সদ্য বিদায়ী মে মাসেও দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক মে মাসের প্রবাসী আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ গত মাসে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ও মার্চে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ও গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। ফলে গত ডিসেম্বর থেকে টানা ছয় মাস ধরে তিন বিলিয়ন বা তিন শ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এরপরই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা মার্চ ও এপ্রিল মাসে বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে মে মাসেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে মোট ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশের বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

কোন ব্যাংকে কত প্রবাসী আয়

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। মে মাসে প্রবাসীরা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৩৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। মে মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। আর বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে, প্রায় ৪১ কোটি ডলার।

এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে গত মাসে প্রায় ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে, প্রায় সোয়া ২৪ কোটি ডলার। আর বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৭ কোটি ডলার। সার্বিকভাবে প্রবাসী আয় আসার দিক থেকে কৃষি ব্যাংক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭৭ কোটি বা ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বা বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১১ কোটি বা ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয় এবং এরই অংশ হিসেবেই সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা জানান।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়। তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় হয়নি, কারণ এপ্রিলেই একটি সমন্বয় করা হয়েছিল। এছাড়া, একান্ত উপায়হীন হলেই সরকার এ ধরনের অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় অংশ ডিজেল, যার পেছনে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। এরপরও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কম রাখতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে আমরাও দ্রুত সমন্বয় করার চেষ্টা করবো। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হবে।

বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। সরকার কমিশনের স্বাধীন ক্ষমতা পুনর্বহাল করেছে এবং বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো হবে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে পারব।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদের ছুটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিলো। তাই লোডশেডিংয়ের কারণ নেই। তবে ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগের কারণে সঞ্চালন লাইনের সমস্যায় কিছু জায়গায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

ঈদুল আজহার পরপরই দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য আসছে বাড়তি খরচের চাপ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই বিদ্যুতের নতুন খুচরা মূল্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গড়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে এবং নতুন এই ট্যারিফ জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ‘লাইফ লাইন’ ক্যাটাগরিতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বর্তমান সুবিধা বহাল রাখবেন।

বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটির আগেই মূল্য সমন্বয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। জুন মাস থেকেই নতুন মূল্যহার কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা শর্তের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী বিইআরসির মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। কমিশন শেষ পর্যন্ত এই সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে।

বিইআরসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধি ১ টাকার কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি জানান, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হারে দাম বাড়ানো হবে। এরপর ২০০ থেকে ৪০০ ইউনিট এবং ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়বে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্ববাজারে দাম অনেক বেড়ে গেলে দেশেও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার।

আজ রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। আজ রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এক লাফে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। যদিও সমালোচনার মুখে একই মাসে ৫ টাকা কমানো হয়েছিল দাম। আর গত এপ্রিলে দাম বৃদ্ধির পর দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় জ্বালানি তেল। এখন পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম আরও বাড়ল।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসেবে আগের মাসে আমাদনি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে সরকার। তবে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে। দেশেও তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন বাড়তে থাকে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার একদিন পর গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায় উল্লেখ করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘আমরা চাই না দেশ থেকে একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় কোরবানির কাঁচা চামড়া কেনা–বেচা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়াশিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। জুলাইয়ের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিসক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া এসেছে। লবণ মাখানোর কার্যক্রমও চলছে। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পশুর চামড়া ছাড়ানোর প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর করার পরিকল্পনা করছি।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপির পরিশোধনসক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার ঘনমিটারে সীমাবদ্ধ থাকছে। সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

এ সময় শিল্পসচিব ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্যসচিব (রুটিন দায়িত্ব) আবদুর রহিম খান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) মহাপরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের গাড়ি ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত বাজার হারাচ্ছে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে। শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) নয়, ব্যাটারি, সফটওয়্যার, নকশা ও উৎপাদন প্রযুক্তিতেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রদর্শনী ‘অটো চায়না ২০২৬’ উপলক্ষে বেইজিং ও হেফেইয়ের বিভিন্ন কারখানা ঘুরে বিবিসি দেখেছে, চীনের গাড়ি শিল্পে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার উন্নয়নের গতি বিদেশি কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক এগিয়ে।

জাপানি গণমাধ্যমকে হোন্ডার প্রধান নির্বাহী তোশিহিরো মিবে বলেন, সাংহাইয়ের অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় কারখানা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, ‘এদের সঙ্গে আমাদের কোনো সুযোগই নেই।’

ফোর্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ফার্লেও সতর্ক করে বলেছেন, চীনা কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সম্প্রসারণের কারণে পশ্চিমা গাড়ি নির্মাতারা এখন ‘টিকে থাকার লড়াইয়ে’ নেমেছে।

দশকের পর দশক ধরে বিদেশি কোম্পানিগুলো চীনা অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গাড়ি তৈরি করলেও এখন সেই সম্পর্কের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তারা।

সাংহাইভিত্তিক গাড়ি বিশ্লেষক বিল রুসো বলেন, উন্নত বিশ্ব সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করছে, তা হলো—তারা ভাবছে এই পরিবর্তন কেবল বৈদ্যুতিক গাড়িকে ঘিরে। অথচ আসল লড়াই হচ্ছে ভবিষ্যতের ‘মোবিলিটি প্রযুক্তি’ কে নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়ে।

‘চাকার ওপর স্মার্টফোন’
চীনের আধিপত্য শুধু গাড়ি উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটি এখন ৩১৫টির বেশি পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬৩। এর অনেকগুলোই বৈদ্যুতিক গাড়ির সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত—যেমন ব্যাটারি, যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন সরঞ্জাম।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাবে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় চীনে ছোট আকারের বৈদ্যুতিক এসইউভি উৎপাদনে অন্তত ৩০ শতাংশ কম খরচ হয়। এর বড় কারণ কম ব্যাটারি খরচ ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা।

এই সুবিধা তৈরি হয়েছে বছরের পর বছর সরকারি সহায়তার মাধ্যমে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রোডিয়াম গ্রুপের হিসাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ব্যাটারি খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, এসব ভর্তুকি বাজারে ভারসাম্য নষ্ট করছে। তবে এই সহায়তাই চীনা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে ও দাম কমাতে সহায়তা করেছে।

চীনের ভেতরের তীব্র প্রতিযোগিতাও উদ্ভাবনের গতি বাড়িয়েছে। শাওমি, হুয়াওয়ে ও আলিবাবার মতো প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এখন গাড়ি তৈরি করছে। ফলে ভোক্তা প্রযুক্তি ও গাড়িশিল্পের মধ্যে দূরত্ব কমে এসেছে।

বিল রুসোর ভাষায়, ‘তারা এখন আর পশ্চিমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে না, নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা করছে।’

গাড়ি এখন ক্রমেই সফটওয়্যারনির্ভর হয়ে উঠছে—ড্রাইভার সহায়ক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বিনোদনব্যবস্থা পর্যন্ত। এই পরিবর্তন চীনা কোম্পানিগুলোকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে।

বেইজিংয়ের বাইরে শাওমির ইভি কারখানায় প্রায় প্রতি ৭৬ সেকেন্ডে একটি গাড়ি উৎপাদন লাইন থেকে বের হচ্ছে।

মাত্র ২০২৪ সালে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনার পরই শাওমি চীনের শীর্ষ বিক্রিত ব্র্যান্ডগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তাদের লক্ষ্য হলো গাড়ি, স্মার্টফোন, অ্যাপ ও স্মার্ট হোম ডিভাইসকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনা।

হেফেইতে নিওর কারখানার বড় অংশ প্রায় পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়।

অন্যদিকে বিওয়াইডি এমন দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে মাত্র ৫ মিনিটে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার চলার মতো চার্জ দেওয়া যায়, যা কি না গাড়ির পুরো ট্যাংকে পেট্রোল ভরার সময়ের কাছাকাছি।

এক্সপেংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হে শিয়াওপেং বিবিসিকে বলেন, কোম্পানিটি বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি মানবসদৃশ রোবট ও উড়ন্ত গাড়ি নিয়েও কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আগামী এক দশকে প্রতিটি গাড়ি কোম্পানিকেই রোবোটিকস কোম্পানিতে পরিণত হতে হবে।’

ভাবছে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো
বিদেশি গাড়ি নির্মাতারা এখন বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের জন্যও চীনের ওপর নির্ভরশীল। টেসলা সাংহাইয়ে তৈরি মডেল-৩ ইউরোপে রপ্তানি করছে। একইভাবে বিএমডব্লিউর চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক মিনি গাড়িও বিদেশে বিক্রি হচ্ছে। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থা দুর্বল হচ্ছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অটোমোবিলিটির তথ্য অনুযায়ী, চীনের গাড়ির বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের অংশীদারত্ব ২০২০ সালের ৬৪ শতাংশ থেকে চলতি বছর নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে। এর প্রভাব পড়েছে জেনারেল মোটরস (জিএম) ও জার্মান গাড়ি নির্মাতাদের আয়ে, যারা দীর্ঘদিন চীনের বাজার থেকে বড় মুনাফা করত।

বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও চাপ বাড়ছে। হুয়াওয়ের মেক্সট্রো এস ৮০০ সেডান এখন চীনে এক লাখ ডলারের বেশি দামের গাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এটি পোরশে পানামেরা ও বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজের সম্মিলিত বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন বিদেশি কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ড সরবরাহ করত, আর চীনা অংশীদারেরা দিত কারখানা ও বাজার। এখন সেই সমীকরণ বদলে গেছে।

স্টেলান্টিস সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডংফেংয়ের সঙ্গে ১০০ কোটি ইউরোর একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় চীনে পিউজো ও জিপ ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া স্টেলান্টিস ইউরোপে ডংফেংয়ের বৈদ্যুতিক ব্র্যান্ড ভয়াহ নিয়ে আসছে। এমনকি ফ্রান্সে চীনা নকশার গাড়ি উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।

ফক্সওয়াগেনও এক্সপেংয়ের সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে নিজস্বভাবে এই প্রযুক্তি যথেষ্ট দ্রুত উন্নয়ন করতে পারেনি।

এক্সপেং প্রধান হে শিয়াওপেং বলেন, ‘আমরা একে অন্যের কাছ থেকে শিখি, তাই একে অন্যকে বিশ্বাস করি। সহযোগিতা করি।’

টয়োটা, হুন্দাই, ফোর্ড ও নিসানও চীনে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াচ্ছে অথবা বিদেশি কারখানায় চীনা নকশার গাড়ি তৈরির সম্ভাবনা খুঁজছে। তবে সব কৌশল সফল হচ্ছে না।

চীনের বাজারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা অডির ই৫ মডেলের বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে।

জিএমও চীনে তাদের কার্যক্রমে কয়েক শ কোটি ডলারের সম্পদমূল্য কমিয়ে দেখিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের বিক্রি ২১ শতাংশের বেশি কমেছে।
জাপানি কোম্পানিগুলো তুলনামূলক ধীর গতিতে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকেছে। ফলে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে তারা চাপে পড়েছে, যেখানে চীনা ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

২০২৬ সালের শুরুতে ফক্সওয়াগেন সাময়িকভাবে আবার চীনের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত গাড়ি ব্র্যান্ডের অবস্থানে ফিরেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ ছিল চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়।

বিশ্বজুড়ে বিস্তার
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এখন প্রবৃদ্ধি কমছে। অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা ও তীব্র মূল্য যুদ্ধের কারণে শিল্পটির মুনাফা চাপে পড়েছে।

এ কারণেই চীনা কোম্পানিগুলো বিদেশি বাজারে আরও আগ্রাসী হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরও বিওয়াইডি, চেরি ও এসএআইসির মতো প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও উদীয়মান বাজারে দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে।

চেরির জাইকু ৭ মডেল বাজারে আসার মাত্র ১৪ মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত নতুন গাড়িগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তবে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার কার্যত চীনা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, গাড়ি উৎপাদন, ব্যাটারি প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার উন্নয়ন যদি ক্রমেই চীনের দিকে সরে যায়, তাহলে ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদনকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে চাকরি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে।

পরামর্শক জেমস পিয়ারসনের ভাষায়, ‘একটি বাজার থেকে তাদের ঠেকিয়ে রাখলেও তারা অন্য বাজার খুঁজে নেবে।’

বিশ্লেষক বিল রুসো মনে করেন, গাড়িশিল্পের কেন্দ্র ইতিমধ্যেই চীনের দিকে সরে গেছে। তাঁর মতে, যারা সহযোগিতায় আগ্রহী, তাদের সামনে এখনো সুযোগ আছে। কিন্তু যারা শুধু চীনের উত্থান ঠেকানোর চেষ্টা করবে, তারা পিছিয়ে পড়বে।

বিবিসি

কোরবানি ঈদের আগে চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পরের ৪ দিনে সেটি আরও বাড়বে। যদিও সেই হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে ২৯৭ কোটি ৬১ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ৩৬ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার সমান। গত এপ্রিলে ৩১৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। তার আগের মাসে এসেছিল রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়। ওই মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতর ছিল।

দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক সবার শীর্ষে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনে ৫৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এনেছে ইসলামী ব্যাংক। এই সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এনেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ৩৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৬ কোটি ২৮ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এনেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ২১ কোটি ডলার এবং পূবালী ব্যাংক ১৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এনেছে।

গত ডিসেম্বর থেকে প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন বা তার বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসছে। ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ ও ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। গত অর্থবছর ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেই হবে না, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের কাট্টলী দারুচ্ছালাম জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় নিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষকে পেতে হবে।

এবারের কোরবানির ঈদে বাজার পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো ও সহনীয় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণত কোরবানির ঈদে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এবার উল্টো কমেছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।’

জনগণের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিকে সঠিক জায়গায় নিতে আমাদের একটু সময় দিন। আমরা নির্বাচিত সরকার। জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ। আমরা একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

প্রথমবারের মতো শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল। তাই চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতির মুখে পড়ছে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, যা যেকোনো সময়ের বিবেচনায় এ যাবৎকালের রেকর্ড ঘাটতি।

কয়েক বছর ধরেই অর্থনীতি চাপের মুখে আছে। ব্যবসা–বাণিজ্যে শ্লথগতি। ফলে রাজস্ব আদায়ের গতিও ভালো নয়। এমন অবস্থায় সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল দিচ্ছে, যা উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ নিতে পারবেন, বাকি ৬ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি দেবে।

এমন প্রেক্ষাপটে এনবিআর রেকর্ড ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোই নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এনবিআরের শুল্ক-কর আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল।

সংশোধিত বাজেট অনুসারে, চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এর মানে হলো লক্ষ্য অর্জনে চলতি মে ও জুন মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। প্রতি মাসে আদায় করতে হবে গড়ে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

কোন খাতে কত আদায়

জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর—এই তিন খাতের মধ্যে কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। গত জুলাই-এপ্রিলে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এরপর ভ্যাটে ঘাটতি ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। আর শুল্ক আদায়ে ঘাটতি ২৫ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ বছর নির্বাচন হয়েছে। নতুন সরকার এসেছে। একধরনের রাজনৈতিক উত্তরণ হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনীতি চাপে থাকায় ব্যবসা–বাণিজ্য শ্লথ হয়েছে। এসব কারণে শুল্ক-কর আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি হলে কী হয়

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হলে প্রথমেই সরকারের খরচে টান পড়ে। প্রতিবছর বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জোগান দেয় এনবিআর। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, দেশি–বিদেশি ঋণের সুদ খরচসহ পরিচালক খরচ হিসেবে বাজেটে বরাদ্দ থাকে। এসব খরচ করতেই হবে। সেখানে কমানোর সুযোগ নেই বললেই চলে। কিন্তু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। যেমন চলতি অর্থবছরের দুই লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে।

যখনই অর্থের জোগানে টান পড়ে, তখন পরিচালন খরচ কমানোর সুযোগ থাকে না। এ সময় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ কমায়। এ ছাড়া প্রকল্পের টাকা খরচ করার সক্ষমতাও কম। এডিপির টাকা কমানোই সরকারের হাতে সবচেয়ে ভালো বিকল্প হয়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বেশ কম। বর্তমানে তা ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।

সংস্কার জরুরি

পুরোনো রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে এত বিশাল লক্ষ্য অর্জন কঠিন। এ জন্য সংস্কার প্রয়োজন—এ কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেনি বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এখন নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্ব একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, করজালের বাইরে থাকা করযোগ্য মানুষকে করের আওতায় আনা, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া—এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে।

এবারের ঈদের ছুটিতে কিছু এটিএম বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার থেকে টানা সাত দিনের বন্ধে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।

কোরবানির পশু কেনা ও অন্যান্য খরচের কারণে কোরবানির ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এই সময় এটিএমের ভোগান্তিতে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

দুটি কারণে এটিএমে টাকার সংকট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাচ্‌–বাংলা, দি সিটি, ব্র্যাক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ঈদের ছুটিতে দৈনিক চাহিদা মেটাতে যে পরিমাণ টাকা চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক তার পুরোটা দেয়নি। এ ছাড়া এবার নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর করা নোট দেওয়া হয়েছে। এসব নোট মেশিনগুলোর কাছে অপরিচিত, তাই অনেক সময় মেশিনে টাকা আটকে যাচ্ছে।

এদিকে একটি ব্যাংকের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, সাধারণত নতুন নোটের সঙ্গে এটিএম যন্ত্র পরিচিত করাতে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়, কিন্তু এবার একদিনও সময় পাওয়া যায়নি। আগের নকশার ওপর শুধু নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, সমস্যা হবে না। তবে গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তনের কারণে যন্ত্রগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। ঈদের পর এটা ঠিক হয়ে যাবে।

জানা যায়, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোয় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। গতকাল সিআরএম যন্ত্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা হয়। বাকি টাকার একটা অংশ তারা নিজেরা সংস্থান করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাহিদামতো টাকা চেয়েও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, সব ব্যাংকেই একই অবস্থা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের বন্ধে এটিএম বুথসহ অনলাইন মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর সব এটিএম বুথে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েই চলছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১০ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
 
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

নগদ লভ্যাংশের ‘নতুন শর্তে’ চাপে অধিকাংশ ব্যাংক, পুঁজিবাজারে প্রভাবের শঙ্কা

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতেই বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ আরও বেড়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই–এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণ শোধের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার।

আজ রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই–এপ্রিলের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ১০ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।

কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) বিদেশি ঋণের আসল ২৪৭ কোটি ডলার ও সুদ ১৩৩ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৮৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে ও ৩৯ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪২৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। গত এপ্রিলে বিদেশি ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

কারা কত দিল

গত ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। দেশটি দিয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭১ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪২ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও ঋণ নিচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।