দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য এবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় পাঁচ বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা–কল্পনা চলছে। এসবের মধ্যে কিছু কনটেন্টে নাগা চৈতন্যকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, তিনি সামান্থার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। এমন অভিযোগকে ‘অন্যায্য ট্রলিং’ আখ্যা দিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

কী অভিযোগ নাগা চৈতন্যের?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নাগা চৈতন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর নাম, ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। শুধু বিচ্ছেদ–সংক্রান্ত গুজবই নয়, তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্টে তাঁর নাম বা চেহারার ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা গল্প ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো।
বিশেষ করে সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ‘তিনি প্রতারণা করেছেন’ কিংবা ‘সামান্থার ক্যারিয়ার নষ্ট করেছেন’—এ ধরনের বক্তব্যকে তাঁর আইনজীবীরা ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন।

 ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

আদালতে কী বলা হয়েছে
মামলার শুনানিতে নাগা চৈতন্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই ‘ন্যায্য সমালোচনা’ নয়।

তাঁর ভাষায়, ‘এটি সমালোচনা নয়, এটি ট্রলিং। একজন ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা।’
আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, নাগা চৈতন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে তেলেগু চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তেলেগুভাষী দর্শকদের মধ্যেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলাটি শুনেছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং। শুনানিতে বিচারপতি বলেন, পরিচিত ব্যক্তিদের সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি সমালোচনা ও জন–আলোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তবে সেই স্বাধীনতারও সীমা আছে।
এই পর্যবেক্ষণের পর আদালত–সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন জারি করেন এবং নাগা চৈতন্যের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

সামান্থা–নাগা বিচ্ছেদ: কেন এখনো আলোচনায়
ভারতীয় তারকাজগতের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক ছিল নাগা চৈতন্য ও সামান্থার প্রেম ও বিয়ে।
২০১০ সালে ‘ইয়ে মায়া চেসেভ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছরের প্রেমের পর ২০১৭ সালে ধুমধাম করে বিয়ে করেন তাঁরা। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুজন।
কিন্তু ২০২১ সালে হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। যৌথ বিবৃতিতে দুজনই জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। কখনো সামান্থাকে দায়ী করা হয়েছে, কখনো নাগা চৈতন্যকে। আবার কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও গসিপ পোর্টাল সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসেবে পরকীয়ার অভিযোগও তুলেছে।
কিন্তু এসব অভিযোগের কোনোটি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।

সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

‘আমাদের সিদ্ধান্ত, অন্য কারও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই’
বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছিলেন নাগা চৈতন্য। এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও সামান্থা দুজনেই জীবনে ভিন্নপথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দুজনই আমাদের নিজস্ব কারণে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনো আমরা একে অপরকে সম্মান করি। এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আমি দেখি না।’
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা–কল্পনায় নাগা বিরক্ত ছিলেন।

নতুন জীবনে নাগা ও সামান্থা
বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন জীবন শুরু করেছেন। নাগা চৈতন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে সামান্থাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালক রাজ নিধিমুরুকে বিয়ে করেন।
তবে নতুন সম্পর্কে জড়ালেও পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ কমেনি। আর সেই আগ্রহই বহু সময় গুজব, ট্রলিং ও ভুয়া তথ্যের জন্ম দিয়েছে।

এনডিটিভি অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব