ভারতীয় ক্রিকেটে দলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যার জেরে বিরাট কোহলিদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্টও করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয় ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’।

বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাঁদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। দলের বাইরের কারও সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান।

এসব বিষয়ে বিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরও একটু সিরিয়াস হতে হবে।’

হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়
হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়, এক্স
 

ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন। তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন তিনি, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যাঁদের কেউ কেউ আগে বেটিং ওয়েবসাইটের প্রচারণায় সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে আইপিএলের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (এসিইউ) একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে নতুন এক বিতর্কিত ধারণা উঠে আসে। বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এসিইউর একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁদের স্ত্রী এবং “অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ডদের” একসঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে।’

বিসিসিআই কর্মকর্তা এতে বিস্ময় প্রকাশ করে এসিইউ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান যে এই ‘অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ড’ নিয়মটি কোথা থেকে এল। এসিইউ কর্মকর্তা উত্তর দেন, ‘স্যার, আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি।’

আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই, কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। যে কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে।

সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, এমন শঙ্কায় প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।

রোববার (৩ মে) সকালে দলের প্রথম বহর ঢাকায় পা রেখেছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগার মতো তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া প্রথম বহরটি এখন রাজধানীতে। তবে প্রথম ভাগে দলের সাথে দেখা যায়নি বাবর আজমকে।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আজ ফাইনাল থাকায় দলের বেশ কিছু সিনিয়র সদস্য এবং বাবর আজম প্রথম ভাগে আসতে পারেননি। পিএসএলের ব্যস্ততা শেষ করে দ্বিতীয় দফায় তাদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

পিসিবি ঘোষিত ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে এবার বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন নতুন মুখ। অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি।

১৬ সদস্যের পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।

উল্লেখ্য, দুই ম্যাচের এই সিরিজটি মিরপুর ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। ৮ মে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দ'দল।

 

১৫ মার্চ, ২০২৬। এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সরফরাজ আহমেদ। ১৮ এপ্রিল, ২০২৬–এ তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

খেলা থেকে অবসরের এক মাস তিন দিন পরই টেস্ট দলের কোচ—কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা, অবসরের আগে থেকেই পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরফরাজ। এমনকি কাজ করেছেন পাকিস্তান দলের নির্বাচক হিসেবেও।

৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে প্রধান কোচ বানানোয় খোদ পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই সমালোচনা করেছেন। সেসব এক পাশে রেখেই সরফরাজ এখন টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভিনদেশে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন। এই দলের সঙ্গে এসেছেন সরফরাজও।

কয়েক বছর ধরে পিসিবি কোচ হিসেবে কারও ওপরই খুব একটা ভরসা করতে পারছে না। সরফরাজকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি কয়েক মাস শূন্যই ছিল। সাবেক ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে।

পরে তাঁর সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়ায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ।

পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি
পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি, এএফপি
 

তিনি আবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর। এত সব অদল–বদলই ঘটেছে ২০২৪ সাল থেকে। আর এঁদের সবাই খেলা ছেড়েছেন বেশ আগে, কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা অনেক।

প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচদের এই আসা–যাওয়ার মধ্যে হঠাৎ সরফরাজের মতো অপেক্ষাকৃত ‘নবীন’ একজন এলেন কীভাবে?

সরফরাজ পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এমনকি গত অক্টোবরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে এর পরপরই পিসিবির কোচিং–প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে  সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান
অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান, পিসিবি
 

গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে তদারকির দায়িত্ব দেয় পিসিবি। তাঁর কাজের আওতায় ছিল দলের কার্যক্রম পরিচালনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যা।

পিসিবি তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছিল, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় সিনিয়র দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক করে পাঠানো হয় সরফরাজকে। পাকিস্তানের দলটি ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সরফরাজের কোচিং–দক্ষতা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিসিবি। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান
সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, রয়টার্স
 

এমনিতে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটে সরফরাজেরও ভালো অবস্থান ছিল আগে থেকেই। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। সেটি ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের প্রথম ৫০ ওভারের আইসিসি ট্রফি। যদিও সরফরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন দল ছিল।  

পাকিস্তানের হয়ে সরফরাজ ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন ২১টি ফিফটি ও চারটি সেঞ্চুরিতে। ১১৭ ওয়ানডেতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। ১১টি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি আছে এ সংস্করণে। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে আছে ৮১৮ রান।

ভালো উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান, শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবং কোচিংয়ে সাফল্যের পরও সরফরাজকে এখনই টেস্ট দলের কোচ বানিয়ে দেওয়া কারও কারও পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভি অনুষ্ঠানে আলোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে কয়েক দিন আগে বলেছেন, ‘সাবেক ক্রিকেটার ও আমার আগের সহকর্মীদের নিজস্ব মতামত আছে। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি ইতিবাচক।’

পাকিস্তানের এই দুটি টেস্টে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে ঢাকায়, দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে সিলেটে।

নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে আবারও হারল ইন্টার মায়ামি। তবে এবারের হার লিওনেল মেসিদের জন্য বেশ যন্ত্রণাদায়কই। আজ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল মায়ামি।

কিন্তু আক্রমণভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভালো খেলতে পারেনি দলটির রক্ষণভাগে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত মায়ামি হেরেছে ৪-৩ গোলে। এর মধ্যে অরল্যান্ডো সিটির জয়সূচক গোলটি হয়েছে ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে।

ন্যু স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে মায়ামি এগিয়ে যায় তৃতীয় মিনিটে। তেলাস্কো সেগোভিয়ার বাড়ানো ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইয়ান ফ্রে। ২৫ মিনিটের সময় লুইস সুয়ারেজ এবং মেসির বল দেওয়া-নেওয়ায় আক্রমণ থেকে গোলদাতার খাতায় নাম লেখান সেগোভিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ৩৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে ব্যবধান ৩-০ করেন মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার ক্যারিয়ারে ৯০৬ নম্বর গোল এটি। ইন্টার মায়ামির হয়ে ৮৬তম।

ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসি
ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসিএএফপি
 

অরল্যান্ডো সিটি তিন গোল হজমের পর দৃশ্যপটে আসেন আরেক আর্জেন্টাইন মার্টিন ওজেদা। ২৭ বছর বয়সী এই উইঙ্গার প্রথমার্ধের বিরতির আগে একটি গোল শোধ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে নামার পর মায়ামি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় অরল্যান্ডে মায়ামি রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ চাপ বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও পেয়ে যান ওজেদা।

৭৯তম মিনিটে অরল্যান্ডে পেয়ে যায় পেনাল্টিও। যা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ৩-৩ সমতা এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ওজেদা।

ম্যাচের এই জায়গা থেকে মায়ামি হারে যোগ করা সময়ের গোল হজমে। গোলের আশায় মায়ামির সবাই ওপরের দিকে থাকায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই গোল করেন অরল্যান্ডোর তাইরেস স্পাইসার। মায়ামির জন্য উৎসবে শুরু হওয়া ম্যাচে শেষপ্রান্তে হয়ে পড়ে বিষাদের।

ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে
ম্যাচের পর হ্যাটট্রিক করা ওজেদা নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয় তুলে ধরেন ক্যামেরার সামনে, এএফপি
 

এ নিয়ে ন্যু স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর থেকে টানা চার ম্যাচ জয়হীন থাকল মায়ামি। এমএলএস পয়েন্ট তালিকায় ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে মেসিরা এখন তিন নম্বরে। এক ম্যাচ কম খেলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউ ইংল্যান্ড। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নাশভিল।

৮৮ রানের লক্ষ্য। তবে সেটি ছুঁতে যদি হাতে থাকে ৯ ওভার, তবে লক্ষ্যটাকে বড় বলতেই হবে। অন্তত বাংলাদেশ নারী দলের জন্য লক্ষ্যটা বড় তো বটেই। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে কখনোই ১৫০ রানের বেশি লক্ষ্য ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ সিলেটে আজ ৮৮ রানের লক্ষ্যটাও ছুঁতে পারেনি।

আশা জাগিয়েও আজ ৩ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরেই তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে নিগার সুলতানার দল। বৃষ্টিতে দেরিতে শুরু হয়ে ৯ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬ উইকেটে ৮৭ রান। রান তাড়ায় সমান ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ থেমেছে ৮৪ রানে।

আজকের হারের গল্পটাও আগের দুই ম্যাচের মতোই। প্রথম দুই ম্যাচেও রান তাড়া করতে হয়েছিল নিগারদের। ওই দুই ম্যাচেই ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দেওয়ার পরও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় ২৫ ও ২১ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল
আগের দুুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতায় হেরেছে বাংলাদেশ নারী দল, বিসিবি

আজ অবশ্য জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও দিলারা আক্তারের উদ্বোধনী জুটি ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। ১.২ ওভারে ১৩ রান তোলার পর দিলারার বিদায়ে ভাঙে জুটি। জুয়াইরিয়া ও সোবহানা মোস্তারির দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০ বলে ৩০ রান যোগ করার পর জুয়াইরিয়ার (১১ বলে ১৫) বিদায়ে ভাঙে জুটি।

এরপর পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি। ষষ্ঠ ওভারে সোবহানা (১৫ বলে ২১ রান) যখন ফিরলেন ২০ বলে বাংলাদেশের দরকার ৩২ রান। এরপর স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মণিও ফিরে যাওয়ার পর শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ভরসা হয়ে টিকে থাকা অধিনায়ক নিগার চামারি আতাপাত্তুর করা ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। সুলতানা খাতুন পরের তিন বলে ২টি ডাবলস ও ১টি চার মেরে জয়টাকে হাতের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু আতাপাত্তুর অভিজ্ঞতার কাছেই হার মানতে হয়। পঞ্চম বলে মাত্র ১টি রানই নিতে পারেন সুলতানা। শেষ বলে ৫ রান দরকার, শারমিন সুলতানা নিতে পারলেন মাত্র ১ রানই।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু
ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, ছবি: টুইটার
 

১৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার আতাপাত্তু বল হাতেও ছিলেন দলের সেরা। ব্যাটিং উদ্বোধন করে ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেছেন মেয়েদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়।

বাংলাদেশের অফ স্পিনার সুলতানা খাতুন ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ৯ ওভারে ৮৭/৬ (আতাপাত্তু ৪১, দুলানি ১৯, দিলহারি ১৫; সুলতানা ৩/৮, সানজিদা ১/১৬)।
বাংলাদেশ: ৯ ওভারে ৮৪/৬ (সোবহানা ২১, জুয়াইরিয়া ১৫, নিগার ১৩; আতাপাত্তু ২/১৫, সুগান্দিকা ২/২২)।
ফল: শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৩-০-তে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: চামারি আতাপাত্তু।

লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১০৩। হাতে ১০ উইকেট। কোনোভাবেই এটাকে বড় বলার সুযোগ নেই। এই লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল বাজে।

৩৩ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৪ উইকেট। তবে বাকি পথটা খুব সহজেই পাড়ি দিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত দলটি জিতেছে ৬ উইকেট। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজ শেষ হয়েছে ১–১ সমতায়।

সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

বৃষ্টি নাকি অন্য কিছু!

বাংলাদেশ তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে হারল কেন? নাকি ১৫ ওভারের ম্যাচে ৬ উইকেটে হারের দিনটাই বাংলাদেশের ছিল না! নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির এই দলের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর এমন অনেক প্রশ্নই হয়তো উঠবে।

বড় রান পাননি কোনো ব্যাটসম্যান
বড় রান পাননি কোনো ব্যাটসম্যান
 

কাঠগড়ায় হয়তো সবার আগে উঠতে হবে ব্যাটসম্যানদের। মাত্র তিনজনই যে যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে! সর্বোচ্চ রান করেছেন হৃদয়, সেটিও ৩৩। লিটন করেছেন ২৬ আর সাইফ ১৬। ৬.৪ ওভার পর নামা বৃষ্টি বাংলাদেশের ব্যাটিংটা এলোমেলো করেছে, সেটা বলার সুযোগও কম। কারণ, বাংলাদেশ টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৫ রান তুলতেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট।

৩ উইকেটে ৫০ রান করার পর নামে বৃষ্টি। এরপর ৫২ রান তুলতে বাংলাদেশের গেছে ৭ উইকেট। বৃষ্টির আগে–পরে মিলিয়ে শেষ ৭ উইকেট গেছে ৬৭ রানে।

বোলাররা যদি কিছু করতে পারতেন, সেটা হয়তো বোনাসই হতো। মিরপুরের এই উইকেটে ১৫ ওভারে ১০৩ লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচ জেতা কঠিনই বটে! বিশেষ করে বেভন জ্যাকবসের ইনিংসটার পর। মাত্র ৩১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান, যা আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে তাঁর প্রথম ফিফটি।

ফিফটির পথে বেভন জ্যাকবস
ফিফটির পথে বেভন জ্যাকবস
 

জ্যাকবসকে সঙ্গ দিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফট। এই দুজনের ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই নিউজিল্যান্ডের জয়টা সহজে এনে দিয়েছে। ১৫ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন ফক্সক্রফট।

নিউজিল্যান্ডের বোলাররাও তাঁদের কাজটা করেছেন। কিউই পেসার জশ ক্লার্কসন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন নাথান স্মিথ ও বেন সিয়ার্স। ম্যাচসেরা হয়েছেন জ্যাকবস।

বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২, স্মিথ ২/১৪)। নিউজিল্যান্ড: ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, ফক্সক্রফট ১৫*; শরীফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)। ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা: বেভন জ্যাকবস। সিরিজসেরা: তাওহিদ হৃদয়। সিরিজ: ৩–ম্যাচ সিরিজ ১–১ ড্র।

টাকার পেছনে ছোটো। যাঁর মুখ থেকে কথাটা প্রথম বের হয়েছিল, তিনি যেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফার জন্যই পথ দেখিয়ে গেছেন।

এই বছর ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, তিন দেশের আয়োজন—বিশাল কলেবর দেখে এখনই যাঁদের নানা শঙ্কা কাজ করছে, তাঁরা হয়তো এখনো জানেন না, সামনে আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে। বিশ্বকাপ যত দ্রুত সম্ভব আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারে। মানে, ২০৩৮ সালে।

শুনতে খটকা লাগতে পারে, কিন্তু ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর দাবার চালগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সব সমীকরণই গিয়ে মিলছে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দেশে।

ইনফান্তিনোকে নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাঁর অতিরিক্ত অনুরাগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা আছে। তবে একজন ফিফা বসের জন্য আয়োজক দেশের সরকারপ্রধানকে তুষ্ট রাখাটা পুরোনো রেওয়াজ। কিন্তু ইনফান্তিনোর লক্ষ্য আরও গভীরে। ২০২৬ থেকে ২০৩৮—মাঝের এই ১২ বছরে তিনি ফিফাকে এমন এক আর্থিক পাহাড়ের চূড়ায় বসাতে চান, যেখানে ট্রাম্পরা আসবেন-যাবেন, কিন্তু তাঁর সিংহাসন থাকবে অটল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো,ফিফা
 

২০১৬ সালে সেপ ব্ল্যাটারের চার বছরের মেয়াদ শেষ করতে নির্বাচিত হয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচন ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণ মেয়াদ। ফিফার এখনকার নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ সভাপতি হিসেবে থাকা যায়। সামনে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০২৩ সালে ইনফান্তিনো আবার জিতেছেন, ২০২৭ সালেও জেতার পথ মসৃণ। আর ঠিক সেই বছরই ২০৩৮ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন হবে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোইনস্টাগ্রাম/ইনফান্তিনো
 

মাথায় রাখুন আরও একটা তথ্য। ইনফান্তিনো ফিফার আইন বিভাগ সরিয়ে নিয়ে গেছেন ফ্লোরিডার কোরাল গেবলসে। ফিফা+ ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও ই-স্পোর্টসের কাজও সেখান থেকেই চলে। জুরিখ এখনো সদর দপ্তর হিসেবে আছে বটে, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্র সরে যাচ্ছে পশ্চিমে। মনে হতে পারে, ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত আর রোদের হাতছানি কি তবে ফুটবলকে চিরতরে জুরিখের ঠান্ডা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে?

কারণটা কেবল আবহাওয়া নয়, কারণটা ওয়াল স্ট্রিট। জুরিখ যা দিতে পারে না, সিলিকন ভ্যালি আর মার্কিন মিডিয়া মোগলরা তা অনায়াসেই দেয়। বিপুল বিনিয়োগ ও মিডিয়া বাজার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা বাণিজ্যিক পরিবেশ দিতে পারে, যার ধারেকাছেও নেই জুরিখ। স্টেডিয়ামের অভাব নেই, আতিথেয়তার ক্ষুধাও অসীম।
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার।
কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে ফিফা আয় করেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। রয়টার্স
 

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা আনুমানিক ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে এসেছিল ৭৫০ কোটি ডলার। ইনফান্তিনো ডেভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারের মোট উৎপাদন তৈরি করতে পারে, যোগ করতে পারে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলারের জিডিপি এবং সৃষ্টি করতে পারে ৮ লাখ ২৪ হাজার কর্মসংস্থান।

কেকের আকার বাড়াও—এটাই ইনফান্তিনোর মন্ত্র। আর সেই কেক বাড়ানোর জায়গা একটাই—আমেরিকা।

জোয়াও আভেলাঞ্জে ফিফার রাজনৈতিক ও আর্থিক বিস্তার ঘটিয়েছিলেন, ব্ল্যাটার মানচিত্র বড় করেছিলেন। ইনফান্তিনো চাইছেন নিজের উত্তরাধিকার। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান এমন একজন সভাপতি হিসেবে, যিনি ফিফাকে আর্থিকভাবে অস্পৃশ্য করে দিয়েছেন। একটা অলাভজনক সংস্থাকে পরিণত করেছেন বৈশ্বিক বাণিজ্যিক দানবে। তাঁর কাছে যুক্তরাষ্ট্র কেবল দক্ষ আয়োজক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই যুগে একটা নিরাপত্তাবলয়ও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোএএফপি

এতে সমস্যা কী? অনেক কিছু। বিশ্বকাপের এই বিশাল ফোলা–ফাঁপা রূপের কারণে আয়োজনের সুযোগ এখন ফিফার বেশির ভাগ সদস্যের নাগালের বাইরে। তাদের ভাগ্যে জুটছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আর আঞ্চলিক ক্লাব প্রতিযোগিতার টুকরা। তবে এটা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে সদস্য সংস্থাগুলো মাথা নত করেছে, বিনিময়ে পেয়েছে বিশ্বকাপের আয় থেকে চুইয়ে আসা বার্ষিক অনুদান।

একমাত্র যে সংগঠন নিজের পথে হাঁটতে পারে, সে হলো উয়েফা। ধারণা করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ ইউরোপে। চ্যাম্পিয়নস লিগ আগামী চার বছরে দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করবে বলে পূর্বাভাস, যা বিশ্বকাপের অনেক বেশি।

২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
২০৩৮-এ আবার আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।রয়টার্স
 

কিন্তু যখন ২০২৬-এর আয় ভাগ হবে, ইংল্যান্ড এফএ থেকে জার্মানির ডিএফবি—সবার অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার ঢুকবে, তখন তাদের সব সংশয় কর্পূরের মতো উড়ে যাবে। ইনফান্তিনো যদি প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন ২০৩৮-এ আমেরিকান বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আয় দ্বিগুণ করবে, তাহলে দূরত্ব আর টাইম জোনের বিষয়ে কিছু বিড়বিড়ানো ছাড়া ইউরোপীয় বিরোধিতা বলতে আর কিছু থাকবে না। সেটাও মিলিয়ে যাবে অদৃশ্য ক্যাশ রেজিস্ট্রারের শব্দে।

ইনফান্তিনো জানেন, তাঁর পুরোনো ইউরোপীয় নিয়োগকর্তারা হয়তো তাঁকে পছন্দ করেন না, তাঁর ক্ষমতার চালকে অবিশ্বাস করেন। কিন্তু তাঁর দেওয়া ডলারকে ঠিকই ভালোবাসেন। তাই ১২ বছরের মধ্যে দুইবার আটলান্টিক পেরোনোর মূল্য হিসেবে তাঁর দেওয়া দামটা সবাই সানন্দে মেনে নেবেন।

শেষমেশ সব পথ আসলে এক জায়গায় গিয়েই মেলে।

টাকার কাছে।

সপ্তাহের শেষে এবং বড় টুর্নামেন্টের পর নিয়মিতই র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে প্রতিবছরের মে মাসের শুরুতে আসা বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর জন্য নিয়ে আসে ভিন্ন তাৎপর্য।

২০২৬ সালের সেই বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে নিগার সুলতানার দল।

শুক্রবার আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ওয়ানডে দলের এই নতুন বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে মোট তিন বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যকার পারফরম্যান্সকে শতভাগ এবং তার আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে পঞ্চাশ ভাগ ওয়েটেজে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মেয়েদের বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়া (১৬৩ পয়েন্ট), ইংল্যান্ড (১২৮), ভারত (১২৬), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৯) নিজ নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে পাকিস্তানকে টপকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ (৭৩)। শীর্ষ দশের বাকি দুটি জায়গায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (নবম) ও আয়ারল্যান্ড (দশম)।

মেয়েদের ওয়ানডের পাশাপাশি ছেলেদের বার্ষিক টেস্ট র‌্যাঙ্কিংও প্রকাশ করেছে আইসিসি। এখানেও শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া (১৩১)। গতবারের মতো দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯)। তবে ইংল্যান্ড (১০২ পয়েন্ট) জায়গা ধরে রাখতে পারেনি, তাদের পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)।

নিউজিল্যান্ড পঞ্চম স্থান ধরে রাখলেও শ্রীলঙ্কা ছয় থেকে সাতে নেমে গেছে, এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ পাকিস্তান। এরপর যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (অষ্টম), বাংলাদেশ (নবম) ও জিম্বাবুয়ে (দশম)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮টি টেস্ট না খেলায় আয়ারল্যান্ড র‌্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে র‍্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে আগামী এক বছরে অন্তত দুটি টেস্ট খেলতে হবে।

৫ মে টি-টুয়েন্টি এবং ৭ মে ছেলেদের ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হবে।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল বিনা উইকেটে ৪৬। ২০ ওভারের খেলায় ১৫৪ রান তাড়ায় বেশ ভালো শুরু।

কিন্তু পাওয়ার–প্লে শেষ হওয়ার পর রানের এই ধারা আর ধরে রাখা গেল না। তিনে নামা শারমিন ইসলাম একপ্রান্তে টিকে থাকলেও অন্য প্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল। বাংলাদেশের ইনিংসও শেষ হলো তা-ই লক্ষ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে।

সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ নারী দল ৫ উইকেটে ১৩৩ রানে আটকে শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হেরেছে ২১ রানে। এই হারে সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ২৫ রানে।

রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ সপ্তম ওভারে দিলারা আক্তারকে হারালেও আরেক প্রান্তে আক্রমণাত্মকই ছিলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। অষ্টম ওভারে মালকি মাদারার ওভারে ছক্কা ও চারসহ তোলেন মোট ১৩ রান।

৮ ওভারে ১ উইকেটে ৬১ রান তুলে ফেলার পর নবম ওভার থেকে রানের গতি ধীর হতে শুরু করে। দশম ওভারে জুয়াইরিয়া ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরার পর উইকেটের মিছিলও শুরু হয়।

এক প্রান্ত আগলে রাখতে গিয়ে শারমিনও হয়ে পড়েন রক্ষণাত্মক। এভাবে ওভারের পর ওভার আস্কিং রেটও বাড়তে থাকে, শেষ পর্যন্ত যা আর কমানো যায়নি। শারমিন ৪৭ বল খেলে ৪ চারে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুয়াইরিয়ার ২৯, দিলারার ২৩ তৃতীয় সর্বোচ্চ।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা হার্শিতা সামারাবিক্রমার ২৯ বলে ৪৯ আর চামারি আতাপাত্তুর ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৪ রান করে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টি ২ মে একই ভেন্যুতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৫৪/৪ (সামারাবিক্রমা ৪৯, আতাপাত্তু ৪২; সুলতানা ১.২১, ফারিহা ১/২৩। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৩/৫ (শারমিন ৪৪*, জুয়াইরিয়া ২৯, দিলারা ২৩; কাবিশা ২/১৫)। ফল: শ্রীলঙ্কা নারী দল ২১ রানে জয়ী। সিরিজ: শ্রীলঙ্কা নারী দল তিন ম্যাচ সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ফুটবলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আজ বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে একত্র হচ্ছেন, যেখানে ফিফা আয়োজন করছে ৭৬তম কংগ্রেস। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই মাসের কম সময় আগে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, বিশ্বকাপ আয়োজনের লজিস্টিক জটিলতা এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ২০০টির বেশি সদস্য দেশের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধি।

তবে ইরানের অনুপস্থিতি ইতিমধ্যেই বৈঠকের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কানাডায় পৌঁছানোর পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) কর্মকর্তারা হঠাৎই কানাডা ছেড়ে চলে যান এবং ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এফএফআইআরআই সভাপতি মেহদি তাজসহ (যিনি আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সদস্য ছিলেন) আরও দুই কর্মকর্তা কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অপমানজনক আচরণের’ কারণে দেশে ফিরে গেছেন।

মেহদি তাজ ছাড়া অন্য দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত মোমবেনি ও তাঁর ডেপুটি হামেদ মোমেনি। অন্যদিকে কানাডা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর ওই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশে ‘অনুমোদন দেওয়া হয় না।’

কানাডার অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গোপনীয়তা–সম্পর্কিত আইনের কারণে আমরা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে সরকার এ বিষয়ে শুরু থেকেই স্পষ্ট ও ধারাবাহিক অবস্থানে রয়েছে। আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কানাডায় প্রবেশের যোগ্য নন এবং আমাদের দেশে তাঁদের কোনো জায়গা নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোফিফা

এ ঘটনা ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। গত মাসে ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা বিশ্বকাপে নিজেদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্রুতই সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ইনফান্তিনো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ড্র অনুযায়ী ইরান যেখানে খেলার কথা, সেখানেই তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেন, ইরানের ফুটবলারদের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের যেসব সদস্যের আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বাড়তি চাপের মধ্যেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক বণ্টনের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৯০ কোটি ডলার করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে এই অঙ্ক ধরা হয়েছিল ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া একাধিক দল অভিযোগ করেছিল, ভ্রমণ ব্যয়, কর এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এত বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েও তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই ফিফার এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ইনফান্তিনোর কাছে দাবি জানিয়েছে, তিনি যেন ফিফা কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বকাপ দর্শক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কেউ যেন নির্বিচার আটক, গণ বহিষ্কার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন–পীড়নের শিকার না হন, সে বিষয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল
ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল, এএফপি
 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক প্রধান স্টিভ ককবার্ন গতকাল বুধবার বলেন, ‘ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেননি, কীভাবে সমর্থক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণ নির্বিচার আটক, গণ বহিষ্কার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়ন থেকে নিরাপদ থাকবেন।’

এক বিবৃতিতে স্টিভ ককবার্ন আরও বলেন, ‘এই ফিফা কংগ্রেসই হওয়া উচিত সেই মুহূর্ত, যখন তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায় শুধু ফাঁকা আশ্বাসের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে।’

এর মধ্যে ফিফার দেওয়া শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবিও উঠেছে। ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো এই পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভনেস এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই পুরস্কার বাতিল দেখতে চাই। এমন কোনো পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না।’

ফিফা কংগ্রেসে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবল নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইনফান্তিনো রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই রাশিয়াকে আবার ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল বয়ে আনেনি। বরং এটি শুধু আরও হতাশা ও ঘৃণা তৈরি করেছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যের এডহক কমিটির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে এই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ মোট সাতজন আইনজীবী এ রিটটি দাখিল করেন।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

এই কমিটিতে আরও আছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরি, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা।

এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি সাময়িকভাবে বিসিবির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।

 

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও এর মধ্যে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জেতাই এই ক্লাবের হয়ে তাঁর একমাত্র অর্জন। একপর্যায়ে মনে হয়েছে, বড় কোনো সাফল্য ছাড়াই হয়তো আল নাসর অধ্যায় শেষ করবেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

তবে সেই আশঙ্কার মেঘ এবার কেটে যাওয়ার অপেক্ষা। রোনালদো এখন প্রথমবারের মতো সৌদি প্রো লিগ জেতার দ্বারপ্রান্তে। বিশেষ করে গতকাল রাতে আল আহলির বিপক্ষে আল নাসরের ২-০ গোলে জয়ের পর লিগ ট্রফিটা পর্তুগিজ কিংবদন্তির হাতের নাগালে চলে এসেছে।

শীর্ষে থাকা আল নাসরের সংগ্রহ ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় আল হিলালের পয়েন্ট ২৯ ম্যাচে ৭১। অর্থাৎ এক ম্যাচ বেশি খেলে আল হিলালের চেয়ে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছে আল নাসর। এ পরিস্থিতিতে নাটকীয় কোনো পতন না হলে রোনালদোদের শিরোপা জয় সময়ের ব্যাপারই বলা যায়। রোনালদোদের দলের হাতে আছে আর ৪ ম্যাচ, আল হিলাল খেলবে আরও ৫ ম্যাচ।

সাম্প্রতিক ফর্মও বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে রোনালদোদের। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টানা ২০ ম্যাচ জিতেছে আল নাসর। এর মধ্যে ১৬টি জয় এসেছে সৌদি প্রো লিগে। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বর্তমানে আল নাসর কতটা অপ্রতিরোধ্য।

গতকাল রাতের জয়ে গোলও পেয়েছেন রোনালদো। ৭৬ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের ইনসুইঙ্গিং কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে গোলটি করেন। ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলকের দিকে ছুটতে থাকা রোনালদোর এটি ৯৭০তম গোল।

হেডে গোল করছেন রোনালদো
হেডে গোল করছেন রোনালদোএক্স/রোনালদো

আর মাত্র ৩০ গোল পেলেই হাজার গোলের জাদুকরি চূড়ায় পৌঁছে যাবেন ‘সিআর সেভেন’। আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে রোনালদো করেছেন ১২৬ গোল এবং ২৩ গোল করিয়েছেন। অর্থাৎ মোট ১৪৯টি গোলে অবদান রেখেছেন কিংবদন্তি।

রোনালদো একই সঙ্গে টানা তিন মৌসুমে সৌদি লিগে ২৫ বা এর বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছেন। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমের পর আবার এমন ধারাবাহিকতায় দেখা দিলেন রোনালদো।

জয় ও গোলের পাশাপাশি ভিন্ন এক কারণেও এদিন আলোচনায় ছিল এই ম্যাচ। এমন এক প্রেক্ষাপটে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চার দিন আগে আল আহলি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিট শিরোপা জিতেছে। সে উপলক্ষে আল নাসরের মাঠে অতিথিদের গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।

এ ঘটনা ছাড়াও চলতি মৌসুমে দুই দলের সম্পর্কও ছিল বেশ তিক্ত। আল আহলি থেকে বহুবার রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ ও পক্ষপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে। গতকালও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। আল আহলির দাবি, তাদের অন্তত দুটি হ্যান্ডবলের জন্য পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি পুরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কিংসলে কোমান ও মেরিহ ডেমিরালের মধ্যকার উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যে উত্তেজনা ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও ছিল।

বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আল নাসরের মোহামেদ সিমাকান গ্যালারি থেকে ক্লাবের বড় একটি পতাকা নিয়ে এসে প্রথমে ডেমিরালের সামনে সেটি নাড়িয়ে দেখান, এরপর মাঠজুড়ে সেটি ঘুরিয়ে ‘ল্যাপ অব অনার’ দেন।

অন্যদিকে ডেমিরাল আল আহলির স্টাফদের কাছ থেকে একটি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ীর মেডেল নিয়ে আল নাসর সমর্থকদের দিকে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। ম্যাচ–পরবর্তী সাক্ষাৎকার চলাকালে আল আহলি সমর্থকেরা রোনালদোর উদ্দেশে বলেন, তাঁদের দল দুবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। জবাবে রোনালদো হাসিমুখে হাত তুলে বলেন, ‘আমার পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আছে।’