• Colors: Blue Color

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ সংসদ সদস্য গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, তাঁরা এবার লোকসভায় আলাদা আসন নিয়ে বসতে চান। তবে তৃণমূল বা নতুন তৃণমূলের নাম নিয়ে বসা যে সম্ভব হবে না, সেই ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিদ্রোহী এই ২০ সংসদ সদস্য নতুন একটি অখ্যাত আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন। ওই দলটির নাম ভারতের জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল বা এনসিপিআই।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই ২০ সংসদ সদস্য অখ্যাত দলটিতে যোগদানের ফলে কার্যত দলটি ভেঙে গেল।

এই এনসিপিআই দলটি প্রথম গঠন করেন অনিকেত দে ও শিউলি কুন্ডু। হাওড়ার সাকরইল থেকে তাঁরা এই দল গঠন করেন। প্রথম এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময় এই এনজিওকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করা হয়।

দলটির নেতা হন উত্তীয় কুন্ডু ও শিউলি কুন্ডু। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই দলটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দল থেকে সাতজনকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তাদের দলীয় প্রতীক হচ্ছে কলম। ওই নির্বাচনে সাত প্রার্থীর কেউ জয়ী হতে পারেননি। জয় পাওয়া তো দূরের কথা, ভোটও পেয়েছেন হাতে গোনা কিছু। ওই সাত প্রার্থীর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন কৈলা বিধানসভা আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলী। পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট।

তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার হাতে আলাদা বসার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন তুলে দেন। ১৪ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লি
তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার হাতে আলাদা বসার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন তুলে দেন। ১৪ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লি, ছবি: এএনআই
 

অবশেষে আইনগত নানা দিক খতিয়ে ও ঝুঁকি এড়াতে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এনসিপিআই দলে নিজেদের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। মিশে গেছেন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে। আর লোকসভায় ২০ জন সংসদ সদস্য পেয়ে দেশের অখ্যাত এক রাজনৈতিক দল এখন দেশে পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় হয়। রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয় ৮০ আসনে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুর্নীতিরও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে দলের অনেক বিরুদ্ধে।

দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রস্তাব দেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। স্পিকারের কাছে লেখা অভিষেকের চিঠিতে ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ আবেদন করা হয় স্পিকারের কাছে। তবে বিদ্রোহী শিবির থেকে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ স্পিকারের কাছে অভিষেকের করা আবেদনে অনেকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

ঢাকায় ভারতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢেকে আজ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে গতকাল রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দিল্লির ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। ঘটনার বিস্তারিত খবর নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট উইং।

কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ‘রহস্যজনক কারণে’ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে আজ দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন।

আজ থেকে দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। সেখানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় দেশটির বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিমানটির দুই চালক। 

সোমবার (১৫ জুন) সকালের দিকে প্রদেশের মারদান জেলায় ঘটেছে এ ঘটনা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

নিহত দুই চালকের নাম-পরিচয়ও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। এরা হলেন বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুহম্মদ কাসিম আব্দুল্লাহ এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তাহা আব্বাসী।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুটিন প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিমানটি উড়িয়েছিলেন এ দুই চালক। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই মারদান জেলায় ভূপাতিত হয় বিমানটি। চালক দু’জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে পাকিস্তান আইএসপিআর।

এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

এর আগে, গত সপ্তাহেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ২২ জন সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত হয়েছিলেন এ ঘটনায়।

 

যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তিতে যে ১৪ বিষয় থাকছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে বিষয়গুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ সোমবার ভোররাতে দুই দেশের চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান।

এরপর ইরানের আধা সরকারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪টি বিষয় প্রকাশ করে। সেগুলো হলো:

# লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।

# ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।

# ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

# ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির মধ্য দিয়ে এই প্রণালি আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির মধ্য দিয়ে এই প্রণালি আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স
 

# ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।

# যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে, যাতে ব্যয় হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার।

# ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার অবসান।

# পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত।

# ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।

বার্তা সংস্থা মেহরের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের অর্ধেক না ছাড়া, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত যে চুক্তি হবে, সেটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে অনুমোদিত হবে।

হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন শুরু হবে

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: এএফপি
 

বিশ্বের জাহাজগুলোকে ইঞ্জিন চালু করার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেল পরিবহন চলবে।

পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন।

‘এই মহান চুক্তি ওই পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে,’ ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং আমার আগে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ওই অঞ্চলের নেতারা এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে তাদের সহায়তা করতে পারেন।’

শুক্রবার চুক্তিতে সই হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর এই প্রণালির উভয় পাশ দিয়ে ওই অঞ্চল ও পুরো বিশ্বের জন্য তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

চুক্তিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি ডানপন্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা ইসরায়েল মোটেও সহজভাবে নেবে না। এরই মধ্যে ইসরায়েলি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোয় ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এসব সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলোর এ অবস্থান বেশ অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। অল্প কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রয়টার্স ফাইল ছবি
 

এখন আসল ঘটনা হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর আগের মতো একই জায়গায় নেই। ট্রাম্পের এ চুক্তির ঘোষণার ফলে ইসরায়েল এখন লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এমনকি ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের সেনা সরিয়ে নিতে পারে অথবা তাদের আগ্রাসন স্থগিত করতে পারে।

বিষয়টিই ইসরায়েলের কট্টরপন্থীদের ক্ষোভের মূল কারণ দাঁড়িয়েছে। তাঁরা একে ইসরায়েলের জন্য একটি রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন, এ চুক্তিকে তেহরানে বিজয় হিসেবে দেখা হবে। আর ইরানের সেই বিজয় আসলে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবেই গণ্য হবে।

বিবিসি

যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

যদিও আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অবিলম্বে’ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করেছিলেন, চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার ঘোষণার পরপরই জলপথটি খুলে দেওয়া হতে পারে।

এএফপির খবরে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

চুক্তির ১৪টি বিষয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও রয়েছে। বলা হয়েছে, চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।

বৈশ্বিক জ্বালানি–বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

ট্রাম্প গতকাল রোববার বিকেলে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর জলপথটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কোনো টোল দিতে হবে না।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ২৮ মিনিটের এই টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি আবার সামরিক হামলা শুরু করবেন। অথবা যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা নেবে। বিনিময়ে অঞ্চলটির রাজস্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই ‘মহান চুক্তি’ পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

বিবিসি এএফপি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার হুমকির পরও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিটি রোববারের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াটি ‘কয়েক ঘণ্টা’ পিছিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

অ্যাক্সিওসের সঙ্গে রোববার এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, ‘(ইসরায়েলের আজকে হামলা) সবকিছু কিছুটা ওলটপালট করে দিয়েছে। এটি চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াকে কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছে। এটি এখনই হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন থেকে আর কয়েক ঘণ্টা পর তা সম্পন্ন হওয়ার নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

ট্রাম্প জানান, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে যখন তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে ব্রিফ করতে ফোন করেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত হন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অ্যাক্সিওস ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি খুবই খারাপ একটি বিষয়। আমি তা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। ঠিক যে মুহূর্তে আমাদের চুক্তিতে সই করার কথা, তার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এ ঘটনা ঘটল।’

তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে হতে যাওয়া এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্যও ভালো হবে। কারণ, এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখবে, পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে বাধ্য করবে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) অনুমতি দেবে।

এদিকে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানকে লেবাননে রোববারের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা না করার জন্য অনুরোধ জানাবেন।

ইরানের কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি

বৈরুতে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে ‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই হুমকি দেন।

ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ‘বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের আজকের (রোববার) এই অপরাধ যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও গ্রহণযোগ্যতাহীন তা আবারও প্রমাণ করেছে। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে (ইসরায়েলকে) নিয়ন্ত্রণ করার পর্যন্ত ক্ষমতা রাখে না।’ তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘একটি কড়া জবাব আসছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রোববার হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য প্রাথমিক চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, রোববারের মধ্যে ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হতে পারে। ইরান বলেছে, চুক্তির প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত। রোববার নয়, কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে, তাতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে থাকছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব