-
ইরানে মার্কিন যুদ্ধের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকান অভ্যন্তরীণ মহলে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
-
ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় হামলা শুরু করতে প্রস্তুত।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে গতকাল বুধবার পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই যুদ্ধের সামরিক ব্যয় নিয়ে এই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করল পেন্টাগন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এই তথ্য প্রকাশ করা হলো। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা এখন জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে এই অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী জুলস হার্স্ট হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, এই অর্থের সিংহভাগ গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র কেনায় ব্যয় হয়েছে।
হার্স্ট এই ব্যয়ের হিসাবের বিস্তারিত বিবরণ দেননি। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কি না, তা–ও স্পষ্ট করেননি।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ হার্স্টকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কারণ, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই হিসাব চেয়ে আসছি। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি।’
এই ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের খরচ এ বছর দেওয়া মার্কিন মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার পুরো বাজেটের সমান।
তবে পেন্টাগন কীভাবে এই ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অঙ্কে পৌঁছাল, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে অনুমান করেছিল।
আপনি কত মূল্য দেবেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ইরানের কাছে যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে, তা নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সেই তুলনায় এই খরচ যৌক্তিক।

হেগসেথ প্রশ্ন করেন, ‘ইরান যেন পারমাণবিক বোমা না পায় তা নিশ্চিত করতে আপনি কত মূল্য দিতে রাজি আছেন? আপনি কত দেবেন?’
হাউস কমিটিতে হেগসেথ তাঁর বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের পক্ষে আরও বিস্তৃত যুক্তি তুলে ধরে দাবি করেন, এটি কোনো ‘চোরাবালি’ নয়। একই সঙ্গে তিনি এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের সমালোচনা করায় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন।
গ্যারামেন্ডির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হেগসেথ বলেন, ‘আপনি একে চোরাবালি বলছেন, আমাদের শত্রুদের হাতে প্রচারের সুযোগ তুলে দিচ্ছেন? আপনার ওই বক্তব্যের জন্য লজ্জা হওয়া উচিত।’ তিনি কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাটদের ‘বেপরোয়া, অকর্মণ্য ও পরাজয়ের মানসিকতার’ বলে কটাক্ষ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। বর্তমানে দুই পক্ষ ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে। পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে এবং ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে রেখেছে।
এই যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েক শ আহত হয়েছেন।
মার্কিন ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চেয়ে বড় ইস্যু খুব কমই আছে। মুদ্রাস্ফীতির এই সর্বশেষ ঊর্ধ্বগতি রিপাবলিকান মহলে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তারা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা প্রতিনিধি পরিষদ ও সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটা নির্ধারণ করে দেবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেল এবং সারের মতো কৃষি পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই যুদ্ধ আগে থেকেই বেশি থাকা অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের গড় দাম গত প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে সমর্থন করছেন, যা এপ্রিলের মাঝামাঝি ছিল ৩৬ শতাংশ এবং মার্চের মাঝামাঝি ছিল ৩৮ শতাংশ।
ওয়াশিংটন