• সোমবার চাঁদের অদৃশ্য পাশে পৌঁছাবেন নভোচারীরা

    ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের নভোচারীরা সোমবার (৬ এপ্রিল) চাঁদের অদৃশ্য বা দূরবর্তী পাশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পৃথিবী থেকে এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে এর আগে কোনো মানুষ কখনও যায়নি।

    নাসা জানিয়েছে, বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে মিশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তিনজন মার্কিন নভোচারী ও একজন কানাডীয় নভোচারী নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে চাঁদের অভিকর্ষ বলয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সোমবারের মধ্যেই তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়বে।

    মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, পৃথিবী এখন বেশ ছোট দেখাচ্ছে, আর চাঁদ ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।

    ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। প্রায় ৫৪ বছর পর মানব মহাকাশ অভিযানে এটি নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে সফল যাত্রার মাঝেও একটি বিব্রতকর সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওরায়ন মহাকাশযানের টয়লেট ঠিকমতো কাজ করছে না। উৎক্ষেপণের পর থেকেই এটি বারবার বিকল হয়ে পড়েছে। আপাতত নভোচারীদের বিকল্প ইউরিন সংগ্রহ ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রকৌশলীদের ধারণা, বরফ জমে নিষ্কাশন লাইনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

    নাসার ওরায়ন কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডেবি কর্থ বলেন, মহাকাশে টয়লেট ব্যবস্থা সব সময়ই একটি চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে নভোচারীদের মনোবল বেশ চাঙা রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, মহাকাশ থেকে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

    নাসা ইতোমধ্যে চাঁদের বিখ্যাত ওরিয়েন্টালে বেসিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যেটিকে অনেকেই চাঁদের “গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন” বলে থাকেন। এই বিশাল গহ্বরটি মানুষের চোখে এত স্পষ্টভাবে এই প্রথম ধরা পড়েছে।

    সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ওরায়ন মহাকাশযান চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এই মিশনটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সেখানে নভোচারী অবতরণ করানো। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

     

  • স্কালোনি জানালেন, জাম্বিয়া ম্যাচে শুরু থেকেই দেখা যাবে মেসিকে

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে গত শনিবার আর্জেন্টিনার ২–১ গোলে জয়ের প্রীতি ম্যাচে বিরতির পর বদলি হয়ে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। প্রশ্নটি তখনই উঠেছিল, ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে মেসি কেন শুরু থেকে খেললেন না?

    উত্তর একাধিক। একে তো তাঁর বয়স ৩৮, মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুম চলছে, তাই খেলার মধ্যে আছেন। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১৫তম দলের বিপক্ষে মেসিকে ম্যাচের প্রথমার্ধে বিশ্রাম দেওয়া তাই মোটেই অবাক করা সিদ্ধান্ত ছিল না।

    পাশাপাশি আরও একটি কারণ থাকতে পারে। সেটা অবশ্য অনুমান করে নিতে হচ্ছে। মার্চের এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও একটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। সেটাও প্রথম প্রীতি ম্যাচের ভেন্যু লা বোমবেনারো স্টেডিয়ামেই। এখন পর্যন্ত যে সূচি, সে অনুযায়ী—২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে এটাই হবে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচে মেসির শুরু থেকে খেলা তো স্বাগতিক দর্শকের কাছে তো প্রত্যাশিতই। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আজ সংবাদ সম্মেলনে সেই নিশ্চয়তাও দিলেন।

    আর্জেন্টিনার অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি
    আর্জেন্টিনার অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি, এএফপি
     

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে হয়তো মেসিকে শুরু থেকেই খেলানো যেত। কিন্তু বয়স, বিশ্রাম ও দুটি ম্যাচের মধ্যে জাম্বিয়া ম্যাচের গুরুত্বটা হয়তো স্কালোনির কাছে বেশি। কারণ, ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ৮১তম জাম্বিয়া মৌরিতানিয়ার চেয়ে শক্তিশালী দল আর বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে আবেগের ব্যাপারটি তো আছেই। পাশাপাশি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাম্বিয়া ম্যাচ শুরুর আগে একটু সাংস্কৃতিক আয়োজনও নাকি করবে এএফএ। বিশ্বকাপের আগে দলকে বিদায়ী শুভকামনা জানানো আরকি। এসব মিলিয়ে অনেকে হয়তো আগেই আন্দাজ করে নিয়েছিলেন, মৌরিতানিয়া ম্যাচে শুরু থেকে না খেললেও জাম্বিয়া ম্যাচে মেসিকে অবশ্যই শুরু থেকেই মাঠে দেখা যাবে।

    জাম্বিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই বললেন স্কালোনি, ‘মেসি আগামীকাল (১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় ভোরে) শুরু থেকে খেলবে। চেনাজানা বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খেলবে।’

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে নিয়মিত একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি। সেটা যে ‘অন্যদেরও সুযোগ দিতে’, তা আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তিনি। তবে স্কালোনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মোটামুটি একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছেন সেটাও বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘আমরা এরই মধ্যে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা সেটি ফিফার কাছে জমা দেবে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তালিকায় কাটছাঁট করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ মুহূর্তে।’

    সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল স্কালোনি
    সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল স্কালোনিএএফপি

    মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ভালো খেলতে না পারার অতৃপ্তি আছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে। স্কালোনি এ নিয়ে বলেছেন, ‘ইতিবাচক বিষয় হলো, খেলোয়াড়েরা নিজেরা বুঝতে পেরেছে যে আমরা ম্যাচটি ভালো খেলিনি। আশা করি সামনের ম্যাচে দল চিরচেনা রূপে ফিরবে।’

    সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হোয়াকিন পানিচেল্লির সর্বশেষ অবস্থা সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছিল স্কালোনির কাছে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে তাঁর। দুঃখ প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, ‘বিষয়টি মানা খুব কঠিন। সে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল, যা ছিল খুবই হৃদয়বিদারক। এটা তার প্রাপ্য ছিল না। আমরা তাকে বলেছি যে তার সামনে আরও সুযোগ আসবে...সত্যি বলতে, এটা আমাদের জন্য বড় একটি ধাক্কা।’

    বাংলাদেশ সময় ১ এপ্রিল ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে জাম্বিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্কালোনি জানান, বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। একটি ম্যাচ হবে সার্বিয়ার বিপক্ষে। অন্য প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ম্যাচ দুটির বিশেষত্ব হলো চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া ২৬ জনের মূল দল নিয়ে প্রীতি ম্যাচ দুটি খেলবেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, ঘরের বাইরে এ দুটি ম্যাচ খেলবে স্কালোনির দল।

  • স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল

    দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী এ সময় বলেন, লটারি যোগ্যতার মানদণ্ড না। গবেষণা করে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি আনা হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে তা পরিবর্তিতে জানানো হবে।

    প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার কারণে কোচিং বাড়বে না বলে মনে করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার মতে, ইন হাউজ কোচিং হবে।

     
  • স্নাতক শেষে সবচেয়ে বেশি বেতন পান কোন ১০ বিষয়ের শিক্ষার্থী

    বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে পড়লে ভবিষ্যতে বেশি আয় করা সম্ভব—এটি সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলেজ শেষ করার পাঁচ বছরের মধ্যেই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি আয় করছেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকেরা। এই তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ। এই তথ্য ধরে আমেরিকার গণমাধ্যম সিএনবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন।

    গবেষণায় পূর্ণকালীন চাকরিতে কর্মরত স্নাতকদের আয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাঁদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি ব্যাচেলরস এবং যাঁরা বর্তমানে শিক্ষার্থী নন।

    এগিয়ে প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং—

    ২২ থেকে ২৭ বছর বয়সী তরুণ স্নাতকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এই তিন বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের গড় বছরে আয় ৮৫,০০০ ডলার বা তার বেশি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গড় আয় বছরে প্রায় ৪৫,০০০ ডলার।

    সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ ১০ বিষয় কোনগুলো—

    ২২–২৭ বছর বয়সী স্নাতকদের জন্য সবচেয়ে বেশি আয় নিশ্চিত করে এমন বিষয়গুলো হলো—

    ১. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং: ৯০,০০০ ডলার

    ২. কম্পিউটার সায়েন্স: ৮৭,০০০ ডলার

    ৩. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৫,০০০ ডলার

    ৪. এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৫,০০০ ডলার

    ৫. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮৩,০০০ ডলার

    ৬. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮২,০০০ ডলার

    ৭. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৮০,০০০ ডলার

    ৮. কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস: ৭৫,০০০ ডলার

    ৯. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৭৫,০০০ ডলার

    ১০. জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং: ৭৫,০০০ ডলার

    ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের তথ্য অনুসারে, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের গাণিতিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্যই চাকরির বাজারে এখনও জোরালো চাহিদা রয়েছে। যদিও আয় বেশি, তবু আমেরিকাজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থী কিন্তু অনেক কমই। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের এক তথ্য বলছে দেশটির স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্য মাত্র ৬ শতাংশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেওয়া।

    এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনে পরিবর্তন আসছে। অনেকে মধ্য শঙ্কা আছে এসব বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের চাহিদা কমে যায় কি না, তা নিয়ে। তবে আমেরিকার শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, পরবর্তী দশকে প্রকৌশল ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা  ভালো বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। ২২-২৭ বছর বয়সী স্নাতকদের পরে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী স্নাতকদের মধ্যেও এটি দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ফেডের মতে, এই বয়সের প্রকৌশল বিভাগের স্নাতকদের বছরে গড় বেতন কমপক্ষে ১ লাখ ডলার।

    ১. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩৫,০০০ (ডলার)

    ২. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩১,০০০

    ৩. অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং: ১৩০,০০০

    ৪. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১২৩,০০০

    ৫. কম্পিউটার সায়েন্স: ১২০,০০০

    ৬. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১২০,০০০

    ৭. কনস্ট্রাকশন সার্ভিস: ১২০,০০০

    ৮. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১১৫,০০০

    ৯. ইকোনমিকস: ১১৫,০০০

    ১০. ফিন্যান্স: ১১২,০০০

    ১১. বিজনেস অ্যানালিটিকস: ১০৯,০০০

    ১২. জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১০৫,০০০

    ১৩. ফিজিকস: ১০৫,০০০

    ১৪. ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিস: ১০৪,০০০

    ১৫. গণিত: ১০০,০০০

    ১৬. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং: ১০০,০০০

    ১৭. ইনফরমেশন সিস্টেম: ১০০,০০০

    ১৮. মার্কেটিং: ১০০,০০০

    ১৯. বায়োকেমিস্ট্রি: ১০০,০০০

    ২০. পলিটিক্যাল সায়েন্স: ১০০,০০০

  • স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে স্মরণীয় ড্র কেপ ভার্দের

    অবিশ্বাস্য, বিখ্যাত এক ড্র কেপ ভার্দের!

    এটাই কি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ড্র? স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না! কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে অশ্রু। আহা! বিশ্বকাপের এই তো মজা!

    এবার বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ (৫ লাখ ২৫ হাজার) কেপ ভার্দে! সেটাও বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক ম্যাচে!

    কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনিয়ার চোখে অশ্রুর বান। দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা উৎসবের এই লগ্ন নেমেছে তাঁর হাতে ভর করে। ৭টি দারুণ সেভ করেছেন ম্যাচে।

    তারকাখচিত স্পেন, সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—৮০১টি পাস খেলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৪ তম কেপ ভার্দের জালে বল পাঠাতে পারেনি!

    কেপ ভার্দে ৬টি শট নিতে পেরেছে। পোস্টে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি। বেশির ভাগ সময়ই পাঁচজনের ব্যাকলাইন নিয়ে রক্ষণ সামলেছে। কখনো কখনো একজন মিডফিল্ডার নিচে নামিয়েও ছয়জন মিলে ডিফেন্স করেছে।

    স্পেনের কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়ার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন
    স্পেনের কাছ থেকে পয়েন্ট কাড়ার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উদ্‌যাপন, এএফপি
     

    স্পেন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, মরিয়া হয়েই খেলেছে। চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না ওঠা লামিনে ইয়ামালকে বাধ্য হয়ে বদলি নামিয়েছে। ২৭টি শট নিয়ে পোস্টে রাখতে পেরেছে ৭টি। কিন্তু গোলটা আর পাওয়া হয়নি। বল পোস্টেও লেগেছে।

    পুরো ম্যাচে গোলের সুযোগ কম বের করেনি স্পেন। কিন্তু প্রায় সময়ই কেপ ভার্দের বক্সে ঢুকে কিংবা তার সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে ফেরান তোরেস, দানি ওলমো, ইয়ামালদের আক্রমণভাগ। কারণ? বুক চিতিয়ে লড়েছে কেপ ভার্দে। স্পেনের বেশির ভাগ শটের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। তখন মনে হয়নি দুই দলের মধ্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬১ ধাপের ব্যবধান!

    ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল ধরে রেখেছে স্পেন।

    গোলকিপার ভোজিনিয়ার বীরত্ব। কেপ ভার্দের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন
    গোলকিপার ভোজিনিয়ার বীরত্ব। কেপ ভার্দের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ এক্স হ্যান্ডল
  • স্পেনের একাদশে নেই ইয়ামাল

    ইয়ামালকে ছাড়াই নামছে স্পেন

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ম্যাচের একাদশে নেই লামিনে ইয়ামাল। গত এপ্রিলে বার্সেলোনার হয়ে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। এরপর গত কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরেই ছিলেন ইয়ামাল। তাঁর পুর্নবাসন প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হওয়ায় এই ম্যাচের শুরু থেকে নেই ইয়ামাল।

    স্পেনের প্রথম একাদশ গোলরক্ষক: ২৩–উনাই সিমন। ডিফেন্ডার: মার্কোস ইয়োরেন্তে, ১৪–এমেরিক লাপোর্ত ,২২–পাউ কুবারসি, ২৪–মার্ক কুকুরেয়া। মিডফিল্ডার: ৮– ফাবিয়ান রুইজ, ৯–গাভি, ১৬–রদ্রি, ২০–পেদ্রি। ফরোয়ার্ড: ৭–ফেরান তোরেস, ২১– মিকেল ওইয়ারসাবাল
  • স্বামীর সব ছবি মুছে দিলেন, মৌনীর ঘর কি ভাঙছে

    ২০১৯ সালে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে দুবাইয়ে প্রথম দেখা। ধীরে ধীরে সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে, পরস্পরের আরও কাছাকাছি আসেন। প্রায় তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে সারেন মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। বাঙালি ও মালায়লি—দুই রীতি মেনেই বিয়ে হয় তাঁদের। কিন্তু মাত্র চার বছরের দাম্পত্য নাকি ভেঙে গেছে! তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মন খারাপ ভক্তদের। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মৌনী বা সুরজ—কেউই কিছু জানাননি।

    বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনার সূত্রপাত কীভাবে? ইনস্টাগ্রামে তাঁরা নাকি একে অপরকে আনফলো করেছেন। শুধু তা–ই নয় মৌনী রায়ের প্রোফাইল থেকে নিশ্চিহ্ন সুরজ! বিষয়টি নেট নাগরিকদের নজরে আসতেই দাম্পত্যে ভাঙন নিয়ে জোর চর্চা নেট–দুনিয়ায়। একসময় থাকত স্বামী সুরজের ছবি, আর এখন অভিনেত্রীর ইনস্টা হ্যান্ডলে একটি ছবিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এরপরই মৌনী-সুরজের বিবাহবিচ্ছেদের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। সিংহভাগ নেট নাগরিকের অনুমান, দাম্পত্যে চিড় ধরেছে। সম্ভবত তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আলোঝলমলে দুনিয়ার বাইরের মানুষ
    মৌনী রায়ের মতো তারকাজীবনের সঙ্গে সুরজ নাম্বিয়ারের জগৎ একেবারেই আলাদা। তিনি শোবিজ অঙ্গনের কেউ নন। ভারতের বেঙ্গালুরুতে জন্ম নেওয়া সুরজ পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। দীর্ঘদিন দুবাইয়ে কাজ করেছেন তিনি।
    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে ফিন্যান্সিয়াল ও ম্যানেজেরিয়াল অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সুরজ। পরে দুবাইয়ে পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্বও সামলাতে শুরু করেন।
    গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন সুরজ। ফলে মৌনীর সঙ্গে সম্পর্কের সময়ও খুব একটা আলোচনায় আসেননি তিনি।

    মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ
    মৌনী রায় ও সুরজ নাম্বিয়ার। কোলাজ

    দুবাইয়ে শুরু প্রেমের গল্প
    একসময় নির্মাতা অয়ন মুখার্জির সঙ্গে মৌনীর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও অভিনেত্রী নিজের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আড়ালে রাখতে চেয়েছেন।
    জানা যায়, ২০১৯ সালের নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় দুবাইয়ে পারস্পরিক পরিচিতদের মাধ্যমে প্রথম দেখা হয় মৌনী ও সুরজের। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। প্রায় দুই বছর সম্পর্কের পর পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
    ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় বসেছিল তাঁদের বিয়ের আসর।

    একসঙ্গে ব্যবসাও
    শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, ব্যবসায়িক অংশীদারও ছিলেন মৌনী ও সুরজ। ২০২২ সালে তাঁরা চালু করেন একটি এডটেক প্ল্যাটফর্ম। এরপর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে শুরু করেন বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ বদমাশ।

    মৌনি রায়
    মৌনি রায়এএফপি

    কাজে ব্যস্ত মৌনী
    ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেও ক্যারিয়ারে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌনী রায়। সামনে মুক্তি পাচ্ছে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’। এ ছাড়া তাঁকে ‘ব্রহ্মাস্ত্র ২’ ও মধুর ভান্ডারকরের নতুন সিনেমাতেও দেখা যাবে।

  • স্যামসনের দুর্দান্ত ৯৭* রানে রেকর্ড গড়ে সেমিফাইনালে ভারত

    অসাধারণ স্যামসন, নাকি আরও বেশি কিছু

    এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।

    অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার।

    স্যামসনকে সাপোর্ট দিয়েছেন অন্যরাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭, পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তাঁর কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

    মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ভারত।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৯৫/৪ ( চেজ ৪০, হোল্ডার ৩৭*, পাওয়েল ৩৪*; বুমরা ২/৩৬, পান্ডিয়া ১/৪০)। ভারত: ১৯.২ ওভারে ১৯৯/৫ (স্যামসন ৯৭*, তিলক ২৭; হোল্ডার ২/৩৮, শামার ২/৪২)। ফল: ভারত ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: সঞ্জু স্যামসন
  • হঠাৎ স্টোরিতে ৮০ হাজার ভিউ! এক রাতেই বদলে গেল বর্ণিতার জীবন

    আগের রাতেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ হয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড়। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবাকে নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হাজির হলেন বিদুষী বর্ণিতা। তাঁর মুখ থেকেই লাক্স সুন্দরী হওয়ার গল্পটা শুনলেন নাজমুল হক

    মেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা বিদুষী বর্ণিতা। রাজশাহীতে জন্ম হলেও ঢাকাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বাবা। মা–ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। সংগীত শিক্ষালয় ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখেন বর্ণিতা। তার মধ্যেই মা–বাবার হাত ধরে ছোট্ট বয়সে শোবিজযাত্রা শুরু। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয়। বর্ণিতার বয়স তখন ছয় কি সাত বছর। রেডিও এবিসিতে চাকরি করতেন বাবা। সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো ‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাঁর ভয়েস। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকেই শোবিজে নিয়মিত কাজ করার আগ্রহ। তবে তেমন সুযোগ তখন আসেনি। শুরুর সেই সময়টা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘অনেক লম্বা একটা সময়, প্রায় আট-নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় অনেক কাজ খুঁজেছি, কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনি।’ নানা কারণে সেই সময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগগুলো না আসায় তাঁর মনে অভিনয়ের প্রতি এক বিশাল ক্ষুধা জমে ছিল, কিছুটা আক্ষেপও ছিল। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। সাত বছর পর ফিরে আসা এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে শেষ হাসিটাও তিনিই হেসেছেন।

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতাছবি: খালেদ সরকার

    হাসপাতালের বিছানা থেকে
    বর্ণিতার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ জার্নি শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানাননি; চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে।

     

    আক্ষেপ ঘুচল
    কখনো ‘প্রথম’ না হতে পারাটা বর্ণিতার জীবনের একটা বড় আক্ষেপ ছিল। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ শুক্রবারের রাত তাঁর জীবনের সব অপ্রাপ্তি মুছে দিয়েছে।
    বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বর্ণিতার চোখ থেকে ঘুম উধাও। সকাল থেকে বাসায় আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়, আর মোবাইলে হাজার হাজার বার্তা। বর্ণিতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে বাড়ছে তাঁর অনুসারী। একটি স্টোরিতেই প্রায় ৮০ হাজার ভিউ!

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতা, ছবি: খালেদ সরকার

    বড়দের সান্নিধ্য
    পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া—এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে—এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’

    দায়িত্বের ভার
    বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”’
    বড় পর্দায় সুযোগ

    বিদুষী বর্ণিতা
    বিদুষী বর্ণিতা
     

    কেবল ট্রফি ও গাড়িই নয়, বিজয়ী হিসেবে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে বর্ণিতা রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
    পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চলবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যই ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে।

    নতুনদের প্রতি বার্তা
    ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

  • হাজারতম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ মাইলফলকের। এক হাজারতম ওয়ানডে বলে কথা! এই মাইলফলকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান।

    ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ২০১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বাবর আজম ও গাজি ঘুরির ফিফটিতে ৪২.৩ ওভারে এই রান তাড়া করেছে পাকিস্তান।

    যদিও এ দুজন নয়, হাজারতম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মূল নায়ক অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস। রাওয়ালপিন্ডিতে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে যা প্রথম। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রানে তিনি আউট করেছেন জশ ইংলিশ, মারনাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসকে।

    ৫ উইকেট নিয়েছেন মিনহাস
    ৫ উইকেট নিয়েছেন মিনহাসএএফপি

    রান তাড়ায় ৪৯ রানে ২ উইকেট হারালেও বাবর ও ঘুরি তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১২৭ রান তুললে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। বাবর আউট হয়েছেন ৬৯ রানে, ঘুরি ৬৫ রানে। দুজনকেই আউট করেছেন এলিস। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২ জুন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.১ ওভারে ২০০ (রেনশ ৬১, শর্ট ৫৫; মিনহাস ৫/৩২)। পাকিস্তান: ৪২.৩ ওভারে ২০২/৫ (বাবর ৬৯, ঘুরি; এলিস ২/৪৫)। ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আরাফাত মিনহাস
  • হাবিবুল বাশারকে প্রধান করে জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন এই প্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার।

    ৫৩ বছর বয়সী হাবিবুল বাশারের নির্বাচক হিসেবে অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। এর আগে তিনি বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী—উভয় দলেরই জাতীয় নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

    হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের এই প্যানেলে সদস্য হিসেবে থাকছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গাজী আশরাফ হোসেনের অধীনে আগের প্যানেলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

    নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম
    নতুন নির্বাচক হয়েছেন নাঈম ইসলাম, বিসিবি
     

    নির্বাচক প্যানেলের নতুন দুই মুখ নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের দুই দশকের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবন। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি রান করা নাঈমের দখলে রয়েছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে  সর্বোচ্চ ৩৪টি সেঞ্চুরির জাতীয় রেকর্ড। আইসিসির মাসসেরা সাহিবজাদা ফারহান ও অরুন্ধতী রেড্ডি

    অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীও ২০ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটার অবসর গ্রহণের পর বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নাদিফ চৌধুরী
    নাদিফ চৌধুরী, শামসুল হক

    বিসিবি জানিয়েছে, নবনিযুক্ত এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ থাকবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। মূলত বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড।

  • হামজাদের নতুন কোচ থমাস ডুলি, সকালেই এলেন ঢাকায়

    বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে সাবেক মার্কিন ফুটবলার থমাস ডুলির নাম চূড়ান্ত হলো। ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে কোচের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    নতুন দায়িত্ব নিয়ে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন আমেরিকান বংশদ্ভূত এই জার্মান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ডুলি।

    কোচ নিয়োগের দৌড়ে শুরুতে ওয়েলসের সাবেক ইউরোজয়ী কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম বেশ জোরেসোরে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে মেলেনি বাফুফের।

    এদিকে, গেলো দুইদিন একদল সমর্থক বাফুফেতে আরও হাইপ্রোফাইল কোচ আনার জন্য মানববন্ধন করেছে। আজ বেলা ১২টায় বাফুফের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ফুটবল সমর্থকরা।

     
  • হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর গবেষণায় অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা

    বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল (এইচএমএস) চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত, যেখানে মানবস্বাস্থ্য ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী বহু আবিষ্কার হয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণায় মানবদেহের অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা দেখতে পাচ্ছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আহমেদ রহমানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র, এটিকে বিজ্ঞানীরা দ্বিতীয় মস্তিষ্কও বলেন। অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্রকে বলা হয় এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম (ইএনএস)। এই জটিল স্নায়ুতন্ত্র আমাদের পরিপাকতন্ত্রের চলাচল, শোষণ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    আহমেদ আয়েদুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর গবেষণা বিশেষ করে হির্শস্প্রুং রোগের মতো জন্মগত অন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এই রোগে অন্ত্রের একটি অংশে স্নায়ুকোষ থাকে না, ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বর্তমানে এর একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এতে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হন না, অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকেই যায়।

    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ পেয়েছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

    এই প্রেক্ষাপটে আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অটোলোগাস এন্টারিক নিউরাল স্টেম সেল (ইএনএসসি) প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। তাঁর গবেষণা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ন্যাচার কমিউনিকেশনস, নিউরন এবং জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। প্রচলিত অস্ত্রোপচারনির্ভর চিকিৎসার বাইরে একটি জৈবিক সমাধানের ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান
    হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডেলির কাছ থেকে এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ অ্যাওয়ার্ডস নিচ্ছেন আহমেদ আয়েদুর রহমান। সঙ্গে স্ত্রী ইশরাত শহীদ এবং দুই সন্তান আদিয়ান ও আফফান, ছবি: সংগৃহীত
     

    আহমেদ আয়েদুর রহমান অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি অভিনব পদ্ধতিও দেখিয়েছেন। সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কোলিনার্জিক নিউরনকে নীল আলো দিয়ে উদ্দীপিত করলে কোলাইটিসের প্রদাহ কমে। এটি ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যতে বায়োইলেকট্রনিক থেরাপির পথ তৈরি করতে পারে।

    এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নত চিকিৎসা এখনো সীমিত। তাই যদি এই গবেষণাগুলো ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    জিনগত রোগ ও জিন থেরাপির সম্ভাবনা—

    সেল থেরাপির পাশাপাশি ড. আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জিনগতভাবে সৃষ্ট মসৃণ পেশির রোগ নিয়ে কাজ করা। সম্প্রতি তাঁরা মাল্টিসেস্টেমেটিক স্মুথ মাসল ডিসফাংশন সিনড্রোম (এমএসএমডিএস) নামক একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশ করেছে। এই রোগ একটি নির্দিষ্ট জিনগত ত্রুটির কারণে হয়।

    এ বিষয়ে আহমেদ আয়েদুর রহমান বলেন, এই জিনগত পরিবর্তন অন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে প্রিসিশন মেডিসিন বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে। যেহেতু রোগটির সুনির্দিষ্ট জিনগত কারণ জানা আছে, তাই ভবিষ্যতে জিন থেরাপির মাধ্যমে মূল ত্রুটি সংশোধনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হয়েছে। যদিও এই গবেষণা এখনো প্রাক্‌-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে, তবে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

    আহমেদ আয়েদুর রহমান আরও বলেন, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের একজন মেডিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে এমন পরিবেশে কাজ করছি, যেখানে মৌলিক গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং রোগীকেন্দ্রিক ক্লিনিক্যাল প্রোগ্রাম একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বিরল জিনগত রোগের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত প্রোগ্রাম রয়েছে। ফলে ল্যাবে উদ্ভাবিত কোনো থেরাপি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে তা দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ রয়েছে। আহমেদ আয়েদুর রহমানের ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়। আমরা এমন বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজছি, যা দ্রুতই সরাসরি রোগীদের উপকারে আসবে।’

    ২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান
    ২০২৪ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী ড. গ্যারি রুভকুনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেন বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান, ছবি: সংগৃহীত
     

    আহমেদ আয়েদুর রহমানের গবেষণা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (NIH) থেকে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান দ্বারা সমর্থিত, যা বিশ্বমানের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা গবেষণাকে এগিয়ে নিতে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তিনি আমেরিকান নিউরোগ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড মোটিলিটি সোসাইটির (ANMS) ডিসকভারি গ্রান্ট অর্জন করেছেন, যা আন্ত্রিক প্রদাহজনিত রোগ (IBD) নিয়ে তাঁর গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এলিনর অ্যান্ড মাইলস শোর ফেলোশিপ লাভ করেছেন, যা কেবল ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় গবেষকদের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হার্ভার্ড—

    খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আহমেদ আয়েদুর রহমানের বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ ছিল শৈশব থেকেই। পিএইচডি করতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি ডিসিপ্লিনে শিক্ষকতা করেছেন, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি গবেষণার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্নে (২০১২–২০১৭) এবং ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটি, সিডনিতে (২০১৭–২০২০) শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে (এমজিএইচ) গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

  • হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লিডারস প্রোগ্রাম, আবেদন আইইএলটিএস ছাড়াই

    দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম (The Aspire Leaders Program 2026) একটি নেতৃত্ব উন্নয়নের প্রোগ্রাম। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের একটি প্রোগ্রাম যা বিশ্বব্যাপী সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের জীবন পরিবর্তন ও তাঁদের সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করতে সক্ষম। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন চলছে।

    এ প্রোগ্রামে তিনটি মডিউল আছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত নেতৃত্বের এই প্রোগ্রাম ৮ সপ্তাহের। এ প্রোগ্রামের অন্যতম সুবিধা হলো আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নের এ প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ পাবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। কোনো শিক্ষার্থী বাড়িতে বসেই আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে সম্পূর্ণ অর্থায়িত এ প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারেন।

    আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটিক আগে ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস’ প্রোগ্রাম নামে পরিচিত ছিল। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের সামাজিক ও আর্থিক প্রতিকূলতা নিয়ে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১০ জুলাই ২০২৬।

     বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত নেতৃত্বের এ প্রোগ্রাম ১৪ সপ্তাহের
    বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত নেতৃত্বের এ প্রোগ্রাম ১৪ সপ্তাহেরছবি: দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
     

    আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে পড়ুয়া কিংবা শেষ করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা আবেদনের যোগ্য। এ ছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থী হতে হবে। এ প্রোগ্রামে সারা বিশ্বের অন্যান্য অ্যাস্পায়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ প্রোগ্রামের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

    দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম একটি নেতৃত্ব উন্নয়নের প্রোগ্রাম
    দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম একটি নেতৃত্ব উন্নয়নের প্রোগ্রামপ্রথম আলো ফাইল ছবি

    সুযোগ-সুবিধাসমূহ—

    —বিশ্বের অন্য অ্যাস্পায়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ;

    —বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ;

    —হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাস;

    —উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান;

    —বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ;

    —আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন;

    —ব্যবহারিক দক্ষতা-নির্মাণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ।

    আবেদনের যোগ্যতা—

    *আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী;

    *বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে;

    *উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি জানা থাকতে হবে;

    *পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে।

    —আবেদনের প্রক্রিয়া ও অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতিসহ বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

  • ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করছে রাশিয়া

    দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

    দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, ফেডারেল অ্যান্টিমনোপলি সার্ভিস, সেন্ট পিটার্সবার্গ এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে নোভাক বলেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

    এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল শোধনের পরিমাণ ২০২৫ সালের মার্চের পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলোও উচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে অস্থিতিশীলতার কারণে তেল পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

    গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

     

  • ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’

    আবারও তহবিল পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড।’ ইতালির ফ্যাশন হাউস প্রাডার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে প্রাডা থেকে এই তহবিল পেল সিনেমাটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশের সিনেমাটিসহ ১৪টি দেশের সিনেমার প্রকল্প এই অনুদান পাচ্ছে।

    সব কটি সিনেমা ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা পাবে। এই তালিকায় দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড পাবে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার তহবিল (৮০ হাজার ইউরো)। এর আগে একক ভাবে দেশের কোনো সিনেমা এত বড় অঙ্কের সহায়তা কোনো সিনেমা পায়নি।

    ফন্ডাজিওনে প্রাডা সাইট থেকে জানা যায়, নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর নির্মাতাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন। বাংলাদেশের দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। তিনি রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে জানান, বেশ কয়েক দিন আগেই শুনেছেন পোস্ট প্রোডাকশন প্রকল্প হিসেবে তাঁর সিনেমাটি তহবিল–সহায়তা পাচ্ছে।

    পরিচালক  রুবাইয়াত হোসেন
    পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন
     

    সিনেমাটির সম্পাদনার কাজ শেষ করে ফ্রান্স থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন রুবাইয়াত। এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পর্তুগালের লিসবনে যাওয়ার সেখানে আবহসংগীতসহ (ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর) বেশ কিছু কাজ রয়েছে। তবে বড় চিন্তা ছিল সিনেমাটির ভিডিও ইফেক্টের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে। কারণ, এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ দরকার ছিল। এমন সময়ে তিনি এই তহবিলের সুসংবাদ পান।

    ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় খবর। আমার সিনেমাটি হরর ঘরানার। অনেক ভিডিও ইফেক্টের কাজ রয়েছে। সেগুলো এ সময়ে পেশাগতভাবে (প্রফেশনাল) করার জন্য অনেক অর্থ দরকার। সেখানে এই তহবিল আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। এখন আমরা কাজটি আরও সুন্দরভাবে করতে পারব। আমরা হয়তো পোস্টের যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেই জায়গাটি পার করতে পারব’, বলেন রুবাইয়াত।

    ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রাথমিক পোস্টার। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
    ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রাথমিক পোস্টার। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

    নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চারটি চিত্রনাট্য উন্নয়ন (ডেভেলপমেন্ট) পর্যায়ে রয়েছে, ৯টি নির্মাণাধীন (প্রোডাকশন) সিনেমা এই তহবিলের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে—এমন একটি সিনেমার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের সিনেমাটি। এসব প্রকল্পে ৫ মহাদেশের ২৬টি দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

    ‘আমি দেশের প্রচলিত গল্প নিয়ে কাজ করতে চাই। যে গল্পে উঠে আসবে আমাদের নারীদের কথা। আমাদের নিজস্ব কথা, আমাদের সংস্কৃতির কথা। আমাদের নিজস্ব গল্পগুলোর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাহিদা রয়েছে বলেই কিন্তু আমাদের সিনেমাটি নানান জায়গা থেকে সহায়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের প্রযোজক যুক্ত হচ্ছেন। ডিস্ট্রিবিউটর আসছে। হয়তো আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছি সেই জায়গাটায় পৌঁছাতে পারব।’

    বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পারলারের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এর মধ্যে তুলে ধরেছেন সচেতনতার বার্তা। সিনেমার জনরা সামাজিক হলেও এর সঙ্গে যোগ হয়েছে হরর ঘরানা। এর আগে মেহেরজান, আন্ডার কনস্ট্রাকশন, মেড ইন বাংলাদেশ সিনেমাগুলো বানালেও এবার প্রথম হরর বেছে নিয়েছেন তিনি। জানালেন এবারের গল্পটা তাঁর শৈশবে পারলারে চুল কাটাতে যাওয়ার দিনগুলোতে শোনা গল্প। যে গল্পের প্রধান উপাদান তাকে প্রতিবার পারলারে গিয়ে চুল কাটতে গিয়ে ভয়ের জগতে নিয়ে যেত। সেই শোনা গল্পটিই একটু একটু করে এক যুগের বেশি সময় ধরে ডানা মেলেছে। তবে সেই গল্প এখনই প্রকাশ করতে চান না।

    সিনেমায় অভিনয় করেছেন  আজমেরী হক বাঁধন,সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। কোলাজ
    সিনেমায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন,সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। 
     

    রুবাইয়াতের এই সিনেমা এর আগে জার্মান ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ড, পর্তুগালের ফিল্ম ইনস্টিটিউট, ইউইমেজেসসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে আর্থিক সহায়তা পায়। পর্তুগাল, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। কারণ, তিনি বিখ্যাত সব নির্মাতার সঙ্গে এই তহবিল পাচ্ছেন।

    প্রশংসিত নির্মাতাদের মধ্যে রয়েছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণপাম জয়ী থাই নির্মাতা আপিচাতপং দারাসেথাকুল। তিনি এবার জেনজিরাস ম্যাগনিফিসেন্ট ড্রিম নিয়ে আসছেন। ম্যাক্সিকান পরিচালক তাতিয়ানা হুয়েজো, যিনি ২০২৩ সালে দ্য ইকো সিনেমার জন্য বার্লিনের এনকাউন্টারস বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান, তাঁর আগে কান উৎসব থেকে তাঁর প্রেয়ার্স ফর দ্য স্টোলেন আঁ সার্তে রিগা বিভাগে বিশেষ স্বীকৃতি পায়। এ ছাড়া আছেন জর্জিয়ান-সুইডিশ পরিচালক লেভান আকিন; বার্লিন থেকে জুরি পুরস্কার পেয়েছিল তাঁর ক্রসিং সিনেমাটি। ফন্ডাজিওনে প্রাডা ফিল্ম ফান্ড প্রথমবারের মতো বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থায়ন করছে।

    সিনেমার প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জাইনীন করিমকে। আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করা জাইনীনের এবারই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে। দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইডে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও রিকিতা নন্দিনী শিমু। সবশেষে পরিচালক জানান, সিনেমাটি নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যেতে চান।

  • ১ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিলো সরকার

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এই তেল আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়।

    জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আরও জানা গেছে, চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এই এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কমিটি তা অনুমোদন করেছে।

    এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ভুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে ৬০ হাজার টন গ্যাস অয়েল ০ দশমিক ৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবও প্রথম অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয় এবং তার পরপরই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করে।

    এছাড়া বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবও প্রথম অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরপরই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।

    এদিকে বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ হংকংয়ের ফালকো করপোরেশন লিমিটেড থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আসে। তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার আরেকটি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল কেনার আর একটি প্রস্তাব আনা হলেও সেটি আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

     

  • ১০ ফেব্রুয়ারি শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ফলে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি-টানা তিন দিন শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ছুটি থাকবে।

    তবে এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি ভোগ করার পর শ্রমিকদের দিয়ে পরবর্তীতে একদিন কাজ করাতে পারবেন কারখানা মালিকরা।

    বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।

    এতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে।

    উল্লেখ্য, পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজেএমইএর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।

  • ১১ জনকে বদল করেও ফ্রান্স ভয়ংকর

    ব্রাজিলের বিপক্ষে তিন দিন আগে দারুণ এক জয় দিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করেছিল ফ্রান্স। সেদিন যাঁরা ম্যাচটি দেখেছেন, তাঁরা গতকাল রাতে ফ্রান্স দলকে দেখে একটু চমকে উঠতে পারেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একাদশের ১১ জনের সবাইকে বদলে ফেলেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।

    তবে সম্পূর্ণ নতুন দল নিয়ে মাঠে নামলেও পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রান্স দেখাল তাদের বেঞ্চের দল আরও বেশি শক্তিশালী। এনএফএলের দল ওয়াশিংটন কমান্ডার্সের মাঠে ৪১ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া ফ্রান্স ম্যাচটি জিতেছে ৩-১ গোলে।

    কলম্বিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন জামিনটন ক্যাম্পাজ। এদিন কিলিয়ান এমবাপ্পে-হুগো একিতিকেরা যখন বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন, ততক্ষণে ফ্রান্সের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। এই জয়ে বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরটা শতভাগ সাফল্য নিয়েই করল ফ্রান্স।
    গতকাল রাতে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন এমবাপ্পে
    গতকাল রাতে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন এমবাপ্পে, এএফপি

    এই ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত দুয়ে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যম টিএফ১কে তিনি বলেন, ‘জয়টা মোটেই সহজ ছিল না। আমার জন্য এটা গর্বের মুহূর্ত, আমি খুবই খুশি।’

    দলের খেলার ধরন নিয়ে দুয়ের ভাষ্য, ‘বিশ্বকাপের আগে আমরা দুটি ভালো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। আজ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আমরা সেটাই করেছি। আমরা বেশ আগ্রাসী হয়ে খেলেছি, অনেক কিছুই ঠিকঠাকমতো হয়েছে। এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’

    আগামী মে মাসে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে এটিই ছিল ফ্রান্সের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। তবে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে পারফরম্যান্সের পর দল বাছাই করতে মধুর সমস্যায়ই পড়তে পারেন দেশম। কাকে বাদ দিয়ে কাকে দলে জায়গা দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে হতে পারে বিশ্বকাপজয়ী এই কোচকে।
  • ১১ বারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিলেন প্রিয়তি, জেনে নিন পেছনের গল্প

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল ১০ মে। তার ৫ দিন আগের কথা। প্রিয়তির ১৯ মাসের ছোট্ট মেয়ে লাভিশার যিনি দেখাশোনা করেন, তিনি এক সপ্তাহের ছুটিতে। সেখান থেকেই ফোনে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠিয়ে জানালেন, যে সময়ে প্রিয়তি কান চলচ্চিত্র উৎসবে থাকবেন, সে সময় লাভিশার দেখাশোনা করতে পারবেন না তিনি। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল প্রিয়তির।

    [caption id="attachment_273966" align="alignnone" width="783"] কানের লালগালিচায় প্রিয়তি দেখা দেন জেরালডিন ও’মিয়ারার নকশা করা হলুদ পেপলাম গাউনেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু[/caption]

    বলছি মাকসুদা আখতার প্রিয়তির কথা। যিনি একাধারে মিজ আয়ারল্যান্ড খেতাবজয়ী মডেল, পাইলট ও তিন সন্তানের মা। ছোট মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মানুষটি ছুটিতে গেছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে পোশাকগুলোর ফাইনাল ফিটিং, ট্রায়াল থেকে শুরু করে গয়না, ব্যাগ, জুতা, সানগ্লাস, মেকআপ বা অন্যান্য এক্সেসরিজ, ফটোশুট আর মিটিং—কোনো কিছুর জন্যই আলাদা করে সময় পাচ্ছিলেন না।

    প্রিয়তির সন্তানকে দেখাশোনার জন্য আর কেউ ছিল না। টিকিট, হোটেল বুকিং; প্রায় ১০ দিন ফ্রান্সে থাকা, খাওয়া, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেওয়া, মিটিং, ডিনার, ফটোশুট—সব প্রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট তত দিনে শেষ।

    গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশা
    গাউনের নাটকীয় স্লিভের একটি ছোট হাতা। সেটি বাটারফ্লাই মোটিফে তৈরি। অন্যটি পাফড, স্ট্র্যাকচার্ডড ফুল স্লিভ, হাতার শেষ অংশে নজর কাড়ে পালকের নকশাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

    মুশকিল আসান

    এদিকে প্রিয়তির কানে যাওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা। শেষমেশ বছরখানেক আগে ছোট্ট লাভিশার যিনি দেখাশোনা করতেন, তাঁকে ফোন করলেন প্রিয়তি। তিনি তখন আরেক জায়গায় চাকরি করেন। প্রিয়তির এমন অবস্থা শুনে তিনি সেখান থেকে এক দিনের নোটিশে চাকরি ছেড়ে প্রিয়তির বাসায় এসে হাজির।

    আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছে
    আইরিশ জুয়েলারি ও অ্যাকসেসরি ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটারের তৈরি গয়না ও ব্যাগের সঙ্গে পরিমিত মেকআপ আর আশির দশকের হলিউড গ্ল্যাম থেকে অনুপ্রাণিত সাইড-পার্টেড শর্ট বব হেয়ারস্টাইল নজর কেড়েছেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু
     

    কানের লালগালিচায় চতুর্থ লুকে হাজির হওয়ার আগে মেকআপ নিতে নিতে প্রিয়তি বললেন, ‘৮ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। ১৬ বছর বয়সে মা। আজ যত দূর এসেছি, এই দুজন মানুষের জন্য। দে হ্যাভ মাই ব্যাক। শেষ মুহূর্তে কোন পোশাকের সঙ্গে কী পরব, কীভাবে পরব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার জন্য সেগুলো গুছিয়েছে আইরিশ গয়নার ডিজাইনার ফিওনা র‍্যাফটার। এই মানুষগুলোর জন্যই আমি জীবনে বহুবার পড়তে পড়তেও পড়িনি। যখনই আমি এমন সব পরিস্থিতিতে পড়েছি, কারও না কারও সাহায্যে ঠিকই উতরে গেছি।’

    সঙ্গী যখন মাদার্স গিল্ট

    লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথন
    লালগালিচায় চতুর্থ লুকের আগে কানের হোটেলরুমে মেকআপ নিতে নিতেই ফোনে চলল প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথনছবি: প্রিয়তির সৌজন্যে

    ১৪ মে ছিল প্রিয়তির বড় ছেলের জন্মদিন। ছেলের জন্মদিনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উপহার হিসেবে ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে, প্রিয়তির কাজিনের কাছে। বললেন, ‘যত গ্ল্যামারাস আর রাজকীয়ভাবেই লালগালিচায় হাঁটি না কেন, তিন সন্তানের মা হিসেবে সব সময় মাদার্স গিল্ট আমার সঙ্গী।’

    ২০১৪ সালে মিজ আয়ারল্যান্ডের খেতাব জয় করেন প্রিয়তি। ২০১৫ সাল থেকে ১১ বার অংশ নিলেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। আর কানের লালগালিচায় হাঁটলেন এবার দশম বারের মতো।

    কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না

    সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তি
    সোনালি রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস ব্যান্ডেজ ড্রেসেও লালগালিচায় দেখা দেন প্রিয়তিপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

    প্রিয়তি বললেন, ‘লালগালিচায় অংশ নেওয়া কান চলচ্চিত্র উৎসবের খুবই ছোট্ট একটা অংশ। এই তো গতকালই ভিন ডিজেল তাঁর “ফার্স্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস” সিনেমার ২৫তম বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সিনেমার বিশেষ প্রিমিয়ারে অংশ নিলেন। (ভিন ডিজেল) বললেন, ৩৫ বছর আগে তিনি যখন প্রথম কানে আসেন, তখন একটা ছোট লন্ড্রি ব্যাগে কিছু কাপড় নিয়ে এসেছিলেন। বললেন, তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা যেখানেই হোক না কেন; তারকা হিসেবে, পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার শুরু এই কান থেকেই। এ কথা বলে তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আসলে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যে কেউ যদি একটু রিসার্চ করেন, আগে থেকে মেইল পাঠিয়ে কিছু মিটিং ফিক্স করে আসেন, তিনি কখনো খালি হাতে ফিরবেন না। কান থেকে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এখান থেকে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ধরনের কোলাবরেশন সম্ভব।’

    এআই নিয়ে ভাবনা

    বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা
    বডিকন ফিটের মিদি ড্রেসটির হেমলাইন সমৃদ্ধ নিচের অংশটি মারমেইড ভাইভ দেয়। হ্যাট আকৃতির হেডপিসটি প্রিয়তির লুকে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রাপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

    প্রিয়তি আরও বলেন, ‘গত বছর আমি যখন এখানে আসি, তখন এআই দিয়ে তৈরি সিনেমাকে গ্রহণ করা না–করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ বছর সেই আলোচনা আরও ডালপালা মেলছে। কীভাবে, কেন এআই সিনেমা তৈরি হবে, কত শতাংশ তৈরি হবে, তার নীতিমালা নিয়ে যুক্তি-তর্ক, আলাপ চলছে। এখানে আসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো বিভিন্ন দেশের, সংস্কৃতির, সৃষ্টিশীল সেরাদের আইডিয়া জানা, তাঁদের সঙ্গে আইডিয়া বিনিময়ের সুযোগ পাওয়া।’

    আরও পড়ুন

    কানের দ্বিতীয় দিনে আলিয়া ভাটের তিন লুক

    লুকটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল তাঁর হাতে ধরা আইভরি লেসের ছাতা বা প্যারাসল। ছাতাটি যোগ করেছে ‘ওল্ড ওয়ার্ল্ড রোমান্স’ বা ‘সফট রয়্যাল’ আবহ। অনেকেই এই লুককে ‘ব্রিজারটন কোর’ বা ‘মহারানি-অ্যাসথেটিক’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

    বাংলাদেশি ডিজাইনারদের পোশাক নয় কেন?

    ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকে
    ওয়ান শোল্ডার চকচকে গোলাপি গাউনটিও দারুণ মানিয়েছে প্রিয়তিকেপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

    এ বছর রিচার্ড হ্যারিস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পক্ষ থেকে ১০ দিনের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে কানে গেছেন প্রিয়তি। জানতে চাইলাম, আপনি কেন কেবল আইরিশ ডিজাইনারদেরই প্রমোট করছেন? বাংলাদেশের ডিজাইনারদের একটা পোশাকও কেন স্থান পায়নি আপনার কানের লাগেজে?

    কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন
    কানের রাস্তায় স্কার্ট আর হলুদ হ্যাটে প্রিয়তি। উৎসব শুরুর আগে এভাবেই ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেনপোশাক নকশা: জেরালডিন ও’মিয়ারা (আইরিশ ফ্যাশন ডিজাইনার); গয়না নকশা: ফিওনা র‍্যাফটার; মেকআপ: মারিয়া মুয়া। ছবি: লরাঁ হু

    উত্তরে প্রিয়তি বলেন, ‘আমি গত বছর ফেসবুকে লিখেছিলাম, বাংলাদেশি কোনো ফ্যাশন ডিজাইনার যদি আমার কান লুকের জন্য পোশাক দেন, মোস্ট ওয়ালকাম। আমি সম্মানের সঙ্গে সেটি গ্রহণ করব; কিন্তু কেউ সেই ডাকে সাড়া দেননি। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডেই আমার পেশাজীবন। নিরাপত্তা, আশ্রয়, জীবনসঙ্গী, ভালো কাজ, ভালো জীবন—সবকিছুই সেখানে পেয়েছি। সেখানকার ফ্যাশন ডিজাইনারদের ওপর ভর করেই আমি ক্যারিয়ার গড়েছি। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি কেবল আয়ারল্যান্ডের বড় বড় ডিজাইনারের পোশাকই আনিনি; বরং ছোট ছোট টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা বুটিক ও কুটিরশিল্পের নানা কিছু সঙ্গে এনেছি। এটা তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রকাশ।’

    জিনাত শারমিন

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব