• Colors: Yellow Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। পোস্টটিতে তিনি পোশাক পরা নিয়ে ভক্তদের সাথে নিজের চিন্তাধারা শেয়ার করেছেন।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের পর পোস্টের প্রথমেই তিনি লেখেন, আমাদের সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। ওয়েল ডান, বাংলাদেশ! নির্ঘুম রাত কাটানোর পর এক শান্তিপূর্ণ সকাল। নিজেকে কৃতজ্ঞ এবং অত্যন্ত গর্বিত মনে হচ্ছে।

পোস্টে পোশাক পরা নিয়ে  সমালোচনার উত্তরে অভিনেত্রী লেখেন, যারা আমাকে ‘বোরকা’ কিনতে বলেছিলন, তাদের জন্যই এই ছবি। ছোটবেলা থেকেই আমি নিয়মিত বোরকা পরি। আমার কাছে এটি আরেকটি পোশাক। এর থেকে বেশি আর কিছুই নয়। কখনো পায়জামা ঢাকতে, কখনো তেল দেয়া চুল আড়াল করতে, কখনো জনসমাগমে মিশে যেতে এতটাই সহজ পোশাক।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তবে যারা ট্রোল ও সমালোচনা, অপমান কিংবা হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন; এই পোস্টটি তাদের জন্যও।

নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, যারা জিতেছেন তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। আর যারা জিততে পারেননি, তাদের জন্যও অভিজ্ঞতাটাই এক ধরনের বিজয়। শেষে তিনি বলেন, এটাই আমাদের দেশ। সম্মান ও ঐক্য নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। সেটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।

হলিউড অভিনেত্রী ব্লেইক লাইভলি ও অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বালডোনির মধ্যে চলমান যৌন হয়রানির মামলায় আদালত-নির্দেশিত মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হয়নি। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে সারা দিনের মধ্যস্থতা বৈঠক শেষে দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’–এর সহ-অভিনেতা লাইভলি ও বালডোনি গত বুধবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হন। আদালতের ১৪ তলায় পৃথক কক্ষে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান তাঁরা। দিনের শেষে ভবন ছাড়ার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে দুজনই কোনো মন্তব্য না করে চলে যান।

বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান সাংবাদিকদের জানান, কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও তা খুব একটা সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে না। মামলাটি বিচারে গড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি মামলাটি বিচারে গড়াবে। আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’

ফেডারেল আদালতের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট জজ সারাহ এল. কেইভের তত্ত্বাবধানে এই মধ্যস্থতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগেও উভয় পক্ষ কেইভের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল। তবে শুরু থেকেই আলোচনায় অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে জাস্টিন বালডোনি ও ব্লেইক লাইভলি। আইএমডিবি

লাইভলির অভিযোগ, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ ছবির শুটিং সেটে জাস্টিন বালডোনি তাঁকে যৌন হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি, অভিযোগ জানানোর পর বালডোনি তাঁর জনসংযোগ টিমের মাধ্যমে লাইভলির বিরুদ্ধে বদনাম ছড়ানোর প্রচারণা চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত আছে ১৮ মে।

‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার দৃশ্যে ব্লেইক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনি। আইএমডিবি

এদিকে বিচারক লুইস লিম্যান বিবেচনা করছেন—বিচারের আগেই লাইভলির অভিযোগ পুরোপুরি বাতিল করা হবে কি না, অথবা অভিযোগের বড় অংশ খারিজ করা হবে কি না। বালডোনির পক্ষ থেকে করা সামারি জাজমেন্ট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাইভলির অভিযোগগুলো মূলত তুচ্ছ বিরোধ ও অসন্তোষের বিষয়, যা আইনি দৃষ্টিতে যৌন হয়রানির মানদণ্ড পূরণ করে না।

অন্যদিকে লাইভলির পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সেটে বালডোনির আচরণ নিয়ে অন্যান্য অভিনেতাও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর এবং বিষয়টি জুরির মাধ্যমে বিচার হওয়াই সঠিক হবে।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে

ছয় বছর আগে নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর চলচ্চিত্র ‘রূপান্তরের খসড়া’ চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন নোবেলজয়ী তুর্কি লেখক ওরহান পামুক। তাঁর ৫০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ প্রেমকাহিনি—১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের ইস্তাম্বুলের পটভূমিতে লেখা ভালোবাসার গল্প—চিত্রনাট্যে এমনভাবে বদলে ফেলা হয়েছিল, যা তাঁর ভাষায় ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’।

প্রযোজনা সংস্থা মূল কাহিনিতে বড় পরিবর্তন আনে, এমনকি নতুন প্লট টুইস্টও যোগ করে। পামুক মনে করেন, এতে তাঁর গল্পের মর্মই বদলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন, গল্পের স্বত্ব ফিরে পেতে প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

‘সেই সময় দুঃস্বপ্ন দেখতাম’—নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন ওরহান পামুক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় অনেক টাকা দিতে হয়েছে। ভাবতাম, ওরা যদি ওভাবেই বানিয়ে ফেলে!’

২০২২ সালে তিনি মামলায় জয়ী হন। এরপর নতুন করে উদ্যোগ নেন—এবার শর্ত সাপেক্ষে, যাতে গল্পের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে।
অবশেষে চার বছর পর তিনি সন্তুষ্ট। আজ শুক্রবার থেকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ৯ পর্বের সিরিজ ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’।

‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সাহিত্য থেকে পর্দা: এক দেরিতে পাওয়া সাফল্য
৭৩ বছর বয়সী পামুকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে এটি একটি নতুন অধ্যায়। দুই দশকের বেশি সময়ে লেখা তাঁর উপন্যাস, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও আলোকচিত্রের বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উপন্যাসটি ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে এক মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর কামালের আবিষ্ট প্রেমের গল্প বলা হয়েছে তরুণী বিক্রয়কর্মী ফুসুনকে কেন্দ্র করে। ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কামাল নিত্যদিনের জিনিস—লবণদানি, চুলের ক্লিপ, কফির কাপ, এমনকি ৪ হাজার ২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। উপন্যাসের চূড়ান্ত পর্বে সে এসব নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করে।

সাহিত্যের বাইরে গল্পটির আরেক জীবনও আছে। ২০১২ সালে পামুক ইস্তাম্বুলে বাস্তবেই ‘মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে উপন্যাসের নানা উপকরণ প্রদর্শিত হয়। পরে এ নিয়ে তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘অতিরিক্ত পরিবর্তন নয়’
২০১৯ সালে একটি হলিউড প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন পামুক; কিন্তু প্রস্তাবিত চিত্রনাট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ছিল; যেমন নায়িকা ফুসুনকে গর্ভবতী দেখানোর মতো সংযোজন।

‘অতিরিক্ত পরিবর্তন। এভাবে বদলালে বইটি আর আমার বই থাকে না’, বলেন পামুক।
প্রায় আড়াই বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি চুক্তি বাতিল করেন। এরপর তুরস্কের প্রযোজনা সংস্থা এ ওয়াই ইয়াপিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

এবার তিনি আগাম অর্থ নেননি এবং চূড়ান্ত চিত্রনাট্য না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতেও সই করেননি। প্রতিটি পর্বের খসড়া নিজে পড়ে মতামত দিয়েছেন। ৯টি পর্বের প্রতিটি পাতায় প্রযোজক ও লেখক দুজনই সই করেন—চিত্রনাট্য যাতে অপরিবর্তিত থাকে।
প্রযোজনা সংস্থার প্রধান কেরেম চাতাই জানান, চার বছরে সিরিজটি সম্পন্ন হয়েছে—তাঁর ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময় আর কোনো সিরিজে লাগেনি।

নারীর দৃষ্টিকোণ ও অভিনয়
উপন্যাস প্রকাশের পর তুরস্কের নারীবাদীরা পামুকের সমালোচনা করেছিলেন—গল্পটি পুরুষ চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে বলে। পামুক বলেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের একজন পুরুষ—সব নারীবাদী সমালোচনা আমি মেনে নিই।’
সিরিজটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা যেনেপ গানি তান, যা নায়িকা ফুসুনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করেন পামুক।

নায়ক কামালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুর্কি তারকা সেলাহাতিন পাসালি, আর ফুসুন চরিত্রে তুলনামূলক নতুন মুখ ইয়েল কান্দেমির।

সিরিজটি পামুকের জন্য আরেকটি ‘প্রথম’ এনে দিয়েছে—অভিনয়ে অভিষেক। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি নিজেই ‘ওরহান পামুক’ চরিত্রে উপস্থিত, যেখানে কামাল তাঁর গল্প শুনিয়ে যায়।

তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এটাকে অভিনয় বলা যায় না, কারণ আমি নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছি।’

নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভোটের মাঠে দেখা গেছে শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকাদেরও। ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করে ভাগ করে নিয়েছেন নাগরিক দায়িত্ব পালনের মুহূর্ত।

আঙুলে অমোচনীয় কালি দেখিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন অনেকেই। চিত্রনায়িকা বর্ষা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন স্বামী অনন্ত জলিলকে সঙ্গে নিয়ে। ফেসবুকে লিখেছেন, 'আলহামদুলিল্লাহ। আমি ভোট দিয়েছি। আপনিও ভোট দিন আপনার পছন্দের মানুষকে।'

সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেফার রহমান প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে লিখেছেন, 'ফাস্ট টাইম ভোটিং'।

অন্যদিকে অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ জানান, একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিষ্টি জান্নাত ভোট দিয়ে মজার ছলে জানতে চেয়েছেন—লুকটা কেমন হলো!

তমা মির্জা নাগরিকদের ভোটদানে উৎসাহ জানিয়ে লিখেছেন, 'ভোট প্রদান আপনার আমার নাগরিক অধিকার।'

রাজধানীর গুলশানে ভোট দিয়ে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা লিখেছেন, 'ভবিষ্যতের পথ।'

সাফা কবির, মাসুমা রহমান নাবিলা ও আয়শা সালমা মুক্তিসহ অনেকেই ভোট দিয়ে ভালো বাংলাদেশের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

এদিকে, একসঙ্গে ভোট দিয়েছেন ঢালিউডের তিন কন্যা—সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। হাসিমুখে ছবি তুলেছেন, জানিয়েছেন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদের কথা। এর আগে ববিতা বলেছিলেন, দেশ এগিয়ে যাক, মানুষ থাকুক শান্তিতে।

ঢাকা-৮ আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট দেন প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত। এবারসহ দশটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার। এবারের পরিবেশকে সুন্দর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইশা খান, মনোজ প্রামাণিক, শিহাব শাহীন ও রুকাইয়া জাহান চমকও ভোট দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছেন। কেউ বলেছেন দায়িত্ব সম্পন্নের কথা, কেউ জানিয়েছেন পরিবার নিয়ে ভোট দিতে আসার আনন্দের কথা।

সব মিলিয়ে, তারকারাও ব্যালটে অংশ নিয়ে দেখালেন—ভোট শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক দায়িত্বেরও উৎসব।

দেশের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি ছিল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের। সেই অবস্থান থেকেই তিনি সব সময় কথা বলেছেন নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে। এবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশ নিয়ে নতুন আশার কথাই জানালেন এই অভিনেত্রী।

বাঁধন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকা-১৬ আসনের ভোটার। মা–বাবাকে নিয়ে ভোট দিয়েছি। আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সব ধর্ম-বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’

এবার জাতীয় নির্বাচনের দিনও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়েছেন বাঁধন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি দেশ নিয়ে আশার কথাই জানান। তাঁর মতে, পরিবর্তনের পথ তৈরি হয় মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে, আর সেই অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমই ভোট।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক থেকে
 

বাঁধন বলেন, ‘কোনো রকম ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। যারা দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। সাম্য বজায় রাখবে। সবাই তাদের অধিকার বুঝে পাবে বলে আশা করি।’

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, ফেসবুক থেকে
 

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে নির্বাচিত সরকারের নজর থাকবে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। এ সময় বাঁধন আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে প্রত্যাশা, তথ্য ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে এমন কেউ পাবেন যাঁরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে চিন্তা করবেন। এ ছাড়া বড় চাওয়া পেশাগত স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে যেন দেওয়া হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। কারণ, সামাজিকভাবে আমাদের পেশাকে খুব একটা ভালোভাবে দেখা হয় না। পেশার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে ভালো হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তাঁর স্ত্রী অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার নাম। এক বছরের ব্যবধানে যেখানে ফারুকীর মোট সম্পদ কমেছে, সেখানে তিশার সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটি টাকার বেশি।

নুসরাত ইমরোজ তিশা ও  মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সম্পদ বিবরণী গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের স্ত্রী অথবা স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসাব এখানে দেওয়া হয়নি।

নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ
নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ, ছবি : তিশার সৌজন্যে
 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। প্রজ্ঞাপন মতে, এক বছরে তিশার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার
 

অন্যদিকে একই সময়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তাঁর মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ফারুকীর সম্পদের পরিমাণ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব