• Colors: Blue Color

ইরাকের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট। ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর বিবিসির।

বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) হামলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেনি।

উড়োজাহাজটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মাঝ আকাশে দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের একটি সম্ভাবনা রয়েছে।

বিধ্বস্ত উড়োযানটির মডেল বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো-ট্যাংকার, যা মাঝআকাশে যুদ্ধ ও বোমারু বিমানের রিফুয়েলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হতো। পাইলট, কো-পাইলটসহ মোট তিনজনের একটি দল পরিচালনা করে থাকে আকাশযানটিকে। তবে বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো প্রাণহানির তথ্য দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ঘিরে বর্তমানে মার্কিন বিমান বহরের বড় একটি অংশ মোতায়েন রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

 

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এই ধরনের অনুরোধ করেছে বলে জানান রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, ভারতের প্রয়োজন এবং শোধনাগারের ক্ষমতা খতিয়ে দেখে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চললে জ্বালানি–সংকট তীব্র হবে। সেই সংকট থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর অনুরোধ করেছে। গতকাল বুধবার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে ওই অনুরোধ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, কোভিডের সময় ভারত তার নিকট প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। এবার পশ্চিম এশিয়ার লড়াইয়ের ফলে বিভিন্ন দেশে প্রতিবেশীদের আটকে থাকা নাগরিকদের উদ্ধার করা কিংবা জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বা অন্যরা ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে কি না।

প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রো পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে দেখা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। সেই সাক্ষাতের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। আজ জয়সোয়াল জানান, সেই অনুরোধ বিবেচনাধীন।

আজকের ব্রিফিংয়ে আরও দুটি বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হবে কি না বা তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কি না—জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে তার বাইরে বাড়তি কিছু বলার নেই। দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধানের ভারতে আসা ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে। উত্তরে রণধীর জয়সোয়াল শুধু বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের অবসরে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলে থাকতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন ধরেছে। এতে দুই সেনা আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ কথা জানিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, এটা ‘যুদ্ধজনিত আগুন নয়’। জাহাজের প্রধান লন্ড্রি স্পেস থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। এতে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্টে (যান্ত্রিক ব্যবস্থা) কোনো ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় আহত দুই সেনার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, রণতরিটি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।

রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড এই মুহূর্তে কোথায় অবস্থান করছে তা উল্লেখ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

মার্কিন নৌবাহিনীতে যুক্ত ১১টি রণতরির মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক বলে বিবেচনা করা হয়। ইরান যুদ্ধে এটি মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে এটা অবস্থান পরিবর্তন করে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আল–জাজিরা।

ইরানে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, মস্কো এমন পদক্ষেপের জন্য চাপ দিচ্ছে যা উত্তেজনা কমাতে পারে এবং দ্বন্দ্বকে কূটনৈতিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পুরো অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি দুঃসহ হয়ে উঠেছে। চলমান যুদ্ধ দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

সূত্র: আল–জাজিরা।

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে অন্য ১৫ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। আজ দুপুরে সকালে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ খান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, ১৬ দেশের কোথাও অন্যায্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রণোদনা প্রদান এবং মেধাস্বত্বের লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখতে তারা শুনানি করবে। এমন অভিযোগের প্রমাণ পেলে হয়তো তারা বাড়তি শুল্ক বসাতে পারে।’

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির। তবে আমি এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছি না। তার কারণ, বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনে মেধাস্বত্বের চর্চা এখনো সীমিত। মার্কিন ব্র্যান্ডের পণ্যের বাজারও খুবই ছোট। শ্রম অধিকারের ইস্যু ইতিমধ্যে আমরা মীমাংসা করেছি। পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনাও খুবই অল্প। কৃষিতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই কৃষিতে প্রণোদনা দেয়। আর আমাদের সরকার তো শুধু সারে প্রণোদনা দিয়ে থাকে।’

মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাটা যৌক্তিক নয়। তার কারণ, দেশটিতে আমাদের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। আর আমরা যেসব তৈরি পোশাক উৎপাদন করি, সেগুলো মার্কিন ব্যবসায়ীরা কখনোই করবেন না।

বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, যেহেতু তদন্তে বাংলাদেশের নাম এসেছে, সেহেতু সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অগ্রিম যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যেন আমরা ভালোভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারি।

উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ তদন্ত করা হবে।

তদন্তে যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, তা হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না এবং সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।

বাংলাদেশসহ আরও যে ১৫টি দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত করা হবে, সেই দেশগুলো হলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলা তাঁর দেশের যুদ্ধ বন্ধে তিনটি শর্ত দিয়েছেন।

শর্তগুলো হলো, তেহরানের নায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ (ক্ষতিপূরণ প্রদান) এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—আন্তর্জাতিক মহল থেকে এমন দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব