• Colors: Blue Color

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয়নি আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেব। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’

আজ শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন এ কথা বলেন। এ সময় মনোহরদী পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তির মধ্যে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতের লোকেরা বলে, এটা নাকি বে-ইনসাফ হইছে। কয়েকটা টাকা না কম নিয়া তারা (আদ্-দ্বীন হাসপাতাল) মানুষরে বোকা বানায়। ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে, ওরা (জামায়াত) এখন তাদের (আদ্-দ্বীন হাসপাতাল) পক্ষে নানান কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, বাতিল করছি তো করছিই। এই একটা পানিশমেন্টে সারা দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো ঠিক হয়ে যাবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি ব্যতিক্রমী সরকার চালাচ্ছি। দলমত-নির্বিশেষে আমরা সব মানুষের সেবা করতে চাই। এখন সরকারি সুবিধা পেতে আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।’

চিকিৎসাব্যবস্থা সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া হবে। যেখানে প্রতিটা ঘরে ঘরে আমাদের লোক যাবে। তারা গিয়ে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর যদি মনে করে হাসপাতালে নিতে হবে, তবেই একজন রোগীকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এভাবে দেশব্যাপী সবার চিকিৎসাব্যবস্থাকে সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা চীনের সহযোগিতায় ৩ হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার (দোলন), মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।

আসামের জোরহাটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। 

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) সকালে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ভারতীয় বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে নিয়মিত উড্ডয়নের সময় এএন-৩২ বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। 

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।

ভারতীয় বিমান বাহিনী গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো এই সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বাহিনী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের সময় বিমানটি বাহিনীর স্টেশনের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নে দ্রুত জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘জোরহাটে বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।’

উল্লেখ্য, এএন-৩২ একটি দ্বি-ইঞ্জিনবিশিষ্ট সামরিক পরিবহন বিমান, যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান পরিবহন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পরিবহন ও সরবরাহ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে প্রায় ১০০টি এএন-৩২ বিমান রয়েছে।

কয়েক মাস আগে আসামের কার্বি আংলং জেলায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সুখোই সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট নিহত হন। ওই বিমানটিও জোরহাট বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে নিয়মিত উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগসংবলিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে ইরানে ৩০০ কোটি ডলার পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে দেশটি।

এক বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ইরানের কোনো জব্দ করা তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা আমিরাতের মাধ্যমে সরবরাহ করার ঘটনা ঘটেনি।

মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের দাবি পুরোপুরি অসত্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমগুলোকে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আরব আমিরাত। দেশটি বলেছে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের ওপর ভরসা করতে হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যাচাই না করা তথ্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশ বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। এই চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এ চুক্তির কিছু তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে কি না, তা নির্ভর করবে তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত কিছু হামলা বাতিল করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের আলোচকেরা ‘একটি চমৎকার সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই এই চুক্তি সই হতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

গত এপ্রিলে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝেমধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি চলতি সপ্তাহেও উভয় পক্ষ দুই দফায় একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে।

মানচিত্রে হরমুজ প্রণালি
মানচিত্রে হরমুজ প্রণালিফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত কিছু হামলা বাতিল করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের আলোচকেরা ‘একটি চমৎকার সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই এই চুক্তি সই হতে পারে।

গতকাল শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে একটি ১৪ দফা চুক্তির বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এর সঙ্গে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।

এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। উল্লেখ্য, এ চুক্তির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ প্রধান প্রধান বিষয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে এই চুক্তি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ক আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদ ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর সদস্যদের মধ্যে এ চুক্তির সর্বশেষ শর্তগুলো নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে এখনো কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আপাতত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ প্রধান প্রধান বিষয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে এই চুক্তি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ক আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি।

পশ্চিমা দেশগুলো দশকের পর দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে। তবে ইরান বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ কাজের জন্যই এ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে তেহরানের রাস্তায় আবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে তেহরানের রাস্তায় আবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে,ছবি: রয়টার্স
 

গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এ চুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। বিনিময়ে ইরানের নৌ-পরিবহনের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। পদক্ষেপগুলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করা হবে। এরপর শুরু হবে ৬০ দিনের একটি আলোচনা প্রক্রিয়া। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রধান উপাদান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, আলোচনার ফলে ওই সব উপাদান ইরানের ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এটি ঠিক কীভাবে করা হবে, সেই সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ইরান আর্থিক সুবিধা পাবে শর্ত পূরণের ভিত্তিতে

অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে আগেভাগে কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে ইরানি গণমাধ্যমের আগের কিছু প্রতিবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মূল আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানের কিছু অবরুদ্ধ সম্পদ বা তহবিল ছেড়ে দেওয়া হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এর পরিবর্তে ইরানকে ধাপে ধাপে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ বা তহবিল অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করার মতো পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে পর্যায়ক্রমে।

এই চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য প্রক্সি বা ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কোনো বিশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি, বরং তা তৈরি হয়েছে কাজের প্রমাণের ওপর। ইরান শুধু তখনই অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, যখন এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতায় সহায়তাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যে বর্তমানে একটি সতর্ক আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে এখনো কিছুটা পথ বাকি। গত এক বা দুই মাসে বেশ কয়েকবার এ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত নিউজ চ্যানেলে সরাসরি টেলিফোন কলে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান এখনো কোনো চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, চুক্তির খসড়ার বেশির ভাগ অংশ এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি করছে। নতুন নতুন অনুরোধ যোগ করছে।

ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে কাজ করছে।

জ্বালানিসহ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ প্রণালিকে তুলনামূলক ‘কম নিরাপদ’ করে তুলেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনায় চূড়ান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অনুমোদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানে ‘খুবই কঠিন’ হামলার যে হুমকি দিয়েছিলেন, সেই পরিকল্পনা স্থাগিতের ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির বিষয়গুলো এবং সেগুলোর বিস্তারিত—দুটোই অনুমোদন করেছে।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প জানান, সপ্তাহান্তে ইউরোপের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এ চুক্তি সই হতে পারে। তিনি এ আয়োজনে থাকতে পারবেন না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকবেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পরপরই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হবে। ট্রাম্পের এসব দাবির পরে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হলো, কিছুই এখনো চূড়ান্ত নয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধ।

৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে ওয়াশিংটন ও তেহরান; কিন্তু এ যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

এর মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সেই সময় চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। পরবর্তী সময়ে হামলা হলেও পর্দার অন্তরালে আলোচনা চলছিল।

বিবিসি

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব