এবারের বাজেটে তৈরি পোশাকশিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল—করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি সৌরবিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি সহজীকরণ করা। এই দুই জায়গাতেই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপগুলো সন্তোষজনক। এ জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলা হয়।
সংগঠনটি বলছে, বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ খাতে করসুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল উৎসে কেটে নেওয়া অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। কারণ, উৎসে অগ্রিম কর কেটে নেওয়ার পর সময়মতো সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়।
বিকেএমইএর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, রপ্তানিমুখী নন বন্ডেড প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ইতিবাচক।
তবে পলিয়েস্টার স্টাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর কতটুকু সময়োপযোগী বা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখার অনুরোধ জানায় বিকেএমইএ।
দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট নিরসনে বাজেটে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি এখনো অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো দরকার।
ঋণের উচ্চ সুদও বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘ মেয়াদে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সামগ্রিকভাবে নীতিগত দিক থেকে প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করেছে বিকেএমইএ। তবে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।