বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভা৵র্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

[caption id="attachment_270397" align="alignnone" width="835"] অর্থ মন্ত্রণালয়[/caption]

সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই  অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি সহজ করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক গ্রাহকের ঋণসীমার ২৫ শতাংশ শর্ত এলপিজি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এই সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 

জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে যে ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা আপাতত বহাল থাকবে না। এর বদলে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা কত হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে নির্ধারণ করবে।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধু এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে একক ঋণগ্রহীতা সীমা অতিক্রমের সুযোগ থাকছে না।

জানা যায়, এই সুবিধার দাবিতে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। পরে নতুন সরকার গঠিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একই দাবি উত্থাপন করেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত শিথিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলপিজি বাজারে যাদের বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি, তারা ১৩টি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি করে। একক গ্রাহকের ঋণসীমা নিয়ে তাদের সমস্যা হচ্ছে না। যেসব ব্যবসায়ী প্রভাবশালী ও এক ব্যাংকনির্ভর, তারাই এ সুবিধার জন্য তোড়জোড় করেন। তাদের ঋণ পরিশোধের অতীত রেকর্ডও ভালো নয়। এরপরও গভর্নর তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।

এর আগে, গত জানুয়ারিতে সরবরাহ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ দেয়। তখন বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে। সে জন্য এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পরে শুল্ক-ভ্যাটেও ছাড় দেয় সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজির স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে মার্চ মাস। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩০৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি মাসে ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাধারণত ঈদের মাসে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যায়। পরিবারের ঈদের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা এ সময় বেশি অর্থ পাঠান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে। এর পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে অর্থনীতির আসন্ন ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় আট অর্থনীতিবিদ।

অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, সংকট কতটা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বৈশ্বিক সংকট হলে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ আসবে। তাই রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া সুদহার কমাতে এখনই নীতি সুদহারে হাত দেওয়া ঠিক হবে না। আসন্ন চাপ কেটে গেলে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক সভায় অর্থনীতিবিদেরা এসব পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেছেন, জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও এখনই তা গ্রাহক পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।

এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। আর জুনের শেষে বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ গত বছরের জুনের চেয়ে কমেছে, তবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি।

[caption id="attachment_270301" align="alignnone" width="832"] অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিস্থিতি[/caption]

বিদেশি ঋণের পরিস্থিতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের বেশির ভাগ বা প্রায় ৮২ শতাংশ ছিল সরকারি খাতের। বাকিটা বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তাদের। ডিসেম্বর শেষে সরকারি খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঋণের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি এবং ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি। সরকারি ঋণের মধ্যে ৮০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার সরাসরি সরকার নিয়েছে। ১২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেওয়া।

বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন প্রান্তিকে এ খাতের ঋণ কমেছে। তবে শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর–ডিসেম্বর শেষে তা আবার ২০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এ খাতের মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ঋণ ৬ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের স্থিতি ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডলার–সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়া হয়। এসব প্রকল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হবে সরকারকে। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ শোধ করতে হবে সরকার ও বেসরকারি খাতকে।

এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে যত বিদেশি ঋণ এসেছে, এর চেয়ে বেশি শোধ করতে হয়েছে। এই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের পাওনা বাবদ ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর হওয়ার জেরে দেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। এতে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ঘাটতি দেখা দেয়। তখন ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকায় ওঠে। এতে দেশের মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। সংকট সামাল দিতে আওয়ামী লীগ সরকার তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি ঋণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরপরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থামানো যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভের পতন থামাতে সক্ষম হয়েছিল। ডলারের বিনিময় হারেও এসেছে স্থিতিশীলতা।

ঋণ বেশি বেড়েছে কখন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ওই সরকারের সময় ২০০৮ সালে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। ওই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারে। অন্তর্বর্তী সরকার ডলার–সংকট মেটাতে ঋণ নেয়। ফলে ২০২৫ সালে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কার ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি স্পষ্ট ও সময়সীমা বদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠককালে এই রোডম্যাপ লিখিত আকারে চেয়েছে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

বৈঠককালে বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়সীমা বদ্ধ করার ওপর জোর দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে।

আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোডম্যাপ প্রস্তুত হলে তা দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে দিকনির্দেশনার কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

এছাড়া, বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। ওয়াশিংটনে আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে সেখানে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এখনও ১৮৬ কোটি ডলার ঋণ ছাড় বাকি আছে। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের জন্য সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর দিচ্ছে সংস্থাটি।

 

ঈদের পর আজ বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। তাতে আজ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এর আগে ১৯ মার্চ এক দিনে দুবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার কমে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

এর আগে ১৯ মার্চ দুপুরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, দেশের বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও দাম কমার মূল কারণ হলো, বিশ্ববাজারে সোনার দামের অব্যাহত পতন। অলংকার কেনার সময় সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত হবে।

আজ সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত আছে।

১৯ মার্চ দুই দফায় সোনার দাম কমানোর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম কমে ১১ হাজার ৬৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১২ হাজার ৫৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমে ভরি প্রতি ১০ হাজার ২৬৪ টাকা।

আজ বিশ্ববাজারে বেড়েছে

গতকাল পর্যন্ত টানা ১০ দিন বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। তবে আজ সোনার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আজ এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৭১ ডলার ৫৩ সেন্ট বেড়েছে। ফলে এখন সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৫৭২ ডলার।

আজ দাম বাড়লেও গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭৫৭ ডলার ৪৩ সেন্ট কমেছে। মূলত তার জেরেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে।

গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাধারণত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় সোনার দাম বাড়ে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময় সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে আছে। এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব