• Colors: Blue Color

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর আগুন ধরেছে। ফুজাইরার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইরান থেকে ড্রোন হামলার পর আমিরাতের পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ‘বড় আগুন লেগেছে’।

এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যার তিনটি প্রতিহত করা হয়েছে। একটি সমুদ্রে পড়েছে।

তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো এই রাজ্যে জয়ের পথে রয়েছে তারা।

সোমবার ( ৪ মে )  বিকেলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র ৯৪টি আসনে।

বিজেপির সম্ভাব্য বড় জয়ের আভাস পেয়ে দলটির কর্মী-সমর্থকরা রাজ্যজুড়ে বিজয় উল্লাস শুরু করেছেন। তবে সরকার গঠন করলে কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘ভূমিপুত্র’ বা বাঙালি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উঠে আসছে। তারা হলেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার, প্রাক্তন সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী বিজেপি সেই লক্ষ্যমাত্রা অনায়াসেই পার করে যাচ্ছে। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খেলা শেষ এবং রাজ্যে বিজেপিই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রেকর্ড গড়া জয়ের পেছনে দলের ‘অগণিত’ কর্মীর অবদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সোমবার (৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অগণিত কর্মীর প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় সম্ভব হতো না।

তিনি আরও লিখেছেন, আমি তাদের সবাইকে স্যালুট জানাই। বছরের পর বছর ধরে তারা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছেন এবং আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডা নিয়ে কথা বলেছেন। তারাই আমাদের দলের শক্তি।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোট গণনায় ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মধ্যে বিজেপি ২০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ৮২টি আসনে এগিয়ে আছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

সতর্ক উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) এ ঘটনা ঘটে।

এক প্রতিবেদনে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছে ছিল। তখন এটিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়। জাস্ক দ্বীপের কাছ দিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে।

তবে যুদ্ধজাহাজে ইরানিদের হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেছেন, তাদের কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইরান এ হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ আটকে আছে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে আসবেন তারা।

এরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা দিয়ে জানায়, যদি হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ করে তাহলে সেটিতে হামলা চালানো হবে।

টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে শুরু থেকেই এটি ভঙ্গুর ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এছাড়া আরব সাগর থেকে তাদের ট্যাংকার জাহাজও জব্দ করে।

যুদ্ধ বিরতির পর গত ১২ এপ্রিল দুই দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু তারা সেখান থেকে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

 

হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোকে তথ্য দেবে যুক্তরাষ্ট্র, তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ‘এসকর্ট মিশন’ কিংবা মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে 'না'।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ করে তোলা।

রোববার (৩ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়—এমন বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ করেছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো চলাচলের সুযোগ পায়।

ট্রাম্প এই পদক্ষেপের নাম দিয়েছেন 'প্রজেক্ট ফ্রিডম'। বিষয়টিকে 'মানবিক' পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। 

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তথ্য দেওয়া অব্যাহত রাখবে।

তবে ইরান এর আগেই সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। 

হরমুজে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এ উদ্যোগে তারা গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ১০০টিরও বেশি স্থল ও নৌ-ভিত্তিক বিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে 'খুবই ইতিবাচক আলোচনা' চলছে। 

একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং তা বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। কার্যত যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সেটি লঙ্ঘন করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে লেবানন-ইসরায়েল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জরুরি বার্তা দিয়েছেন। আজ সোমবার বেলা একটার দিকে তিনি এ বার্তা দেন।

মমতা জয় নিয়ে আশাবাদের কথা জানান। মন খারাপ না করে কর্মীদের লড়াই করতে আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এটিকে বাংলার মানুষের গণতন্ত্রের জয় বলে অভিহিত করেন। তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে, বলেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, ‘দয়া করে কাউন্টিং এজেন্ট, প্রার্থীরা এলাকা ছেড়ে আসবেন না। স্ট্রং রুমে যেখানে ভোট গণনা হচ্ছে, সেটা ছেড়ে কেউ আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান।’

মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, প্রথম দু–তিন রাউন্ডে ওদেরগুলো আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। প্রায় ১০০টা জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে ৭টা মেশিন পাওয়া গেছে, যেখানে কোনো মিল নেই।’

কেন্দ্রীয় বাহিনী চারদিকে তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। এই বাহিনী জোর করে ভোট দখল করছে, অফিস ভাঙছে, এসআইআরে ভোট লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেস ৭০ থেকে ১০০ আসনে এগিয়ে আছে। কিন্তু সেগুলো প্রকাশিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘টোটাল মিথ্যে নিউজ খাওয়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে খেলছে। আমাদের পুলিশেরা মাথা নত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অধীনে কাজ করছে।’

কর্মীদের মন খারাপ করার কারণ নেই বলেন মমতা। তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম সূর্যাস্তের পর জিতবেন। তিন রাউন্ড, চার রাউন্ড গণনা হলেও এটা ১৪ রাউন্ড থেকে ১৮ রাউন্ড হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি। ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর বলছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা ২টা) গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে আছে ১৯৩ আসনে। আর তৃণমূল ৯৬ আসনে এগিয়ে।

এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে । অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি পেতে যাচ্ছে বড় জয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা যখন জয় নিয়ে আশাবাদের কথা বলছেন, তখন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, এটি বাংলার মানুষের গণতন্ত্রের জয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে। বর্তমান ট্রেন্ড প্রমাণ করছে যে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে।’

একদিকে সুকান্ত মজুমদারের বিজয়োল্লাস, অন্যদিকে মমতার জয়ের আশা—সব মিলিয়ে বাংলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা বিকেলের চূড়ান্ত ফলাফলের।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব