• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠন-সংক্রান্ত নির্দেশনা পালনে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়। মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৬ মার্চের জারিকৃত পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠন-সংক্রান্ত প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে অনুরোধ করা হলো।

    এর আগে ১৬ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস বা সমমান করে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১০ মার্চ নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ম্যানেজিং কমিটি, অ্যাডহক কমিটি গঠন বিষয়ে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাসহ অন্যান্য বোর্ডের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্টের সংশোধনী) এর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে ৭৫ (২) এবং অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে ৭৪(২) প্রবিধি অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নিম্নরূপ নির্দেশনা দেওয়া হলো। এগুলো হলো—

    ক. অ্যাডহক কমিটির সভাপতি— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস বা সমমান হবে। আবশ্যক ক্ষেত্রে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির শিক্ষা প্রসার ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান বা অন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

    খ. অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন—অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা শিক্ষায় আগ্রহী স্থানীয় খ্যাতিমান ব্যক্তি, সমাজসেবক, স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার মধ্য থেকে ৩ জন ব্যক্তির নাম ও জীবনবৃত্তান্ত–সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের কাছে পাঠাবেন। শিক্ষা বোর্ড প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজনকে সভাপতি মনোনীত করবেন।

  • শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলায় বেকারত্ব বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। কিন্তু শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমানো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

    এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য।

    আলোচনা সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিঙাড়া বিক্রেতার মেয়ের উত্থান, এক কামরার ঘর থেকে কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি

    একসময় বাবার শিঙাড়া বিক্রির টাকায় চলত সংসার। মন্দিরে ভজন গেয়ে ৫০ টাকা আয় করতেন তিন ভাইবোন। সেই মেয়েটিই আজ ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন। কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা, বিলাসবহুল জীবন আর অসংখ্য সুপারহিট গানের মালিক নেহা কক্করের জন্মদিন ছিল গতকাল ৬ জুন। এই শিল্পীর সংগ্রাম, সাফল্য আর অনুপ্রেরণার গল্প জেনে নেওয়া যাক ছবিতে ছবিতে। ছবিগুলো নেহা কক্করের ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।
    ১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে জন্ম নেন নেহা কক্কর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।
    ১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে জন্ম নেন নেহা কক্কর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে।
    নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজের সামনেই শিঙাড়া বিক্রি করতেন তিনি। এ কারণে অনেক সময় বন্ধুদের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে নেহাকে।
    নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজের সামনেই শিঙাড়া বিক্রি করতেন তিনি। এ কারণে অনেক সময় বন্ধুদের কটূক্তিও শুনতে হয়েছে নেহাকে।
     মা-বাবা ও দুই ভাইবোনকে নিয়ে এক কামরার ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকতেন নেহা। সেই একটি ঘরই ছিল তাঁদের শোবার ঘর, বসার ঘর ও রান্নাঘর।
    মা-বাবা ও দুই ভাইবোনকে নিয়ে এক কামরার ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকতেন নেহা। সেই একটি ঘরই ছিল তাঁদের শোবার ঘর, বসার ঘর ও রান্নাঘর।
    মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন নেহা। বড় বোন সনু কক্কর ও ভাই টনি কক্করের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন গেয়ে পারিশ্রমিক পেতেন।
    মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান গাওয়া শুরু করেন নেহা। বড় বোন সনু কক্কর ও ভাই টনি কক্করের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভজন গেয়ে পারিশ্রমিক পেতেন।
    উৎসবের সময় মন্দিরে গান গেয়ে তিন ভাইবোন ৫০ টাকা করে আয় করতেন। বাড়ি ফিরে সেই টাকাগুলো তুলে দিতেন মায়ের হাতে।
    উৎসবের সময় মন্দিরে গান গেয়ে তিন ভাইবোন ৫০ টাকা করে আয় করতেন। বাড়ি ফিরে সেই টাকাগুলো তুলে দিতেন মায়ের হাতে।
    শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নেহা কক্কর।
    শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে নেহা কক্কর।
    দুই ছবিতে জীবনের দুই অধ্যায়।
    দুই ছবিতে জীবনের দুই অধ্যায়।
     ২০২০ সালের অক্টোবরে গায়ক রোহানপ্রীত সিংকে বিয়ে করেন নেহা। দিল্লিতে বিয়ে এবং চণ্ডীগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের বিয়ে সে সময় ছিল ভারতের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
    ২০২০ সালের অক্টোবরে গায়ক রোহানপ্রীত সিংকে বিয়ে করেন নেহা। দিল্লিতে বিয়ে এবং চণ্ডীগড়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁদের বিয়ে সে সময় ছিল ভারতের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
    উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন নেহা। শিরোপা জিততে না পারলেও সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বড় স্বপ্নের যাত্রা।
    উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর দ্বিতীয় সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেন নেহা। শিরোপা জিততে না পারলেও সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর বড় স্বপ্নের যাত্রা।
    প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লেও থেমে যাননি নেহা। ২০০৮ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘নেহা দ্য রকস্টার’।
    প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লেও থেমে যাননি নেহা। ২০০৮ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘নেহা দ্য রকস্টার’।
     একসময় যে মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ই পরে বিচারকের আসনে বসেন নেহা। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
    একসময় যে মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ই পরে বিচারকের আসনে বসেন নেহা। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
    ২০০৮ সালে ভাই টনি কক্করকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান নেহা। সংগ্রামের সেই শহরই পরে তাঁকে এনে দেয় তারকাখ্যাতি।
    ২০০৮ সালে ভাই টনি কক্করকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান নেহা। সংগ্রামের সেই শহরই পরে তাঁকে এনে দেয় তারকাখ্যাতি।
    সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’, ‘ধাতিং নাচ’, ‘সানি সানি’, ‘কালা চশমা’, ‘দিলবার’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’ ও ‘সাকি সাকি’—একের পর এক হিট গান তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
    সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’, ‘ধাতিং নাচ’, ‘সানি সানি’, ‘কালা চশমা’, ‘দিলবার’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’ ও ‘সাকি সাকি’—একের পর এক হিট গান তাঁকে নিয়ে যায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
    একসময় ৫০ টাকার জন্য গান গাওয়া সেই মেয়েটিই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটির বেশি। সংগ্রাম, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নেহা কক্কর হয়ে উঠেছেন লাখো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা।
    একসময় ৫০ টাকার জন্য গান গাওয়া সেই মেয়েটিই আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটির বেশি। সংগ্রাম, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নেহা কক্কর হয়ে উঠেছেন লাখো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা।
    দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’ ও ‘কোকাকোলা’—এই গানগুলো শুধু হিটই হয়নি, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটিবার শোনা হয়েছে।
    দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’ ও ‘কোকাকোলা’—এই গানগুলো শুধু হিটই হয়নি, ইউটিউব ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কোটি কোটিবার শোনা হয়েছে।
  • শিমুল–পলাশরাঙা বসন্তের সকাল, গানের সুর–নাচের ছন্দে বর্ণিল উৎসব

    শিমুল–পলাশের রঙে লাল বসন্তের প্রথম সকাল মুখর হয়ে উঠেছিল গানের সুর আর নৃত্যের ছন্দে। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ ঋতুরাজের আগমনী দিনে বিপুল প্রাণের উচ্ছ্বাসে স্পন্দিত হয়েছিল আজ শনিবার সকাল থেকে। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ আহ্বান নিয়ে ৩৮তম বারের মতো বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ।

    সকাল আটটায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এরপর দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের একক সংগীত, আবৃত্তির সঙ্গে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা, বিশেষত নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। নারীদের পরনে ছিল বাসন্তী রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপা বা মাথায় ফুলের সজ্জা। পুরুষদের বেশির ভাগই পরেছেন উজ্জ্বল বর্ণের পাঞ্জাবি। রাজধানীতে শীতের প্রভাব কমেছে আরও কিছুদিন আগেই। বসন্তে গরম পোশাকের আবশ্যকতা নেই বলে বাহারি সাজে সেজেগুজে উৎসবকে রঙিন করে তুলেছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতারা।

    অধিকাংশ গান, আবৃত্তি আর নৃত্য ছিল বসন্ত নিয়ে। বসন্ত ভালোবাসারও ঋতু। তাই ঋতুরাজের আগমনী দিনে ভালোবাসার গানও বাদ পড়েনি পরিবেশনা থেকে। দর্শক–শ্রোতাদেরও অনেকে এসব গানের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। নাচের মুদ্রায় তাল মিলিয়ে নৃত্য করেছেন কেউ কেউ।

    জাদুঘরের প্রথম তলার খোলা পরিসরে মঞ্চ করে অনুষ্ঠান। সামনে দর্শকদের জন্য সারি দিয়ে চেয়ার পাতা হয়েছিল। তবে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রচুর। অনেকে চারপাশে দাঁড়িয়ে ও সিঁড়ির ওপর থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। আবার অনেকে প্রবেশপথের সামনের উন্মুক্ত পরিসরে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন। অনেকে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ও সামনের খোলা পরিসরে বসে চা পানের পাশাপাশি সঙ্গীদের সঙ্গে আলাপে–আড্ডায় মেতেছেন। সবটা মিলিয়ে দারুণ এক আনন্দঘন আয়োজন সম্পন্ন হলো বসন্ত উৎসবের এই নতুন স্থানে।

    বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছিল ১৪০১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এর পর থেকে বরাবর সেখানেই দিনভর উৎসব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবেশ পাল্টে যায়। বকুলতলায় উৎসব করার আর অনুমতি মেলেনি। বকুলতলায় আশ্রয় হারিয়ে ‘অনিকেত’ আয়োজকেরা এরপর বিভিন্ন স্থানে উৎসব আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছেন। অনুমতি পাননি। অবশেষে তাঁরা শরণাপন্ন হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে। বসন্তকথনে এই কথাগুলোই তুলে ধরলেন আয়োজকেরা।

    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলেন, ‘এবারই প্রথম চারুকলার বকুলতলার বাইরে উৎসবটির আয়োজন করতে হলো। বকুলতলাতেই উৎসব করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধ হলো বাংলাদেশের শিকড়। আর বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক উৎসগুলো আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। শিকড়ের টানেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক এই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছি। তবে আগামী বছর থেকে আমরা আবার চারুকলার বকুলতলাতেই উৎসব করতে আগ্রহী। সংস্কৃতিচর্চার মুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

    বসন্তকথনে উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সহসভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজ এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে একটি বন্ধ দরজা খুলে গেল।’ আগামী দিনগুলোতে পরিবেশ আরও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকেই মব আতঙ্ক নিয়ে জনমনে একটি ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের আশঙ্কা ছিল তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসবটি করতে পারব কি না। কারা ক্ষমতায় আসবে, তারা দেশে সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ রুদ্ধ করে দেবে কি না, এ নিয়েও উদ্বেগ ছিল। তবু আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এই পরিস্থিতিতে উৎসবটি করতে পেরেছি। আর তেমন কোনো প্রচার না করা সত্ত্বেও যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে অংশ নিয়েছেন, সে জন্য আমরা আনন্দিত।’

    সফিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার দেশে সংস্কৃতিচর্চার জন্য, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেবেন, এটা জনসাধারণের প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানের একক কণ্ঠের পরিবেশনার মধ্যে শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি গেয়েছেন ‘ফুল ফাগুনের এল মৌসুম’; তানজিলা তমা গেয়েছেন ‘আহা আজি এ বসন্তে’; অনিমা রায়ের নেতৃত্বে তাঁর দলের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়েছেন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’; শ্রাবণী গুহ রায় গেয়েছেন, ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি’; ‘মধু মালতি ডাকে আয়’ গেয়েছেন সুস্মিতা সূচি, মারুফ হোসেন গেয়েছেন ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’; রীতা রানী সাহা গেয়েছেন ‘বন্ধু বিনা পরান বাঁচে না’।

    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গানের মধ্যে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা ছিল ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়া’; বহ্নিশিখার পরিবেশনা ‘ফুটিল ফুল ফুটিল চৈতি রাতের শেষে’। নায়লা তারান্নুম আবৃত্তি করেছেন কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা ‘ফাল্গুন এলো’।

    ‘কুহু কুহু ডাক দিলা কোকিলে’ গানের সঙ্গে অনীক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্পন্দের শিল্পীরা। কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের শিল্পীরা কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন সাজু আহমেদের পরিচালনায়।

    বসন্ত উৎসবের স্পনসর ছিল ইস্পাহানি গ্রুপ। শ্রোতা–দর্শকদের জন্য চা পরিবেশন করেছে তারা। ইস্পাহানি গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, বসন্ত উৎসবের শুরু থেকেই তাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঋতুভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক এই উৎসব বাংলাদেশের একটি প্রাণের উৎসব। এর সঙ্গে আছে ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে ইস্পাহানি গ্রুপ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত।

    উৎসব চলেছে দুপুর অবধি। একক সংগীত পরিবেশনায় আরও অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহাদেব সাহা, আবিদা রহমান, ফেরদৌসী কাকলি, সেমন্তী মঞ্জুরি, অবিনাশ বাউল, সঞ্চিতা রাখী প্রমুখ। আবৃত্তি করেছেন বেলায়েত হোসেন।

    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গান করেছে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সুরবিহার, পঞ্চভাস্কর, সুরতীর্থ।

    নৃত্যে অংশ নিয়েছে অনেকগুলো সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল—গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমি, নবচেতনা, গারো কালচারাল একাডেমি, নৃত্যর, তুরঙ্গমী, অংশী, ভাবনা, দিব্য, নন্দিনী নৃত্যালয়, নর্তনম, জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যলোক, নৃত্যাক্ষ, ধৃতি নর্তনালয়, বাংলাদেশ একাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট, সাধনা, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, ফিকা চাকমা, মম কালচারাল সেন্টার, নৃত্যালোকসহ অনেকে। সঞ্চালনা করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও আহসান দিপু।

  • শুটিংয়ের পর আপত্তি! ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে মত পরিবর্তন করেছেন কিয়ারা

    ২০১৪ সালে কমেডি ঘরানার ছবি ‘ফাগলি’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ থেকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় দেখা গেছে কিয়ারা আদভানিকে। ‘কবীর সিং’, ‘শেরশাহ’, ‘সত্যপ্রেম কি কথা’ থেকে ‘গুড নিউজ’–এর মতো আলোচিত সিনেমা করেছেন। সামনে তাঁকে দেখা যাবে গীতু মোহনদাসের আলোচিত কন্নড় সিনেমা ‘টক্সিক’–এ। তবে সিনেমাটি নিয়ে নতুন এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

    গত বছর ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কিয়ারার বিকিনি দৃশ্য নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আগামী ছবি ‘টক্সিক: দ্য ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস’-এর ক্ষেত্রে খানিক ‘সংযত’ কিয়ারা। সিনেমার ফার্স্ট লুক সাড়া ফেলেছে। এর মধ্যেই বেঁকে বসলেন অভিনেত্রী! অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাঁচি চালানোর অনুরোধ। কাটছাঁট করে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য কিছুটা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করেছেন কিয়ারা।

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের পর দৃশ্যগুলো দেখে আপত্তি জানিয়েছেন কিয়ারা। সহ–অভিনেতা যশ ও পরিচালকের কাছে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের আগে কিয়ারাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল কোনো দৃশ্যে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন না। স্বাচ্ছন্দ্য রাখার প্রতিশ্রুতিতেই রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ফুটেজ দেখার পর নাকি নিজের মত পরিবর্তন করেছেন কিয়ারা।

    জানা গেছে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে আলাদা করে পরিচালক-অভিনেত্রীর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। সর্বোপরি যশ বা ‘টক্সিক’ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ছবিতে যশ, কিয়ারা ছাড়াও অভিনয় করেছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশিসহ অনেকেই।

    সিনেমা মুক্তির আগেই একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে। প্রথমে ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘টক্সিক’-এর। দিনক্ষণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন মুক্তির দিন নির্ধারিত হয়েছে ৪ জুন। শোনা যাচ্ছে, আবার ছবি মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।

  • শুধু বাংলাদেশকে হারানো নয়, পাকিস্তানের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলতি বছরে এখনো টেস্ট খেলেনি। গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান, সেই সিরিজে তারা জিতেছিল ২–১ ব্যবধানে। বাংলাদেশও গত বছর নভেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে ২–০ ব্যবধানে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ডকে।

    মাঝের এ সময়ে টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যস্ত ছিলেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বিপিএল আর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেছেন, অংশ নিতে হয়েছে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। গত মার্চে ওয়ানডে সিরিজও খেলেছে দুই দল।

    পাকিস্তান এখন টেস্ট খেলতে তৈরি বলে মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলনে জানালেন দলটির তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি, ‘আমরা পাকিস্তানেও প্রস্তুতি নিয়েছি, এখানে দুই–তিন দিন ধরে অনুশীলন করছি। দল হিসেবে আমরা চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি। এখানে দুই ম্যাচ খেলার পর ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচ, টেস্টে লম্বা মৌসুমের অপেক্ষায়।’

    বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাকিস্তানের সর্বশেষ স্মৃতি অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকেরা হেরেছিল ২–০ ব্যবধানে। ঘরের মাঠে ওই হার পাকিস্তানকে ধাক্কাও দিয়েছিল বেশ। তবে ওসব ঘটনা এখন পাকিস্তানের কাছে অতীত।

    মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারেন শাহিন আফ্রিদি
    মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারেন শাহিন আফ্রিদিশামসুল হক

    এ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে শাহিন শাহ বলেন, ‘দেখুন, অতীত তো অতীতই। অতীতে কী হয়েছে, তা এখন মনে করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বর্তমান ও ভবিষ্যতে তাকানো। কীভাবে আমরা নিজেদের তৈরি করছি, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা, শুধু একটা সিরিজ নয়। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্যটা বড়, আমরা সেটার জন্য তৈরি।’

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ টেস্টে বাংলাদেশের জয় ওই দুটিই। তবে সাদা বলের ক্রিকেটেও তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মৃতিটা বেশ ভালো। গত মার্চে ওয়ানডে সিরিজ জেতার আগে গত বছর জুলাইয়ে সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি সিরিজেও তাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই দুটি সিরিজ হয়েছে বাংলাদেশেই।

    এ নিয়ে শাহিন শাহ বলেন, ‘যেকোনো দলই তাদের ঘরের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ। আমাদের জন্য আসল ব্যাপার হলো কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। আমরা পুরো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দিকেই তাকাচ্ছি, শুধু এই সিরিজ নয়। আমাদের লক্ষ্য, কীভাবে ফাইনালে যেতে পারি। দল হিসেবে আমরা এটা বুঝতে পারছি যে এই সংস্করণে সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে।’

    পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগেও উইকেটে ঘাস দেখা যাচ্ছে বেশ। মিরপুর টেস্টে তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন পেসাররা। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নাহিদ রানা। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই ফাস্ট বোলার।

    পিএসএল ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করেন নাহিদ রানা
    পিএসএল ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিং করেন নাহিদ রানা, পিএসএল
     

    নাহিদকে নিয়ে শাহিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একজন। আশা করি, তাকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে। সাম্প্রতিক সময়ে সে খুব ভালো ফর্মে আছে। আশা করি, আমাদের বিপক্ষে তা থাকবে না।’

    মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মে।

  • শুধু মেয়েদের বয়স নিয়ে মাতামাতি কেন! মালাইকার ক্ষোভ

    তিন দশকের বেশি মালাইকা–ম্যাজিকে বুঁদ বলিউড। কখনো ‘ছঁইয়া ছঁইয়া’ তো কখনো আবার ‘মুন্নি’র তালে মালাইকা অরোরা আবেদনময়ী রূপে ঝড় তুলেছেন পর্দায়। বয়স পঞ্চাশের গণ্ডি পার হলেও মালাইকার গ্ল্যামারের আগুন যে কমেনি, সেটা বোঝা গেছে গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘পয়জন বেবি’ আইটেম গানেই। মালাইকার ফিটনেস আর সৌন্দর্য বরাবরই থাকে আলোচনায়। ৫২ বছর বয়সেও কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখেন, একাধিকবার এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন মালাইকা। সম্প্রতি একটি টক শোতে বয়সের সঙ্গে সৌন্দর্যের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন মালাইকা।

    ‘দ্য রাইট অ্যাঙ্গেল শো’তে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ফিটনেস আর সৌন্দর্যের প্রশংসার মধ্যে কখনো বয়স বাড়ার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে ভেবেছেন? উত্তরে মালাইকা বলেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন আমি বয়স নিয়ে ভাবতাম। আবার আমার জীবনে এমন সময়ও এসেছে, যখন আমি এ বিষয়টা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিনি। শুধু নিজের কাজটা উপভোগ করি। যেটা করতে ভালো লাগে বা ভালোবাসি, সেটাই করি। আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে আমি জীবনের সবচেয়ে সুখী অধ্যায় উদ্‌যাপন করছি। জীবনে এখনো অনেক কিছু করা বাকি আছে। অনেক কিছু করতে চাই, তাই এসব বিষয় এখন আর আমাকে বিশেষ প্রভাবিত করে না।’

    মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    সাধারণ কোনো নারী হোক বা সেলিব্রিটি, মেয়েদের বয়সের সঙ্গে তাঁদের জীবনের গতিপথের তুলনা করা হয়। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই হয় না। সমাজের এই বৈষম্যের বিরোধিতা করেছেন মালাইকা। তাঁর মতে, একজন নারীকে যেমন অকপটে তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পুরুষদেরও সেই প্রশ্ন অবশ্যই করা উচিত। মালাইকার মতে, ‘আমি মনে করি এই প্রশ্নগুলো সব সময় নারীদেরই করা হয়। খুব কমই কোনো পুরুষকে এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়। একজন নারীকে খুব সহজেই বলা হয়, তোমার জীবনের সেরা সময়ে তুমি এমন ছিলে, এখন এই বয়সে এসে কেমন লাগছে? তুমি কি এখনো নিজেকে সুন্দর মনে করো? আকর্ষণীয় মনে করো? কখনো শুনিনি কোনো পুরুষকে এই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে।’

    বয়স বা সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষের ভাবনা, এমনটাই মনে করেন মালাইকা। অভিনেত্রীর সংযোজন, ‘বাহ্যিক সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়। হ্যাঁ, পৃথিবী সেটাই দেখে, কিন্তু এর সঙ্গে মানসিক ও আবেগের দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর সারা দিন কীভাবে কাটবে, আজ মন কী চাইছে—এগুলো আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে ভাবি না যে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে। এমন কিছু করতে চাই যে আমাকে, আমার পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে, গর্বিত করবে।’

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

    আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।

    প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা থাকায় পরীক্ষার্থীরা আরও আগেভাগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়।  

    এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে। আর মেয়ে ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

    গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল)  সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তারা জানান, পরীক্ষার সময় ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলে কেন্দ্র এলাকা যানজটমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

    এদিকে, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই জরুরি নির্দেশনা জারি করছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ৩ হাজার ২০৯টি কেন্দ্র আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। 

    এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরা অভ্যস্ত আছে। নতুন জায়গায় কেন্দ্র সচিবদেরকে সেভাবে অনুপ্রাণিত করেছি।

     

  • শূন্য থেকে শিখরে ওঠার এক মহাকাব্য মারিয়া মান্দার

    গোয়া থেকে

  • শেষ দিনের নাটকীয়তার পর ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান

    অবশেষে শেষ হলো মোহামেডানের অপেক্ষা। লিগের শেষদিনে নানা নাটকীয়তা আর সমীকরণ মিলিয়ে লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান।

    লিগের শেষদিনে তাদের সামনে সমীকরণটা একটু জটিলই ছিল। আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের শুধু জিতলেই হতো না, শেষ ম্যাচে হারতে হতো প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে। বিকেএসপির পাশাপাশি মাঠে দুটি ঘটনাই ঘটেছে আজ।

    ২০০৯–১০ মৌসুমে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

  • শেষ মুহূর্তের গোলে স্পোর্তিংকে হারাল আর্সেনাল

    স্পোর্তিং লিসবন ০ : ১ আর্সেনাল

    চ্যাম্পিয়নস লিগে আজকের রাতটি যেন প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের রাত। বায়ার্ন মিউনিখ যেমন রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে জিতেছে, তেমনি স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে দারুণ এক জয় পেয়েছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া ১-০ গোলের এ জয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। আর্সেনালের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।

    স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল আর্সেনালই। কিন্তু সুযোগ তৈরিতে আর্সেনালকে ভালোভাবেই টেক্কা দিচ্ছিল লিসবন। প্রতিপক্ষের মাঠে ফিরতি লেগ বলেই হয়তো একটু বেশিই সতর্ক ছিল মিকেল আরতেতার দল। গোল করার চেয়ে ভুল না করাতেই যেন বেশি মনোযোগ ছিল তাদের।

    ফলে প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ বলের দখল রেখেও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ‘গানার’রা। অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে কেবল একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে লিসবন। কিন্তু সেটি গোল আদায়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    বিরতির পরও আর্সেনালের লক্ষ্য ছিল নিজেদের রক্ষণ সুরক্ষিত রাখার দিকে। তবে গোলের জন্য তারা যে চেষ্টা করছিল না, তা–ও নয়। বল দখলে কিছু ছাড় দিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে তারা।

    সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল
    সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল, এক্স/আর্সেনাল

    যদিও গোলের জন্য আর্সেনালকে অপেক্ষা করতে হয় একেবারে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির অ্যাসিস্টে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন বদলি নামা হাভার্টজ।

    জার্মান তারকার গোলের আগে আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। ম্যাচের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তিনি।

    ১৫ এপ্রিল রাতে আসের্নালের মাঠ এমিরেটসে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও স্পোর্তিং লিসবন।

  • শেষ সময়ে যেনতেন শিক্ষা আইনের চেষ্টা

    • প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমিত রেখে সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

    • আইন কার্যকর হওয়ার তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক, প্রাইভেট টিউশন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া নেবে।

    ঢাকা
  • শৈশবে আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলাম: প্রিয়ন্তী উর্বী

    ‘কিছু ঘটনা মানুষ কখনো ভুলে যেতে পারে না—সময় কেবল তাকে চুপ করে বাঁচতে শেখায়’। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নিজের শৈশবের ভয়াবহ তেমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ছোটবেলায় আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছিলেন। যে স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।

    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘কিছু ঘটনা মানুষ ভুলে যায় না, শুধু চুপ করে বাঁচতে শিখে। আমিও শিখেছিলাম। তাই নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখি, যেন মাথার ভেতরের শব্দগুলো একটু শান্ত হয়।

    ‘কিন্তু যখনই কোনো শিশুর অ্যাবিউডজ কিংবা রেপের খবর দেখি, আমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়ি। কারণ, ছোটবেলায় আমিও ইনঅ্যাপ্রোপিয়েট টাচ (আপত্তিকর স্পর্শ) এর শিকার হয়েছিলাম।’

    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    সে ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয়ন্তী উর্বী আরও লিখেছেন, ‘তখন বুঝতাম না, ঠিক কী হচ্ছে, শুধু মনে হতো, এটা স্বাভাবিক না। আব্বু-আম্মু তো কখনো এভাবে ধরেনি। আজ ভাবি, ৪-৫ বছরের একটা বাচ্চার মনে কতটা ভয় ঢুকে যায় এসব থেকে। কত প্রশ্ন, কত অস্বস্তি, কত-না বলা কান্না জমে থাকে বছরের পর বছর।’

    সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশে সব শ্রেণির মানুষ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিচার চাইছেন। এ ঘটনায় অনেক তারকাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সে ঘটনা নিয়েই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন এই অভিনেত্রী।

    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
    প্রিয়ন্তী উর্বী। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    উর্বী লিখেছেন, ‘আমি আজও বিশ্বাস করি রেপিস্ট আর অ্যাবিউজারদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ, তারা শুধু একটা মানুষকে না, একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস আর শৈশবকে মেরে ফেলে। আর একটা জিনিস আমি খুব বিশ্বাস করি, মানুষের কর্মের ফল একদিন না একদিন এই পৃথিবীতেই ফিরে আসে। আল্লাহ সব দেখেন।’

    সবশেষে প্রিয়ন্তী উর্বী লিখেছেন, ‘আজ খুব আব্বুকে মিস করছি। শুটিং, কাজ, ব্যস্ততা সবকিছুর মাঝেও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোথাও হারিয়ে যাই, এমন একটা জায়গায় যেখানে কেউ আমাকে চেনে না। হয়তো সেখানে একটু শান্তি পাওয়া যেত।’

  • শো স্টপার হয়ে বলিউডের ব্রেথটেকিং নতুন জুটির ভাইরাল ফ্যাশন মোমেন্ট (ছবি ও ভিডিও)

    বলিউডের নতুন মা কিয়ারা আদভানি। খুব বেশিদিন হয়না কাজ শুরু করেছেন। সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আলাদা আবেদন আছে ফ্যাশনিস্তা হিসেবে। সম্প্রতি এক মার্সিডিজ ইভেন্টে ভারতের বিখ্যাত ডিজাইনার রাহুল মিশ্রর শো স্টপার হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছেন বলিউডের এই সময়ের আলোচিত ফ্যাশন আইকন করণ জোহর। এই নামী পরিচালক আর কিয়ারার নতুন জুটিকে এক কথায় লাগছে ব্রেথটেকিং।

    রাহুল মিশ্রর শোয়ে কিয়ারা আর করণ শো স্টপার হয়েছেন কালোর জাদুতে
     
    রাহুল মিশ্রর শোয়ে কিয়ারা আর করণ শো স্টপার হয়েছেন কালোর জাদুতে
     
     
     
    কিয়ারা পরেছেন রাহুলের সিগনেচার স্ট্রাকচারাল সিলোয়েটের গাউন। সেটির ড্রামাটিক ভল্যুমনাস ঘেরে ভ্যান গ-র স্টারি নাইটের ডিজাইন
     
    কিয়ারা পরেছেন রাহুলের সিগনেচার স্ট্রাকচারাল সিলোয়েটের গাউন। সেটির ড্রামাটিক ভল্যুমনাস ঘেরে ভ্যান গ-র স্টারি নাইটের ডিজাইন
     
     
    সিঙ্গেল ল্যাপেল, মিল্কি ওয়ে এফেক্টের এমবেলিশ করা স্যুট জ্যাকেটের সঙ্গে ল্যাপেলের তারা আর কালো শার্টের উঁচু কলার নজর কাড়ছে করণ জোহরের স্ট্রেট কাট কালো টাউজার্সের সঙ্গে। পায়ে গ্লসি কালো ড্রেস শুজ। গলায় রূপালি চেন আর চোখে কালো শেডস
     
    সিঙ্গেল ল্যাপেল, মিল্কি ওয়ে এফেক্টের এমবেলিশ করা স্যুট জ্যাকেটের সঙ্গে ল্যাপেলের তারা আর কালো শার্টের উঁচু কলার নজর কাড়ছে করণ জোহরের স্ট্রেট কাট কালো টাউজার্সের সঙ্গে। পায়ে গ্লসি কালো ড্রেস শুজ। গলায় রূপালি চেন আর চোখে কালো শেডস
    কিয়ারার গাউনে মিডসেকশনে স্ট্রাকচার্ড অংশেও সিকুইনের তারার মেলা। কালো পাম্পস আছে পায়ে
     
    কিয়ারার গাউনে মিডসেকশনে স্ট্রাকচার্ড অংশেও সিকুইনের তারার মেলা। কালো পাম্পস আছে পায়ে
     
     
     
    করসেট আমেজের স্ট্র্যাপলেস বডিসে চমৎকার ফিটিং
     
    করসেট আমেজের স্ট্র্যাপলেস বডিসে চমৎকার ফিটিং
    ন্যুড গোলাপি লিপকালার আর হালকা সফট গ্ল্যাম মেকওভারে মোহনীয় কিয়ারা
     
    ন্যুড গোলাপি লিপকালার আর হালকা সফট গ্ল্যাম মেকওভারে মোহনীয় কিয়ারা
    হালকা একটু স্মাজ করা কাজল,লাইনার আর মাসকারায় নজরকাড়া আই মেকআপ
     
    হালকা একটু স্মাজ করা কাজল,লাইনার আর মাসকারায় নজরকাড়া আই মেকআপ
    আংটি আর ছোট ড্রপ ইয়ার রিং ছাড়া কিছু পরেন নি কিয়ারা মিনিমালিজমের মূলমন্ত্র
     
    আংটি আর ছোট ড্রপ ইয়ার রিং ছাড়া কিছু পরেন নি কিয়ারা মিনিমালিজমের মূলমন্ত্র
     

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ

    লা লিগায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নকআউট পর্বে একের পর এক বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। ম্যানসিটির মতো দলকে হারাতে পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাস্ত হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

    যার মূল কারণ গোলকিপার, থিবো কর্তোয়ার ইনজুরি পড়ায় লুনিন দলকে সেরা দিতে পারেননি। বায়ার্নের মাঠে বার বার কামব্যাক করলেও হতাশ করেছে লুনিন। তাই শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতেছে তারা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।

    এদিনের ম্যাচের শুরুর মিনিট থেকে গোল করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। 
    ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

    দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

    ৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

    তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।

    একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।

    ৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

    নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

    এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

    আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

    ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

     

  • শ্রীদেবী–কন্যাকে যৌন আবেদনময়ীভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ, ক্ষমা চাইলেন নির্মাতা

    মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলছে দক্ষিণি সুপারস্টার রাম চরণ অভিনীত প্যান-ইন্ডিয়া ছবি ‘পেড্ডি’। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি এখন আলোচনায় রয়েছে অন্য কারণে। জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকের অভিযোগ, ছবিতে জাহ্নবীকে কেবল ‘আই ক্যান্ডি’ বা দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা এবং বিতর্কিত দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    ৪ জুন মুক্তি পাওয়া ‘পেড্ডি’ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর। মুক্তির আগে থেকেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তবে ট্রেলার, গান ও প্রচারণামূলক বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই জাহ্নবীর চরিত্র ‘অচিয়াম্মা’কে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

    সমালোচকদের অভিযোগ, ছবির বিভিন্ন দৃশ্যে নারীচরিত্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যৌন আবেদনময় করে দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, পোশাক নির্বাচন, সংলাপ এবং উপস্থাপনার ধরন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন দর্শকদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, ছবিতে নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখানো হয়নি।

    ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি
    ‘পেড্ডি’ সিনেমায় জাহ্নবী ও রামচরণ। আইএমডিবি
     

    বিতর্কে যোগ দিলেন অভিনেত্রী গায়ত্রী
    বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় দক্ষিণি অভিনেত্রী গায়ত্রী চাগান্তির মন্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জাহ্নবী কাপুর নিজেও এই উপস্থাপনার শিকার। গায়ত্রীর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, জাহ্নবীকে খুব কম ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়। বরং তাঁর শারীরিক আবেদনই অনেক সময় চরিত্রের প্রধান পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চরিত্রের প্রয়োজন হলে গ্ল্যামার দেখানোতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রায় প্রতিটি চরিত্রেই তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তাঁর শরীরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনকি যেসব চরিত্রে সরল বা পেশাদার উপস্থাপনা প্রয়োজন, সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যায়।’ গায়ত্রী আরও লিখেছেন, ‘কেরালার গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত দৃশ্যের মধ্যেও হঠাৎ করে বাগ্‌দান অনুষ্ঠানের গানে জাহ্নবীকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সাজে দেখানো হয়েছে। আবার “সানি সংস্কারি কি তুলসি কুমারী” ছবির কথাও মনে করুন। এমনকি যেসব দৃশ্যে তিনি একজন শিক্ষক, বিশেষ করে প্রি-স্কুল শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেখানেও তাঁর পোশাক ও উপস্থাপনা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে দর্শকের নজর চরিত্রের চেয়ে তাঁর শারীরিক আবেদনের দিকে বেশি যায়। প্রয়োজন ছাড়াই ক্লিভেজ দেখানো হচ্ছে। আমি এমন আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি, তবে আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন।’

    গায়ত্রীর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে মূলধারার সিনেমায় নায়িকাদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার অনেকে মনে করেন, এ ক্ষেত্রে দায় মূলত নির্মাতাদের, অভিনেত্রীর নয়।

    ‘পেড্ডি’র গানের দৃশ্যে শ্রুতি হাসান, রামচরণ ও জাহ্নবী কাপুর। এক্স থেকে
    ‘পেড্ডি’র গানের দৃশ্যে শ্রুতি হাসান, রামচরণ ও জাহ্নবী কাপুর। এক্স থেকে

    ক্ষমা চাইলেন পরিচালক
    বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দীর্ঘ বিবৃতি দেন পরিচালক বুচি বাবু সানা। তিনি লেখেন, ‘একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সিনেমার কাজ হলো মানুষকে বিনোদন দেওয়া, অনুপ্রাণিত করা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা। কোনোভাবেই এমন কিছু করা উচিত নয়, যা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে বা অসম্মানিত বোধ করায়।’ দর্শকদের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পর্দায় ও পর্দার বাইরে সব সময়ই নারীদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। কোনো নারীচরিত্রকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বা অসম্মান করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। যদি ছবির কোনো অংশ সে রকম অনুভূতি তৈরি করে থাকে, তাহলে আমরা সেই উদ্বেগকে সম্মান করি এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

    পরিবর্তন আসছে ছবিতে

    পরিচালক জানান, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর সংশ্লিষ্ট দৃশ্যগুলোতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘দর্শকের সঙ্গে সংযোগের মধ্য দিয়েই সিনেমার বিকাশ ঘটে। গল্পকার হিসেবে পরিবর্তিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবেদনশীলতার প্রতি সচেতন থাকা আমাদের দায়িত্ব। সেই কারণেই আমরা সংশ্লিষ্ট অংশগুলো নতুন করে সম্পাদনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক নারীই সম্মান, মূল্যায়ন ও মর্যাদাপূর্ণ উপস্থাপনার দাবিদার। আমরা এমন গল্প বলতে চাই, যেখানে নারীচরিত্রগুলো শক্তিশালী ও অর্থবহভাবে তুলে ধরা হবে।’

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    জাহ্নবীর নীরবতা
    যাঁকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই জাহ্নবী কাপুর এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে বিতর্কের মধ্যে তাঁর অবস্থান কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনা আবারও ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু জাহ্নবী নয়, দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সিনেমায় নায়িকাদের অনেক সময় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের বদলে ‘গ্ল্যামার উপাদান’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পেড্ডিকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ‘পেড্ডি’ ছবিতে রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর ছাড়াও অভিনয় করেছেন জগপতি বাবু, শিব রাজকুমার, শ্রুতি হাসান ও দিব্যেন্দু শর্মা। নির্মাতাদের দাবি, মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে ছবিটি। তবে বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি নারীচরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে চলমান বিতর্কও এখন ছবিটির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

    তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

    ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

    ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

    বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

    এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

    একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

    শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

     

  • শ্রীলঙ্কা–নিউজিল্যান্ড: ৬১ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা

    বড় ব্যবধানে হারল শ্রীলঙ্কা

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানে হারল শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে দলটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা গুটিয়ে গেছে ১০৭ রানে। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা।

    বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচেও একটা সময় এগিয়েই ছিল শ্রীলঙ্কা। ৮৪ রানেই নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিল তারা। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেছেন দুই অলরাউন্ডার ম্যাকনকি ও স্যান্টনার। ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েছেন এই দুজন।

    ৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র
    ৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র, এএফপি

    ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্যান্টনার করেছেন ২৬ বলে ৪৭ রান। ২৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ম্যাকনকি।

    রান তাড়ায় প্রথম বলেই উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকে ম্যাচের কোনো পর্যায়েই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র।

    এই জয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে গতকাল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৮/৭ (স্যান্টনার ৪৭, রবীন্দ্র ৩২; তিকশানা ৩/৩০, চামিরা ৩/৩৮) শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১০৭/৮ (কামিন্দু ৩১, ভেল্লালাগে ২৯; রবীন্দ্র ৪/২৭, ফিলিপস ১/২১) ফল: নিউজিল্যান্ড ৬১ রানে জয়ী ম্যাচসেরা: রাচিন রবীন্দ্র
  • ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা: মাহদী আমিন

    ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার যেসব জায়গায় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন, আমরা তা বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে করব। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ থাকবে।

    সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রীড়া বিষয়টি নতুন সাবজেক্ট হিসেবে চালু করা হবে। সংস্কৃতি বিষয়টিও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হবে। পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বিষয় থাকবে, যেখানে নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা এবং একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিষয়গুলো শেখানো হবে।

    মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ নির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা, মননশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও কর্মদক্ষতায়ও সমানভাবে এগিয়ে যাক। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন পাঠ্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন বিষয়। এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক আচরণ ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা গড়ে তোলা হবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে। বিদ্যমান শিক্ষাকাঠামোর মধ্যেই একটি বিস্তৃত অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হবে। দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা একদিনে কিংবা এক বছরে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

    নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন বই প্রণয়ন ও ছাপানোর জন্য সরকারের হাতে মাত্র তিন থেকে চার মাস সময় ছিল। ফলে সব পরিবর্তন একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী বছর আরও বিস্তৃত হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করছি। তিন-চার মাসে শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী বছর আরও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে এবং ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রায় ১৪ লাখ ট্যাব প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিয়ে তিনি বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্কিলস কম্পিটিশন, ক্যারিয়ার ফেয়ার এবং সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

    মাহদী বলেন, আমরা চাই কারিগরি শিক্ষা একটি সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

    এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

     

  • সংকট উত্তরণে ট্যাক্স ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: অর্থমন্ত্রী

    দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ট্যাক্স (কর) ও দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সামনে এগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

    বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচির মধ্যে কর্মসংস্থান একটি বড় কর্মসূচি। সে কারণেই সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। আগামী বাজেটেও কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পতেঙ্গা অঞ্চলে কোনো বড় হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি হাসপাতালের দাবি রয়েছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবাও থাকবে। পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    এদিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল–২–এর পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন। পরে পতেঙ্গায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ২১ একর জমি সরেজমিন ঘুরে দেখেন।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব