• Colors: Blue Color

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। আজ রোববার হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হামলার পর বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক হামলার জবাবে বৈরুতে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রোববার হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলো লক্ষ্য করে তিনটি রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের মতে, এটি যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন।

হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শোমেরা ও শ্লোমি এলাকার কাছাকাছি এলাকায় পড়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে হামলা চালিয়েছিল, তখন ইরান সরাসরি ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।

হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তেহরান শুরু থেকে জোর দিয়ে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ইঙ্গিত দিয়েছেন, আজ রোববারের মধ্যে ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে, তাতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি চুক্তিতে থাকছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। এর দুই দিন পর ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে। গত ৪ এপ্রিল প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের দূতিয়ালিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে।

২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির ১০ লাখের বেশি তথা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী আজ রোববার ইংলিশ চ্যানেল থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর (ছদ্মনাম বা তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজবহর) একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তারা ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তেলের ট্যাংকারটি আটক করেন। ‘স্মির্টোস’ নামের ট্যাংকারটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ছিল। যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে এ প্রথম রুশ তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চালানো হলো।

স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে অভিযানটি শুরু হয়। এর আগে আটলান্টিকে এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনার সময় যুক্তরাজ্য ফরাসি সেনাবাহিনীকে সহায়তা দিয়েছিল।

ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে ডরসেট উপকূলে সমুদ্রতীরবর্তী শহর ওয়েমাউথের কাছে নোঙর করে রাখা আছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে ট্যাংকারটিতে পরিবেশগত বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কি না, তা আগে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে তেলবাহী ট্যাংকারটি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।
 

এখানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে গোপনে রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে পরিবহন করতে ব্যবহৃত তৃতীয় দেশের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজবহরকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজবহর বলা হচ্ছে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘স্মির্টোস’–এর মতো সাত শর বেশি তেলের ট্যাংকার রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার তেল বহন করে। এ ‘শ্যাডো ফ্লিটে’ রাশিয়ার নিষিদ্ধঘোষিত তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবাহিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন জাহাজবহর রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ‘শ্যাডো ফ্লিট’ রাশিয়াকে তেল বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি যোগাযোগ সদর দপ্তরের (জিসিএইচকিউ) প্রধান বলেন, রাশিয়া যুক্তরাজ্যের অবকাঠামো ও গণতন্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে তেলবাহী ট্যাংকারটি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না।কিয়ার স্টারমার, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
 

প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘এ সফল অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা। যারা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে, তাদের মনে করিয়ে দেওয়া যে আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না। আমি এ অভিযানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের, যাঁরা বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টা এই দেশকে নিরাপদ রাখেন।’

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেরিটাইম এয়ার গ্রুপের উড়োজাহাজগুলো এ সামরিক অভিযানে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি পি–৮ উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস সাদারল্যান্ড ও এইচএমএস লেডব্রি অভিযানে অংশ নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘শ্যাডো ফ্লিট’ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং এরই মধ্যে ৫০০টির বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে তেল ও গ্যাস থেকে রাশিয়ার আয় ২৪ শতাংশ কমেছে।

গত মার্চে স্টারমার ঘোষণা করেছিলেন, ‘ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী এখন আমাদের জলসীমা দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোতে উঠে তল্লাশি চালাতে সক্ষম।’

দ্য গার্ডিয়ান

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রস্তাবটির রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে তেহরান।

এসব বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একটি সূত্রের বরাতে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স আজ রোববার এ কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারণী নেতৃত্ব—উভয় স্তরে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির সব ধরনের প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তিটি কবে স্বাক্ষরিত হবে, তা নিয়ে গতকাল শনিবার থেকে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে। প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আগামী ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে’ চুক্তির শর্তাগুলো চূড়ান্ত হতে পারে।

শাহবাজের এই পোস্টের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি লিখেন, রোববারের (আজকের) মধ্যে চুক্তি ‘সই হওয়ার কথা রয়েছে’।

তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দাবির বিরোধিতা করে বলেছে, রোববার এই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না। একই সঙ্গে আজ (রোববার) চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ট্রাম্পের ‘অস্বাভাবিক জেদের’ও সমালোচনা করেছে তারা। উল্লেখ্য, আজ ১৪ জুন ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন।

সিএনএন

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব