রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের সময়সীমা ২২ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (২০ এপ্রিল) কমিশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। তারা দলীয় নিবন্ধনের জন্য সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

আজই (রোববার) রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমার শেষ দিন ছিল। এ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের পাঁচ সদস্য। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন, নিবন্ধনের সময়সীমা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

এরআগে, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে দল নিবন্ধনে ৯০ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দলটি।

একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলো। ভোটাররা অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা অনেকে অনুভব করলেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ভোটের হার স্বস্তিদায়ক বলা যায়। জয়ী দল বিএনপি বড় ধরনের ম্যান্ডেট পেল। আবার ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য তাদের আসন ও ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সার্থক হলো।

নির্বাচনের আগে অনেক আলাপ-আলোচনা ছিল, সংঘাত হতে পারে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মনে বড় আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর জোরালো ভূমিকা সেই শঙ্কা অনেকটা কেটে দেয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। এবার আমরা যেটা দেখতে পেলাম, ভবিষ্যতেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা হয়তো জরুরি হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল—সবাই মিলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মাইলফলক অতিক্রম করলাম। একটা হচ্ছে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করলাম। আরেকটা হচ্ছে নির্বাচনের ফলাফলটাও মেনে নেওয়ার মাধ্যমে কার্যকর সংসদ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক দূর এগিয়ে গেল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সার্বিকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নবায়নের একটা সুযোগ তৈরি হলো। জনচাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে এই স্থিতিশীল উত্তরণ। অর্থাৎ যাঁরা সরকার গঠন করতে পারছেন না, তাঁরাও ফলাফল মেনে নিয়েছেন। যদিও তাঁদের অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

মোটাদাগে আমরা দেখেছি মানুষ একটা মধ্যপন্থার দিকে এবং স্থিতিশীল উত্তরণের জন্য ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আসনভিত্তিক ফলাফল একধরনের বার্তা দিচ্ছে, আবার ভোটের বিন্যাস আরেক ধরনের বার্তা দিচ্ছে। ঢাকার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভোট হয়েছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় একদম একচেটিয়াভাবে হয়েছে—যেমন চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বিএনপি এবং খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীর একটা অঞ্চলে জামায়াত একচেটিয়া আসন পেয়েছে। এই ভোটের বিন্যাসের তাৎপর্য বোঝাটা খুব জরুরি। মানুষ এগুলোর মধ্য দিয়ে কী বলতে চেয়েছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মনোভাবটা কেমন ছিল। মধ্যবিত্তের মনোভাব কেমন ছিল। এগুলো থেকে অন্য কোনো বার্তা আছে কি না।

ঢাকায় যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা কম ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। বিজয়ীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা; বিশেষ করে ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে। অন্য একটি এজেন্ডাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ—বিকেন্দ্রীকরণ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ তো দূরের কথা, কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। এই সময়ে এসে বিকেন্দ্রীকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক এজেন্ডা নয়, খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডাও। ঢাকায় সবকিছু হয়—এই ধারণাটা ভেঙে দেওয়া দরকার। স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের সার্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক জীবনটা যে সফল করা দরকার, সেই বিষয়টাও অগ্রাধিকারে থাকা জরুরি।

গণভোটের বিষয়টাকে যদি দেখি, এখানে ‘না’ ভোটের চেয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি এসেছে। কিন্তু প্রায় ৭৪ লাখ ভোট বাতিল হয়েছে। তার মানে এটা অনেকটা ‘না’ ভোটের মতোই। হ্যাঁ, না ও বাতিল—তিনটাকে মাথায় রেখে গণভোটের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে, সুচিন্তিতভাবে এগোনো ভালো হবে। একদিক থেকে এটা ভালো যে এত দিন গণভোট নিয়ে কী হবে না হবে, তা ঐকমত্য কমিশনের পরিধির মধ্যেই হচ্ছিল। এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে—এখানে রাজনীতিবিদদেরই মুখ্য ভূমিকায় থাকা উচিত। সংসদেই এটার মূল সুরাহা হওয়া উচিত।

এখন আমাদের বহু কাজ করার আছে। দল ও তাদের মন্ত্রিসভা ইত্যাদির যেমন কাজ করার আছে, সংসদে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদেরও অনেক কাজ করার আছে। নাগরিক যাঁরা, আমরা যাঁরা ভোটার, আমাদেরও কিন্তু অনেক কাজ করার আছে। নাগরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অগ্রাধিকার থাকবে এই পরবর্তী পর্যায়ে।

এখানে তরুণদের একটি বিষয় আছে। তরুণদের একাংশের একটি দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন জিতেছেন। তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাঁরা যেন একটা সুষ্ঠু ভূমিকা পালন করতে পারেন। তরুণদের যে রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক সক্রিয়তার এজেন্ডা—এটা বড় এজেন্ডা হিসেবে উন্মোচিত হলো। এটাকে শুধু এনসিপির ভবিষ্যৎ কী, এই প্রশ্নের সঙ্গে সমার্থক দেখাটা উচিত হবে না। তরুণদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একটি দলের ভবিষ্যতের চেয়ে আরও বৃহত্তর। তরুণেরা আরও উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন।

এই নির্বাচনে নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও তাঁরা নির্বাচনে প্রতিযোগী হিসেবে সংখ্যায় নিতান্তই অপ্রতুল ছিলেন।

আমি অগ্রাধিকার হিসেবে যদি চিহ্নিত করি, তাহলে আমাদের জাতীয় ঐক্য সংহত করা খুব জরুরি। এই যে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফলাফল এল এবং সেটা গ্রহণ করা হলো, এটা জাতীয় ঐক্য সংহত করার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। এগোনোর পথে প্রতিযোগিতা থাকবে, বিতর্ক থাকবে, আলোচনা থাকবে, কিন্তু জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার যেকোনো ধরনের প্রবণতাকে পরিহার করা খুবই জরুরি। এখানে অবশ্যই প্রতিহিংসা পরিহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর আমি অগ্রাধিকার হিসেবে বলব, আমাদের অর্থনীতি খুবই সঙিন অবস্থায় আছে। অন্তর্বর্তী সরকার একধরনের সামাল দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। কিন্তু তারা বড় ধরনের তৈরি করা অর্থনীতি দিয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উচ্চতর আকাঙ্ক্ষা যেগুলো ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজন এখনই দেখা দিচ্ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম—এগুলো তো হবেই ধাপে ধাপে। সেই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম দিকেই অর্থনৈতিক ‘সিগন্যালিং’ (সংকেত দেওয়া) দেওয়াটা খুব জরুরি। ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থার জায়গায় তৈরি হবে কি না, সেটার চাহিদা থাকবে। মন্ত্রিসভা এবং যাঁরা চালাবেন রাষ্ট্র—তাঁদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতার বিষয়টাও গুরুত্বপূর্ণ ‘সিগন্যালিং’ বিষয় হবে।

অনেক গোষ্ঠী থাকে যারা চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে। তা ছাড়া এখন এই অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের বিষয় আছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। আরেকটা দিক হলো ঋণের বোঝা। এটা বড় ধরনের অর্থনীতির বাস্তবতা হিসেবে দেখতে হবে। সঠিকভাবে সম্মিলিত শক্তিটা জড়ো করা গেলে এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এগুলো সবই অতিক্রম করা সম্ভব। এখানে ‘ম্যাজিকের’ খোঁজ করাটা সঠিক হবে না। আসলে ম্যাজিক করে বাস্তবে সমাধান হয় না। বাস্তবতা বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—অর্থনৈতিক সিগন্যালিংয়ের মাধ্যমে সেই ধারণা দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

কার্যকর সংসদও দরকার। অনেক সময় আমরা সংসদের গুরুত্ব ভুলে যাই। ‘স্টাইল অব গভর্ন্যান্স’কেও (রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন) অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানুষের কথা শুনতে হবে। আবার সংকীর্ণ কোনো গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। প্রশাসন যন্ত্রকে নিজের সুবিধার জন্য সব সময় না রেখে জনগণের চাহিদা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা। প্রশাসন যন্ত্রের দক্ষতা, উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো নীতি নিলাম, সেটা বাস্তবায়ন হলো না—এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের আছে।

দুই-তৃতীয়াংশ জেতাটা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা বড় ধরনের বোঝাও হয়ে যায় অনেক সময়। কারণ, এর সঙ্গে আত্মতুষ্টির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তোষামোদির সংস্কৃতি গেড়ে বসার আশঙ্কাও থাকে। সেখানে সতর্ক থাকা খুব জরুরি। আশা করি, যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা এগুলো পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এগোবেন। যাঁরা জেতেননি, তাঁরা প্রথমেই দায়িত্বশীলতার একটা পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেননি। এ জন্য তাঁরা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তাঁদের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো অভিনন্দনযোগ্য ও স্বস্তিদায়ক।

আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হচ্ছে যাঁরা প্রশাসনিক ক্ষমতার দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই সর্বেসর্বা। আমাদের একটা সুযোগ এসেছে কার্যকর সংসদের বাস্তবতা তৈরি করা। এখানে যাঁরা সরকার গঠন করেননি, কিন্তু সংসদে যাবেন, তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

  • হোসেন জিল্লুর রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্যাংক খাতের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ। ২০২৫ সালের শেষে যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ কোটি টাকা। মূলধন পর্যাপ্ততাও ঋণাত্মক। এর ফলে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে ব্যাংক খাত। এটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সংকটময় এ অবস্থার জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংককেও দায়ী করছেন।

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে নানা উপায়ে লুটপাট হয়েছে ব্যাংক খাতে। আদায় করতে না পারায় এসব ঋণ পরিণত হয়েছে খেলাপি ঋণে। প্রকৃত চিত্র আড়াল করতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেরিয়ে আসতে থাকে ব্যাংক খাতের দুর্দশার চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেড়েছে সংকটের গভীরতা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ কোটি টাকার ওপরে। আর অবলোপন করা ঋণ যুক্ত করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণের সক্ষমতাও হারিয়েছে অনেক ব্যাংক। এর প্রভাব পড়ছে মূলধনের ওপর। ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে পুরো ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততাও এখন ঋণাত্মক। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন ব্যাংকাররাও।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংককে সহজ সুবিধা দিয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে অনেক ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার অবস্থা আরও খারাপ হতো।

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যাংকের ৩৫ শতাংশেরও বেশি সম্পদ থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। অর্থাৎ ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পদ অলাভজনক হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন, কারণ নতুন আয় দিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সহজ নয়।

উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের আয় কমেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে খাতটি। গত বছর শেষে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বারবার পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ায় সংকট বেড়েছে। এর দায় বাংলাদেশ ব্যাংকও এড়াতে পারে না।

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বাড়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকও কম দায়ী নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার শ্রেনীকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিচ্ছে, নানা ধরনের ছাড় দিচ্ছে এবং ডাউন পেমেন্ট কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফলে ঋণ আদায়ে শৃঙ্খলা কমছে এবং সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর আস্থা কমে যাওয়ায় বিশ্বের অনেক বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ঋণসুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের ব্যাংকগুলোর এলসি গ্রহণ করতেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা জরুরি। অতীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেশাদারিত্বেও ঘাটতি ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও সুশাসনের অভাব দেখা গেছে। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় ভুলে যেতে পারি না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূলধন ঘাটতি ব্যাংকিং খাতের জন্য হতাশাজনক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রক্ষণশীল নীতির কারণে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের সম্পদের মান এতটাই খারাপ হয়েছে যে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে খাতটির অবস্থা দুর্বল মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আলাদা করে মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে, অনেক ব্যাংক এখনও ভালো অবস্থায় রয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণচাহিদা পূরণের সক্ষমতা অনেক ব্যাংকেরই আছে। এমনকি তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ সরবরাহ করতে পারে।

 

প্রগতি ইনস্যুরেন্স পিএলসির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা আজ বৃহস্পতিবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৩ শতাংশ বোনাস শেয়ার, অর্থাৎ মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। খবর বিজ্ঞপ্তি।

কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইন সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুর রহমান, পরিচালক আলহাজ্ব খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, মো. সাইদুর রহমান, মোহাম্মদ আবদুল মালেক, নাসির লতিফ, হাজী নিগার জাহান চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ জান, ফরিদা আক্তার, স্বতন্ত্র পরিচালক মাহবুব আনাম ও শামছুন নাহার, কোম্পানির উপদেষ্টা মো. রেজাউল করিম, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ মোস্তবাসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্বতন্ত্র পরিচালক, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার অনলাইনে যুক্ত হয়ে মতামত দেন। ই-ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত আলোচ্যসূচি অনুমোদন করেন তাঁরা।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রগতি ইনস্যুরেন্স মোট ২৭১ কোটি ১০ লাখ টাকা গ্রস প্রিমিয়াম আয় করেছে। একই সময়ে কর-পূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে মোট দাবি পরিশোধ করা হয়েছে ৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

সভায় চেয়ারম্যান বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত ২৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ৩ শতাংশ বোনাস শেয়ার কোম্পানির ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে গ্রাহকদের আস্থা, পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সভায় কোম্পানির সচিব ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শেয়ারহোল্ডারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বার্ষিক সাধারণ সভা সঞ্চালনা করেন কোম্পানির সচিব।

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, ওই দেশের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

আজ বৃহষ্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর খুব একটা প্রচলন নেই। বর্তমান বাজারদর অনুসারে এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত বছরই (২০২৫ সাল) বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে সুইস ব্যাংকগুলোতে। গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা ছিল ২০২৫ সালে।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমা হয়। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকও বৈধ পথে দেশটির ব্যাংকে অর্থ জমা রাখে। আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোতে সেসব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও অর্থ জমা রাখেন, সেগুলোও সুইস ব্যাংকে জমা অর্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসাবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে থাকে। এর মানে, সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থ পাচার করা নয়।

অর্থ পাচার কমেনি

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। ওই দুই বছর যথাক্রমে সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ ও পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ জমা ছিল।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে– অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। আমার মতে, সুইস ব্যাংক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অর্থ পাচার হয়।’

মইনুল ইসলামের মতে, এখন দেখার বিষয় বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেয়। তা না হলে অর্থ পাচার থামবে না।

২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুথানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্র, এমপি এবং আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা দেশ ছাড়েন। তাঁদের অনেকের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসব কারণে তাঁদের অনেকে বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার বিগত সরকারের সময়ে বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্রে। পাচার হওয়া অর্থও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।

একসময় সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ, তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে।

আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। তাই এখন অনেকে ব্যবসা–বাণিজ্যের আড়ালে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করেন— এমন অভিযোগ আছে।

চলতি জুন মাসে সরকার আরও চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে, যাতে মোট গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, 'গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাসবাহী পাঁচটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।'

তিনি আরও বলেন, জুন মাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার মোট নয় কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে, যার মধ্যে গতকাল ১৫ জুন পর্যন্ত পাঁচ কার্গো দেশে পৌঁছেছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের জন্য ক্রয়কৃত নয় কার্গো এলএনজির মধ্যে পাঁচটি স্পট মার্কেট ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছে, বাকি চার কার্গো স্পট মার্কেট থেকে আনা হবে।

এর আগে, গত মে মাসে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করে, যাতে গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

মিজানুর রহমান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেট সব উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে।

তিনি জানান, গড়ে প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

এ ছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।
উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।

 

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেলেন মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী চেয়ারম্যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মীর নাদিয়া নিভিনকে তিন বছরের জন্য আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

মীর নাদিয়া নিভিন একজন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মীর নাদিয়া নিভিনের।

২০১৯ সালে এশিয়ার নবীন নেতাদের ওপর করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এশিয়া সোসাইটির ‘এশিয়া ২১ ইয়াং লিডারস’ তালিকায় মীর নাদিয়া নিভিন ছিলেন। এশিয়ার ৩৯টি দেশের অনূর্ধ্ব–৪০ বছর বয়সী সফল ব্যক্তিদের নিয়ে এ তালিকা ২০০৬ সাল থেকে করে আসছে এশিয়া সোসাইটি। জাতিসংঘে যোগদানের আগে মীর নাদিয়া নিভিন ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কিছুদিন সাংবাদিকতা পেশায়ও জড়িত ছিলেন তিনি।

কারা ছিলেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান

২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজন চেয়ারম্যান পেয়েছে আইডিআরএ। প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন এম শেফাক আহমেদ, যিনি একজন অ্যাকচুয়ারি। তিনি প্রতি মেয়াদ তিন বছর করে দুই দফায় মোট ৬ বছর এ সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন।

এরপর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষ করেন।

এ দুজনের পর একে একে তিনজন সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু কেউই তাঁদের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি খাতের এম মোশাররফ হোসেন। ২০২০ সালের জুনে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পেলেও পৌনে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করেন।

এরপর ২০২২ সালের জুনে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক পরিকল্পনাসচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকেও পদত্যাগ করতে বলা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আরেক সাবেক সচিব এম আসলাম আলম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। এ বছরের মার্চে তাঁকেও চলে যেতে হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।  যুক্তরাষ্ট্র- ইরান চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ না হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে—এমন আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড  ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.১২ ডলারে উঠেছে।

এর আগে সোমবার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা হওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়।  আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়েও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণেই তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  এতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নথিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি সফলভাবে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে তার অঙ্গীকার দেখাতে চেয়েছিলেন।

 

বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যবসা-থেকে-ভোক্তা (বি-টু-সি) রপ্তানি সহজতর হবে।

এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও প্ল্যাটফর্মে পণ্য তালিকাভুক্ত ও প্রদর্শন করতে পারবেন। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশি পণ্য সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি পণ্য ফেরত বা নিম্ন গুণগত মানের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে এ সুবিধা চালু করা হয়। এতে বলা হয়, রপ্তানিকারকেরা প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষুদ্র মূল্যমানের পণ্য সিএফআর শর্তে রপ্তানি করতে পারবেন। এ ছাড়া এক হাজার ডলার পর্যন্ত চালানের ক্ষেত্রে ইএক্সপি ফরম দাখিলের প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রিম গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থায় শিপিং ডকুমেন্ট বিদেশি ক্রেতার নামে ইস্যু করা যাবে।

অনলাইন মার্কেটপ্লেসের জন্য সাবস্ক্রিপশন, রেজিস্ট্রেশন, সদস্যপদ ও অন্যান্য সেবামূলক ফি পরিশোধের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স কার্যক্রম জোরদার হবে এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা বি-টু-বি-টু-সি মডেলের মতো পণ্য আগাম পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি বৈশ্বিক ভোক্তাদের কাছে পাঠাতে পারবেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। তাতে দেশের রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ঢাকা

চলতি জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে ১৩৬ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪৮ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের প্রথম ১৩ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে গত মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এরও আগে মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় দেশে আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা সুবিধা এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।