মে মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমান দর অপরিবর্তিত রেখেই মে মাসে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিন বিক্রি হবে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ১৮ এপ্রিলের ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য লিটার প্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে উক্ত মূল্যহার মে মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো অর্থাৎ, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার আগামী ১ মে থেকেও বলবৎ থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ বিবেচনায় নিয়ে ওই মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং তা মে মাসেও অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই প্রতি মাসে মূল্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে।

 

চলতি মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০০ কোটি ২০ লাখ বা ৩ দশমিক ০০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৯২১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে এর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।

এদিকে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন এলে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয় তারা।

সেই সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত হবে ১:৮।

১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, আর ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলে তা কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় এই অনুপাত আরও কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ মোট দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন স্কেলে একই গ্রেডে মূল বেতন ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকেন এবং এসব ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা (৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব) এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।

এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

ডিজেল

  • মে মাসের চাহিদা ৩ লাখ ৭০ হাজার টন।

  • দেশে আছে ২ লাখ ৮৯ হাজার টন।

  • মে মাসে আসবে ৩ লাখ ২৯ হাজার টন।

অকটেন

  • মে মাসের চাহিদা ৩৭ হাজার টন।

  • মজুত আছে ৪২ হাজার ৯৩৩ টন।

  • স্থানীয় উৎস থেকে আসবে ২৪ হাজার টন।

  • আমদানি করা হবে ২৬ হাজার টন।

ঢাকা

ঢাকা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে মোকাররম হোসেন চৌধুরীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

মোকাররম হোসেন চৌধুরী এর আগে ঢাকা ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিআরএম বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রয়েছে ৩৪ বছরের বেশি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা।

মোকাররম হোসেন চৌধুরী ১৯৯২ সালে আরব বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময় দেশি–বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে কাজ করে ট্রেড ফাইন্যান্স, ক্রেডিট অপারেশনস ও শাখা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করেন।

২০০১ সালের ২৫ মার্চ মোকাররম হোসেন ঢাকা ব্যাংকে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ট্রেড ফাইন্যান্সপ্রধান, আরএমজি ডিভিশনপ্রধান, ক্রেডিটপ্রধান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন।

মোকাররম হোসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফাইন্যান্সে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা বেড়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেন। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারের দাম ১৯৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলেও পাম তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকাল মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে ১ লিটার খোলা পাম তেল ১৬১ থেকে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার খোলা সুপার পাম তেল ১৬৫ থেকে ১৭২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানামালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এ বিষয়ে ১২ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছিল। সেদিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভোজ্যতেল সংবেদনশীল পণ্য। আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।’

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে দেশীয় পরিশোধন কারখানামালিকেরা বেশ কিছুদিন ধরে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে। বিটিটিসি কিছুটা দরবৃদ্ধির পক্ষে যৌক্তিকতা আছে বলে মত দেয়।

তবে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ৮ এপ্রিল ‘ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে’ মানববন্ধন করে। ক্যাবের নেতারা তখন বলেন, দেশের বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহসংকট চলছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের (এমআরপি) চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কোথাও কোথাও। বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের মধ্যে বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দামও।

মানববন্ধন থেকে ছয়টি দাবি তুলে ধরে ক্যাব। এগুলো হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি এবং অভিযান পরিচালনা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা এবং ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গতকাল ১ লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকা। আর ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকা। বাজারে যে দামে খোলা সয়াবিন তেল বেচাকেনা হচ্ছে, আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তার দাম কম।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মোট ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারই ‘নন-কনসেশনাল’ (অনমনীয়); অর্থাৎ কঠিন শর্তের ঋণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থের মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাখা হবে বাজেট সহায়তা হিসেবে, যা জরুরি আর্থিক চাপ মোকাবেলায় ব্যবহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় তুলনামূলক কঠিন শর্তের এসব ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় উপস্থিত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাজেট সহায়তা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে—এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ঋণে সুদের হার বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং পরিশোধের সময়সীমা তুলনামূলক দ্রুত—যা কনসেশনাল ঋণের চেয়ে কঠিন।

জানা গেছে, ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, সাবপ্রোগ্রাম-২’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি। এর মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কনসেশনাল ঋণ। আর বাকি ৪৫০ মিলিয়ন ডলার তাদের অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) থেকে দেওয়া হবে, যা অত্যন্ত অনমনীয় হিসেবে বিবেচিত। 

সেইসঙ্গে এডিবির সঙ্গে সহ-অর্থায়নকারী হিসেবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে এআইআইবি। এটিকে অত্যন্ত কঠিন ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া, তাৎক্ষণিক রাজস্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাইকার কাছ থেকে আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সুপারিশ অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ব্যবহার করা হবে এই অর্থ।

সেইসঙ্গে ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫.৩ মিলিয়ন ইউরো) ঋণ নিচ্ছে সরকার। 

বাজেট সহায়তার বাইরে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক বিনিয়োগ (ট্রাঞ্চ-২) প্রকল্পের জন্য এডিবির ৩০০ মিলিয়ন ডলারের পৃথক ঋণও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২১০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। সেখানে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেনও থাকবে। এর লক্ষ্য হলো ঢাকা-সিলেট রুটকে এশিয়ান হাইওয়ে, সাসেক এবং বিমসটেক করিডোরসহ আঞ্চলিক পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।

অবশ্য ব্যয়বহুল বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বেশ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে কনসেশনাল ঋণ পাওয়া সম্ভব নয় বা বাস্তবসম্মত নয়, সেখানেই অনমনীয় ঋণ অনুমোদন করা হবে। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি পাওয়া ঋণগ্রহীতাদের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দেখাতে হবে।

এছাড়া, অতিরিক্ত শর্তযুক্ত বা বাধ্যতামূলক ডাউন পেমেন্টযুক্ত ঋণ নিরুৎসাহিত করা হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক ঋণ পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা সরকারি রাজস্বের ১৫ শতাংশ—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তার নিচে রাখতে হবে। একইসঙ্গে মোট অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০ শতাংশের নিচে রাখতে হবে।

 

  • দেশের ৭৪টি মেডিকেল কলেজ, জেলা, বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মোট ১ হাজার ৩৭২টি।
  • শিশুদের পিআইসিইউ শয্যার হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা

ঢাকা

চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনেই দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এই সময়ের মধ্যে মোট ২৪১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। 

বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। গত বছর একই সময়ে দেশে এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই হিসাব অনুযায়ী গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। 

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ কেবল মার্চ মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং পুরো অর্থবছরজুড়েই একটি স্থিতিশীল অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাসগুলোর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় এসেছে। আগস্ট ও জুলাই মাসেও যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বর্তমান অর্থবছরেও সেই রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূলত বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সহজলভ্যতার কারণেই এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ঢাকা

রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি মাস এপ্রিলেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন (২১২ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা বেশি এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল চলতি বছরের মার্চে। ওই সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছিল। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।