আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে বিরোধী দলে থাকতে হবে। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে নিয়ে বিএনপির ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমি প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষের। যদি এমন কোনো চুক্তি হয় যা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, তবে সেই দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর তার বিচার হবে না, এটা হতে পারে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা চালিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। এ কারণেই অনেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হয়ে ডিফল্ট হয়েছেন, যা কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। দুর্নীতি দমনে বিএনপির ইশতেহারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ)। তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে মাসুদ রানা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন– এমন খবর শুনে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাবেয়া বেওয়া ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী।

আহত মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ বলেন, তাঁর বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে দাদির (রাবেয়া বেওয়া) হার্ট অ্যাটাক হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।

বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন জানান, হামলার পর আহত মাসুদ রানাকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁর ডান চোখ হারানোর কথা বলেন। আজ দুপুরের দিকে সালমা বেগম মুঠোফোনে বাড়িতে তাঁর শাশুড়ি রাবেয়া বেওয়াকে বিষয়টি জানান। ছেলের চোখে হারানোর খবর জানার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার রাতে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। ওই দুজনকে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশুন গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলায় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর চোখ গুরুতর জখম হয়। হামলাকারীরা বেলাল ও ফারুককে নিয়ে চলে যান।
আহত মাসুদ রানাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আজ দুপুরের দিকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান পল্লব সেন বলেন, গুরুতর জখম হয়ে মাসুদ রানা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে চোখে জটিল অস্ত্রোপচার দরকার। এ কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে আজ বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এ সময় আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় মা–বাবাসহ বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা আমার বাবার চোখ উপড়ে ফেলানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর চোখ গুরুতর জখম হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। আজ বিকেলে
বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল। আজ বিকেলে
 

ওই ঘটনায় আজ বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। দলের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং মাসুদের বাড়িতে তাঁকে বেধে রাখা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনকে জানালে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাঁর লোকজন হামলা করেন। এতে দাঁড়িপাল্লার বেশ কিছু কর্মী গুরুতর আহত হন। তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান, সেক্রেটারি আ স ম আবদুল মালেক, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন, এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই এখনো মামলা দায়ের করেনি।

সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় পাঠানো প্রায় চার কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লেনদেনটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

নাটোর–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার (দুলু) আজ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহভাজন একটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়। জানতে পেরে তিনি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ওই লেনদেন স্থগিত রাখার আবেদন করেন। অভিযোগ পেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে লেনদেনটি স্থগিত করা হয়।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে এতগুলো টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সন্দেহজনক। এই টাকা ভোট কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি লেনদেনটি স্থগিত রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছেন।

ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম বলেন, চার কোটি টাকা লেনদেন ইসলামী ব্যাংকের জন্য তেমন কোনো বড় লেনদেন নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই একটি এটিএম বুথের জন্য এসব টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহের কিছু নেই।

সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার বলেন, ‘একটি লেনদেনের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি লেনদেনকে একজন প্রার্থী সন্দেহজনক বলে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে এখন মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।

ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে আজ মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে।

৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি। সংখ্যাটি বুধবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসি ক্যামেরা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজন বিবেচনায় ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

 নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
নির্বাচনের প্রস্তুতির সর্বশেষ নিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
 

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশে এত ফোর্স, এত ক্যাপাসিটি ডেপ্লয় কখনোই করা হয়নি। তাই নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এরপরও যদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে, সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৫০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, আমাদের ধারণা, নির্বাচনে অপব্যবহার করার জন্য আনা হয়েছিল।’

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে ইসি জানাবে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফলের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে, সন্ধ্যার মধ্যে কেন্দ্রে যা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবে। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফলাফল একসাথে গণনা হবে এবং ভোটের দিন ব্রিফিং হবে মোট চারবার।

সারাদেশের ভোটের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল দেওয়া হবে বলেও জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, একটি আসনে ভোট স্থগিত। সাড়ে চারটার পর কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার থাকলে তাদেরও ভোট নেয়া হবে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে ৮১ জন নারী প্রার্থী। মোট ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আনুমানিক ৫০ শতাংশ সাধারণ, বাকি ৫০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৩০ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছানোর কথা বলা হয় ব্রিফিংয়ে।

আরও বলা হয়, ভোটে থাকছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। ৯ লাখ ৫৮ হাজার জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন। ২ হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নজরদারি নিশ্চিতে ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। এছাড়া, ড্রোন, বডিওর্ন ক্যামেরা থাকছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের সবকয়টিতেই ব্যালট পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। শতভাগ শুদ্ধ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চ্যালেঞ্জ ছিলো।

তিনি বলেন, ২৯৯ আসনে সব ব্যালট পৌঁছে গেছে। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মোবাইল ফোন নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবার বিষয়ের প্রজ্ঞাপনটি আজ প্রত্যাহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের গণনা সময়সাপেক্ষ, তবে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত বিলম্ব করা হবে না।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণা শেষ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরে ফেরার আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারেক রহমান।

এর আগে, এদিনে ঢাকার আটটি স্থানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে- বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত জনপদে। ১৯ দিনে তিনি মোট ৪৩টি জনসভা ও পথসভায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি সভায় ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরেছেন বিএনপির রাষ্ট্রচিন্তা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

১৯ দিনের প্রচারে প্রথম সিলেট থেকে শুরু করেন তিনি। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট পৌঁছে প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে মাজার- রাস্তার দু’ধারে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরদিন সকালে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক’। তারপর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভা। সেখানেই ঘোষণা- বিএনপি ক্ষমতায় এলে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে দেশ পরিচালনা করা হবে, দ্রুত শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ।

একই দিনে আরও ছয় জেলায় ছুটে গিয়ে জনসভা করেছেন- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।

পরদিন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনি সমাবেশ রাজধানীর ভাষানটেক বিআরবি মাঠে। মাঝে শারীরিক অসুস্থতায় কিছুটা ধীরতা এলেও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে ফের চেনা ছন্দে। সেখানেই সবচেয়ে কড়া রাজনৈতিক বার্তা- দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তা আর সারাদেশে খাল খননের ঘোষণা- চট্টগ্রামের বক্তৃতায় একসঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ দুই দিকই ছুঁয়েছেন তিনি।

ঢাকায় ফেরার পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ। তারপর ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরা। উড়োজাহাজে উত্তরাঞ্চল সফর- রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া। দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রথমবার পৈতৃক ভিটায় পা রাখা- বগুড়ায় রাত কাটানো রাজনৈতিক সফর হয়েও ছিল ব্যক্তিগত আবেগে মোড়া।

রংপুরে গিয়ে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল পেরিয়ে যান খুলনা ও যশোর। বরিশালে হেলিকপ্টার থেকে নামা, ফরিদপুরে বিভাগ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি ও পদ্মা ব্যারেজের কথা।

তারেক রহমান ফরিদপুরে বিভাগ, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ, প্রশস্ত সড়ক ও নিরাপদ শহর গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিটি জনসভায় বক্তব্যের শেষে একই ডাক- সবার আগে বাংলাদেশ।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ও সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৫টি আসনে একের পর এক জনসভা করেছেন- মিরপুর, পল্লবী, তেজগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ। বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ মাঠে শেষ দিকের জনসভা। প্রচারের ব্যস্ততা থামে সেখানেই। প্রচারণা শেষে তারেক রহমান যান মা ও বাবার কবর জিয়ারতে। তার যে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছিল হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে, তা শেষ হলো মা-বাবার কবর জিয়ারত করে ঘরে ফেরা দিয়ে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তাঁর প্রত্যাশা, একটি অত্যন্ত ভালো, অংশগ্রহণমূলক ও সর্বোপরি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইভার্স ইজাবস এ আশাবাদের কথা শোনান।

নির্বাচনের পরিবেশ কেমন, তা জানতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক। সাধারণ পরিবেশটি খুবই আশাব্যঞ্জক। এই অর্থে যে তাঁদের অধিকাংশ আলোচনাসঙ্গী জোর দিয়ে বলেছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হওয়া উচিত। এ কারণেই নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ও সাধারণ প্রত্যাশা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চাই।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।
বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারবেশন মিশন বাংলাদেশ ২০২৬ এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকসহ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামছে ইইউ।

বার্তায় জানানো হয়, বর্তমানে সব স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষককে নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম, ভোট গণনা এবং ফলাফলের তালিকা কিভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে সে সম্পর্কে ঢাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আজ সারা দেশে সব পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার ইজাবস ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে মিশনের প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করবেন।

 

শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণার সময়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হয়।

এর আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাতেও গণসংযোগ করেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা নিজ নির্বাচনি এলাকা ঘুরে ঘুরে গণসংযোগ করেন। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ভোট চান। 

তারা বলেন, শেষ সময়ে প্রতি মিনিট, প্রতি সেকেন্ডও গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়টুকুও ব্যয় করতে চান ভোট প্রার্থনায়। কেউ আবার ভোরের আলো ফোঁটার পরপরই বের হয়ে পড়েন। 

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের আশা ব্যক্ত করেন প্রত্যেকেই। এদিকে, বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন কেউ কেউ। তবে ভোটাররা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যেই রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে এবং বাকি জেলাগুলোতে আজ রোববারের মধ্যে ব্যালট পৌঁছে যাবে। 

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে ইসি। এ কারণে আসনটি বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে। 

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে নারী অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা অফিস-আদালত, রাজনীতি কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পারবে না। এতে নারীরা ঘরে ও বাইরে সম্মান হারাবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে।

আজ সোমবার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট) আসনে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

আল–জাজিরাকে দেওয়া জামায়াতের আমিরের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির বলেন, সম্প্রতি আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির বলেছেন, নারীরা সংসদ সদস্য হতে পারবে, কিন্তু দলের আমির কিংবা রাষ্ট্রের প্রধান হতে পারবে না। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। একটি রাজনৈতিক দলের এই অবস্থান নারীবান্ধব রাষ্ট্রের পরিপন্থী।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, জামায়াতের আমির দিন-রাত যে পথ সুবিধাজনক মনে করছেন, সেই পথেই ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে তাঁদের আসল চরিত্র প্রকাশ পাচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে ধাপে ধাপে শরিয়াহভিত্তিক আইন চালু করবেন। এতে বোঝা যায়, তাঁদের কথার কোনো স্থিরতা নেই, জনগণের কাছে দেওয়ার মতো সুস্পষ্ট অঙ্গীকারও নেই। ইসলাম নিয়ে রাজনীতির প্রধান শর্ত হলো ওয়াদা রক্ষা করা। কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্ব সেই নৈতিক অবস্থানে নেই। মানুষ ইতিমধ্যে তাদের প্রকৃত চরিত্র বুঝে ফেলেছে।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটূক্তির সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, টেলিভিশন খুললেই বিএনপির চেয়ারপারসনের নামে নানা নিন্দামূলক কথাবার্তা শোনা যায়। অথচ ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করার সুযোগ পেত না। আর বেগম খালেদা জিয়া না থাকলে তারা কখনো মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেত না। অথচ আজ তাদের মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতা নেই।

বিএনপির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, স্বৈরাচারী ও দখলদার রাজনীতির সময় পার করে এসেছে বিএনপি। এখন আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে। নানা নাটক, ভেলকিবাজি ও তামাশা শুরু হয়েছে। কিন্তু এসব সস্তা ভণ্ডামি দিয়ে জনগণের মন জয় করা যাবে না। আবার যেন দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।

গোপালগঞ্জ থেকে