• Colors: Blue Color

  • ইরানে মার্কিন যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকান অভ্যন্তরীণ মহলে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় হামলা শুরু করতে প্রস্তুত।

ওয়াশিংটন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দেড় ঘণ্টার এক ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: সিএনএন ও আল–জাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) হঠাৎ করেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক (ওপেক) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে—বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এটি বড় ঘটনা। ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই তারা ওপেকের সদস্য ছিল।

উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই সংগঠন কয়েক দশক ধরে উৎপাদন বাড়ানো-কমানো এবং সদস্যদের জন্য কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে ওপেকের ভূমিকার কল্যাণে বৈশ্বিক জ্বালানিনীতি আমূল বদলে যায়।

ওপেকের উৎপাদনে সৌদি আরবের প্রাধান্য থাকলেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে ইউএই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অর্থাৎ বাজারে দাম কমাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল তাদের। কিন্তু এ সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

দীর্ঘদিন ধরে ইউএই তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে, কেননা তারা যে বিনিয়োগ করেছে, সেটা তারা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছে।

ওপেকের কোটা অনুযায়ী ইউএইকে দৈনিক ৩০–৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের মধ্যে থাকতে হতো। তারা মনে করছিল, এই কোটার কারণে ক্ষতি হচ্ছে। এই সদস্যপদের কারণে তাদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলমান যে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা, তার কারণে ইউএইএর পররাষ্ট্রনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গেও টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।

ওপেকের জন্যও আরব আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা। এমন এক সময় ইউএই এ সিদ্ধান্ত নিল, যখন জোটের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও ঐক্য প্রশ্নের মুখে। ইউএই যদি সমুদ্রপথ বা পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের তেল পুরোপুরি বাজারে আনতে পারে, তাহলে তারা দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারবে। এর জবাবে সৌদি আরব মূল্যযুদ্ধ শুরু করতে পারে। ইউএইর অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বহুমুখী; তারা সেই ধাক্কা সামাল দিতে পারলেও ওপেকের অপেক্ষাকৃত দুর্বল সদস্যদের জন্য তা কঠিন হবে।

আমিরাতের নীতিনির্ধারকেরা আবুধাবির তেলক্ষেত্র থেকে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ফুজাইরাহ বন্দরে যাবে এই পাইপলাইন। বর্তমানে একটি পাইপলাইন আছে ঠিক, কিন্তু উৎপাদন বাড়লে বা উপসাগরে ট্যাংকার চলাচলের ব্যয় ও অনিশ্চয়তা স্থায়ী রূপ পেলে আরও সক্ষমতা প্রয়োজন হবে।

এ মুহূর্তে অবশ্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধের কারণে বিষয়টি তেলের বাজারের জন্য প্রধান বিষয় নয়। তেল, গ্যাস, জ্বালানি, প্লাস্টিক ও খাদ্যের দামে এখনই তার প্রভাব পড়ছে।

বিশ্ববাজারে এখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, তেলের দাম আগামী বছরে ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৭০-এর দশকে যেমন ছিল, এখন বৈশ্বিক তেলবাজারে ওপেকের প্রভাব তেমন নয়। তখন আন্তর্জাতিক তেল–বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত তারা; এখন যা নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশে। একইভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তেলের গুরুত্বও কমেছে। ওপেকের প্রভাব এখনো আছে, কিন্তু একচেটিয়া নয়; তারা আর আগের মতো বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

পালাবদলের ইঙ্গিত

সাবেক সৌদি তেলমন্ত্রী শেখ ইয়ামানির মন্তব্য এ প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ: পাথর ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে প্রস্তরযুগ শেষ হয়নি। তেলের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ বিশ্ব ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে ইউএইর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যায়। চীনে বিদ্যুতায়নে বড় বিনিয়োগের কারণে ইতিমধ্যে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। হিসাব অনুযায়ী, দেশটির যানবাহন ও রেলব্যবস্থার বিদ্যুতায়নের কারণে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কমেছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা বাড়লে তেলের চাহিদা একসময় স্থিতিশীল হতে পারে।

এ বাস্তবতায় তেলের মজুত থেকে আয় বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশল অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন। ইউএইর শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও বহুমুখী অর্থনীতি এই কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কবে শেষ হবে এবং তারপর কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে ইউএইর এ সিদ্ধান্ত অন্য দেশগুলোকেও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। এতে সৌদি আরবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হলে কিংবা নতুন পাইপলাইন নির্মাণে গতি এলে ওপেকের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ইউএইর তেল উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

বর্তমান সংকটে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত ঠিক, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেলবাজারের শক্তির ভারসাম্যই বদলে দিতে পারে।

বিবিসি

দীর্ঘ ৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ আবার সচল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানী তেহরানের এ প্রধান প্রবেশপথটি দীর্ঘ দিন অচল ছিল। তবে দুই দিন আগে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর আবার ফ্লাইট শুরু হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ১০ থেকে ১৫টিতে নেমেছে। তবে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ছে এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ফিরতে শুরু করেছে।

দেশজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এ বিমানবন্দর সচল করা হয়েছে। তেহরানের দ্বিতীয় বিমানবন্দর ‘মেহরাবাদ’ যুদ্ধে বারবার হামলার শিকার হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত হয় এ বিমানবন্দর। এছাড়া তাবরিজ ও উর্মিয়ার মতো দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

দীর্ঘ কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে বেশ কিছু যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের বিমান খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ইরানে মানুষের মনে রয়েছে শঙ্কা। যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তি আসবে, নাকি আবারও সংঘাত শুরু হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’কে টিকিয়ে রাখা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডকে (আইআরজিসি) সহযোগিতা করার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে এ তথ্য। খবর রয়টার্সের। 

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, তার মন্ত্রণালয়ের ‘বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ’ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে, নিষেধাজ্ঞার কোপে পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দেশের— তা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি কিংবা ট্রেজারিমন্ত্রীর এক্সবার্তার কোথাও উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর আগে থেকেই একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকই ইরানের তেল পৌঁছাচ্ছে এবং তেল বিক্রি থেকে দেশটির উপার্জনও অব্যাহত আছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একপ্রকার ‘ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা’ তৈরি করেছে ইরান। এই ব্যবস্থায় তৃতীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈশ্বিক গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে রাখা এবং সেসব হিসাব থেকে অর্থ ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং এ বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসিকে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কাজ করে এই তৃতীয় পক্ষ।

ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপনন দেখভালের দায়িত্বে আছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং এ বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

যে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রণালয়— তারা সবাই এই তৃতীয় পক্ষের অধীন, অর্থাৎ পরোক্ষ বা আড়ালে থেকে ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং আইআরজিসির কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আছে ইরানের তেল বাণিজ্য ও বিপনন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এ ব্যাপারটিকে আরও উসকে দিয়েছে। গত ১২ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত এই অবরোধ থাকবে।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব