ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে চামড়া আসছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাভারের ট্যানারিগুলোতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি কাঁচা চামড়া এসেছে।

বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চামড়া আসার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিসিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

বিসিকের তথ্য অনুসারে, ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ৭১৩টি চামড়াবাহী ট্রাক চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও কিছুটা দূর থেকেও অনেক ট্রাক আসার খবর পাওয়া গেছে।

শিল্পনগরীতে আসা চামড়ার মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা বেশি। বিসিকের হিসাবে, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে গরু ও মহিষের চামড়া এসেছে ৫ লাখ ১১ হাজার ৭০০টি। অন্যদিকে ১৬ হাজার ১৭৫টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি, আড়তদার ও ট্যানারিপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। এসব চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরে এগুলো কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে চামড়া ও চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্য হিসেবে বিক্রি ও রপ্তানি করা হয়।

কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তবে রাজধানীতে ঈদের দিনে সেই দরে চামড়া বিক্রি হয়নি। গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম কমে চামড়া বেচাকেনা হয়। অবশ্য গতকাল কাঁচা চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বেড়েছিল।

চীনের বৈদ্যুতিক যান (ইভি) রপ্তানি গত এপ্রিল মাসে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে চীনের শীর্ষ অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

এপ্রিল মাসে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮১টি ইভি রপ্তানি করেছে চীন। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫২টিতে। ব্লুমবার্গের সংগৃহীত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আল–জাজিরার সংবাদে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

মহাদেশভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ইভি আমদানি করেছে এশিয়া—১ লাখ ১০ হাজার ৬১৩টি। এরপর রয়েছে ইউরোপ (৮৩ হাজার ৮১৩টি) ও লাতিন আমেরিকা (৫২ হাজার ৮৯৭টি)। ওশেনিয়া আমদানি করেছে ২২ হাজার ৬৯৫টি চীনা ইভি, উত্তর আমেরিকায় গেছে ৪ হাজার ৪২২টি যান।

শীর্ষ ১০ রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে ব্রাজিলে—গত মাসে দেশটির ইভি আমদানি ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে তারা ৩৮ হাজার ১৪৪টি ইভি আমদানি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াতেও চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; এসব দেশে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ থেকে ১৯০ শতাংশের মধ্যে।

এ পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে যে জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাতে বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। এসব গাড়ি যেমন ব্যয় সাশ্রয়ী, তেমনি পরিবেশবান্ধব। সে বিবেচনা থেকেও মানুষ ইভির দিকে ঝুঁকছে।

এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। সেটা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বাজারে চীনা যানবাহন সীমিত করার নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও এ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

যুক্তরাষ্ট্র চীনের ইভিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং যানবাহনে ব্যবহৃত চীনা সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনা ইভির ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে ইভি উৎপাদনে চীন এখন সবচেয়ে বড় দেশ। ২০২৫ সালে বিশ্বে উৎপাদিত ২ কোটি ২০ লাখ ইভির প্রায় ৭৫ শতাংশই চীনে তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে চীনের ইভি রপ্তানি রেকর্ড ২৫ লাখে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গত বছর বিশ্ব বাজারে যত ইভি বিক্রি হয়েছে, তার ৫৫ শতাংশই ছিল চীনা গাড়ি।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ইভি বিক্রি ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা মোট গাড়ি বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী ইভি বিক্রি হয়েছে ২ কোটির বেশি, মোটরগাড়ি বাজারের যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

অন্যরা মার খেয়ে যাচ্ছে

বাস্তবতা হলো, চীনের বিওয়াইডিসহ অন্য ইভি কোম্পানিগুলোর দাপটে টেসলাসহ পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো ইভির বাজারে সুবিধা করতে পারছে না। ইতিমধ্যে বিওয়াইডির কাছে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে টেসলা।

সিএনএনের এক সংবাদে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চীনের উৎপাদনসক্ষমতা। শক্তিশালী সরবরাহশৃঙ্খল ও স্বয়ংক্রিয় কারখানার বদৌলতে তারা বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারে।

এর পেছনে আবার রয়েছে চীন সরকারের দীর্ঘদিনের সহায়তা—ভর্তুকি, করছাড়সহ নানা সুবিধা। সমালোচকদের মতে, এতে চীনের ইভি বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সুবিধা পাচ্ছে।

চীনা কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য ভিন্ন। বিওয়াইডির স্টেলা লি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির উৎস হলো—সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী প্রতিষ্ঠান ও মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা। বাজার সুরক্ষিত করে ফেললে সেই সুবিধা হারিয়ে যাবে, দেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র উভয় দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে—এমন খবরে আজ শুক্রবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলার আরও দুর্বল হয়েছে। ফলে সপ্তাহজুড়েই মার্কিন মুদ্রার মান নিম্নমুখী থাকবে, এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। তবে এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

এ খবরে তেলের দাম কমেছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্থায়ী সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

আজ শুক্রবার এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর হয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ ডলার, অর্থাৎ সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে পাউন্ডের দর ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত আছে।

অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ ডলারে ওঠে, অর্থাৎ দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নিরূপণে ডলার ইনডেক্স প্রণয়ন করা হয়। আজ তার মান ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্ট, অর্থাৎ প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে টানা দুই সপ্তাহের উত্থান থেমে চলতি সপ্তাহে এই সূচকের মান প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমতে যাচ্ছে।

ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, ‘ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেছনে পড়ে গেলে আমরা ধারণা করছি, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’

কাস্তেল্লি আরও বলেন, নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদার কারণে সংঘাতের সময় ডলারের মান হারানোর প্রবণতা সাময়িকভাবে থমকে ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ করতে আগ্রহী। এর অর্থ হলো, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে।

এদিকে ডলারের দুর্বলতার কারণে জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হয়েছে। ডলারের বিপরীতে এখন ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন পাওয়া যাচ্ছে। ইয়েনের মানের মনস্তাত্ত্বিক সীমা হচ্ছে ১৬০, অর্থাৎ বাজার সেই সীমা থেকে কিছুটা দূরে সরে এসেছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানি কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করত।

অন্যদিকে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে এই চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ হার অপরিবর্তিত রাখবে, অর্থনীতিবিদবিদের এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

রয়টার্স

ঈদের বাকি আর দুই দিন। অথচ আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ শিল্পকারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। এমনকি দেড় শতাংশ শিল্পকারখানা গত এপ্রিলের বেতনও দেয়নি। প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানা তদারক করে এমন তথ্য জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট—এই আট শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানা পর্যবেক্ষণ করছে শিল্প পুলিশ। সংস্থাটি আজ সন্ধ্যায় জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৩৮টি শিল্পকারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ১ হাজার ৫০০টি বা ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিল্পকারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। এ ছাড়া ১৬২টি বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিল্পকারখানার গত এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১৪ মে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং আরএমজি–বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

শিল্প পুলিশের তদারকিতে থাকা শিল্পকারখানার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রয়েছে ৩ হাজার ২৭০টি। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি। ২ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায় গত এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা বাকি রয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৭৯০টি পোশাক কারখানা তদারক করে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭০টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ২২০টি বা ১২ শতাংশ কারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। ৪৭টি কারখানা এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেনি।

তবে শিল্প পুলিশের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বর্তমানে তাঁদের সংগঠনের সদস্য মাত্র তিনটি কারখানায় বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাকি কারখানাগুলো কাল মঙ্গলবারের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে ছুটি দেবে।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য ৭৮০টি কারখানা তদারক করে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৫৮২টি কারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ১২৬টি বা ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। ২৮টি কারখানা এখনো গত মাসের বেতন দেয়নি।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, তাঁদের সদস্য শতভাগ কারখানা গত মাসের বেতন দিয়েছে। ৮৩ শতাংশ কারখানা চলতি মাসের আংশিক অগ্রিম বেতনও দিয়েছে। অল্প কিছু কারখানায় বোনাস বাকি থাকলেও সেগুলো মঙ্গলবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, অধিকাংশ কারখানা ১০ থেকে ১১ দিন ছুটি দিচ্ছে।

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের সুবিধার্থে সরকার রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ ছাড় করেছে। শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা দিয়েছে। পাট খাত পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা। শেষ দিকে আরও কয়েকটি খাত রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পেয়েছে।

শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার বলেন, প্রতি ঈদেই তৈরি পোশাকশিল্পের একাংশ শ্রমিক বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকেন। শ্রম আইনে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বোনাস না দেওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। তিনি বলেন, যেসব কারখানা ঈদের আগে বোনাস দেবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিআইএফইকে সরকারের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

আজ সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে—এমন আশাবাদে বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা ‘মোটামুটি চূড়ান্ত’ হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। তবে পরদিন তিনি আবার বলেন, তাড়াহুড়া করা যাবে না।

আজ সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিও ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯৯ ডলার, আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম। আজ সরকারি ছুটির কারণে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ রয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি।

প্রণালি খুলে যেতে পারে—এমন আশায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে এই প্রথম ৬৫ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেননা, এই দেশগুলো জ্বালানির জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে। বিষয় ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই।

ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের মধ্যে চুক্তি প্রায় হয়ে গেছে। এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি বাকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির শেষ দিকের কিছু বিষয় ও বিস্তারিত নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। খুব শিগগির তা ঘোষণা করা হবে।’

শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেছেন, যে চুক্তিই হোক না কেন, সেখানে এটা নিশ্চিত করা হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না।

তবে রোববার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘উভয় পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে ভুলের সুযোগ নেই।’

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান কিছুটা কাছাকাছি এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

মার্চের শুরু থেকে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয় ইরান।

আজ তেলের দাম বেশ খানিকটা কমলেও যুদ্ধের আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলার। এখন তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি।

তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশ, যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালায়। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমএসটি ফিন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল ক্যাভোনিক বলেন, এখন সুড়ঙ্গের শেষে কিছুটা আলোর দেখা পাওয়া যাচ্ছে—স্বল্প মেয়াদে তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

তবে ক্যাভোনিক সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে আশাবাদী যে চিত্র, তাতেও দেখা যাচ্ছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তেলের বাজার চাপে থাকবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন পুনরায় চালু করা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত ও যুদ্ধের কারণে তেলের মজুত যে কমে গেছে, তা পুনর্ভরণে সময় লাগবে।

বিবিসি

দেশে জ্বালানি ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ২৩তম বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়।

কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তিনটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে।

এলএনজি কার্গোগুলো ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুন, ২১ থেকে ২২ জুন এবং ২৫ থেকে ২৬ জুন সরবরাহ করা হবে, যা যথাক্রমে ২৩তম, ২৪তম ও ২৫তম কার্গো চালান হিসেবে গণ্য হবে।

অগ্রিম আয়করসহ (এআইটি) মোট ক্রয় ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ১৫তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

এজন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৮৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) মূল্য ৬৮৩ দশমিক ৩৭৫ ডলার এবং ব্যাগজাতকরণ খরচ ৫ ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি খাতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে কাফকো, বাংলাদেশ থেকে এই সার সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে, কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির অধীনে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ১২তম (ঐচ্ছিক চতুর্থ) লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার আমদানি করা হবে।

ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

সূত্র: বাসস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক উত্থানের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই করপোরেশন চলতি বছরে এক ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সিউলের শেয়ারবাজারও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাজার হয়ে উঠেছে।

তবে দেশটির একটি অংশ এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা আর কেউ নন, তাঁরা হলেন স্যামসাংয়ের শ্রমিকেরা। কয়েক হাজার কর্মী ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই কর্মবিরতি হলে এমন এক সময়ে মেমোরি চিপ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারত, যখন এআই শিল্পে এসব চিপের চাহিদা তুঙ্গে।

বৃহস্পতিবার ধর্মঘট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো জানায়, তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই চুক্তি এখনো ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটে অনুমোদন পেতে হবে, বিষয়টিকে স্যামসাং কর্মীদের জন্য প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির রেকর্ড মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও বোনাস বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ সমঝোতার ফলে আপাতত কোম্পানির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘট এড়ানো গেছে। ১৮ দিনব্যাপী সম্ভাব্য এই কর্মসূচিতে ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী অংশ নিতেন—দক্ষিণ কোরিয়ায় স্যামসাংয়ের মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের অধিকাংশ মেমোরি চিপ বিভাগে কাজ করেন। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো প্রযুক্তি জায়ান্টের এআই হার্ডওয়্যারে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এসব চিপ।

উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প—উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক ছিল। গত বছর স্যামসাংয়ের আয় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিনটি প্রধান মেমোরি চিপ নির্মাণকারী কোম্পানির একটি। এমন সময় এই শিল্পে সরবরাহসংকট চলছে, যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বিশ্বজুড়ে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক রোববার বলেন, ‘স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যেকোনো বিঘ্ন শুধু একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।’

এদিকে এআই প্রযুক্তির উত্থান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের চাকরি কাঠামো পাল্টে দেবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার মেটা প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই ও পুনর্বিন্যাস করেছে। লক্ষ্য—এআই খাতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করা। এ বছর লিংকডইন, অ্যামাজন ও স্ন্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানও এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস
রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসছবি: রয়টার্স

এআই মুনাফার বড় অংশ চাইছেন কর্মীরা

গত মাসে স্যামসাং ঘোষণা দেয়, তাদের রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক মুনাফা হয়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ৮ দশমিক ৫ গুণের বেশি বেড়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের পুরো বছরের পরিচালন মুনাফাও ছাড়িয়ে গেছে এই আয়।

এখন সেই মুনাফার বড় অংশ নিজেদের জন্য চাইছেন কর্মীরা।

ইউনিয়নের দাবি, বার্ষিক বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যে বোনাস সীমা, সেটা তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে এবং এই সুবিধা শুধু চলতি বছর নয়, ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে হবে।

স্যামসাংয়ের চিপ বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে বোনাস বৈষম্য তাঁদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সও চলতি বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বোনাস কাঠামো চালু করে, যেখানে মূল বেতনের এক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বোনাস সীমা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস তহবিলে বরাদ্দ করছে।

নতুন কাঠামোর অধীন এসকে হাইনিক্সের কিছু কর্মী ২০২৫ সালে নিজেদের মূল বেতনের প্রায় ৩ হাজার শতাংশ সমপরিমাণ বোনাস পাবেন। কর্মীপ্রতি গড় বার্ষিক বোনাস দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ওন বা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার।

স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন গত মাসে বিবৃতিতে বলেছিল, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন মেধা ধরে রাখার যুদ্ধে নেমেছে। এসকে হাইনিক্স ইতিমধ্যে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে পারিশ্রমিক কাঠামো পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের প্রকৌশলীদের আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছে।’

বুধবারের প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে স্যামসাং বিদ্যমান বোনাসসীমা তুলে দিতে এবং সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের জন্য ব্যবসায়িক মুনাফার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে সম্মত হয়েছে।

বুধবার বিবৃতিতে স্যামসাং বলেছে, ‘সমঝোতা হয়েছে প্রত্যাশিত সময়ের পরে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে জন্য আমরা আরও পরিণত ও গঠনমূলক শ্রম-ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করব।’ এই বিরোধ দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সম্পদ বণ্টন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবিষয়ক গবেষণা ও অধিকার সংগঠন ‘এনিওনইউনিয়ন’–এর প্রধান জো গিউন-জুন বলেন, এআইের উত্থান মাজে চরম বৈষম্যমূলক মেরুকরণ তৈরি করেছে।

জো গিউন আরও বলেন, সমাজের একদিকে চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রম সুরক্ষা ছাড়া কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা কোম্পানির বিপুল মুনাফার কারণে নজিরবিহীন বোনাস পাচ্ছেন।

সিএনএন

আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে প্রতি বছর ঈদের ঠিক আগে মসলার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলা বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। 

যদিও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরের দোকানগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু কিছু দোকানি মূল বাজারের তুলনায় ক্রেতাদের থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন।

বিশেষ করে আবাসিক এলাকার ভেতরের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এমনটা। সেখানে বড় বাজারের চেয়ে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন।

প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদার শীর্ষে থাকা গরম মসলার বাজারও এবার বেশ স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে প্রতি একশোগ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোল মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরার মসলা ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, মসলার দাম যা বাড়ার সেটা ডলার সংকটের সময় গত দুই বছর আগে বেড়েছিল। এবার ঈদের নতুন করে গরম মসলার দাম বাড়েনি।

এদিকে গত সপ্তাহে সব সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে থাকলেও সেই তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমে বর্তমানে ৮০ টাকায় নেমেছে। শুধু গোল বেগুন প্রতিকেজি ১০০ টাকা থাকলেও বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বেসরকারি চাকরিজীবী শিহাবুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তো সব সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার উপরে ছিল, সেই তুলনায় আজকের বাজার কিছুটা কম। কম বললেও ভুল হবে সব সবজি তাই ৮০ টাকা কেজি। 

‘দোকানদাররা যে যার মত করে সবজির দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার মনিটরিংয়ের কোন উদ্যোগ দেখি না। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করা গেলে সবজির দাম হয়তো বা আরো কম থাকতো।’

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। সামনে ঈদে পরিবহন সমস্যা, যানজট হওয়ার কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমে ঈদের সময় দাম বাড়তে পারে। মূলত নতুন সবজি উৎপাদন হয়ে বাজারে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে সবজির দাম কমে আসবে।

এদিকে তবে বেড়ে যাওয়া ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অবশ্য শুধু ডিম বিক্রি করে এমন কিছু দোকানে ১৪৫ টাকায়ও কেনা যাচ্ছে ডিম। আবার পাড়া মহল্লার কোনো কোনো দোকানিকে ১৫৫ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে।

তবে ব্রয়লার মুরগির দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকার মধ্যে। 

 

দেশে বর্তমানে আবাসিক ফ্ল্যাট, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে প্রায় ৫ কোটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের ঝামেলাকে সহজ করেছে এলপিজি সিলিন্ডার। রান্নার এই জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহারে যেমন জীবনে এসেছে স্বস্তি, তেমনি অসচেতনতা ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারে তা ঘটাতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। গ্যাস মজুত, পরিবহন ও ব্যবহারে সামান্য ভুলে হতে পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি।

● ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম না জানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বেশির ভাগ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। সিলিন্ডার লিক হয়ে বদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে যায়। এরপর বৈদ্যুতিক সুইচের স্ফুলিঙ্গ বা ম্যাচের কাঠি জ্বালালেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

● নিরাপদ এলপিজি ব্যবহারের প্রথম শর্ত হলো সিলিন্ডার কেনার সময় অনুমোদিত ডিলার থেকে সেফটি ক্যাপ ও থার্মোসিল দেখে নেওয়া।

● সিলিন্ডার সব সময় খাড়া অবস্থায়, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন সমতল স্থানে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এটিকে শোবার ঘর, রান্নাঘরের বন্ধ কেবিনেট, আন্ডারগ্রাউন্ড বেসমেন্ট কিংবা সিঁড়িঘরের নিচে রাখা যাবে না; কারণ, এলপিজি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচু ও আবদ্ধ স্থানে জমে মারাত্মক বিস্ফোরক পকেট তৈরি করে।

● রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে জানালা-দরজা খুলে দেওয়া এবং রান্না শেষে রেগুলেটরের চাবি বন্ধ করার অভ্যাস করা জরুরি।

● রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে কখনো দেশলাই জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করা যাবে না; কারণ, সুইচের সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

● লিক পরীক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সাবান-পানির পরীক্ষা। পানিতে সাবান বা ডিশ ওয়াশার গুলিয়ে ফেনা তৈরি করে হোস পাইপ ও রেগুলেটরের সংযোগস্থলে লাগালে যদি বুদ্​বুদ উঠতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে গ্যাস লিক হচ্ছে।

●সিলিন্ডার দুর্ঘটনা রুখতে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও বিইআরসির সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন । অবৈধ উপায়ে এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর (ক্রস-ফিলিং) বন্ধ করা এবং বাজারজাতকৃত প্রতিটি সিলিন্ডারের সংবিধিবদ্ধ পুনঃপরীক্ষার মেয়াদ বা টেস্ট ডিউ ডেট নিয়মিত যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা উচিত। একটু সতর্কতা ও সঠিক নিয়ম অনুসরণই পারে এলপিজি সিলিন্ডারজনিত প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি রোধ করতে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বিষয়টি বোঝা যায়। সেটা হলো, শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বন্ড বাজার যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন গুরুত্ব দিতেই হয়।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পারস্পরিক শুল্কনীতির গতি কমাতে বাধ্য করেছিল। এখন আবারও বন্ড ব্যবসায়ীরা সতর্কসংকেত দিচ্ছেন। তবে এবার পরিস্থিতি শান্ত করার মতো খুব বেশি কিছু ট্রাম্পের হাতে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল অ্যালপার্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বন্ড বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আর (ট্রাম্প) নিজেই যে সমস্যার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন, সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে, তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না।’

সহজ করে বললে, বন্ড ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প যেভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে দাবি করছেন, বাস্তবে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়। এ ধারণা শক্তিশালী হলে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।

এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান বন্ড বাজারকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাল্লার এক পাশে থাকে বন্ডের দাম, অন্য পাশে থাকে সুদের হার।

এখন নানাবিধ অর্থনৈতিক শঙ্কার কারণে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম কমছে। এর মধ্যে আছে—

  • ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল জাতীয় ঋণ।
  • ভোক্তা ঋণের চাপ।
  • ইরান যুদ্ধের ব্যয়।
  • সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অর্থায়নের ব্যয়।

বন্ডের দাম যত কমে, সুদের হার তত বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরকারকে মূলত বলছেন, ‘আমাদের অর্থ ধরে রাখতে চাইলে আরও বেশি সুদ দিতে হবে।’

এর অর্থ হলো, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। যে কারণে শেষমেশ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগও কমে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঋণের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যদিও সেই পরিস্থিতি এখনো খুব কাছাকাছি নয়।

গতকাল মঙ্গলবার বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও তা দূর হয়নি। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উঠে যায় ৫ দশমিক ২ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।

শেয়ার ও পণ্যের বাজারে সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু বন্ড বাজার ভিন্ন ধরনের।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় তিন মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’। তাঁর এমন মন্তব্যে প্রায় প্রতিবারই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র স্বার্থে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। এতে শেয়ারবাজার ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়। কিন্তু বন্ড বাজারে তার প্রভাব পড়েনি; বরং বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রি চলতেই থাকে।

বিষয়টি হলো, বিনিয়োগকারীরা শুধু যুদ্ধ বা তেলজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাঁদের দৃষ্টিতে এখন একসঙ্গে একাধিক সংকট।

বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক চেয়ারম্যান অজয় রাজাধ্যক্ষ সোমবার এক নোটে লেখেন, ‘গল্পটি খুবই সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর—উন্নত বিশ্বে ঋণ অনেক বেশি, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গুর। এ দুটি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই...জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’।

সিএনএন

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মরক্কো।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতার বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। গতকাল দেশটির রাজধানী রাবাতে এ বৈঠক হয়।

বুধবার (২০ মে) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর এবং মরক্কোর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে সহযোগিতা, অভিন্ন সমৃদ্ধি ও কৌশলগত সুযোগের নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে আগ্রহী।

দুই নেতা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১৯৮০ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতি তুলে ধরেন। রাবাতে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় মরক্কো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বস্ত্র, ওষুধ, সিরামিক, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কৃষি, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জাহাজ নির্মাণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

চলমান সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং সম্ভাবনার নতুন খাত চিহ্নিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনেও সম্মত হয় তারা।

শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোউরিতাকে আমন্ত্রণ জানান।

পরে মরক্কোর শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ মেজ্জুরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। জবাবে মরক্কোর মন্ত্রী ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিদ্যমান কৃষি সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসফেটের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সরকারি পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

পাশাপাশি মরক্কোর বাজারে পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রসারে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।

দুই দেশ উদ্ভাবন, শিল্প প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালী করতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

একই দিনে মরক্কোর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরির সঙ্গেও বৈঠক করেন শামা ওবায়েদ।

বৈঠকে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্পসহ বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন|

দুই নেতা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকগুলোতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মরক্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ মণ্ডল।

উল্লেখ্য, ফ্রাঙ্কোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে মরক্কো সফরে রয়েছেন শামা ওবায়েদ। আজ রাবাতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানাকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর আগে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশন শেষে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই অধিবেশনে জেলা প্রশাসকেরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বন্ধ চিনিকল আবার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকদের এই প্রস্তাবের কথা জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআইভিত্তিক) সরবরাহব্যবস্থা তদারক করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা—প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।

দুই বছরের কৌশলগত কাঠামো বানাচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

এদিকে ডিসি সম্মেলন শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি দুই বছর মেয়াদি নতুন কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এ কাঠামো সাজানো হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ জন্য এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেক প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।