• Colors: Yellow Color

মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

ধীরে ধীরে পরিচিতি
অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।

তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মামলায় অবশেষে স্বস্তি
দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।

মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ঈদে মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় রয়েছে দম। দর্শকের আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এবার ছবিটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শুটিং স্পটের কিছু ছবি শেয়ার করে সামাজিকমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘দম শুধু একটা সিনেমা না, এটা এমন একটা অনুভূতি, যা শেষ হওয়ার পরও মন থেকে যায় না।’

এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে ‘রানী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা। এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দম আমার জন্য শুধু একটা সিনেমা নয়; এটা আমার জীবনের নতুন অধ্যায়। আমি চেয়েছিলাম, আমার জীবনে অন্তত একটি ভালো কাজ আসুক। সত্যি বলতে, আমি ভালো সিনেমার খোঁজ করছিলাম। দম আমার ব্যক্তিজীবন, আমার ব্যক্তিত্ব—সবকিছু বদলে দিয়েছে, আমার ক্যারিয়ারেও পরিবর্তন এনেছে।’

শুটিং এর ফাঁকে পূজা
শুটিং এর ফাঁকে পূজা,ফেসবুক থেকে
 

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পূজা বলেন, ‘মাঝখানে আমি খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মা মারা গেলেন, সব মিলিয়ে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। সে সময় দম আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।’

ছবিটি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পূজা বলেন, কিছু গল্প শুধু দেখা যায়, আবার কিছু গল্প থাকে, যা অনুভব করা যায়। তাঁর মতে, দম ঠিক দ্বিতীয়টার মধ্যে পড়ে। ছবিটিকে তিনি জীবনের আয়নার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছেন, ‘এই সিনেমাটা যেন আমাদের জীবনেরই একটা আয়না—যেখানে ভাঙা স্বপ্ন আছে, চেপে রাখা কান্না আছে আর আছে নিজের সাথে নীরব যুদ্ধ করার গল্প।’

সিনেমার আবেগঘন দিকটি তুলে ধরে পূজা ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ‘কখনো মনে হয়—সব ঠিক আছে, সব স্বাভাবিক…কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে ঝড়টা বয়ে যায়, সেটা কেউ দেখে না। দম সেই অদেখা ঝড়টার গল্প বলে।’

শুটিংয়ের ফাঁকে নিশোর সঙ্গে পূজা
শুটিংয়ের ফাঁকে নিশোর সঙ্গে পূজাপূজার ফেসবুক থেকে

এই সিনেমা থেকে পাওয়া বার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘ভেঙে পড়া মানেই শেষ না, কখনো কখনো ভেঙে পড়াটাই নতুন করে শুরু করার সাহস দেয়।’

ছবির প্রভাব নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমা শেষ হয়, কিন্তু কিছু দৃশ্য, কিছু সংলাপ, কিছু অনুভূতি…মনের ভেতর চুপচাপ থেকে যায়।’
সব শেষে জীবনবোধের কথাই সামনে আনেন তিনি।

এ ছবিটিও শেয়ার করেছেন পূজা
এ ছবিটিও শেয়ার করেছেন পূজা

পূজা চেরীর ভাষায়, ‘জীবন যতই কঠিন হোক, নিজের ভেতরের শক্তিটাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ শেষ পর্যন্ত—সবাই নিজের নিজের দম নিয়ে লড়াই করে যায়।’

ঈদের ছবির ভিড়ে দম-এর এই আবেগঘন বার্তা ও জীবনমুখী গল্পই দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মৌসুমী হামিদ, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বছর দুয়েক আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তেই গাটছড়া বেঁধেছিলেন লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে। কিন্তু ভালোবাসার এ সংসার টিকল না স্বামীর পরকীয়ার জেরে! জানা গেছে, গত বছর নভেম্বর থেকে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন না তারা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত বলার পরিস্থিতিতে নেই বলে বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছ থেকে এড়িয়ে গেছেন মৌসুমী হামিদ।

তবে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রানার পরকীয়া নিয়ে গেল কয়েক মাস ধরেই নানা গুঞ্জন ভাসছে শোবিজে। নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও শোনা যাচ্ছে নানামুখরোচক কাহিনী। মূলত এসব নিয়েই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। ভালোবাসার ঘরে সন্দেহের আনাগোনা।

দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মৌসুমী-রানা। পরিস্থিতি এতোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে এক পর্যায়ে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। ডিভোর্স লেটার পাঠান মৌসুমীকে। অনেকেই বলছেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন রানা।জানা গেছে, রানা এবং তুবা একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি। পরে কথা বলবো। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে মৌসুমী হামিদ ও আবু সাইয়িদ রানার বিয়ে হয়। তাদের এই অনুষ্ঠানে শোবিজ অঙ্গনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

 

হলিউডে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটর’, যাঁরা অভিনয়শিল্পীদের নিরাপত্তা, সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেন। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থার মধ্যেও সবাই যে সমানভাবে স্বচ্ছন্দ, তা নয়। সম্প্রতি ব্রিটিশ তারকা রেবেকা ফার্গুসন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এমন কো–অর্ডিনেটর ছাড়াই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

‘সহায়ক’ না ‘বাধা’—দ্বিধায় অভিনেতারা
ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটররা এখন প্রায় সব বড় প্রযোজনাতেই নিয়মিত উপস্থিত। অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন স্ক্রিন অ্যাক্টারস গিল্ডের মতে, তাঁদের কাজ হলো—অভিনেতা ও প্রযোজনা দলের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবেদনশীল দৃশ্যগুলো পেশাদারভাবে পরিচালনা করা। তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। কেউ এটিকে নিরাপত্তার জন্য জরুরি মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি অভিনয়ের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

রেবেকা ফার্গুসনের আপত্তি কোথায়?
রেবেকা ফার্গুসন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরের উপস্থিতি তাঁর কাছে ‘খুবই অস্বস্তিকর’ মনে হয়। তাঁর মতে, তিনি নিজের সীমারেখা স্পষ্টভাবে জানাতে সক্ষম—তাই আলাদা কাউকে দরকার পড়ে না।
তিনি বলেন, শুটিংয়ের আগে সহ-অভিনেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো ঠিক করে নেওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিজেই বলতে পারি আমার কী দরকার, অন্য কেউ সেটা বলে দেবে, এটা সব সময় স্বাভাবিক লাগে না।’

রেবেকা ফার্গুসন। রয়টার্স
রেবেকা ফার্গুসন। রয়টার্স

‘সবাই একরকম নয়’
তবে ফার্গুসন এটাও স্বীকার করেছেন—এই ব্যবস্থা অনেকের জন্য দরকারি এবং উপকারী। বিশেষ করে নতুন অভিনেতা বা জটিল দৃশ্যের ক্ষেত্রে এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অন্য অনেক তারকাও এই বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন। কিছুদিন আগে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স বলেছেন, নির্ভরযোগ্য সহ-অভিনেতা থাকলে কো–অর্ডিনেটর ছাড়াও কাজ করা যায়। অন্যদিকে ব্রিটিশ তারকা ফ্লোরেন্স পিউ জানিয়েছেন, তিনি ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই পেয়েছেন। এ ছাড়া গিনেথ প্যালট্রো মন্তব্য করেছেন, একবার শুটিংয়ের সময় কো–অর্ডিনেটরকে ‘একটু দূরে থাকতে’ বলেছিলেন। অর্থাৎ এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়।

‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি আলোচিত সিরিজ ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এর চলচ্চিত্র সংস্করণ ‘দ্য ইমমোরটাল ম্যান’-এ কাজ করতে গিয়ে রেবেকা ফার্গুসনকে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে কিলিয়ান মার্ফির সঙ্গে। মজার বিষয় হলো, শুটিংয়ের আগে তিনি নিজেই সহ-অভিনেতার সঙ্গে আলোচনা করে নেন কীভাবে দৃশ্যটি করা হবে। এমনকি তিনি মজা করে জানান, তিনি আগে থেকেই মারফির পুরোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলো ‘স্টাডি’ করেছিলেন!

ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটর: কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিতর্ক থাকলেও, ইন্টিমেসি কো–অর্ডিনেটরদের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মিটু আন্দোলনের পর এই পেশার গুরুত্ব বেড়েছে। তাঁদের কাজ—অভিনেতাদের সম্মতি নিশ্চিত করা, দৃশ্যের আগে পরিষ্কার সীমারেখা নির্ধারণ, শুটিং চলাকালে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, প্রয়োজনে দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি করা।
এই বিতর্ক আসলে বড় একটি প্রশ্ন সামনে আনে—অভিনয়ের স্বাভাবিকতা নাকি

‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ রেবেকা। আইএমডিবি
‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’-এ রেবেকা। আইএমডিবি

নিরাপত্তা, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
রেবেকার মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীরা মনে করেন, অতিরিক্ত উপস্থিতি কখনো কখনো অভিনয়ের আবেগ নষ্ট করে। অন্যদিকে অনেকেই মনে করেন, এই উপস্থিতিই শিল্পীদের নিরাপদ রাখে।

পেজ সিক্স অবলম্বনে

হলিউড অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন মারা গেছেন। গতকাল ২৩ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসে অভিনেত্রীর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছে ভ্যারাইটি। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভ্যালেরি পেরিন দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালে তাঁর এ রোগ ধরা পড়ে।
শেষ দিন পর্যন্ত পেরিন সাহস ও ইতিবাচকতা নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। বন্ধুদের ভাষায়, ‘তিনি কখনো অভিযোগ করেননি; বরং জীবনকে উদ্‌যাপন করেছেন।’

‘লেনি’ থেকে অস্কারের দোরগোড়ায়
১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লেনি’ সিনেমায় ভ্যালেরি পেরিনের অভিনয় তাঁকে অস্কারের মনোনয়ন পর্যন্ত নিয়ে যায়। ছবিটি ছিল স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান লেনি ব্রুসের জীবন নিয়ে, যেখানে প্রধান চরিত্রে ছিলেন ডাস্টিন হফম্যান।
এ ছবিতে ‘হানি’ চরিত্রে পেরিনের অভিনয় সমালোচকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। তিনি জটিল, দ্বৈত অনুভূতির একটি চরিত্রকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

‘সুপারম্যান’–এ ভ্যালেরি পেরিন। আইএমডিবি
‘সুপারম্যান’–এ ভ্যালেরি পেরিন। আইএমডিবি

‘সুপারম্যান’–এ স্মরণীয় উপস্থিতি
তবে সাধারণ দর্শকের কাছে ভ্যালেরি পেরিন সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘সুপারম্যান’ সিরিজের ‘মিস টেশম্যাকার’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য।
ক্রিস্টোফার রিভ অভিনীত সুপারম্যানের বিপরীতে পেরিন ভিলেন লেক্স লুথারের সঙ্গিনী ছিলেন। এ চরিত্রে তিনি শুধু তাঁর সৌন্দর্য নয়, মানবিক দ্বন্দ্বও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে সেই দৃশ্যগুলোতে, যেখানে তিনি সুপারম্যানকে বাঁচাতে সাহায্য করেন।
‘দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো’, ‘হোয়াট ওমেন ওয়ান্ট’ সিনেমা ছাড়াও ‘ইআর’, ‘দ্য প্র্যাকটিস’, ‘ন্যাশ ব্রিজ’–এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে অতিথি চরিত্রে পেরিনকে দেখা গেছে।

গ্ল্যামার থেকে গভীরতায়

ক্যারিয়ারের শুরুতে লাস ভেগাসে শোগার্ল হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে প্লেবয় ম্যাগাজিনের কভার—সবকিছু মিলিয়ে পেরিন ছিলেন গ্ল্যামার জগতের পরিচিত মুখ। তবে তিনি নিজেকে শুধু সেই গণ্ডিতে আটকে রাখেননি; বরং অভিনয়ের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করেছেন নিজের গভীরতা।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

বিচ্ছেদের পর সদ্যই নতুন করে সংসার পেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়। তাঁকে বহু মানুষ যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনি কটাক্ষও করেছেন অনেকে। এসবের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিকৃত যৌন ইচ্ছা, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ—কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় সুস্মিতা।

যেভাবে পরিচিতি
সুস্মিতা রায়কে দর্শক ‘জগদ্ধাত্রী’ থেকে শুরু করে ‘কৃষ্ণকলি’, ‘অপরাজিতা অপু’ ধারাবাহিকে দেখেছেন। সুন্দরবন থেকে এসে টলিউডে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এত কাজের মধ্যে তাঁকে সব থেকে বেশি খ্যাতি দিয়েছিল কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকটি। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং, ব্যবসা—সবটাই একা হাতে সামলাচ্ছেন।

জন্মদিনে বিচ্ছেদের ঘোষণা!
২০২৫ সালের ২০ মার্চ ছিল সুস্মিতার জন্মদিন। এদিনেই জানা যায়, তাঁর বিচ্ছেদের খবর। সামাজিক মাধ্যমে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন সুস্মিতা। এদিন সুস্মিতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবর তুলে ধরেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘ভালো থাক। বড় হ আরও। জন্মদিনে, আমার শেষতম শুভেচ্ছায় অনেক ভালো থাকিস। নতুন অধ্যায় ভালো হোক।’ এরপরই বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমরা আলাদা হচ্ছি। কিছু জিনিস দু তরফে মিলল না, মন খারাপ দু তরফেই। সেটা কাটিয়েই এগিয়ে যাওয়া হোক!’ সেই সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চর্চা বা আলোচনা না করার অনুরোধও করেন সব্যসাচী। আর এই পোস্ট যে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমেই, তা–ও জানিয়ে দেন।
দম্পতির বিচ্ছেদের খবর মেনে নিয়েছেন সুস্মিতার দেবর, তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তাঁরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’ উল্লেখ্য, আড়াই বছর আগেও একবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সব মিটমাট করে আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিচ্ছেদে এসে থামল তাঁদের পথচলা।

সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

নতুন শুরু
বিচ্ছেদের পর চলতি মাসেই নতুন করে জীবন শুরু করেছেন সুস্মিতা। গত ১৮ মার্চ  রাতে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী, তথা ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই। বিয়ের ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখেছিলেন, ‘এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। একটা শব্দ শোনার আশা—মা ডাক। আজ ৩৬ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভণিতা করার সময় নেই৷ নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম…তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো৷’

আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

নতুন অভিযোগ
বিয়ের পর নতুন করে আবার চর্চায় সুস্মিতা ও সব্যসাচী। এর মধ্যেই গতকাল রাতে সাবেক স্বামীর সঙ্গে একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন সুস্মিতা। সেখানে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ অভিনেত্রীর। এরপর তিনি লাইভে আসেন। সেখানেই অতীত তুলে ধরেন। অভিযোগ করেন, এখনো চক্রবর্তী পরিবার; অর্থাৎ সব্যসাচী ও সায়ক তাঁর গোপন কথা ফাঁস করার হুমকি দিচ্ছেন। তাই নিজেই সব জানাবেন বলে জানান। সেই লাইভেই নিজের একাধিক বিয়ে ও সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই সাবেক স্বামী সব্যসাচীর বিকৃত যৌনতা নিয়ে মুখ খোলেন। সুস্মিতার দাবি, বিয়ের পরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সব্যসাচীর।

সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ
সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ

সুস্মিতার দাবি, তাঁর সামনেই একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সব্যসাচী। এ ছাড়া বিভিন্ন জিনিস ও টাকাপয়সা তো নিয়েছেনই। সুস্মিতার যুক্তি, তিনি ভালোবেসে সবটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ের পর বাধ্য হয়েছেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ, চক্রবর্তী পরিবার চায়নি, সন্তান আসুক তাঁর কোলে।

এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে। আমার সঙ্গে আলাপ দ্বিতীয় বিয়ের সময়। আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি। ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি। আমি মার খেয়েছি। সুস্মিতার মারধর, অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিল। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হতো। আমার চরিত্র নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন উঠত। এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তাঁর টাকায়। সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত। বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে। বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার পক্ষে–বিপক্ষে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার পুরোনো জীবন নিয়ে ক্ষোভ না ঝেড়ে কাজ আর নতুন সংসারে মন দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন সুস্মিতা ও সব্যসাচীকে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব