• Colors: Yellow Color

বলিউডে চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ‘ককটেল ২’। মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। জনপ্রিয় ‘ককটেল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির উত্তরসূরি হওয়া, তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে নির্মিত গল্প, চার্টবাস্টার গান এবং শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানার নতুন জুটির কারণে ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্ত।

ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ (কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) সার্টিফিকেট দিয়েছে। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীরা ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পারবে না।

আড়াই ঘণ্টার রোমান্টিক ড্রামা
১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল ২’। সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার সঙ্গে ছবিটির দৈর্ঘ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ছবির রানটাইম ১৫০ মিনিট, অর্থাৎ ঠিক ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এর আগে ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘ককটেল’-এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৪৬ মিনিট। ফলে নতুন ছবিটি আগেরটির চেয়ে চার মিনিট বেশি দীর্ঘ।

কৃতির ক্যারিয়ারে প্রথম
‘ককটেল ২’-এর সবচেয়ে বড় চমকের একটি হলো কৃতি শ্যাননের ক্যারিয়ার রেকর্ড। ২০১৪ সালে বলিউডে অভিষেকের পর এই প্রথম তাঁর কোনো ছবি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেল। ‘হিরোপন্তি’, ‘মিমি’, ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ কিংবা ‘দো পত্তি’—কোনো ছবিই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছিল না। ফলে ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ‘ককটেল ২’ কৃতির জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।

রাশমিকার দ্বিতীয় ‘এ’ সার্টিফিকেট
রাশমিকা মান্দানার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় ‘এ’ সার্টিফিকেট পাওয়া হিন্দি ছবি। এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া রণবীর কাপুর অভিনীত ‘অ্যানিমেল’ ছবিটিও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছিল। ‘অ্যানিমেল’-এ তাঁর চরিত্র যেমন আলোচনায় এসেছিল, তেমনি ‘ককটেল ২’-এও তিনি ছবির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

‘ককটেল ২’–এ কৃতি শ্যানন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘ককটেল ২’–এ কৃতি শ্যানন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শহীদের নতুন রেকর্ড
শহীদ কাপুরের ক্যারিয়ারে এটি পঞ্চম ‘এ’ সার্টিফিকেট পাওয়া ছবি। এর আগে তিনি অভিনয় করেছেন ‘কামিনে’ (২০০৯), ‘উড়তা পাঞ্জাব’ (২০১৬), ‘কবির সিং’ (২০১৯), ‘ও’রোমিও’ (২০২৬) ছবিতে। মজার বিষয় হলো, ‘ও’রোমিও’ ছিল শহীদের সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি। ফলে এই প্রথম তাঁর ক্যারিয়ারে টানা দুটি ছবি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেল।

মুক্তির আগেই বাড়ছে প্রত্যাশা
১৪ জুন মধ্যরাতেই ছবিটির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ট্রেলার, গান এবং তারকাদের প্রচারণা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রযোজক দিনেশ বিজনের ম্যাডক ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ছবিটির সহপ্রযোজক হিসেবে আছেন লাভ রঞ্জন, প্রমিতা আর. বিজন ও অঙ্কুর গার্গ।

‘ককটেল ২’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ককটেল ২’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘ককটেল’ থেকে ‘ককটেল ২’
১৪ বছর পর আসছে ‘ককটেল ২’। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘ককটেল’ ছিল সে সময়ের অন্যতম সফল রোমান্টিক ড্রামা। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টি। বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আধুনিক শহুরে জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সেই ছবি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন হোমি আদাজানিয়াই।

তবে প্রথম ছবিটি পেয়েছিল ইউ/এ সার্টিফিকেট, যেখানে ‘ককটেল ২’ সরাসরি ‘এ’ সার্টিফিকেট পেল। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন ছবির গল্পে সম্পর্ক, আবেগ ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুর মাত্রা আরও বেশি। তবে এটি সরাসরি আগের গল্পের ধারাবাহিকতা নয়; বরং একই আবেগ ও সম্পর্কের জটিলতাকে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা। আর সে কারণেই ছবিটি এখন বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা।

‘ককটেল ২’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ককটেল ২’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘ককটেল ২’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর তারকাবহুল কাস্ট। ছবিতে দেখা যাবে শহীদ কাপুর, কৃতি ও রাশমিকা মান্দানাকে। পরিচালনায় রয়েছেন আগের ছবির নির্মাতা হোমি আদাজানিয়া। প্রযোজক হিসেবে আছেন দিনেশ বিজন আর চিত্রনাট্যে যুক্ত হয়েছেন লাভ রঞ্জন ও তরুণ জৈন। প্রথম পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বোঝা গেছে, এ ছবির কেন্দ্রেও রয়েছে এক জটিল প্রেমের সমীকরণ। বন্ধুত্ব, আকর্ষণ, ঈর্ষা, ভুল–বোঝাবুঝি ও আবেগের সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে আধুনিক সম্পর্কের এক নতুন রূপ তুলে ধরতে চাইছেন নির্মাতারা।

‘ককটেল’ মুক্তির সময় বলিউডে রোমান্টিক কমেডির অভাব ছিল না। কিন্তু সেই ছবিটি আলাদা হয়ে উঠেছিল ভেরোনিকা চরিত্রের জন্য। দীপিকা পাড়ুকোনের অভিনীত চরিত্রটি ছিল স্বাধীনচেতা, সাহসী ও আবেগপ্রবণ, যা তখনকার মূলধারার বলিউডে খুব একটা দেখা যেত না।

ছবিটি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যই পায়নি; বরং দীপিকার ক্যারিয়ারেও বড় মোড় এনে দিয়েছিল। ফলে ‘ককটেল ২’–এর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল—নতুন ছবিটি কি সেই জাদু ফিরিয়ে আনতে পারবে?

নির্মাতারা অবশ্য শুরু থেকেই পরিষ্কার করেছেন, এটি কোনো রিমেক বা সরাসরি সিক্যুয়েল নয়; বরং ‘ককটেল’-এর আবেগকে নতুন গল্পে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা।
প্রচার পর্বেও ছবিটি বারবার শিরোনামে এসেছে। কখনো পুনেতে প্রচারণার সময় ভক্তদের ভিড়ে বিশৃঙ্খলা, কখনো কৃতি স্যাননের রাশমিকাকে আগলে রাখার ভিডিও, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল—সব মিলিয়ে ‘ককটেল ২’ মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’–এর অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের নালাসোপারায় নিজ বাসভবন থেকে ২২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার বা সহকর্মীদের নয়, পুরো বিনোদন অঙ্গনকেই শোকাহত করেছে। এরই মধ্যে তাঁর বাবা মচ্ছিন্দ্র উগালে মেয়ের মানসিক অবস্থা ও জীবনের শেষ কয়েক মাসের কিছু অজানা দিক সামনে এনেছেন।

‘হাসিখুশি থাকলেও হঠাৎ ভেঙে পড়ত’
এক সাক্ষাৎকারে সঞ্চিতার বাবা জানান, মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। বাইরে থেকে স্বাভাবিক বা হাসিখুশি মনে হলেও হঠাৎ করেই গভীর বিষণ্নতায় ডুবে যেতেন তিনি।

পরিবার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল বলেই তাঁকে একা না রাখার চেষ্টা করত। প্রায় সব সময় পরিবারের কেউ না কেউ তাঁর সঙ্গে থাকতেন। কিন্তু সেদিন অল্প সময়ের জন্য একা থাকার সুযোগেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

বাবার ভাষায়, ‘তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি যে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে। একজন সন্তানের ভেতরের যন্ত্রণা অনেক সময় পরিবারের কাছেও পুরোপুরি ধরা পড়ে না—সঞ্চিতার ঘটনা যেন সেই কঠিন বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে।’

চাপ ও হয়রানির অভিযোগ
সঞ্চিতার মৃত্যুর পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তাঁর বাবার আনা অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখে ছিলেন।

যদিও সঞ্চিতার বাবা নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে বলেছেন, অর্থসংক্রান্ত ও অন্যান্য কিছু দাবি নিয়ে তাঁকে নিয়মিত বিরক্ত করা হতো। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবারের ধারণা।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেনি এবং এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয়। ফলে অভিযোগগুলোকে আপাতত পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

‘আমার মেয়ের বিচার চাই’
মেয়েকে হারানোর শোকের মধ্যেও বিচার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সঞ্চিতার বাবা। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যদি কোনো ধরনের অন্যায় বা অনৈতিক চাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সঞ্চিতা উগলে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সঞ্চিতা উগলে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

একজন শোকাহত পিতার এই আবেদন কেবল নিজের মেয়ের জন্য নয়; তিনি বলেছেন, দেশের সব মেয়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তদন্তে কী জানা গেছে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চিতার মরদেহ যে কক্ষে পাওয়া যায়, সেটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ঘটনাস্থলে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক কোনো আলামতও মেলেনি।

তদন্তকারীরা একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অভিনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায়
সঞ্চিতা উগালের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও সম্ভাবনাময় ছিল। ‘কুমকুম ভাগ্য’ তাঁকে পরিচিতি এনে দিলেও তিনি শুধু টেলিভিশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ ও ‘দিলওয়ালি দুলহা লে জায়েগি’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি

ওয়েব কনটেন্ট ও চলচ্চিত্রেও কাজ শুরু করেছিলেন।
২০২৫ সালের ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘ছাবা’তে তারাবাই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘সাইলেন্স ২: দ্য নাইট আউল বার শুটআউট’ ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে। অল্প বয়সেই অভিনয়ের বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন এই তরুণ শিল্পী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্সের আজ জন্মদিন। ১৫ জুন তিনি পা দিলেন ৬১ বছরে। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের কাছে তিনি পরিচিত ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের মনিকা গেলার চরিত্রের জন্য। তবে কোর্টেনির যাত্রা শুধু একটি জনপ্রিয় টিভি চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়, পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, আত্মসন্দেহ, ব্যর্থতার ভয় আর নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প।

মডেলিং থেকে অভিনয়ে
এই অভিনেত্রী ১৯৬৪ সালের ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা পড়লেও সেই পথ শেষ করেননি। নিউইয়র্কে গিয়ে মডেলিং শুরু করেন। তাঁর বড় সুযোগ আসে ১৯৮৪ সালে। তিনি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। সেই সময় বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও থেকে ৩৫০ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। পারিশ্রমিক কম হলেও এই কাজগুলো দিয়েই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেতে থাকেন। এরপর ‘ফ্যামিলি টাইস’ সিরিজে অভিনয় করে টেলিভিশনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

 
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: এএফপি

‘ফ্রেন্ডস’ বদলে দেয় জীবন
১৯৯৪ সালে শুরু হয় টিভি ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’। এতে মনিকা গেলার চরিত্রে দর্শক পছন্দের তারকা হয়ে যান। শুধু হলিউডেই নয়, বিশ্বজুড়ে তারকা হয়ে ওঠেন। সিরিজটি টানা ১০ বছর সম্প্রচারিত হয় এবং আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। ‘ফ্রেন্ডস’-এর সাফল্যের পর অনেক অভিনেতা বড় পর্দায় সফল হতে পারেননি। কোর্টেনিও সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে তিনি থেমে থাকেননি। সিনেমাতেও নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন।

যা ছিল বড় বাধা
বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও কোর্টেনি কক্স নিজেই স্বীকার করেছেন যে জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ‘ইমপোস্টার সিনড্রোমে’ ভুগেছেন। অর্থাৎ নিজের সাফল্যকে প্রাপ্য মনে হতো না। ২০২৪ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘যখন আমি তরুণ ছিলাম, তখন নিজেকে অনেক সময় একজন “ইমপোস্টার” মনে হতো। দীর্ঘ সময় আমার আত্মবিশ্বাস ছিল না।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন। এখন তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান না এবং নিজের সিদ্ধান্তে বেশি আস্থা রাখেন। যে কারণে দেরিতে ৩৯ বছর বয়সে মা হয়েছেন।

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়
কোর্টেনির ব্যক্তিগত জীবনও সহজ ছিল না। অভিনেতা ডেভিড আর্কুয়েটের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘ সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর দুজনই সন্তানের অভিভাবক হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এ ছাড়া বয়স, সৌন্দর্য ও হলিউডের অবাস্তব প্রত্যাশা নিয়েও তাঁকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, ‘অতীতে নিজের চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন ছিলাম। সেই সিদ্ধান্তগুলোর জন্য আজও আফসোস হয়।’

আয় ও সম্পদের পরিমাণ
কোর্টেনি কক্সের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাঁর আয়ের বড় উৎস ‘ফ্রেন্ডস’ থেকে দীর্ঘমেয়াদি রয়্যালটি, যা এখনো তিনি পান। এ ছাড়া চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে অভিনয়, প্রযোজনা আর ব্যবসা থেকেও তিনি আয় করেন।

 
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

যা বারবার বলেন
একসময় ঝুঁকি নিতে ভয় পেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্স নিজেকে বদলে ফেলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেগুলোই ঘুরেফিরে এসেছে। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আরও বেশি ঝুঁকি নিতে শিখেছি। এখন আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভয় পাই না।’ এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উক্তির মধ্যে রয়েছে, ‘একসময় এসে মানুষ নিজের সময়ের মূল্য বুঝতে শেখে। আমি এখন সময় সম্পর্কে অনেক সচেতন। ভালো কাজগুলো এখন করতে চাই।’ এ ছাড়া তাঁর পছন্দের উক্তি, ‘যদি কোনো কিছু করতে না চাই, এখন আমি “না” বলতে পারি। যা আগে পারতাম না।’
আইএমডিবি অবলম্বনে

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি।

বেনজীর আহমেদ
বেনজীর আহমেদ
 

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন পরীমনি। তবে দীর্ঘ কোনো মন্তব্য না করে মাত্র একটি শব্দের মাধ্যমেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টের ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, ‘মজা’।

সংক্ষিপ্ত এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা পরীমনি দেননি। কেন এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু লেখেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা দেখা গেছে। পরীমনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের দাবি, ২০২১ সালে রাজধানীর একটি বোট ক্লাবকে কেন্দ্র করে আলোচিত যে ঘটনা ঘটেছিল, সেসবের সঙ্গে বেনজীর আহমেদের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। একই ঘটনায় পরীমনিকে ঘিরেও একাধিক মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

চিত্রনায়িকা পরীমনি
চিত্রনায়িকা পরীমনি, ছবি: পরীমনির ফেসবুক থেকে
 

এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান।

বলিউডে জাহ্নবী কাপুরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘স্টার কিড’ পরিচয় নিয়ে। অভিনেত্রী শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের মেয়ে হওয়ায় ক্যামেরার আলো তাঁর ওপর ছিল জন্ম থেকেই। কিন্তু গত আট বছরে জাহ্নবী শুধু অভিনয় নয়, নানা বিতর্কের কারণেও নিয়মিত শিরোনামে উঠে এসেছেন। কখনো নেপোটিজম–বিতর্ক, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহসী উপস্থিতি, আবার সম্প্রতি ‘পেড্ডি’ সিনেমায় তাঁর চরিত্র ও উপস্থাপনাকে ঘিরে নতুন সমালোচনা—সব মিলিয়ে তিনি আজ বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ অভিনেত্রীদের একজন।

‘পেড্ডি’–বিতর্ক: নারী চরিত্র নাকি ‘গ্ল্যামার অবজেক্ট’
সম্প্রতি ‘পেড্ডি’ ছবির প্রচারণা ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েন জাহ্নবী। ছবিতে তাঁর চরিত্রের কিছু পোস্টার, গান ও প্রচারণামূলক দৃশ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ তোলে যে তাঁকে অতিরিক্ত ‘গ্ল্যামারাইজ’ করা হয়েছে। অনেকের মতে, চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে তাঁর শারীরিক আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থাপনাকে ঘিরে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, ‘পেড্ডি’ সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন ছিল, একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীকে কেন এখনো অনেক ক্ষেত্রে ‘সাজসজ্জার উপাদান’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
যদিও ছবির নির্মাতারা দাবি করেছেন, পুরো সিনেমা না দেখে এমন মন্তব্য করা ঠিক নয় এবং চরিত্রটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরে নির্মাতা ক্ষমা চেয়েছেন। জানিয়েছেন, বিতর্কিত দৃশ্যগুলো সম্পাদনা করা হবে।

নেপোটিজম: ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী
জাহ্নবীর সবচেয়ে বড় বিতর্ক নিঃসন্দেহে নেপোটিজম। ২০১৮ সালে ‘ধড়ক’ দিয়ে তাঁর অভিষেকের পর থেকেই অভিযোগ ওঠে যে সাধারণ শিল্পীদের তুলনায় তিনি অনেক বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে করণ জোহরের সমর্থন পাওয়ায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

২০২০ সালে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর বলিউডে স্বজনপ্রীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে জাহ্নবীও সমালোচনার মুখে পড়েন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো বিতর্কে জড়াননি, তবু ‘স্টার কিড’ পরিচয়ের কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রলের শিকার হতে হয়।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী বলেন, সুযোগ পাওয়া আর সেই সুযোগ ধরে রাখা এক বিষয় নয়। দর্শক গ্রহণ না করলে কোনো তারকাসন্তানই টিকে থাকতে পারে না।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা
জাহ্নবীর ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনার বিষয় হয়েছে। ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য শিখর পাহাড়িয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে গুঞ্জন চলছে। কখনো তাঁদের একসঙ্গে ছুটি কাটাতে দেখা গেছে, কখনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

যদিও দীর্ঘ সময় তাঁরা সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করে।
বলিউডে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। কিন্তু জাহ্নবীর ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই তাঁর কাজের চেয়ে বেশি সংবাদ শিরোনাম হয়েছে।

অ্যালকোহলে আসক্তি নিয়ে কথা বলে বিপাকে
এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন। তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’

বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।
জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

এ বক্তব্য প্রকাশের পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন জাহ্নবী। পরে বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান স্পস্ট করেন। বলেন, মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিতর্ক
জাহ্নবী কাপুরের ফ্যাশন সেন্স নিয়ে যেমন প্রশংসা হয়, তেমনি সমালোচনাও কম নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন ফটোশুট, জিম লুক কিংবা গ্ল্যামারাস উপস্থিতি নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক তৈরি হয়। রক্ষণশীল দর্শকদের একটি অংশ তাঁকে ‘অতিরিক্ত সাহসী’ বলে সমালোচনা করে।

অন্যদিকে সমর্থকদের যুক্তি, একজন অভিনেত্রীর পোশাক বা ব্যক্তিগত স্টাইলকে কেন্দ্র করে বিচার করা অনুচিত। তাঁদের মতে, জাহ্নবী কেবল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ করছেন।

এই বিতর্ক বহুবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্কের জন্ম দিয়েছে।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

‘মিলি’থেকে ‘উলাজ’: অভিনয় বনাম ইমেজ

ক্যারিয়ারের শুরুতে সমালোচকেরা অভিযোগ করতেন, জাহ্নবী অভিনয়ের চেয়ে নিজের তারকা পরিচয়ের ওপর বেশি নির্ভর করছেন।
তবে ‘গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কারগিল গার্ল’, ‘মিলি’ ও ‘উলজ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাহ্নবী প্রশংসাও পেয়েছেন।
তবু অনেক সময় দেখা গেছে, তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোশাক, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।
এটিও জাহ্নবীর ক্যারিয়ারের একটি বড় বাস্তবতা।

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় প্রবেশ ও নতুন বিতর্ক
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহ্নবী দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ‘দেবারা: পার্ট ১’ ও ‘পেড্ডি’র মতো বড় বাজেটের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নতুন দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছেন।

কিন্তু এখানেও সমালোচনা জাহ্নবীকে ছাড়েনি। কিছু সমালোচক অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁকে অনেক সময় চরিত্রের চেয়ে তারকা আকর্ষণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভক্তদের মতে, জাহ্নবী ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন এবং বড় বাণিজ্যিক ছবির অংশ হওয়াও একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক ধাপ।

জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

শ্রীদেবীর মেয়ে হওয়ার চাপ
জাহ্নবীকে ঘিরে প্রায় সব বিতর্কের পেছনে আরেকটি বিষয় কাজ করে—তিনি শ্রীদেবীর মেয়ে।

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে শ্রীদেবীর মতো জনপ্রিয়তা খুব কম অভিনেত্রী পেয়েছেন। ফলে জাহ্নবীর প্রতিটি কাজই মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই তুলনা যেমন তাঁকে বাড়তি সুযোগ দিয়েছে, তেমনি বাড়তি চাপও তৈরি করেছে। একজন নতুন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার আগেই তাঁকে কিংবদন্তি মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে বিচার করা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

দুবাইয়ের ঝলমলে আকাশরেখার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ৪০ হাজার বর্গফুটের এক প্রাসাদ। বিশাল ফোয়ারা, ব্যক্তিগত সিনেমা হল, ক্যাসিনো-স্টাইল গেমিং লাউঞ্জ, সুইমিংপুল, স্পা, এমনকি ঘরের ভেতর খাবার ওঠানামার জন্য আলাদা লিফট। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, এটি কোনো রাজপরিবারের বাসভবন। অথচ এই বাড়ির মালিকের শৈশব কেটেছে মুম্বাইয়ের বস্তিতে।

যে ছেলেটি একসময় স্কুল ক্যানটিনে সমুচা কেনার টাকাও জোগাড় করতে পারত না, সেই ছেলেই আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সফল ভারতীয় ব্যবসায়ী। তিনি রিজওয়ান সাজান—দুবাইভিত্তিক নির্মাণসামগ্রী ও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ড্যানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়েলিটি সিরিজ ‘দুবাই ব্লিং’–এ উপস্থিতির পর নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন রিজওয়ান সাজান। কিন্তু ক্যামেরার ঝলকানি, বিলাসবহুল জীবন আর হাজার কোটি টাকার সম্পদের আড়ালে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম, ঝুঁকি আর অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়ের এক গল্প।

সমুচা কেনার টাকাই ছিল প্রথম স্বপ্ন
রিজওয়ান সাজানের জন্ম মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার এলাকায় এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল নড়বড়ে। বাবা কষ্ট করে কনভেন্ট স্কুলের ফি দিতেন। মাসে হাতখরচ হিসেবে পেতেন মাত্র ১৫ রুপি। স্কুলের ক্যানটিনে সহপাঠীদের খাবার খেতে দেখতেন। কিন্তু নিজের পকেটে টাকা থাকত না। এই ছোট্ট অপমানই একদিন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পরে এক সাক্ষাৎকারে রিজওয়ান সাজান বলেছিলেন, ‘বন্ধুরা যখন ক্যানটিনে খেত, আমি দূর থেকে দেখতাম। খুব খারাপ লাগত। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, নিজের টাকা নিজেই আয় করব।’ মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি প্রথম ব্যবসা শুরু করেন।

বাবার কাছ থেকে ধার নেওয়া এক হাজার রুপি
ব্যবসা শুরু করার জন্য বাবার কাছ থেকে ধার নেন এক হাজার রুপি। সেই টাকা দিয়ে মুম্বাইয়ের পাইকারি বাজার থেকে স্কুলের বই কিনে মৌসুমে বিক্রি করতে শুরু করেন। হিসাব ছিল, ৭৫ রুপি লাভ হলেই রিজওয়ান খুশি। কিন্তু মৌসুম শেষে লাভ দাঁড়ায় ২০০ রুপি।

আজকের দিনে ২০০ রুপি তেমন কিছু নয়। কিন্তু তখন সেই অর্থ রিজওয়ান সাজানের কাছে ছিল বিশাল সম্পদ। মজার ব্যাপার হলো, প্রথম লাভের টাকা দিয়ে তিনি নিজের জন্য নয়, বন্ধুদের জন্য সমুচা কিনেছিলেন। যে সমুচা খাওয়ার জন্য ব্যবসা শুরু, সেই সমুচাই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রথম সাফল্যের প্রতীক।

এক মৌসুমে এক ব্যবসা
প্রথম লাভ রিজওয়ান সাজানকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেয়। স্কুলের বই বিক্রির পর রাখি উৎসবে রাখি বিক্রি করেছেন। দীপাবলিতে আতশবাজি বিক্রি করেছেন। কখনো আবার দুধ সরবরাহের কাজও করেছেন। একসময় দুধের ক্যান পড়ে যাওয়ায় চাকরি হারাতে হয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে নতুন কিছু শেখায়।

বাবার মৃত্যু, তারপর বিদেশযাত্রা
১৮ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে। মারা যান রিজওয়ান সাজানের বাবা। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে। তখন কাজের খোঁজে পাড়ি জমান কুয়েতে। সেখানে মাসে ১৮ হাজার রুপি বেতনের চাকরি পান। যে ছেলেটি কয়েক বছর আগেও ১৫ রুপির হাতখরচে চলত, তাঁর কাছে এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক অঙ্ক। কিন্তু ভাগ্য তাঁর জন্য আরও বড় পরীক্ষা জমিয়ে রেখেছিল।

রিজওয়ান সাজান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
রিজওয়ান সাজান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
 

যুদ্ধের মধ্যেও ব্যবসার সুযোগ
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হলে কুয়েতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। বিদেশে থাকা ভারতীয়রা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অনেকে আতঙ্কে ছিলেন—বাড়ির লোকজন জানে কি না তারা বেঁচে আছেন। এই সংকটের মধ্যেই রিজওয়ান একটি ব্যবসার সুযোগ দেখতে পান। নিজের পরিবারের কাছে টেলিগ্রাম পাঠাতে তাঁকে ইরাক যেতে হয়েছিল। তখন ভাবলেন, অন্যদের বার্তাও সঙ্গে নিয়ে গেলে কেমন হয়? প্রতি টেলিগ্রামের জন্য পাঁচ দিনার করে নেওয়া শুরু করেন। শত শত মানুষের বার্তা নিয়ে সামরিক চৌকি পেরিয়ে যাতায়াত করেছেন। ঝুঁকি ছিল, কিন্তু ছিল লাভও। যুদ্ধের সময় অনেকেই শুধু বাঁচার কথা ভাবছিলেন। রিজওয়ান তখনো সুযোগ খুঁজছিলেন। এই মানসিকতাই পরবর্তী জীবনে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

দুবাইয়ে নতুন জীবন
কুয়েত অধ্যায়ের পর রিজওয়ান পাড়ি জমান দুবাইয়ে। তখন রিজওয়ানের সঞ্চয় ছিল প্রায় এক লাখ দিরহাম। এই অর্থও খুব পরিকল্পনা করে ভাগ করেছিলেন। স্ত্রীর হাতে সংসার চালানোর জন্য কিছু অর্থ দেন। একটি ছোট অফিস নেন। গাড়ি কেনেন কিস্তিতে। ব্যবসার লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য আলাদা তহবিল রাখেন। নিজেকে সময় দিয়েছিলেন মাত্র তিন মাস। প্রথম মাসে আয় হয় ৫ হাজার দিরহাম। দ্বিতীয় মাসে ১০ হাজার। তৃতীয় মাসে ২০ হাজার। তখনই বুঝেছিলেন, তাঁর ব্যবসা সঠিক পথে এগোচ্ছে।

ড্যানিউব সাম্রাজ্যের জন্ম
ধীরে ধীরে নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ড্যানিউব গ্রুপ। আজ মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণশিল্পে অন্যতম পরিচিত নাম এই প্রতিষ্ঠান। বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল, হোম ইন্টেরিয়র, রিয়েল এস্টেট—বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে ব্যবসা। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রিজওয়ানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি। তবে তাঁর ভাষায়, ‘আমাকে কখনো টাকা অনুপ্রাণিত করেনি। কাজই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। টাকা শুধু সেই কাজের ফল।’

৪০ হাজার বর্গফুটের প্রাসাদ
আজ রিজওয়ান সাজানের বাসভবন দুবাইয়ের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি। বাড়ির প্রবেশপথেই বিশাল ফোয়ারা। ভেতরে রয়েছে বিশাল অ্যাকুয়ারিয়াম, সাদা গ্র্যান্ড পিয়ানো, ব্যক্তিগত থিয়েটার, স্পা, গেমিং জোন, ক্যাসিনো-স্টাইল লাউঞ্জ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ প্লে-রুম। বাড়ির কিছু বাথরুমও যেন বিলাসিতার আলাদা সংজ্ঞা। একটিতে রয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম, রেইন শাওয়ার এবং আইস বাথ। তাঁর সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপন প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়। তবে এই বিলাসিতার মধ্যেও রিজওয়ান নিজের অতীত ভুলে যাননি।

‘আফ্রিকার জঙ্গলে ছেড়ে দিলেও আবার শুরু করব’
রিজওয়ানের সবচেয়ে আলোচিত উক্তিগুলোর একটি হলো—‘আমি বস্তিতে জন্মেছি। পরে চাওলে থেকেছি। আজ ৪০ হাজার বর্গফুটের বাড়িতে থাকি। কিন্তু আমাকে যদি আফ্রিকার কোনো জঙ্গলে কিছু না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, আমি আবারও নিজেকে গড়ে তুলতে পারব।’ এই আত্মবিশ্বাসই তাঁর সাফল্যের মূল রহস্য। কারণ, তিনি জানেন, সম্পদ হারানো যায়; কিন্তু অভিজ্ঞতা, সাহস আর উদ্যোগ হারায় না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব