• Colors: Yellow Color

চিত্রনায়িকা শাহনূর বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে টিউমার ধরা পড়েছে। এমআরআই পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহনূর নিজেই।

শাহনূর জানান, তাঁর প্যানক্রিয়াসে টিউমার শনাক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের জুইশ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দু–এক দিনের মধ্যেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শাহনূর
শাহনূর, ছবি : সংগৃহীত

এ পরিস্থিতিতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি একজন ক্ষুদ্র মানুষ—কথা, কাজ বা ব্যবহারে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। ২৬ বছরের অভিনয়জীবনে নিজের জন্য কিছু না করে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা, বৃদ্ধাশ্রমের বাবা–মায়েদের পাশে থাকা—এসব কাজেই তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বলে জানান।
শাহনূর আরও লেখেন, জীবনে কখনো নিজের জন্য ফ্ল্যাট বা দামি গাড়ি কেনেননি। তাঁর বিশ্বাস, ধনসম্পদ মৃত্যুর পর সঙ্গে যায় না; মানুষের জন্য করা কাজ ও তাদের দোয়াই শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকে। তাই এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা ও দোয়া কামনা করেছেন তিনি।

একসময় চলচ্চিত্রে নিয়মিত মুখ হলেও বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত শাহনূর। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।

৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সিনেমা ছাড়াও নানা প্রসঙ্গ।

দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী? এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দুটো (দুই বাংলার সিনেমা) নিয়েই তো আশাবাদী। এখানে “ওসিডি”র মতো ছবি রিলিজ করছে এবং দর্শক দেখেছে। এর আগে “ডিয়ার মা”, “পুতুলনাচের ইতিকথা” করেছি; প্রত্যেকটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশনের কাজ (ভিন্ন ধরনের)। একজন আর্টিস্ট হিসেবে কাজগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এসেছে “ওসিডি”, সেখানে পারফরমেন্সটা খাবার একটা জায়গা আছে। আমি কতটুকু পেরেছি, আমি বলব না। তিনটা সিনেমা তিন ধরনের—একটি একেবারে পারিবারিক, একটি একদম ক্ল্যাসিক এবং এখন যেটা হচ্ছে, সেটার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী সামাজিক বার্তা আছে।’

গত বছরে তাঁর অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমার সাফল্যের কথা তুলে ধরে জয়া আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নানা রকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দুটে ছবি “উৎসব” ও “তান্ডব” ব্লকবাস্টার সুপারহিট। এরপর সামনে আরও খুব ভালো ভালো দারুণ কিছু ছবি আসবে, “রইদ” নামে একটি ছবির ট্রেলার আপনারা দেখেছেন, অসাধারণ ছবি হবে।’

জয়া অভিনীত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাগুলো বাংলাদেশে মুক্তি পায় না, একইভাবে ঢাকার সিনেমাও কলকাতায় মুক্তি পায় না। জয়া আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে এটা ঠিক হয়ে যাবে।

‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

একই সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো আসলে আমার ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটা জয়া আহসানের ইমেজটাকে দেখার জায়গা। একেবারেই আনুষ্ঠানিক একটা জায়গা। তারপরও আমি মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করি।’

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশ ‘র‍্যাপিড ফায়ার’–এ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দেখতে আমার বাবার মতো হয়ে যাচ্ছি।’
এ ছাড়া জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে যাচ্ছেন। এমন কিছু নেই, যা করতে নিজেকে ‘না’ করেন।

জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

‘আমাদের সবার প্রিয় তানিয়া বৃষ্টি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ মুহূর্তে তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা প্রয়োজন। অনুরোধ করছি শুটিং বা কাজ–সংক্রান্ত বিষয়ে আপাতত ফোনকল/খুদে বার্তা দিয়ে বিরক্ত না করার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠলে ইনশা আল্লাহ নিজে থেকেই সবাইকে জানানো হবে।’

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
 

মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানিয়া বৃষ্টির ফেসবুক থেকে এভাবেই তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর গতকাল শনিবার আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল। ভালোবাসি। কাল আমার মাথায় অস্ত্রোপচার, দোয়া করবেন সবাই। ব্রেন টিউমার।’

তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয় পরিচালক সকাল আহমেদের সঙ্গে।

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টিছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে সকাল আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তানিয়া। কখনো তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করতেন, কখনোবা জ্বর-ঠান্ডা লেগে থাকত তাঁর। কিন্তু খুব একটা পাত্তা দেননি। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতি একটু খারাপ হলে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, তানিয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত।

তানিয়া বৃষ্টি
তানিয়া বৃষ্টি, ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে
 

ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতাল থেকে পরে তানিয়া বৃষ্টিকে আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় বলে জানান সকাল আহমেদ। আজ বিকেল চারটায় তাঁর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। সন্ধ্যা সাতটায় কথা হলে সকাল আহমেদ বলেন, ‘খবর নিয়ে জেনেছি, অস্ত্রোপচার চলছে। মস্তিষ্কের বিষয় তো, তাই কিছুটা চিন্তার বিষয়। অস্ত্রোপচার ঠিকঠাক হলে আজ রাতটা পোস্ট অপারেটিভে রাখা হবে। আগামীকাল সোমবার যেকোনো সময় তাঁকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।’

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশী ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ খেলতে এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবারের সফরে খেলোয়াড়দের তাঁদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর প্রমিকা মাহিকা শর্মা। খেলার আগে নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি।

ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চমক
এদিকে ভালোবাসা দিবসে হার্দিক পান্ডিয়া প্রেমিকাকে উৎসর্গ করে ট্যাটু করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ট্যাটু আর্টিস্ট সানি ভানুশালির টিম জানিয়েছে, শুরুতে ক্রিকেটারের ভাবনা ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দেওয়া। কিন্তু আলোচনার পর ধারণাটি আরও গভীর অর্থবহ রূপ নেয়। শুধু একটি অক্ষর নয়, পুরো ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে দুটি চিতাবাঘের মোটিফ দিয়ে। একটি চিতা শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক চিতা প্রথমটির চারপাশে ঘুরে গিয়ে সূক্ষ্মভাবে ‘এম’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেছে। এই ‘এম’ দিয়ে যে মাহিকাকে বোঝানো হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

[caption id="attachment_267288" align="alignnone" width="708"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

ট্যাটুশিল্পীর ভাষায়, এটি নাকি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে দুজন একে অপরের শক্তিকে আরও বড় করে তোলে।
স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক পান্ডিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন গায়িকা জেসমিন ওয়ালিয়ার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ভাঙার খবরের পর এবার মডেল ও অভিনেত্রী মাহিকা শর্মার সঙ্গে প্রেম করছেন হার্দিক।

[caption id="attachment_267287" align="alignnone" width="715"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

দিল্লির মেয়ে মাহিকা
মাহিকার বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। নেভি চিলড্রেন স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি কলেজে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী—দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০ সিজিপিএ। পড়াশোনার সময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করেছেন, যার মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শিক্ষা ও তেল–গ্যাসসংক্রান্ত কৌশল–পরিকল্পনা।

[caption id="attachment_267286" align="alignnone" width="718"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

শিক্ষাজীবন শেষে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন মাহিকা। তিনি অভিনয় ও মডেলিং শুরু করেন। ভারতীয় র‌্যাপার রাগার এক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। এ ছাড়া ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অরল্যান্ডো ভন আইন্সিডেলের ‘ইনটু দ্য ডাক’ ও ওমঙ্গ কুমারের ‘নারেন্দ্র মোদি’ (২০১৯) ছবিতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বিবেক ওবেরয়। বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

[caption id="attachment_267285" align="alignnone" width="722"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

ফ্যাশন দুনিয়ায়ও সফল মাহিকা। তিনি হেঁটেছেন ভারতের শীর্ষ ডিজাইনারদের র‌্যাম্পে—অনীতা দোংরে, রিতু কুমার, তরুণ তাহিলিয়ানি, মনীশ মালহোত্রা ও অমিত আগারওয়ালের মতো নামকরা ডিজাইনারদের শোতে। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে জিতেছেন মডেল অব দ্য ইয়ার (নিউ এজ) খেতাব। এ ছাড়া এল ম্যাগাজিনও তাঁকে মডেল অব দ্য সিজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অতীত প্রেমজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় প্রেমিকের ফোনে একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেটিই ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা।

শানায়া কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার। ছবি প্রচারণায় ব্যস্ত শানায়া রিলেশনসশিট অ্যাডভাইস পডকাস্টে হাজির হয়ে এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ, আবেগঘন প্রতারণা ও সম্পর্ক ভাঙনের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

‘পারফেক্ট’ প্রেম, তারপর ধাক্কা

শানায়া জানান, তখন তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে। সম্পর্ক নিয়ে তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। ‘আমি ভাবছিলাম, এটাই সেই সম্পর্ক। এত ভালো যেন সত্যি হওয়ার মতো নয়’, বলেন শানায়া।

শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে সাধারণ একটি মুহূর্তে। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে তাঁর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে গিয়ে একটি নোটিফিকেশন চোখে পড়ে—প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার বার্তা। কৌতূহল ও সন্দেহ থেকে তিনি চ্যাট খুলে দেখেন, যা দেখে তিনি বিস্মিত ও আহত হন।
একের পর এক বার্তা শানায়া বলেন, প্রথম চ্যাটের পরই আরেকটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম—এভাবে পাঁচ নারীর সঙ্গে একই ধরনের বার্তা আদান-প্রদান দেখতে পান তিনি। ‘ও এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সে একেবারেই সিঙ্গেল’, যোগ করেন তিনি।
শানায়া দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাঠান পরামর্শ চেয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে।

শানায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্যা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। ‘অনন্যা বলছিল, ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি’, বলেন শানায়া। কিন্তু বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
শানায়া বলেন, ‘আমি কীভাবে হঠাৎ ট্রেনে উঠে চলে যাব? কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে।’

শানায়া জানান, পরবর্তী তিন দিনও বাইরে ঘোরাফেরা, ডিনার—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন।
অবশেষে প্রেমিক বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই। শানায়ার দাবি, তাঁকে শান্ত করতে প্রেমিক দামি এক জোড়া দুল কিনে দেন। শানায়া সেটিকে রসিকতার সুরে নাম দেন ‘গিল্টি ইয়াররিংস’।

 

পরে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে মজার ছলে শানায়া বলেন, দুলটি এখনো তাঁর কাছে আছে এবং মাঝেমধ্যে পরেনও—‘আমি তো এটা অর্জন করেছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

‘শুধু মেসেজিং’—কিন্তু শানায়ার মতে তা নয়, প্রেমিকের দাবি ছিল, এটি কেবল বার্তা আদান-প্রদান, শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। কিন্তু শানায়ার কাছে সেটিই ছিল প্রতারণা, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

শিমুল–পলাশের রঙে লাল বসন্তের প্রথম সকাল মুখর হয়ে উঠেছিল গানের সুর আর নৃত্যের ছন্দে। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ ঋতুরাজের আগমনী দিনে বিপুল প্রাণের উচ্ছ্বাসে স্পন্দিত হয়েছিল আজ শনিবার সকাল থেকে। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ আহ্বান নিয়ে ৩৮তম বারের মতো বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ।

সকাল আটটায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এরপর দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের একক সংগীত, আবৃত্তির সঙ্গে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
 

অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা, বিশেষত নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। নারীদের পরনে ছিল বাসন্তী রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপা বা মাথায় ফুলের সজ্জা। পুরুষদের বেশির ভাগই পরেছেন উজ্জ্বল বর্ণের পাঞ্জাবি। রাজধানীতে শীতের প্রভাব কমেছে আরও কিছুদিন আগেই। বসন্তে গরম পোশাকের আবশ্যকতা নেই বলে বাহারি সাজে সেজেগুজে উৎসবকে রঙিন করে তুলেছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতারা।

অধিকাংশ গান, আবৃত্তি আর নৃত্য ছিল বসন্ত নিয়ে। বসন্ত ভালোবাসারও ঋতু। তাই ঋতুরাজের আগমনী দিনে ভালোবাসার গানও বাদ পড়েনি পরিবেশনা থেকে। দর্শক–শ্রোতাদেরও অনেকে এসব গানের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। নাচের মুদ্রায় তাল মিলিয়ে নৃত্য করেছেন কেউ কেউ।

জাদুঘরের প্রথম তলার খোলা পরিসরে মঞ্চ করে অনুষ্ঠান। সামনে দর্শকদের জন্য সারি দিয়ে চেয়ার পাতা হয়েছিল। তবে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রচুর। অনেকে চারপাশে দাঁড়িয়ে ও সিঁড়ির ওপর থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। আবার অনেকে প্রবেশপথের সামনের উন্মুক্ত পরিসরে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন। অনেকে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ও সামনের খোলা পরিসরে বসে চা পানের পাশাপাশি সঙ্গীদের সঙ্গে আলাপে–আড্ডায় মেতেছেন। সবটা মিলিয়ে দারুণ এক আনন্দঘন আয়োজন সম্পন্ন হলো বসন্ত উৎসবের এই নতুন স্থানে।

বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছিল ১৪০১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এর পর থেকে বরাবর সেখানেই দিনভর উৎসব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবেশ পাল্টে যায়। বকুলতলায় উৎসব করার আর অনুমতি মেলেনি। বকুলতলায় আশ্রয় হারিয়ে ‘অনিকেত’ আয়োজকেরা এরপর বিভিন্ন স্থানে উৎসব আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছেন। অনুমতি পাননি। অবশেষে তাঁরা শরণাপন্ন হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে। বসন্তকথনে এই কথাগুলোই তুলে ধরলেন আয়োজকেরা।

উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
 

জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলেন, ‘এবারই প্রথম চারুকলার বকুলতলার বাইরে উৎসবটির আয়োজন করতে হলো। বকুলতলাতেই উৎসব করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধ হলো বাংলাদেশের শিকড়। আর বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক উৎসগুলো আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। শিকড়ের টানেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক এই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছি। তবে আগামী বছর থেকে আমরা আবার চারুকলার বকুলতলাতেই উৎসব করতে আগ্রহী। সংস্কৃতিচর্চার মুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

বসন্তকথনে উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সহসভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজ এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে একটি বন্ধ দরজা খুলে গেল।’ আগামী দিনগুলোতে পরিবেশ আরও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকেই মব আতঙ্ক নিয়ে জনমনে একটি ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের আশঙ্কা ছিল তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসবটি করতে পারব কি না। কারা ক্ষমতায় আসবে, তারা দেশে সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ রুদ্ধ করে দেবে কি না, এ নিয়েও উদ্বেগ ছিল। তবু আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এই পরিস্থিতিতে উৎসবটি করতে পেরেছি। আর তেমন কোনো প্রচার না করা সত্ত্বেও যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে অংশ নিয়েছেন, সে জন্য আমরা আনন্দিত।’

সফিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার দেশে সংস্কৃতিচর্চার জন্য, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেবেন, এটা জনসাধারণের প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের একক কণ্ঠের পরিবেশনার মধ্যে শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি গেয়েছেন ‘ফুল ফাগুনের এল মৌসুম’; তানজিলা তমা গেয়েছেন ‘আহা আজি এ বসন্তে’; অনিমা রায়ের নেতৃত্বে তাঁর দলের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়েছেন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’; শ্রাবণী গুহ রায় গেয়েছেন, ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি’; ‘মধু মালতি ডাকে আয়’ গেয়েছেন সুস্মিতা সূচি, মারুফ হোসেন গেয়েছেন ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’; রীতা রানী সাহা গেয়েছেন ‘বন্ধু বিনা পরান বাঁচে না’।

নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
 

সম্মেলক গানের মধ্যে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা ছিল ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়া’; বহ্নিশিখার পরিবেশনা ‘ফুটিল ফুল ফুটিল চৈতি রাতের শেষে’। নায়লা তারান্নুম আবৃত্তি করেছেন কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা ‘ফাল্গুন এলো’।

‘কুহু কুহু ডাক দিলা কোকিলে’ গানের সঙ্গে অনীক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্পন্দের শিল্পীরা। কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের শিল্পীরা কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন সাজু আহমেদের পরিচালনায়।

বসন্ত উৎসবের স্পনসর ছিল ইস্পাহানি গ্রুপ। শ্রোতা–দর্শকদের জন্য চা পরিবেশন করেছে তারা। ইস্পাহানি গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, বসন্ত উৎসবের শুরু থেকেই তাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঋতুভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক এই উৎসব বাংলাদেশের একটি প্রাণের উৎসব। এর সঙ্গে আছে ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে ইস্পাহানি গ্রুপ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত।

উৎসব চলেছে দুপুর অবধি। একক সংগীত পরিবেশনায় আরও অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহাদেব সাহা, আবিদা রহমান, ফেরদৌসী কাকলি, সেমন্তী মঞ্জুরি, অবিনাশ বাউল, সঞ্চিতা রাখী প্রমুখ। আবৃত্তি করেছেন বেলায়েত হোসেন।

ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
 

সম্মেলক গান করেছে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সুরবিহার, পঞ্চভাস্কর, সুরতীর্থ।

নৃত্যে অংশ নিয়েছে অনেকগুলো সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল—গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমি, নবচেতনা, গারো কালচারাল একাডেমি, নৃত্যর, তুরঙ্গমী, অংশী, ভাবনা, দিব্য, নন্দিনী নৃত্যালয়, নর্তনম, জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যলোক, নৃত্যাক্ষ, ধৃতি নর্তনালয়, বাংলাদেশ একাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট, সাধনা, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, ফিকা চাকমা, মম কালচারাল সেন্টার, নৃত্যালোকসহ অনেকে। সঞ্চালনা করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও আহসান দিপু।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব