ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।

আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

একই আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ জহির হোসেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। এর পর থেকে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়।

এ ছাড়া রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গ্রাহকদের ‘যৌক্তিক’ আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেড়ে যায়। এতে ব্যাংকটি টাকার সংকটে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায়। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক আড়াই হাজার কোটি টাকা ধার দেয় ইসলামী ব্যাংককে।

এদিকে, আজ বিকেল চারটার দিকে ব্যাংকটির এমডি, দুই অতিরিক্ত এমডি ও ছয়জন ডিএমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। তাঁরা গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ‘ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা গভর্নরকে ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি অবহিত করেন।’

বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) আলতাফ হোসেন বলেছেন, ব্যাংকটির গ্রাহকদের টাকা তোলার সমস্যা দ্রুতই কেটে যাবে। ব্যাংকের লেনদেন পরিস্থিতি ও তারল্যসংকট কাটিয়ে উঠতে তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের বর্তমান লেনদেনের অবস্থা, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং আগামী দিনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে ব্যাংকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নগদ জমা ও উত্তোলনের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় সমান অবস্থানে আছে।

ওই বৈঠকের পর রাতে ব্যাংকটির পুরো পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আপাতত তাঁর নেতৃত্বে চলবে ব্যাংকটি।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসব কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান কাজ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জেলার শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা সহজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এখানে এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধান, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে কৃষিভিত্তিক শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় থাকায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিজি প্রেস বই প্রকাশের কাজ করছে। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠির মাধ্যমে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস।

 

এবারের বাজেটে তৈরি পোশাকশিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল—করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি সহজীকরণ করা। এই দুই জায়গাতেই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপগুলো সন্তোষজনক। এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। 

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলা হয়। 

সংগঠনটি বলছে, বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে করসুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল উৎসে কেটে নেওয়া অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। কারণ, উৎসে অগ্রিম কর কেটে নেওয়ার পর সময়মতো সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়।   

বিকেএমইএর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, রপ্তানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক। 

তবে পলিয়েস্টার স্টাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানায় বিকেএমইএ। 

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি এখনো অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো দরকার। 

ঋণের উচ্চ সুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘ মেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সামগ্রিকভাবে নীতিগত দিক থেকে প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় তরুণেরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নেতৃত্ব দেবে। 

স্টার্টআপ তহবিল গঠন: অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে নারী উদ্যোক্তা, নারী উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। 

স্টার্টআপকে ভ্যাট অব্যাহতি: স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগামী ৯ বছরের জন্য মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। একইভাবে সেবা আমদানি এবং স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহিত পাচ্ছে স্টার্টআপ। শুধু তা–ই নয়, স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কর অব্যাহতি: বর্তমানে শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা অন্যান্য সব ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রেও এখন প্রযোজ্য হবে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের আয় বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারের সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন বলে বাজেটে বলা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনে করছাড়: তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে বাজেটে। একইভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা সেবার ওপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও পাবেন। 

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, প্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও ক্রিয়েটিভ খাতে ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গোযায়ানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিদওয়ান হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানির ভ্যাট ও টার্নওভার কর মওকুফের সিদ্ধান্তটি অসম্ভব রকমের ভালো উদ্যোগ। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনলে উদ্যোক্তাদের দেড় শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার আগে স্টার্টআপকে পুঁজি সরবরাহ করতে ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে একটি কোম্পানি হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, সরকার প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির প্রবৃদ্ধির জন্য খুবই সিরিয়াস। 

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকারের অঙ্গীকার হচ্ছে দেশব্যাপী ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে। 

জানতে চাইলে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান সবজিগ্রামের সহ উদ্যোক্তা রাহাত কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব জায়গায় কর দেওয়ার কারণে আমাদের ব্যবসার খরচ বাড়ছে। বাজেটে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়াটা খুবই ইতিবাচক। এতে তরুণ উদ্যোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে।’

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সংকট সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে এবং বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশে অনেকের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। কাজ করছে ১০টি এজেন্সি।
 
তিনি আরও বলেন, যে প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে গভর্নর ঋণখেলাপি বলা হয়, সেই প্রতিষ্ঠান একদিনের জন্য বন্ধ হয়নি, বেতন বন্ধ করেনি এবং ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকা এরইমধ্যে পরিশোধ করেছে। মাঝে কিছুদিন সুদহার নিয়ে জটিলতা হয়েছিলো, সেটি সমাধান হয়েছে। তারপরও বারবার কেন ঋণখেলাপি বলা হয় বোধগম্য না।
 
এছাড়াও ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে। শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
অন্যদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কালো টাকা সাদা করা নিয়ে বিভ্রান্তি কাম্য না। শুধু জমি বিক্রির টাকা নিয়ে নির্দেশনা গতবারই ছিলো। এটা করা হয়েছিলো যেন জমির ক্রেতারা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে না পারে। এবার বিক্রেতাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নাগরিক সেবাকে জনবান্ধব করতে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিক্স শিল্প এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে জাতীয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে একটি বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ এবং নাগরিক সেবাকে জনবান্ধব করা, শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই অন্তর্ভুক্ত করার মধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী ও দক্ষ করে করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে নতুন বাজেটে কর্মকৌশল ঠিক করেছে সরকার। তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং এআই প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য। সরকারি পরিকল্পনায় এবং সেবা প্রদানে এআই ড্রাইভেন ডাটা সেন্টার ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কার্যকর এবং গতিশীল করা হবে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবন নির্ভর, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসাবে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। এই অর্থ 'স্টার্ট-আপ তহবিল' হিসেবে, নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে, নারী উন্নয়নে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ এখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দ্বারপ্রান্তে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ সভায় বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় বেলা ১টায়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে।

[caption id="attachment_276162" align="alignnone" width="1199"] জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়ছবি: পিএমও[/caption]

অর্থবিলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের পর আজ বেলা ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

তারেক রহমান সরকারের এটি সংসদে প্রথম বাজেট।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংসদ না থাকায় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় এবং সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়, জারির করার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় তখন সংসদের বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল। ২ জুন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় তাঁর বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়েছিল।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে।

এ ছাড়াও নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার সঙ্গে আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে।

অন্যদিকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত সম্ভাব্য বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে আসন্ন বাজেটে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।

অন্যদিকে এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগ। এর আওতায় লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

 

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশের অর্থনীতির আগামী এক বছরের রূপরেখা তুলে ধরতে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটের সব বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপটও কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘদিন পর একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে জাতির প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তার মধ্যেই বাজেট করতে হয়েছে। একটি বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে গিয়ে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি প্রচেষ্টা এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, এ বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সব নাগরিককে এর অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সবাই যাতে অংশ নিতে পারে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই বাজেট বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

 

চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এবার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিরই নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলমকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে। মো. আশরাফুল আলম ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির সভায়ও অংশ নেবেন।

এর আগে আজ সকালে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে তাতে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন। এরপর ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইনে দেওয়া ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক মো. আশরাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, এর স্বার্থ সংরক্ষণ, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও বৃহত্তর জনস্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষক হিসেবে মো. আশরাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন এবং ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে অবহিত করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এই পদক্ষেপ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর পর থেকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের ঢাকার দিলকুশার প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে একদল গ্রাহক। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে গতকাল মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বির্তক হয়।

এদিকে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক আবারও টাকার সংকটে পড়েছে। চেয়ারম্যান নিয়োগের পর নানা বিতর্ক ও চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকেরা গত এক সপ্তাহে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে ব্যাংকটি। তবে এখনো সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পূর্ব ভারতের বৃহৎ ডেনিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তানধান ডেনিম (Tandhan Denim) ঢাকার আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর ২০তম আসরে অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রদর্শনীতে তানধান ডেনিমের কান্ট্রি হেড শাকিরুল খান বলেন, ‘আমাদের কারখানা কলকাতায়, বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে আমরা দ্রুত ডেলিভারি ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন সেবা দিচ্ছি।’

তানধান ডেনিম, তিন দশকের পুরোনো শিল্পগোষ্ঠী তানধান গ্রুপের একটি অংশ।

বাংলাদেশের বাজারের গুরুত্ব তুলে ধরে তানধান ডেনিমের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিশান্ত গিরি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত পণ্যসমূহ আমাদের ডেনিম ফেব্রিকের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্রেতার চাহিদা পূরণের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।’