যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার রাতে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিদ্যমান পাল্টা শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে আরও কমতে পারে বলে আশাবাদী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সচিবালয়ে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশি পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যে বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, তা কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কত কমানো যায়। আশা করছি ৯ তারিখে যে চুক্তি হবে, তাতে তা (শুল্কহার) কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এই মুহূর্তে আমি বলতে চাচ্ছি না বা পারছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে তা দেখব।’

চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সাপেক্ষে এটি প্রকাশও করা হবে।

শুরুতে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন না বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলো জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কাছাকাছি হওয়ায় তাঁরা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তবে উপদেষ্টা ও সচিব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকবেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল গতকাল ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিতে স্বাক্ষর থাকবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ারের। ঢাকায় এ চুক্তির এক পাশে বাণিজ্য উপদেষ্টা সই করেছেন। তাঁর সই করা কপিটি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার ২০ শতাংশে নেমে আসে। এ হার কার্যকর হয় গত বছরের ৭ আগস্ট। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক। সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। দেশটি থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি— পাঁচ দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এই মনোনয়ন প্রদান করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠিয়েছে।

মনোনয়ন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের জন্য এই জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনি অপরাধের বিচারিক দায়িত্বে থাকবেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

মনোনীত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

এর আগে, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

 

ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে  তিনি  এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

ওই পোস্টে মান্না লিখেছেন, তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন। ঢাকা–১৮ আসনে নির্বাচন করা ব্যয়বহুল। এই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয় বলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট
মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখান থেকেই তিনি এই পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৮ এবং বগুড়া–২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

মান্না আরও লেখেন, ‘ঢাকা–১৮ একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকা। এর অন্তর্গত সাড়ে সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মতো ভোটার এখানে। নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা–১৮–এর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এর আগে বগুড়া-২ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মান্নার প্রার্থিতা বাতিল হয়।  পরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তিনি তা ফিরে পান। অন্যদিকে ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র শুরু থেকেই বৈধ ছিল। রাজধানীর খিলক্ষেত, কুড়িল, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও তুরাগ এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৮ আসন।

ঢাকা–১৮ আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে। তিনি হলেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম প্রার্থী।

বগুড়া–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। প্রথমে এই আসনটি মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে পরে সেখানে বিএনপি নিজেদের দলের প্রার্থী দেয়।

ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তাঁর সংসদে যাওয়া হয়নি।

৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৪৪ জন নতুন কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার পদে পদায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারদের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) গত ৩০ নভেম্বরের সুপারিশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত নিয়োগের প্রেক্ষিতে এই ২৪৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হলো। বর্তমানে তাদের পদবি হবে শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কাজ শেখার পাশাপাশি তাদের ওপর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখা থেকে জানানো হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনাররা পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাদের পদায়ন নিশ্চিত করবেন। এর মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের জনবল সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দেশ ও জনগণকে নিয়ে বিএনপির নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বললেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বিএনপির লক্ষ্য দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া, দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

তাই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক দলকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘চোখটা বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য চিন্তা করে দেখুন, এই মুহূর্তে যতগুলো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল শিক্ষাসংক্রান্ত, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে, কৃষক ভাইদের সহযোগিতার ব্যাপারে, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে, কোনো ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা দিতে তারা সক্ষম হয়েছে কি না?’

বিএনপি ছাড়া সঠিক পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা আর কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, ‘কারণ একটাই, এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র দল, একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করার। যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশকে কীভাবে সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। যাদের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। ওই এলাকায় (ঢাকা-১৩ আসন) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে চান বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতি, এমন একটি দেশ তৈরি করতে চান, যেখানে মা-বোনেরা সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাতে, যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। তরুণ যুবকেরা, বয়স্করা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি যাই করুক নিরাপদে, নিশ্চিন্তে করতে পারবেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে মানুষ রাতে নিজ নিজ ঘরে নিরাপদে ঘুমাতে পারবেন। আর সেই লক্ষ্যে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন।’

ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কাজে যে যত বড় শক্তিশালী হোক, ওই ব্যক্তি কোনো খাল বন্ধ করে মানুষের সমস্যা করলে, খাল বন্ধের কারণে জলাবদ্ধতা হলে ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে খালটি পুনরুদ্ধার করা হবে।

ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ জন্যই বিএনপি বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য হাতে নিয়েছে।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে, কর্মসূচি সফল করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বানও জানান তিনি।

মালয়েশিয়া থেকে কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ড উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি মাছ ধরার নৌযান ও থাই নেভির একটি দল নাবিকদের উদ্ধার করে। থাইল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ফুকেট নিউজ আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডের অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার। এতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ২৯৭ একক কনটেইনার পণ্য ছিল। এর মধ্যে ১৪টি কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। রওনা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।

কনটেইনারসহ ডুবে যাচ্ছে জাহাজটি
কনটেইনারসহ ডুবে যাচ্ছে জাহাজটি, ছবি: ফুকেট নিউজ
 

জাহাজটির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেন বলেন, ফুকেট উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নাবিকদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য দেশের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিত রয়েছেন।

কেবল আলোচনা নয় নারীদের জন্য প্রকৃত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে উইমেন ইন ডেমোক্রেসির উদ্যোগে ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী : অবদান, দায় ও দায়িত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, আমরা অন্য রকম একটা দেশ গড়তে চাই। এ জন্য মানুষের চিন্তা জগতে পরিবর্তন আনতে হবে। 

পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে হবে। অন্যথায় সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে। আর নারীদের প্রতি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে আরও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাদের সেই সুবিধা দিলে নারীরা যে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারছে না; এটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, কারও যদি রাজআবার বড় হবে? আমরা দেখি পুরুষদের জন্য অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা নীতি আর নাগরিক দায়িত্ব না থাকে, তাহলে সে কীভাবে বুঝবে যে- এইভাবে বা এই পথে যাওয়া উচিত। তাল গাছের ছায়ার মতো যদি কেউ একজন না থাকে, তাহলে কীভাবে ছোট গাছটা থাকে, কিন্তু নারীদের ওইভাবে দেওয়া হয় না। সবকিছু ছেলেরা করবে এমন নয়, নারীদের জন্যও সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে।

নৌবাহিনীর জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি জরিপ জাহাজ কিনতে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার যুক্তরাজ্য হাইকমিশন আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরিপ জাহাজ বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করছে।

যুক্তরাজ্য হাইকমিশন জানিয়েছে, ইকো-ক্লাস হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’-এর জন্য জিটুজি বিক্রয় চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও যুক্তরাজ্য। চুক্তি সই অনুষ্ঠানটি ঢাকায় নৌ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও দেশটির রাজকীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জরিপ কার্যক্রম, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেবার জন্য পরিচিত এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ জাহাজটি এখন বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। জাহাজটি হাইড্রোগ্রাফিক, ওশানোগ্রাফিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবদান রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য গবেষণার সুযোগ দেবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পক্ষে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে কমান্ডার লি নর্টন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ন্যানিস কালোবুলাওয়াসাইকাবারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং সহকারী নৌবাহিনীপ্রধান (লজিস্টিকস) রিয়ার অ্যাডমিরাল জাহাঙ্গীর আদিল সামদানী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্য থেকে নৌবাহিনীর জন্য জরিপ জাহাজ কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের কর্মকর্তারা
যুক্তরাজ্য থেকে নৌবাহিনীর জন্য জরিপ জাহাজ কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের কর্মকর্তারা, ছবি: ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ
 

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ রাজকীয় নৌবাহিনীকে সম্মানের সঙ্গে সেবা প্রদান করেছে। এই জরিপ জাহাজের বিক্রয় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর আস্থা ও দৃঢ় সহযোগিতার প্রতিফলন। এতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতির একটি নতুন সূচনা হয়েছে। এইচএমএস এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় সমুদ্র নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল, মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত প্রশান্ত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে অবদান রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত অংশীদারত্বের প্রতিফলন।

সামাজিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের শাপলা প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণ তিনি এ অঙ্গীকার করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ। যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও পূর্বেকার দুর্নীতিগ্রস্ত বেইনসাফের বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।

এনসিপি নেতা বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট— ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

এনসিপির আহ্বায়ক পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতজানু অবস্থান পরিহার করে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি গ্রহণের কথা বলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিচার বিভাগ সংস্কার, শাসন ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা, নারীর সমঅধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও নাহিদ ইসলাম তার ভাষণে বলেন।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেট ভাঙা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ছিল তার ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জননিরাপত্তার গণসংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

আজ রোববার আইন মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী রাজনৈতিক দলগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির ৩৯টি সভার মাধ্যমে আবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য সরকার ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছিল।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

ব্যাখায় বলা হয়, টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নির্বাচনসূচি ঘোষণা হওয়ার ৩৬ দিনের মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে, এই সংখ্যাটি সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক প্রোফাইল বা কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড, যাকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয়। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল বিশেষভাবে নির্মম, যেন একটি তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে চুপ করানো এবং সংবেদনশীল রাজনৈতিক মুহূর্তে ভয় সৃষ্টি করা যায়। তবে, সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দেশের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হিংসার দিকে গড়ায়নি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়নি।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, টিআইবির প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপটের অভাব লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের ‘নকল’ নির্বাচনে ছয়জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচনে ২২ জন প্রাণ হারান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জনের মৃত্যু ঘটে। এই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রাক-নির্বাচনি সময়ে নিরাপত্তার চরম অবনতি হয়েছে— এমনটা বলা কঠিন।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, টিআইবির সংখ্যা ও সরকারি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য কোনো তথ্য গোপন করার কারণে নয়। পার্থক্যটি হত্যাকাণ্ডকে গণনার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে। টিআইবি যেকোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নিহত ব্যক্তিকে ভোটকালীন হত্যার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও প্রমাণ নেই যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশে সংঘটিত। সরকারের হিসাব শুধু সেই মৃত্যুকে গণ্য করছে যার সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।

সরকারি দপ্তর স্বীকার করছে, সাধারণ নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবিত পুলিশিং ও নানা শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সরানো বা বরখাস্ত, বিশেষ ইউনিটের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা, জোরপূর্বক নিখোঁজ ও নির্যাতনের মামলায় আইনগত পদক্ষেপ, এবং সমাবেশ ও নির্বাচনি সময়কালের জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ওসমান হাদির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার শেষকৃত্য, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন- এগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে, এখন পুলিশি সংযম ও পেশাদারত্ব সম্ভব।

অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করছে, কেউ চেষ্টা করলেও সম্পূর্ণ হিংসা রোধ করা সম্ভব নয়। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের সঙ্গে তুলনীয় নয়। নিরাপত্তা বাহিনী নজরদারিতে রয়েছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সহযোগিতা করছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রয়েছেন। এই শর্তগুলোকে বিবেচনা করলে বিশ্বাসযোগ্য কারণ আছে যে, এই নির্বাচনে পূর্ববর্তী ভয় ও হিংসার চক্র শেষ করতে সক্ষম হবে সরকার।