• সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখের বেশি কাঁচা চামড়া

    ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে চামড়া আসছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাভারের ট্যানারিগুলোতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি কাঁচা চামড়া এসেছে।

    বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চামড়া আসার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিসিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

    বিসিকের তথ্য অনুসারে, ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ৭১৩টি চামড়াবাহী ট্রাক চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও কিছুটা দূর থেকেও অনেক ট্রাক আসার খবর পাওয়া গেছে।

    শিল্পনগরীতে আসা চামড়ার মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা বেশি। বিসিকের হিসাবে, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে গরু ও মহিষের চামড়া এসেছে ৫ লাখ ১১ হাজার ৭০০টি। অন্যদিকে ১৬ হাজার ১৭৫টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এসেছে।

    গত বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি, আড়তদার ও ট্যানারিপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। এসব চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরে এগুলো কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে চামড়া ও চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্য হিসেবে বিক্রি ও রপ্তানি করা হয়।

    কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তবে রাজধানীতে ঈদের দিনে সেই দরে চামড়া বিক্রি হয়নি। গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম কমে চামড়া বেচাকেনা হয়। অবশ্য গতকাল কাঁচা চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বেড়েছিল।

  • সামান্থা ও নাগাকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্ট! আদালতে নায়ক

    দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য এবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় পাঁচ বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা–কল্পনা চলছে। এসবের মধ্যে কিছু কনটেন্টে নাগা চৈতন্যকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, তিনি সামান্থার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। এমন অভিযোগকে ‘অন্যায্য ট্রলিং’ আখ্যা দিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

    কী অভিযোগ নাগা চৈতন্যের?
    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নাগা চৈতন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর নাম, ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। শুধু বিচ্ছেদ–সংক্রান্ত গুজবই নয়, তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্টে তাঁর নাম বা চেহারার ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা গল্প ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো।
    বিশেষ করে সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ‘তিনি প্রতারণা করেছেন’ কিংবা ‘সামান্থার ক্যারিয়ার নষ্ট করেছেন’—এ ধরনের বক্তব্যকে তাঁর আইনজীবীরা ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন।

     ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    আদালতে কী বলা হয়েছে
    মামলার শুনানিতে নাগা চৈতন্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই ‘ন্যায্য সমালোচনা’ নয়।

    তাঁর ভাষায়, ‘এটি সমালোচনা নয়, এটি ট্রলিং। একজন ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা।’
    আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, নাগা চৈতন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে তেলেগু চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তেলেগুভাষী দর্শকদের মধ্যেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    আদালতের পর্যবেক্ষণ
    মামলাটি শুনেছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং। শুনানিতে বিচারপতি বলেন, পরিচিত ব্যক্তিদের সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি সমালোচনা ও জন–আলোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তবে সেই স্বাধীনতারও সীমা আছে।
    এই পর্যবেক্ষণের পর আদালত–সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন জারি করেন এবং নাগা চৈতন্যের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

    সামান্থা–নাগা বিচ্ছেদ: কেন এখনো আলোচনায়
    ভারতীয় তারকাজগতের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক ছিল নাগা চৈতন্য ও সামান্থার প্রেম ও বিয়ে।
    ২০১০ সালে ‘ইয়ে মায়া চেসেভ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছরের প্রেমের পর ২০১৭ সালে ধুমধাম করে বিয়ে করেন তাঁরা। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুজন।
    কিন্তু ২০২১ সালে হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। যৌথ বিবৃতিতে দুজনই জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
    তবে বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। কখনো সামান্থাকে দায়ী করা হয়েছে, কখনো নাগা চৈতন্যকে। আবার কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও গসিপ পোর্টাল সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসেবে পরকীয়ার অভিযোগও তুলেছে।
    কিন্তু এসব অভিযোগের কোনোটি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।

    সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    ‘আমাদের সিদ্ধান্ত, অন্য কারও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই’
    বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছিলেন নাগা চৈতন্য। এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও সামান্থা দুজনেই জীবনে ভিন্নপথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দুজনই আমাদের নিজস্ব কারণে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনো আমরা একে অপরকে সম্মান করি। এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আমি দেখি না।’
    এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা–কল্পনায় নাগা বিরক্ত ছিলেন।

    নতুন জীবনে নাগা ও সামান্থা
    বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন জীবন শুরু করেছেন। নাগা চৈতন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে সামান্থাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালক রাজ নিধিমুরুকে বিয়ে করেন।
    তবে নতুন সম্পর্কে জড়ালেও পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ কমেনি। আর সেই আগ্রহই বহু সময় গুজব, ট্রলিং ও ভুয়া তথ্যের জন্ম দিয়েছে।

    এনডিটিভি অবলম্বনে

  • সারা দেশের ৮টি ক্রিকেট হাবে ১৩৭ উইকেট তৈরি করবে বিসিবি

    ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। এবার বিস্তারিতভাবে তা জানালেন গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান খালেদ মাসুদ। আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে মোট ১১টি ক্রিকেট হাব করছে বিসিবি।

    এর মধ্যে প্রথম ধাপে চালু হওয়া ৮টি হাবে মোট ১৩৭টি উইকেট তৈরি করার পরিকল্পনা আজ তুলে ধরেছেন খালেদ মাসুদ। হাবগুলো হলো খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী বিকেএসপি ও পূর্বাচল।

    উইকেটগুলো স্থানীয় কিউরেটররাই তৈরি করবেন জানিয়ে খালেদ মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউরেটরদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করেছি। সবাইকে শেয়ার করেছি (কীভাবে করতে চাই)। আমরা শুধু বিসিবি থেকে তাঁদের সাপোর্ট দেব—হয়তো মাটি দিলাম বা এমন। বাকি কাজটা স্থানীয় কিউরেটররাই করবেন। সব দায়িত্ব তাঁদের কাছে থাকবে।’

    বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনায় ১৫টি, বরিশালে ২৩টি, কক্সবাজারে ৮টি, বগুড়ায় ১০টি, রাজশাহীতে ১২টি, ফতুল্লায় ১৩টি, বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠে ১৯টি, পূর্বাচলে ১৩টি উইকেট হবে। অনুশীলন, মূল ম্যাচ ও আউটার মাঠে এ উইকেটগুলো আগামী মে–জুন মাসের মধ্যেই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদ মাসুদ।

    এ উইকেটগুলো তৈরি হলে খেলার আরও ভালো পরিবেশ, খেলার মান বৃদ্ধি, ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বাড়বে বলে মনে করে বিসিবি। প্রাথমিকভাবে চালু হওয়া হাবগুলোতে রোলার, ঘাস কাটার মেশিন, পিচ কাভার, উইকেটের জন্য মাটি ও কংক্রিটের উইকেট দেবে বিসিবি। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমি, স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, উপজেলা ও জেলার মাঠগুলোকে বিসিবির পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে দেওয়া হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক। খালেদ মাসুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী মৌসুমে জেলাভিত্তিক লিগগুলো আয়োজন সহজ হবে বলে মনে করেন তিনিও। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ক্রিকেটীয় দিক থেকে দেখলে এটা একটা বিশাল উদ্যোগ। এটাতে আমরা সফল হতে পারলে প্রথম ধাপটা সফলভাবে সম্পন্ন হবে। যদি আমরা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারি, পরের মৌসুম থেকে হয়তো (ঢাকার বাইরের) লিগগুলো খুব ভালোভাবে শুরু করা যাবে।’

  • সারাদেশে পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

    সারাদেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের প্রথম পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং হয়নি। এবং এই ধরনের কোনো আলোচনাও নেই। আমি সর্বপ্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো সাংবাদিকদের, আপনারা সবাই সহযোগিতা করেছেন। এই পরীক্ষা সুস্থ স্বাভাবিক হোক। এজন্য আপনারা পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি এগুলো আপনারা বারবার টেলিভিশনে নিউজপেপারে প্রচারিত করেছেন বিধায়। সারা জাতি জেনেছে যে পরীক্ষা এবার সুন্দর হবে এবং নকলমুক্ত হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।

    তিনি বলেন, আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের এই জেনজিরা পরীক্ষা দিচ্ছে এটি সত্যিই অভাবনীয় এবং তাদের যে আনন্দ উৎফুল্লতা আমি যাওয়ার পরে এতে সত্যিই সমাদৃত হয়েছি। আপনারা আগামী পরীক্ষাগুলোকে এভাবেই সহযোগিতা করবেন। পরের পরীক্ষাগুলো আমি যতটা সম্ভব মনিটরিং করব এবং আমার টিম মনিটরিং করবে এবং আপনারাও করবেন। এর মাঝে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আপনার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানাবেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি বাচ্চা যদি ট্রাফিকে দেরি হয়ে যায়, কীভাবে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার অস্থিরতা কমিয়ে তাকে কীভাবে নিয়ে যাবে এটা প্রত্যেকটা অভিভাবকের এবং টিচারদের এই ধরনের ট্রেনিং রয়েছে। আমার মনে হয় এটা অ্যাড্রেস করবে সবাই। ডিএমপির কমিশনার গতকাল আমাকে বিশেষভাবে রিকোয়েস্ট করেছিলেন যে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো যেন সকাল আটটা থেকে খোলা থাকে। যারা আগে আসতে চায়, দূর দূরান্ত থেকে সেই ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। তবুও যারা খানিকটা দেরি হয়েছে তাদের নিয়ে নিশ্চয়ই আমি আশা করব তারা যেন বিভ্রান্ত না হয় ভয় না পায়। তাদেরকে সহযোগিতা করাটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ।

     

  • সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি আদালতের

    চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।

    আজ বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

    আদালত সূত্র জানায়, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন।

    পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে জানান, তিনি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে আবেদনটি করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলা চৌধুরী, তাঁর স্বামী প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজায় সালমান শাহর বাসায় যান। সেখানে স্ত্রী সামিরা হক ও গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। পরে তাঁরা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান।

    বাদী আরও জানান, এর কিছু সময় পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দ্রুত বাসায় গিয়ে তাঁরা দেখেন, সালমান শাহ শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাঁকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই দিনই রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।

    পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ আবার কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

    সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। ২৯ বছর পর গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা মামলা করেন।

    এ মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়।

  • সিঙ্গাপুরের সঙ্গে হেরে বাছাইপর্ব শেষ বাংলাদেশের

    সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এএফসি এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি লাল-সবুজদের।

    ম্যাচের চিত্র:

    খেলার ৩১ মিনিটে সিঙ্গাপুরের হরিশ স্টুয়ার্ট গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। গোল হজম করার পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগ দারুণভাবে নিজেদের গোলবার আগলে রাখলেও, প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন হামজা-জামালরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের।

    এবারের বাছাইপর্বে ছয়টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র এবং তিনটিতে হার জুটেছে কপালে। সব মিলিয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের টেবিলের তিন নম্বরে থেকে মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুর। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও হংকং ও ভারত মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যান্য ম্যাচের খবর:

    গ্রুপের অন্য একটি ম্যাচে আজ ভারত ও হংকং মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

    সাফ অঞ্চলের আরেক দল শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে তাদের মিশন শেষ করেছে। আজ তারা চায়নিজ তাইপেকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ৬ ম্যাচ থেকে লঙ্কানদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩টি জয়।

     

  • সুইডেনপ্রবাসী আনিকাকে নিয়ে এশিয়ান কাপের স্কোয়াড, আছেন আলপিও

    আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইমেন্স এশিয়ান কাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে আছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ‎‎প্রথম প্রবাসী নারী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জাপানে জন্ম নেওয়া মাতসুশিমা সুমাইয়া। এবার আনিকাও এ তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি। গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক। ইউরোপের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চাইবেন ২০ বছর বয়সী আনিকা।

    আনিকা ছাড়া এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে আরও দুই নতুন মুখ আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন। এই দুজন প্রথমবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও। ‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

    মেয়েদের এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল চীন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৪ বার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ৩ মার্চ প্রথম ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে খেলতে হবে পিটার বাটলারের দলকে।

    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে
    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলেবাফুফে

    ৬ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। ১৯৮৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার এশিয়ান কাপ খেলা দেশটি ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে শিরোপা জিতেছে। আর পাঁচবার এই টুর্নামেন্টে খেলা উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ দৌড় গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত। ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।‎

    ১২ দলের টুর্নামেন্টে ৩ গ্রুপে থাকা চারটি করে দল লড়বে নকআউটের জন্য। তিন গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট ছয় দল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুই দলও পাবে শেষ আটে খেলার সুযোগ।

    কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার।

    নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল

    গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী। ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন। মিডফিল্ডার: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন। ফরোয়ার্ড: আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ‎স্ট্যান্ডবাই: অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি, তনিমা বিশ্বাস।
  • সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় অভিনেত্রীকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

    ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই। ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। জনপ্রিয় পুলিশি থ্রিলার ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি
    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি

    নাদিয়ার দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাঁরা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

    পরবর্তী সময়ে হলিউডেও কাজ করেন নাদিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রে এবং একই বছরে ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

    ২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

    নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • সুজয় চৌধুরী চট্টগ্রাম

    শহরে সবে সন্ধ্যা নেমেছে। বাইরে আলো-আঁধারির মিতালি, ভেতরে প্রস্তুত অন্য আলোয় ভেসে যাওয়ার আয়োজন। হঠাৎ মঞ্চের আলোকচ্ছটা বদলে গেল। ভেসে এল সুরের মূর্ছনা। শুরু হলো রং, নকশা আর তারুণ্যের এক বর্ণিল উপস্থাপনা।

    এই উপস্থাপনা দেখা গেল গতকাল সোমবার। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে বসেছিল ‘আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন’ আয়োজন। দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে সুর, নৃত্য ও ফ্যাশন মিলে তৈরি করে উৎসবের আবহ। ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাকের ধারা দেখতে সেখানে ভিড় করেন বন্দরনগরের ফ্যাশনপ্রেমীরা।

    চট্টগ্রামে এ আয়োজন নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে শুরুর পর থেকে নিয়মিতভাবেই ঈদকে ঘিরে এই ফ্যাশন আসর বসছে। এবার ছিল ২৫তম আয়োজন। অংশ নেন সাতজন নির্বাচিত ডিজাইনার। তাঁরা হলেন ফারজানা মালিক, সুলতানা নুরজাহান রোজী, সায়মা সুলতানা, এইচ এম ইলিয়াছ, আইভি হাসান, নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি ও নাসরিন সরওয়ার মেঘলা।

    তাঁদের নকশায় ফুটে ওঠে আসন্ন ঈদের আবহ, সময়ের ধারা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রথম আলো নানা আয়োজন করে থাকে। কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তার উদাহরণ। ঈদ ফ্যাশনও সেই ধারার একটি আয়োজন। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের জন্য চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীরা অপেক্ষা করেন। এই মঞ্চ থেকেই অনেক ডিজাইনারের পথচলা শুরু হয়েছে। নতুনদের অনুপ্রেরণা জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    নকশায় বৈচিত্র্য

    অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল ডিজাইনারদের একক কিউ। নির্বাচিত সাত ডিজাইনার একে একে তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে মঞ্চে হাজির হন। শুরুতেই ডিজাইনার ফারজানা মালিকের নকশায় বোনা পোশাক পরে হাজির হন আট মডেল।

    দুটি শাড়ি, চারটি নজরকাড়া সালোয়ার–কামিজ আর দুটি পাঞ্জাবি—একটির পর একটি র‍্যাম্পে উঠতেই আবহ বদলে যায়। পেছনে ভেসে আসে কাজী নজরুল ইসলামের গানের সুর। পোশাকের রং, আলো আর সুরের মেলবন্ধনে মুহূর্তেই মিলনায়তন ডুবে যায় এক উচ্ছ্বসিত আবেশে; দর্শকেরা যেন হাততালি আর মুগ্ধতায় সাড়া দেন প্রতিটি পদচারণে।

    এভাবে প্রতিটি কিউ যেন আলাদা গল্প তুলে ধরে। কারও নকশায় ঐতিহ্যের পুনঃপাঠ, কারও কাজে আধুনিকতার সাহসী ছাপ। বসন্ত, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; নানা থিম নিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি পোশাক।

    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
     

    মডেলরা শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, লেহেঙ্গা ও গাউন পরে র‍্যাম্পে হাঁটেন। একই ডিজাইনারের কিউতেই দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো পরিমিত কারুকাজ, কখনো জমকালো অলংকরণ; কোথাও নরম রঙের ব্যবহার, কোথাও গাঢ় আভা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে প্রতিটি কিউ হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। আবার সম্মিলিতভাবে তৈরি করে ঈদ ফ্যাশনের সামগ্রিক ছবি।

    ডিজাইনাররা জানান, ঈদের পোশাক নকশায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরামদায়ক কাপড় ও আবহাওয়ার উপযোগিতায়। রঙের প্যালেটে রাখা হয়েছে উজ্জ্বলতা ও নরম টোনের ভারসাম্য। ঐতিহ্যবাহী মোটিফকে আধুনিক কাট ও মিনিমাল ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিধানকারীর স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরা।

    অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের ফ্যাশন কিউ। জমকালো শাড়ি ও পাঞ্জাবি মাতোয়ারা করে দেয় দর্শকদের।

    মঞ্চে হঠাৎ মেহজাবীন

    অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশের অন্যতম ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে এবারে ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরী ও প্রীতম হাসান অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ক্যাকটাস। পাশাপাশি রেদওয়ান রনির নতুন চলচ্চিত্র দম মুক্তি পাচ্ছে বড় পর্দায়।

    তাঁরা অভিজ্ঞতার কথা, কাজের নেপথ্য গল্প আর দর্শকের সাড়া—এসব নিয়েই কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনে তৈরি হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস।

    ফ্যাশন কিউর ফাঁকে গান শোনান তরুণ শিল্পী আরিয়ান চৌধুরী। নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী প্রমা অবন্তি ও স্বপন বড়ুয়া। সুর ও নৃত্যের এই সংযোজন পুরো আয়োজনে এনে দেয় বৈচিত্র্য।

    অনুষ্ঠানের সহযোগী ছিল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও ফ্যাশন হাউস মেঘরোদ্দুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। রূপচর্চার সহযোগী ছিল পারসোনা।

    সমাপনী পর্বে আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল বাংলাদেশের কর্ণধার শিবলি মাহমুদ সুমন বলেন, প্রতিটি পোশাকেই নকশা, রং বাছাই ও ভাবনায় তারুণ্য ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্য। এমন আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

    বার্জার পেইন্টসের হেড অব ওয়ার্কস কাউসার হাসান বলেন, ‘ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের রং ও বুনন যেন এই সন্ধ্যায় ছুঁয়ে গেল চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীদের মন। এই আয়োজন শুধু পোশাক প্রদর্শনী নয়, বরং সময় ও রুচির এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকল। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

  • সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

    মালদ্বীপে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। তার নৈপুণ্যে কোচ মার্ক কক্সের দল সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে বিরতিতে যেতে হয় গোলশূন্য সমতায়।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনান।

    এরপর ৬৭তম মিনিটে শেখ সংগ্রামের লং পাস থেকে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে।

    ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি গোল করলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    দ্বিতীয় গোলের পর পুরো ম্যাচেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

    এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গ্রুপে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

    উল্লেখ্য, বয়সভিত্তিক এই আসরে বাংলাদেশ এর আগে ২০২৪ সালে একবার শিরোপা জিতেছে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে। এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল।

     

  • সূর্যবংশীদের রাজস্থান রয়্যালসের দাম উঠল ২০ হাজার কোটি টাকা

    আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্থান রয়্যালস কিনতে রেকর্ড ১.৬৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২০ হাজার ৬৪ কোটি টাকা) বিড করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল প্রভাবশালী ক্রীড়া বিনিয়োগকারী।

    ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে, অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কাল সোমানির নেতৃত্বে এ জোটে আছে যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলর দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক—ডেনভার ব্রঙ্কোসের রব ওয়ালটন ও ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিক শিলা ফোর্ড হ্যাম্পের ছেলে মাইকেল হ্যাম্প।

    ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো সোমানি আগে থেকেই রাজস্থানের একজন বিনিয়োগকারী। মূলত ২০০৮ সালের আইপিএল বিজয়ী এই দলের পূর্ণ মালিকানা নিতে তিনি আরও দুজনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

    আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ছাড়াও সোমানির নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপটি রয়্যালস ব্র্যান্ডের বাকি দলগুলোরও মালিকানা পাবে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০–এর পার্ল রয়্যালস ও সিপিএলের বার্বাডোজ রয়্যালস।

    হ্যাম্প ও ওয়ালটনের সঙ্গে সোমানি ডেট্রয়েটের ‘মোটর সিটি গলফ ক্লাব’ ফ্র্যাঞ্চাইজিরও অংশ। এই দলটি ২০২৭ সালে কিংবদন্তি টাইগার উডস ও ররি ম্যাকিলরয়ের ইনডোর গলফ লিগ টিজিএলে যোগ দেবে।

    অনুশীলনে রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটাররা
    অনুশীলনে রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটাররাএক্স/রাজস্থান রয়্যালস
     

    আইপিএলের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের বিশ্ববাজারের ওপর ভরসা করেই সোমানির গ্রুপ এত বিশাল অঙ্কের বিড করেছে। বর্তমান মালিক মনোজ বাদালের সঙ্গে তাদের এখন আলোচনা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিসিসিআইয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

    ২০০৮ সালে আইপিএলের শুরুর আটটি দলের একটি হিসেবে রাজস্থানকে মাত্র ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে কিনেছিল বাদালের ইমার্জিং মিডিয়া। সে সময় ১ ডলারের মান ছিল ৪০ রুপি, যা বর্তমানে ৯৪ রুপি। রুপির হিসাবে ২০০৮ সালের তুলনায় এবারের বিড প্রায় ৫৭ গুণ বেশি।

    শুরুতে সবচেয়ে কম মূল্যের দল হলেও প্রয়াত কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে প্রথম আসরেই রূপকথার মতো শিরোপা জিতেছিল রাজস্থান। গত আইপিএলে দলটি ৪ জয় নিয়ে নবম স্থানে থাকলেও ব্র্যান্ড মূল্যে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

    দলের মালিকানা বদল নিয়ে রাজস্থান কর্তৃপক্ষ, সোমানি বা আইপিএল—কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মালিকানা পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া ২০২৬ আইপিএলে দলের ওপর প্রভাব ফেলবে না বলে খবর দিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো। এবারের আইপিএলে রাজস্থানের প্রথম ম্যাচ ৩০ মার্চ, চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে।

  • সূর্যবংশীর ইতিহাস, একাই জিতলেন ৫ পুরস্কার

    দুর্ভাগ্য তাঁর, আইপিএল ট্রফিটা জিততে পারেননি।

    ট্রফি দূরে, এবারের আইপিএলে ফাইনালেই উঠতে পারেনি তাঁর দল রাজস্থান রয়্যালস। তবে দলীয় ট্রফি জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এবার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ১৫ বছর বয়সী এই কিশোর-প্রতিভা এবারের আইপিএলে একাই জিতেছেন ৫টি পুরস্কার।

    পাঁচ পুরস্কারের মধ্যে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছেন টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রানের (৭৭৬) জন্য। সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন জিতেছেন দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেটের (১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০) জন্য। আর টুর্নামেন্ট-সর্বোচ্চ ৭২ ছক্কার জন্য জিতেছেন সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন পুরস্কার।

    এই তিনটির চেয়েও বড় দুটি পুরস্কার হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় (এমভিপি) ও উদীয়মান সেরা খেলোয়াড় (বেস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার)। সূর্যবংশীই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই মৌসুমে এমভিপি ও উদীয়মান খেলোয়াড়—দুই পুরস্কারই জিতেছেন।

    টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ও এমভিপি দুটিই জিতেছেন সূর্যবংশী
    টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ও এমভিপি দুটিই জিতেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
     

    এ ছাড়া ২০১১ সালে ক্রিস গেইলের পর এই কিশোরই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একই মৌসুমে রান ও স্ট্রাইক রেটে শীর্ষে ছিলেন (অন্তত ২০ বল)। পুরো আসরে সূর্যবংশীর ৭২ ছক্কাও গেইলের রেকর্ড (৫৯টি) ভেঙে দিয়েছে।

    তবে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত খেলে দলকে প্লে-অফে তুললেও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান হেরে যায় গুজরাটের কাছে। গতকাল আহমেদাবাদে ফাইনালে গুজরাটকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা জিতেছে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

    ফাইনালে রাজস্থান না থাকলেও এককভাবে পাঁচটি পুরস্কার নিতে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠেন সূর্যবংশী। বিহারের এই কিশোরের কাছে এমভিপি হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, ‘ভালো লাগছে, তবে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে কিছুটা চাপও অনুভব করছি। আমার জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত। আগামী মৌসুমেও ভালো করার চেষ্টা করব।’ ম্যাচের প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার প্রবণতা নিয়ে সূর্যবংশীর ভাষ্য, ‘আমি আমার সহজাত খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। বল যদি মারার মতো পজিশনে থাকে, সেটির পুরো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা থাকে। এভাবেই খেলি আমি।’

  • সেই লারা এখন কোথায়

    মডেলিং থেকে শুরু করে বলিউড, আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সবখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। তিনি আর কেউ নন লারা দত্ত। জন্মদিন উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।

    ১৯৭৮ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণ করেন লারা দত্ত। তাঁর বাবা এল কে দত্ত ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা। বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর শৈশব কাটে। বেঙ্গালুরুতে স্কুলজীবন শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাইয়ে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং মঞ্চে সাবলীল, যা পরবর্তী সময় তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।

    লারার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০০ সালে। সে বছর তিনি প্রথমে জিতেছিলেন ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। এরপর একই বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে জয় করেন ‘মিস ইউনিভার্স’।

    এই অর্জন শুধু লারার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ভারতের জন্যও ছিল গর্বের মুহূর্ত। বিচারকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর তাঁকে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, সেই সময়কার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটি।

    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বিশ্বসুন্দরী হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বলিউডের দরজা খুলে যায় লারার জন্য। ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রথম ছবিতেই তিনি জিতে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার। তবে শুরুটা যতটা ঝলমলে মনে হয়েছিল, পরবর্তী পথটা ততটা সহজ ছিল না।

    প্রথম দিকে লারার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা ছিল। অনেকেই তাঁকে ‘গ্ল্যামারাস কিন্তু সীমিত’ অভিনেত্রী হিসেবে দেখতেন। একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে থাকলে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

    বলিউডে টিকে থাকা সহজ নয়—এই সত্য খুব দ্রুতই বুঝে যান লারা দত্ত। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়টা তাঁর জন্য ছিল কঠিন। বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্যারিয়ারের এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছান।

    তবে এখানেই লারার দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজের অভিনয়ের ধরন বদলাতে শুরু করেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

    ২০০৬ সালে ‘ভাগম ভাগ’ এবং পরে ‘নো অ্যান্টি’ ছবিতে লারার কমেডি টাইমিং দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে কমেডি ঘরানায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    তারপর ‘পার্টনার’ ছবিতে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন। এখানে লারার উপস্থিতি প্রমাণ করে, শুধু গ্ল্যামার নয়—অভিনয়ের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

    লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লারা দত্ত অভিনয়ে পরিণত হয়ে ওঠেন। ‘বিল্লু’-তে তাঁর সংযত অভিনয় এবং ‘চলো দিল্লি’–তে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘চলো দিল্লি’ ছবিতে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় যোগ করে, একজন অভিনেত্রী থেকে নির্মাতা হয়ে ওঠা।
    আরও সুযোগ পাওয়া কি লারার উচিত ছিল?

    এ প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘যা পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট। বরং ২০ বছর পেছনের দিকে তাকালে নিজেকে আমার অত্যন্ত ভাগ্যবতী বলে মনে হয়। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে পেছনের জীবনে ফিরে আমি কী বদলাতে চাই। আমার উত্তর হবে যে কিছুই বদলাতে চাই না। এই জীবনে যা পেয়েছি, তাতে আমি খুব খুশি। আমি আজ পর্যন্ত যেসব চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আর এখনো নিজেকে মেলে ধরছি, তাতে আমি ভীষণই খুশি। জীবনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

    মাঝে কিছুটা বিরতি পরলেও এখন চুটিয়ে কাজ করছেন লারা। ওটিটিতে বটেই নতুন নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ চলতি বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা। এ ছাড়া আরও দুটি সিনেমার শুটিং চলছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

     
     
     
  • সেঞ্চুরি করা আওয়াইসকে ফেরালেন তাসকিন

    অভিষেক ইনিংসেই সেঞ্চুরি আওয়াইসের

     

    তৃতীয় দিনের পঞ্চম ওভারে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেছেন আজান আওয়াইস। ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ৫১তম ওভারে নাহিদ রানার পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান। ১৫৩ বল খেলা ইনিংসটিতে আছে ১৪টি চার।

    এর পরের বলে আব্দুল্লাহ ফজল সিঙ্গেল নিলে পাকিস্তানের দলীয় রান দুই শ রানের ঘর ছুঁয়েছে।

    পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ২০০/১। বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩।

  • সেঞ্চুরির পথে মাত্র একটি ডট, বাবর আজমের রেকর্ড

    সেঞ্চুরি বাবর আজম আগেও করেছেন। টি-টুয়েন্টিতে ক্রিস গেইলের পর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিই তাঁর। তবে ধীর ব্যাটিংয়ের জন্য সমালোচিত আর অফ ফর্মের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া বাবর এবার টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরির নতুন এক কীর্তি গড়েছেন।

    রোববার রাতে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির হয়ে কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন বাবর। ১৯২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে মাত্র একটি বল ডট দিয়েছেন তিনি, যা ৫০ বা এর চেয়ে বেশি বলের ইনিংসে সবচেয়ে কম।

    প্রথমে ব্যাট করতে নামা পেশোয়ারের হয়ে ওপেনিং করেন বাবর। প্রথম ওভারে নেন ১ বলে ১ রান। এরপর দ্বিতীয় ওভারে তিন বল খেলার সুযোগ পেয়ে নেন ৭ রান। এভাবে ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে ৩১ বলে ফিফটিতে পৌঁছান বাবর। এবারের আসরে একবার ৮৭, আরেকবার ৭১ রানে অপরাজিত থাকা বাবর এবার দ্রুতলয়ে ঢুকে যান নব্বইয়ের ঘরে।

    তবে সেঞ্চুরিটা এসেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। ইনিংসের শেষ বলে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ৯৮ রানে। আলজারি জোসেফের বল লং অনে পাঠিয়ে ডাইভে দ্বিতীয় রান পূর্ণ করে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন। পিএসএলে এটি তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি, টি-টুয়েন্টিতে ১২তম।

    সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরের
    সেঞ্চুরির উচ্ছ্বাস বাবরেরএক্স/পেশোয়ার জালমি

    বাবরের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি ছক্কা, ৬টি চার। পাশাপাশি তিন রান নেন একবার, দু রান করে ৯ বার। সিঙ্গেল থেকে আসে বাকি ৩১ রান। সব মিলিয়ে ৫২ বলের ৫১টিতেই তিনি রান নিয়েছেন। যে বলটি ডট দিয়েছেন, সেটি ১৪তম ওভারের শেষ বলে। আলজারি জোসেফের ঘণ্টায় ১৪৬.৭ কিলোমিটার গতির বলটি ছিল বাউন্সার, বাবর ছেড়ে দিয়েছিলেন।

    বাবরের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরির ম্যাচটিতে পেশোয়ার ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে। এরপর কোয়েটাকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১১৮ রানের বড় জয় তুলে বাবরের দল।

  • সেদিন সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছিলেন লারা, এরপর কী হলো

    বলিউড অভিনেত্রী লারা দত্তর দীর্ঘ ক্যারিয়ার। কিন্তু পর্দার ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। তারই একটি ঘটনা—সমুদ্রের ঢেউয়ে প্রায় প্রাণ হারানোর সেই দিন—আজও স্পষ্ট মনে রেখেছেন এই অভিনেত্রী।

    ভয়ংকর সেই দিন
    ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘আন্দাজ’-এর শুটিং চলছিল সেদিন। একটি নাচের দৃশ্য ধারণের সময় আচমকা একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যান লারা। সমস্যা একটাই—তিনি সাঁতার জানতেন না।
    লারার নিজের ভাষায়, ‘চামড়ার পোশাক পরে পানির নিচে চলে গিয়েছিলাম। সাঁতার জানতাম না, পাথরের মতো ডুবে যাচ্ছিলাম।’

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময় সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার এগিয়ে আসেন। তিনি দ্রুত লারাকে ধরে তীরে তুলে আনেন। কিন্তু বিপদ তখনো কাটেনি। ঠান্ডা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে লারা হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে শুটিং বন্ধ করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং গভীর ভয় তৈরি করেছিল লারার মনে। সমুদ্র, পানি—সবকিছু যেন আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    লারা দত্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    কয়েক বছর পর, ২০০৯ সালে ‘ব্লু’ সিনেমার প্রস্তাব আসে। ছবিটি ছিল পানির নিচের অ্যাকশন নিয়ে। প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ‘না’। তিনি সরাসরি ফোন করে অক্ষয় কুমারকে জানান, এই কাজ তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

    কিন্তু অক্ষয়ের উত্তর ছিল একদম সহজ, ‘সাঁতার শিখে নাও।’

    ‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি
    ‘আন্দাজ’ সিনেমায় লারা ও অক্ষয়। আইএমডিবি

    ৩০ বছর বয়সে নতুন শুরু
    চ্যালেঞ্জটা সহজ ছিল না। তবু ভয়কে জয় করার সিদ্ধান্ত নেন লারা। ৩০ বছর বয়সে তিনি সাঁতার ও ডাইভিং শেখা শুরু করেন। যে পানিই একসময় তাঁর কাছে আতঙ্ক ছিল, সেই পানিতেই ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন তিনি।

    অবশেষে ‘ব্লু’-তে অভিনয় করেন। এ ছবির শুটিং ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—খোলা সমুদ্রে, এমনকি হাঙরের উপস্থিতিতেও কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। একই শুটিংয়ে একবার পানির নিচে দুর্ঘটনার মুখেও পড়েছিলেন অক্ষয় কুমার।

    বক্স অফিসে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও ‘ব্লু’ লারার জীবনে অন্য রকম গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এ ছবির মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় ভয়কে জয় করেছিলেন।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • সেলফিতে ‘ভি’ চিহ্ন: অজান্তেই কি ফাঁস করছেন নিজের ফিঙ্গারপ্রিন্ট?

    সেলফি এখন আর শুধু ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখার বিষয় নয়। এটি অনেকের কাছে নিজেকে প্রকাশের একটি স্টাইল, একটি ব্যক্তিত্ব। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, কনসার্ট, ক্যাফে কিংবা ভ্রমণে ক্যামেরার সামনে দুই আঙুল তুলে ‘ভি’ চিহ্ন দেখানো যেন এখন এক পরিচিত ভঙ্গি। কিন্তু এই জনপ্রিয় পোজ নিয়েই নতুন করে সতর্ক করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

    তাদের মতে, খুব সাধারণ মনে হলেও কিছু সেলফি কখনও কখনও ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে হাত বা আঙুল খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

    ছবির মাধ্যমেও চুরি হতে পারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট?

     

    শুনতে অবাক লাগলেও প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন উচ্চমানের ক্যামেরায় তোলা ছবিতে আঙুলের সূক্ষ্ম রেখাও অনেক সময় স্পষ্ট ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি থেকে আংশিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথ্য সংগ্রহ করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব নয়।

    বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অস্পষ্ট ছবিও আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা একটি সাধারণ সেলফিও কখনও কখনও তথ্য সংগ্রহের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
    আগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করতে কারও স্পর্শ করা বস্তু প্রয়োজন হতো। এখন একটি ছবিও সম্ভাব্য ঝুঁকির অংশ হতে পারে।

    কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

     

    আজকের দিনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট শুধু পরিচয়ের চিহ্ন নয়, এটি ডিজিটাল নিরাপত্তারও বড় একটি অংশ। স্মার্টফোন আনলক করা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং অ্যাপ, ডিজিটাল ওয়ালেট বা নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত জায়গায় প্রবেশ— সব ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

    তাই যদি কোনোভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল করা সম্ভব হয়, তাহলে ব্যক্তিগত ডিভাইস বা তথ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। যদিও বাস্তবে এটি এখনও বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া, তবু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ঝুঁকিও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

    কোন ধরনের ছবি তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

     

    বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু ছবি তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যেমন—
    * খুব কাছ থেকে তোলা সেলফি

    * যেখানে আঙুল স্পষ্ট দেখা যায়

    * উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরায় তোলা ছবি

    * নতুন স্মার্টফোন বা প্রফেশনাল ক্যামেরার ক্লোজ শট

    * হাই রেজল্যুশনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা

    বিশেষ করে ‘ভি’ পোজের ছবিতে দুই আঙুল প্রায়ই ক্যামেরার খুব কাছে থাকে, ফলে আঙুলের রেখা স্পষ্ট ধরা পড়তে পারে।

     

    তাহলে কী করবেন?

     
     

    প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

    খুব ক্লোজ শটে আঙুল দেখানো এড়িয়ে চলা যেতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ছবি আপলোডের আগে রেজল্যুশন কিছুটা কমিয়ে দিলে সূক্ষ্ম রেখা কম দৃশ্যমান হয়। শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওপর নির্ভর না করে পিন, পাসওয়ার্ড ও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা।

     

    সেলফির যুগে নতুন বাস্তবতা

     
     

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র একটি ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল করা এখনো সহজ নয়। আলো, ফোকাস, ছবির মান— অনেক কিছুর ওপর এটি নির্ভর করে। অনেক সময় একই ব্যক্তির একাধিক ছবিও প্রয়োজন হতে পারে।

     

    তবু ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি যেভাবে দ্রুত বদলাচ্ছে, তাতে ছোট ছোট অভ্যাস নিয়েও সচেতন থাকা জরুরি হয়ে উঠছে। কারণ এখন নিরাপত্তা শুধু পাসওয়ার্ড বা ডিভাইসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়— একটি সাধারণ সেলফিও হয়ে উঠতে পারে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আলোচনার অংশ।

    ছবি: এআই

  • সোনার দাম সকাল–বিকেল দুই বেলায় কমল ভরিতে ১২,০১৪ টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দাম আজ সকাল ও বিকেল– দুই বেলা দাম কমল। সকালে ভরিতে কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। পরে বিকেলে আরেক দফা দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়। এর ফলে একদিনেই প্রতি ভরিতে দুই দফায় দাম কমল ১২ হাজার ১৪ টাকা।

    এর মানে, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ বিকেল তিনটার পর দ্বিতীয় দফা নতুন দামের ঘোষণা দেয়। নতুন দাম ৩ টা ৪৫ মিনিয় কার্যকর করা হয়েছে।

    এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভরিতে দাম ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানো হয়েছিল।

    ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি কমেছে। এদিকে সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

    করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর মধ্যে দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রতি ভরি সোনার দাম প্রথম এক লাখ টাকায় ওঠে। তা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ ও অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায়।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেশ চড়া। এখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৭০৩ ডলার। ভবিষ্যতেও সোনার দাম বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

    লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাসের জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। আর স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।

  • সোনার দাম বেড়েছে, আজ ভরিতে ৪,৩৭৪ টাকা

    দেশের বাজারে আজ শনিবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১ টাকা। ফলে আজ ভরিপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

    এর আগে গত সপ্তাহে দুবার সোনার দাম বাড়ানো হয়। সেবার দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এবার এক দফায় বাড়ল ৪ হাজার টাকার বেশি।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে; সে কারণে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া।

    আজ বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভরিপ্রতি ২১ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ টাকা। এ ছাড়া সনাতনি পদ্ধতির সোনার দাম পড়ছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

    জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও হয়েছে, সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে রাতে আবার কমানো হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

    মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। মাঝে কিছুদিন সোনার দাম কমার পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, শুক্রবার সোনার স্পট মূল্য আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে। ফলে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ১০ সেন্ট।

    দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ওঠানামা করছে। ফলে গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ১৫০ ডলার। যদিও গত ছয় মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৭৬২ ডলার।

  • সোনার দামে এবার বড় পতন

    বড় ধরনের দরপতনের পর সম্প্রতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সোনার বাজার। তবে, সেই পুনরুদ্ধার স্থায়ী হলো না বেশিদিন। দুই দিনের ব্যবধানে এবার বড় ধরনের পতন ঘটতে দেখা গেছে।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরি প্রতি ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বাজুস)।

    এদিন সকাল ১০টার দিকে নতুন করে সোনার দাম সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। নতুন করে সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে এখন ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা পড়বে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুই দফায় সোনার দাম ভরিতে ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। এতে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হয়েছে সোনা।

    সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত (৩৭ দিন) ২৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৬ দফা; কমানো হয়েছে ৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল সোনার দাম; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব