বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার ক্রয় করা হয়েছে। চলতি মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত মোট ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৬২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। পাইকারি দাম বাড়লে ভোক্তা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হবে। এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে ভোক্তা প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক খরচ ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এমন দাবি করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ শুনানির আয়োজন করে বিইআরসি।

গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প করে খরচ বাড়িয়েছে পিডিবি, যা কাজে লাগছে না। এতে তাদের ঘাটতি বেড়েছে; এ দায় ভোক্তার নয়।

সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। এটি মূল্যায়ন করে কারিগরি কমিটি বলেছে, বর্তমান দামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে পিডিবির ঘাটতি হবে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। এটি মেটাতে হলে ভারিত গড়ে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আগের ধারাবাহিকতায় সরকারের ভর্তুকি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যহার নির্ধারণ করা যেতে পারে। বর্তমান দামে পিডিবির ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

শুনানি শেষে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকির পরিমাণ জানতে চাইবে বিইআরসি। সরকারের ভর্তুকি জানার পর বাকি ঘাটতি সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হতে পারে। আগামী জুন থেকেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এ নিয়ে কোনো মত দেয়নি কারিগরি কমিটি।

তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লাভজনক ২১টি সমিতির জন্য আলাদা পাইকারি দাম নির্ধারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কারিগরি কমিটি। একইভাবে আরইবির বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ পিডিবিকে দেওয়ার প্রস্তাবেরও যৌক্তিকতা দেখছে না কমিটি। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয় বলে পিডিবির প্রস্তাবিত মাল্টি ইয়ার ট্যারিফ (কয়েক বছরের দাম) নির্ধারণের প্রস্তাব আমলে নেয়নি কমিটি।

দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

[caption id="attachment_274453" align="alignnone" width="782"] বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তন, ঢাকা; ২০ মে ২০২৬[/caption]

দেড় দশক ধরে গণশুনানিতে নিয়মিত হাজির হয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। বর্তমান কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি শুনানি বর্জন করেছেন। তবে শুনানিতে অধিকাংশ বক্তার কণ্ঠে বারবার এসেছে তাঁর নাম। কমিশনের চেয়ারম্যানও শামসুল আলমের অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করেছেন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, জ্বালানি উপদেষ্টা বর্জন করেছেন। প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ানো উচিত নয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকা থেকে। সরকারের মুনাফা করার চিন্তা থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিইআরসির উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দাম কমানোর শুনানি আয়োজনের দাবি করেন সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, গণশুনানি মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। জনগণের ওপর দাম বাড়ানোর প্রভাব হবে মূল আলোচনার বিষয়; অথচ প্রস্তাবে এটি নেই। দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। বিইআরসিও জনস্বার্থ দেখে না। কোনো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে।

তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে তৈরি পোশাক। এমনিতেই রপ্তানি কমছে। তাই বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

বিদ্যুৎকেন্দ্র না চলায় সঞ্চালনের আয় কমে

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিয়ে বিতরণ সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) পিএলসি। লোকসান ঠেকাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের চার্জ ১৮ পয়সা বাড়ানোর দাবি করেছে তারা। এটি প্রায় ১৪ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। তবে পিজিবি পিএলসির কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।

পিজিবি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, বিতরণ সংস্থার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আর নতুন নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিতে প্রকল্প তৈরি করা হয়। পায়রা থেকে একটা নতুন লাইন করার চাপ আছে, ১০০ কোটি ডলার খরচ হবে। মাতারবাড়ি থেকে আরেকটা প্রকল্প করার চাপ আছে। পিজিবি নিজ থেকে প্রকল্প করে না। প্রতিনিয়ত পিডিবির থেকে চাহিদা আসতেই থাকে। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ থাকে। এতে সঞ্চালন লাইন অব্যবহৃত পড়ে থাকে; আয় কমে পিজিবির।

এর জবাবে ভোক্তা প্রতিনিধি শুভ কিবরিয়া বলেন, পিজিবি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে কার অনুমতিতে। প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিইআরসিকে জানানোর কথা, সেটা জানানো হয়নি। তাহলে কেন এ দায় ভোক্তা নেবে।

প্রথম দিনের শুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাওয়ার গ্রিডের চলমান সব প্রকল্পের ব্যয় হিসাবে নেওয়া হয়নি। যতটুকু খরচ হয়েছে, ততটুকুই হিসাবে নেওয়া হয়েছে। সবার অংশগ্রহণ শুনানিকে ফলপ্রসূ করেছে। কাল খুচরা দামের শুনানি হবে। এরপরও কেউ চাইলে লিখিত মতামত দিতে পারবে। সবার মতামত ও বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা পরিবার-স্বজনদের জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। এপ্রিল মাসে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

 

আগামীকাল বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের প্রথম ‘ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (এফএআর) সম্মেলন ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে।

দেশের করপোরেট ও আর্থিক খাতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। এফআরসি গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন: আসল গুরুত্ব কোথায়’। সম্মেলনের প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।

দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দুটি অধিবেশন রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), নিরীক্ষক ও নীতিনির্ধারকেরা এতে অংশ নেবেন। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সহজে মূলধন পেতে হলে উন্নত মানের আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই—এমন বার্তাই সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে এফআরসি।

এ বিষয়ে এফআরসি চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া প্রথম বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক হিসাববিজ্ঞান মানদণ্ডের সঙ্গে দেশীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো করপোরেট প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। এতে ভবিষ্যতে আর্থিক বিবরণীগুলো ব্যবসায়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আগামী বাজেটে নিঃসন্দেহে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকবে; কিন্তু এই উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে অবশ্যই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা লাগবে। না হলে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে দুই–আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে, তা মূল্যস্ফীতি সামলাতে চলে যাবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এতে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলবে; আর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি দমন করতে হবে। এ জন্য লাগবে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি সংস্কার।

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট সংলাপে এ কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাহ্যিক কিছু জিনিসের কথা বলছে। খাল খনন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং মানুষের রুটি-রুজি বাড়ানোর মতো অর্থনীতির যে মূল বিষয়গুলো রয়েছে, তা বৃহৎভাবে মনোযোগের ভেতরে আসছে না।

নতুন সরকার কী অবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তার কোনো প্রামাণ্য দলিল সরকার তৈরি করেননি বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাজেট তৈরি হচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আমরা বলেছিলাম যে গতানুগতিক বাজেট হচ্ছে। সেই কথাই আবার পুনরাবৃত্তির দিকে যেতে পারে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটের প্রাণ হলো সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা। এটি সরকার কীভাবে করতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে হবে। এবার একটি কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার বাজেট তৈরি করা উচিত ছিল; কিন্তু যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, সেই কঠোরতার দিকে সরকার খুব এগোয়নি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।

৪ বছরে ১০ কোটি মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে

চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া সরকার আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও পরিবার কার্ড পাবেন জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, তবে তাঁদের ভাতার টাকা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী বাজেটে সরকারের আয়, ব্যয় এবং কীভাবে অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনা করছে, সেটি আমরা দেখতে পারি। বাজেটে সরকার সম্পদের পুনর্বণ্টন করতে পারছে কি না, সেটির একটি লিটমাস টেস্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাজস্ব ব্যয়ে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো রাখতে হবে কেবলমাত্র ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য, যা বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।’

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বকেয়া আছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, এই টাকা তাদের কাছে সুদাসলে সরকারের পাওনা রয়েছে। এসব জায়গায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। তাদের হয় শেয়ারবাজারে নিয়ে আসেন; অথবা ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের তিন মাসের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হককে। জবাবে তিনি বলেন, আস্থার জায়গা হয়তো কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংকিং খাতে তারল্যসংকট রয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এখনো কাটেনি। এগুলোর সমাধান না হলে বিনিয়োগ আসবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিসিপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষর সম্বলিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০০ ও ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১৮ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও ইস্যু করা হবে।

এরই প্রচলনে দেওয়া নতুন ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্যের 'বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য' শীর্ষক অন্যান্য মূল্যমান (২০, ৫০ ও ১০০) ব্যাংক নোটগুলো গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরে পর্যায়ক্রমে ইস্যু করা হবে।

গভর্নর স্বাক্ষরিত ও মুদ্রিত এসব মূল্যমান ব্যাংক নোটের রং, আকৃতি, ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আগের মতো অপরিবর্তিত থাকবে। এসব নোটগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে।

 

সরকারদলীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৮ মে) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে নারী সংসদ-সদস্যদের সংসদীয় দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জন্য কাজ করার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সংসদ-সদস্যদের তথ্যনির্ভর বক্তব্য প্রদানের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা ও সংসদীয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

এছাড়া সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিতদের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   

সভায় অংশ নেওয়া সংসদ-সদস্যরা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে শপথগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই তাদের প্রথম সভা। সভায় তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং সংরক্ষিত আসনের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সরকারপ্রধান। 

সংসদে গঠনমূলক ও তথ্যনির্ভর বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী সংসদ অধিবেশনের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। 

এছাড়া যেসব আসনে জামায়াতের সংসদ-সংদস্য রয়েছেন, সেসব এলাকায় সংশ্লিষ্ট নারী সংসদ-সদস্যরা নির্বাচিত এমপির ন্যায় এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হবেন।  

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য সেলিমা রহমান। 

তিনি বলেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ধন্যবাদ জানানোর উদ্দেশ্যেই এ বৈঠক হয়। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব, কাজের পরিধি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো এলাকা না থাকায় কোন এলাকায় কীভাবে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীতে তারা কাজ করবেন।

সেলিমা রহমান বলেন, একজন রাজনৈতিক নেত্রী ও সংসদ-সদস্য হিসাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে দেশ ও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। প্রতি লিটারের নতুন দাম ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা হয়েছে। নতুন দাম আজ সোমবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত মাসে লিটারে দাম বেড়েছিল ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা।

আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস তেলের দাম বাড়ানোর তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৮ মে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত সময়ে আমদানি করা ফার্নেস তেলের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বিবেচনায় মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগে ফার্নেস তেলের দাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারণ করত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করে। এবার তৃতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো।

বিপিসির অধীন থাকা তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এই তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সবশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা।

তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।

এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও ‘দুষ্টচক্র’ ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি মূল উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি মিশ্রণ পুনর্গঠন করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো হবে।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতের জন্য আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে।

চতুর্থত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে; এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

পঞ্চমত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে একটি ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণ করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি খাত পরিচালিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে জনগণের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এই কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শিল্পায়নও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং আগামী বাজেট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৫ শতাংশ, যা খুবই অল্প। জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রাধিকার বৃদ্ধিতে আগামী বাজেটে এডিপিসহ সামগ্রিক বরাদ্দে নবায়নযোগ্য খাতের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। প্রতিবছর ‘ন্যাশনাল অ্যানার্জি ট্রানজিশন রিপোর্ট’ প্রণয়ন ও প্রকাশ বাজেটের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জ্বালানি রূপান্তর সংক্রান্ত সব উদ্যোগ, অর্থায়ন ও অগ্রগতি একটি সমন্বিত প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হবে। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে স্টোরেজ সিস্টেমকে ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। ইরিগেশনের ক্ষেত্রে  ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত জ্বালানি কৌশল প্রণয়নে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণে লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থা হলেও এর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, চার্জিং অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে কিছু প্রণোদনা দিয়েছে এবং আরো উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) বর্তমান নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলমগীর মোরসেদ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণ ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এই প্রকল্প থেকে সুফল পাবে ১২০ উপজেলার মানুষ এবং ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এই প্রকল্প থেকে।

প্রকল্পটির প্রথম ধাপে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ বা বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

বাঁধটি হবে ৫০ ফুট উঁচু। প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এই বাঁধে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিস পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে যাবে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গত বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৫০ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এরপর বাঁধের পানি নদীতে প্রবাহিত হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক স্থানে লবণাক্ততা বাড়ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন জরুরি। আমাদের সুন্দরবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনের কেওড়া গাছের পাতা পচে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সুন্দরবন বাঁচবে, কৃষি ও মাছের উৎপাদন বাড়বে, পাশাপাশি জলবিদ্যুৎও পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে ভারত। ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।

ফারাক্কা ব্যারাজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পদ্মা ব্যারাজ বা পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারত পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পদ্মার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। ফলে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন, বনায়ন, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল জেলার বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য পদ্মা নদী ভূ-উপরিস্থ সুপেয় পানির একমাত্র উৎস হওয়ায় এ অঞ্চলের উন্নয়ন পদ্মার পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। পদ্মা নদীতে প্রবাহিত পানি বর্ষা পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত প্রবাহই এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায়। এ প্রেক্ষাপটে পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় একটি বাঁধ নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থানে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলোচ্য প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটি মোট ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি/সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাছাড়া প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম জলাধার থেকে প্রাপ্ত প্রবাহের সঙ্গে হাইড্রোলোজিক্যাল ও মরফোলজিক্যালভাবে ধীরে ধীরে অভিযোজিত হবে। ফলে খননসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সুযোগ রয়েছে বিধায় প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত হবে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে সুপারিশ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এজন্য প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

পাউবো জানায়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণসহ হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনঃখনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য অতিরিক্ত/সহায়ক অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোর (চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে দুটি হাইড্রো-পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি পাঁচটি নদীর সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলা) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, স্বাদু পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ সংরক্ষণ করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পলি অপসারণ করে যশোরের ভবদহসহ অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা হ্রাস ও পদ্মানির্ভর এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

পদ্মানির্ভর এলাকার প্রধান পাঁচ নদী সিস্টেম পুনরুজ্জীবিতকরণের পাশাপাশি নদী পুনঃখনন ড্রেজিং ও রেগুলেটর দেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মৃতপ্রায় হিসনা নদী পুনরুদ্ধার করে ‘হিসনা অফটেক’ নির্মাণ করা হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। রাজবাড়ীর পাংশায় চন্দনা অফটেক হবে। এটা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরে। কুষ্টিয়ায় গড়াই অফটেক নির্মাণ হবে, ভারত সীমান্ত থেকে যেটি প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দূরে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া এবং জি-কে সেচ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পদ্মার মতো বড় নদীর ক্ষেত্রে পরে হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় বিধায় প্রকল্প বাস্তবায়নকালে এর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে নদীগুলোর হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সমীক্ষা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। সে কারণে ডিপিপিতে কিছু পরামর্শক সেবার সংস্থান রাখা হয়েছে।

গড়াই অফটেক এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ১৫টি স্পিলওয়ে, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ, অ্যাপ্রোচ এমব্যাঙ্কমেন্ট ইত্যাদি করা হবে। চন্দনা অফটেক অবকাঠামোতে চারটি স্পিলওয়ে নির্মাণ হবে। হিসনা অফটেক অবকাঠামোতে পাঁচটি স্পিলওয়ে হবে।

পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের ফলে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। গড়াই অফটেক সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে ৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে। গড়াই-মধুমতি নদী ড্রেজিং হবে, ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার খনন হবে। হিসনা নদী সিস্টেমে নিষ্কাশন পুনঃখনন হবে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ হবে ১৮০ কিলোমিটার।

পদ্মা ব্যারাজের মোট প্রকল্প এলাকা বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। তবে, প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চারটি বিভাগের ১৯টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

জানা গেছে, প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, শুষ্ক মৌসুমে (জানুয়ারি-মে) হিসনা-মাথাভাঙ্গায় ২৩৯, গড়াই-মধুমতিতে ২৩০, চন্দনা-বারাশিয়ায় ৮০, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেমে ২২ এবং গোদাগাড়ি পাম্প হাউজে ২৫, জি-কে প্রকল্পে ৬৪ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩ কিউসেক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের নিট চাষযোগ্য এলাকা প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান নিশ্চিত করা, প্রকল্পের মাধ্যমে আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

বাঁধের ডেক/করিডোরকে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ধান প্রায় ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক আনুমানিক ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন অর্জন হবে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিগত সরকারগুলোর সময় বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা তৈরি হয়। প্রকল্পটির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়লে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও কিছু ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তবে ব্যারাজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো মরফোলজিক্যাল ও পরিবেশগত ঝুঁকি রয়েছে, যা উন্নত নকশা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

 

আগামী জুন মাসের জন্য এখন পর্যন্ত পরিশোধিত (ফিনিশড) ও অপোরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ১৬টি জাহাজ দেশে আসবে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশনস) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১৪টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে। এ মাসের বাকি দিনগুলোতে আরও ৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে। বিপিসি তথ্যমতে, এই ১৯টি জাহাজে জ্বালানির পরিমাণ হলো- ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬৭ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।

তিনি আরও জানান, আগামী জুন মাসের জন্য এখন পর্যন্ত পরিশোধিত (ফিনিশড) ও অপোরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার নিয়মিতভাবে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। আজও একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে।

বিপিসি জানায়, চলতি মাসে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও অপরিশোধিত তেলবাহী বিভিন্ন জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে। জ্বালানি তেল আমদানি সরকার ও বিপিসির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আগামী জুন মাসের জন্যও ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।

এছাড়া ‘এমটি ফসিল’ নামে একটি জাহাজ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত সোমবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি ২৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

এর আগে, গত ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়।