা সরকারের সমর্থক ছিল। তবে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ দুই দৈনিক, ‘প্রথম আলো’ এবং ইংরেজি ভাষার ‘দ্য ডেইলি স্টার’ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

আরএসএফ বলছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ওই সময় সেন্সরশিপ, সাইবার হয়রানি, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার চাপ, বিচারিক হয়রানি, দমন–পীড়নমূলক আইন ও পুলিশের সহিংসতার মুখে সাংবাদিকতা চরম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তী সময়ে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসে।

আইনি কাঠামো

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আদলে সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) প্রবর্তন করেছিল। এই আইন সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত দমনমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ এবং সোর্সের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সুযোগ দেয়। এমন পরিবেশে সম্পাদকেরা প্রায়ই ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ বা নিজেদের লেখায় নিজেরা কাঁচি চালাতে বাধ্য হন।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতের অধিকাংশ বড় গণমাধ্যম এখন গুটিকয় বড় ব্যবসায়ীর মালিকানায়। তাঁরা গণমাধ্যমকে প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার ও মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন। ফলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার চেয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখাকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দেন বলে আরএসএফ উল্লেখ করেছে।

আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট

আরএসএফের মতে, গত এক দশকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হামলায় অনেক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে ও হয়রানি করছে।

নিরাপত্তা

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৩০ জনের বেশি সাংবাদিক ভিত্তিহীন মামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।

আরএসএফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো পুরুষশাসিত পেশা হিসেবে রয়ে গেছে। নারী সাংবাদিকেরা কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচারণার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএসএফ ২০০২ সাল থেকে এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে ঠেকেছে। আরএসএফ বলছে, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতারই বহিঃপ্রকাশ।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অবস্থান

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘ভালো’ অবস্থায় রয়েছে, এমন দেশের তালিকায় শীর্ষে আছে মাত্র সাতটি দেশ। তালিকার প্রথম তিনটি দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। ফ্রান্স ‘সন্তোষজনক’ ২৫তম অবস্থানে থাকলেও এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৬৪তম। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সাত ধাপ নিচে নেমেছে।

আরএসএফ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণকে ‘পদ্ধতিগত নীতিতে’ পরিণত করেছেন। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি সালভাদরীয় সাংবাদিক মারিও গুয়েভারার কথা উল্লেখ করেছে। অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁকে প্রথমে আটক ও পরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নামী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থানে বড় পতন হয়েছে। ১১ ধাপ পিছিয়ে দেশটির অবস্থান এখন ৯৮তম। অন্যদিকে অপরাধী চক্র ‘মারাস গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে অভিযানের জেরে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০৫ ধাপ নিচে নেমেছে এল সালভাদর। দেশটির বর্তমান অবস্থান ১৪৩তম।

২৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য। সূচকের তলানিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে রাশিয়া ১৭২তম এবং ইরান ১৭৭তম অবস্থানে রয়েছে।

আরএসএফ আরও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুদ্ধ ও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সূচকে ইসরায়েলের অবস্থান ১১৬তম।

সংগঠনটি বলেছে, ‘২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২২০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ হারিয়েছেন।’

আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এখন এক বৈশ্বিক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত আইনগুলোকে পাশ কাটিয়ে জরুরি অবস্থা এবং প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এখন বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের নিশানা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১০টিতেই (৬০ শতাংশের বেশি) সংবাদকর্মীদের নানাভাবে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বড় উদাহরণ হিসেবে ভারত (১৫৭তম), মিসর (১৬৯তম), জর্জিয়া (১৩৫তম), তুরস্ক (১৬৩তম) ও হংকংয়ের (১৪০তম) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, ‘তথ্যের অধিকারের ওপর হামলা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সূক্ষ্ম উপায়ে হচ্ছে। যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা এখন আর কোনো রাখঢাক করছে না।

বোকান্দে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা, অযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি, লুটেরা অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন মাধ্যম।

বোকান্দে সাংবাদিকদের ‘অপরাধী’ বানানোর এই বৈশ্বিক প্রবণতা বন্ধে গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিকদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৩৬ জন; জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জন।

এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে। আইনি জটিলতা থাকায় বাকি একটি আসনের প্রার্থিতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এর আগে গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া ৪৯  প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। আজ সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিন্জ, সূবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার।

এই তালিকায় আরও রয়েছেন ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, মোসা. নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম।

একই সঙ্গে ছয়জন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিনের নামও গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইসিতে আপিল করেন। তবে আপিল শুনানি শেষে গত সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিলের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ইসি। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন মনিরা শারমিন।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ায় এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে যান। আদালত নির্বাচন কমিশনকে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আগামী ২ মে নুসরাতের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই হবে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন আবার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলও হতে পারে।

চট্টগ্রাম মহানগরের আকবর শাহ এলাকায় একটি ফোম কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের চারটি এবং বন্দর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নির্বাপণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে কারখানায় কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)—এ দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা তুলে দিয়ে সংসদে দুটি বিল পাস হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিল দুটি পাস হয়ে যাওয়ার পর বিল নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে। সাধারণত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিল পাসের আগে এ ধরনের বিতর্ক হয়।

এই বিতর্কের এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিএনপির দলীয় লোক আখ্যা দিয়ে তাঁর অপসারণের দাবি তোলে বিরোধী দল। তবে সরকারি দল বলেছে, গভর্নর দলীয় ব্যক্তি নন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল আলাদাভাবে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কেউ বিল দুটির বিষয়ে জনমত যাচাই–বাছাই কমিটিতে প্রেরণের জন্য লিখিত নোটিশ দেননি। কেউ সংশোধনী প্রস্তাবও দেননি। ফলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রুমিন ছাড়া অন্য কোনো সদস্য বিলের ওপর আলোচনারও সুযোগ পাননি। কিন্তু বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বিলের ওপর আলোচনার জন্য কয়েক দফা হাত তোলেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল পাসের পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিলটি আনা হয়। এই বিলের ওপর রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। বিরোধী দলের সদস্যদের কেউ কেউ বক্তব্য দেওয়ার জন্য হাত তোলেন। তবে তাঁরা কেউ নোটিশ না দেওয়ায় স্পিকার কায়সার কামাল কাউকে সুযোগ দিচ্ছিলেন না।

একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়ালে তাঁকে সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আসলে বেশির ভাগ সদস্য আমরা এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধি আস্তে আস্তে রপ্ত করছি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এ বিল নির্ধারিত সময়ে পাস করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে বিধি মেনে তিন দিন আগে নোটিশ দিয়ে বিলটি সংসদে আনা উচিত ছিল। তাঁরা একটু আগে বিলের কপি পেয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব না করার অনুরোধ করেন। যেহেতু আজই বিলের কপি দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি বিল দুটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।

অবশ্য ততক্ষণে একটি বিল পাস হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিধি অনুযায়ী গতকাল বিলের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সময় মার্জনার এখতিয়ার স্পিকারের আছে। তখন স্পিকার বিলটি (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) পাসের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিল পাসের পর বিতর্ক

বিল দুটি পাস হওয়ার পর ফ্লোর নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাত্রই দুইটা আইন এখানে পাস করা হলো। আমরা জানি যে সরকারি দল এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাঁরা যেভাবে চাইবেন সেভাবে আইন পাস হবে। সেটাই হাউজের বাস্তবতা।’

আখতার বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বীমা করপোরেশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এটা কি কোনো ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে নাকি একটা পলিসিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে? এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ হয়েছে, সেভাবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তিদের মাথায় রেখে এ দুটি আইনে বয়সের সীমা তুলে ধরা হয় তাহলে অর্থমন্ত্রী যেভাবে দক্ষ লোক নিয়োগের কথা বলেছেন সেটার সঙ্গে বৈপরীত্য দেখা দেবে।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আইন পাস হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আমাদের কনসার্নগুলো এখানে জানিয়ে রাখছি।’

এনসিপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, বিএনপি ২০০১ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিল তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিজেদের মতো করে উপদেষ্টা বসানোর জন্য প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ করেছিল। তারপরে একটা দীর্ঘ ভোগান্তি জাতিকে পোহাতে হয়েছিল।

আখতারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর কিছু বলার থাকলে বলার অনুরোধ করেন স্পিকার কায়সার কামাল। তখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যখন আইনটি হয়েছিল তখন দেশের মানুষের গড় বয়স ছিল ৫৭। এখন ৭২ বছর। বিশ্বের প্রায় কোনো দেশে সিকিউটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে বয়সের সীমা নেই।

বিরোধী দলের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির যে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হচ্ছে, এখানে যোগ্য, দক্ষ ব্যক্তি যদি আসতে চান, আপনাকে এগুলোকে মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো সুযোগ নাই।’

বিরোধীদলীয় নেতা ও অর্থমন্ত্রীর বিতর্ক

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় স্পেস করে দেওয়া দরকার। কিন্তু একটা কথা আছে যে ‘মর্নিং সোজ দ্য ডে’। সরকারের দুই মাসে বেসিক যে জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো ‘বেসিক’ জায়গার কথা তিনি বলছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে এবং সাবেক গভর্নরকে যে পদ্ধতিতে বিদায় দেওয়া হয়েছে তা জাতি দেখেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সেগুলা জনগণ ও গণতন্ত্র কোনোটাই সাপোর্ট করে না। এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপাইয়ে পড়লাম।’

এভাবে যদি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় দেশ আগাবে কীভাবে—এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তো কার ইন্টেনশন কী সেটা দেখতে পারব না। এটা মনের ব্যাপার।’

শফিকুর রহমান বলেন, সবকিছুকে রাজনীতিকীকরণ, ক্ষেত্রবিশেষে গোষ্ঠী–পরিবার প্রাধান্য দিয়ে এগোলে দেশ আগাবে না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এ ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না। এখানে সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু উনারা প্রশ্ন তুলেছেন আমাদেরকে উত্তর দিতে হবে বিষয়গুলো।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো নিয়োগ হয়েছে, সবগুলো ছিল অরাজনৈতিক। যে কারণে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন। তিনি একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। এখন পর্যন্ত গভর্নরের যে ‘পারফরম্যান্স’ তাঁরা দেখেছেন, সেটা অন্য যেকোনো গভর্নরের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভালো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আর আপনারা যখন বিগত দিনে এই বিগত কেয়ারটেকার সরকারের সময় যখন গভর্নরের এজটা বাড়িয়েছে, সেই সময় তো আপনারা কোনো আপত্তি করেন নাই।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অপসারণ দাবি

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক দেবেন না বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যদি সেটা হয় তাঁরা ধন্যবাদ দেবেন।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, ‘কিন্তু এখনকার গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের যিনি আছেন, উনার একটা পরিচয় কিন্তু আছে। সেটা হচ্ছে বিএনপির যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়েছিল, আমি যেহেতু জানি, উনি এই কমিটির একজন মেম্বার ছিলেন।’

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘যদি এ রকম পরিচয় থাকে (গভর্নরের) তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আলোকে ওনাকে গভর্নর থেকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধান্তের আলোকেই একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ করা হোক।’

তখন স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলবেন কিনা যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকলে দলীয় পদ কিনা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নট দল।’

তখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক না। আর কোনো দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করা মানে দলের লোক না। বিরোধী দলের নির্বাচনী কার্যক্রমেও অনেকে সহায়তা করেছেন। যাঁরা তাঁদের দলীয় লোক নন। নির্বাচন বাংলাদেশে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখানে অনেকে সহযোগিতা করতে পারেন।

বিলে যা আছে

বিল দুটি পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়াম্যান ও কমিশনার পদে এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

এত দিন আইনে ছিল, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি বাংলাদেশ সিকিউটিরিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনার পদে নিযুক্ত হওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হন না বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনে বলা ছিল, কোনো ব্যক্তির ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে পারবেন না। সংসদে পাস হওয়া বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ মন্বতব্লেয করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

তিনি বলেন, আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো- প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই আমরা বাংলাদেশি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট এবং পবিত্র বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।

এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুকোমল বড়ুয়া।

 

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত ২ হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা এই দুই মামলায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে।

ওই পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিন পান, সেদিনই আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। পৃথক এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এসব মামলায় চেম্বার আদালতে তার জামিন স্থগিত করে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশের জন্য ৩ মে দিন ধার্য করেছেন।

এ অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন হত্যার অভিযোগে দায়ে করা দুইটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আবেদন করে। একটি মামলায় ২ মার্চ এবং অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এই মামলা দুইটিতে তাকে জামিন দিলেন হাইকোর্ট।