৭ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ সকাল থেকে দু'দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১ জুন)...
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে এল আরও একটি জাহাজ। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের...
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ২০২২ সালে কোনো নভোচারীকে ছাড়াই শুধু মহাকাশযান পাঠিয়ে আর্টেমিস–১ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই মহাকাশযান অভিযান শেষে...
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা হংকংয়ের পতাকাবাহী জাহাজ কিউচি। এপ্রিল মাসে আসা এটি অকটেনের তৃতীয় চালান। বুধবার...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এর মাধ্যমে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে...
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩...
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা কমেছে। এতে আজ মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তেহরান ‘খুব মরিয়া হয়ে’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়।
গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে। প্রায় ২১ ঘণ্টা আলোচনা শেষে রোববার সকালে এই বৈঠক শেষ হয় কোনো সমঝোতা ছাড়াই। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানের বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
এদিকে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করে ২০ বছরের শর্তে অনড় থাকে। প্রতিবেদনটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রস্তাব আদান-প্রদান করলেও এখনো চুক্তি থেকে অনেক দূরে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সামনাসামনি দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলোয় ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইরান এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। তারপর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সচিব ক্রিস রাইট সোমবার বলেন, এই জলপথ কার্যত বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি ওয়াশিংটনে আয়োজিত সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত আমরা জ্বালানির উচ্চ মূল্য দেখতে থাকব। এমনকি তা আরও বাড়তেও পারে।’
বিবিসি
দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের নোট গ্রহণ ও বিনিময়মূল্য প্রদান সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট (ডিসিএম) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সব শাখায় বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তার পরিবর্তে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদানের সেবা নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে। তবে নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ধরনের নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা নগদ লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে তা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসব নোটের পরিবর্তে গ্রাহকদের ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ ধরনের সেবা প্রদানে কোনো ব্যাংক শাখার অনীহা বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। বিষয়টিকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও কমপক্ষে চারটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজিবাহী ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে ‘গ্যাস ক্যারেজ’ নামে দুটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুটি বর্তমানে চার্লি ও ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে।
তিনি আরও জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এরপর আগামীকাল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ পৌঁছাবে।
এছাড়া, ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালির ভেতরে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির পর আটকে থাকা জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য নোঙর তুলেছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দুপুর ১২টায় দেখা যায়, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে রওনা হয়েছে। দুপুর ১২টায় দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজটি। জাহাজটির গতিবেগ দেখাচ্ছে ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল। জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) ১০ দশমিক ৮০ মিটার।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বুধবার দুপুর ১২টায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে আমরা দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে ছিলাম। যুদ্ধবিরতির পর এখন নোঙর তোলা হয়েছে। হরমুজের দিকে যাচ্ছি। হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, হরমুজ থেকে ৪২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছেন তাঁরা। হরমুজ পার হতে আরও অন্তত দুই দিন (৪০ ঘণ্টা) সময় লাগতে পারে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হয় জাহাজটিকে। যুদ্ধবিরতির পর এখন আবার যাত্রা শুরু করল জাহাজটি।
মাসুদ মিলাদ
চট্টগ্রাম
দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এত দিন মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা অপরিশোধিত তেলই পরিশোধন করা হতো। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ না আসায় শোধনাগারটির উৎপাদন এখন সংকটের মুখে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎসের তেল শোধন করার সম্ভাব্যতা নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে চারটি দেশের তেলকে বাংলাদেশে ‘পরিশোধনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি। দেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়া। এসব দেশের ‘বনি ক্রুড’, ‘মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড’, ‘আলবেইন ব্লেন্ড’ ও ‘আলজেরি ক্রুড’-এর বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এগুলো বিদ্যমান শোধনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) পাঠানো হয়েছে। এরপর মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন তেল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যা চলতি মাসেই দেশে আসার কথা।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সৌদি আরবের ‘অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড’ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘মারবান ক্রুড’ পরিশোধন করা হয়। এই দুটি উৎসের তেল থেকেই দেশে পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদিত হয়। বছরে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করতে পারে সরকারি সংস্থাটি।
জানতে চাইলে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শরীফ হাসনাত বলেন, নতুন এই উৎসগুলোর তেলের বৈশিষ্ট্য বর্তমানে ব্যবহৃত তেলের কাছাকাছি। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়েই সেগুলো পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এ কারণেই চারটি দেশের তেল নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন বেড়ে যায়, তখন ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে কম দামে জ্বালানি তেল কেনা শুরু করে। বাংলাদেশকেও ওই সময় রাশিয়া তাদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাব দেয়। এরপর রাশিয়া থেকে আনা অপরিশোধিত তেলের নমুনা পরীক্ষা করে রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ জানায়, তেলের ঘনত্ব বেশি এবং দেশীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তা পরিশোধন করা যাবে না। তাই আর আমদানি করা হয়নি।
আমদানিতে যুদ্ধের ধাক্কা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা করার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এরপরই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল আনার একটি জাহাজ আটকে যায়। আবার ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল আনতে গেলে প্রতি ব্যারেলে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার খরচ হয়। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকেও একটি জাহাজ আসার কথা ছিল। জেবেল ধানা বন্দর থেকে ওই তেল আনার জন্য বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিপিসি) ‘এমটি ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের একটি জাহাজ ভাড়া করেছিল, কিন্তু জাহাজটি চুক্তি বাতিল করেছে। এখন বিকল্প হিসেবে ফুজাইরা বন্দর ব্যবহার করা যায়, তবে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে জানান বিপিসির কর্মকর্তারা।
এ বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে অপরিশোধিত তেল আনার একটি বড় সুবিধা হলো, এতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে।
মজুত কমে বাড়ছে চাপ
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই পরিশোধিত, যা সরাসরি আমদানি করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার ৪৭ লাখ টন পরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ ১০ হাজার টন, যার ব্যয় ছিল ১০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এসব তেলের বড় অংশই এসেছে সৌদি আরব ও ইউএই থেকে।
অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির মাধ্যমে গত অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার টন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন ছিল ডিজেল।
তবে চলতি বছরে উৎপাদনে ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারি শোধনাগারটির মোট সংরক্ষণসক্ষমতা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টন হলেও এপ্রিলের শুরুতে ব্যবহারযোগ্য মজুত নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ হাজার টন তেল শোধনের সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে উৎপাদনের গতি কমাতে হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান মজুত দিয়ে আরও চার–পাঁচ দিন উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব।
যদিও বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, চলতি মাসে মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে সৌদি আরব থেকেও একটি জাহাজ রওনা দেবে। ফলে আপাতত বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না বলেই তাঁরা আশা করছেন।
সুজয় চৌধুরী
চট্টগ্রাম
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে এখন কিছু নির্দিষ্ট গ্রেডের তেলের জন্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার প্রাইস গত মাসে ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৭.৫০ ডলারের নিচেই রয়েছে এই মূল্য।
তবে কাগজে-কলমে বা ফিউচার মার্কেটে এর মূল্য ১২০ ডলারের নিচে থাকলেও বর্তমানে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য (ফিজিক্যাল মার্কেট) তেলের দাম অনেক চড়া।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স