বাংলাদেশ সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ২৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের জুন থেকে এসব সম্পদ জব্দ করেছে বলে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন।

তবে জব্দ হওয়া এসব অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেছেন, ‘আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করতে হলে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজন হয়ে থাকে।’

আজ মঙ্গলবার ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন হাইকমিশনার সারাহ কুক। দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে ডিক্যাব টকের আয়োজন করে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘গত ১৮ মাস থেকে দুই বছর ধরে সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি। আমরা এ ক্ষেত্রে আরও কাজ করতে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা নিয়ে কথা বলতে পারি না। সেগুলোর সব কটিতেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।’

সম্পদ জব্দের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন সারাহ কুক। অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধে কী করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

সারাহ কুক বলেন, ‘এটি এমন কিছু নয়, যা রাতারাতি ঘটে যেতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জব্দ হওয়া অর্থ ফেরাতে হবে।’ এ ধরনের আর্থিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য এই গ্রীষ্মে লন্ডনে একটি ইলিসিট ফিন্যান্স সামিট (অবৈধ অর্থায়ন শীর্ষক সম্মেলন) আয়োজন করবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, স্পষ্টতই বাংলাদেশে এখন একটি সংসদ রয়েছে এবং একটি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ সদস্যদেরই দায়িত্ব হলো সংসদে একত্র হয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করা। সংস্কারগুলো ও জুলাই সনদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কর্মপন্থা নির্ধারণের দায়িত্ব সংসদ সদস্যদের। এটি জাতীয় সংসদে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় নয়।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সংস্কারের দৃঢ় সমর্থক বলে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এমন কয়েকটি ক্ষেত্র ইতিমধ্যে তুলে ধরেছি, যেখানে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি এবং এখন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে পারি তা নিয়ে আলোচনা করছি। অর্থনৈতিক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারি, সে বিষয়েও কথা বলেছি।’

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই, কীভাবে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে পারি, সেদিকেও নজর দিতে চাই।’

মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে বর্তমান সংসদের ভূমিকার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিষয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। আমরা এমন সংস্কারের সমর্থক, যা দেশে সুশাসন, মানবাধিকার ও স্থিতিশীলতা উন্নত করে। আপনি যে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তা সংসদের বিষয়। এখন একটি কার্যকর সংসদ রয়েছে। সুতরাং কোন সংস্কার এবং কোন আইন ও অধ্যাদেশগুলো এগিয়ে যাবে, তা নির্ধারণ করা সংসদের কাজ।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতন্ত্রের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাবে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে। আমরা বিগত সময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারে একসঙ্গে কাজ করেছি। যুক্তরাজ্য নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন করেছে এবং আরও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে সমর্থন দিচ্ছি। সুতরাং এ ক্ষেত্রগুলোতে আমরা ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে অনেক কাজ করছি, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিডার সঙ্গে কাজ করছি। কিন্তু অবশ্যই, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী যা ঘটছে তার দ্বারাও প্রভাবিত। সুতরাং এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ। এ কারণেই আমরা এই কঠিন অর্থনৈতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই।’

দু্ই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে কি না জানতে চাইলে সারাহ কুক বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। আমরা একটি সমীক্ষা জাহাজ হস্তান্তরের জন্য দুই দেশের সরকার চুক্তি সই করেছে। আমরা ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্ব গঠনে প্রশিক্ষণে সহায়তা করার জন্যও একসঙ্গে কাজ করছি।’

মানবাধিকার ও মব সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্নে সারাহ কুক বলেন, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সম্প্রতি মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের বৈশ্বিক সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এটিও মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারের একটি অত্যন্ত জোরালো সংকেত।

‘সুতরাং আমি আশা করি, এটি প্রমাণ করে যে আমরা এ বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিই এবং আমাদের কাজের অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা চালিয়ে যাব। আর বাংলাদেশের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে আইনের শাসনের ওপর মনোযোগ দেওয়াই তাদের ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য এবং এটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,’ বলেন তিনি।

এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ চুক্তি সই করেছিল। এ নিয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যকার চুক্তি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে উন্নত বা শক্তিশালী করা। একটি আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বাংলাদেশের। যুক্তরাজ্য সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তাই আমরা চুক্তিটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি।’

নাচের ছন্দে, গানের সুরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশ। বুধবার, ২৯ এপ্রিল বিশ্ব নৃত্য দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান। এই আয়োজনে দেশের এক শটির বেশি নৃত্য সংগঠনের ছয় শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন।

এবার বিশ্ব নৃত্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি’। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশনও বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় একাডেমির নৃত্যশালা ভবনের সামনে থেকে নৃত্যশিল্পীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক (তথ্য সম্প্রচার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়) উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক আমানুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিসচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ধন্যবাদ জানান একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

প্রধান অতিথি জাহেদুর রহমান বলেন, নাচের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি শারীরিক উপযোগিতাও রয়েছে। এখন শিশুরা অধিকাংশ সময় পড়ালেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসব নিয়ে শারীরিকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করে। এতে তাদের নানা রকমের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। নাচের চর্চার প্রসার ঘটলে তাদের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

মুখ্য আলোচক আমানুল হক আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত নৃত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না। শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্‌যাপন ভালো লাগছে। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম দিনের নৃত্য পরিবেশনার পালা। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা। এরপর বেনজির সালামের পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়...’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যছন্দের শিল্পীরা। কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আরিফ হোসেনের নির্দেশনায় ‘মাস্তকালান্দার’ ও ‘মন আমার দেহঘড়ি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সাত্ত্বিক শিল্পাশ্রমের শিল্পীরা।

‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যায়তনের শিল্পীরা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নাজমুল হক। সমসাময়িক নৃত্য ‘চেঞ্জিং ড্রিমস’ পরিবেশন করে সাধনা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সাব্বির আহমেদ খান। সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে ছান্দসিক। মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় ‘জাপানি ও রাশিয়ান লোকনৃত্য’ পরিবেশন করেন রেওয়াজ পারফরমারস স্কুলের শিল্পীরা।

প্রথম দিন আরও নৃত্য পরিবেশন করে নূপুরধ্বনি, গুরুকুল কালচারাল সেন্টার, কাথ্যাকিয়া দ্য সেন্টার অব আর্টস, অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, নৃত্যকল্প, আকৃতি নৃত্যদল, কালারস অব হিল, ঝংকার ললিতকলা একাডেমি, ধ্রুপদি নৃত্যালয়, নাইম খান ড্যান্স কোম্পানি, নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, জিনিয়া নৃত্যকলা একাডেমি, ভঙ্গিমা ড্যান্স থিয়েটার, দেব ড্যান্স একাডেমিসহ বিভিন্ন নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা।

আজকের অনুষ্ঠান: আজ বুধবার সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৫টায়। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সমাপনী দিনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ২৩টি দলের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে স্কোরলাইন ১–১; আর তিন মিনিট পরই রেফারির শেষ বাঁশি বাজবে। ঠিক তখনই যেন ম্যাজিক নিয়ে হাজির বাংলাদেশের আইরিন আক্তার। ৫৭ ও ৫৮ মিনিটে দুই গোল করে বাংলাদেশকে নিয়ে গেলেন এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে। ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছে ৩–১ গোলে। বাংলাদেশের তিনটি গোলই আইরিনের।

বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ সন্ধা সাতটায় ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে চায়নিজ তাইপে। এ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে আগামীকাল ফাইনাল খেলবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। গত রোববার হংকং চায়নাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমস হকিতে খেলা নিশ্চিত করে তারা। আজ পেয়ে গেল বাছাইপর্বের ফাইনালের টিকিটটাও।

বাংলাদেশ নারী হকি দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ছেলেদের দল এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত চারবার ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দুবার।

প্রথমবার অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা
প্রথমবার অংশ নিয়েই এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা, ভিডিও থেকে নেওয়া

জাকার্তার জিবিকে হকি মাঠে আজ প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে বেশ ভুগিয়েছে সিঙ্গাপুর। যদিও বিশ্ব হকির র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে দশম মিনিটেই আইরিন আক্তারের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এর দুই মিনিট পরই পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে সমতায় ফেরান সিঙ্গাপুরের চিয়া চেরি।

গোল হজমের পর কিছুটা সতর্ক হয়েই আক্রমণ করে বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশও একটি পেনাল্টি কর্নার পায়, কিন্তু নাদিরা সেটিকে গোলে রূপ দিতে পারেননি। ১–১ সমতায় শেষ হয় দ্বিতীয় কোয়ার্টার।

প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে ভোগালেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর
প্রথম তিন কোয়ার্টারে বাংলাদেশকে ভোগালেও হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর, ভিডিও থেকে নেওয়া

তৃতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের আক্রমণগুলো সিঙ্গাপুরের গোলমুখেই ঘুরপাক খেয়েছে। ৪২ মিনিটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্নার পেলেও অধিনায়ক অর্পিতা পাল গোল করতে পারেননি। ৪৫ মিনিটে শারিকার দারুণ হিট থামিয়ে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার ইলিয়া।

১–১ সমতা নিয়ে শুরু চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারে দুই দলই গোল পেতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। ৪৭ ও ৪৮ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও বল জালে জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দেরিতে হলেও ম্যাচে ফেরে জাহিদ হোসেনের দল। ৫৭ মিনিটে কনা আক্তারের পাস থেকে ফিল্ড গোল করেন আইরিন। এক মিনিট পর আইরিন নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন আরেকটি ফিল্ড গোলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। নতুন করে ১৪ হাজার ৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২ হাজার ৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সারাদেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সব আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাগুলোতে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের এক বক্তব্যে উত্তেজনা ছড়াল সংসদে, প্রায় ১০ মিনিট অচল থাকল আইনসভার কার্যক্রম।

কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ– ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে দেখা দেয় উত্তেজনা।

বিরোধী দলের সদস্যরা হই চই শুরু করলে সরকারি দলের সদস্যরাও প্রতিবাদ জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাউকে নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরেধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এই সংসদ আর থাকবে না।’

সদস্যদের কর্মকাণ্ডে শিশুরাও লজ্জা পাবে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘যারা অলরেডি দাদা হয়ে গিয়েছেন, তাদের নাতিরা হয়তো এখানে গ্যালারিতে বসে দেখছে। তারা কী ভাববে এটা সম্পর্কে?’

দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। ফজলুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের তুলনার বিরোধিতা করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি বলব, এই কথাটা বলাই অন্যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করা।’

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা বলেছিল, কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সেইদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এই আল বদরের বাচ্চারা, এখনও কিন্তু ফজলুর রহমান জীবিত আছে। মুক্তিযুদ্ধ হইছে, মুক্তিযুদ্ধই সত্য। ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য। আমরা সেদিন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম।’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হইছে। সেই ইলেকশনে তারা কী করেছে? আজকে যারা আমার ডান দিকে (বিরোধী দল) বসে আছে, তারা কী করেছে? তারা যা করেছে, সেটা কল্পনা করার মতো না। সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল, দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা পাস করবে। আমি ফজলুর রহমান বলেছিলাম, জামায়াত জোট যদি দুই-তৃতীয়াংশ পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। তারা কখনো যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে না, রাজনৈতিক যুদ্ধে। তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকবে, ততদিন রাজাকার এদেশে কখনো জয়লাভ করতে পারবে না।’

এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করলে ফজলুর রহমান স্পিকারের কাছে আরও পাঁচ মিনিট সময় চান। স্পিকার তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে বলবে, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সব সময় মাননীয় বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে “ফজা পাগলা” বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য, তারা ইসলাম... ।’

এ সময় অধিবেশন কক্ষের সবাই হেসে ওঠেন। এক পর্যায়ে ফজলুর রহমানের কাছে স্পিকার জানতে চান, ‘আপনাকে কেউ “ফজা পাগলা” এই ধরনের উক্তি করেছে? এ রকম সংসদে কেউ বলে নাই তো। আপনি কেন নিজের...’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধী দলের নেতা বলেছেন, উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না।’

এসময় ব্যাপক হইচই শুরু করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। স্পিকার তখন সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সবাইর প্রতি আহ্বান জানান।

এরপর ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আবারও বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করছেন।’

এ বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে একযোগে হইচই ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ পর্যায়ে ফজলুর রহমান বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের কণ্ঠ আরো চড়া করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

ফজলুর রহমান তখন বলেন, ‘আমি ওনাদের কিন্তু খারাপ কিছু বলি নাই।’

এ সময় স্পিকার ফজলুর রহমানকে বসার এবং একটু অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় জামায়াত এবং তাদের মোর্চার শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশের এমপিদের দাঁড়িয়ে হইচই করতে দেখা যায়।

সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা হইচই করেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সরকারদলীয় এমপিদের দাঁড়াতে ইশারা করলে অনেকেই দাঁড়িয়ে যান। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে বসার অনুরোধ করতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সবাইকে বসার অনুরোধ করেন।

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), আব্দুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ নিজ আসনে বসে ছিলেন।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনিও বসে পড়েন।

এসময় বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে স্পিকার তাঁকে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বসুন। আমি বললে তারপর আপনি বলুন।’

পরে স্পিকার ফজলুর রহমানকে তিন মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার অনুরোধ করেন।

তবে বিরোধীরা হইচই করতে থাকলে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে। লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। সবাই আপনারা নির্বাচিত সদস্য, এখানে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্য। আমি প্রতিদিনই বলি যে রুলস অফ প্রসিডিউর বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ যদি বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।’

সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরবর্তীতে বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তি খণ্ডনের পরামর্শ দেন তিনি। স্পিকার বলেন, ‘সংসদের স্পিকার যখন দাঁড়ায়, তখন এটি অবশ্যই কর্তব্য, সবাই এখানে বসে পড়বেন। আমাকে তো আপনারাই স্পিকার বানিয়েছেন। সংসদের অভিভাবকের প্রতি যদি সম্মান আপনাদের না থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদের প্রতি মানুষের কোনো রেসপেক্ট থাকবে না আগামী দিনে।’

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যদের সুযোগ দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে টাইম বাড়িয়ে দেব। তার যুক্তি খণ্ডন করুন। তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আমরা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করে দেব। কিন্তু বক্তব্যের সময় তাকে ডিস্টার্ব করবে না।

এরপর আবার বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল, তাদের বলা হয় আল বদর। সেই আল বদর বাহিনী কারা ছিল আপনারা জানেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, প্রথম দিন কিন্তু এইখানে (সংসদে) কোনো বাতি ছিল না, আমি কিছু শুনতে পারি নাই। এই হাউজে প্রস্তাব হইছে তাদের ব্যাপারেও। তাদের ব্যাপারেও শোকপ্রস্তাব হইছে, আমি একা হইলেও এটার প্রতিবাদ করতাম। কিন্তু যেহেতু আমার দল এটা করছে, আমি চুপ কইরা ছিলাম। কথাটা খুব ক্লিয়ার । কিন্তু এই সংসদ সম্পর্কে আজকে না হলেও কালকে, কালকে না হলে পরশু, না হলে ইতিহাসে ভুল বার্তা যাবে, যদি আমরা যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে শোক প্রস্তাব করি।’

জুলাই অভ্যুত্থানরে সময় পুলিশ হত্যার বিচারের পক্ষেও মত দিয়ে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার ছিলাম, ১৬ ডিসেম্বরের পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি কাউকে হত্যা করি নাই, সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৫ আগস্টের পরে এত থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, তখনতো পুলিশ যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরাপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার নেতা। ৫ আগস্টের পরে এত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো কোনো আইনে দায়মুক্তি হওয়ার কথা না। পাঁচ আগস্টের পরে পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।’

ফজলুর রহমানের এমন বক্তব্যের সময় সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্যকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বক্তব্যের শেষ দিকে এসে জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহান কাজ করেছেন। ৭৮ জনকে ২২২ জনের সমান সমান ভাগ দিয়ে কমিটি করেছেন। সিরাজউদৌলা ও মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদৌলাকে হত্যা করেছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিরোধীদলীয় নেতার জবাব

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছু বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি বলে থাকি আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। বলেই তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করছেন। দুই নম্বর উনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে? আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা গুরুতর অপরাধ করেছে। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন, এটা বাড়তি অপরাধ করেছে।’

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ এক্সপাঞ্জ বা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে ফাংশনাল করার জন্য বর্তমান জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সংকট যেটাই বলি, সেই ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম, কথা বলেছি, আলোচনা হয়েছে এবং পরের দিন এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সাথে সাথে এটা গ্রহণ করেছি। তিনি (ফজলুর রহমান) এইটাকে শেষ পর্যন্ত কনক্লুশন রাখলেন কী দিয়ে? যার মগজ যেরকম, তার কনক্লুশন সেরকম। তার মত একজন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে, রাজনীতিবিদের কাছ থেকে আমি এই ধরনের আচরণ আশা করি না।’

পরে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাঁকে ফ্লোর না দিয়ে বলেন, এখন আর তো না বললেও চলে। আমরা সংসদ উত্তপ্ত হোক এরকম চাই না।

স্পিকার আরো বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে যদি অসংসদীয় কোনো কিছু থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করা হবে। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যেও যদি অসংসদীয় কিছু থাকে, সেটিও এক্সপাঞ্জ করা হবে।

মেয়াদ (দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগ) শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টা দেশের মধ্যে ছয় মাস অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) থাকবেন। তাদের ছয় মাসের জন্য ভিভিআইপি ঘোষণা করে গত ২২ এপ্রিল থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’ এর ধারা ২(ক)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগ করার তারিখ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছয় মাসের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করলো।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি ঘোষণার প্রজ্ঞাপন বহাল থাকবে। পরবর্তীসময়ে যারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা হবেন তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাস মেয়াদ প্রযোজ্য হবে।

 

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।

জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির কাজ করা হয়েছে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের অংশ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ শুধু পাবনা নয়, দেশের অর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’ আলোচনা শেষে অতিথিরা স্বয়ংক্রিয় সুইচ টিপে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।

চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বসানো হলে তা থেকে তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে আর সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। পাবনার রূপপুরে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে জ্বালানি প্রবেশ করানো শুরু হলো আজ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটি চূড়ান্ত ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন শুরু হবে। আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং করার কাজ সুইচ টিপে উদ্বোধন করা হয়
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং করার কাজ সুইচ টিপে উদ্বোধন করা হয়
 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ২টি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ। আজ সেই শক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আকাশপথে রাশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছায় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান। এরপর আসে আরও কয়েকটি চালান। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে অক্টোবরে রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয় জ্বালানি। এরপর এটি মজুত করে রাখা হয়েছিল রূপপুরে।

টানা বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি সড়ক। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায়।

দুপুরের দিকে প্রবর্তক মোড়ের বড় অংশ ডুবে যায় কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। গতকাল সোমবার যেখানে হাঁটুপানি ছিল, আজ সেখানে পানি উঠে বুকসমান। ওই পানির ভেতর দিয়েই রিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় চালক মোহাম্মদ সাইফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, খালের সংস্কারকাজ চলার কারণে কয়েক দিন ধরেই এখানে পানি জমছিল। বৃষ্টি হওয়ায় সেই পানি আরও বেড়ে গেছে। এখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। তা সেচে বের করার চেষ্টায় দোকানি। আজ দুপুরে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজারে
দোকানে ঢুকে পড়েছে পানি। তা সেচে বের করার চেষ্টায় দোকানি। আজ দুপুরে নগরের রেয়াজুদ্দিন বাজারে
 

সরেজমিনে দেখা যায়, বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে আছে পানিতে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে আসছে। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি অংশ পার হতে সময় লাগছে দীর্ঘক্ষণ। অবশ্য এ সড়ক এড়িয়ে চলছেন যানবাহনের চালকেরা।

পথচারীদের দুর্ভোগ দেখা গেছে আরও বেশি। কেউ জুতা হাতে নিয়ে ও কাপড় গুটিয়ে নেমেছেন পানিতে। কেউ আবার সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ভারসাম্য রেখে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক হাসান বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই প্রবর্তকে পানি জমে যায়। আজ তো অবস্থা আরও খারাপ। অফিসে যেতে গিয়ে মনে হচ্ছে যুদ্ধ করছি।’

[caption id="attachment_272637" align="alignnone" width="852"] মুষলধারে বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু, কোথাও বুকসমান পানি জমেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে। আজ দুপুরে নগরের জুবিলী রোডের তিন পুলের মাথা এলাকায়[/caption]

একই চিত্র তুলে ধরলেন কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হাঁটা যাচ্ছে না। পানি এত নোংরা যে নামতেও ভয় লাগে। কিন্তু অন্য কোনো পথ নেই। বাধ্য হয়েই নামতে হচ্ছে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আজ বেলা দেড়টার দিকে নগরের তিন পুলের মাথা এলাকায়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। আজ বেলা দেড়টার দিকে নগরের তিন পুলের মাথা এলাকায়
 

নগরের আমতলের তিন রাস্তার মাথা এলাকায়ও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও নালা উপচে পানি সড়কে উঠেছে, আবার কোথাও পানি নামার পথ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার যেসব আসনে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সত্যতা পায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষক দল, এমনটা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজ্যাবস।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন নিয়ে ইইউর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে ইভার্স ইজ্যাবস বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ আছে। ভোট ঘিরে ৬টি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নীতি সমুন্নত রাখতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা) ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। 

পাশাপাশি এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত (পুনঃ ২ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে। 
 

এছাড়াও খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এবং এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ১ নম্বর) দেখাতে বলা হয়েছে।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে এই শব্দটি উচ্চারিত হতো। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু উগ্রপন্থি গ্রুপ এবং মৌলবাদী রাজনৈতিক দলও সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে এ ধরনের জঙ্গিবাদের প্রচলন নেই।

সম্প্রতি নিরাপত্তা এক চিঠি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে সবসময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে সাবধানতা অবলম্বন করা হয়। 
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) যেগুলো আছে, সেগুলো সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এসব স্থাপনায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এটা আগে যেমন ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

জাতীয় সংসদের দর্শক সারির গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের নামে। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে সেই সাত বীর সন্তানকে স্মরণীয় করে রাখতে এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। একইসঙ্গে সংসদে প্রবেশের মূল ফটকের নামকরণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে।

সংসদে প্রবেশের মূল ফটক

সংসদের গ্যালারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান পাঁচধারী দর্শনার্থীরা। অনুমতি সাপেক্ষে থাকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগও। তাই সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি শুধু দর্শকের বসার স্থান নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সাক্ষীও। এতদিন ফুল ও নদীর নামে ছিল গ্যালারিগুলো।

বীরশ্রেষ্ঠদের স্বজনরা জানান, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, আমরা এতে খুশি। অতীতের কোনো সরকার এমনভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের মূল্যায়ন করেনি।

সংসদ গ্যালারির প্রবেশ ফটক

নতুন নামকরণ অনুযায়ী ভিআইপি গ্যালারি-১ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, ভিআইপি গ্যালারি-২ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে করা হয়েছে। এই দুইটি গ্যালারি সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত। গ্যালারি-৩ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ, গ্যালারি-৪ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, গ্যালারি-৫ বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশিয়াল মোহাম্মদ রুহুল আমিন, গ্যালারি-৬ বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং গ্যালারি-৭ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মানিত করলে আমাদের কী অসুবিধা? আর জাতীয় সংসদ তাদের কারণে তৈরি, তাদের জন্য এই দেশের স্বাধীনতা। আমরা যে স্বাধীন হয়েছি, যাদের রক্তের ত্যাগের বিনিময়ে, সেই ত্যাগী মানুষগুলোকে আমরা এখানে নিয়ে আসি।’

তিনি আরও বলেন, চেতনা বিক্ষিপ্ত নয়, স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ার অংশ এটা। এটা সকলের জন্য প্রেরণা। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে তাদের জন্য প্রেরণা। যারা এই দেশের নাগরিক ছিলেন, যুদ্ধে যেতে পারেননি, তাদের জন্য প্রেরণা। এখানে কেউ চিরদিন থাকবে না, কিন্তু এই নাম থেকে যাবে এবং এই দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই স্মরণ করবে যে স্বাধীনতার মূল বীর সন্তান কারা।

/এসআইএন