• Colors: Blue Color

ইরানে আবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানকে ‘পাল্টা জবাব’ দেওয়ার হুমকির পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হলো। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগ এনে ইরানে এ হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, মঙ্গলবার ইরানে হামলা চালানো শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এ অভিযান ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের সমানুপাতিক জবাব’।

হামলার পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির উপকূল এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে একটি মার্কিন সামুদ্রিক ড্রোন উদ্ধার করেছে। এমন অভিযানে এ ধরনের যান ব্যবহারের বিষয়টি এই প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

[caption id="attachment_275785" align="alignnone" width="749"] যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প[/caption]

এর আগে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাঁকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন। তাঁরা নিরাপদ ও অক্ষত আছেন। তা সত্ত্বেও এ হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হেলিকপ্টারটিতে হামলার জন্য ইরান একটি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। তবে ড্রোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসির সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় তেহরান দায় স্বীকার করেনি।

হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেন্টকম ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে।

বিবিসি

চলতি জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৭ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ২৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের প্রথম ৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৯০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৩৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

এর আগে গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, টহল দেওয়ার সময় ইরান ওই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ইরানের এই হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত রোববার রাত থেকে পরদিন সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়।

ট্রাম্প রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী আমাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন, তাঁরা নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যা–ই হোক না কেন, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য।’

ট্রাম্পের এই পোস্টের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছিল, ওমান উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন বাহিনী দুই পাইলটকেই উদ্ধার করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে ইরানে আবারও জোরালো হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে মঙ্গলবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা চমৎকার একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। এ চুক্তি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।’ চুক্তি সই হওয়ার দুই–তিন দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। এর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়ে থাকে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে।

এএফপি আল–জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে এসেছে। ‘অবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ’ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালানো বন্ধের কথা জানিয়েছে। গতকাল সোমবার হামলা বন্ধের এ তথ্য জানা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের সঙ্গে লড়াই বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ‘শক্তি দিয়ে’ জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘বর্তমানে এই ফ্রন্টের (ইরান) যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে। কারণ, তেহরানের ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার আঘাত পাওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করেছে। সেই ‘‘সন্ত্রাসী’’ সরকার যদি আবারও আমাদের ওপর হামলা চালানোর ভুল করে, তবে আমরা শক্তি দিয়ে তার জবাব দেব।’

সম্প্রতি ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও এর জবাবে ইরানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের পাল্টা হামলা ছিল গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা, যা এ উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।গতকাল তেহরানও আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তবে এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানায় দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

দুই মাস পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় গত রোববার দিবাগত রাতে। গতকাল সকালেও তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন হামলার আশঙ্কা, লেবানন ইস্যুতে অনড় ইরান ও ইসরায়েল

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হওয়া এ সমঝোতা খুবই ভঙ্গুর। যেকোনো মুহূর্তে একাধিক বিরোধপূর্ণ উৎস থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

তেহরান ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সহ্য করবে না। যতক্ষণ না আপনাদের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের জবাব একই রকম থাকবে।মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার

তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের শর্তে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল ইরান। তবে ইরানের এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ইসলামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে বৈরুতেও আঘাত করা হবে।

কাৎজ আরও বলেন, ‘লেবানন ও ইরানকে এক সুতোয় বেঁধে ইসরায়েলে হামলার যেকোনো ইরানি চেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যেমনটা রোববার দেওয়া হয়েছে।’

হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জের ধরেই রোববার ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান।

ইসরায়েলি হামলার খবরের পর ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের কাছ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যাচ্ছে
ইসরায়েলি হামলার খবরের পর ইরানের মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের কাছ থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যাচ্ছে।ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া/রয়টার্স
 

এদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল বলেন, তেহরান এ ‘বারবার (যুদ্ধবিরতি) লঙ্ঘন’ সহ্য করবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যতক্ষণ না আপনাদের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রকৃত সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের জবাব একই রকম থাকবে।’

চুক্তির জন্য ইসরায়েলকে ট্রাম্পের চাপ, নতুন করে রকেট হামলা হিজবুল্লাহর

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির পরিবেশ তৈরি করতে লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় তিরস্কারও করেন।

অ্যাক্সিওস গতকাল জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুকে আবারও ধমক দেওয়ার দাবি করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমি বলেছি, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), সাবধান হওয়া ভালো, অন্যথায় খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে পড়বে।’

দুই মাস পর ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় গত রোববার দিবাগত রাতে। গতকাল সকালেও তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষের দিকে একটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। হিজবুল্লাহর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধ্বংস করার অভিযান যেন অব্যাহত রাখা হয়, সে জন্য নিজের দেশের ভেতরেও চাপের মধ্যে রয়েছেন তিনি।

এরই মধ্যে গতকাল উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর নতুন করে রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। কয়েক দশক ধরে এ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে আসছে ইরান। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের কাছে ইসরায়েলও একটি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

দ্য গার্ডিয়ান এএফপি

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব