৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে এল আরেক জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা...
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞাপন
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শিল্প মালিকদের ওপর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব বোনাস এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এমন সময়ে নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে।
বিজ্ঞাপন
Video Player is loading.
Close Player
বিজিএমইএ জানায়, আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড়ের দাবিতে সংগঠনটির বর্তমান বোর্ড সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এ তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা মোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
দেশে মজুদ থাকা জ্বালানির পরিমাণ জানালেন বিপিসি চেয়ারম্যান
সংগঠনটি তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থ ছাড় রপ্তানি খাতে তারল্য সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Copied from: https://rtvonline.com/
মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।
এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আজ ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে।
বিষয়টি হলো, হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে জাহাজে হামলার কারণে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজ অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।
একই এলাকায় চতুর্থ একটি ঘটনার কথাও ইউকেএমটিও জানিয়েছে, যেখান থেকে জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জাহাজ-তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজের বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ আজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সেই জাহাজগুলোয় আগুন জ্বলছে। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

গতকাল রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো—সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না–ও আসতে পারে।
এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভনিক বলেন, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, বাজার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চলাচল স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।
বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জিব্রাল্টার, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে; ইউকেএমটিও যেসব ঘটনার কথা বলেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে।
ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং গ্রুপ মেয়ার্সক গতকাল বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করবে। এ ক্ষেত্রে যা হয়, অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ পাঠাবে তারা।
এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গতকাল ইরান ও ইসরায়েল নতুন করে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে আজ পশ্চিমা পৃথিবীতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। খবর সিএনএনের
তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্টক্স ৫০–সংযুক্ত ফিউচারস ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচারস নেমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করেছে।
ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্কচুক্তি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। তাই সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।’
আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিনও তারপর’ শীর্ষক এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি।
অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন শুল্কসংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাল্টা শুল্কের হার কীভাবে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে, সেটি। এ জন্য কিছু কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) চুক্তি করলেই নাকি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। এই ধরনের চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিয়ে যেতে পারল, তা বোধগম্য নয়। কোনো একটি বিষয়ে যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে আমি এই একটি চুক্তির জন্য নিন্দা জানাতে চাই।’
ব্রিফিংয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনাতেও গভর্নর নিয়োগ দিতে চাইলে এর চেয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। সে ধরনের যোগ্য লোক সরকারের হাতে ছিল।
বড় সমস্যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পর্যালোচনা তুলে ধরে সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারি কাঠামোর বড় সমস্যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও দক্ষতার সংকট। নতুন সরকারকে এটি মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দুর্বলতা। ব্যবসার পরিবেশের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, মানবসম্পদ, অর্থায়ন, দুর্নীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পান না।
সিপিডি জানিয়েছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু তৈরির মতো কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছে। তবে এ মুহূর্তে সেই আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই সরকারের উচিত হবে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা। ইশতেহারে বিএনপি মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করবে। এটি যৌক্তিক। তবে এ ক্ষেত্রে কর ন্যায্যতা নিশ্চিত ও করব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে হবে।
কয়লা উত্তোলন নয়
অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বর্তমানে একাধিক সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে অতিমূল্যায়িত চাহিদা প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের সংকট অন্যতম। বিএনপির নির্বাচনী পথনকশায় নতুন করে দেশের কয়লা উত্তোলনের একধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কয়লা উত্তোলন দেশের জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সরকারের উচিত হবে এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসা। আর গ্যাস–সংকট সমাধানে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি কোনো সমাধান হতে পারে না।
সরকারকে দুই পায়ে চলার পরামর্শ
সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংসদের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শ দেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সরকার যদি দুই পায়ে কাজ করে, তাহলে এক পা হলো নির্বাহী বিভাগ, আরেক পা সংসদ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিশেষ করে আর্থিক–সংক্রান্ত কমিটিগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি করবে।
সিপিডি মনে করে, নতুন সরকারকে সমান্তরালভাবে ১৮০ দিন এবং পরবর্তী ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সরকারি উদ্যোগ যেন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, এটি যেন স্থানীয় সরকার প্রশাসন তথা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও বাস্তবায়িত হয়।
দেশের বাজারে আজ শনিবার সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১ টাকা। ফলে আজ ভরিপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।
এর আগে গত সপ্তাহে দুবার সোনার দাম বাড়ানো হয়। সেবার দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এবার এক দফায় বাড়ল ৪ হাজার টাকার বেশি।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে; সে কারণে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়া।
আজ বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভরিপ্রতি ২১ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা; ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৬ টাকা। এ ছাড়া সনাতনি পদ্ধতির সোনার দাম পড়ছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।
জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনও হয়েছে, সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে রাতে আবার কমানো হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।
মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। মাঝে কিছুদিন সোনার দাম কমার পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, শুক্রবার সোনার স্পট মূল্য আউন্সপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে। ফলে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ১০ সেন্ট।
দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ওঠানামা করছে। ফলে গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ১৫০ ডলার। যদিও গত ছয় মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১ হাজার ৭৬২ ডলার।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ট্যাক্স (কর) ও দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সামনে এগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচির মধ্যে কর্মসংস্থান একটি বড় কর্মসূচি। সে কারণেই সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। আগামী বাজেটেও কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পতেঙ্গা অঞ্চলে কোনো বড় হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি হাসপাতালের দাবি রয়েছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবাও থাকবে। পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল–২–এর পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন। পরে পতেঙ্গায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ২১ একর জমি সরেজমিন ঘুরে দেখেন।
২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।
ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।
এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।
মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।
এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।