• Colors: Blue Color

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জরুরি বার্তা দিয়েছেন। আজ সোমবার বেলা একটার দিকে তিনি এ বার্তা দেন।

মমতা জয় নিয়ে আশাবাদের কথা জানান। মন খারাপ না করে কর্মীদের লড়াই করতে আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এটিকে বাংলার মানুষের গণতন্ত্রের জয় বলে অভিহিত করেন। তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে, বলেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, ‘দয়া করে কাউন্টিং এজেন্ট, প্রার্থীরা এলাকা ছেড়ে আসবেন না। স্ট্রং রুমে যেখানে ভোট গণনা হচ্ছে, সেটা ছেড়ে কেউ আসবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান।’

মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, প্রথম দু–তিন রাউন্ডে ওদেরগুলো আগে দেখাবে। আমাদেরগুলো পরে দেখাবে। প্রায় ১০০টা জায়গায় কাউন্টিং বন্ধ রেখে দিয়েছে। কল্যাণীতে ৭টা মেশিন পাওয়া গেছে, যেখানে কোনো মিল নেই।’

কেন্দ্রীয় বাহিনী চারদিকে তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। এই বাহিনী জোর করে ভোট দখল করছে, অফিস ভাঙছে, এসআইআরে ভোট লুট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেস ৭০ থেকে ১০০ আসনে এগিয়ে আছে। কিন্তু সেগুলো প্রকাশিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘টোটাল মিথ্যে নিউজ খাওয়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে খেলছে। আমাদের পুলিশেরা মাথা নত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অধীনে কাজ করছে।’

কর্মীদের মন খারাপ করার কারণ নেই বলেন মমতা। তাঁদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম সূর্যাস্তের পর জিতবেন। তিন রাউন্ড, চার রাউন্ড গণনা হলেও এটা ১৪ রাউন্ড থেকে ১৮ রাউন্ড হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি। ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর বলছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় সোমবার বেলা ২টা) গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে আছে ১৯৩ আসনে। আর তৃণমূল ৯৬ আসনে এগিয়ে।

এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে । অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি পেতে যাচ্ছে বড় জয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা যখন জয় নিয়ে আশাবাদের কথা বলছেন, তখন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, এটি বাংলার মানুষের গণতন্ত্রের জয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে। বর্তমান ট্রেন্ড প্রমাণ করছে যে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে।’

একদিকে সুকান্ত মজুমদারের বিজয়োল্লাস, অন্যদিকে মমতার জয়ের আশা—সব মিলিয়ে বাংলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা বিকেলের চূড়ান্ত ফলাফলের।

ইরান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজ (বাল্ক ক্যারিয়ার) হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রমবিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি জানায়, পণ্যবাহী জাহাজটি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সিরিক থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল (১৮ কিলোমিটার) পশ্চিমে ছোট ছোট কয়েকটি নৌযান থেকে জাহাজটির ওপর হামলা চালানো হয়।

ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজের সব নাবিক ও ক্রু নিরাপদ আছেন। এ ছাড়া এই ঘটনার ফলে সমুদ্রের পরিবেশে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আল–জাজিরা।

পশ্চিমবঙ্গে টানা ৯৬ ঘণ্টার টান টান উত্তেজনার অবসান ঘটতে চলেছে আগামীকাল সোমবার। দুপুরের মধ্যেই সবাই জেনে যাবে শেষ হাসি কে হাসতে চলেছেন—মোদি না দিদি। রাত পোহালেই ঘটতে চলেছে অভূতপূর্ব এই নির্বাচনী নাটকের যবনিকা উত্তোলন। স্বাধীনতা–উত্তর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এমন ক্ষুরধার প্রতিযোগিতা অতীতে দেখা যায়নি। এমন ‘কী হয়, কী হয়’ উত্তেজনাও অদৃশ্যপূর্ব। সংগত কারণেই ভারতের দেশের নজর নিবদ্ধ পশ্চিমবঙ্গে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, চিটাগুড়ে মাছির আটকে পড়ার মতো এপার বাংলার দিকে আটকে রয়েছে বাংলাদেশের নজরও। সীমান্তপারে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কের রসায়নে কী কী বদল ঘটতে পারে, সেই চিন্তাও আচ্ছন্ন রেখেছে পদ্মাপারের মানুষজনকে। নইলে চার দিন ধরে ‘কী হতে চলেছে’, ‘কী হবে’ এই প্রশ্ন দূরাভাষে অবিরাম ভেসে আসত না।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে (ভারতীয় সময়) শুরু হবে ভোট গণনা। প্রথমে গোনা হবে পোস্টাল ব্যালট। তারপর খোলা হবে ইভিএম। ২০২১ সালে রাজ্যের জেলায় জেলায় মোট ১০৮টি কেন্দ্রে গণনা হয়েছিল। এবার নির্বাচন কমিশন প্রথমে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৮৭টি করে। পরে আরও ১০টি কেন্দ্র কমিয়ে সংখ্যাটি ৭৭ করা হয়েছে। কলকাতায় নির্বাচনী কেন্দ্র রয়েছে ১১টি। সেগুলোর গণনা হবে পাঁচটি কেন্দ্রে। রায়–বন্দী ইভিএমগুলো ভোট শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে ‘সিল’ করা হয়েছে। রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রং রুমে। চার দিন ধরে যুযুধান দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতা–কর্মীরা পালা করে স্ট্রং রুম পাহারা দিচ্ছেন। পাহারায় আছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। গণনা নিয়ে দুই পক্ষই কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে রেখেছে। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে গণনাকেন্দ্রে কর্মীদের ইতিকর্তব্য সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, শাসকের এজেন্টরা ভোট লুটের চেষ্টায় খামতি রাখবে না। কিন্তু একটি ভোটও চুরি হতে দেওয়া যাবে না।

গণনাকেন্দ্রে থাকা দলীয় এজেন্ট ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও গণনাকেন্দ্রের বাইরের তৎপরতা কেমন হবে তা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে টেনে দেওয়া গণ্ডির বাইরে থাকতে বলা হয়েছে পাঁচ হাজার দলীয় কর্মীকে। এই কর্মীদের মধ্যে থাকবেন দলের ছাত্র, যুব, মহিলা ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা। গণনাকেন্দ্রের কাছের সব পার্টি অফিস সকাল থেকেই খুলে রাখতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, সকাল থেকেই যেন পার্টি অফিসগুলো গমগম করে। রোববার সকাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস লাগাতার খোলা থাকবে। কোথাও কোনো গড়বড় দেখলেই তা সেই অফিসে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৎপরতা বিজেপিতেও। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ অনুভব করে কর্মীদের ‘সব রকমভাবে’ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তৃণমূলের চেয়ে বিজেপির তৎপরতা যদিও কিছুটা কম। তারা জানে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট–পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছে। গণনা–সম্পর্কিত কারচুপির শঙ্কাও তাদের কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক রাজ্য নেতা গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এতকাল রাজ্যে যেভাবে ভোট হয়েছে, সবাই বলছে, এবারের ভোট তা থেকে আলাদা। এই প্রথম নির্বাচন কমিশন নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে পেরেছে। গণনায় তার প্রতিফলন ঘটবে। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে নিশ্চিন্তে রায় দিতে পেরেছে।’ ওই নেতা বলেন, ‘দলীয় কর্মীদের বলা হয়েছে তাঁরা যেন রোববার সারাটা দিন পরিবর্তন কামনা করে মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা করেন।’

স্ট্রং রুম পাহারা দিচ্ছেন বিজেপির নেতা কর্মীরাও। এই পাহারার কাজে তারা প্রধান দায়িত্ব দিয়েছে দলের নারী কর্মীদের। তৃণমূলের তুলনায় বিজেপির ভোট–শিক্ষিত কর্মী ও বুথ এজেন্টদের সংখ্যা কম। অভিজ্ঞতাও কম। কিন্তু এবার সেই ঘাটতি পূরণে তারা তৎপর। গত কদিন ধরে তারা এই বিষয়ে বিশেষ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করেছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় করা হয়েছে কর্মশালাও। বিজেপির আশঙ্কা, গণনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস জায়গায় জায়গায় গোলমাল করতে পারে। তা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কর্মীদের ‘সমন্বয় রাখতে’ বলা হয়েছে।

চার দিন ধরে রাজ্য তো বটেই, দেশেরও সর্বত্র একটাই জল্পনা, শেষ পর্যন্ত বাজি কে মারবেন। নরেন্দ্র মোদি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিশ্চিত পূর্বাভাস বা ভবিষ্যদ্বাণী এতটাই অনিশ্চিত যে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ ও ‘সি ভোটার’–এর মতো পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী সমীক্ষক সংস্থা সম্ভাব্য জয়ী কে হবেন সেই ইঙ্গিত দেয়নি। বুথ ফেরত সমীক্ষার পর সবাই মোটামুটিভাবে একমত, আসামে বিজেপি, কেরলমে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ, তামিলনাড়ুকে ডিএমকে–কংগ্রেস জোট এবং পদুচেরিতে এনআর কংগ্রেস–বিজেপি জোট ক্ষমতায় আসছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও ফল নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় প্রবল। এসআইআর কাদের পক্ষে যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের হয়রানি বাঙালির জাত্যভিমানে ঘা দিয়েছে কি না, তৃণমূল কংগ্রেস এই লড়াই ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’–এ পরিণত করতে পেরেছে কি না, পরিবর্তনের হাওয়া শহরাঞ্চলের মতো গ্রাম ও মফস্‌সলেও বহমান কি না, সংখ্যালঘু মুসলমান ও নারীরা এবারেও দৃঢ়ভাবে ‘দিদি’র পক্ষে কতটা দাঁড়াচ্ছে, বঙ্গবাসী সত্যিই তৃণমূলের পনেরো বছরের শাসনে বীতশ্রদ্ধ কি না, এই প্রশ্নগুলোর নিশ্চিত জবাব কারও কাছে নেই।

ভোটদানের হার এত বেশি হওয়ার মানেই–বা কী, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির মোকাবিলা নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে বিজেপি গোটা রাজ্যে সফলভাবে করতে পারল কি না, তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে সাধারণ মানুষ মোদির চেয়ে দিদির ওপর এবারও ভরসা রাখল কি না সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নয়। ফলে শিক্ষিত মধ্য ও উচ্চবিত্ত হিন্দু বাঙালি পরিবর্তনের পক্ষে নরেন্দ্র মোদির হাত ধরলেও সেই হাওয়া যে গোটা রাজ্যে সমভাবে বহমান, নিশ্চিতভাবে তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে উত্তেজনা এখনো টান টান। মোদি ও দিদির মধ্যে পেন্ডুলাম দুলেই চলেছে।

দোলাচলের আসল কথাটা পরিচিত সমীক্ষক যশোবন্ত দেশমুখ কবুল করেছেন। ‘সি ভোটার’ এর কর্ণধার বলেছেন, ‘একদিকে দেখছি সরকারবিরোধী মনোভাবের প্রাবল্য, অন্যদিকে দেখছি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জনপ্রিয়তা। যে রাজ্যে মোট ভোটারের এক–তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু মুসলমান, যারা এখনো বিজেপির প্রতিস্পর্ধী হিসেবে দিদিকেই আঁকড়ে রয়েছে, তাদের সঙ্গে নারীদের সমর্থন অটুট থাকলে পরিবর্তনের হাওয়া কি ওলট–পালট করে দিতে পারবে? এই ধাঁধার উত্তর মিলবে আগামীকাল দ্বিপ্রহরেই। ততক্ষণ টান টান উত্তেজনাতেই কাটাতে হবে সবাইকে।

কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি।

গত শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫৪ বছর বয়সী নার্গিসকে উত্তর-পশ্চিম ইরানের কারাগার থেকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তাঁকে অনেক দেরিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার নরওয়েতে বসবাসরত নার্গিসের ভাই বিবিসিকে বলেন, ‘হঠাৎ করে তাঁর রক্তচাপ অনেক কমে গেছে। চিকিৎসকেরা এখনো তা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে পারছেন না।’

নার্গিস মোহাম্মাদি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ইরানি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করায় গত ডিসেম্বরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত মাসে তাঁর ভাই হামিদরেজা মোহাম্মাদি বলেন, উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান কারাগারে হার্ট অ্যাটাক করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য বন্দীরা তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পান। হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তচাপের পুরোনো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে পাঠাতে অস্বীকার করে বলেও জানান হামিদরেজা।

হামিদরেজা মোহাম্মাদি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর সমস্যা হলো নিম্ন রক্তচাপ ও হার্ট অ্যাটাক। তেহরানের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হলে নার্গিসের পরিচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা করতে পারবেন।

একই দাবি তুলেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির প্রধান ইয়ুর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, মোহাম্মাদির জীবন এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে।

নার্গিস মোহাম্মাদি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জীবনে এ পর্যন্ত ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন নার্গিস। মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা হয়েছে তাঁর। ২০২১ সালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ ও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে ১৩ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেন তিনি। এসব অভিযোগ তিনি সব সময় অস্বীকার করে আসছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার জন্য তেহরানের এভিন কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি পান নার্গিস। চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর আন্দোলনও চলতে থাকে। গত ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে এক মানবাধিকারকর্মীর স্মরণসভায় বক্তৃতা দেওয়ার পর তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল বলে জানায় তাঁর পরিবার।

এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে কারাবন্দী নার্গিসকে সাত বছরের বেশি সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নার্গিসের আইনজীবী জানিয়েছেন, অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং এতে যোগসাজশের অভিযোগে এই মানবাধিকারকর্মীকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

এএফপি

ইরানের পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি খুব শিগগির পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

গতকাল শনিবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা (শান্তি প্রস্তাব) পাঠিয়েছে, তা আমি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি মনে করতে পারছি না। কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা মানবতা ও বিশ্বের যা ক্ষতি করেছে, তার জন্য তারা এখনো পর্যাপ্ত মূল্য পরিশোধ করেনি।’

ট্রাম্প ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থানকালে এই মন্তব্য করেন। ইরানের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবে কী কী বিষয় রয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর দুদেশের চলমান উত্তেজনা নিরসনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

অনেক বছরের চেষ্টায় সন্তানের মা হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিসি ওয়াল্টার্স। কিন্তু ছয় মাস যেতেই এক বড় দুঃসংবাদ পান তিনি। ক্রিসি ওয়াল্টার জানতে পারেন, তিনি এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। মেয়ের বড় হয়ে ওঠা তিনি হয়তো দেখতে পারবেন না।

ক্রিসি ওয়াল্টারস অস্ট্রেলিয়ার টুউম্বা শহরের বাসিন্দা। একদিন বাড়িতে থাকাকালে হঠাৎ তাঁর বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়। এরপর একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বায়োপসির পর জানতে পারেন, তিনি জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত। ওই সময় ক্রিসি ওয়াল্টারসের বয়স ছিল ৩৯ বছর।

এই নারী বলেন, ‘আমি শুধু আমার স্বামী নিলকে বলেছিলাম, নিশ্চয়ই বড় ধরনের কোনো ভুল হয়েছে।’

এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে কঠিন ও অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা নিচ্ছেন ক্রিসি ওয়াল্টারস। তবে ক্যানসার ইতিমধ্যে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তাঁর রোগটি সারার পর্যায়ে নেই।

ক্রিসি বলেন, ‘আমি চাইব না, আমার সঙ্গে বাজে রকমের শত্রুতা থাকা ব্যক্তিরও কখনো এ রোগ হোক।’

ক্রিসি ওয়াল্টারসের মেয়ের বয়স এখন ১২ বছর। ক্যানসারের সঙ্গে মায়ের লড়াই দেখতে দেখতে সে বড় হয়েছে। ক্রিস্টি ওয়াল্টারস বলেন, মেয়ের বয়স মাত্র তিন বছর থাকতেই পারিবারিকভাবে মৃত্যুর মতো কঠিন বিষয় নিয়েও খোলামেলা কথা বলতে হয়েছে। তবে ২০২৬ সালে তাঁর মেয়ে এমন বয়সে পৌঁছেছে, যখন অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ভবিষ্যতে দেশ থেকে এ ধরনের ক্যানসার নির্মূল করাটাই এ টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্য।

এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সাধারণত কোনো উপসর্গ তৈরি করা ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে। অনেক সময় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকে চলে যায়। তবে ভাইরাসটির কিছু উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ধরন আছে। আর এ ধরনগুলো শরীরে ধীরে ধীরে জরায়ু ক্যানসার তৈরি করতে পারে। বিশ্বে নারীরা সাধারণত যেসব ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তার মধ্যে জরায়ু ক্যানসারের অবস্থান চতুর্থ।

অস্ট্রেলিয়া আশা করছে, আগামী এক দশকের মধ্যে তারা তা করতে পারবে। আর এভাবে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একধরনের ক্যানসার পুরোপুরি শেষ করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ার হাইস্কুলগুলোতে টিকা দেওয়ার দৃশ্যটি কমবেশি একই রকম। স্কুলে ১২ ও ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এক জায়গায় সারি করে বসে এবং একজন নার্স তাদের একে একে টিকা দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাতে ছোট একটি ব্যান্ডেজ নিয়ে তারা ক্লাসে ফিরে যায়। ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম নামের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের তিনটি টিকা দেওয়া হয়। এর একটি হলো এইচপিভি টিকা।

এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস সাধারণত কোনো উপসর্গ তৈরি করা ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে। অনেক সময় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকে চলে যায়। তবে ভাইরাসটির কিছু উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ধরন আছে। আর এ ধরনগুলো শরীরে ধীরে ধীরে জরায়ু ক্যানসার তৈরি করতে পারে। বিশ্বে নারীরা সাধারণত যেসব ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তার মধ্যে জরায়ু ক্যানসারের অবস্থান চতুর্থ।

তবে ভালো খবর হলো যে ধরনের ক্যানসারগুলো প্রতিরোধে আগে থেকে টিকা নেওয়া যায়, তার একটি এটি।

অস্ট্রেলিয়া ১৯৮২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২১ সালের তথ্যানুযায়ী প্রথমবারের মতো ২৫ বছরের নিচের নারীদের মধ্যে কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি।

২০০৬ সালে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষাগারে চালানো গবেষণায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়। দীর্ঘ গবেষণার পর অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা গার্ডাসিল নামের একটি টিকা তৈরি করেন, যা এইচপিভি প্রতিরোধ করতে পারে। পরে এ টিকা ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পায়। এর এক বছর পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে।

এ টিকা বিশ্বের স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার নির্মূলের সম্ভাবনা নিয়ে আশা জাগিয়েছে। বিশ্বে জরায়ু ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত গবেষক কারেন ক্যানফেল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, সঠিক কৌশল নিলে এই ক্যানসার ধীরে ধীরে নির্মূল করা সম্ভব। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়া কি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে

প্রকৃত অর্থে অস্ট্রেলিয়ায় জরায়ু ক্যানসারকে জনস্বাস্থ্যবিষযক সমস্যা হিসেবে নির্মূল করার মানে রোগটি একেবারে শূন্য হয়ে যাওয়া নয়। বিজ্ঞানীরা ‘নির্মূল’ বলতে বোঝান—প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ জনের কম হওয়া।

একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য পূরণের পথে আছে। এমনকি সময়ের আগেই সেই লক্ষ্য অর্জন হয়ে যেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ১৯৮২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২১ সালের তথ্যানুযায়ী প্রথমবারের মতো ২৫ বছরের নিচের নারীদের মধ্যে কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি।

গবেষক কারেন ক্যানফেল বলেন, সব বয়সী নারীদের এ রোগ থেকে নিরাপদ রাখা না গেলেও নির্মূলের ধারণা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ১ লাখ নারীর মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ৩ জন নতুন রোগী পাওয়া যায়। ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে টিকা নেওয়ার হার ৮০ শতাংশের একটু বেশি। আর ঝুঁকিপূর্ণ বয়সে থাকা নারীদের ৮৫ শতাংশ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন।

তবে ক্যানফেল সতর্ক করে বলেছেন, টিকা নেওয়ার হার সামান্য কমছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার হার কমছে। আদিবাসী নারীদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসারের হার দ্বিগুণ এবং মৃত্যুর হার তিন গুণের বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমান গতিতে এগোলে আদিবাসী গোষ্ঠীর নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ু ক্যানসার নির্মূল হতে ২০৩৫ সালের লক্ষ্যের তুলনায় আরও ১২ বছর বেশি সময় লাগবে।

গবেষক নাটালি স্ট্রোবেন এবং তাঁর গবেষণা সহযোগী জোসলিন জোন্স বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে টিকা নিয়ে অনীহা, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে অনেক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।

গবেষকেরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার এ সাফল্যের অভিজ্ঞতাকে কম ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ, খরচ একটি বড় বাধা। এসব দেশে প্রয়োজনীয় অর্থ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেক সময় থাকে না।

বিশেষজ্ঞ কারেন ক্যানফেল ও তাঁর দল বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, জরায়ু ক্যানসার নির্মূল করা একটি ভালো বিনিয়োগ, যা দীর্ঘ মেয়াদে খরচ কমাবে। এতে শুধু জীবনই বাঁচে না, সমাজেও বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নারীরা কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় থাকতে পারেন। এতে অর্থনৈতিক উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।

অস্ট্রেলিয়া এখন সরকারি তহবিল ও দাতব্য তহবিলের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশে এই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করছে।

তবে বিশ্বজুড়ে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তারা গ্যাভি নামের জোটকে আর সহায়তা দেবে না। এ জোট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিকা সরবরাহ করে।

কারেন ক্যানফেল বলেন, ‘খোলাখুলি বললে, আমরা ভাগ্যবান যে একটি উচ্চ আয়ের দেশে আছি, যেখানে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ রয়েছে।’

বিবিসি

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব